আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ১+২
ফারজানা মনি
খান বাড়িতে আজ খুশির জোয়ার আজ খান আজ রনির জোয়ান্ডালোবাসি বাড়ির মেজো কর্তা মোজাম্মেল খানের একমাত্র ছেলে তানবির খানের বিয়ে। খান বাড়ির প্রতিটি কোনায় কোনায় আজ আলোকসজ্জায় সজ্জিত। অনুষ্ঠানের কোথাও কোনো কৃপণতা রাখে নি আলি আহমদ খান এবং মোজাম্মেল খান
বাড়িতে বিয়ের আমেজ কিন্তু বাড়ির বড় ছেলে সাজ্জাতুল খান আবিরের কোনো খবর নাই তার ফোনটাও বন্ধ সকাল থেকে মেঘ বার বার আবিরকে কল দিছে, কিন্তু কোনো খবর নেই আবিরের রুমের মাঝেই পায়চারি করছে মেঘ কয়েকদিন ধরেই মেঘের শরীর টা ভালো নেই, আবিরকে তা জানানো হয়নি আবির খুবই ভালোবাসে মেঘকে মেঘ চায় না আবির শুধু শুধু মেঘকে নিয়ে চিন্তা করুক কিন্তু আজ শরীর টা একটু বেশিই খারাপ তার মাঝেই বড় ভাই তানভীর এবং নিজের সবচেয়ে কাছের বান্ধবী বন্যার বিয়ে তানবীরের ডাকে হঠাৎ মেশের মৃত্যু ভালোবাসি ধ্যান ভাঙলো মেঘের..
বনু…
~ হুম ভাইয়া…
~ ভাইয়ার কোনো খবর পাওয়া গেলো??
~ না ভাইয়া… তুমি একটু রাকিব আর রাসেল
ভাইয়াকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করো, তারা কিছু জানে কিনা…
~ঠিক আছে.. তুই টেনশন করিস না। ভাইয়া চলে আসবে।
~ হুম…
মেঘ বেলকনির কাছে গেল.. নিচের দিকে তাকিয়ে আবিরের আসার অপেক্ষা করছে হঠাৎ পূর্বের কিছু কথা মনে পরতেই মেঘ একা একা হাসতে থাকলো আর বলল: আমি মাহদিবা খান মেঘ.. মোজাম্মেল খানের একমাত্র রাজকন্যা। তানভীর খানের একমাত্র চোখের মনি। এই বেলকনিতে দাঁড়িয়ে কতই না রাত জেগেছি আমার আবির ভাইয়ের জন্য হু. আমার আবির “। আজ কোনো লুকোচুরি নেই। নেই কোনো দিধা। ” আমার আবির… আমার আবির… আমার আবির” চাচাতো ভাইয়ের জন্য কতই না পাগলামি করেছি আজ আমি তাকে পেয়ে পরিপূর্ণ আমার জীবনের উপহার হলো আবির ভাইয়ের মতো একজন স্বামী পাওয়া আজ আবির ভাইয়ের পুরোনো একটা চিঠি খুব করে মনে পরছে… নীল দিগন্তের ওই উড়ন্ত মেঘেরা জানে.. কত সপ্ন উড়িয়েছি বেনামি খামে.. হঠাৎ ফোনের টুং টাং শব্দে ধ্যান ভঙ্গ হলো মেঘ। দেখল আবির নামে সেইভ করা নাম্বার থেকে মেসেজ। মেঘ মুচকি হেসে মেসেজটি পড়া শুরু করল..
” মেম… সরি, এতোটা টেনশন দেওয়ার জন্য, আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম ”
মেঘ বিছানায় গিয়ে বসতেই মনে হলো সারা রাজ্যের শান্তির ঘুম তার চোখেই নেমে এসেছে শশুর শেষে ভালোবাসি শরীরটা বড্ড বেশি দূর্বল তাই মেঘ মেঘ শুয়েই
ঘুমিয়ে পড়লো
এদিকে হঠাৎ ফোনের টুং টাং শব্দ শুনে ফোন টা হাতে নিল বন্যা।
মনে আওবালো আম লাজুক হেসে মনে মনে আওরালো “আমার ভিলেন”
বন্যা-হ্যালো
তানভীর ~ নীল দিগন্তের নীলাঞ্জনা..
চোখ দুটো টানা টানা..
কপালের ওই টিপ যেন জোনাকির ওই
দীপ..
তোমার প্রেমে আমি পড়েছি তুমি করোনা মানা বন্যা~ওই ভিলেন… আজ বড্ড শখ জেগেছে
বুঝি?
তানভীর~ একটু হলেতো দোষ নেই কোথাও..
৫১% ভিলেন আর ৪৯% হিরো চলবে?
বন্যা:হুম বুঝেছি.. মেরি ভিলেন।
তারপর তানভীর স্বাভাবিক কন্ঠে বলল:
কী করছো?
বন্যা জানালো “তেমন কিছুনা”
তানভীর:ওকে তাহলে এখনি তোমাদের গলির
মুখের মোখলেছ দাদার দোকানের সামনে এসো..
বন্যা:কেন? আর এখন তো মাত্র ভোর ছয়টাবাজে.. কেউ দেখলেই হাজারটা প্রশ্ন করবে, বলবে এতো সকালে কোথায় যাচ্ছি!
তানভীর: প্লিজ বন্যা.. আজ অন্তত তোমার ম্যাচিউর চিন্তা-ভাবনা ছেড়ে মন ও আবেগের কাছে ধরা দাও..
বন্যা: এখানে ম্যাচিউর চিন্তার কী আছে?
বাড়িতে বিয়ে.. আত্মীয় স্বজনরা সবাই একেকজন একেক স্থানে ঘুমিয়ে আছে যদি বের হতে ধরা পড়ে যাই..
তানভীর:প্লিজ বন্যা একটু তাড়াতাড়ি এসো। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়তো বড় আব্বু, আমার খোঁজ করবে। আমাকে তাড়াতাড়ি যেতে হবে। প্লিজ তাড়াতাড়ি এসো।
বন্যা একটু ভেবে বললো, আসছি..
ফাগুন মাস..কোকিলের মিষ্টি সুর ভেসে আসছে, হালকা মৃদু মৃদু বাতাস বইছে.. হঠাৎ এক অপরূপা সুন্দরী এসে তানভীরের সামনে দাড়ালো, পড়নে তার হলুদ লাল পাড়ে শাড়ি , চোখে গাঢ় কাজল, ঠোঁটে হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক, তার চুল গুলো ফাগুনের হাওয়ায় মৃদু মৃদু দুলছে। আলতা রাঙা পায়ে সামনে এগিয়ে এসে বলল: কী হয়েছে?
তানভীর:”আমার বসন্ত এসে গেছে”
বন্যা লাজুক হাসলো।
তানভীরের চোখ যেন আজ বন্যার লাজুক চেহারা থেকে সরছেই না। ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় বন্যাকে আজ একটু বেশিই আদুরে লাগছে। হঠাৎ সাকিবের ডাকে ধ্যান ভাংলো তানভীরের। ভাইয়া.. ভাবিকে দেখে টাস্কি খেয়ে জ্ঞান হাড়ানোটা রাতের জন্য জমিয়ে রেখো। পৃথিবীতে নতুন ইতিহাস রচিত হবে, খান বাড়ির মেজো ছেলে তার বেগমের সৌন্দর্য দেখে বাসর রাতে জ্ঞান হাড়িয়েছে।
বলেই সাকিব হো-হো করে হাসতে লাগলো।
তানভীর সাকিবকে এক ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দিলো। বন্যার দিকে তাকিয়ে দেখলো,, বন্যা লজ্জায় শাড়ির আঁচল খামচে ধরে দাড়িয়ে আছে।
তানভীর সাকিবকে শক্ত কন্ঠে বললো:
তুই এখানে অপেক্ষা কর। আমি বন্যার সাথে একটু কথা বলেই আসছি..
একটু সামনে এগোতেই সাকিব ডাকলো….
তানভীর ভাইয়া.. রাতের জন্য বাসরটা বাঁচিয়ে রেখো নাহলে বাসর ঘরের ফুলগুলো যে কষ্ট পাবে।
তানভীর কটমট করে সাকিবের দিকে তাকালো।
পাশেই দেখলো একটা নোংরা ছেড়া জুতা পড়ে আছে। সেটা হাতে নিয়েই সাকিবকে ছুঁড়ে মাড়লো।
বন্যাকে বললো: চলো… ওর কথায় কান দিয়ো না।
বন্যা: কোথায়?
তানভীর:এখানেই বেশি দূর না।
তানভীর বন্যাকে নিয়ে কাছাকাছি একটা লেকের পাড়ের টেবিলে বসলো। দুজন বসে আছে। আজ যেন কারো মুখে কোনো কথা নেই । কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বন্যা-ই প্রথমে মুখ খুললো। বলল: মেঘ কেমন আছে?
তানভীর: ভালো।
বন্যা খেয়ার করলো তানভীর বারবার আড় চোখে তার দিকে তাকাচ্ছে। সে লজ্জায় আর একটু গুটিয়ে গেল।
বন্যা কাঁপা কন্ঠে আবার বলল: কেন আসতে বলেছেন?
তানভীরের সহজ স্বীকারোক্তি: এমনি তোমায় দেখতে।
বন্যা:ওহ্হ্.. তাহলে দেখা শেষ হলে আমি আসি।
বলেই বন্যা বসা থেকে উঠে এককদম সামনে বাড়ালো। হঠাৎ তানভীর তার এক হাত ধরে টান দিল। বন্যা পিছন ফিরে দেখল তানভীর তার বা হাত ধরে নিচে হাঁটু গেড়ে বসে আছে।
বন্যা অবাক লোচনে তানভীরকে দেখছে। হঠাৎ তানভীরের নিশাক্ত কন্ঠের বাণী শুনে বন্যা হুস ফিরে পেল।
তানভীর:বন্যা … আজ তোমাকে কতটা সুন্দর লাগছে তা কী তুমি জানো? মনে হচ্ছে এই আগুন ভরা ফাগুনে আমার সামনে এক হলুদিয়া পাখি দাঁড়িয়ে আছে। যতবার তোমাকে দেখি আমার হৃদ স্পন্দন বেড়ে যায়। এমন তো কখনো হয় না, অন্য কাউকে দেখার পরে ।আমার থেকে দূরে যেওনা। তোমাকে আমার কসম, নিজের থেকেও তোমাকে বেশি ভালোবাসি আমার হলুদিয়া পাখি। একবার কবুল করে দেখো ছেড়ে যাবোনা কখনো।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বন্যা বলল, আলহামদুলিল্লাহ কবুল… বলেই বন্যা ছুটে বাড়ির দিকে পালালো।
তানভীর বিভোর দৃষ্টিতে বন্যার লাজুক হয়ে ছুটে যাওয়ার দিকে দেখছে।
বন্যা বাড়ির সামনে এসে থামলো। হঠাৎ তার মনে হচ্ছে হাতটা যেন একটু ভাড়ি হয়ে আছে। হাতের দিকে তাকাতেই বন্যা বিশ্বময়ের চরম আশচর্যে পৌঁছে গেছে। এটা কী দেখছে সে.. নিজের চোখকে যেন আজ বিশ্বাস হচ্ছে না। তার হাতে একটা সোনার আংটি জ্বলজ্বল করছে। আর হাতে মেহেদী দিয়ে লেখা “তানভীর ”
বন্যা তানভিরের কথায় এতোটাই বিভোর ছিল যে সে দেখেইনি হাতে কী করছে তানভীর।
বন্যা আজ যেন বারবার লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে।
হাতটাকে শাড়ির আঁচলের নিচে লুকিয়ে বন্যা বাড়ির ভিতরে ঢুকালো।

I love it
Ami onek vlo besi ei uponnas
But sobar prothom uponnas jeta join seta best jmn amr songin pronoyasotti r tarpor amritto vlobashi toke