Home আমি অভিশাপ পৃথ্বীর আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৪৫

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৪৫

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৪৫
ইসরাত জাহান দ্যুতি

প্রতিটা দিনই দীধিতির যাচ্ছিল খুব ঝক্কির মধ্যে। শরীরে সর্বক্ষণ জ্বর আর ব্যথা। বেলী ফুলের মতো গায়ের বর্ণটা কেমন ম্লান হয়ে পড়েছে ক’টা দিনেই। মেহরাব খুব একটা সুচিকিৎসা সেদিন দিয়ে যেতে পারেনি। কেবল এটুকু তথ্য তার থেকে সংগ্রহ করা গেছে, নাওফিলের ঘরের মানুষই নাওফিলের ঘোর শত্রু। তাদের দ্বারা বহুবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সে এবং বর্তমানেও হচ্ছে।

ঝুমুর এর মাঝে দীধিতির অসুস্থতার কথা জেনে এসে থেকে গেছিলেন সপ্তাহখানিক। মেয়ের অভাবনীয় যত্ন নিয়েছেন তিনি সে ক’দিন। কিন্তু সেই চিত্রটা ঘরের বাকিদের কাছে সাধারণ লাগলেও একমাত্র নাওফিলই তা সাদাসিধেভাবে নিতে পারেনি৷ ঝুমুরের সবটাতেই সে কেন যেন মেকি ভাব খুঁজে পায়৷ তাছাড়া সৌরভ আর দীধিতির জীবনে ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনাটা, যেটার সুরাহা আজও হয়নি৷ এই মুহূর্তে দীধিতির জীবনে আপন কেই থাকলে সে কেবল নাওফিল নিজেকেই ভাবে প্রথমে৷ দ্বিতীয়তে সৌরভকে। তাছাড়া আর কাউকেই নয়। তাই তার সন্দেহের তালিকাতে ঝুমুর সর্ব প্রথমে না থাকলেও তালিকাভুক্ত তিনিও।
আজ আসরের নামাজের পর বাসায় একজন আলেম এলেন নাওফিলের সঙ্গে। দীধিতিকে রুকইয়াহ করলেন তিনি অনেকটা সময় ধরে। আল্লাহর অশেষ রহমতে তখন থেকেই দীধিতির শরীরের ব্যথা যেন আশ্চর্যের মতো গায়েব হতে থাকল৷ নাওফিলকে তা জানালও সে।

মসজিদের ইমাম সাহেবের পরামর্শে নাওফিলকে আলেম সাহেব সহযোগিতা করতে এসেছেন। দীধিতি সুস্থ না হওয়া অবধি তিনি রোজই আসবেন। নাওফিল তাঁকে নিয়ে বাসার বাইরে বেরিয়ে আসার পরপরই তাঁকে জিজ্ঞেস করল সে, ‘হুজুর, একটা সময় আমি নিয়মিত রুকইয়াহ করতাম নিজের জন্য। আলহামদুলিল্লাহ আমি যেসব সমস্যা ফেস করতাম তা থেকে পরিত্রাণ পেতাম। কিন্তু গত বছরটা ধরেই আমি নামাজ-কালাম, আমল, এসবে গাফেলতি করেছিলাম। এজন্যই কি আমি ওকে রুকইয়াহ করে দেওয়ার পরও কোনো কাজে আসেনি?’
তিনি বললেন, ‘তা সঠিক আল্লাহ তাআ’লাই জানেন। প্রতিনিয়ত আমলকারী ব্যক্তির ইমান মজবুত হয়।’
-‘সিহরের চিকিৎসা দিয়ে থাকে এক ভাইকে দেখিয়েছিলাম ওকে। সে বলল এক সঙ্গে বেধর্মী অনেকগুলো জিন ওকে ক্ষতি করতে চাইছে। সত্যিই কি অনেকগুলো?’
-‘আমাদের মানবজাতির যেমন বংশধর থাকে। ওদেরও তো তাই৷ একজনের সঙ্গে আরও দশজন থাকতেই পারে। মুসলিমধর্মী বা বেধর্মী বলে কোনো কথা নেই এখানে। শয়তানের পরিচালনায় যারা চলে, তাদের মধ্যে ধর্মজ্ঞান বলে কিছু থাকে না। ইবলিশ শয়তানই ওদের ধর্ম। তুমি রুকইয়াহ করে থাকলে তা যদি ভুল না হয়, তাহলে কাজ হওয়ার কথা নিশ্চয়ই।’

নাওফিল চিন্তামগ্ন গলায় বলল, ‘হতে পারে আমার দোয়া পাঠ করায় ভুল ছিল। আল্লাহ মাফ করুন আমায়। আপনাকে বাসায় পৌঁছে দেবো, হুজুর? না কি মসজিদে?’
-‘পৌঁছে দিতে হবে না, বাবু। পাঁচ মিনিটের পথ মাত্র মসজিদ। এই বয়সে হাঁটাহাঁটিই ভালো শরীরের জন্য।’
-‘আমি আপনাকে ফেলে রেখে গাড়ি নিয়ে বের হতে পারব না একদমই৷ আপনি আর না করবেন না, হুজুর৷ আজকে চলেন আমার সাথেই।’
আলেম সাহেব নাওফিলের বিনয়ী আচরণের জন্য খুবই স্নেহ অনুভব করেন ওর জন্য৷ এমন একটা দ্বীনি বুঝের সন্তান তিনি চাইতেন খুব৷ কিন্তু তাঁর স্ত্রীর কোলজুড়ে সন্তান আজও আসেনি৷ তারা চোখ মেলে পৃথিবী দেখার আগেই আল্লাহর কাছে চলে গেছে। তাই আজও নিঃসন্তান তিনি।

আলেম সাহেবকে মসজিদে নামিয়ে দিয়ে বাজারের ভেতর নাওফিলের গাড়িটা প্রবেশ করতেই সে ফার্মেসির দোকানের সামনে হঠাৎ কিরণকে দেখতে পেলো। একটু অবাকও হলো বটে। কারণ, পাশেই তাওসিফ দাঁড়িয়ে আছে। তাওসিফের গাড়িটাও রাস্তার পাশেই দাঁড় করানো৷ ওরা একসঙ্গে কী করছে দুজন? কী কথা হচ্ছে এই রাস্তার মধ্যে ওদের? নেমে গিয়ে ওদের কাছে যাওয়ার চিন্তা করতে করতেই কিরণকে তাওসিফের গাড়িতে গিয়ে উঠে বসতে দেখা গেল। তাওসিফও বেশ কিছুক্ষণ পর গিয়ে উঠল গাড়িতে। এবার পরিষ্কার বুঝল নাওফিল। পথিমধ্যে দুজনের দেখা হয়ে গিয়েছিল বোধ হয় কোনোভাবে। তাই তাওসিফ কিরণকে নিজের গাড়িতে যাওয়ার আহ্বান করেছে হয়ত।
আর দেরি না করে নাওফিল ছুটে গেল বাবার পার্টি অফিসের দিকে৷ একটা জরুরি মিটিং রয়েছে আজ সেখানে৷ আজ জাকির শেখ সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। পরিবর্তে ছেলেকে থাকতে বলেছেন তিনি। কিছুদিন ধরেই নাওফিল পার্টি অফিসে যাতায়াত শুরু করেছে৷ কিছুদিনের মাঝেই তাকে গাজীপুরও যেতে হবে। সেখানের ভোটগুলোই যে তাকে বাগাতে হবে। তাই এখন থেকেই সেখানের ছোটো-বড়ো সকল উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়েও ভাবতে হবে।

-‘সভ্য সমাজে চলতে ফিরতে গেলে ম্যানার্স জানাটা অত্যন্ত জরুরি।’ ভীষণ গম্ভীর গলাতে উপদেশ দিলো তাওসিফ।
কিরণ তার থেকে এমন উপদেশ পেয়ে মোটেও খুশি নয়। গাড়িতে ওঠার আগে যতটা খেপে ছিল সে তাওসিফের প্রতি, তার চেয়েও বেশি খেপে উঠল তাওসিফের ভালো উপদেশে। মূল ঘটনার সূত্রপাত আসলে সৌরভকে কেন্দ্র করে৷ সৌরভ সাফসাফ তাকে প্রত্যাখ্যান করার পরও কিরণ পারছে না কোনোভাবেই নিজেকে সামলাতে। একটা, দুটো বছরের আবেগ অনুভূতি নয় তার, সৌরভকে কেন্দ্র করে। সেই ক্লাস সেভেন থেকে অপরিণত মনটা তার সৌরভের জন্য কেমন কেমন করত। দিন যত গেছে, ততই সেই অবুঝ মন বাধাহীন ছুটেছে সৌরভের টানে। তাই তো এতগুলো বছরের পুঁজি করে রাখা আবেগজ প্রেমকে এক নিমিষে শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

মেডিকেল কোচিং-এ যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়েও মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাসে গিয়ে হাজির হয়েছিল সে। সৌরভকে কল করে নিজের উপস্থিতির কথা জানালে সৌরভ তখন কাঠ গলায় জানিয়ে দেয়, সে দেখা করবে না। ক্যাম্পাসে এসে যেন আর কখনই তাকে না খোঁজে কিরণ। সেই থেকেই বুক ভেঙে কান্না আসে ওর। কাঁদতে কাঁদতে ফিরে আসে কোচিং না করেই। ওই মুহূর্তে পিরিয়ডের দিন তারিখও সে ভুলে বসেছিল হয়তো। নিতম্বের অংশে রক্তের ছোপ দাগে যখন ওর পরনের জামাটা নষ্ট, ঠিক তখনই তাওসিফও ফিরছিল বাসায়। কান্নারত কিরণকে এহেন পরিস্থিতিতে দেখতে পেয়েই বিস্ফুরিত চোখে কতক্ষণ দেখে। কিরণের নিজের দিকে কোনো হুঁশই নেই, তা বুঝতে পেরেই গাড়ি থেকে নেমে আসে সে। চারপাশে তখন সকল মানুষেরই উৎসুক নজর কিরণের দিকেই ছিল। কিরণকে ডেকে দাঁড় করিয়েই বলেছিল সে, ‘ফার্মেসিতে যেতে হবে তোমাকে, কিরণ।’

কিরণ মনোবেদনাতে এতই বিভোর ছিল যে, তাওসিফ তাকে কেন ফার্মেসিতে যেতে বলছে তা জিজ্ঞেস না করে উলটে বলে ওঠে, ‘যেতে পারব না৷ আপনি যান।’
তাওসিফের মাথা এমনিতেই চটজলদি গরম হয়ে যায় যে কোনো ব্যাপারেই। তখন সে কিরণকে এক ধমক লাগিয়ে জোর করেই হাত ধরে নিয়ে যায় ফার্মেসিতে৷ এক প্যাকেট স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনে কাগজে মুড়িয়ে কিরণের হাতে তুলে দিয়ে আরেক ধমকে ওকে গাড়িতে যেতে বলে, ন্যাপকিন ব্যবহার করার জন্য৷ কী যে হয়েছিল তখন কিরণের! একদমই মাথামোটা আচরণ করছিল সে। নিজের অবস্থাটা তখনও টের পাচ্ছিল না। তাই চোটপাট দেখিয়ে ওঠে সেও, ‘এটা দিয়ে আমি কী করব এখন? রাস্তার মধ্যে কেন দিচ্ছেন?’
রাস্তার মাঝে বলেই তাওসিফের কড়া ধমকের শিকার তখনও হয়নি কিরণ। ওর কাছে এসে দাঁত কটমট করে জানায়, ‘তুমি অ্যাবনরমাল! আগে তো মনে হয়নি। নিজের ড্রেসের পেছনটাতে হাত দিয়েও তো এতক্ষণে চেক করার কথা ছিল। যখন দেখলে এটা তোমার হাতে তুলে দিয়েছি।’

এরপর আর দাঁড়ায়নি কিরণ৷ ঝটপট তাওসিফের গাড়িতে গিয়ে বসে ন্যাপকিনটা ব্যবহার করে। তারপরই তাওসিফ গাড়িতে ওঠে। কিন্তু তাই বলে তাওসিফ অমন রূঢ়ভাবে কথা বলবে ওর সঙ্গে? মাত্র ক’দিনের চেনাজানা ওদের মধ্যে। বাসায় থাকলে কখনও কথাও হয়নি তেমন। তাই তাওসিফের আপনজনের মতো শাসন, ধমকটাও সহ্য হয়নি কিরণের। এর আরও একটা প্রধান কারণ হলো ইয়াসিফ। তাওসিফের রাগান্বিত কণ্ঠ অবিকল ইয়াসিফের মতো শোনাচ্ছিল। ইয়াসিফকে সে প্রচণ্ড অপছন্দ করে৷ আর আজকে থেকে অনুরূপ তাওসিফকেও। তাই তাওসিফের সুন্দর উপদেশটাকে অগ্রাহ্য করে চড়া গলায় বলে বসল কিরণ, ‘আমি ম্যানার্সলেস মেয়েই!’
সরু চোখে তাকায় তখন তাওসিফ। গাড়ি চালানোর মধ্যেই জবাব দেয়, ‘আছ তো কিছুদিন বোনের কাছে। আজকে থেকে উঠতে বসতে শিখিয়ে দেবো ম্যানার্স।’

-‘আচ্ছা? আপনি শেখালেই আমি শিখব যেন?’ কান্না থেমে গেছে কিরণের ইতোমধ্যে।
এবার আর তাওসিফ জবাব দিলো না৷ কিরণও আবার ঝগড়ার মন বদলে বিষণ্নতায় আচ্ছন্ন হলো। কিছুক্ষণ ধরেই তা খেয়াল করে তাওসিফ জিজ্ঞেস করল, ‘বাচ্চাদের মতো রাস্তার মধ্যে কাঁদছিলে কেন? লোকে দেখছিল তোমাকে।’
নিশ্চুপ রইল কিরণ। তাওসিফ নিজে নিজেই কারণটা অনুসন্ধান করে ফেলল। সৌরভের ব্যাপারটা নাওফিলের থেকে জেনেছে সে। সৌরভের প্রত্যাখ্যান কিরণ গ্রহণ করতে পারেনি বলেই বোনের কাছে এসে থাকছে। তা মনে পড়ল ওর। তাই নিজেই প্রসঙ্গ তুলল, ‘তুমি এমন একজনকে কী করে চাও, কিরণ? যে তোমাকে কখনই চায়নি এবং বর্তমানেও চায় না!’

চকিতে ফিরে তাকাল কিরণ তাওসিফের দিকে। চেহারাতে কিছুটা বিস্ময় তার৷ তাওসিফও এটা জানে, এজন্যই চমকেছে সে। তা বুঝতে পেরেই তাওসিফ জানাল, ‘তোমার দুলাভাইয়ের থেকেই জেনেছি।’ তারপর বলে গেল, ‘তুমি চাইলে একটু ফ্র্যাঙ্কলি কথা বলতে পারো আমার সঙ্গে, এ ব্যাপারে। স্মরণকে যেহেতু কিছু বলতে পারছ না! কারও সঙ্গে তো শেয়ার করা উচিত। নয়ত ডিপ্রেশন থেকে বের হতে পারবে না। কোচিং না করেই তো ফিরে এসেছ মনে হয়৷ এমন করলে তোমারই ক্ষতি, কিরণ। সৌরভ ব্রিলিয়ান্ট বয়। ওর জন্য ব্রাইট ফিউচার রেডি হচ্ছে। তোমার মতো করে সেও কিন্তু কিছুদিন আগেই ধাক্কা খেয়েছে একটা। তবুও দেখেছ, সে কিন্তু তোমার মতো করে কেঁদে বেড়াচ্ছে না রাস্তায় রাস্তায়। কতটা স্ট্রং করেছে সে নিজেকে! ওর পার্সোনালিটি এত বোল্ড! আর ওর আইডিয়লজি, মেন্টালিটিও এত প্রশংসনীয় যে, আমিও ওকে পছন্দ করে বসে আছি। জাদ কেমন তা তুমি জানো না, কিরণ। ও নিজের জিনিসের প্রতি প্রচণ্ড কতৃত্বপরায়ণ। তবুও দেখো সৌরভকে সে অ্যালাওড করে স্মরণের পাশে। সৌরভ সবার কাছে সমাদৃত হওয়ার মতো করেই নিজেকে গড়েছে। ওর রিজেকশনকেই নিজের শক্তি বানাও তুমি। জেদ করো নিজেকে ওর থেকেও যোগ্য করে তোলার। যোগ্যতা দিয়েই কিন্তু একজন মানুষকে বিচার করে থাকি আমরা। সুন্দর চেহারাকে বুদ্ধিমান ছেলেরা আগে কদর করে না। করে আগে মেয়েটার যোগ্যতাকে। তুমি কি নিজের সেল্ফ রেসপেক্ট নিয়ে সচেতন না, কিরণ? নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষা করতে পারো না তুমি? যে ছেলে তোমাকে আজ রিজেক্ট করেছে, তার কাছে বারবার তুমি যেতে চাও মানেই তুমি কিন্তু তার কাছে বেহায়া। এটা কি তোমার কাছে সম্মানজনক?’

-‘মোটেই না। আমি বেহায়া হতে চাই না… আত্মসম্মানহীন হতে চাই না।’ বলতে বলতেই হু হু করে কেঁদে উঠল কিরণ।
এই দু’টো কথাতেই সন্তুষ্ট হলো তাওসিফ। বাচ্চা মেয়েটার মনের শোচনীয় অবস্থাটা এবার বেশ ভালোভাবে অনুধাবন করতে পেরে সিদ্ধান্ত নিলো ভিন্ন কিছু। গাড়িটা বাড়ির পথ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে ধানমন্ডি লেকের দিকে ঘুরালো।

মাগরিবের নামাজটা আজ দীধিতি সতেজ শরীর নিয়ে আদায় করতে পেরে মনের মাঝে খুব প্রশান্তি অনুভব করছে। আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছে, যেমন অবস্থাতেই থাকুক সে। আর কখনও নামাজ বাদ দেবে না। কতগুলো দিন পর আজ রান্নাঘরে ঢুকেও খারাপ লাগছে না তার৷ রাতের জন্য বিশেষ কিছু একটা রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাল একবার কিরণকে নিয়ে শপিংয়েও যাবে ভেবে রাখল৷ এতসব ভাবনা চিন্তার মধ্যেই কলিংবেলটা বেজে উঠল হঠাৎ৷ একমাত্র তাওসিফ ফিরতে পারে এ সময়ে৷ তাকে আশা করলেও দরজাটা খুলে দীধিতি ভীষণভাবে চমকাল। আকস্মিকতায় বিনয় ভুলে গিয়ে দরজার মুখে দাঁড়িয়েই রইল কয়েক পল। তখনই সম্মুখের মানুষটি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে বলে উঠলেন, ‘ভেতরে কি আসা বারণ?’
সম্বিৎ ফিরে পেতেই দীধিতি তড়িঘড়ি করে দরজা থেকে সরে দাঁড়িয়ে তাকে সালাম দিলো, ‘স্যরি, ভেতরে আসুন প্লিজ।’

-‘আনএক্সপেকটেড ছিল আমার আসাটা, তাই না? তাই চমকেছ খুব।’ তিনি ভেতরে প্রবেশ করতে করতেই বললেন।
দীধিতি কী বলবে ভেবে পেলো না৷ প্রথমবার এ বাড়িতে শ্বশুড়ের আসা। তাও আবার বিনা সংবাদে! সত্যিই দারুল চমকেছে সে। অনেকটা অপ্রস্তুতও হয়েছে। নিজেকে চটপট ধাতস্থ করার চেষ্টা করে মেকি হেসে বলল, ‘কিছুটা তেমনই। আপনি বসুন, বাবা। আমি এক্ষুনি লেমনেড নিয়ে আসছি।’
-‘যাও।’ বলেই জাকির সাহেব সোফাতে গা এলিয়ে বসলেন। তারপর বললেন, ‘তোমার জন্য এক কাপ চা অথবা কফিও নিয়ে এসো। গল্প করতে এলাম আজ তোমার সাথে।’

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৪৪

রান্নাঘর থেকে কথাটা শুনেই দীধিতির বুকে ধুকধুক করে উঠল। ওর ষষ্ঠেন্দ্রীয় বার্তা দিচ্ছে, জাকির মাহতাব আজ বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য এসেছেন। নয়ত নাওফিল আর তাওসিফের অনুপস্থিতি জানা সত্ত্বেও এখনই কেন আসবেন? তাছাড়া তিনি আজ ব্যস্ত থাকায় নাওফিলকে পার্টি অফিসে মিটিংয়ে থাকতে বলেছেন। তাহলে এই মুহূর্তে এখানে কেন তিনি?

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৪৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here