Home আবির ভাই আবির ভাই পর্ব ১৯

আবির ভাই পর্ব ১৯

আবির ভাই পর্ব ১৯
উর্মিলা মজুমদার

“মেঘ, তুই কি দিনকে দিন সত্যি সত্যি পাগল হয়ে যাচ্ছিস? আবির ভাই তোকে জলপরী ডাকবে কেন? আর তুই-ই বা এসব যাতা স্বপ্ন দেখছিস কেন? তোর কি কমন সেন্স বা কাণ্ডজ্ঞান বলে কিছু অবশিষ্ট নেই?”
​মেঘ ধড়ফড় করে বিছানায় উঠে বসল। তার বুক ধড়ফড় করছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। সে কয়েকবার গভীর শ্বাস নিল। মানুষ যখন খুব আজব কোনো স্বপ্ন দেখে, তখন কিছুক্ষণ তার ঘোর কাটে না। তার কাছেও সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে। ​আসলে নবীন বরণের পুরো কাহিনিটা স্বপ্ন ছিল না। করোনার সেই অভিশপ্ত দিনগুলোর পর কলেজ ভর্তি হতে অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। বছরের শেষ প্রান্তে এসে কলেজে পা রাখা। আজ ছিল সেই বহুল প্রতীক্ষিত নবীন বরণ। আবির ভাই অনুষ্ঠানে চমৎকার একটা বক্তৃতা দিয়ে মঞ্চ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এতটুকু ঠিক আছে। কিন্তু মাঝখানে ওই যে তাকে ‘জলপরী’ বলে ডাকার অংশটুকু?
ওটা পুরোপুরি মায়া, বা যাকে বলে বিভ্রম। মানুষের মস্তিষ্ক অদ্ভুত সব কল্পনা সাজাতে ভালোবাসে। মেঘ হয়তো অবচেতন মনে চেয়েছিল আবির ভাই তাকে বিশেষ কোনো নামে ডাকুক। কিন্তু এখন সেটা আর সে মানতে পারছে না। ​মেঘ বিছানা ছেড়ে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। ঘড়ির কাঁটা দুই ঘর পার হতে চলেছে।
রাত দুটো। খান বাড়ির এই বিশাল অট্টালিকায় এখন সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয়েছিল অঝোরে বৃষ্টি। এখন বৃষ্টির জোর নেই, তবে চারদিকে ভেজা ভেজা গন্ধ আর টুপটাপ শব্দ লেগে আছে। গাছপালার পাতা থেকে টুপটুপ করে পানি পড়ছে নিচে জমে থাকা জলে। ​ঘুম আর আসবে না। মেঘের শরীর মন দুটোই এক অস্থির শান্তিতে টইটুম্বর। সে রুম থেকে বেরিয়ে এল। এই রাত তার একা হওয়ার রাত। পা টিপে টিপে সে ছাদে গিয়ে পৌঁছাল।

​ছাদে পা রাখতেই হিমশীতল একটা বাতাসের ঝাপটা তাকে অভ্যর্থনা জানাল। মেঘের গায়ের ওড়নাটা হাওয়ায় উড়ছে। সে আলতো করে চুলের খোঁপাটা খুলে দিল। একরাশ কালো চুল তার পিঠ ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়ল। মেঘ তার জুতোজোড়া খুলে একপাশে রাখল। ভেজা ঠান্ডা মেঝেতে খালি পা রাখল। এ এক দারুণ অনুভূতি। ​মেঘ দু’হাত দুদিকে প্রসারিত করে চোখ বন্ধ করল। যেনো ঘাসের ওপর শিশির বিন্দুর মতো মেঘের মনেও প্রশান্তি টলমল করছে। সে আনমনে হাঁটতে লাগল। ঠিক তখনই নিস্তব্ধতা ভেঙে পেছন থেকে একটা অতি পরিচিত গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল।
​”মেঘ?”

​মেঘ থমকে দাঁড়াল। বুকটা আবার ধড়ফড় করে উঠল। বৃষ্টির ঝিরঝিরে আওয়াজ ছাপিয়ে এই কণ্ঠস্বর তার চেনা।মেঘ বিদ্যুৎবেগে পেছনে ফিরল। বুকের ভেতরটা তখন ধড়ফড় করছে ঠিক যেন খাঁচায় বন্দি কোনো চঞ্চল পাখি ডানা ঝাপটাচ্ছে। কিন্তু একি! পেছনে তো কেউ নেই। ধূ ধূ ছাদ, একপাশে পড়ে থাকা পানির ট্যাংক আর বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা কালচে মেঝে। মেঘের হার্টবিট মুহূর্তেই বেড়ে গেল। স্পষ্ট শুনেছে কেউ তাকে ডাকল। গলার স্বরটা অবিকল আবির ভাইয়ের।
​”কে? কে ডাকল?”
​মেঘের গলার স্বর হারিয়ে গেল। সে বড় বড় চোখ করে চারদিকে তাকাল। আবির ভাই কি তবে লুকোচুরি খেলছেন? নাকি এটাও কোনো বিভ্রম? মেঘের ঠোঁট উল্টে কান্না পেতে চাইল। কেন আবির ভাই তার মস্তিষ্কের প্রতিটা কোষে কোষে এভাবে জাঁকিয়ে বসে আছেন? মানুষ কি চাইলে কাউকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারে না? আগে তো এমন হতো না। ​প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়ার যে আনন্দটুকু একটু আগে মেঘকে আবিষ্ট করেছিল, তা কর্পূরের মতো উড়ে গেল। মেঘ তড়িঘড়ি করে অবাধ্য চুলগুলো খোঁপা করল। মাথায় ওড়না টেনে দিয়ে জুতো পরে ছাদ থেকে নেমে এল। ওড়নার কোণাটা আঙ্গুলে পেঁচাতে পেঁচাতে সে দোতলার করিডোর দিয়ে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই শব্দটা হলো।
​খটাশ!

​আবির ভাইয়ের রুম থেকে কিসের যেন একটা শব্দ এল। মেঘের পা দুটো যেন কেউ মেঝেতে আঠা দিয়ে আটকে দিল। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো সে স্বপ্ন দেখছে না তো? কিন্তু না, শব্দটা বাস্তব। বুকের ভেতর দুরুদুরু কাঁপন নিয়ে মেঘ সাহস সঞ্চয় করল। এই মাঝরাতে ভয় পাওয়া সাজে না। রহস্যের সমাধান করাটাই আসল কাজ। ​সে পা টিপে টিপে আবির ভাইয়ের রুমের দরজায় গিয়ে দাঁড়াল। দরজায় কান পাতল। ঘড়ির কাটার ‘টিক টিক’ শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছে না।
মেঘ ভ্রু কুঁচকে ভাবল তবে কি ভুল শুনলাম? সে অতি সাবধানে দরজায় হাত রাখল। দরজাটা সামান্য ফাঁক হয়েই ছিল। একটু ধাক্কা দিতেই খুলে গেল। ​ভেতরে নিকষ কালো অন্ধকার। জানালার পর্দাগুলো বাতাসের তোড়ে ভূতের মতো নাচছে। মেঘ রুমে ঢুকে অবাক হয়ে চারদিকে তাকাল। কেউ নেই। পর্দার আড়ালে, সোফার নিচে, আলমারির পেছনের সরু ফাঁকে সব জায়গায় সে চোরের মতো চোখ বুলাল। কিন্তু কোথাও জনমানবের চিহ্ন নেই। অথচ স্পষ্ট একটা কিছু পড়ার শব্দ হয়েছিল!

​মেঘের মাথায় চট করে একটা বুদ্ধি এল—ওয়াশরুম! মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল তো ওটাই। সে ওয়াশরুমের দরজায় কান পাতল। পানির পড়ার শব্দ নেই। মেঘ খুব আলতো করে দরজায় দুবার টোকা দিল। নিজেকে সামলে নিয়ে ডাকল, ​”আবির ভাই? আপনি কি ভেতরে?”
​ভেতর থেকে কোনো সাড়া নেই। মেঘ আবার একটু জোরে ডাকল, “আবির ভাই, শুনছেন?”
​মেঘ অপেক্ষা করতে লাগল।​ আরও একবার ডাকল।
“আপনি কি ভেতরে আছেন? কথা বলছেন না কেন?”
কোনো উত্তর না পেয়ে সে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলে ওয়াশরুমের দরজাটা এক ঝটকায় খুলে ফেলল। ভেতরটা শূন্য। ধবধবে সাদা টাইলসগুলো চিকচিক করছে। কেউ নেই। এমনকি এক ফোঁটা পানির চিহ্নও কোথাও নেই যে বলবে একটু আগে কেউ এখানে ছিল।

​মেঘের বিস্ময়ের সীমা রইল না। মানুষটা গেল কোথায়? এই তো কিছুক্ষণ আগে ছাদ থেকে নামার সময় তার গলার আওয়াজ পাওয়া গেল, অথচ ছাদে সে নেই। মেঘ নিজে সেখান থেকে এল। করিডোরে নেই, রুমে নেই। অথচ রাতের খাবার টেবিলে আবির ভাই সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তখন তো তাকে রক্ত-মাংসের মানুষই মনে হয়েছিল। ​মেঘের মনের ভেতর খটকাটা বিষফোড়ার মতো বিঁধতে লাগল। সে রুম থেকে বেড়িয়ে নিচে নেমে এল। সদর দরজার কাছে গিয়ে দেখল, দরজাটা ভেতর থেকে লক্ষ করা। তার মানে বাড়ির প্রতিটা মানুষ এই চার দেয়ালের ভেতরেই বন্দি। যদি কেউ বাইরে যেত, তবে দরজা অন্তত খোলা থাকত।
​”অদ্ভুত! বড্ড অদ্ভুত!”—মেঘ বিড়বিড় করে নিজের রুমে ফিরে এল।

​ঘুমের আশা সে ত্যাগ করেছে। সে তার প্রিয় কাঠের বারান্দায় গিয়ে বসল। বারান্দার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল শিউলি গাছ। বৃষ্টির ছোঁয়ায় গাছটা স্নান সেরে পবিত্র হয়ে আছে। শিউলি ফুলের সেই তীব্র কিন্তু স্নিগ্ধ সুবাস ভেসে আসছে বাতাসের সাথে। বৃষ্টির পর ফুলের ঘ্রাণ কি বেড়ে যায়? হয়তো যায়।
​মেঘ রেলিঙে মাথাটা এলিয়ে দিল। তার চোখের সামনে হুমায়ূন আহমেদের একখানা বই। মলাটটা পুরনো, হলদেটে ভাব এসেছে। বইটির নাম ‘কোথাও কেউ নেই’।
​মেঘ বইটা খুলল। চারদিকের নিঃঝুম অন্ধকারে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ আর শিউলির ঘ্রাণ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। বইয়ের পাতায় ডুব দিল, কিন্তু তার অবচেতন মন বারবার ফিরে যাচ্ছে আবির ভাইয়ের সেই শূন্য রুমটার দিকে। সত্যিই কি কোথাও কেউ নেই? নাকি সবাই আছে, শুধু আমরা দেখতে পাই না? মানুষের চোখ খুব দুর্বল যন্ত্র, সে যা দেখতে পায় না, তা-ই সে বিশ্বাস করতে চায় না।”

পরদিন সকাল।
আকাশের মুখ আজ ভার। মেঘগুলো দলা পাকিয়ে আছে, যেন কেউ নীল আকাশটাকে ছাইরঙা কম্বল দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। সূর্যটা একবার উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে আবার মুখ লুকিয়ে ফেলছে। মাঝে মাঝে মেঘের গুরুম গুরুম ডাক শোনা যাচ্ছে। প্রকৃতির এই অস্থির সময়ে খান বাড়িতে তোলপাড় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সব চুপচাপ। ​
প্রেমা আজ খুব ভোরে উঠেছিল ঘুম থেকে। তার হাতে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা। অনেক দিন পর সে আবিরের জন্য চা বানালো। চায়ের লিকারটা ঠিক তার মনের মতোই কড়া হয়েছে। প্রেমা নাকের ডগায় ঝুলে পড়া চশমাটা আঙুল দিয়ে ঠেলে ঠিক জায়গায় বসাল। তার ঠোঁটের কোণে একটা হাসি। এই হাসির কোনো মানে হয় না, আবার সব মানেই হয়তো এর ভেতরে লুকিয়ে আছে। ​প্রেমা আবিরের দরজায় টোকা দিল।
“আবির, ভেতরে আছো?”

​আবির আর প্রেমার বয়সের পার্থক্য খুব একটা বেশি নয়। বয়সের পার্থক্য দিয়ে কীই বা হয়? তারা একে অপরকে ‘তুমি’ করেই সম্বোধন করে। ভেতর থেকে আবিরের গম্ভীর গলা ভেসে এলো, “হ্যাঁ, এসো।”
​প্রেমা ওড়নাটা মাথায় একটু ভালো করে টেনে ভেতরে ঢুকল। দেখল আবির সবে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে। তোয়ালে দিয়ে চুল মুছছে সে। পরনে কালো রঙের একটা স্লিভলেস গেঞ্জি আর ট্রাউজার। প্রেমা সেদিকে বেশিক্ষণ তাকাল না। আলতো করে বলল, “চা এনেছি।”
​আবির হাতের তোয়ালেটা সোফায় ছুড়ে ফেলল। চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে বলল, “থ্যাঙ্কস।”
​প্রেমা ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। আবির কিছুক্ষণ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ফিরে তাকাল। প্রেমার স্থির দৃষ্টি দেখে সে কিছুটা অবাক হলো। ভুরু কুঁচকে জিগ্যেস করল, “কিছু বলবে?”
​প্রেমা চমকে উঠল। চশমাটা আবার একবার ঠিক করে নিয়ে থতমত খেয়ে বলল, “ঐ… না, এমনি।”
​আসলে ‘এমনি’ কথাটার মাঝেই জগতের সব গোপন কথা লুকিয়ে থাকে। মানুষ যখন বলতে পারে না কী বলবে, তখনই সে বলে “এমনি।”

আবির চায়ের কাপে একটা চুমুক দিয়ে আবারও প্রেমার দিকে তাকাল। চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ। প্রেমা তখনো দরজার কাছে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে। আবির বলল, “তাহলে দাঁড়িয়ে আছো কেন?”
​প্রেমা একটা জোরপূর্বক হাসি হাসল। সে জানে, আবিরের মেজাজটা অনেকটা চৈত্র মাসের দুপুরের মতো। কখন যে তেতে উঠবে তার কোনো ঠিক নেই। রগচটা মানুষের সামনে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। প্রেমা আর কথা বাড়াল না, দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে গেল। সেই চা শেষ পর্যন্ত আবির খেয়েছিল কি না, কিংবা কাপটা টেবিলের এক কোণে পড়ে থেকে ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল কি না। সে খবর আর কেউ রাখল না। সব চায়ের ভাগ্য চুমুক হওয়া থাকে না, কিছু চা অবহেলায় ঠান্ডা হওয়ার জন্য জন্মায়।
​আবির অফিসের জন্য তৈরি হতে লাগল। আজ তার ভীষণ ব্যস্ত দিন। গাদাখানেক ফাইল আর একগাদা মিটিং। আকাশটার অবস্থা খুব একটা সুবিধার মনে হচ্ছে না। বাইরে অন্ধকার গাঢ় হচ্ছে। এখনই মুষলধারে বৃষ্টি নামবে। আর বৃষ্টি নামা মানেই নেটওয়ার্কের বারোটা বাজা। ভিডিও কনফারেন্সের মাঝে গোলযোগ আবিরের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিল। সে হাতের ভাঁজে ব্লেজারটা নিল, এক হাতে টাই ঠিক করতে করতে গটগট করে রুম থেকে বের হলো। ​

পুরো খান বাড়িটা এখন নিঝুম। বাইরে মেঘের ডাক আরও জোরালো হচ্ছে। করিডরের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে মেঘলা আকাশটা নিচে নামার চেষ্টা করছে। ঠিক সেই মুহূর্তে আবিরের পা দুটো মেঝেতে গেঁথে গেল। ​বাতাসে একটা মধুর সুর ভাসছে। করুণ কিন্তু অসম্ভব মিষ্টি একটা সুর। কেউ গান গাইছে। আবির চমকে গিয়ে পেছন ফিরল। লহরীর উৎস খুঁজতে খুঁজতে সে পা বাড়াল মেঘের কক্ষের দিকে। দরজাটা সামান্য ফাঁক হয়ে ছিল, আলতো করে ধাক্কা দিতেই দৃশ্যটা পরিষ্কার হলো। ​কক্ষের মেঝেতে বসে আছে মেঘ। সামনে হারমোনিয়াম। মেঘের চোখ দুটো বন্ধ। তার আঙুলগুলো হারমোনিয়ামের রিডে খেলা করছে। মেঘ গাইছে নজরুলের সেই বিখ্যাত গান—

আবির ভাই পর্ব ১৮

​”বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে দিসনে আজি দোল।
আজো তার ফুল কলিদের ঘুম টুটে নি তন্দ্রাতে বিলোল…”
​আবির ভড়কাল। সবকিছু মুহূর্তেই অর্থহীন হয়ে গেল। কেবল রয়ে গেল এই সুর। আবির মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল। তার মতো একজন রগচটা মানুষও এই সুরের মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। সে পকেট থেকে ফোনটা বের করল। এই মুহূর্তটাকে ধরে রাখা দরকার। ডিজিটাল মেমোরিতে বন্দি করতে চাইল মেঘের এই নিবিষ্ট রূপ। ​মেঘ ওদিকে বিভোর। সে জানে না দরজার ওপাশে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। সে গেয়ে চলল—
​”দোল দোল দোল দিয়েছি ঘুম ভেঙেছে কই?
ফাগুন এসে ডাক দিয়ে যায়, ওঠ লো এবার সই…”

আবির ভাই পর্ব ২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here