অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৪০
ফাহিমা ইসলাম
গোধূলি লগ্ন
পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পরেছে। তার কোমল রশ্মি ছড়িয়ে পরেছে চারিদিকে। পক্ষীরাজ’রা চারিদিকে ছোটাছুটিতে ব্যস্ত, রৌদ্রিক বারান্দার একপাশে নির্লিপ্ত ভাবে বসে আছে। হাতে মোটা একখান বই, সেটাতেই গভীর মনোযোগ তার। হুট করেই রৌদ্রিকের নজরে গেলো সামনে থাকা ছবি এলবামের দিকে। না চাইতেও রৌদ্রিক নিজের হাতে থাকা বইখানা নামিয়ে, ছবির এলবামটা তুলে নিলো। অধর ভাজে ক্ষীণ হাসির রেখা ফুটে উঠলো। এটার মধ্যে রোদেলার জন্ম থেকে শুরু করে আজ এখন অব্দিকার ছবি রয়েছে। এলবামটা খুলতেই সর্বপ্রথম একটা ছবি ভেসে উঠলো, রোদেলার ছোট্ট ছোট্ট হাত দু’টো। রৌদ্রিক হাত রেখে সেখানটায় হাত বুলালো। পরেরটায় সদ্য ফোঁটা গোলাপের পাপড়ির ন্যায় ছোট্ট একখান হাত রৌদ্রিকের আঙ্গুলটা ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। রৌদ্রিক হাসলো হালকা, একে একে সব ছবি উল্টে দেখতে দেখতে তার নজর আটকালো একটা ছবির দিকে। যেখানে রৌদ্রিক লাল রঙের কাপড়ে মোড়ানো তার সদ্য জন্মানো অংশটাকে বুকের সঙ্গে আঁকড়ে ধরে আছে। ছোট্ট রোদেলা গভীর নিদ্রা মগ্ন তখন, রৌদ্রিকের মনে আছে ঠিক। যখন প্রথমবারের মত রোদেলাকে কোলে নিয়েছিল, তার অন্তঃকরণ অস্বাভাবিক ভাবে কম্পতি হচ্ছিল। হাত জোড়া কাঁপছিল! নেত্রকোণ না চাইতেও ভিজে উঠেছিল। তুলোর মতো তুলতুলে ছোট্ট একখান অংশকে কোলে নিতে ভয় লাগছিলো, এইবুঝি ব্যথা পাবে। কেঁদে ফেলবে, তার শক্ত হাত দিয়ে ধরায় ব্যথা পাবে। কতশত ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছিলো তার মস্তিষ্কে।
সে যদি পারতো রোদেলাকে নিজে মাঝে গেঁথে রেখে দিতো। প্রথম বাবা হওয়ার অনুভূতিটা হয়তো এমনই হয়, ফুটফুটে টকটকে লালিত হয়ে থাকা সদ্য রোদেলার দিকে তাকিয়ে রৌদ্রিক ফিসফিসে বলেছিল-
”তুমি কোনোদিন বড় হয়েও না আমার রোদ। আজীবন এমন ছোট্ট রোদপাখি হয়ে আমার বক্ষে মিশে থাকো।”
পর মুহুর্তেই রোদেলা মেলে তাকিয়ে ছিল তার দিকে। এই ছোট্ট অংশটা যেনো তারই মত অবিকল। এরপর থেকে রোদেলাকে সবসময় নিজের বুকের সঙ্গে মিশিয়ে রাখতো। হসপিটাল থেকে ছুটি নিয়ে পুরোটা সময় জুড়ে রোদেলার কাছে থাকতো। ছোট্ট অংশটার ভাষা বোঝার চেষ্টা করতো। পরের ছবিটায় প্রথমবারের মত রোদেলা নিজ পায়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল। রোদেলার বড় হওয়ার প্রতিটা মুহুর্ত রৌদ্রিক ছবিবন্দী করে রেখেছে। মাঝে মাঝেই সে খুলে এই ছবিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখে। দেখতে দেখতে সেখানে রোদেলা উপস্থিত হলো, ছবির মধ্যে থাকা ছোট্ট রোদেলা নিজেকে দেখে রৌদ্রিকের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে-
“ আনি এত টেনি ছিলাম কেনু পাপা?”
রৌদ্রিক এলবামটা পাশে রেখে মেয়েকে নিজের কোলে তুলে নিলো। রৌদ্রিক মেয়ের মাথাটা বক্ষের সঙ্গে মিশিয়ে নরম স্বরে বলে-
“ ছোট্ট বাবুরা ওমনই হয়। তুমি তো আমার পেটে ছিলে তাই এত ছোট দেখাচ্ছো।”
রোদেলা মাথা তুলে রৌদ্রিকের দিকে তাকিয়ে ছোট ছোট চোখ করে বলে-
“ কিন্তু দিদু তো বললো বেবি পাপদর পেত থেকে হয় না। মিত্তা বলেতো আমায়?”
রৌদ্রিক হালকা হাসলো রোদেলার কথা।
“ হুম সবাই মায়ের পেট থেকে বের হলেও,তুমি আমার পেট থেকে বের হয়েছো। কারণ রোদেলা তো পাপার মেয়ে তাই তো পাপার পেট থেকে হয়েছে।”
রোদেলা খুশিতে গদগদে হয়ে গেলো, হাসি হাসি মুখ করে রৌদ্রিকের উদ্দেশ্যে বলে-
“ তাহুলে আনায় আলও বেবি এনে দাও। আনি বিগ তিত্তার হতে চাই, এতগুলা বেবি দাউ তো পাপা!”
হাত দ্বারা দেখালো রোদেলার কয়টা বেবি চাই। রৌদ্রিক হেসে ফেললো রোদেলা এহেন কথায়।
“ কিন্তু একমাত্র রোদেলাই তো আমার পেটে থাকতে পেরেছে অন্য বেবি তো থাকতে পারবে না। পাপার পেটে জায়গা নেই তো।”
রোদেলা এবার কোল থেকে নেমে পরলো তারপর রৌদ্রিক বিস্তর পেটে হাত রেখে ছোট ছোট চোখ করে বলে-
“ এই তো কত্ত তায়গা, মিত্তা বলতো কেনু পাপা?”
“ কিন্তু পাপার পেট তো রোদকে ছাড়া অন্য বেবি এলাউ করবে না।”
“ তাহুলে মায়েল পেতে বেবি দাউ। মা তো কাঁতে!”
কাঁদু কাঁদু মুখ করে বলে ওঠে রোদেলা।
“তোমার মা আবার কাঁদে?”
রোদেলা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ জানায়।
“ তুনি মাকে বেবি দাউ পাপা। আনি খুব ভাল তিত্তাল হবো, বেবিকে এত্ত এত্ত আদর দিবো। একদম বতা দিবো না।”
রৌদ্রিক আবারও মেয়েকে কোলে উঠিয়ে নিলো। মুখের উপর আসা চুলগুলো সড়িয়ে দিয়ে আলতো স্বরে বলে-
“ জানি তো আমার রোদ ভালো সিস্টার হবে। কিন্তু এখন না সোনা!”
“ না এখনই চাই!”
“ মা-মেয়ে ঘটা করে আন্দোলনে নেমেছো দেখছি।”
“ আততোলন কি? খায় না মাতায় দেয়?”
“ আপাতত তোমাদের আন্দোলনে আমি পাগল হয়ে গেছি। মা আসে একবার এরপর লাইন করে মেয়ে আসে একবার। একের পর এক আন্দোলন করেই চলেছো দেখছি।”
তূর্ণা কক্ষে পা মেড়াতেই রৌদ্রিকে দেখতে পায় ল্যাপটপের সামনে আসে মনোযোগ দিয়ে কিছু একটা করছে। আর কোলে রোদেলার ছোট্ট মাথাটা এলিয়ে দেওয়া, এতক্ষণ রৌদ্রিকের সঙ্গে কথা বলতে বলতে হাঁপিয়ে ঘুমিয়ে পরেছে। রৌদ্রিক তূর্ণার উপস্থিতি বুঝতে পেরেছে তবুও টু শব্দ করছে না। ভাবখানা এমন নিয়ে আছে যেনো যে জানেই না তূর্ণা রুমে এসেছে। সেটা দেখে তূর্ণা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলো। হনহনিয়ে রৌদ্রিকের নিকট এগিয়ে এলো, তারপর কিছুখন রৌদ্রিকের মুখখানে চেয়ে থেকে বিড়াল ছানার মতো গা ঘেঁষে বসে পরলো। রৌদ্রিক তাকালো না তবে মনে মনে হাসলো সে, তূর্ণা অতি নরম স্বরে ডেকে উঠে বলে-
“ ওগো বর শুনুন না। চলুন না আমায় একটা বেবি দিন, পুতুলও বেবি চাচ্ছে।“
“ দারাজে অর্ডার করে নাও।”
” এই দারাজ-ফারাজ আবার কি? একটা বেবি দিন না বর!”
“ তূর্ণা তুমি নির্লজ্জ হয়ে গেছো দেখি। এইভাবে বেবি চাইতে লজ্জা লাগছে না?”
“ ওমা লজ্জা লাগবে কেনো? বেবিই তো চাইছি, দিবেন না আমায় বেবি? সবাইকে বলে দিবো আপনি আমায় বেবি হওয়ার আদর করেন না।”
মুখ ফুলিয়ে কথাখানি বলে থেমে যায় তূর্ণা। রৌদ্রিক হাসবে না কাঁদবে বুঝলো, মেয়েটা এত অবুঝ কেনো?
তূর্ণা বোধহয় আবারও কেঁদে ফেললো। নাকের ডগা লাল হয়ে এসেছে, এই বুঝি রৌদ্রিক কিছু বললেই নেত্র পল্লব ছাপিয়ে অশ্রুবর্ষণ হবে। রৌদ্রিক তাই কিছু বললো না, রৌদ্রিকে কিছু বলতে না দেখে নাক টেনে কান্না আটকানোর চেষ্টা চালিয়ে বলে-
“ এমন করেন কেনো? বেবি নিলে কি হবে?”
” এখন কেনো নিতে হবে? সময় হলো নিবো তো তূর্ণা।”
“ না, আমার এখনই চাই! আপনি খুব খারাপ আমায় ওই আদর দেননি এখনো।”
রৌদ্রিক হালকা হাসলো। তারপর নিজের মুখখানি তূর্ণার কানের কাছে নিয়ে যেতেই, রৌদ্রিকের উষ্ণ নিশ্বাসে কেঁপে উঠো তূর্ণার সারা অঙ্গ!
“ আমার যে অবাধ্য স্পর্শে তোমার সারা অঙ্গ যখন কেঁপে ওঠে। তোমার মাঝে আমি বিলীন হয়ে থাকি সেটাই তো বেবি হওয়ার আদর। আদর নেওয়ার পরও বলছো বেবি হওয়ার আদর করিনি! এটা কি ঠিক রৌদ্রিকের বউ?”
রৌদ্রিকের বাক্যগুলো কর্ণগোচর হতেই সারা অঙ্গল আর একদফা কেঁপে উঠলো, লজ্জায় মাথাটা নুইয়ে পারলো। এতক্ষণের চাওয়া আবদারে সত্যি লজ্জা লাগছে, সে কি বেশি অবুঝ হয়ে গেছে? ইসস! বার বার সে এইভাবে আদর চাচ্ছিলো। তাই কি রৌদ্রিক তাকে নির্লজ্জ বললো? সত্যিই তো সে নির্লজ্জের মত বেবি হওয়ার আদর যাচ্ছে। তূর্ণা আর বসে থাকতে পারলোনা, ছুটে সেখান থেকে সোজা কক্ষের বাহিরে চলে গেলো। সেটা দেখে রৌদ্রিক হালকা হাসলো। হালকা নয় অনেকখানি হাসলো।
সময় চললাম, স্রোতস্বিনীর মত বয়ে চলেছে এঁকেবেঁকে। দেখতে দেখতে কেটেছে দুটো মাস। চোখের পলকেই দিনগুলো যেনো ছুটে চলেছে, বাড়িতে নতুন সদস্যের আগমে নতুন আমেজ লেগেছে। প্রতিটা মানুষই বড্ড খুশি নতুন অতিথি আসার খবরে। শ্রাবণ যেনো আরও একটু দায়িত্বশীল হয়ে উঠেছে, আজ-কাল ইরার পেটে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা নিজের অংশটাকে নিয়ে ভাবে। দীর্ঘক্ষণ ইরার পেটে মাথা দিয়ে রাখে, হাজার খানিক কথাও বলে। নতুন পিতারা বোধহয় এমনই করে, নাকি সব পিতারা এমন করে? জানা নেই শ্রাবণের। আগে বাড়ি ফিরতো ইরার জন্য, আর এখন ফিরে আরও একটি অনাগত অংশের জন্য। ইরার সকল পছন্দের খাবার এনে দেয়, মেয়েটা ঠিক মতো কিছু খেতে পারে না। কয়েকমাস গেলে কিছুটা স্বাভাবিক হবে, তাও শ্রাবণ কেমন ঘাবড়ে যায় ইরাকে কষ্ট পেতে দেখে। কিছু খেলেই গা উগলিয়ে সব বেড় করে দেয়, পছন্দের খাবারগুলো খেতে পারে না। নতুন বাবা-মা হওয়ার যাত্রায় গোটা পরিবার রয়েছে তাই চিন্তাটাও কম। এমন একটা পরিবার থাকলে সেখানে চিন্তা করার কোনো জায়গা আছে?
ছাদে দোলনায় বসে আছে তিনজন। ইরার হাতে আচারের বাটি, আমের আচার খাচ্ছে। পাশে বসা রিনি আর তূর্ণাও খাচ্ছে, রিনি তো সেই খুশি। একটু পর পর ইরার পেটে হাত দিয়ে এটা-সেটা বলছে। তূর্ণার চোখ-মুখে বিষণ্ণতার ছাপ দেখে রিনি কিছু একটা বুঝে ফেললো।
“ ভাই রাজি হয়নি তাই না?”
তূর্ণা মন খারাপ করে মাথা নাড়ালো। তূর্ণাকে হতাশ হতো দেখে ইরা নরম স্বরে বলে ওঠে-
“ আরে ভাবি এত ভাবছো কেনো? আর একটা বছর দাও নিজেকে। ভাই নিশ্চয়ই এমনি তোমাকে বেবি নেওয়া থেকে আটকাচ্ছেনা। রৌদ্রিক ভাইয়া তোমার জন্য চিন্তা করে তাই তাড়াহুড়ো করে তিনি কিছুই করবে না।”
তূর্ণার কিছু বললো না, মন খারাপ করে রইলো। ইরার ভালো লাগলো না সেটা, তূর্ণা সত্যি বেবি নিতে চায়। কোন মেয়ে চাইবে না মা হতে, ইরা রিনির দিকে তাকিয়ে বলে-
“ রিনি তুমি একটু একা ছাড়ো তো আমাদের। গোপনীয় কথা আছে আমার।”
“ কি গোপনীয় কথা গো ভাবি? আমি শুনি একটু।”
“ না বোনদের শোনা যাবে না এইসব। যাও, যাও ফুপি হতে চাইলে।”
রিনি আর কথা বাড়ালো না, নাচতে নাচতে উঠে গেলো। কিছু কথার মাঝে ননদের থাকতে নেই। তাই রিনি কথা বাড়ালো না। ইরা তূর্ণার কাঁধে মাথা রেখে বলে-
“ জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাও তুমি?”
তূর্ণা বুঝলো না এটা আবার কি। তাই আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করে-
“ এটা আবার কি? আমি তো এমন কিছু খাই না।”
“ এটা খেলে বেবি হয়না, যখন অব্দি তুমি না চাইছো।”
“ আমি তো এইসব খাই না ইরাপু।তাহলে আমার বেবি হচ্ছে না কেনো?”
“ তারমানে রৌদ্রিক ভাইয়া হয়তো কোনো ভাবে তোমায় খাওয়ায়। এখনো মেডিসিন চলছে তো আমার তাই না?”
“ হ্যাঁ, আরও কয়েক মাসের বাকি আছে তাহলেই শেষ।”
“ তাহলে শিওর ভাইয়া তোমাকে পিল দিচ্ছে।”
তূর্ণার চোখে পানি এলো বুঝি, রৌদ্রিক এটা করতে পারলো তার সঙ্গে। তাই তো সে ভাবে তার বর তো তাকে বেবি হওয়ার আদর দেওয়ার পরও সে কেনো বেবি পায়নি।
“ এখন আমি কি করবো?”
“ ভাইয়া যেসব মেডিসিন দিবে তারমধ্যে যেটা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিলটা সেটা কোনো ভাবে নড়িয়ে যাবে। আমি দেখি দিনো কোনটা,ওকে?”
“আচ্ছা ঠিক আছে। আমিও বলবো না বেবি এলে, হু! পঁচা বর!”
তূর্ণার হালকা রাগ দেখিয়ে কথাটা বললো। সেটা দেখে ইরা হালকা হেসে ফেললো।
সেদিনের পর থেকে ইরার দেখানো মেডিসিনটা তূর্ণা চুপিসারে ফেলে দেয়। সকালে রৌদ্রিক তাকে আর রোদেলাকে খাইয়ে যায়,মাঝে মাঝে আগে চলে গেলে সে নিজেই সকালের মেডিসিন নিয়ে নেয়। রোদেলার সঙ্গে রুমে বসে গল্প করছিলো তূর্ণা, এরমাঝেই কান্ত শরীরে হেঁটে এলো রৌদ্রিক। কয়েকদিন বেশ ব্যস্ত রৌদ্রিক, টানা সার্জারি থাকায় বাড়িতে আসা-যাওয়াটা খুবই কম করেছে। ঘুমটাও ঠিক মত হয়নি, কান্ত রৌদ্রিকে দেখে তূর্ণা বড্ড মায়া হলো। রোদেলাও পাপাকে পেয়ে ছুটে চলে গেলো। রৌদ্রিক সব কান্তি দূর করে মেয়েকে আগলে নিলো। সারাদিনের কান্তি এই দু’টো মুখশ্রী দেখলে দূর হয়ে যায় তার। রোদেলা চুপটি করে পাপার বক্ষে মিশে আছে। তূর্ণা এসে রৌদ্রিকে কপালে লেপ্টে থাকা ক্লেদবিন্দু মুছে দিলো।
অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৩৯ (২)
” আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন। আমি খাবার আনি।”
বলেই চলে চেতে নিলে রৌদ্রিক আঁটকে ফেলে তূর্ণাকে। রোদেলা সহ তূর্ণাকে বিছানায় নিয়ে যায়। আস্তে করে মেয়েকে বসিয়ে দিয়ে কান্ত বলে-
“ কোথাও যেতে হবে না, দুইজন আমার সঙ্গে মিশে থাকো। আমার শান্তির দরকার!”
বলেই তূর্ণা সহ রোদেলাকে বুকের উপর আগলে নিয়ে নেত্রজোড়া বুঁজে ফেলে। রোদেলাও শান্ত বাচ্চার মত পাপার সঙ্গে মিশে রইলো। তূর্ণাও নড়চড় না করে সেভাবেই রইলো রৌদ্রিকে যেভাবে তাদেরকে নিয়ে শুইয়েছে।
