Home আমি অভিশাপ পৃথ্বীর আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৮৮

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৮৮

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৮৮
ইসরাত জাহান দ্যুতি

দীর্ঘ জার্নি শেষে ইস্তানবুল বিমানবন্দরে পা রাখল নাওফিল। দুদিন আগে অস্ট্রেলিয়া পার্থ বিমানবন্দর থেকে উড়াল দিয়েছিল ওরা চারজন।
ঘনঘন প্লেন জার্নিতে অভ্যস্ত না থাকার ফলে দীধিতির শরীরের অবস্থা এদিকে খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে হঠাৎ। প্লেনে থাকতে বমি হয়েছে অসংখ্যবার। ঘুমাতেও পারেনি সে খুব একটা। শরীর এত দুর্বল হয়ে গেছে যে, নাওফিল নিজের বুকের সঙ্গে জাপটে ধরে রেখেছে তাকে। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কাজ শেষ করে ওরা বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসার পথে ইয়াসিফ জিজ্ঞেস করল মাভিশাকে, ‘আমাদের আগমন বার্তা পেয়ে তোমার বন্ধু আবার পালিয়ে যাবে না তো?’
ক্লান্ত চেহারায় মৃদু হাসল মাভিশা। বলল, ‘চার বছর যাবৎ পালাল তো তোমাদের থেকে। আর কত পালাবে, বলো?’

নাওফিল নীরবে শুনছিল ওদের কথপোকথন। মাভিশার শেষ কথাটা শুনে ইয়াসিফের দিকে তাকাল ও। সে মুহূর্তে দু ভাইয়েরই দৃষ্টি মিলন ঘটল৷ যেন এক সেকেন্ড ওরা চোখে চোখে কথা বলে নিয়েছে।
ট্যাক্সি ঠিক করল মাভিশাই। গাড়িতে ওঠার পর দীধিতি মাথাটা এলিয়ে দিলো সিটে। নাওফিল বলতে চাইলো মাথাটা যেন ওর কাঁধে রাখে। তা যেন বুঝতে পেরেই বলে বসল দীধিতি, ‘এবার রেস্ট দিই তোমার শোল্ডারকে। ফেরার সময় তো আবারও দখলে নেব।’
হাসতে পারল না নাওফিল বউয়ের রসিকতায়। হঠাৎ করে ওর একটু বেশিই চিন্তা কাজ করছে দীধিতির জন্য। স্যামুয়েলের ফার্ম হাউজ থেকে ফেরার পর দীধিতির শরীর, মন, দুটোরই পরিবর্তন লক্ষ করে ও।
সেদিনের কথা।

নতুন জায়গা, নতুন নতুন বহু সত্যের মুখোমুখি হয়ে সে রাতটা ঘুমাতে পারেনি নাওফিল৷ দীধিতি অবশ্য জেগে থাকার সুযোগ পায়নি ওর মতো। বাবা-মা তাকে ভুলে ভালোই ছিল– এ কষ্টগুলো ভুলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল সে হঠাৎ নাওফিলের দেওয়া কষ্টগুলো নিয়ে। কারণ, পৃথিবীতে এই পুরুষটির থেকে ওর আপন কেউ ছিল না কোনোদিন, নেই আর হবেও না কেউ কখনো৷ যার জন্য আর কারও দেওয়া ব্যথা ওকে গ্রাস করতে না পারলেও নাওফিলের দূরত্ব প্রতিদিন ওকে কঠোর অভিমানী করে তুলেছিল৷ সেই অভিমান তো দুই, এক মাসে শেষ হওয়ার নয়। সব থেকে আপন বলেই তো সব থেকে বেশি রাগ, অভিমান আর প্রত্যাশা কেবল এই মানুষটিকে ঘিরে। এই উপলব্ধি কিন্তু বাবা-মা, কাউকে ঘিরেই তেমনটা অনুভব হয়নি তার৷ সে কষ্ট পেয়েছে ঠিক। কিন্তু কোনো প্রত্যাশা রাখেনি বলেই অনায়াসে সেই কষ্টকে দূরে সরিয়েও রাখতে পেরেছে।
বউয়ের অভিমানকে দেহগত পরিশ্রমে পরাজিত করতে গিয়ে নাওফিল ক্লান্ত বানিয়ে ফেলে বউকে। তারপরই ঘুমে ঢুলে পড়ে দীধিতি। নাওফিল তখন বাধা দেয়নি৷ সে রাতটা ওর ভীষণ একা থাকা জরুরি ছিল, অনেক কিছু ভাবনার ছিল।

স্যামুয়েলের সঙ্গে সে রাতে আরেকবার কথা হয়েছিল ওর। জায়িন মাহতাব আর আয়মান মেহরিনের ব্যাপারে তিনি অনেক কিছু বলেও আবার কিছুই যেন বলেননি ওকে। বলা ভালো, বলতে চাননি৷ তাছাড়া পরদিন সকালে স্যামুয়েলের আচরণ আচমকাই বদলে যায়। তার চোখে নিজের জন্য কেমন নিখাদ মায়া দেখতে পাচ্ছিল নাওফিল৷ সব থেকে বড়ো অবাকের বিষয়, যে সম্পদের জন্য ওকে এতগুলো বছর নজরবন্দি করে রাখা হলো, সেই সম্পদের দশ পার্সেন্ট শেয়ার ওকে লিখে দিতে চাচ্ছিলেন বিনা শঙ্কোচে। ও তাতে রাজি না হলে দীধিতির নামে তা লিখে দেবেন বলে জেদ ধরেন৷ এ নিয়ে ছেলে লিয়ামের সঙ্গেও বেশ বাকবিতন্ডা হয়েছিল৷ শেষ পর্যায়ে রেগেমেগে স্যামুয়েল ছেলেকে বের করে দেন কটেজ থেকে।

একটা রাতের ব্যবধানে স্যামুয়েলের এই পরিবর্তন সবাইকে অবাক করলেও নাওফিল বুঝতে পেরেছিল, গোটা রাতে ও যেমন বাবা-মা আর বোনকে চিন্তা করে ঘুমাতে পারেনি। তেমন স্যামুয়েলও হঠাৎ করে কাছের বন্ধু জায়িনকে নিয়ে নস্টালজিয়া হয়ে পড়েছিলেন সারা রাত৷ তারা অতীতে জীবন বাজি রেখে কতবার একে অপরকে বাঁচিয়েছে, তার হিসেব নেই৷ স্বার্থপরতা উবে গেয়ে বন্ধুর জন্য হঠাৎ অসীম মনঃকষ্টে কাঁদতে থাকে তার হৃদয়টা৷ ভূলন্ঠিত মনুষ্যত্ব বহু বছর পর ফিরল তার, কেবল কয়েকটি ঘণ্টা নাওফিলের সান্নিধ্য পেয়ে। নাওফিলের চিন্তার কৌশল, ওর নির্লোভ, নিরহংকার হৃদয়ের পরিচয়, স্বচ্ছ ব্যক্তিত্বের ধার আর কোমলতা অথচ কঠোর বাস্তববোধের আদলে জীবন দর্শন, সব কিছুই স্যামুয়েলের মাঝে নতুন করে মনুষ্যত্বের জন্ম দিয়েছে। ভাবিয়েছে নিজের প্রথম সন্তানকে ভুলে থাকার অপরাধকেও। খুব অনুরোধ করেছিলেন, দীধিতি থেকে যাক কটা দিন তার কাছে। নাওফিলকে বলেছিলেন, তার মেয়েটাকে নিয়ে এখানেই থেকে যেতে। জায়িনের তৈরি বাড়িটা সরকার নিলামে তুলেছিলেন, সেই বাড়িটাই নাওফিলকে উপহার দেবে বলে লোভও দেখিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই নাওফিলের এক সিদ্ধান্তে অনড় মনটাকে টলাতে পারেননি। জবাবে শুধু তাকে বলেছিল নাওফিল, ‘আমার সেই ঘর, সেই সম্পদ ফিরে পেয়ে লাভ কী? যে ঘর, যে সম্পদের মালিকই ফেরারি হয়ে গেল! টেলর, আমি তোমার মেয়ের সঙ্গে প্রশান্তিতে বাঁচতে চাই৷ ওই ঘর, ওই সম্পদ আমাকে প্রশান্তির নিঃশ্বাসটুকু নিতে দেবে না।’

এরপর আর কিছু কি বলার থাকতে পারে? স্যামুয়েল ভীষণ দুশ্চিন্তা আর মর্মপীড়া নিয়ে বিদায় দিয়েছিলেন ওদের। তবে শেষ বিদায় নয়। নাওফিলও কথা দিয়েছে তাকে, মেয়ের সঙ্গে কটা দিন কাটানোর সুযোগ তাকে দেবে সে। চিরাচরিত সব বাবাদের মতো স্যামুয়েল বিদায় দেবার সময় জামাইকে বলতে ভোলেননি, ‘খেয়াল রেখো আমার তিয়ার।’ মুচকি হেসে ইশারায় সায় দিয়েছিল তখন নাওফিল। কিন্তু নাওফিল জানতে পারেনি, বিদায়ের পূর্ব মুহূর্তে দীধিতিকেও বলেছিলেন তিনি, ‘ওর পাশে থেকো, সোনা। আগলে রেখো ওকে।’
এরপর দুটো দিন জেরিনের কাছে কাটিয়ে তুরস্কের ফ্লাইটে চড়ে বসে ওরা।

-‘তিন রুমের বেশ পরিপাটি একটা ফ্ল্যাট। এলিন আন্টের রেখে যাওয়া অর্থটা ব্যয় করছে ও এই ফ্ল্যাটের ভাড়ার পেছনে। আর ওর পিএইচডির খরচ বহন করছে আঙ্কেল এডওয়ার্ড।’ কথাগুলো মারিহামের ফ্ল্যাটের দরজার মুখে দাঁড়িয়ে বলছে মাভিশা। নীরবে তা শুনে যাচ্ছিল নাওফিল আর ইয়াসিফ।
কিন্তু দীধিতি চুপ করে থাকতে পারল না। জিজ্ঞেস করল, ‘ইংল্যান্ড থাকতে এখানে পিএইচডি-র সিদ্ধান্ত নিলো কেন মারিহাম?’

মাভিশা ম্লান হাসিটুকুও দিতে পারল না দীধিতির প্রশ্নের জবাবে। তাকে চুপ থাকতে দেখে দীধিতির মনে সন্দেহ, কৌতূহল, সবটাই জাগছে। কিছু একটা লুকিয়ে চলেছে মাভিশা শুরু থেকেই। সেটা গত চারদিনে ভালোভাবে টের পাচ্ছে দীধিতি৷ নিজের মনের সন্দেহের উদ্রেক হওয়ার ব্যাপারটা সে নাওফিলকেও জানিয়েছে। কিন্তু নাওফিল নির্বিকার ঢঙে বলে দেয়, মাভিশাকে নিয়ে অতশত না ভাবতে। বিরক্ত হয়ে তাই ইয়াসিফকে জানিয়েছিল দীধিতি। জবাবে ইয়াসিফ বলেছিল, ‘লুকোলেই বা কী? মেয়ে নিজে থেকে এসে ধরা দিয়েছে আমার কাছে। আর যে সহজে নিস্তার নেই, তা মাভিশা ভালো করেই জানে।’
এরপর দীধিতির চিন্তাভাবনার শাখা-প্রশাখা আরও বাড়তে থাকে। ও বুঝতে পারে, এরা দু ভাই নিজেদের মধ্যে কিছু একটা পরিকল্পনা করে রেখেছে বা কিছু একটা ভেবে রেখেছে। যার জন্য মাভিশার কথা লুকানো নিয়ে কোনো হেলদোল নেই।

-‘আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে আমাদের? জেরিন আন্টির সিকিউরিটি টপকাতেও এত সময় লাগেনি!’ মেজাজের সঙ্গে বলে উঠল ইয়াসিফ।
মারিহামের বাসা লক করা৷ মাভিশা তাই টেলিফোন বুথ থেকে মারিহামের নাম্বারে কল করেছিল আর বিশ মিনিট আগে। তখন ওদের দশটা মিনিট অপেক্ষা করার কথা বলে মারিহাম জানায়, ওদের প্রফেসরের গুরুতর কার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। বাঁচা মরার প্রশ্ন। তাই দেখতে তাকে এসেছে হাসপাতাল।
দশ মিনিট অতিক্রম হয়ে এখন পনেরো মিনিট চলছে ওদের অপেক্ষার। দীধিতির মাথা ঘুরে উঠল এর মাঝেই। নাওফিল খেয়াল না করলে ধপ্ করে মেঝেতে পড়ত সে, মাথায় চোট পেত ভয়ঙ্কর৷ দ্রুত ওকে জড়িয়ে ধরে মাভিশাকে বলল, ‘পানি দাও ফাস্ট।’
পানির বোতল ইয়াসিফের কাছে ছিল৷ ব্যাগ থেকে বোতলটা বের করে দীধিতির চোখে-মুখে ছেটালো প্রথমে৷ জ্ঞান ফিরল কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই৷ ‘মাথার চাঁদিতে একটু পানি দে।’ নাওফিল বলল ইয়াসিফকে। তা-ই করল ইয়াসিফ। হাতের আঁজলায় পানি নিয়ে তা চাঁদিতে আলতোভাবে চাপড়ে দিতে থাকল।

-‘ওর তো দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে, ভাইয়া।’ মাভিশা বলল নাওফিলকে। তা খেয়াল করে ইয়াসিফ কঠিন সুরে বলল, ‘কোলে তুলতে পারছিস না?’
পাঁজাকোলা করে নিলো নাওফিল দীধিতিকে। বিচ্ছিরি মেজাজ খারাপ নিয়ে ইয়াসিফ মারিহামকে যাচ্ছেতাই বলে গালি দিলো৷ নাওফিলের গরম চাউনি তোয়াক্কা করল না একদম। বলল ওদের, ‘আমি কিছু খাবার কিনে আনি৷ প্লেন থেকে কিছু খায়ওনি, ঘুমাওনি ঠিকমতো। অসুস্থ তো হবেই।’
-‘হ্যাঁ, সেটাই ঠিক হবে। আমিও তোমার সাথে যাই, চলো।’ বলল মাভিশা।
-‘এত ব্যস্ত হয়ো না প্লিজ।’ দীধিতি দুর্বল স্বরে বলে উঠল, ‘আমি কিছুই খেতে পারব না মনে হয়৷ খেলেই বমি পাবে।’

-‘তুমি চুপচাপ চোখ বন্ধ করে থাকো তো।’ মৃদু ধমকে বলে নাওফিল ইয়াসিফকে জানাল কী কী খাবার নিয়ে আসতে হবে। গ্যাস্ট্রিক হতে পারে এমন খাবার যেন না নিয়ে আসে, তাও সাবধান করে দিলো।
মাভিশাকে নিয়ে ইয়াসিফ পাঁচতলা থেকে নেমে গেল৷ ওদের যাওয়ার পর দীধিতি বলল, ‘আমার ওয়েট কমেনি, মিনিস্টার। আমাকে নামাও, দাঁড়াতে পারব সমস্যা নেই।’
লোক আসা যাওয়া করতে পারে যখন তখন। এভাবে দেখতে পেলে ব্যাপারটা মোটেই দৃষ্টিনন্দন হবে না৷ তাই ভেবেই দীধিতির কথা মেনে নিলো নাওফিল৷ দীধিতিকে দুই বাহুর মধ্যে রেখেই মারিহামের ঘরের দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড় করাল। তারপর লক্ষ করতে থাকল দীধিতির শুকিয়ে যাওয়া মুখটা। তা খেয়াল করে দীধিতি জিজ্ঞেস করল ওকে, ‘শরণার্থীর মতো দেখাচ্ছে নাকি আমাকে? এভাবে দেখছ কেন?’
-‘আসলেই তাই লাগছে। যেন কতকাল খাবার পাও না।’
-‘দুটো দিন প্রায় না খেয়ে আছি, ঘুম ঠিকমতো হয়নি৷ এ অবস্থায় প্লেনের মধ্যে যে শরীরের অবস্থা আরও খারাপ হয়নি, সেটার কৃতিত্ব কি আমার গুড হেলথের না?’
-‘কিন্তু খালি পেটে ঘনঘন বাথরুমে যাচ্ছিলে কেন?’
-‘চাপ দিলে কী করব? একটু পানি খাই কি না খাই, চাপ দিতে শুরু করে।’
-‘এর জন্য তো পানি কম খেতে বলেছিলাম।’
-‘গলার মধ্যে কী যেন দলা পাকিয়ে আছে মনে হচ্ছিল শুধু। জিহ্বার স্বাদও পালটে গেছিল। এখনো তাই লাগছে৷ এজন্যই কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না।’

নাওফিলের প্রখর চোখজোড়া আরও গভীরভাবে লক্ষ করতে শুরু করল দীধিতিকে৷ হিসাব মেলাতেও ব্যস্ত হলো। স্যামুয়েলের কাছ থেকে ফেরার পরই হঠাৎ খেয়াল করে, দীধিতির চোখ-মুখ শুকনো শুকনো। খাওয়াতে অবশ্য অরুচি ছিল না এ চারদিনে। কিন্তু প্লেনে ওঠার পর থেকেই শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলো লক্ষণীয়। হতেই পারে পরপর জার্নির ফলে বমি হয়েছে। কিন্তু ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রস্রাবের চাপ, হঠাৎ করে গ্রাস্ট্রিক সমস্যা, এগুলো তবে কেন হচ্ছে?
নিজের মুখের দিকে নাওফিলকে ওরকম তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখতে মশকরার সুরে হঠাৎ বলে উঠল দীধিতি, ‘যেভাবে পলক না ফেলে দেখছ, তাতে নিজেকে ন্যাকেড মনে হচ্ছে, নাওফিল।’
চিন্তার সুতো কেটে গিয়ে হেসে ফেলল নাওফিল। দরজায় গা এলিয়ে দেওয়া দীধিতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়াল মুচকি হাসতে হাসতে। আহ্লাদ আর আদরে সহসা চুমু খেল দীধিতির অনাদ্র ঠোঁটদুটোই। চমকে গেল দীধিতি, ভাবনাতীত ছিল কিনা! কপট শাসনে বলে উঠল, ‘বোধবুদ্ধি গেছে না-কি? কোথায় আছি সে খেয়াল নেই?’
-‘আমার বউয়ের সুন্দর লাভ শেইপের ঠোঁটদুটো ভেজা ভেজা দেখতেই অভ্যস্ত আমি। শুষ্কতা ভালো লাগছিল না।’ দীধিতির নিম্ন ঠোঁটে বৃদ্ধা আঙুল বুলাতে বুলাতে বলল নাওফিল।
তা শুনে ভ্রু কুঁচকাল দীধিতি। ‘তো আমার জিভেতে কি স্যালাইবা নেই?’
হেসে উঠল নাওফিল আবারও। ‘থাকলেই বা কী? কাজে তো লাগাচ্ছিলে না।’

-‘গলাও শুকিয়ে এসেছে। সেখানে কী করে ভেজাবে? পানি তো ইয়াসিফ ভাই সঙ্গে করে নিয়ে গেল।’
দুষ্টুমির বাহানায় নাওফিল দীধিতিকে আবারও চমকে দিতে তার কণ্ঠেও ঠোঁট মেশাল মাথা ঝুঁকিয়ে৷ সত্যিই চমকে গেলেও দীধিতি দ্রুত সতর্ক নজর আশেপাশে ঘোরাল৷ কেউ আবার এসে পড়ে না-কি! সেই সাথে নাওফিলকে ঠেলে সরাবার চেষ্টাও করতে থাকল।
অনবরত কটা চুমু খেয়ে ভিজিয়ে তুলেছে নাওফিল তার কণ্ঠের স্থানটুকু। তারপর নিজে থেকেই সরে এলো। ঠোঁটের কোনায় দুষ্টু দুষ্টু মুচকি হাসি ধরে বলল, ‘ভিজেছে না, দেখো? আর তৃষ্ণা পাচ্ছে?’
-‘না তো।’ তিরস্কারের সাথে বলল দীধিতি, ‘তোমার শক্তিশালী চুমু আমার গলার ভেতরটাও ভিজিয়ে দিয়েছে৷ এক সপ্তাহও পানি না খেলে চলবে।’

খুনসুটির মাঝে হঠাৎ কারও হিলের ঠক ঠক মৃদু আওয়াজ কানে এলো ওদের। দ্রুত দীধিতির কাছ থেকে একটু সরে এসে দাঁড়াল নাওফিল। পিছু ফিরতেই দেখল, ওদের দুজনের থেকে তিন হাত দূরে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে৷ পরনে বুটকাট ডেনিম জিন্স প্যান্ট আর ইন করা চেক শার্ট।
হাতে কিছু খাবারের ব্যাগ৷

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৮৭

মেয়েটির সঙ্গে চোখের মিলন ঘটল নাওফিলেরই। মুহূর্তেই বুকের ভেতর রক্ত ছলকে উঠল যেন ওর৷ আম্মু! আম্মুকে দেখছে ও? নাহ, ভ্রম হতে পারে। তাই চোখদুটো বুজে আবার মেলল। উচ্চতা মেয়েটির আম্মুর চেয়েও কিছুটা বেশি। কিন্তু শারীরিক গড়ন, এমনকি মুখের গড়নও অধিকাংশই ওর আম্মুর মতোই৷ কিন্তু পুরোপুরি নয়৷ কারণ, মেয়েটির চোখদুটো একদম ওর আব্বু আর দাদীর চোখের মতোই ভাসা ভাসা, অথচ দৃষ্টি যেন ধারাল। আর আম্মুর চোখদুটো ছিল ছোটো ছোটো; ঠিক ওর চোখের মতোই শান্ত।

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৮৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here