Home অসমাপ্ত তুমি অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১+২

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১+২

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১+২
sanara

হঠাৎ করেই একটি কালো ঝকঝকে গাড়ি এসে সামিরার সামনে ব্রেক কষল। গাড়ির দরজা খুলতেই বের হয়ে এলেন এক সুদর্শন পুরুষ, সাথে কয়েকজন গার্ড।
এক নিমিষেই লোকটি সামিরার হাত ধরে টেনে নিতে লাগল।
ভয়ে কেঁপে উঠে সামিরা আতঙ্কিত স্বরে বলল— — “এই যে! আমার হাত ধরে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?”
লোকটি গম্ভীর স্বরে উত্তর দিল— — “আমার সাথে এসো।”
সামিরা দ্রুত তার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে প্রতিবাদ করল— — “কে আপনি? চিনিও না, জানিও না—এভাবে আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আমার মনে হয় না আপনার সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় আছে!”
লোকটির চোখমুখ কঠিন হয়ে উঠল। রাগান্বিত স্বরে সে বলল— — “শেষ হলো কথা? আর একটি শব্দও নয়।”

— “আরে…!”
— “চুপ।” ধমকের সুরে বলল লোকটি।
ধমকে সামিরা স্তব্ধ হয়ে গেল। লোকটির কড়া হাত আবার তার কব্জি আঁকড়ে ধরল। তাকে গাড়িতে বসিয়ে ড্রাইভারকে আদেশ দিল,
— “চালাও।”
সামিরা প্রতিবাদে চিৎকার করে উঠল,
— “আপনি কে, বলুন!”
লোকটি বিরক্ত হয়ে চোখ কুঁচকে বলল,
— “ধুর! কানে তালা লেগে যাচ্ছে। এত চেঁচানোর মানে কী?”
সামিরা রাগ মিশ্রিত কণ্ঠে বলল— — “মানে আছে! তাই তো জিজ্ঞেস করছি।”
লোকটির চোখে আগুন জ্বলে উঠল। গম্ভীর, ধমকি দেওয়া স্বরে বলল— — “তুমি জানো কার সাথে তর্ক করছ?”
সামিরা নির্ভীক কণ্ঠে আবারও প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল— — “কে আপনি? সেটাই তো এতক্ষণ ধরে জানতে চাইছি।”
এই প্রশ্নে লোকটি এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তারপর ঠোঁট বাঁকিয়ে রহস্যময় হাসি হেসে বলল,
— “সময় আসলেই জানতে পারবে আমার পরিচয়।”

কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ি এসে থামল এক বিশাল, বিলাসবহুল বাড়ির সামনে। লোকটি আবারও সামিরার হাত টেনে নামাল।
সামিরা আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠল— — “আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আমাকে ছেড়ে দিন!”
কিন্তু কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই লোকটি হঠাৎ সামিরাকে কোলে তুলে নিল।
অবাক দৃষ্টিতে সামিরা তাকিয়ে রইল লোকটির মুখের দিকে। সে আবারও মুখ খুলতে যাবে, ঠিক তখনই লোকটি ফিসফিস করে বলল
— “আর একটা শব্দ বললে, এখানেই মাটির নিচে পুঁতে ফেলব।”
লোকটির পদক্ষেপ পড়ল বাড়ির ভেতর। ঠিক তখনই ভেতর থেকে বের হয়ে এলেন এক মহিলা…

তখনই এক মহিলা এসে রিদ্রকে বলল,
— স্যার, ঘর গোছানো শেষ। এখন আমি যাই বাসায়। (রিমা)
রিমা রিদ্রর বাসায় কাজ করে। রিদ্র তাকে সম্মান দিয়ে ‘খালা’ ডাকে।
রিদ্র উত্তরে বলল,
— আচ্ছা খালা, আপনি যান। কালকে আবার আসবেন।
— জি স্যার।
সামিরা এতক্ষণ যাবত চুপচাপ রিদ্র আর রিমার কথোপকথন দেখছিল।
ঠিক তখনই রিমার চোখ গেল রিদ্রর কোলে বসা সামিরার দিকে। চোখ বড় বড় করে রিদ্রর দিকে তাকাল। — এই মেয়েটা কে স্যার?

রিদ্র শুধু হালকা হেসে বলল, — সময় হলে জেনে যাবেন খালা। এখন আসি।
বলেই সামিরাকে নিয়ে রিদ্র ঘরে ঢুকে গেল।
ঘর দেখে সামিরা একেবারে অবাক! দামি দামি ফার্নিচার, শোপিস দিয়ে সাজানো রুম। চারপাশে সার্ভেন্টদেরও দেখা যাচ্ছে।
মনে মনে সামিরা বলল, (এই ব্যাটা দেখি বড়লোক বাপু! আচ্ছা, এতো বড় বাসায় একা থাকে নাকি?)
রিদ্র সামিরাকে সোফায় বসিয়ে নিজেও বসল। কিছুক্ষণ পর সার্ভেন্ট জুস দিয়ে গেল দুজনকে।
সামিরা এক ঢোঁকে পুরো জুস খেয়ে ফেলল। রিদ্র বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইল তার দিকে।
সামিরা শান্ত হয়ে বলল, — আচ্ছা, এবার বলেন তো আপনি আসলে কে?
রিদ্র রহস্যমাখা হাসি দিয়ে বলল, — তোমার নাতি-নাতনির নানা হবো একটু পর।
বুঝতে ০.০০১ সেকেন্ডও লাগেনি সামিরার, সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল, — কীহহহ?!
রিদ্র বিরক্ত হয়ে কানে হাত দিল, — ধ্যাত! কানটা শেষ করে দিবা নাকি? এত জোরে চেঁচাচ্ছ কেন?

— আপনি একটু আগে কী বললেন?
— কেনো? তুমি কি বধির নাকি?
এমন সময় রিদ্রর ফোনে কল এলো। সে উঠে গিয়ে এক পাশে গিয়ে কথা বলতে লাগল। — আচ্ছা, আমি দরজা খুলছি।
বলেই কল কেটে দরজার দিকে এগোল।
দরজা খোলার পর সামিরা দেখল, এক পাঞ্জাবি পরা বয়স্ক লোক দাঁড়িয়ে।
— আসুন ভেতরে, — বলল রিদ্র, আর লোকটিকে নিয়ে ঘরে ঢুকল।
লোকটি বলল, — বাবা, পাত্রি কে? (কাজী)
রিদ্র সরাসরি সামিরার দিকে ইশারা করে বলল, — সে-ই পাত্রি।
কাজী বলল, — অহ্‌, তাহলে বিয়ে শুরু করা যাক। মা, কবুল বলো।
সামিরা থতমত খেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

— এ্য্য্য!
পাশ থেকে রিদ্র ঠান্ডা গলায় বলল,
— কবুল বলতে বলছে কাজী সাহেব।
সামিরা তেড়ে উঠে বলল, — আমি উনাকে কেন বিয়ে করব? এখানে আসলে কী হচ্ছে?
রিদ্র বিরক্ত হয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, — উনাকে বিয়ে করতে কে বলেছে? তুমি আমাকে বিয়ে করবে।
সামিরা আবারও চেঁচিয়ে উঠল, — কিহহহ?!
— হ্যাঁ। তাড়াতাড়ি কবুল বলো, নাহলে ইংরেজিতে ফেল করিয়ে দেব।
সামিরা বিস্মিত হয়ে বলল,
— মানে?

রিদ্র ভদ্র ভঙ্গিতে বলল, — আমি তোমার কলেজের ইংলিশ লেকচারার। আর তোমার ইংরেজি কতটা কাঁচা সেটা আমি ভালোই জানি। তোমার মা তোমাকে তিনজন টিচারের কাছে পড়ায়, তাতে খরচ হয় ১৩ হাজার টাকা—সেটাও আমি জানি। এবারও যদি ইংলিশে ফেল করো, তোমার মা তোমাকে পিটিয়ে ঘর থেকে বের করে দিবে।
সামিরা বিরক্ত মুখে বলল, — আপনাকে তো এর আগে কলেজে দেখি নি।
— নতুন জয়েন করেছি, শান্তভাবে বলল রিদ্র।
সামিরা হকচকিয়ে গেল, — মানে… নতুন ইংলিশ লেকচারার আমাদের কলেজে জয়েন করবে আর তিনি হবেন প্রিন্সিপাল স্যারের ছেলে? তার মানে আপনি…?
রিদ্র গভীর শ্বাস ছেড়ে বলল, — হ্যাঁ, আমি তোমার প্রিন্সিপাল স্যারের একমাত্র ছেলে। (কিছুটা ভাব নিয়ে)
সামিরা ঠোঁট কামড়ে বলল,

— প্রিন্সিপাল স্যারের ছেলে এতো অভদ্র, তা জানা ছিল না।
রিদ্র গর্জে উঠল,
— আমাকে অসভ্য লাগছে তোমার কাছে? বাই দ্য ওয়ে, বিয়ে করবে আমাকে? নাকি করবে না?

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৩+৪