আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১৪
কায়নাত খান কবিতা
” অনেক ক্ষণ বাইরো আছো! চলো বাড়ি যায়! আই হ্যাভ আ সারপ্রাইজ ফর ইউ! ”
পরিচিত কন্ঠস্বর কানে ভেসে আসতেই হৃদপিন্ডে অস্বাভাবিক কম্পন শুরু হয় অরিনের! ভয়ে পিছনে তাকানোর মতো সাহস টুকু পাচ্ছে না সে! অরিন তো জানতো কিংশুক আরো কয়েক দিন পর ফিরে আসবে, তাহলে আজকে কেন? অস্বাভাবিক ভাবে তার নিঃশ্বাস উঠানামা শুরু করে!
কিংশুক অরিনের হাত ধরে খানিকটা দ্রুত গতিতে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নেয়! তারপর মাথা থেকে পা অব্দি পরথ করে!! কয়েকদিনে বেশ ভালোই বাড় বেড়েছে সে! কিংশুক অরিনের মুখে থাকা চুল গুলো সরিয়ে কানে গুঁজে দেয়!
” গেট রেডি ফর দ্যা সারপ্রাইজ জান!”
অরিনের হাত ধরে সোজা গাড়িতে বসায় কিংশুক! তারপর সে ও তার পাশের সিটে বসে পরে! কিংশুক বসাতে অরিন একটু সরে জড়সড় হয়ে উইন্ডোর সাইডে চলে যায়! বিষয়টা কিংশুকের ও চোখে পড়ে! চোয়াল শক্ত হয়ে যায় তার! তার মানে কী? অরিন তার সাথে বসতে ও ঘৃণা করছে? তাকে এতোটাই অপছন্দ তার! উপেক্ষা করছে তাকে? রাগে গিজগিজ করতে থাকে কিংশুকের মস্তিষ্ক!! এই প্রত্যাখান তো মেনে নেওয়া যায় না!
ডোর লক করে কিংশুক ও অরিনের একদম কাছে চলে যায়! তার সাথে চেপে বসে! এতোটাই চেপে বসে যে অরিনের হাত ও নড়াচড়া করার মতো জায়গা টুকু নেই!! একপাশে পুরো সিট ফাঁকা! আর অপর প্রান্তে কিংশুক একদম অরিনের গা ঘেঁসে বসে আছে!
” স্টার্ট দ্যা কার! ”
কিংশুক বলার সাথে সাথে গাড়ি চালানো শুরু করা হয়! খানিকটা দ্রুত গতিতেই গাড়ি চালানো! পুরোটা সময় কিংশুক অরিনের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে! আর অরিন মাথা নিচু করে অন্য দিকে! সে জানে এখন কোনো কিছু বললে বা করলে হীতের বিপরীতে চলে যাবে পুরো বিষয়টি! চুপ করে থাকায় শ্রেয়!!
কিন্তু অস্বস্তিতে দম বের হয়ে যাচ্ছিল তার! একটা লোক নিজের কঠোর দৃষ্টি দিয়ে চোখের পাপড়ি ও না ফেলে পুরোটা সময় তাকিয়ে আছে, তার দৃষ্টি যেনো গিলে খাচ্ছে অরিনকে! চোখে পানি টলমল করছিল অরিনের! কিন্তু পড়ছে না! খুব কষ্ট করে ধরে রেখেছিল নিজের পানিকে!
গাড়ি সোজা খান ম্যানশনের গার্ডেনে গিয়ে থামে! কিংশুক নেমে অরিনের হাত ধরে গার্ডেনের মাঝ বরাবর গিয়ে দাড় করায়! অরিন তখন ও বুঝতে পারে না কী হতে যাচ্ছে তার সাথে! চারপাশে এতো লোকই বা কেন!
” টাইগারর!”
” ইয়েস স্যার!”
” গেট এভরিথিং হেয়ার!”
কিংশুকের কথা মতো সকলে পাশে রাখা কিছু জিনিস নিয়ে মাঝ বরাবর রাখতে শুরু করে! সকলের একটু পরপর যাতায়াতে ফলে অরিন সঠিক বুঝতে পারে না কি রাখা হচ্ছে সেখানে! কিছু ক্ষণের ব্যবধানে সকলে জিনিস গুলো রেখে সরে দাড়ায়! তারপর ক্যারো’সিন ঢালা হয় নিচে রাখা জিনিস গুলোতে! চোখ বড় বড় হয়ে যায় অরিনের!
” এগুলো তো আমার ড্রেস! ”
কথাটি বলেই অরিন সামনে চলে যেতে নেয় তাদের আটকানোর জন্য! কিন্তু এক কদম সামনে বাড়াতেই, কিংশুক খপ করে অরিনের হাত ধরে ফেলে!
” ডোন্ট বি হারি বেবি গার্ল! বলেছিলাম তো আমার অবাধ্য না হতে!”
” কিং ও গুলো তো আমার জামাকাপড়! ”
” আই নো! এখন নিজের হাতে পোড়াবে!”
চোখ কপালে উঠে যায় অরিনের! সে কেন নিজের এতো শখ করে কিনা জিনিসপত্র পোড়া’বে? পাগল নাকি!
কিংশুক পিছন থেকে অরিনকে খুব শক্ত করে ধরে, তারপর গ্যা’সলাইট খুব শক্ত করে চেপে ধরে অরিনের হাত দিয়ে!
” কিং না প্লিজ! ”
” নো মোর ওর্ডার বেবি গার্ল! দোষ করলে শাস্তি তো পেতেই হবে!”
কিংশুক নিজের কাজে একদম অনড়! অরিনের হাত দিয়েই গ্যা’সলাইট ধরিয়ে তার জিনিসপত্রে ছুড়ে মা’রে!! অরিন হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দেয়! বার বার চেষ্টা করে নিজেকে ছাড়িয়ে জিনিসপত্র গুলো বাঁচাতে, কিন্তু পারে না! পারবেই বা কীভাবে! কিংশুকের হাতের বাঁধন যে শক্ত! সেখান থেকে নিজেকে ছারানো অসম্ভব!!
কাঁদতে কাঁদতে এক পর্যায়ে মাটিতে বসে পরে অরিন! কিংশুক ও তার সাথে মাটিতে বসে পরে তাকে ধরে!
” বলেছিলাম তো আমি ছাড়া, এমন ড্রেস পড়া নিষেধ, তোমার উচিত হয়নি আমার অবাধ্য হওয়া বেবি গার্ল! ”
শুধু মাত্র মর্ডান ড্রেস পরে ভার্সিটিতে গিয়েছিল বলে অরিনের সমস্ত ড্রেস গুলো আগু’নে জ্বা’লিয়ে দেয় কিংশুক! সাথে আরে অনেক কিছু! যেগুলোর মাধ্যমে অরিনকে খুব আর্কষণীয় লাগে!
” রেডি ফর এনাদার সারপ্রাইজ জান?”
আরেকটা সারপ্রাইজের কথা শুনে ভয়ে কিংশুকের দিকে ফিরে তাকায় অরিন! এতো কিছুর পর আর কি বাকি থাকে? অরিন কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করে!
” সারপ্রাইজ? ”
” হুম! লেটস গো!”
কিংশুক অরিনকে তুলে সোজা বাড়ির ভিতরে চলে যায়! তারপর সোফাতে বসায়! ভয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকে অরিন! মনি বা বাইকার কেউ নেই বাড়িতে! থাকলে হয়তো এতো কিছু হতো না! কিংশুক অরিনের একদম সামনে গিয়ে টি-টেবিলে বসে পরে! তারপর অরিনের সামনে একটি বক্স তুলে ধরে! তারপর সেটা অরিনকে ইশারা করে নিতে বলে! অরিন কাঁপা কাপা হাতে বক্সটি নিয়ে নেই
” ওপেন ইট জান!”
কিংশুকের কথামতো অরিন আস্তে আস্তে বক্সটি ওপেন করতে থাকে! বক্সটি খোলার সাথে সাথে চোখ বড় বড় হয়ে যায় অরিনের! হাত থেকে পরে যায় বক্সটি! স্তব্ধা লেগে যায় অরিন! কিংশুক অরিনের পাশে বসে তাকে জড়িয়ে ধরে!
” ইট’স ওকে জান, গিফট পছন্দ হয়নি? পুরো হাত কে’টে আনি?”
অরিন খুব অবাক দৃষ্টিতে তাকায় কিংশুকের দিকে! একটি মানুষ ঠিক কতটা পশুতে রূপান্তরিত হলে
আরেকটা মানুষের হা’তের আঙ্গুল কে’টে সেটা বক্সে সাজিয়ে আনে!
ধাক্কা দিয়ে কিংশুককে সরিয়ে নিজে উঠে দাড়ায় অরিন!
” আপনি মানুষ না-কি জা’নোয়ার?”
” তুমি কোনটা পছন্দ করো?”
ঘৃণায় চলে যেতে নেই অরিন! কিন্তু কিংশুক তার আগেই অরিনের বাহু ধরে তাকে নিজের কোলে নিয়ে বসায়!
” কিং লিভ মি!”
” সারপ্রাইজ তো এখন ও বাকি জান!”
কিংশুক ইশারা করে তার লোকদের! ইশারা করতেই তারা কিংশুকের হাতে একটি বুকে দিয়ে দেয়! বুকেটি দেখার সাথে সাথে অরিন চোখ বড়সড় করে ফেলে! এরা তো সেই ফুল যেটা পলাশ তাকে সকালে দিয়েছিল!
কিংশুক সুন্দর মতো বুকে থেকে ফুলের পাপড়ি ছিঁড়তে থাকে! তারপর সেগুলো অরিনের মুখের সামনে ধরে!
” ইট!”
” কীহহ?”
” হা করো!”
” নাহহহ! আপনি কী পাগ..!”
আনহেলদি অবসেশন পর্ব ১৩
সম্পূর্ণ কথা শেষ করার আগেই কিংশুক অরিনের মুখ টিপে ধরে ফুলের পাপড়ি গুলো খাওয়াতে থাকে!
” ফুল নিতে পেরেছিস আর খেতে পারছিস না! ভেরি ব্যাড বেবি গার্ল! ”
একজন সুস্থ মানুষের পক্ষে ফুল খাওয়া কখনোই সম্ভব নয়! তাও এতো গুলো! কিংশুক রীতিমতো জা’নোয়ার মতো মুখ টিপে ধরে অরিনকে ফুলের পাপড়ি গুলো খাওয়ায়!
এতো মানুষিক এবং শারিরীক চাপ সহ্য করতে না পেরে
সেন্সলেস হয়ে কিংশুকের কোলেই ঢোলে পরে অরিন! হাসতে থাকে কিংশুক!
” তোমার উচিত হয়নি আমার অবাধ্য হওয়া জান!”
