আকাশপ্রিয়া পর্ব ৫৩
দুর এ দিলশাদ্ দুআা
রাত্রী গভীর হচ্ছে। প্রকৃতি আজ বেশ শান্ত। বাইরে শীতল বাতাসের গতি থাকলেও তা বোধহয় বৃষ্টি নামার পূর্ব লক্ষন নয়। অবশ্য এখানকার আবহাওয়া কে দু পয়সার বিশ্বাস নেই। ঝলমলে রোদ, নাভিশ্বাস উঠে যাওয়া তপ্ততা এক মিনিটে কেটে সময় অসময় ঝড় বৃষ্টি নেমেই থাকে এই পাহাড়ি এলাকায়।
আকাশ আর প্রিয়ার বাসর সাজানোর জন্য আনা ডেকোরেশন এর লোকজন সবেই বিদেয় হয়েছে মিনিট পাঁচেক হলো। ঘড়ির কাটা টিকটিক করছে রাত্রির দশটা আঠারো তে। আকাশদের অফিসের স্টাফ রা হাতে গোনা যে কয়জন ছিলেন তারাও ডিনার করে নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গিয়েছে এরইমধ্যে। আপাতত বাড়ির মেয়েরা প্রিয়া কে নিয়ে গিয়েছে আকাশের ঘরে।
আকাশ তার ভাই আর বন্ধু দের সাথে বসার ঘরে বসা। তবে মোটেই কোনো খোশগল্প হচ্ছে না। এমন মূহুর্তে কোনো এক অতি গুরত্বপূর্ণ বিদেশি ক্লায়েন্ট এর সাথে ভিডিও কনফারেন্স এ ব্যাস্ত তারা সকলে। এতক্ষণ অয়ন প্রেজেন্টেশন দিয়ে তাকালো আকাশের দিকে। আকাশ এর এই প্রেজেন্টশান রাকিব আগেই রেডি করেই রেখেছিলো। আকাশ যথারিতি তার গুরুগম্ভীর মুখে দিতে বসলো ভাষন। তবে মন দিতে পারছে না কিছুতেই।
লজ্জাবতী লতার মতো লতিয়ে যাওয়া সদ্য বিয়ে করা বউয়ের মুখটা ভেসে উঠছে মানসপটে। মহা বিরক্ত লাগছে সামনে ল্যাপটপের অপর পাশে বসা লোকটাকে।
ইচ্ছে হচ্ছে দু চারটা ধমক দিয়ে ঠাস করে ল্যাপটপ টা বন্ধ করতে। কপালে দু চারটে গাঢ় ভাজ ফেলে শুকনো মুখে আকাশের দেওয়া প্রেজেন্টেশন দেখছে বাকিরা। এরই মধ্যে বারবার ঘটে যাচ্ছে সব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ভুল স্পিস দিয়ে ফেলছে আকাশ। যা তার জীবনে আজ পর্যন্ত ঘটেনি কখনো।
কারোরই বুঝতে বাকি নেই চৌধুরীদের ছোট সাহেবের মন আপাতত কোথায় আছে। অবশ্য মন এসব যন্ত্রপাতি,ব্যাবসার ক্যাচক্যাচে এখন থাকবেই বা কি করে। ব্যাচেলর থেকে বিবাহিত পুরুষ হয়েছে ঘন্টাখানেক হলো। এখন গিয়ে বউকে বুকে জড়িয়ে আদর করার সময়। তা না করে কোন পুরুষের ভালো লাগবে এসব?
আকাশ গম্ভীর মুখে স্পিস দিয়ে যাচ্ছে। আর ক্ষনে ক্ষনে অগ্নি দৃষ্টি দিচ্ছে রাকিবদের দিকে। বন্ধুদের সবকয়টার মুখ চুপসে আসছে ততবার। তাদের কি দোষ৷ বিয়ে করেছে সে,মিটিং ও তারই কোম্পানির, ক্লায়েন্ট কেও খাস সেই বানিয়েছে। এখন হুট করে সেই মাথায় উঠে বসে থাকা ক্লায়েন্ট বাছবিচার না করে আকাশের বাসর রাতে মিটিং ডেকে নেবে তাতে ওদের করনীয় কি!
আকাশের গোটা ঘরের বেশিরভাগই আসবাবপত্রই কালো ধরনের। গোটা ঘরটাই আদতে রঙচঙহীন। অন্ধকার লাগে দিনের বেলাতেও। লাগারই কথা। প্রিয়ার লাল শাড়িতে বিয়ে করার এক আকাশ সম শখ। তবে আজ ইচ্ছে করেই পরেনি সে। এরপর বাবা মা আসলে যখন ধুমধামে বিয়ে দেওয়া হবে তখন পরবে লাল শাড়ি। তবে আজকের শাড়িটাও ভীষন পছন্দের। প্রিয়া আর আকাশের পোষাকের সাথে মিল রেখে গোটা ঘরে হালকা গোলাপি আর সফেদ রঙের গোলাপে সাজানো। প্রিয়া আপাতত সে ফুলেল বিছানার দিকে শুকনো মুখে তাকিয়ে আছে। বসে আছে আকাশের কালো রঙের একটা কাউচের ওপর।
বিছানার ওপর রাকা আর রিমি মিলে ফুল ছড়াতে ব্যাস্ত। শিয়া এসে পাশে বসতেই, প্রিয়া বোনের দিকে তাকিয়ে ভয়ার্ত কন্ঠে বললো,
—”বাবা মা কে একটা বার জানালে হতো না আপু?”
শিয়া বোঝে বোনের ব্যাকুলতা। একই কথা প্রিয়া আজ দিনে শতবার বলেছে। কিন্তু ইচ্ছে করেই জানাতে চাচ্ছে না শিয়া। তার কারণও আছে বইকি। বাবা মা দূরে থাকলে সন্তানের জন্য চিন্তায় এমনিতেও মরিয়া হয়ে থাকে তারা। প্রিয়ার হুট করে বিয়ের কথা শুনলে আগে উঠবে ‘কি এমন হলো,যার কারনে এভাবে বিয়ে করতে হলো?”
এটা ভাববেই,প্রশ্ন টা মাথায় আসবেই। কারণ যেখানে দু পরিবার মিলে ঠিক করা হলো দুই বছরের মাথায় আকাশ -প্রিয়ার বিয়ের বিষয়টা। সেখানে তাদের বাবা মা চলে যেতে না যেতেই এমন বিয়ে করে নিতে হলো!
নিলয়ের কথা উঠবে,নিলয়ের রিয়ানের সাথে মিলে করা অসভ্যতামির কথা উঠবে। তার প্রেক্ষিতে হয়তো বা আকাশের সাথে বিয়েটাতে রাগ করবেন না তারা। তবে চিন্তায় চুপসে যাবে একেবারে, তাছাড়া আদরের মেয়ের এভাবে বিয়ে হওয়াটাও কষ্টকর হবে তাদের পক্ষে মানা।
বুক অবধি টেনে রাখা দোপাট্টা খানা মাথার ওপরে তুলে রাখা। পরীর বাচ্চার মতো বসে আছে মেয়েটা। গোলাপি রঙে ফর্শা মুখখানা হুবহু পরী লাগছে।
শিয়া বোনের মাথায় হাত রাখলো। ভীষন নরম স্বরে বললো,
—”বোঝালাম তো তোকে প্রিয়ু। আর এতো ভয় পাচ্ছিস কেনো? এমন তো নয় পালিয়ে বিয়ে, বা কারোর মত নেই। একদমই সেরকম কিছু নয়। দু পরিবার জানে, মেনেও বসে আছে। হতো বিয়ে বছর দুই’য়েক পর। পরিস্থিতিতে এখন হচ্ছে। তোরা এখানে নরমাল লাইফ লিড কর, পরবর্তীতে তো ধুমধামে সবাইকে জানিয়ে সব হবেই। বাবা মাও ডিসএপোয়েন্ট হবে না।”
প্রিয়া ছলছল চোখে বসে রয়। বিয়ে নিয়ে প্রতিটা মেয়েরই স্বপ্ন থাকে। সেসব না হয় হবে পূরণ। তাই বলে বাবা মা কে ছাড়া এভাবে বিয়ে করতে হলো, এমনকি জানাতেও পারলো না। অবশ্যই না জানানোর পিছনে সঠিক যুক্তি রয়েছে। তবুও মনে ভীষন অশান্তি লাগছে। শিয়া আরও বেশ সময় নিয়ে বোঝালো বোনকে। এখানকার কাজ সব শেষ। দেয়াল ঘড়িতে সময় দেখলো সকলে। আকাশ এখনো আসছে না কেনো!
—”অযথা চিন্তাগুলো ঝেড়ে ফেলো। একটু পর কি হতে চলেছে সেটা নিয়ে ভাবো।”
তুশির কথায় এতক্ষণের ঘোর ভাঙলো প্রিয়ার। চট করে চোখ গিয়ে ঠেকলো ফুলের রাজ্যে। ধক করে উঠলো বুকটা। এতক্ষণ তো মাথা থেকেই বেড়িয়ে গিয়েছিলো। তার তো বিয়ে হয়েছে। বাসর রাত তার!
প্রিয়ার আতঙ্কিত মুখপানে তাকিয়ে ঘরের ভিতর অট্টহাসি তে ফাটলো সকলে।
—”ভয় পেয়ে লাভ হবে না প্রিয়ু। আকাশ আজ ছাড়ছে না তোমাকে। যা ঘা খেয়েছে বেচারা গতকাল। আজকে তো বিয়েই করে ফেললো সে ক্ষত সারাতে। বেচারাকে শান্তি দিয়ো একটু,ক্ষতটা মুছতে দিয়ো। যদিও তোমার গায়ে একটু ক্ষত তো হবেই তাতে।”
রাকার বাঁকা কথায় প্রিয়ার মুখের অবস্থা শোচনীয় ততক্ষণে। শিয়া চোখ রাঙালো সবাইকে। মেয়েটার এমনিতেই বয়স কম। তার ওপর এরকম হুটহাট বিয়ে টা হয়ে গেলো। এরকম ভয় দেখানোর মানে হয় কোনো!
শিয়া কিছু বলার আগেই তুশি এসে বসলো প্রিয়ার পাশে। প্রিয়ার নরম হাতটা ধরলো। শান্ত আর চাঁপা কন্ঠে বললো,
—”শরীর ঠিক আছে তোমার?”
—”শরীর তো ঠিকই আছে।”
রাকা, তুশি আর শিয়ার মধ্যে চোখাচোখি হলো। বড় বোন তারা। তবুও লজ্জা পেয়ে হবে কি! কে-ই বা আছে তারা ছাড়া। রিমি আর সৌমি ওদিকে বিছানায় হেলনা দিয়ে দাড়ানো। শিয়া বোনের দিকে মিহি গলায় বললো,
—”তোর পিরিয়ড এর ডেট ছিলো আমি যতদূর জানি। আ…না মানে। সেটা কি…”
প্রশ্নটা হুট করে করায় তখন বুঝতে পারেনি প্রিয়া। তবে বোঝা মাত্রই লজ্জায় পরলো। মাথা নাড়লো ধীরেসুস্থে। মৃদু কন্ঠে বললো,
—”গতরাতে ঠিক হয়ে গেছে।”
ঠোঁট টিপে হাসলো সকলে। নিশ্চিন্ত হলো যেনো। শিয়া ইশারা করলো রাকা, তুশির দিকেই। সে বললে মেয়েটা বেশি অপ্রস্তুত হতে পারে।তুশি নরম কন্ঠে বললো,
—” ভয় পাওয়ার কিছু নেই হ্যা? তোমার থেকে কত ছোট বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়।”
ওপাশ থেকে আচমকা রিমি বলে বসলো,
—”সায়মার কথা মনে নাই তোর প্রিয়া? আমাদের স্কুলের ব্যাচমেট। সেভেন এ বিয়ে হয়েছিলো ওর। মনে আছে? ওর তো গতমাসে সেকেন্ড বেবি টা হলো।”
হেসে ফেললো সকলেই রিমির কথায়। প্রিয়া ঠোঁট কামড়ে বসে রইলো। তুশি পুনরায় বলা শুরু করলো।
—”এটা ঠিক বয়স তোমার কম। তারপরও কিনৃতু আঠারো। একদম বাচ্চা নও কিন্তু। মন প্রস্তুত রাখো, ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই। বিয়ে হলে সব নারীর জীবনেই এ রাতগুলো আসে। বিয়ে একবার হয়ে গিয়েছে। সামনের গোটাটা জীবন স্বামীর আদর সহ্য করতে হবে। এবং সে আদর আমরণ পাও এই দোয়া করি।”
ওদিকে ছলছল করে উঠলো সৌমির চোখজোড়া। বিয়ে, সংসার, স্বামী, সন্তান এসব আদৌ তার কপালে আছে কি-না কে জানে। এমন সুখের জীবন তারও হবে কি-না। খোদা ছাড়া কেই বা জানে।
রাকা, তুশি মিলে বেশ সময় নিয়ে ভালোমতো বুঝিয়ে দিলো প্রিয়াকে। মেয়েটার বয়স আন্দাজে জ্ঞান এসব বিষয়ে বেশ কম। এতো গভীর সম্পর্কের আন্দাজ দিতে গিয়ে মেয়েটা শিউরে উঠছে বারংবার। চোখ বড় বড় করে গিললো সব কথা। গোটা ঘরের ফুলের ঘ্রানের থেকে আকাশের শরীরের পুরুষালি ঘ্রান টার অস্তিত্ব বেশি টের পাচ্ছে প্রিয়া।
রাকা’রা যখন থামলো প্রিয়া মাথা ঝুকিয়ে হুট করে বাচ্চাদের মতো বলে ফেললো,
—”দুই বছর অপেক্ষা করতে বললে হয়না? মানে ওই বিয়ে পর্যন্ত? “
ঘরভর্তি সকলে হাসবে নাকি কাঁদবে বুঝে পেলো না। তুশি বাঁকা কন্ঠে বললো,
—”সে তুমি এখন না চাইতেই পারো। তবে আকাশ সামনে এলে এই চাওয়াটাতেই স্থির থাকতে পারবে তো?”
লজ্জায় লাল হচ্ছে প্রিয়া। রাকা একই স্বরে বললো,
—”অবশ্য তুমি পারলেও আমার মনে হয়না আকাশের দ্বারা এতদিন অপেক্ষা সম্ভব। “
প্রিয়া দু হাতে দোপাট্টার অংশ খামচে ধরছে বারবার। শিয়া বোনের হাতের ওপর হাত রেখে বললো,
—”সব নিয়ম মেনে, ধর্মীয় বলিস বা আইন। বিয়ে হয়ে গিয়েছে। স্বামী সামলানোর বয়সও হয়েছে। কেনো ছেলেটাকে কষ্ট দিবি?”
সবার কথায় চুপসে বসে আছে প্রিয়া। আদতে লজ্জা আর ভয়ের মিশ্রিত যে অনূভুতি সেটা কেমন একটা দমবন্ধ করে দিচ্ছে। এতক্ষণ ধরে বলা রাকা, তুশির এসব ব্যাখ্যাগুলো কানে বাজছে। আর তখনই লজ্জায় পরে যাচ্ছে। এতদিন সময় অসময় আকাশকে বিরক্ত করলেও আজ হাড় হীম হয়ে আসছে।
—”আকাশ আসছে না কেনো বলতো? এগারোটা পার হলো। বউ লাগবে না নাকি!”
তুশির কথা রিমি ছুটলো খবর নিতে। খানিকটা বাদেই এসে খবর দিলো নিচের মিটিং এ ব্যাস্ত সকলে।
ওদিকে অফিসের মিটিং শেষ হওয়া মাত্র শোনা গেলো আকাশের কর্কশ কন্ঠ। রাকিবের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,
—”এতো বড় প্রেজেন্টেশন বানিয়েছিস কোন বুদ্ধি তে?”
রাকিব অসহায় চোখে তাকালো একবার অয়ন আর একবার রাতুলদের দিকে। আকাশ নিজে বানালে এর থেকেও ডাবল বড় হয় সেটা। তাছাড়া এতো কষ্ট করে রাত জেগে জেগে বানিয়ে দিলো। কমিয়ে দিলো কাজ। ব্যাটা অকৃতজ্ঞ একটা।
—”ভাই, বড় কোথায়। এর থেকে কত বড় তুই বানাস মনে কর।”
—”অসহ্য সবকিছু।”
আকাশের রাগ দেখে হাসি পেলো আচমকা সকলের। রাতুল ফিচেল গলায় বললো,
—”তোকে সহ্য করার জন্য তোর সদ্য বিবাহিত পুষ্প তোর বেডের ওপর সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দৌড় দে।”
আকাশ ভ্রু জোড়া কুচকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছুড়লো রাতুলদের দিকে। রাতুল হো হো করে হাসতে হাসতে বললো,
—”ভোর হয়ে গেলো। বাসর কখন করবি। ঘরে যা।”
আকাশ টেবিলের ওপর থেকে নিজের ফোন হাতে নিতেই দোতলার করিডর থেকো ডাক শোনা গেলো তুশির। আকাশকে লক্ষ করে চেঁচিয়ে বললো,
—”বউ কি লাগবে না তোর, আকাশ? না হলে মেয়েটা ঘুমাবে। এমনিতেই বলছিলো বাসর দু বছর পর হলে কেমন হয়। এখন তোর অনিহা দেখে মনে হচ্ছে মেয়েটাকে নিজের ঘরেই পাঠিয়ে দেই।”
কি আশ্চর্য! এতো ঝক্কি পহিয়ে এতোদিনে বিয়ে টা করতে পারলো। বে আক্কেল মেয়ে কোন হুশে বাসর দু বছর পর করতে চায়। মাথায় ঢুকলো না আকাশের।
আকাশের কাঁধ জড়িয়ে ধরে রেদোয়ান চাপা গলায় বললো,
—-”দোস্ত বাসর ঘরের বাত্তি নেভাবি কি? আমি বলি কি। দরকার নাই। তোর ঘরে এমনিই যে অন্ধকার, বাত্তি নেভালে বাচ্চা মেয়েটা প্রথম রাতের জন্য অন্তত তাকে তার মতো ছেড়ে দিতে বায়না করতে পারে। তখব আরেক ফ্যাসাদ। “
আকাশ মহা বিরক্ত হচ্ছে। ওপরের দিকে হাঁটা ধরতেই পিছন থেকে বজ্জাত গুলোর একেকটা গা জ্বলিয়ে দেওয়া বক্তব্য কানে বাজতে লাগলো। খেয়াল করলো পিছন পিছনই আসছে শয়তান গুলো। ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই তার ঘর থেকে রাকা,তুশিদের গলার স্বর পাওয়া গেলো। উচ্চস্বরে হাসিতামাশা হচ্ছে কিছু একটা নিয়ে।
আকাশ গলা খুকখুক করলো। ভিতরের সবাই নড়েচড়ে উঠলো। শব্দ থামলো। আকাশের অস্ত্বিত্ব বুঝে নিতে বিলম্ব হলো না কারোরই।
ঘরের সাদা আলো নিভিয়ে ড্রিম লাইট জ্বালা হয়েছে। গোলাপি নিয়ন বাতিতে গোটা ঘর চকমক করছে একদম। ফুলের রাজ্যে লজ্জারাঙা হয়ে বসে আছে আকাশ এহনাজ এর ফুল টা। পাতলা দোপাট্টার ভিতর থেকে ব্যাস্ত,ভয়ার্ত দৃষ্টি এলোমেলো দৃষ্টি ফেলছে। রাকা, তুশি রা প্রিয়া কে আরেকদফা কানে কানে কিছু একটা বলে এক এক করে এগিয়ে গেলো দরজার দিকে। আকাশ এসে দাড়িয়েছে। দরজার বাহিরেই দাড়ানো। তার পিছনে দুষ্টু চোখমুখে দাড়িয়ে আছে বাকি বিচ্ছুগুলো।
ঠোঁট টিপে হাসলো সকলে। তুশি হতাশ কন্ঠে বললো,
—”তোর বউ বলছিলো সবাইকে জানিয়ে বিয়ে টা হলে না হয়। আই মিন। একসাথে থাকার যে বিষয়টা। ওটা তো বোধহয় এখনি চাচ্ছে না। হুট করে বিয়ে টা হলো তো। একটু সময় লাগবে তো। বল?”
বারবার ওই একই কথা কেনো শোনানো হচ্ছে তাকে। আজকের বিয়ের বায়না টা কার ধরা! ওরই তো। আর এখন এসে বলছে এখন চাচ্ছে না! তুশিদের ফাইজলামি বাকি সবার মাথায় ঢুকলেও এমন হাই টাইমে সয়ং আকাশ এহনাজ চৌধুরীর মাথায় ঢুকলো না। এতো রাত হয়ে যাওয়ায় এমনিই ডিসটার্ব হয়ে আছে। এখন এসে যদি শোনে বউ বাসর করতে চাচ্ছে সেটা কেমন লাগে!
ভিতরের বিছানায় ওপর রসগোল্লার মতো চোখ করে দরজার এদিকেই তাকিয়ে আছে প্রিয়া। সে কখন বললো আলাদা থাকতে চায়৷ তখন বললো ভয় করছিলো বলে। এরা বানিয়ে বানিয়ে গোটা পাঠ্যসূচির মতো বর্ণনা দিচ্ছে!
আকাশের বিরক্ত মুখখানা দেখে শব্দ করে হেসে ফেললো সকলে। রাকা আকাশের বাহুতে আলতো থাপ্পড় বসিয়ে ফিসফিস করে বললো,
—”তোর বউয়ের বয়স কম হতে পারে। বেচারির তোর জন্য চিন্তা আছে। দেখলি না, ও হারিয়ে যাওয়ায় তোর যা অবস্থা হয়েছিলো। সেই অবস্থা দেখে বেচারি কেঁদে কেটে বিয়েই করো ফেললো তোকে। কষ্ট নিবারনের জন্যই তো বল। চাপ নিস না। যাহ, ভিতরে যা।”
আকাশ বিরক্ত। চূড়ান্ত বিরক্ত। বন্ধুগুলো সবগুলো হাত ধুয়ে পরেছে তার পিছনে। এদিকে তার রুহ আত্মা গোটাটাই ছটফট করছে ঘরের ভিতরে যাওয়ার জন্য। আর সময় নষ্ট করলো না কেউ। এক একে সরে দাড়িয়ে আকাশকে ভিতরে যেতে দিলো।
আকাশ এ যাত্রায় নিজের ঘরে প্রবেশ করলো। আবছা গোলাপি আলোয় বিছানার ওপর বসে থাকা একটা ফুলপরী নজরে আসলো তার। মৃদু হেসে রুমের দরজা খট করে লাগানোর শব্দে প্রিয়া এ যাত্রায় কেঁপে উঠলো। আকাশ ঘরে এসেছে টের পেতেই অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেলো গোটা শরীরে।
তবে এ লাজুক ভাব বেশিক্ষণ স্থায়ী রইলো না। একটা তেলাপোকা কোথা থেকে উড়ে এসে তার কোলের ওপর পরলো। আকাশ-পাতাল এক করে চিৎকার করে উঠলো প্রিয়া। হুট করে অন্ধকার ঘরে তার কোলের ওপর কি পরলো সেটা স্পষ্ট বোঝা গেলো না। তবে প্রানিটি আকার দেখে দক্ষ মন বুঝে নিলো সেটা তেলাপোকা। আকাশ সবেই দরজা আটকে ঘুরে দাড়িয়েছে। প্রিয়ার এ চিৎকার কি তাকে দেখে! প্রিয়া নড়ছে না তবে চাপা আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আকাশ হুড়মুড়িয়ে এগিয়ে এলো সেদিকে। ব্যাস্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
—”কি হয়েছে!”
—”সরান।”
মেয়েটা দু পাশে বিছানার চাদর খামচে পাথর হয়ে আছে। আর কিছু একটা বলছে ক্রমাগত। আকাশ বুঝতেও পারলো না মেয়েটা কিসের কথা বলছে। কি সরাতে বলছে? নাকি সরতে বলছে তাকে। মাথায় বাজ পরার মতো অবস্থা হলো আকাশের। সত্যিই মেয়েটা আজকে আবার বায়না না করে বসে। দু বছর! কথাটা ভাবতেই মাথায় চক্কর কাটলো আকাশের। আকাশ কিছু বলতে প্রিয়ার কাছে এগোতেই আবার আঙুল তুলে কিছু একটা বললো প্রিয়া। আকাশ দাড়িয়ে পরলো। মেয়েটা এভাবে তাকে না চাইলে,জোর তো সে করতে পারে না। আকাশ পিছিয়ে দাড়াতেই প্রিয়া হাহুতাশ করে উঠলো। এবারে ভাগ্যক্রমে কন্ঠ স্পষ্ট শোনালো।
—”তেলাপোকা টা সরান।”
তেলাপোকা! আকাশ প্রিয়ার হাতের ইশারা লক্ষ করে ওর শাড়ির দিকে তাকাতেই চোখে পরলো কালো কিছু একটা। ড্রিম লাইটের মৃদু আলোয় একটু নিচু হতেই বুঝলো ওটা আদতে তেলাপোকা। হাত দিয়ে সরাতে গিয়ে আরও টের পেলো সেটা একটা প্লাস্টিকের তেলাপোকা। দীর্ঘশ্বাস ফেললো আকাশ। হতাশ টা সে বউয়ের ওপর হবে নাকি বজ্জাত বন্ধুগুলোর ওপর। টের পাচ্ছে না। আকাশ প্রিয়ার দিকে শান্ত কন্ঠে বললো,
—”তাকাও। প্লাস্টিক ছিলো ওটা। নট রিয়াল। “
শব্দ করে হেসে ফেললো রাতুলরা। অয়ন আর শিয়া খানিক দূরেই করিডরের রেলিঙ ঘেষে দাড়িয়ে মুখ চেপে হাসছে। রাতুল, রিমি রা সকলেই দরজার একদম সাথে লেগে আছে।
—”ভয় পেয়ে মেয়েটা লাফিয়ে আকাশের বুকে পরেছে কি-না সেটা বুঝবো কি করে?”
রাকিবের কথায় রেদোয়ান দাঁত খিচিয়ে বললো,
—”বউকে বুকে জড়াতে চৌধুরীর ওরকম ছলনার দরকার হবে না। ব্যাটার রুপেই বউ লাফিয়ে আসবে।”
—”ছিহ্ ভাই। আমার বোন ও।”
শিয়ার নাক সিটকানো তে দাঁতে জিব কাটলো রেদোয়ান। বন্ধুকে লেগ পুলিং করতে গিয়ে ভুলেই গিয়েছে প্রিয়া যে শিয়ার বোন।
ওদের সিরিয়াস আলোচনায় ভাটি পরলো রাতুলের চাপা ধমকে।
—”হাট ব্যাটা। দারা। চৌধুরী সাহেব কে খেপাতে দে।”
প্রিয়া টের পেলো না প্লাস্টিকের তেলাপোকা টা ঘরের আসলো কি করে। আসলো তো আসলো সোজা তারই কোলে! আকাশ ঘনঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। বউটা ব্যাস্ত,ভাবুক চোখ তাকিয়ে আছে ওদিকে মেঝেতে ফেলে রাখা তেলাপোকা টার দিকে।
—”গোটা রাত কি তেলাপোকা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই কাটাবে?”
তখনই বাইরে থেকে খিকখিক শব্দ পাওয়া গেলো। দরজার কাছ থেকেই আসছে শব্দ। ফিসফিসানি,চাপা আওয়াজ সব। তবে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আকাশ আর প্রিয়া কে হতভম্ব করে দিয়ে আচমকা বাইরে থেকে রাতুলের ত্যাছড়া কন্ঠস্বর শুনতে পাওয়া গেলো। হেড়ে গলায় গেয়ে উঠলো,
” তোমায় এতো কথা বলার পরেও,একি করিলা…
তোমায় হাতে ধরি,পায়ে ধরি, ও প্রাণের কালা..
আর দিয়ো না জ্বালা,আর খেইলো না খেলা…”
তার প্রায় সাথে সাথেই শোনা গেলো রাকিব আর রেদোয়ান এর কন্ঠ। ওই বজ্জাত দুটোও রাতুলের সাথে সুর তুললো,
” তোমায় পাইছি যখন আজ নিশীথে আমি একেলা…
আজ ছাড়বো না তো ও পরাণের মধুবালা,
তুমি বাসর ঘরে আর আমারে দিয়ো না জ্বালা;
তুমি খেইলো না গো এমন করে প্রেমেরই খেলা…”
গানের শব্দগুলো এতো জোরে জোরে উচ্চারন হচ্ছে। প্রিয়া এক নিমিষে ভুলে গেলো বাকি সব। চট করে তাকালো আকাশের দিকে। আকাশ রাগ করছে না বন্ধুদের গানে। বরং মুখের হতাশার ভাব কেটে কেমন হাসি হাসির ভাব এসেছে। হাতের ফোনটা ওদিকে টেবিলের ওপর রেখে আকাশ এসে বসলো বিছানায়। ততক্ষণে দুটো মানব হৃদয়েরই উথালপাথাল চরমে পৌছে গিয়েছে।
—” বউয়ের মুখটার দর্শন কি মিলবে? রাত বারোটা বাজতে চললো। “
প্রিয়া প্রতিত্তোর করতে পারে না। সেই স্বভাবসুলভ ভাবেই আকাশের কন্ঠস্বরের পরিবর্তন হয়েছে। আকাশ আর অপেক্ষাও করলো না প্রিয়ার উত্তরের। মাথার দোপাট্টা টা আলতো হাতে সরিয়ে ফেললো। ঘোমটার আড়ালে একবুক লজ্জা মেখে ঠোঁট কামড়ে চোখ বুজে বসে আছে প্রিয়া। আকাশ ঠোঁট কামড়ে হাসলো। দুরত্ব ঘোচালো আরও খানিকটা। দুজনের শ্বাসপ্রশ্বাস এর শব্দ কর্ণগোচর হচ্ছে দুজনেরই।
—”পাখি?”
এ ডাকে কি আছে জানা নেই প্রিয়ার। আকাশের এমন মাদকতা মিশ্রিত কন্ঠস্বরের সাথে এমন আদুরে ডাক। শীতল স্রোত বয়ে গেলো প্রিয়ার মেরুদণ্ড বয়ে।
—”পাখি?”
—”হুমম।”
—”তাকবে না?”
—”হুম।”
—”তাকাচ্ছো না কেনো? আগে না হয় পরপুরুষ এর দৃষ্টি মনে করে দৃষ্টি মেলাতে লজ্জা পেতে। আজ তো তা নয়।”
প্রিয়া ঠোট কামড়ে হাসলো। আকাশের তীক্ষ্ণ চোখে পরলো সেটাও।
—”বউ?”
—”হুম।”
—” হালাল করে নিলাম কিন্তু। সব লজ্জার অবসান আমার হাতে হোক। আজ রাতেই। “
প্রিয়া ধীরে ধীরে চোখ তুলে তাকালো। যদিও আকাশের চোখে চোখ রাখতে সে বরাবরই কাঁচা। হৃদপিণ্ড থমকায় তার ওই দৃষ্টিতে। আকাশের পরনে পাঞ্জাবি। রঙ টা ঠিক কোনটা৷ ধরতে পারলো না এমন আবছা আলোয়। লোকটা ঘেষে বসে আছে তার। কড়া পারফিউম এর ঘ্রান ভুরভুর করে ছড়িয়ে যাচ্ছে চতুর্দিকে। মাতাল লাগছে প্রিয়ার নিজেকে। আকাশ প্রিয়া চিবুকে আঙুল ঠেকিয়ে উচুলো চাঁদপানা মুখটা। তিরতির করে কাঁপছে চোখের পাপড়ি,পাতলা ঠোটজোড়া কামড়ে ধরছে বারবার। আকাশ শুকনো ঢোক গিললো। কোনো এক নির্জন রাতের অন্ধকার যেনো গিলে খাচ্ছে তাকে। সামনের ওই নারীটা ছাড়া দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না আর কোনো কিছুই।
আকাশ পুনরায় নিজের মাদক মিশ্রিত কন্ঠে ডেকে উঠলো সহধর্মিণী কে।
—”পাখি?”
—”হুম।”
—”ভালোবাসি। এক আকাশ সমান ভালোবাসি। তোমাকে নিজের করতে পারার খুশি পৃথিবীর কোনো কিছুর সাথে পরিমাণ করা সম্ভব নয়। “
আকাশের মুখে ভালোবাসি শব্দটায় বরাবরই আবেগপ্রবণ হয়ে পরে প্রিয়া। আজও তার ব্যাতিক্রম হলো না। এরকম পরিস্থিতিতেই একমাত্র নজর মেলাতে পারে তার ব্যাক্তিগত পুরুষটার সাথে।
—” আমি আপনার স্ত্রী। আজকের পর থেকে কোনো পাপ নেই আমাদের মধ্যে। কোনো দুরত্বের ভয় নেই।”
আকাশ প্রিয়া নরম কোমল গালে নিজের খসখসে হাত গলিয়ে দিয়ে টেনে এনে চুমু আকলো শীতল ললাটে। তবে আকাশের তপ্ত স্পর্শ জানান দিলো জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে আকাশের। প্রিয়া আতঙ্কিত কন্ঠে বললো,
—”জ্বর তো আপনার।”
—”ও কিছুনা।”
—”ও কিছু না মা…”
প্রিয়ার কথাটা শেষ হয়না। আকাশ শেষ করতে দিলোই না। কোনো সতর্কতা ছাড়াই ঠোঁট গুজলো প্রিয়ার পাতলা গোলাপি ঠোঁটের ভাজে। ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো মেয়েটার গোটা শরীর। আনমনেই ডান হাতটা উঠে গেলো আকাশের বুকের কাছের পাঞ্জাবীর অংশে। খামচে ধরলো সেটা।
স্পর্শরা আজ বড্ড অবাধ্য, বড্ড কাতর। আকাশের ছোঁয়া আজকে হঠাৎই অন্যরকম শান্তির লাগলো প্রিয়ার। প্রেমিক পুরুষ থেকে তার বৈধ পুরুষ এখন। অন্যরকম ভালো লাগবে এই স্পর্শ। এটাই স্বাভাবিক।
আকাশের স্পর্শেরা ভীষন আদুরে। যেনো কতশত চাওয়া-পাওয়া একত্র হয়েছে। নরম আদরে আদরে দলিতমথিত হচ্ছে অষ্টাদশীর পাতলা অধরোষ্ঠ। আবেশে চোখ বুজে সে আদর অনূভবে ব্যাস্ত প্রিয়া। আকাশ ছাড়লো বেশ সময় নিয়েই। কামুক দৃষ্টি স্থির করলো স্ত্রীর ভেজা ঠোঁটজোড়ার দিকে। কি তীব্র ভাবেই না টানছে সেটা তাকে।
আকাশ নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে স্লাইড করলো সে চুম্বকের মতো টানতে থাকা জায়গাটুকু। হাস্কিস্বরে বললো,
—” তোমার ওই ঠোঁটজোড়া কঠিন ভাবে টানছে আমাকে পাখি। ছুঁই আবার?”
প্রিয়া হাপাচ্ছে, চোখ বুজে আছে। নিঃশ্বাস ঘন হয়েছে এরইমধ্যে। আকাশের চাওয়া পাওয়া আজ কোনদিকে মোড় নেবে তা বুঝতে দেরি হওয়ার কথা নয় তার। আকাশ আরেকদফা ঠোঁটে ঠোঁট মেলাতেই অনূভব করলো প্রিয়ার হাতের মৃদু ধাক্কা। তার বুকে হাত ঠেলে সরাতে চাচ্ছে। আকাশ চট করে সরে গেলো। প্রিয়ার রক্তিম মুখপানে তাকিয়ে শীতল গলায় জিজ্ঞেস করলো,
—” সরিয়ে দিচ্ছো কেনো, পাখি?”
আকাশই খানিকটা চুপ করে প্রিয়ার উত্তরের অপেক্ষায় রইলো। পুনরায় হালকা স্বরে বললো,
—”বাই এনি চান্স, এই মূহুর্তে তুমি আমার কাছে দুই বছরের সময় চেয়ে বসবে না তো?”
প্রিয়া চমক খেলো যেনো। আকাশ ওই কথা ধরে এখনো বসে আছে। বেচারা বেশ সিরিয়াস ভাবেই নিয়েছে কথাটা। এখন বুঝতে অসুবিধা হলো না কেনো এতো নরম আদর শুরুতে। প্রিয়ার রেসপন্স বুঝতে চাইছে।
আকাশ স্থির প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রিয়ার দিকে। সত্যিই তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে প্রিয়া কোনো ভাবে কি প্রস্তুত নয়! আকাশের মুখের অবস্থা দেখে আচমকা একটা দুষ্ট বুদ্ধি খেলে গেলো প্রিয়ার মাথায়। মিহি কন্ঠে বললো,
—”যদি চাই?”
আকাশের মুখ এবার দেখার মতো হলো! বুকের বাঁ পাশের তোলপাড় নিয়ে যেখানে শ্বাস নিতেই কষ্ট হচ্ছে সেখানে মেয়েটা এতো ভোগাচ্ছে তাকে।
—” আমাকে মেরে ফেলতে চাও পাখি? আজকের রাতে এমন অলক্ষুণে কথা কেউ বলে?”
ভীষন কাতর শোনালো আকাশের কন্ঠ। প্রিয়া হাসি চেপে বললো,
—” শুয়ে পরুন। জ্বর আপনার শরীরে। রেস্ট দরকার।”
—” এ জ্বর সে জ্বর নয় পাখি। ছুয়ে দেখো একটাবার। এ জ্বর তোমাকে বউ হিসেবে কবুলের পর উঠেছে। তোমাকে তীব্র থেকে তীব্র ভাবে ছুঁয়ে দেওয়ার কমনা বাসনায় উঠেছে।
পাখি, আজ রাতটায় মানা করবে? কোরো না কেমন? মরেই যাবো। ছুঁই একটু?”
আকাশের এক নিঃশ্বাসে বলা ব্যাকুল আবদারে নারীত্ব জেগে উঠলো মেয়েটার। শ্বাস আটকে গেলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য। হা করে শ্বাস নিতে হলো এবারে। আকাশের কামুক চোখে তাকিয়ে নিজের ভ্রু জোড়া তুলে প্রশ্ন করলো,
—” একটু?”
আকাশ একটানে নিজের পাঞ্জাবী টা খুলে ফেললো। এগিয়ে ঝুঁকে এলো প্রিয়ার দিকে। হাস্কিস্বরে বললো,
—”ওই আরকি। ফার্স্ট নাইট যেহেতু। একটু না হয় বেশি-ই। ছুঁয়ে দেই?”
প্রিয়া এমন আবদারে মানা করবে! করতে পারবে আদৌ? স্ত্রীর চোখের ভাষা না বোঝার কিছু নেই। আকাশও বুঝে নিলো যা বোঝার। এক ধাক্কায় প্রিয়াকে নিয়ে গা এলিয়ে দিলো নরম বিছানায়। প্রিয়ার মাথা আকাশের হাতের তালুতে। বালিশে মাথা ঠেকে নি এখনো। আকাশ হামলে পরলো এবারে। প্রথমবারের মতো রয়েসয়ে আদর করার ধৈর্য আর অবশিষ্ট নেই তার কাছে। খসখসে হাতে অশালীন ভাবে আকিবুকি করছে প্রিয়ার শাড়ি ভেদ করে নগ্ন পেটে।
আকাশের ব্যাস্ত ঠোঁট জোড়া মধুর সন্ধানে মরিয়া। গভীর চুমুতে মধু আস্বাদনে ব্যাস্ত যেনো সে। প্রিয়া নড়াচড়া করে উঠছে ঘনঘন। শ্বাস নিতে মরিয়া সে। সে সময় টুকু অবধি তাকে দেওয়া হচ্ছে না। প্রিয়ার নড়াচড়ার মাত্রা বাড়তেই আকাশের তীব্রতা আরও বাড়লো। কামড় বসাচ্ছে পাতলা ঠোঁটজোড়ায়। আবার ক্রমাগত নিজের ঠোটের ভিতর টেনে নিয়ে,নরম চুমু একে পুষিয়ে দিচ্ছে সেটা।
আকাশের ব্যাস্ত ঠোঁট এ যাত্রায় নেমে এলো মেয়েটার কন্ঠদেশে। একে একে সরিয়ে ফেলা হলো কাধের ওপরের শাড়ির আচল, ব্যাস্ত হাত চললো বুকের ওপরের আবরণ সরাতে। প্রিয়া ভয়ার্ত চোখ খিচে সহ্য করতে ব্যাস্ত আকাশের পাগলামি। চুমুর তীব্রতায় আবেশে জ্ঞান হারানোর উপক্রম প্রিয়ার। শ্বাস জুড়িয়ে আসছে তার। কামড়ে কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে দু হাতে ঠেললো চওড়া নগ্ন বুক। এক চুল সরাতে পারলো না বোধহয়। উল্টো আকাশের ঠোট,হাতের স্পর্শরা জায়গা বদলে মরিয়া হলো।
একে একে নারী শরীরে অবশিষ্ট রইলো না বাড়তি কোনো পরিধেয় কিছু। প্রিয়ার দু হাতে আকশের ঘাড় পেঁচিয়ে আছে। আকাশের ঠোঁট গলদেশ ছেড়ে বুকের ভাঁজে এসে থামতেই খামচে ধরলো আকাশের পিঠ। নারীদেহের লুকায়িত ভাজে আদর আঁকতে ব্যাস্ত আকাশ। প্রিয়া কাঁপছে থরথর করে। হৃদপিণ্ড খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে যেনো। প্রিয়া গোটা শরীর জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে যেনো। গোঙানির শব্দে বাতাস ভাড়ি হচ্ছে ঘরের। আকাশের দংশনের মাত্রা আচমকা বাড়তেই প্রিয়া কেঁপে কেঁপে বললো,
—”থ-থ-থামুন। মরে যাবো তো।”
অবাধ্য নারীত্বের তীব্র আন্দোলনে শরীর বল হারাচ্ছে প্রিয়ার। আকাশ তাকে ছেড়ে সোজা হলো। শরীরের স্যান্ডো গেঞ্জি টা খুলে ফেলতেই উন্মুক্ত হলো বলিষ্ঠ, কারুকার্য আকা সুঠাম দেহ। হার্টবিট দ্রুত থেকে দ্রুততর হলো প্রিয়া। আকাশের হাত ব্যাসৃ্ত ভাবে কোমড়ের নিচের দিকের বাটনে হাত দিতেই চোখ বজে ফেললো প্রিয়া। আকাশ ঠোঁট কামড়ে হাসলো। এলেমেলো ভঙ্গিতে বিছানায় নগ্ন শরীরে পরে আছে প্রিয়া। ফর্শা মুখটা লাল টকটকে। গোটা শরীরেই ছোপ ছোপ দাগ। এতক্ষণ ধরে করা আকাশের আদর সেগুলো।
আকাশ মুখ তুললো। জিবে ঠোঁট ভেজালো। হাঁপাতে হাঁপাতে ফিসফিস করে বললো,
—” ডোন্ট প্যানিক,পাখি। ইফ ইট গেট’স টু রাফ, জাস্ট স্ক্র্যাচড মি। ওকে? বাঁধা দেবে না। ”
—“আ-আকাশ…”
—“আই ক্যান ফিল, পাখি। আই থিং ইউ আর রেডি নাউ। টু টেক মি।”
—”আকাশ…আমার ভয়…
প্রিয়ার কথা শেষ হয়না। কয়েক সেকেন্ড এর ব্যাবধানে কিছু একটা অনূভব করলো প্রিয়া। না চাইতেও আবেদনময়ী শীৎকার বেড়িয়ে আসে গলা চিড়ে। শব্দরা জোরালো হয়, সাথে আকাশের আদরও।
—“ইট’স ওকে, পাখি। টেক ডিপ ব্রেথ।”
এমন অনূভুতি প্রিয়ার জন্য নতুন,সম্পূর্ণ নতুন। বিষ্ময়কর বলা যায়। ভয় কেটে অন্য অনূভুতি রা ডানা ঝাপটাতে শুরু করে দিয়েছে এরইমধ্যে। সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। আকাশ ঘর্মাক্ত শরীরে হাঁপাতে হাঁপাতে মেয়েটার কানের কাছে মুখ নামিয়ে হাস্কিসরে বললো,
—” শুড আই স্লো ডাউন,পাখি?”
আকাশপ্রিয়া পর্ব ৫২
প্রিয়া দু হাতের দশটা নখে ক্রমাগত আঁচড় কাটতে ব্যাস্ত আকাশের গোটা পিঠে। শক্তপোক্ত পিঠেও প্রিয়ার নখ কঠিনভাবে বসে যাচ্ছে। আকাশের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো অবস্থায় সম্ভবত প্রিয়া নেই।
আগুনের স্পর্শ পুড়িয়ে ফেলছে দুজনকে। আকাশের ঘামে ভেজা মুখ, রাজ্যের মাদকতায় পরিপূর্ণ কামুক চোখের অপলক দৃষ্টি প্রেয়সীর মুখের দিকে। শরীর দূর্বল হয়ে অবশ হশে এসেছে। লজ্জায় মরে যাচ্ছে প্রিয়া। তবে অনূভুতি গুলোকে ঠেলে সরাতে পারলো না। প্রিয়া ঠোঁট কামড়ে দু দিকে মাথা নাড়লো। আকাশ সন্তুষ্ট হলো যেনো। ভেজা ঠোঁট গুজে দিলো মেয়েটার ঠোঁটে। সময় নিয়ে চুমু খেয়ে হাস্কিস্বরে বললো,
—”সো, রাফলি ইজ ওকে? দ্যান স্ক্রিম…”
