Home অসমাপ্ত তুমি অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৩+৪

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৩+৪

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৩+৪
sanara

রিদ্র বলল,
— বিয়ে করবে আমাকে?
সামিরা চুপচাপ কাঁপা গলায় বলল,
— আমার লাইফটার কী হবে?
রিদ্র তার চোখে চোখ রেখে বলল,
— আমাকে ট্রাস্ট করতে পারো। আমি তোমাকে কখনো ছেড়ে যাব না।
সামিরা ধীরে ধীরে রিদ্রর দিকে তাকাল। লোকটার চোখে কিছু একটার সত্যতা আছে… তার মন চাইছে বিশ্বাস করতে।
ঠিক তখনই কাজি সাহেব বললেন,

— মা, কবুল বলো।
সামিরা চোখ ভিজে উঠল। এক নিশ্বাসে বলল,
— কবুল।
বলেই কান্না করতে করতে পাশের রুমে চলে গেল।
রিদ্র একপলক তার দিকে তাকিয়ে তপ্ত নিশ্বাস ছেড়ে দিল।
কাজি এবার রিদ্রকে বললেন,
— বাবা, এখন তোমার পালা। কবুল বলো।
রিদ্র শান্তভাবে উচ্চারণ করল,
— কবুল।
কাজি খুশির সুরে বললেন,
— আলহামদুলিল্লাহ, এখন থেকে তোমরা স্বামী-স্ত্রী।
সামিরা এক কোণে বসে কান্না করছিল। তার মাথায় শুধু একটাই প্রশ্ন
— মাকে কী বলবে? তার মেয়ের যে হুট করে বিয়ে হয়ে গেছে!
ঠিক তখনই রিদ্র রুমে ঢুকল। তার চোখে চোখ পড়তেই সামিরা মুখ ফিরিয়ে নিল। কান্নায় তার চোখ-মুখ লাল হয়ে আছে।
রিদ্র শান্ত গলায় বলল,

— সামিরা, তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসো। একটু পর তোমাকে বাসায় পৌঁছে দেব।
সামিরা কিছু না বলে ওয়াশরুমে চলে গেল।
ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার সময় প্লাজার সাথে পা আটকে সে হোঁচট খেল। পড়ে যাওয়ার আগে হঠাৎই এক জোড়া শক্ত হাত তার কোমর জড়িয়ে ধরল।
সামিরা বিস্ময়ে চোখ মেলে তাকাল—রিদ্র!
সে তাকিয়ে রইল নিরব হয়ে। সত্যি, লোকটা দেখতে খারাপ নয়। স্পাইক করা চুল, জিমে গড়া শরীর, উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রং, হালকা চাপ দাড়ি, আর অন্তত ছয় ফুট এক ইঞ্চি লম্বা!
হঠাৎ রিদ্র বাঁকা হাসি দিয়ে বলল, — আমাকে দেখা শেষ হলে উঠবে? নাকি সারাদিন এভাবেই থাকার প্ল্যান আছে?
সামিরা লজ্জায় তাড়াতাড়ি সরে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।
রিদ্র মুচকি হেসে বলল,

— আচ্ছা, তুমি রেডি হও। আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।
বলেই ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।
সামিরা গভীর নিশ্বাস ফেলল। মনে মনে বলল, (বাপরে বাপ! এখনই তো কটটা খেয়ে ফেলতাম!)
কিছুক্ষণ পর রিদ্র ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখল, সামিরা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আচড়াচ্ছে।
তার হলুদাভ গায়ের রং, গালে টোল পড়া হাসি, হাঁটু পর্যন্ত ঘন চুল আর পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতায় দাঁড়িয়ে থাকা—দৃশ্যটা রিদ্রর চোখ আটকে দিল।
ঠিক তখনই সামিরার ফোনে কল এল।
সে ফোন ধরল,
— হ্যালো…

সামিরা ফোনের কল ধরে বলল,
— হ্যালো।
ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভেসে এলো মায়ের কণ্ঠ,
— কিরে কোথায় তুই? তোর বাবা এসে পড়বে কিছুক্ষণের মধ্যে। (আলেয়া বেগম)
সামিরা বলল,
— আম্মু আমি একটু সানিয়ার বাসায় এসেছি ফিজিক্স বই নিতে। আর কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসবো।
আলেয়া বেগম বললেন, — আচ্ছা, সাবধানে আসিস।
(আলেয়া বেগম হচ্ছেন সামিরার আম্মু)
রিদ্র হাতে ঘড়ি পড়তে পড়তে বলল,

— এখন চলো, তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি।
সামিরা ছোট করে উত্তর দিল,
— জি।
রিদ্র গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসল। সামিরা গাড়ির পিছনের দরজা খুলতে যাবেই, তখন রিদ্র বলে উঠল, — আমি তোমার ড্রাইভার নই। So, কথা না বাড়িয়ে ফ্রন্ট সিটে বসেন ম্যাডাম।
সামিরা কিছু না বলে ফ্রন্ট সিটে গিয়ে বসলো।
গাড়ি চলছে নিজ গতিতে। সামিরা চুপচাপ বসে আছে।
রিদ্র মনে মনে ভাবল,

— কিরে! মেয়েটা এখন এতো চুপ কেনো? কিছু তো মতলব আছে।
কিছুক্ষণ পর সামিরা হঠাৎ প্রশ্ন করল,
— আপনার নাম কী, অসভ্য পুরুষ?
রিদ্র তেতে উঠে বলল,
— এই! আমাকে তোমার কোন দিক দিয়ে অসভ্য লাগছে?
সামিরা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— কোন দিক দিয়ে আপনাকে সভ্য মনে হচ্ছে? বাই দ্য ওয়ে, নাম কী আপনার?
রিদ্র একটু ভঙ্গি করে বলল,
— রিদ্র আহমেদ খান। হঠাৎ এই প্রশ্ন কেনো? কোনো দরকার?
সামিরা বলল,

— না, এমনি জিজ্ঞেস করলাম। আজব!
রিদ্র ড্রাইভ করতে করতে বলল, — তা তোমার নাম তো সামিরা নিশাত, তাই না?
সামিরা অবাক হয়ে বলল,
— জি, তবে আপনি কিভাবে জানলেন?
রিদ্র ঠান্ডা গলায় বলল, — তোমার সব ডিটেইলস আমার কাছে আছে।
সামিরা অবাক হয়ে বলল,
— মানে?
ঠিক তখনই রিদ্র থেমে বলল,
— নামো।
সামিরা চমকে উঠে বলল,
— কোথায়?
রিদ্র বলল,

— তোমার বাসায় চলে এসেছি।
অহ বলে, সামিরা গাড়ি থেকে নেমে রিদ্রর দিকে একবার তাকিয়ে ঘরে চলে গেল।
কলিং বেল চাপতেই দরজা খুললেন আলেয়া বেগম।
— এতো দেরি হলো কেনো?
— জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
সামিরা বলল, — আম্মু, রাস্তায় জ্যাম ছিলো। তাই ফিরতে দেরি হলো।
বলেই সে তার রুমে চলে গেল।
রুমে গিয়ে আজকের ঘটনাগুলো ভাবতে লাগলো সামিরা। ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেল, বুঝতেই পারেনি।

— সামিরা কোথায়, আলেয়া? সে কি খাবে না?
— (আরসাদ, সামিরার বাবা)
আলেয়া বেগম বললেন, — মেয়েটা বিকেলে এসে ঘুমিয়েছে। এখনো ওঠেনি। অনেকবার ডেকেছি। আজকে মেয়েটার কী হলো কে জানে।
আরসাদ বললেন,
— সামিরা তো এতো তাড়াতাড়ি ঘুমায় না!
আলেয়া বেগম হেসে বললেন,
— আরে চিন্তা করবেন না। হয়তো ক্লান্ত তাই ঘুমাচ্ছে।
আরসাদ মাথা নাড়িয়ে বললেন,
— হুম।
খাওয়া শেষে আরসাদ-আলেয়া ঘুমাতে চলে গেলেন।

রাত ১টায় সামিরার ফোন বেজে উঠলো।
ঘুম জড়ানো কণ্ঠে ফোন ধরলো সামিরা,
— হ্যালো, কে বলছেন?
অপর প্রান্তে নীরবতা।
সামিরা বিরক্ত হয়ে বলল, — ফোনে কথা না বললে কল দেন কেনো? অসভ্য বজ্জাত! খেয়ে-দেয়ে কাজ নেই নাকি? আজব পাবলিক!
বলেই ফোন কেটে আবার ঘুমিয়ে পড়লো।

সকালে…
সামিরা রেডি হয়ে কলেজের পথে রওনা দিল। হঠাৎ মনে পড়লো — রিদ্র এই কলেজের ইংলিশ লেকচারার!
মনে মনে সামিরা বলল, — হায় আল্লাহ! আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম। এখন কী করবো?
ঠিক তখনই তার বেস্ট ফ্রেন্ড সানিয়া দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল।
— কিরে, যাবি না নাকি? কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? — সানিয়া বলল।
সামিরা ঢোক গিলে বলল,
— আজকের ক্লাসটা কি খুব ইম্পর্ট্যান্ট?
সানিয়া চোখ বড় করে বলল,
— তুই জানিস না? আজকে ফিজিক্সের ইম্পর্ট্যান্ট একটা চ্যাপ্টার বুঝানো হবে।
সামিরা বিরক্ত হয়ে বলল, — দূর বা*ল, চল।
বলেই দু’জনে ক্লাসে ঢুকলো।
আজকের ফার্স্ট ক্লাস নাকি রিদ্রর। ক্লাসের কয়েকটা মেয়ে ফিসফিস করে বলাবলি করছে,

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ১+২

— আজকের ইংলিশ লেকচারার নাকি অনেক হ্যান্ডসাম। আজকেই পটিয়ে ফেলব।
সামিরার কেমন জানি অকারণে রাগ উঠতে লাগলো ওদের উপর। সে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই রিদ্র ক্লাসে প্রবেশ করলো…

অসমাপ্ত তুমি পর্ব ৫+৬