Home অভিসৃতি অভিসৃতি পর্ব ২৫

অভিসৃতি পর্ব ২৫

অভিসৃতি পর্ব ২৫
নওরিন কবির তিশা

জানলা গলিয়ে চোরের ন্যায় চুপিচুপি কক্ষে ঘাঁটি গাড়া কিঞ্চিৎ তপ্ত রৌদ্রের দাপটে তন্দ্রাচ্ছন্নতার পাল্লা হ্রাস পেয়েছে কায়রার। ঘুমুঘুম চোখে পাশ হাতরে কাঙ্খিত পুরুষকে অনুপস্থিত ঠাওর করেই ধড়ফড়িয়ে বিছানায় উঠে বসলো ও। দেওয়াল ঘড়িতে চোখ বুলিয়েই চক্ষু চড়ক গাছ। বেলা নয়টার কাঁটায় ঠেকেছে। তড়িঘড়ি বিছানা থেকে নেমেই ওয়াশরুমের উদ্দেশ্যে রওনা হলো ও।

অর্ধ ঘণ্টা গত হয়েছে। সাজেদা চৌধুরী আর ইকবাল আহসান খাবার টেবিলেই অপেক্ষা করছিলেন। কায়রা নিচে নেমে শুধু ওনাদের দেখে বেশ উদ্বিগ্ন হলো। দুর্জয়ের কথা শুনতে গিয়েও ইকবাল আহসানের সামনে কুণ্ঠাবোধ করল। শুধু সাজেদা চৌধুরী থাকলেও কথা ছিলো। শ্বশুরের সামনে ব্যাপারটা হ্যাংলামি বলে মনে হলো ওর। তবে ব্যাপারটা অনুধাবন করে, সাজেদা চৌধুরী ইকবাল আহসানকে খাবার দিয়ে এগিয়ে এলেন।
“দুর্জয় কে খুঁজছো?”
কায়রা কিঞ্চিৎ অপ্রস্তুত হলেও, মাথা নেড়ে সত্য স্বীকার করে বলল,,
“জ্বী, ঘুম থেকে উঠেও ওনাকে দেখলাম না। বাড়িতেও কোথাও নেই। উনি কি বাইরে গিয়েছেন, আম্মু?”
“হ্যাঁ। বলল কি একটা কাজ আছে। অনেকক্ষণ গিয়েছে। চলে আসবে এক্ষুনি। তুমি আসো খেয়ে নাও।”
কায়রা আপত্তি করে বলল,,“না আম্মু থাক! উনি আসলেই খাব না হয়।”
সাজেদা চৌধুরী জোড়াজড়ি করলেন না। মেয়েটা এমনিতেই,খুব কম স্বামী সঙ্গ পায়। আর যতটুকু পায় ততটুকু সর্বোচ্চ দিয়ে উপভোগ করুক এটাই একমাত্র চাওয়া উনার। উনি চলে যেতেই কায়রা পুনরায় কক্ষের দিকে চলে গেলো।

“মামুনি, ও কায়া মামুনি? কোথায় গেলে তুমি? শুনবে তো?কুথায়য়?”
ফুল গাছগুলো পরিচর্যায় ব্যস্ত ‌কায়রা ব্যালকনিতে ছিলো। হঠাৎ কক্ষ হতে ভেসে আসা মিষ্টি কন্ঠ টায় কর্মতৎপরতায় ছেদ ঘটালো ওর।জলদি পদে এগিয়ে এসে মিষ্টি মেয়ের দেখা পেতেই স্বভাবসুলভ চওড়া হেসে বলল,,
“আ’ম হিয়ার,মাই প্রিটি ডল।বলো কি হয়েছে?মামণিকের মিস করছিলে?”
ও হাত বাড়িয়ে দিতেই কুহু ছোট ছোট পায়ে একপ্রকার দৌড়ে এসে কোলে উঠলো।হাতে থাকা পুতুলটা ওর হাতে তুলে দিয়ে বলল,,
“দেখো,পাপা কাল এটা এনেছিলো।কিন্তু, অন্নেক রাতে তো,তাই এখন আনলাম।”
কায়রা একঝলক কুহুর হাতে থাকা পুতুলটার পানে চাইলো।অতঃপর দৃষ্টি ঘুরিয়ে কুহুর দিকে চেয়ে ওর তুলতুলে গালটায় চুমু এঁকে বলল,,

“তোমার মতোই কিউট এটা। মিত্তি,মিত্তি।”
কুহু আধো-আধো বোলে মাথা নেড়ে পুনশ্চ বলল,,
“জানো মামুনি? পাপা বলেছে আমি যদি গুড গার্ল হয়ে টাইমলি মিলস নিই, আর একদম দুষ্টুমি না করি, তাহলে আমাকে নেক্সট উইকে আরও একটা প্রীতি ডল এনে দেবে!”
“তাহলে তো মাই লিটল প্রিন্সেসকে এখন থেকে একদম পারফেক্ট গুড গার্ল হয়ে থাকতে হবে! আচ্ছা, তুমি কি তোমার পাপা আর মাম্মার সাথে ব্রেকফাস্ট কমপ্লিট করেছ?”
কুহু অমনি থুতনি উঁচিয়ে অভিমানের সুরে বলল,,
“উঁহু! মাম্মা তো আমাকে সেই বোরিং ওটস আর মিল্ক খাইয়ে দিল। আমার একদম টেস্ট ভালো লাগেনি, মামুনি!”
কুহুর পাকা কথায় কায়রা ওকে কোলে নিয়েই সামনে এগিয়ে গেল। অতঃপর, বেড সাইড টেবিল থেকে আগে থেকেই এনে রাখা চকলেটের বক্সটা ওর হাতে তুলে দিয়ে বলল,,
“এটা তোমার আর আমার সিক্রেট জোন, বুঝলে? মাম্মা,পাপা, চাচাই, দাদুন কাউকে বলবেনা। যখন আমাদের সকালের খাবার পছন্দ হবে না তখন আমরা দুজন এখান থেকে চকলেট নিয়ে খাব। ওকে?”
ছোট্ট কুহু মাথা নাড়িয়ে মিষ্টি হেসে বলল,,“ওক্কে মামুনি!”

প্রায় দেড় ঘণ্টার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কায়রা ব্যালকনির গ্রিল ধরে মাধবীলতা ও বনফুলের স্নিগ্ধতার মাঝে আনমনে ডুব দিয়েছিল। হঠাৎ, নীচের চত্বরে ছোট ছোট কয়েকটি ভ্যান গাড়ি প্রবেশ করতে দেখে মুহূর্তেই ওর চঞ্চল নেত্রে কৌতূহলী হয়ে উঠলো। দূর থেকে স্পষ্ট বোঝা না গেলেও, ভ্যানের উপরিভাগ জুড়ে সুবিন্যস্ত তরুরাজির সারি দেখে ওর অনুমিত হলো, সবগুলোই শুভ্র কাঠগোলাপের চারা!
প্রথমে বিস্মিত কায়রা পরক্ষণে ভাবলো হয়তো কোনো ফ্লাটের ভাড়াটিয়ার ব্যালকনিতে বাগানের শখ জেগেছে। যেহেতু,ওদের প্রত্যেকটা ভাড়াটিয়ায় বড্ড সৌখিন।‌কিন্তু ক্ষণকাল পরেই ওর বিস্ময়ের সীমা রইল না, যখন দেখল ভ্যানগুলো অন্য কোথাও না গিয়ে সোজা ওদের ভবনের প্রবেশদ্বারের সম্মুখে এসে থামছে। আর সেই তরুরাজির তত্ত্বাবধানে উপস্থিত দুর্জয় নিজেই! অতি ব্যস্ততায় লোকটির সাথে গুটিকয়েক কথা সেরে দিকনির্দেশনা দিচ্ছিল ও।
কায়রা আর কৌতূহল সম্বরণ করতে না পেরে, দ্রুত পদে নীচে নেমে এলো। দুর্জয়ের সুদৃঢ় অবয়বের সম্মুখে এসে দাঁড়িয়ে, বিস্ময়ে চক্ষুদ্বয় ডাগর করে শুধাল,,

“এ কী! এত কাঠগোলাপের গাছ… এখানে কী হচ্ছে, মেজর?”
দুর্জয় কায়রার অপ্রস্তুত, উৎফুল্ল রূপখানি ক্ষণকাল নীরবে প্রত্যক্ষ করল। অতঃপর স্বভাবসুলভ গম্ভীর, নিখাদ অনুচ্চারিত ভালোবাসায় আবৃত গলায় বলল,,
“সামওয়ান টোল্ড মি যে তার কাঠগোলাপ ভীষণ ফেভারিট।”
স্মৃতির পাতা হাতরে কায়রা জানালো, কথাটা কালকে ও নিজেই বলেছিলো।
“হ্যাঁ আমি বলেছিলাম! কিন্তু..!”
ওর কথা এক প্রকার কেড়ে নিয়ে দূর্জয় শুধালো,,
“অ্যানি প্রবলেম?”
কায়রা অপ্রস্তুত হয়ে বলল,,

“না… মানে, কোনো প্রবলেম নেই! কিন্তু হঠাৎ এতগুলো….”
দুর্জয় আবারও বাক্য সম্পূর্ণ করতে না দিয়ে হার ঘড়ির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ধীর স্বরে বলল,,
“দ্যাটস ফাইন। নাও, গো অ্যান্ড গেট রেডি কুইকলি। আজ আমরা কায়রা কুঞ্জে যাচ্ছি।”
কায়রা চরম বিস্ময়ে থমকে গেল,
“আজ? এখনই?”
দুর্জয় প্রগাঢ় দৃষ্টিতে চেয়ে শান্ত কণ্ঠে জবাব দিল,,
“ইয়েস, রাইট নাও। বিয়ের পর থেকে প্রপারলি তোমাদের ওখানে যাওয়া হয়নি।”
কায়রা প্রকৃতপক্ষে খুশিই হয়েছে।আসলে আনোয়ার ইয়াসির কাল রাতেই দেশে ফিরেছেন। আর ওনার আগমনি সংবাদের কায়রার হৃদয়ে একগাদা ব্যাকুলতা জমেই ছিল বাবা বাড়ি যাওয়ার তরে। তাই দুর্জয়ের এই আকস্মিক, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন সিদ্ধান্তে ওর প্রফুল্লতা যেন দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে।ও উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে সম্মতি জানিয়েই কক্ষের দিকে এগিয়ে গেলো।

ভবনের দ্বারপ্রান্তে গাড়িতে ওঠার প্রাক্কালে সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে দুর্জয়ের বাক্যলাপে কায়রা সম্যক অনুধাবন করতে পারল যে,আজকের এই কায়রা কুঞ্জে যাওয়ার ব্যাপারটা আসলে পূর্বপরিকল্পিত ছিল। কথোপকথনের খানিকক্ষণ বাদে, যানবাহনের চাকা সচল হতেই সুদূরের পথরেখা পিছে ফেলে গাড়ি ধাবমান হলো। কিঞ্চিৎ দূর অতিক্রম করতেই শহরের এক সুবিশাল, অতীব বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়ির গতি রোধ হলো।
কায়রা ঈষৎ সচকিত হয়ে দুর্জয়ের পানে চেয়ে শুধাল,
“এখানে হঠাৎ? কী হয়েছে, মেজর?”
দুর্জয় অতি সংক্ষেপে জবাব দিলো,,
“কাম উইথ মি।”

কথাটি শেষ করেই ও দরজা খুলে নেমে পড়ল। কায়রাও বাধ্য হয়ে ওকে অনুসরণ করলো। হঠাৎ,দুর্জয় পরম আধিপত্যে কায়রার সুকোমল হাতটা মুঠোয় পুরে পথ অতিক্রম করলো। তবুও হাত ছাড়লো না। একদম ওভাবেই রেস্টুরেন্টে গিয়ে ফাঁকা টেবিলে বসলো। অতঃপর কায়রার দিকে মেনুকার্ড এগিয়ে দিয়ে বলল,
“পছন্দের আইটেম সিলেক্ট করো।”
কায়রা ক্ষণকাল মেনুকার্ডে চোখ বুলিয়ে এখানকার জনপ্রিয় কিছু পদ নির্দেশ করতেই দুর্জয় ওয়েটার ডেকে অর্ডার কনফার্ম করে কায়রার সামনের চেয়ারে বসল।কায়রা এবার কৌতূহল সম্বরণ করতে না পেরে মৃদু স্বরে শুধাল,
“আপনি তো বললে না, হঠাৎ এখানে কেন থামলে? আমরা তো আমার বাড়িতে যাচ্ছিলাম!”
দুর্জয় কায়রার দিকে অতীব গভীর নেত্রে চেয়ে শান্ত, ভরাট গলায় সংশোধন করে দিয়ে বলল,
“ওটা তোমার বাড়ি নয়, বলো আমাদের বাড়ি থেকে তোমার বাবার বাড়ি যাচ্ছিলাম। আহসান কুঞ্জ এখন আমাদের বাড়ি।আর ভবিষ্যতে আমাদের নিজেদের বাড়ি হবে। ”
উচ্চারিত বাক্যের গভীর মর্মার্থ না বুঝে, হাসিমুখে তা এড়িয়ে গিয়ে নিজের কৌতূহল অবদমনে কায়রা পুনশ্চ শুধালো,

“আচ্ছা বেশ, আমাদের বাড়ি থেকেই বাবার বাড়ি যাচ্ছিলাম! কিন্তু মাঝপথে এখানে বিরতি নেওয়ার কারণ?”
দুর্জয় হাতঘড়ির ওপর স্থির দৃষ্টি রেখে অতীব স্বাভাবিক কণ্ঠে জবাব দিল,
“শুনলাম কেউ একজন আমার জন্য সকাল থেকে না খেয়ে বসে ছিল। পরবর্তী সময়ে যাতে তার কোনো হেলথ প্রবলেম না হয়, তাই এই শর্ট ব্রেক। লং জার্নিতে খালি পেটে থাকা ঠিক নয়।”
কায়রা চরম বিস্ময়ে স্থাণু হয়ে রইল! ও যে না খেয়ে আছে বাবা বাড়ি যাওয়ার আনন্দে নিজেই সেরা ভুলে মেরে দিয়েছিল! লোকটার এই আড়াল করা যত্নশীলতা, দায়িত্ববোধ ওর বক্ষপঞ্জরে এক অদ্ভুত সুমিষ্ট অনুভূতির সৃষ্টি করল। ও অপলক দুর্জয়ের গম্ভীর অবয়ব পানে চেয়ে রইল।
কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে ধোঁয়া ওঠা সুস্বাদু খাবার টেবিলে পরিবেশিত হলো। কিন্তু খেয়ে গিয়ে বাঁধল বিপত্তি
ধোঁয়া ওঠা সুস্বাদু খাবার থালায় সাজিয়ে দিতেই কায়রা পরম আনন্দে তা তুলতে গেল। কিন্তু ঠিক তখনই বাঁধলো বিপত্তি!সকালে ব্যালকনিতে মাধবীলতা আর বনফুলের পরিচর্যা করার সময়ে কাঁচির ধারালো ডগায় লেগে ওর ডান হাতের কর্নিষ্ঠার চামড়া বেশ খানিকটা ছিলে গিয়েছিল। ক্ষতের পরিমাণ সামান্য হওয়ায় ও ব্যান্ডেজ করার প্রয়োজনবোধ করেনি। কিন্তু এখন গরম আর মসলাযুক্ত খাবারে স্পর্শ লাগতেই প্রকাণ্ড জ্বালা ধরে উঠল আঙুলে!
কায়রা ব্যথায় ঈষৎ সিঁটিয়ে উঠে চটজলদি হাত গুটিয়ে নিল। চামচ দিয়ে খাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করতে গিয়েও দেখল,ধাতব চামচের সামান্য স্পর্শেও ক্ষতে মারাত্মক যন্ত্রণা অনুভূত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও তড়িঘড়ি হাত আড়াল করে দুর্জয়ের পানে চেয়ে বানিয়ে বলল,

“আমার… আমার এখন একদম খেতে ইচ্ছে করছে না, মেজর! আপনি প্লিজ এগুলো পার্সেল করতে বলুন, আমি বাসায় গিয়ে খেয়ে নেব।”
তবে ওর ব্যাথাতুর মুখের সূক্ষ্ম পরিবর্তন আর আঙুলের লোকানো ক্ষত ‌দুর্জয়ের প্রখর পর্যবেক্ষণক্ষমতা এড়াতে পারল না। দুর্জয় তৎক্ষণাৎ নিজ থালা একপাশে সরিয়ে কায়রার মধ্যমা আর কর্নিষ্ঠা আলতো করে নিজের হাতের মুঠোয় নিল। ছিলে যাওয়া লালচে ক্ষতটির ওপর একনজর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বুলিয়ে, কায়রার মুখের পানে চেয়ে নিচু, গম্ভীর গলায় বলল,
“নেভার লাই টু মি, কায়রা। আঙুল কেটে ফেলেছো আর আমাকে লুকিয়ে বাহানা করছো?”
কায়রা তৎক্ষণাৎ অপ্রস্তুত হয়ে উঠল্। এভাবে ধরা খাবে বুঝতে পারিনি,,

“না মানে আসলে!”
“কেটেছে কিভাবে?”
“ফুলের ডাল ছাটতে গিয়ে।”
’“ওগুলো তোমার কাজ?”
“একা একা বসে থাকতে ভালো লাগছিল না তাই!”
“ব্যান্ডেজ করোনি কেন? নিজের ব্যাপারে কবে দায়িত্বশীল হবে তুমি? সবসময় আমি থাকি?”
কায়রা কোনোরূপ ওজর দেওয়ার আগেই, দূর্জয় জলদি হাতে কায়রার থালা থেকে খাবার নিয়ে কায়রার মুখের সামনে ধরে বলল,,
“ওপেন ইয়োর মাউথ! হা করো।”
রেস্তোরাঁর জনাকীর্ণ পরিবেশে দূরজয়ের মত কঠোর ব্যক্তিত্ববান পুরুষের এমন আহ্লাদি রূপে, ভেতরে অসীম সুখানুভূতি রোমাঞ্চিত হলেও লজ্জায় লাল হয়ে কায়রা বলল,

“আরে, কী করছেন! এখানে তো অনেকে রয়েছে…”
“সো হোয়াট?”
“ওরা তাকাচ্ছে!”
“আই ডোন্ট কেয়ার। নাও, জাস্ট হ্যাভ ইট!”
কায়রা আর প্রতিবাদ করার সুযোগ পেল না। লাজুক হাস্যে অক্ষিপল্লব অবনত করে দুর্জয়ের বাড়িয়ে দেওয়া খাবারটুকু মুখে তুললো্। একে একে সমস্ত খাবারটা কয়েরাকে খাইয়ে, টিস্যু দিয়ে ওর মুখটা মুছিয়ে পর পর শুধালো,,
“ইজ ইট অলরাইট নাও?”
কায়রা উত্তরের প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে আনমনে বললো,,
“এতো আহ্লাদ দিবেন না।পরে কখনো অবহেলা করলে সইতে কষ্ট হবে।হয়তো দেখা যাবে দমবন্ধ হয়ে মারাই গেলাম।”
“আমার আমৃত্যু উপস্থিতিতে এই খাঁচায় অক্সিজেনের অভাব হতে পারে কায়রা, কিন্তু ভালোবাসায় দমবন্ধ করা অবহেলা কখনো পাবে না। সো, ডোন্ট এভার থিংক অফ লিভিং।”

“ইউ ক্যান গো আমি বিল পে করেই আসছি।”
কায়রা মৃদু মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে ধীর পায়ে রেস্তোরাঁর প্রধান ফটকের দিকে পা বাড়াল। কাঁচের স্বয়ংক্রিয় দরজা পার হয়ে বাইরের কিঞ্চিৎ খোলামেলা চত্বরে পা রাখতেই আচমকা কারো সাথে প্রচণ্ড সজোরে ধাক্কা খেল ও! পা পিছলে পড়ে যেতে যেতেও নিজেকে কোনোমতে সামলে নিল। শিষ্টাচারবশত স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে “সরি” বলতে গিয়ে যেই না মুখ তুলে তাকাল, অমনি ওর চোখের সামনের লোকটাকে দেখে অনুশোচনা বাক্য মুখের মাঝেই আটকে গিয়ে, দৃষ্টি বিস্ফোরিত হলো ওর।
ছেলেটা দিহান,ওকে দেখা মাত্রই কায়রার মেজাজ মুহূর্তে সপ্তমে চড়ল। লোকটার উপস্থিতি ওর কাছে চরম বিষাদতুল্য। কোনোপ্রকার কথা না বাড়িয়ে ও তড়িঘড়ি পাশ কাটিয়ে সরে যেতে উদ্যত হতেই, দিহান বাড়াবাড়ির চরম সীমায় গিয়ে কায়রার পথ আটকে দাঁড়াল। কায়রা ঝটকা মেরে নিজেকে পিছিয়ে নিয়ে প্রকাণ্ড গর্জে উঠল,,
“হোয়াট দ্য হেল আর ইউ ডুইং?! পথ ছাড়ুন আমার। ইট’স আ পাবলিক প্লেস, কোনোরকম সিন ক্রিয়েট করতে চাই না আমি!”
দিহান ওর ক্ষোভের তোয়াক্কা না করে নির্লজ্জের মতো বলে উঠল,,

“ওহ মাই সুইটহার্ট!”
কথাটা শোনামাত্রই কায়রার ইচ্ছে করছিল লোকটার গালে কষে একটা চড় বসিয়ে দিতে! কিন্তু স্থানটি জনাকীর্ণ হওয়ায় ও নিজেকে অসীম কষ্টে সংযত করল। আর এক মুহূর্তও এখানে অবস্থান করা বিপজ্জনক ভেবে ঘৃণাভরে মুখ ফিরিয়ে ও দ্রুত গাড়ির দিকে পা বাড়াল।
দিহান কায়রার ধাবমান অবয়বের পানে চেয়ে রইল, কিন্তু ওর সেই জঘন্য সুখানুভূতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। আচমকা পিছন থেকে এক প্রকাণ্ড, হিমশীতল ধাতব কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,,
“আগেরবার শুধু হাতটাই ভেঙেছিলাম, এবার আর কোনো ছাড়াছাড়ি হবে না। আইল সেন্ড ইউ স্ট্রেইট টু গড! পুরো জ্যান্ত পুঁতে রেখে দেব মাটির নিচে!”
দিহান চকিতে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই ভয়ে আঁতকে উঠল! ওর ঠিক কয়েক ইঞ্চি দূরে দাঁড়িয়ে আছে মেজর দুর্জয় আহসান! দুর্জয়ের অবয়বে কোনো উন্মাদ ক্রোধের তাণ্ডব নেই, কিন্তু ওর প্রকাণ্ড গাম্ভীর্য আর রক্তচক্ষুর নিরেট স্থির চাহনিই দিহানের আত্মা কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। দুর্জয় ধীর পায়ে এক পা এগিয়ে এসে দিহানের মুখোমুখি দাঁড়াল। নিজের সুগঠিত শরীরের সমস্ত পুরুষালী দৃঢ়তা আর আধিপত্য বজায় রেখে, অত্যন্ত ঠান্ডা স্বরে বলল,,
“আই হোপ ইউ হ্যাভ এ গুড মেমরি। দ্বিতীয়বার আর কোনো ওয়ার্নিং দেব না। আমার বউয়ের ছায়া স্পর্শ করার দুঃসাহস তো দূরের কথা, ওর আশেপাশেও যদি তোকে কোনোদিন দেখি, ইউ ওন্ট ইভেন গেট দ্য চান্স টু রিগ্রেট।”
দিহানের শুকনো গলায় কোনো বাক্যই ফুটল না। ভয় মুখ ফ্যাকাসে বর্ণ ধারণ করলো মুহূর্তেই। দুর্জয় ওকে আর একটি বাক্যও উচ্চারণ করার সুযোগ না দিয়ে, চরম অবহেলায় ওকে পাশ কাটিয়ে কায়রার দিকে হেঁটে চলে গেল।

এসে থেকেই ব্যাপক জামাই আদরে থাকা দুর্জয় খেয়াল করল তার সহধর্মিণীর দেখা নেই। সন্ধ্যা পড়েছে অনেকক্ষণ;আঁধার ঘনীভূত। ঘড়ির কাটায় চাইতেই সন্ধ্যার সাতটার শেষ লগ্ন দেখে বেশ বিরক্ত হলো দূর্জয়। মানে বিগত চার ঘন্টা ধরে মেয়েটা বেমালুম ওর কথা ভুলে গিয়েছে। কি পরিমাণ গর্ধব মেয়েটা ভাবা যায়? চোয়াল শক্ত হয়ে এলো দুর্জয়ের। পাশ থেকে ফোন তুলে কায়রার মেসেঞ্জারে বেশ কয়েকটা মেসেজ সেন্ড করলো।
এদিকে…..
পায়রার ঘরে বিছানায় পা ছড়িয়ে বসে আড্ডায় মেতেছিল কায়রা। দুই বোনের সাম্প্রতিক ঘটনার ঘনঘটা পেরিয়ে কথা এসে থামল সায়মনের অধ্যায়ে। মূলতো বাবার প্রসঙ্গ থেকেই সিরাজ আঙ্কেল তারপর সায়মনে এসে থেমেছে এই আলোচনা। ঠিক তখনই পায়রা গতকাল ঘটা কথাগুলো বলল কায়রাকে। এখানে অন্য কেউ হলে হয়তো বোনের প্রতি সহানুভূতি দেখাতো। কিন্তু অপরপক্ষ তো কায়রা ছিলো ও আরো বোনের খিল্লি উড়িয়ে হাসাহাসি শুরু করলো।পায়রা মুখ কুঁচকে বললো,,

“বিয়ে হয়ে গেলো তাও শয়তানি গেলো না তোর?”
“বিয়ে হলে শয়তানি ছেড়ে দিতে হবে এই সাইন্স টা তো বুঝলাম না!”
“তুই সাইন্স বুঝতিস কোনদিন? আজীবন তো আর্স নিয়ে পড়ে আসলি!”
কায়রা বুক ফুলিয়ে গর্বভরে বোনকে তাচ্ছিল্য করে বলল,,
“বিয়ে করলে ওসব স্পেসিফিক গ্রুপ নিয়ে পড়াশোনা কোন ম্যাটার করে! সাইন্স-কমার্স-আর্স সবগুলোই পানি পানি লাগে! বিয়ে করবি না তো বুঝবি কিভাবে?”
পায়রার মনে হল এক গ্লাস পানিতে ডুব দিয়ে মারা যেতে। এই মেয়ের ফালতু যুক্তি, আর উদ্ভট কথাবার্তা সীমালঙ্ঘন করছে ইদানিং। এই মেয়েকে এক্ষুনি এখান থেকে সরাতে হবে। না হলে সত্যি সত্যিই গ্লাস ভর্তি পানিতে ডুব দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না পায়রার।

“তা এতটা স্বামী ভক্ত মেয়ে আমার কাছে কি করছিস? বরের কথা ভুলে গিয়েছিস?”
“আরে ভুলে যাব মানে? উনি তো আব্বুর সাথে ড্রয়িংরুমে ছিলেন, এতক্ষণে হয়তো…”
কথাটা বলতে বলতেই আচমকা কায়রার হৃদপিণ্ড লাফিয়ে উঠল! ঘড়ির দিকে নজর পড়তেই ও দেখল সন্ধ্যা পার হয়ে রাত আটটার কাঁটা ছুঁইছুঁই! বিগত প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ও নিজের বোনের সাথে গল্পে মশগুল! চটজলদি বিছানার ওপর পড়ে থাকা ফোনটা হাতে নিতেই ওর আত্মা শুকিয়ে গেল। ফোন সাইলেন্ট করা ছিল, আর নোটিফিকেশন বারে ঝলমল করছে দুর্জয়ের অন্তত পনেরোটা মিসড কল আর বেশ কিছু মেসেঞ্জারে আনরিড মেসেজ!
মেসেজের পপ-আপে ভেসে উঠছে,,

“কোথায় তুমি, কায়রা?”‌,“ইজ দ্যাট সো ইম্পর্ট্যান্ট টু ফরগেট মি?”, “গেটিং ব্যাক টু ইউর রুম রাইট নাউ, আদারওয়াইজ আই’ম কামিং টু গেট ইউ।”
কায়রা ভীতি ও অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে এক লাফে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে বলল,,
“সর্বনাশ হয়েছে, আপু! আজকে আমার কপালে শনি আছে! আমি শেষ!”
পায়রা অবাক হয়ে শুধাল,,
“কী হয়েছে?”
কায়রা ততক্ষণে দরজার দিকে ধাবমান হয়ে হাঁসফাঁস করে বলল,,
“মেজর মেসেজেস পাঠিয়েছেন! পুরো চার ঘণ্টা ধরে আমি ওনাকে একলা ফেলে রেখেছি, একদম ভুলে মেরে দিয়েছিলাম! উনি রেগে লাল হয়ে আছেন নিশ্চিত! আমি গেলাম রে আপু!”
কথাটা শেষ করেই কায়রা একপ্রকার দৌড়ে পায়রার ঘর থেকে বেরিয়ে নিজ কক্ষের দিকে ছুট লাগাল। হন্তদন্ত হয়ে নিজের রুমে প্রবেশ করেই কায়রার কদম থমকে গেল। ঘরের আবহ বেশ থমথমে। জানলার ধারে এক হাত পকেটে গুঁজে সুদূরে চেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুর্জয়। জানলার হালকা বাতাসে ওর প্রকাণ্ড দেহের সুদৃঢ় অবয়ব আর পরিহিত ডার্ক শার্টের ভাঁজগুলো বড্ড গম্ভীর দেখাচ্ছে।

দরজার শব্দের সাথে সাথেই দুর্জয় ধীর গতিতে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। ওর প্রখর চক্ষুর স্থির চাহনি কায়রার আপাদমস্তক বিঁধে ফেলল। কায়রা অপ্রস্তুতভাবে দরজার হাতল ধরে ভিতু গলায় বলল,,
“মেজর… আপনি রুমে? আমি আসলে আপুর সাথে কথা বলছিলাম, তাই টাইমটা খেয়ালই ছিল না…”
দুর্জয় ধীর কদমে এগিয়ে এসে কায়রার খুব সন্নিকটে এসে দাঁড়িয়ে, ও হাতের ঘড়ির দিকে একবার ক্ষিপ্র নজর বুলিয়ে ভরাট গলায় শুধাল,,
“চার ঘণ্টা বিশ মিনিট, কায়রা। চার ঘণ্টা বিশ মিনিট ধরে তুমি আমাকে স্রেফ ভুলে বসে ছিলে? আই ওয়াজ ওয়েটিং ফর ইউ ডাউনস্টেয়ার্স, আর তুমি বোনের সাথে আড্ডায় মগ্ন?”
কায়রা দৃষ্টি অবনত করে অনুতপ্ত স্বরে বলল,,

“আই’ম সো স্যরি, মেজর! আসলে অনেকদিন পর আপুর সাথে একা গল্প করার সুযোগ পেলাম তো, তাই একদম খেয়াল ছিল না। আর ফোনটাও সাইলেন্ট করা ছিল, তাই আপনার কল-মেসেজ দেখতে পাইনি…”
দুর্জয় হাত বাড়িয়ে কায়রার চিবুক আলতো করে উঁচিয়ে ধরল। ওর সুগভীর চোখে অক্ষিপল্লব স্থির রেখে প্রচ্ছন্ন আধিপত্যের সাথে বলল,,
“ফোনের সাইলেন্ট মোড কোনো এক্সকিউজ হতে পারে না, কায়রা। এন্ড ইউ নো দ্যাট ভেরি ওয়েল।”
“আমি আসলে!”
“আই ডোন্ট কেয়ার!”
কায়রা কে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে। দুর্জয় এগিয়ে এসে, ওর কোমর জড়িয়ে বক্ষ বরাবর টেনে নিল ওকে। চাদর সরিয়ে উন্মুক্ত কাঁধে ঠোঁটে ছুঁয়ে বলল,,
“আমি থাকাকালীন আমার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করবে না,আমি কোনো এক্সকিউজ শুনতেও রাজি নই। এই জীবনের প্রতিটা সেকেন্ডে তোমার ওপর একমাত্র আমারই একচ্ছত্র সার্বভৌমত্ব রয়েছে। সো, নেভার রিপিট দিস এগেইন, আন্ডারস্ট্যান্ড?”

কায়রা কিছু বলার ভাষা খুজে পেল না। দুর্জয় বরাবরের ন্যায় কায়রার কামিজ গলিয়ে শীতল হাতটা বাড়িয়ে নাভির কাছাকাছি আলতো করে ধরলো। কায়রা সামান্য কেঁপে উঠতেই, দূর্জয় ওকে শূন্যে তুলে বক্ষের মাঝে এনে বলল,,
“আগেই বলেছিলাম, প্রপার ডায়েটিং শুরু করো। কয়টা দিন কাছে পাই তোমায়। তাও যদি এমন হাড়গোড় দেখে মায়া আসে, আদর করবো কোথায়?”
কানমাথা ঝাঁঝা করে উঠল কায়রার। লোকটার ঠোঁট দিন দিন লাগাম হারাচ্ছে। সারাক্ষণ গাম্ভীর্য বজায় রাখা লোকটা কায়রার কাছাকাছি আসলেই বড্ড অসভ্য নির্লজ্জের খেতাবে ভূষিত হতে চাইছে। কায়রাকে চুপচাপ দেখে, দুর্জয় পুনরায় বলল,,
“দু মাসে ওজন কতটুকু বেড়েছে?”
লাজুক কায়রা মিনমিনিয়ে বলল,,
“দু….মানে আড়াই কিলো!”
দুর্জয় কিছু না বলে,কেবল স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে রইল ওর দিকে। আকস্মিক এহেন দৃষ্টির ভারে কায়রা অস্বস্তিতে নড়েচড়ে উঠলো,,

“কী হলো? এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?”
“ভাবছি।”
“কী ভাবছেন?”
“দু’মাসে আড়াই কিলো।”
“হ্যাঁ,তো?”
“স্পেশালি তোমার ক্লাস নিতে হবে আমার মনে হচ্ছে। নাহলে..!”
অসমাপ্ত কথায় পুনরায় অধৈর্য হয়ে উঠলো কায়রা,,
“নাহলে কি?”
“কিছু না!”
কায়রা ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই, দুর্জয় প্রসঙ্গ পাল্টে বলল,,
“এমনিতেই অনেক রিচ ফুড খেয়ে ফেলেছি! রাতে আর কিছু খাচ্ছি না। তুমি খেলে জলদি আসবে। আর যেন ম্যাসেজ করতে না হয়।”
কায়রা প্রশ্ন করতে গেলেও দরজার ওপাশ থেকে ভেসে আসা পরিচারিকার ডাকে ছেদ পড়লো কথোপকথনের। দুর্জয়ের কাছ থেকে ছাড়া পেয়েই নিচের উদ্দেশ্যে রওনা হলো ও।

নব প্রভাতের সঙ্গে কোনো এক নব জীবনের সূচনা হতে চলেছে। জন কয়েক আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে বিবাহের আয়োজন করা হয়েছে তূজার। আয়োজন মোটামুটি সম্পন্ন। কনেকেও সাজানো হয়েছে কিছুক্ষণ আগে। বরপক্ষ আসার অপেক্ষায় পুষ্পসজ্জিত আসনে বসে আছে তূজা। হৃদয়টা ভারাক্রান্ত। বিয়েটা করার ইচ্ছা ছিল না যে! পাশেই ওকে ঘিরে রয়েছে বন্ধু মহল। একমাত্র অনুপস্থিত থাকা ইভান কেও কিছুক্ষণ হলো, ধরে বেঁধে নিয়ে এসেছে রুশাফ আর নিহার।
তবে ছেলেটার চোখমুখ অস্বাভাবিক ফোলা। এক রাতেই, যেন চরম বার্ধক্য গ্রাস করেছে ওকে। ফুলে থাকা, চোখের শুভ্র অংশ রক্তিম বর্ণ ধারণ করার ভয়াল দেখাচ্ছে ওকে। তুজা মন খারাপের মাঝেও বন্ধুর অসুস্থতার কারণ জানতে ভুলল না,,

“কি হয়েছে তোর?”
ইভান মলিন হাস্যে ঘাড় ঘুরিয়ে তূজার ফুটে ওঠা পদ্ম পাতার ন্যায় মুখখানিতে চাইলো, কাঙ্খিত প্রশ্নের জবাবে অন্য উত্তর দিল,,
“তোকে বউ সাজে ভীষণ সুন্দর লাগছে তূজা!”
সার্বক্ষণিক পেত্নী বলে ক্ষেপিয়ে আসা ছেলেটার মুখে, জীবনে প্রথম প্রশংসা শুনে আনন্দিত হওয়ার পরিবর্তে উদ্বিগ্ন হলো তূজা। কারণ একটাই, ছেলেটার কণ্ঠস্বর অস্বাভাবিক। আগে কখনো ইভানকে এভাবে কথা বলতে শোনে নি ও। বিস্মিত কন্ঠে ও শুধালো,,
“সত্যি?”
“তিন সত্যি!”

অভিসৃতি পর্ব ২৪

তুজা আগের প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করল আবারও,,
“চোখ ফোলা কেন? বললি না যে!”
ইভান আলগোছে অন্যদিকে চেয়ে, অনাগত অশ্রু কণা সকলের অলক্ষ্যে লুকিয়ে, চোখ ডোলে বলল,,
“আসলে তোর বিয়ে ছিল তো, আর আমি এতো এক্সাইটেড ছিলাম যে গত দুইদিন ঘুমাতেই পারিনি! তাই ভাবছি আজ তোর বিয়ের পর ঘুমাবো, একটা দীর্ঘ লম্বা ঘুম! যা বহুদিন ধরে প্রয়োজন ছিল আমার,আজ নাহয় প্রয়োজন মেটাবো!”

অভিসৃতি পর্ব ২৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here