Home আনহেলদি অবসেশন আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১২

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১২

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১২
কায়নাত খান কবিতা

” বাড়ি চলো জান!”
নিজের কোলে থাকা অরিনের দিকে তাকিয়ে বাড়ি যাওয়ার কথা জানায় কিংশুক! অরিন এতোটাই ক্লান্ত হয়ে যায় যে, কিংশুকের থেকে নিজেকে কীভাবে আলাদা করবে সেটা ও বুঝতে পারে না! একদম শরীরের সমস্ত ভর ছেড়ে দিয়ে কিংশুকের উপরে! চোখ দিয়ে পানি পরা বন্ধ হয়নি তার! কারণ সে জানে বাড়িতে তার জন্য আরো ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে!

অরিনকে কোলে তুলে সামনে যেতে থাকে কিংশুক! ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারে না! যেখানে পুরো দেশ কিনার ক্ষমতা রয়েছে তার, সেখানে মানুষ গায়েব করা তো শরীর থেকে ধুলো ফেলার মতো!
অরিনকে কোলে বসিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় কিংশুক! সাথে তার বডিগার্ডদের গাড়ি! সারা রাস্তা অরিন কিংশুকের কোলেই থাকে! কান্না তার বিন্দু মাত্র কমে না! কিংশুকের ভয় আরো বাড়তেই থাকে! বাড়ি গিয়ে কী হবে সেটাই ভাবলে ও আত্মা শুকিয়ে আসে তার!

” চোখের পানি তুলে রাখো জানো, বিয়ের দিন রাতে আমার করা আদরে কেঁদো! এখন কেঁদে পানি নষ্ট করো না!”
চোখ বন্ধ করে ফেলে অরিন! যেখানে তাকে দেখলেই ভয়ে অরিন কাঁপতে থাকে, সেখানে বিয়ে, সম্ভবই না!
কিছু ক্ষণের মধ্যে খান ম্যানশনে কিংশুকের গাড়ি প্রবেশ করে! অরিনের ভয় আরো একধাপ বেড়ে যায়! উপর ওয়ালা জানে এখন কী হবে তার সাথে!
গাড়ি থামার সাথে সাথে কিংশুক অরিনকে নিয়ে বের হয়ে যায়! বাড়ির সকলে তাদের দেখে চোখ নামিয়ে ফেলে! আতিয়া বেগম তাদের এভাবে দেখে আতঙ্কে পরে যায়!

” কিং! ”
” স্টপ মনি! সি ইজ মাই ফিউচার ওয়াইফ! আংটি পড়িয়েছি ওকে! নাও আই ক্যান ডু ওয়াটএভার আই ওয়ান্ট! ”
কিংশুকের শক্ত শক্ত কথা শুনে চুপসে যায় আতিয়া বেগম! এখন অরিনের সুরক্ষা দরকার! কিংশুক রাগের বসে যদি কোনো ক্ষতি করে! চুপ করে দাড়িয়ে যায় আতিয়া বেগম!
কিংশুক অরিনকে নিয়ে সোজা অরিনের রুমে চলে যায়! দরজা লক করে তাকে বিছানায় ছুড়ে মা’রে! ভয়ে সারা শরীরে কম্পন শুরু হয় অরিনের! একটু নড়তে যায় অরিন! ঠিক তখনই গর্জে উঠে কিংশুক!
” চুল পরিমাণের নড়লে ও, সারা রাতের জন্য শরীরে কম্পন তুলে দেবো! ”
ভয়ে খুব জোড়ে জোড়ে নিঃশ্বাস নিতে থাকে অরিন!
” চুপপপ! কান্নার আওয়াজ যেনো না বের হয়!”

ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে অরিন! রীতিমতো মুখে হাত দিয়ে! না নড়তে পারছে আর না জোড়ে কাঁদতে পারছে! নিজেকে খুব অসহায় লাগছে তাঁর! তার থেকে ও বেশি ভয় জাগে কিংশুকের পায়চারি দেখে! কিংশুক কিছু না বলে রীতিমতো পায়চারি করতে থাকে! আর কিছু একটা ভাবতে থাকে! তার মতিগতি কিছু বুঝতে পারে না অরিন!
এক পর্যায়ে কিংশুক অরিনের কাছে চলে আসে! বেডে বসে অরিনের পা ধরে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে নেই!
” যেই সাজ আমার জন্য নয়, সেই সাজ তোর শরীরে থাকবে ও না!”
এক টান দিয়ে অরিনের নেকলেস খুলে ফেলে কিংশুক! কিছুটা গলার পাশে কেটে যায় তার! গলা ধরে চিৎকার করে উঠে অরিন! কিন্তু তার চিৎকার কিংশুকের কান অব্দি পৌঁছায় না! সে নিজের আক্রোশ মিটাতে ব্যস্ত!
নিজের টিশার্ট দিয়ে অরিনের লিপস্টিক এবং মুখে লেগে থাকা আলগা প্রলেপ গুলো মুছতে থাকে কিংশুক! খানিকটা ঘষে ঘষেই তুলতে থাকে সে!

” লিভ মি কিং!”
” আই কান্ট বেবি গার্ল! তুমি শুধু আমার! আমার জন্য সাজবে তুমি! বাইরের লোকদের জন্য নয়! তোমাকে পরিষ্কার করতে হবে জান!”
কিংশুক নিজের কাজে অনড়! সে ঘষতে থাকে অরিনের মুখ! এক পর্যায়ে দাড়িয়ে, অরিনকে ও টেলে দাড় করায় কিংশুক! তারপর অরিনের শাড়ি টে’নে খুলতে থাকে!
” কিংশুক প্লিজ! কিংশুক না, প্লিজ!”
” উল্টো পাল্টা কিছু করতে বাধ্য করো না জান!”

কিংশুক টেনেই অরিনের শাড়ি খু’লে ফেলে! তারপর তাকে নিয়ে সোজা ওয়াশরুমে চলে যায়! ঝর্নার পানিতে দাড়িয়ে পড়ে দু-জনই! শীতের মাঝে ঠান্ডা পানি! কাঁপতে থাকে অরিন!
কিংশুক শাওয়ার জেল লোভাতে ভরিয়ে অরিনের হাত মুখ, গলা জোড়ে জোড়ে ঘোষতে থাকে! বাঁধা দিতে থাকে অরিন! কিন্তু কোনো লাভ হয় না! বদ্ধ ঘরে তাকে সাহায্য করার মতো কেউ নেই! শরীরে অসম্ভব রকমের জ্বা’লা সৃষ্টি হতে অরিনের!তার উপরে ঠান্ডা পানি! এর থেকে কিংশুক তাকে মে’রে ফেললে ভালো হতো! প্রচন্ড হাঁপাতে থাকে অরিন!
এক পর্যায়ে কিংশুক ছেড়ে দেয় অরিনকে!

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১১

” শুদ্ধ হয়ে নে জান! আমি বাইরে অপেক্ষা করছি!”
বাইরে চলে যায় কিংশুক! অরিন বসে পরে ঝর্নার নিচে! তার কান্নার গতি বেড়ে যায়! কিন্তু শোনার মতো কেউ নেই!
” আই হেট ইউ কিং! আপনার মতো জানো’য়ারকে, আমি কখনোই বিয়ে করবো না!”

আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১৩