Home আমি অভিশাপ পৃথ্বীর আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১২

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১২

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১২
ইসরাত জাহান দ্যুতি

পরীক্ষার আর খুব বেশি দেরি নেই৷ নাওফিল নামক দুর্যোগটার জন্য নিজের ক্যারিয়ারের ক্ষতি হতে দিতে পারে না দীধিতি। মা মানুষটা কত কষ্ট করে ওদের দু’বোনকে বড়ো করে তুলছে বাবা ছাড়া। বড়ো সন্তান হয়ে তার তো দায়িত্ব অতি শীঘ্রই মায়ের পাশে দাঁড়ানো। তাই নিজেকে আর ভেঙে পড়ার সুযোগ দেয়নি দীধিতি, নাওফিলকে নিয়ে ভেবে। তাছাড়া ও ভুলেই গিয়েছিল ওর আর নাওফিলের সামাজিক অবস্থান। তাওসিফের সাথে কথা বলে আসার পর ওর খেয়াল হয়, তাওসিফ বলেছিল নাওফিল মন্ত্রীর নাতি৷ এ যাবৎ কাল কেবল জানা ছিল নাওফিলের বাবা জাকির শেখ একজন এমপি। এ তথ্যটা জানতে পেরেছিল দীধিতি নাওফিলের বাসায় যেদিন প্রথম প্রবেশ করে, সেদিন।

সিকিউরিটি নাওফিলের অনুমতি ছাড়া অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতে দিতে নারাজ ছিল৷ কথায় কথায় বলেওছিল, নাওফিলের বাবা এমপি। তাই ওর সুরক্ষার একটা ব্যাপার আছে। নাওফিল বা নাওফিলের বন্ধুরা কেউ-ই কখনও ওর সম্পর্কে এমন কোনো কথা উচ্চারণও করেনি৷ আর তারপর গতকাল রাতেই দীধিতি জানতে পারল, পাশাপাশি নাওফিলের দাদা একজন মন্ত্রীও৷ নাম জানতে পারলে চিনতে পারত দীধিতি, কোন মন্ত্রীর নাতি নাওফিল! এমন উঁচু পর্যায়ের মানুষদের গোলামি করে এসেছে নাকি দীধিতির বাবা বেঁচে থাকাকালীন৷ মায়ের মুখে টুকটাক শুনেছিল দীধিতি এ কথা৷ সেই পরিবারের বধূ হওয়ার স্বপ্ন দেখা মোটেই সাজে না সেই মেয়েটার! এর থেকেও বড়ো সত্য, নাওফিল নিজেই ওকে নিয়ে শুধু খেলেছে। এ তো স্পষ্টই৷ এরপরও ওই ছেলের জন্য বিন্দু পরিমাণ অনুভূতুিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে চরম ভুল।

ভার্সিটি শেষ করে আসার পর দীধিতি মনটাকে উৎফুল্ল রাখতে সন্ধ্যা নামার আগে বন্ধুদের নিয়ে ঢুকে পড়ে রেস্টুরেন্টে। অনুপমাও সাথে আজ। ও আজ সারাদিনই দীধিতির পিছুপিছু ঘুরছে কালকের ঘটনাটা বিস্তারিত জানার জন্য৷ কিন্তু দীধিতি পরে বলবে করে করে বেচারিকে খুব ভোগাচ্ছে। টেবিল ভর্তি খাবার এসে পৌঁছতেই হঠাৎ পাশের টেবিল থেকে পুরুষালী গলায় শুনতে পায়, ‘এই টেবিলে যে মেনুগুলো সার্ভ করেছেন আমাকেও সেইম দিন।’
একটু কৌতুহল হয় ওদের সেই ব্যক্তিটিকে দেখার৷ অনুপাময় আগে তাকায় সেদিকে। তাওসিফকে দেখতে পাবে হঠাৎ, সেটা অপ্রত্যাশিত ছিল ভীষণ৷ দীধিতিকে খোঁচা মেরে কানেকানে তাওসিফের নাম বলে। কিন্তু ইতোমধ্যে দীধিতিও চেয়ে আছে তাওসিফের দিকে। এই ছেলেটাকে আজ আরও উজ্জ্বল আলোয় দেখে বুকের ভেতর জ্বালাপোড়া বেড়ে যাচ্ছে ওর। গতকাল না হয় আঁধারে দেখে ভুল করেছিল নাওফিল ভেবে৷ কিন্তু এত স্বচ্ছ আলোতেও তাওসিফের পোশাক-পরিচ্ছদ, ঢেউ খেলানো চুল, লম্বা আকৃতির মুখ, গায়ের রং এমনকি ঠোঁটদু’টোও নাওফিলের মতোই। হুবহু মিল না থাকলেও অর্ধভাগ তো আছেই। নাওফিলকে একবার দেখতে পাওয়ার তৃষ্ণা হলো আচমকা৷ কীভাবে এত ভালোবেসে ফেলল সে নাওফিলকে? অমন বিপজ্জনক পুরুষের জন্য ভয় আর ঘৃণা ছাড়া ভালোবাসা তো হওয়া উচিত না৷ তাও হয়ে গেল।

খাবার মুখে না তুলে শুধু হাতে ধরে দীধিতি ভেজা চোখে যেমন করে নিষ্পলক তাকিয়ে আছে তাওসিফের পানে, তাতে অনুপমার মতো বেহায়া স্বভাবের মেয়েটাও লজ্জা পাচ্ছে দীধিতির কাণ্ডে৷ তামান্না আর তন্বী এই ফাঁকে কতবার ডেকে ফেলল ওকে! পাগল মেয়েটার কোনো হুঁশ নেই।
তাওসিফ দু’হাত দূরে বসেও শুরু থেকেই ও দেখে যাচ্ছিল দীধিতিদের আড় নজরে। ও প্রায়-ই আসে এখানে এই সময়ে একাকী সময় কাটাতেই৷ সাথে রাতের ভোজটাও সেড়ে যায় বাসায় ফিরে রান্নাবান্না করার ঝামেলার ভয়ে। আজ হঠাৎ রেস্টুরেন্টে ভেতরে এসে অনুপমাকে দেখে সঙ্গে বোরকা পরা তিনজন মেয়েকে। তখন মনের অজান্তেই কেন যেন দীধিতিকে খুঁজল ও। কালকের ব্যাপারটার জন্যই আগ্রহ বেড়েছে মেয়েটার জন্য। কাছাকাছি টেবিলে এসে বসে ও। দীধিতিদের টেবিলে খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। খাবারগুলো ওরও পছন্দ বলেই একই খাবার চেয়ে পাঠায়। আর তারপরই আঁড়চোখে ফের তাকায় ওদের টেবিলে৷ আকস্মিক তখন দীধিতিও নিকাবটা উঁচু করে খেতে আরম্ভ করার জন্য। এক ঝলক মুখটা দেখে চোখ ফিরিয়ে নিতে গিয়েও দেখার স্বাদ মিটল না যেন৷ ঘনঘনই দেখতে থাকল চুরি করে৷ তবে দীধিতি যে ওর থেকে এক কাঠি ওপরে পৌঁছে যাবে, তা ভাবেনি৷ কেমন ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছে সরল চাউনিতে! পাশ থেকে বন্ধুরা ডেকে যাচ্ছে সে হুঁশও নেই। আগে পিছে দু’টো টেবিল ওদের। মুখোমুখি সোফাতেই বসে আছে ওরা। দীধিতির অমন বেশরম চাউনিকে লক্ষ করে তামান্না আর তন্বীও বারবার পেছন ফিরে ওকে দেখছে। এবার খুব অস্বস্তি লাগছে ওর। মেয়েটা কি আজও ওকে নাওফিল ভেবে বসে আছে না কি? না জানে আবারও ”ব্লাডি রাসকেল” বলে চেঁচিয়ে না ওঠে৷ ওর মতো কড়া ধাচের ব্যাংক ম্যানেজারের সম্মানহানীর ভয় হচ্ছে এবার। দীধিতির মাঝে কোনো পরিবর্তন দেখে ও বিশ্বাসই করে নিলো, মেয়েটা ঠিক নাওফিল ভেবে নিয়েছে। মানেমানে উঠে পড়ল ও টেবিল থেকে৷ সম্মানটা ক্ষুধার থেকেও বেশি বড়ো কি না!

-‘নে, এবার চলে গেছে ছেলেটা। চোখ সরা দয়া করে।’
তন্বীর ধমক খেয়ে তাওসিফের যাত্রাপথ থেকে দৃষ্টি হটাল দীধিতি। বুকের ভেতর থেকে হু-হু করে কান্নারা বেরিয়ে আসতে চাইছে। নাওফিলকে ভুলতে ওর কতটা কষ্ট হবে তা কী করে বোঝাবে ওদের! মুখটা দু’হাতের মাঝে চেপে ধরে বসে রইল কতক্ষণ। তামান্না বুঝতে পারল ব্যাপারটা৷ তন্বীও বুঝেছে। কিন্তু ও খুব নিষ্ঠুর হৃদয়ের মেয়ে। একবার কারও দ্বারা ও আঘাত পেলে সেই মানুষটা মরে গেলেও তার মুখটা অবধি দেখতে চায় না ও৷ তাই দীধিতির বেলাতেও চাইছে না, দীধিতি নাওফিলকে ভেবে একটা মুহূর্ত ব্যয় করুক।
-‘কী হয়েছে রে ওর? আমি গতকাল রাত থেকে তাওসিফের ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করছি। বলছেই না আমাকে।’ অনুপমা দীধিতির দিকে আগ্রহ নিয়ে চেয়ে শুধাল।

এ কথার পরই দীধিতি চোখদুটো ভালো করে মুছে নিয়ে অশ্রুরুদ্ধ স্বরে জানাল, ‘কিছু না৷ খেতে শুরু কর।’
কেউ-ই আর কথা বাড়াল না। যতটা আনন্দ নিয়ে এসেছিল খেতে, তা আর রইল না ওদের মাঝে। খাওয়ার মাঝে কল এলো দীধিতির ফোনে। ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে দেখে ঐশীর কল। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ঐশী অনুরোধের গলায় বলে, ‘দীধিতি রে, একবার আমার ফ্ল্যাটে আসবি? মানে নাওফিল ভাইয়ার ফ্ল্যাটে৷ কাল অনেক রাতে বাসায় এসেছে গায়ে খুব জ্বর নিয়ে। তুষার ভাই নেই। রোমানও ডিউটিতে। আমি আজ সকালে নাশতা খেতে ডাকতে তার ফ্ল্যাটে গেলাম। ভাইয়া দরজা খুলতেই আঁতকে উঠি। অ্যাক্সিডেন্ট করেছে নাকি আসার পথে। অথচ ট্রিটমেন্ট নেননি। কত করে বললাম ডাক্তারের কাছে যেতে, শুনল না৷ নাশতা রেখে এলাম। দুপুরে গেলাম আবার দেখতে খাবার নিয়ে। দরজা লক ছিল না৷ ঘরে ঢুকতেই দেখি বসার ঘরের কাউচে হাত-পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে৷ ডাকতেই চোখ খুলে বলল ”খাবার নিয়ে যাও। আমি সকালের খাবারটাই খেয়ে নেবো।” খেয়াল করলাম ডাইনিংয়ে যেমন করে রেখে গিয়েছিলাম খাবারটা, সেভাবেই পড়ে আছে। আমার কোনো কথাই কানে নিলো না৷ বাধ্য হয়ে রুমানকে কল করে জানালাম। রুমান জানাল শিহাব আর সবুজকে। ভাইয়ারা আসে বিকালে। কিন্তু ভাইয়াদের কথাও কানে তুলছে না৷ হাতে, পায়ে, কপালে, মাথায়, বুকে, কোনো জায়গায় বাদ নেই আঘাত পেতে৷ অথচ না ডাক্তার দেখাচ্ছে আর না ড্রেসিং করতে দিচ্ছে। বাসায়ও কাউকে জানাতে দিচ্ছে না। ফোন হাতে নিয়ে কল করতে গেলেই অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করছে ভাইয়াদের৷ কী যেন হয়েছে ওনার। তুষার ভাইয়া জরুরি কাজে গ্রামের বাড়ি গেছে৷ সে ফোন করে আমাকে বলল, যদি সম্ভব হয় একবার তোকে আসতে বলি যেন। কেন বলল জানি না। বেচারা এই হালে সেই গতকাল রাত থেকে পড়ে আছে৷ ক্ষত জায়গাগুলোতে জরুরি ড্রেসিং না করালে পরে বিপদ হয়ে যাবে৷ তাই বাধ্য হয়ে তোকে আসতে বললাম। নয়তো আমার মন সায় দেয় না নাওফিল ভাইয়ের কাছে তোকে আসতে দিতে। তন্বী আর তামান্নাকে নিয়ে একবার আয়।’

-‘আসছি।’
ফোন কেটে তামান্না আর তন্বীকে বলল, ‘এখনই একবার ঐশীর বাসায় যেতে হবে আমাদের। একটু সমস্যায় পড়েছে ও।’
তারপর অনুপমাকে বলল, ‘খাবারগুলো পার্সেল করে তুই চলে যেতে পারবি না, অনু?’
-‘হ্যাঁ, তা তো সমস্যা নেই৷ ঐশী ঠিক আছে তো? বড়ো কোনো সমস্যা?’
-‘বোধ হয় ঝামেলা করেছে রুমান ভাইয়ার সঙ্গে। তাই ডাকছে। কথা বলি গিয়ে কী অবস্থা ওর।’
-‘আচ্ছা, যা তাহলে তোরা।’
দীধিতি বেরিয়ে পড়ল দ্রুতই ওদের নিয়ে। যেতে যেতে সব জানাল। তন্বীও কেন যেন নিষেধ করার যুক্তি পেলো না৷ আর তুষারও কেন কল করছে না তাও বুঝতে পারল। চাচাদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে শুনেছিল আগে৷ সেই ব্যাপারেই কথা বলতে গেছে হয়তো।

নাওফিলের বাসায় পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যা সাতটা বেজে গেল ওদের। নাওফিলের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতেই দেখা হয়ে গেল দরজার মুখে শিহাবদের সঙ্গে। ডাক্তার এনেছে ওরা, নাওফিলের গালাগালিকে তোয়াক্কা না করে। নিশ্চিন্ত হলো দীধিতি। সবুজ একটু বেশিই খুশি হলো ওদের দেখে৷ দীধিতিকে বলল, ‘আগে রান্নাঘরে যাও। গিয়ে কিছু খাবার-দাবার রেডি করো৷ বহু কষ্ট করে ডাক্তার এনেছি৷ কিন্তু খাওয়াতে পারছি না। তুমি চেষ্টা করে দেখো একটু।’
তামান্না খুব বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে রইল সবুজের দিকে। তন্বী তো বলেই ফেলল, ‘যেন নাওফিল ভাইয়ের বউ হয়ে গেছে দীধিতি সত্যি সত্যি? যেভাবে বলছেন!’

-‘না হলেও ভেবে নিয়েছি। তাই দীধিতির আর চান্স নেই নাওফিল ছাড়া অন্য কারও বউ হওয়ার।’
দীধিতি হাতের ব্যাগটা সোফাতে রেখে একটু অস্বস্তি নিয়েই রান্নাঘরে গেল। বউ না হয়েও এমন বউদের মতো কর্তব্য করা কেমন যেন অতিরিক্ত আদিখ্যেতা লাগছে ওর কাছেও। জ্বরমুখে থাইস্যুপটা মজা লাগতে পারে বলে আপাতত ওটাই প্রস্তুত করে ডাইনিংয়ে এলো। নাওফিলের ড্রেসিং চলছে তখনও ওর শোবার ঘরে। অন্তত ডাক্তারের সামনে স্যুপ নিয়ে বউয়ের মতো আদিখ্যেতা দেখাতে পারবে না ও। নাওফিল টের পায়নি ও এসেছে। ঐশীও জানে না৷ সবুজকে ডাকবে বলে এগোতেই সবুজ নিজেই এলো আবার বসার ঘরে। ওর হাতে স্যুপের বাটিটা তুলে দিয়ে বলল, ‘ঐশীকে পাঠান। আর স্যুপটা নিয়ে গিয়ে খায়িয়ে দিন আপনার বন্ধুকে৷ ডাক্তার গেলে আসব আমি।’
কথা বাড়াল না সবুজও। ঐশীকে পাঠিয়ে দিলে ঐশীর সঙ্গে ওর ফ্ল্যাটে চলে এলো দীধিতি। নাওফিলের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করল অনেক কথা৷ এমন ত্যাড়ামো কেন করছে সব কিছু নিয়ে, তা জানতে চাইলে ঐশী বলল, ‘শিহাব ভাইয়া বলল, মেন্টালি ডিপ্রেসড আছে খুব। মাঝেমধ্যেই এমন ভং ধরে তাই। আমি জিজ্ঞেস করলাম কী জন্য ডিপ্রেসড? বলল ফ্যামিলি ইস্যু। তাই আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। রুমানের কাছেও শুনেছি অনেকবার, ফ্যামিলি নিয়ে কী সমস্যা ওনার? ও-ও না বলে না! বন্ধুর প্রতি ভীষণ সৎ সে আবার। কিন্তু তুষার ভাই তোকে কেন আসতে বলল তা সবুজ আর শিহাব ভাইকে জিজ্ঞেস করতেই ওরা কী বলল জানিস?’

-‘কী বলল?’ খুব ব্যগ্রতা নিয়ে দীধিতি জিজ্ঞেস করল।
-‘নাওফিলের জ্বর আসার কারণও তুই, জ্বর সাড়ার টনিকও তুই।’
তন্বী আর তামান্না দীধিতির দিকে বিভ্রান্ত চাউনি ছুঁড়ে বসে আছে। এর মধ্যে সবুজ এসে ডাকল ওদের। ডাক্তার চলে গেছে। নাওফিলের ফ্ল্যাটে এলো ওরা৷ তামান্না আর তন্বী দীধিতির সঙ্গে নাওফিলকে দেখতে যেতে চাইলে তুষার তামান্নাকে পিছু ডাকল, ‘তোমাদের দেখতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ আগে দীধিতি যাক।’
অপমানবোধ করল ওরা দু’জন। ক্ষিপ্ত হয়ে তামান্না বলল এবার, ‘দীধিতি সত্যি সত্যি বউ হয়ে যায়নি আপনার বন্ধুর। এটা মাথায় রাখবেন।’
বলে ওরা বসার ঘরের সোফায় বসে পড়ল৷ মিটিমিটি হাসতে থাকল রাতুল।

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১১

দীধিতি টালমাটাল মন নিয়ে নাওফিলের ঘরে ঢুকতেই খোলা শরীরে সাদা চাদর কোমর অবধি ঢেকে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে শুয়ে থাকা নাওফিলকে দেখে দরজার মুখেই দাঁড়িয়ে পড়ল। চোখজোড়া বুজে আছে নাওফিল। ঘরে কারও প্রবেশের আওয়াজ পেয়েছে ও। কিন্তু তাকে চোখ খুলে দেখার প্রয়োজনবোধ করছে না৷ এই মুহূর্তে ও কারও সঙ্গই চাইছে না। তিক্ত স্মৃতির অসহনীয় যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি বুকের মধ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
দরজাটা আটকে দিলো দীধিতি। কিন্তু লক করেনি। আটকানোর আওয়াজ হলো৷ সে আওয়াজ পেয়ে চোখ মেলে অদূরে দেখতে পেলো দীধিতিকে। আকস্মিক চেঁচিয়ে উঠল ও, ‘তোমাকে আসতে বলেছে কে?’

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ১৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here