Home আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৫৯+৬০+৬১

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৫৯+৬০+৬১

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৫৯+৬০+৬১
ফারজানা মনি

মেঘ তো এবার খানিকটা কেদেই দিল.. আস্তে আস্তে বলল: তোমরা সবাই দেখলে তো আমাকে যে কেউ ভালোবাসে না.. যদি ভালোইবাসতো তাহলে তো আমার ভাই বোন সবাই আবির ভাইকে দুলাভাই বলে ডাকতো।
এই কথা শুনে আবিরের তো চক্ষু চড়ক গাছ। কি বলে এই মেয়ে… শেষ পর্যন্ত আমি নাকি আমার ভাই বোনদের দুলাভাই হবো… এতক্ষণ মনে মনে ভাবনার মাঝেই হঠাৎ আবির একটু জোরেই বলে ফেলল: It’s impossible
impossible কথাটা শুনেই যেন তানভীর আবিরের মনের কথা বুঝে ফেলেছে। সঙ্গে সঙ্গেই বলে উঠলো: আমি কিন্তু আমার বোনের পক্ষে। আবির কে টিটকুনি কেটে বলল: আমি কিন্তু কারো সমন্ধি হই, এটা যেন সে মনে রাখে।
এবার আবির তানভীর এর উদ্দেশ্যে হাস্যকর কন্ঠে বলল: ভাইজান… আমি তো আপনাকে আগেই বলেছি, একান্তে দেখা করবেন… আমি আপনাকে সম্মানের চুড়ায় নিয়ে যাবো.. কিন্তু আপনি তো আর দেখা করলেন না।
আবিরের হেসে এসে দেওয়া হুমকিটা আর কেউ না বুঝলেও তানভীর বুঝে এবার চুপ হয়ে গেল।
কেটে গেল খান বাড়িতে আরও একটা হাস্য উজ্জ্বল দিন।

সময় চলছে সময়ের গতিতে। সেদিন আরিফ আর মাহমুদা খান চলে যাওয়ার পর কেটে গেছে আরো সাতটা দিন।
আজ শুক্রবার… খান বাড়ির ছেলেদের আজ পাঞ্জাবি পরার দিন। মেঘ বারবার চেষ্টা করছে আবির কে পাঞ্জাবি, পাজামা, টুপি সহ সকল যাবতীয় জিনিস গুছিয়ে সামনে দিতে। কিন্তু আবিরের কড়া নিষেধাজ্ঞার জন্য সে কিছুই করতে পারছে না। মেঘের ছটফটানি বুঝতে পেরে আবির পাঞ্জাবি আর টুপিটা নিয়ে বিছানায় এসে বসলো। মেঘের হাতে পাঞ্জাবি ও টুপিটা ধরিয়ে দিয়ে বলল: নাও… এগুলো আমাকে পরিয়ে দিয়ে নিজের মনের ছটফটানি কমিয়ে মনটাকে একটু স্বস্তি দাও।

মেঘ বহু দিন পর একটা কাজ পেয়ে তো মহা খুশি। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আবি র এমনিতেই কোন কাজ করা পছন্দ করে না, আর এখন কয়েকদিন ধরে তো বিছানা থেকে নামতেও দিচ্ছে না।
মেঘ হাসি হাসি মুখে পাঞ্জাবি টা আবির কে পরিয়ে দিল। টুপিটা মাথায় দিয়েই মেঘ বলে উঠলো, মাশাল্লাহ… আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে ,আহিয়ার আব্বু…
মেঘের কথা শুনে আবির একটু মুচকি হেসে মেঘের কপালে চুমু দিলো।
আদি… এই আদি… তাড়াতাড়ি আয়… এবার মসজিদে খুতবা শেষ হয়ে, নামাজ আরম্ভ হয়ে যাবে মনে হয়। একটা শুক্রবারও তোর জন্য তাড়াতাড়ি নামাজে যেতে পারি না…
বাহির থেকে তানভীরের আওয়াজ শুনে, এবার আবির ও বের হয়ে গেল নামাজের উদ্দেশ্য। এখন শুধু তিন ভাই ই নামাজে যাবে। বাড়ির তিন কর্তা অনেক আগেই মসজিদে চলে গেছে।
ছেলেরা সবাই চলে যাওয়ার পর বাড়ির মেয়ে বউরাও জুম্মার নামাজ আদায় করে নিল। হয়তো আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরে আসবে। তাই বাড়ির তিন কর্তি টেবিলে খাবার গোছানোয় ব্যস্ত। বন্যা ও সাথে সাথে এগিয়ে দিচ্ছে সবকিছু।

বন্যার মতে এই বাড়ির মানুষদের কথা যত বলা হবে ততই যেন কম হয়ে যাবে। এক কথায় এই বাড়ির সকল সদস্য গুলো অসাধারণ ও চমৎকার ব্যক্তিত্বের অধিকারি।
বাড়ির কর্তারা বন্যাকে নিজেদের বাড়ির মেয়ের মতো আদর করে। আর হালিমা খান, মালিহা খান ও আকলিমা খানের কথা তো বলে শেষ করা যাবে না। মেঘ ও মিমের স্থানটা এই বাড়ির যে জায়গায়। বন্যা কেউ তারা সেই জায়গায় রেখেছে। মূলত এই বাড়ির কর্তিরা চায় , বন্যা, মেঘ আর মিমের মত কোন কাজকর্ম না করুক। তাদের পরবর্তীতে তো এই ঘর এই সংসার মেঘ, বন্যা ও আদির বউকেই সামলাতে হবে। তখন না হয় তারা করবে।
কিন্তু বন্যা এসব মানতে নারাজ। তাই মাঝে মাঝেই জোর করে ঢুকে পড়ে কিচেনে। হালিমা খান ও মালিহা খানের হাতে হাতে রান্নার সরঞ্জাম গুলো এগিয়ে দেয়। আজকাল নিজের মা দূরে থাকার কষ্টটা এই তিন মহীয়সী নারীকে দেখলেই বন্যা ভুলে যায়।

হুম মহীয়সী…
মহীয়সী নাহলে কেউ ছেলের বউকে নিজের মেয়ের মত রানী করে রাখতে পারে?
তাছাড়া মেঘ ,মিম, আদির কথা আর কি বলবে বন্যা। ওরাতো অসম্ভব ভালোবাসে বন্যাকে।
বন্যা মনে মনে এসব ভেবে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করল। এমন একটা পরিবার পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। যেই পরিবারে আবির ভাইয়ের মত একটা বড় ভাই আছে, সেখানে তো স্নেহের কোন অভাবই নেই।
বন্যার এসব ভাবনার মাঝে ই বাড়ির মেইন গেট পেরিয়ে ঢুকলো বাড়ির সকল ছোট বড় পুরুষ সদস্য। আবির এসেই রুমে চলে গেল মেঘকে খাওয়ার উদ্দেশ্যে ড্রয়িং রুমে আনতে। ৫ মিনিটের ভেতর নিয়েও আসলো।

আবির মেঘকে নিয়ে এসে চেয়ারে বসিয়ে দিল। তারপর নিজেও নিজের চেয়ারে গিয়ে বসলো।
আজ শুক্রবার বলে খান বাড়ির প্রতিটা চেয়ার ই পরিপূর্ণ। তানভীর বন্যার বিয়ের পর থেকে খান বাড়ির ডাইনিং টেবিলে যোগ হয়েছে আরেকটা চেয়ার‌, যা তানভীর এর পাশে বন্যার জন্য অবস্থিত। বন্যা সচরাচর সবার সাথে বসতে চায় না। ও সব সময় চায় নিজের মা তুল্য শাশুড়িদের সাথে বসেই খেতে। কিন্তু শুক্রবার দিন আলী আহমেদ খান, মোজাম্মেল খান ও ইকবাল খান সহ সকলের জুড়াজুড়িতে একসাথে বসতেই হয়।
খানবাড়ির সকল সদস্য দুপুরের খাবার খেতে ব্যস্ত। বাড়ির তিন কর্তি সবাইকে খাবার সার্ভ করে দিচ্ছে।
হঠাৎই আলী আহমেদ খান আবিরের উদ্দেশ্যে বললেন: আবির… তুমি যদি একদিনের জন্য আমাদের রাজশাহী অফিসে যেতে তাহলে অনেক ভালো হতো। শুনলাম সেখানে কিছু প্রবলেম হয়েছে ।
আলী আহমেদের কথা শুনে মেঘ আবিরসহ সকলেই মাথা তুলে তাকাল।
আবির: কিন্তু আব্বু, মেঘ এখন অসুস্থ ওকে এই অবস্থায় রেখে আমি এত দূরে, শহরের বাহিরে কি করে যাই?
আলী আহমেদ খান: আমি বুঝতে পারছি তোমার ব্যাপারটা। কিন্তু আজ রাতের গাড়িতে ইকবাল সিলেটে যাবে। আর মোজাম্মেলের শরীরটাও ভালো না ওকে কি করে বলি এতদূর যেতে।
ভাইজানের কথার পরপরই কথা বললেন মোজাম্মেল খান: ভাইজান….. থাক না, আবির যেহেতু যেতে চাচ্ছে না আমিই যাই।

মোজাম্মেল খানের কথা শুনে এবার আবির উত্তর দিল: আচ্ছা ঠিক আছে। আমিই যাবো… কবে যেতে হবে?
মুখে হাসির রেখা টেনে আলি আহমেদ খান জানালেন: আজ রাতের গাড়িতেই চলে যাও। কাল সারাদিনে সকল সমস্যার সমাধান করে, আবার না হয় কাল রাতের গাড়িতে ফেরত এসো।
আবির: ঠিক আছে আব্বু…
বলেই আবির খাওয়া শেষ করে ব্যাছিং এ হাত ধুতে চলে গেল।
এবার মোজাম্মেল খান তানভীরের উদ্দেশ্যে বললেন: তোমার কি খবর? চাকরি জীবন কেমন চলছে? ভালো লাগছে তো?

তানভীর খানিকটা হেসে জবাব দিল: এইতো আব্বু, আলহামদুলিল্লাহ ভালো যাচ্ছে।
এতক্ষণ যাবৎ মেঘ , আদি ও মিম ফিসফিসিয়ে কথা বলে দুষ্টুমি করলেও এখন আব্বু ও বড় আব্বুর কথায় সবাই চুপ হয়ে গেছে। আবিরের রাজশাহী যাওয়ার কথা শুনে বন্যা তো বারবার মেঘের মুখের পানে তাকাচ্ছে। এতক্ষণ হাসিখুশি থাকা মেয়েটা যেন এখন কেঁদেই দিবে।
আবির এসে যথারীতি মেঘকে আবার রুমে নিয়ে গেল। মেঘের এখন প্রায় আট মাস চলে। সময়ের তুলনায় পেটটা যেন একটু বেশিই উঁচু হয়েছে। মেঘের কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন পরলে বেশিরভাগ আবির নিজেই ধরে ধরে নিয়ে যায়। আর আবিরের অনুপস্থিতিতে হালিমা খান , মালিহা খান, আকলিমা খান ও বন্যা তো আছেই।
এখন সন্ধ্যা সাতটা। মেঘ একাই রুমে শুয়ে আছে। তার
মনটা আজ ভালো নেই। একটু পর তার আবির ভাই রাত দশটার গাড়িতে রাজশাহী চলে যাবে। ভেবেই যেন মেঘের দুই চোখ নোনা জলে ভরে যাচ্ছে।

আবির গিয়েছে দ্বিতীয় তলায় তাদের আগের রুমে। এই তো কিছুক্ষণ আগে, রাকিব‌ আর রাসেল এসেছে। মূলত আবির নিজেই ওদের ডাকিয়েছে। যেহেতু আজ হঠাৎ করেই রাজশাহী যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই আবির আগামীকালের সকল কাজকর্ম রাকিব আর রাসেলকে বুঝিয়ে দিতে চায়।
কিন্তু রাকিব আর রাসেল তা মানতে নারাজ। তাদের একটাই কথা: বন্ধু.. এতকিছু কেন বোঝাচ্ছিস মাত্র একটা দিনের ব্যাপারই তো। তারপর তুই ফিরে এসেই সবকিছু নিজের মতো সামলে নিস।
ওদের কথা শুনে আবির কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। ওদের কি করে বোঝাবো,, আজ মনটা কেমন জানি কু গাইছে…. যদিও কখনো এরকম কিছু আমি বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমার মেঘ তো করে, ওর সাথে থাকতে থাকতে দিন দিন ওর মতোই হয়ে যাচ্ছি। আজ কেন জানি মনে হচ্ছে, আমার মেঘের সাথে এই দেখাই যেন শেষ দেখা।
রাসেল আবিরকে ডেকে বলল: কিরে, আবার কি ভাবতে বসলি। রাসেলের ডাকে আবিরের ভাবনাচূত হলো। তারপর খানিকটা স্বাভাবিক হয়ে রাকিব ও রাসেলকে সবটা বুঝিয়ে দিল।

রাকিব আবিরের কাঁদে হাত রেখে বলল: কিরে বন্ধু…. কোন সমস্যা? কি নিয়ে এত টেনশন করছিস?
আবির এবার রাকিবের উদ্দেশ্যে বলল: জানিনা রে..
তারপর আবির খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে আবারো বলল: রাকিব শোন.. আমি যেটুকু সময় বাড়ির বাহিরে আছি। সেটুকু সময় তোরা কেউ ফোন বন্ধ রাখবি না। আমি বাড়িতে না থাকা অবস্থায় (আল্লাহ তায়ালা না করুক) মেঘের যদি কোন সমস্যা হয়, তাহলে তানভীর যেনো সাথে সাথে তোদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
আর তুই তো জানিসই, ওর জন্য আমি কাদেরকে রক্ত দেওয়ার কথা বলেছি।
রাসেল স্বাভাবিক কন্ঠে বলল: তুই এত টেনশন করিস না।
মেঘের তো এখনো ডেলিভারির সময়ই হয়নি। তাছাড়া যে কোন সময় আমরা তোর ফ্যামিলির পাশে আছি। তুই নিশ্চিন্তে যা…
আবির: হুম…

রাত ১১টা বেজে ২২ মিনিট। আকাশে রুপালি থালার মত মস্ত বড় একটা চাঁদ উঠেছে। ঝনঝন শব্দে ট্রেন চলছে। সাথে চলছে আকাশের চাঁদটাও। কিন্তু আবিরের চাঁদ তার পাশে নেই, কাছে নেই। নিস্তব্ধ আবির ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে দূর ঐ আকাশের চাঁদের পানে।
দু চোখের পাতায় ঘুম নেই। মনটা কেন জানি অস্থির ভঙ্গিতে ছটফট করছে। বারবার চোখে ভাসছে আসার সময় মেঘের কান্না ভেজা চোখ দুটো।
এইতো দুই ঘন্টা আগের কথা….
মেঘ আবিরকে বিদায় দেওয়ার সময় অঝোরে কেঁদে ছিল। আবিরকে ঝাপটে ধরে বারবার বলেছিল, “আহিয়ার আব্বু.. আপনি প্লিজ একটু তাড়াতাড়ি আসার চেষ্টা করবেন, আমার আপনাকে ছাড়া একটুও ভালো লাগেনা”।
আবির শুধু নিসপলক চোখে তাকিয়ে ছিল মেঘের মুখের দিকে। সে কি করে বোঝাবে মেঘকে… তারও যে ভালো লাগছে না। এবার আবিরও মেঘকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। তারপর হালকা ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলল: মেঘ….

মেঘ: হুম..
আবির: আমায় কেন এত ভালবাসিস বলতো…..
মেঘ: জানিনা…
আবির: যদি আমি কখনো না থাকি, তাহলে এত ভালোবাসবি তো??
মেঘ এবার হুহু করে কেঁদে উঠলো.. আর বলল: আপনি এমন করে কেন বলছেন আহিয়ার আব্বু?
আবির এবার মেঘের দু চোখের পানি মুছে দিয়ে ওর বন্ধ চোখের ভেজা পাতায় ওষ্ঠ ছুঁয়ে বলল: এমনিতেই বলেছি পাগলী… দেখলাম তুই কি বলিস?
মেঘ আবারও আবিরকে শক্ত করে ঝাপটে ধরল।
আবির মেঘের মাথায় ওষ্ঠ ছুঁয়ে বলল: মেঘ..
মেঘ ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে জবাব দিল: হুম..
আবির: মানুষ মরণশীল… এই দুনিয়ায় আমরা কয়েকদিনের অতিথি মাত্র… যদি কখনো তোর আগে আমার মৃত্যু হয়… তখনও তুই আমার হয়ে থেকে যাস…
কখনো, কোন অবস্থাতেই তোর বাকি জীবনটা অন্য কারো নামে লিখে দিস না… তুই মেঘ আমৃত্যু এই এক আবিরের কাছেই সীমাবদ্ধ থাকিস…
দীর্ঘ কথার পর আবির থামল, কিন্তু তার হৃদয়হরণী মেঘ! তারতো কান্না থামার কোন নামই নেই।
অতঃপর আবির নিজেকে সামলে নিয়ে হাসি হাসি মুখে মেঘকে বলল: আরে পাগলি… সবকিছু এত সিরিয়াসলি কেন নিচ্ছিস? আমি কি এর আগে কখনো শহরের বাহিরে যাইনি? প্রতিবারের মতো এবারও সুস্থ ভাবে ফিরে আসবো আমার মেঘের কাছে.. আমি তো এমনি বলেছি এসব কথা।
মেঘ এবার আবিরের বুক থেকে মাথা তুলে তাকাল। আবিরের মুখটাকে দুহাতের আজলায় নিয়ে বলল: আহিয়ার আব্বু…

আবির: হুম, বল আহিয়ার আম্মু…
মেঘ: আমাকে কথা দিন, যত যাই হোক.. আল্লাহ তাআলা চাইলে আপনি আমার কাছে আবার ফিরে আসবেন।
আবির মেঘের কপালে দীর্ঘ একটা চুমু খেয়ে বলল: ঠিক আছে, কথা দিলাম। এবার আমাকে বের হতে হবে।
আবির হাতের ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে বলল: রাত নয়টা দশ বাজে.. এখন যদি বের না হই তাহলে মনে হয় ট্রেন মিস করবো।
আবির মুখে মলিন হাসির রেখা টেনে আবারো বললো: ম্যাম… একটু হাসেন। আপনার হাসি মুখটা দেখে যেতে চাই।
মেঘ চুপচাপ আবিরের মুখের পানে তাকিয়ে আছে। আবির সেটা দেখে খানিকটা ঝুঁকে মেঘের পেটে মাথা রেখে বলল: এই যে জুনিয়র… আপনি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন? আপনার মাম্মা কে একটু হাসতে বলেন.. আমার কথা তো কখনো শুনে না, যদি আপনারটা শুনে। আর হ্যাঁ, মাম্মার খেয়াল রাখবেন।
আবিরের কথা শুনে এবার মেঘ ফিক করে হেসে দিল।
টিং টিং মেসেজের শব্দে অতীতের ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো আবির। তার মেঘবতি মেসেজ দিয়েছে।
একটা সুন্দর সকাল…
মেঘ ড্রয়িং রুমে বসেছে নাস্তা করতে। আলী আহাম্মেদ খান ,মোজাম্মেল খান, ইকবাল খান ও তানভীর একটু আগেই নাস্তা করে বেরিয়ে গেছেন। এখন মেঘ, বন্যা, মিম, আদি ও বাড়ির তিন কর্তি নাস্তা করতে বসেছে।
‍ মালিহা খান মেঘের উদ্দেশ্যে বললেন: মেঘ..
মেঘ খেতে খেতে জবাব দিল: বলো বড় আম্মু…

মালিহা খান: আবির ফোন দিয়েছিল? ওকি পৌঁছে গেছে?
মেঘ: হ্যাঁ বল আম্মু… উনি আরো এক ঘণ্টা আগে ফোন দিয়ে জানিয়েছিল পৌঁছে গেছে। বলেছেন তোমাদের সবাইকে জানিয়ে দিতে। কিন্তু তুমি রুমে ছিলে, তাই জানানো হয়নি।
মালিহা খান: ওহ.. ঠিক আছে..
নাস্তা শেষে সবাই যার যার মত নিজ নিজ কাজে চলে গেল। ড্রাইভার মীমকে কলেজে ও আদি কে স্কুলে পৌঁছে দেবে। বন্যা মেঘকে ধরে তার রুমে পৌঁছে দিল।
বন্যা: ননদিনী… তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।
মেঘ: সারপ্রাইজ!! আমার জন্য?
বন্যা: হুম.. তুই একটু অপেক্ষা কর আমি রুম থেকে নিয়ে আসছি।
বলেই বন্যা তাড়াহুড়া করে ছুটে গেল নিজের রুমের দিকে।
এই দেখ ননদিনী…

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৫৬+৫৭+৫৮

বন্যার কথা শুনে মেঘ পিছনে ফিরে তাকালো। বন্যা কখন
ফিরে এসেছে, মেঘ খেয়াল ই করেনি। মেঘ বন্যার দিকে তাকিয়ে দেখলো.. বন্যার হাতে কয়েকটা নকশি কাঁথা। সুন্দর সুন্দর এক কালার কয়েকটা কাপড়ের মধ্যে রংবেরঙের সুতা দিয়ে ডিজাইন করে কাঁথা বানিয়েছে।
এগুলো দেখে মেঘের মুখে সহশায় হাসি ফুটে উঠলো।
মেঘ বন্যাকে জড়িয়ে ধরে বলল: থ্যাঙ্ক ইউ বেবি

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৬২+৬৩+৬৪