আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৩+৪
ফারজানা মনি
বন্যা বাড়িতে ঢুকে খেয়াল করলো সবাই জেগে আছে। বাড়ির মহিলারা বিয়ের কাজে বেস্ত বন্যা চুপিচুপি সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠা ধরতেই হঠাৎ তার বোনের ডাকে থমকে দাঁড়ালো। বন্যার বোন সামনে এসে বলল:কিরে এত সকালে কোথায় গিয়েছিলি??
বন্যা:না..মানে.. ইয়ে..এখানেই.. কোথায়ও যাইনি তো। আমি তো এখানেই ছিলাম।
আপু মুখটাকে একটু কঠোর করে শক্ত কন্ঠে
বলল: ওহহ.. তোর হাতে কী হয়েছে?
বন্যা:কই কিছু না তো।
আপু:দেখি কী হয়েছে হাতে?
বন্যা কিছু না বলেই দৌড়ে পালালো রুমের দিকে পিছন থেকে আপু হাতে তানভির নামটা দেখে মুচকি হাসলো যা বন্যার চোখের আড়ালেই রয়ে গেল।
কিন্তু অন্যদিকে আরেক জোড়া চোখ বন্যার সকল কর্মকান্ড লক্ষ করলো। গতকাল বিকেলে বন্যার মামা খালারা সবাই এসেছে। এইযে একটু আগে বন্যার মামাতো ভাই বন্যাকে দেখছিল মনে হয় কাঁচা চিবিয়ে খাবে । কিন্তু এসব কিছু বন্যার অজানাই রয়ে গেল।
বেলা ৯ টা বাজে… পূর্ব দিগন্তের সূর্য চারদিকে আলো ছড়িয়ে তার কাজ সমাপ্ত করায় ব্যস্ত। ঠিক তখনি খান বাড়ির গেইট দিয়ে আবিরের বাইকটি প্রবেশ করলো।
আবিরের সাথে আরিফ ও এসেছে। আরিফের দুই হাত ভরা মিষ্টি।
আবির:আম্মু.. মামনি..কাকিয়া..কোথায় তোমরা?
আবিরের কন্ঠ শোনা মাত্রই রান্নাঘর থেকে মালিহা খান, হালিমা খান, আকলিমা খান ছুটে আসলো। তারা কিছু বলার আগেই আলি আহমেদ খানের গম্ভীর সুর শোনা গেল।
~কোথায় গিয়েছিলে? আর রাতে বাড়ি কেনো ফেরোনি? আবির… আমি কিন্তু এখনো বেঁচে আছি।
আবির গতকাল সারারাত ঘুমাইনি। তার চোখ ঘুমে জলছে । তার মাঝে আব্বুর এসব কথা শুনে রাগে চক্ষু রক্ত লাল হয়ে গেছে।
কিন্তু রাগটাকে গিলে বলল:হাসপাতালে ছিলাম। গতকাল রাতে রাকিবের ছেলে হয়েছে সেখানেই ছিলাম।
আলি আহমেদ খান কিছুক্ষণ চুপ থেকে
বলল:হাসপাতালে ছিলে ভালো কথা।
কিন্তু একটা ফোন দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলে না। তুমি কী জানো গতকাল মেঘ মামুনি মাঝ রাত পর্যন্ত তোমার আসার অপেক্ষা করেছে। আমি রাত দুইটায় নিজ কিছু প্রয়োজনে রুম থেকে বের হই আর তখন দেখি মেঘ মামুনি দোতলার সিড়ির কাছে দাঁড়িয়ে আছে। অন্তত মেয়েটাকে তো জানাতে পারতে।
আবির: ফোনে চার্জ ছিল না। আমি ক্লান্ত উপরে যাচ্ছি।
বলেই আবির বড় বড় পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেল। এদিকে আরিফ মিষ্টিগুলো মালিহা খানের হাতে দিয়ে সবাইকে মিষ্টিমুখ করাতে বলল।
আরিফের দুচোখ তো অন্য আরেক জোড়া চোখ খুজতে ব্যস্ত। তাই সে ছাদের দিকে ছুটে চলল।
আবির রুমের ভেতর ঢুকে দেখল মেঘ ঘুমাচ্ছে।
আস্তে আস্তে সামনে গিয়ে মেঘের মুখের দিকে ঝুঁকে দাঁড়াল। আর ফিসফিস করে বলল:কী এক অদ্ভুত মায়া আমার কাদম্বিনীর মুখে। যা দেখে এই আবিরের হৃদয় থমকে যায় বারংবার।
আবির একটু ঝুঁকে মেঘের কপালে চুমু খেয়ে উঠে দাঁড়ালো আর ফ্রেস হতে চলে গেল।
কিছুক্ষণ পর আবির গোসল সেরে রুমে ঢুকতেই দেখলো, মেঘ ঘুমু ঘুমু চোখে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। আবির চুল মোছা বাদ দিয়ে গলায় টাওয়াল ঝুলিয়ে মেঘের সামনে এসে ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসলো। বিছানার আধো আধো ঘুম নিয়ে বসে থাকা মেঘের হাত ধরে বলল:
মেম… আপনি কী রাগ করেছেন?
মেঘ:আহিয়ার আব্বু আপনি এসেছেন? কাল রাতে কত চিন্তায় ছিলাম।
আবির:সরি ম্যাম… আসলে গতকাল রাতে তানভীরের গায়ে হলুদের পর ভাবলাম অফিসে যাই কিছু জরুরি ডকুমেন্ট নিয়ে আসি।
এমনিতেই তানভীরের বিয়ের চক্করে গত ১ সপ্তাহ ঠিক মতো অফিসে যেতে পারি নি। আগামী সোমবার একটা ক্লাইন্ট মিটিং আছে। তাই ভাবলাম বাকি কাজটা বাড়িতেই সেড়ে নিবো। আমি পৌছানোর পরপরই রাকিবের কল আসলো বলল তারাতারি হাসপাতালে যেতে । রিয়ার ব্যাথা উঠেছে। সিজারের আগে ব্লাড লাগবে। রাকিবের সাথে আগেই কথা ছিল রিয়ার ব্লাড লাগলে আমি দিব। কারণ আমাদের ব্লাড গ্রুপ একরকম। তাই তখনই ছুটে যাই হাসপাতালে। ব্লাড দেই আর রিয়া রাকিবের ফুটফুটে একটা ছেলে বাবু হয়েছে জানো।
ফোনে চার্জ ছিলনা। তাই তোমাকে সাথে সাথে জানাতে পারি নি। সেখানের ঝামেলা শেষ করে ডিরেক্ট অফিসে যাই, তোমাকে মেসেজ দেই।
তারপর বাকি কাজ সেরে এখন ফিরলাম।
বুঝছেন ম্যাম…
মেঘ:হুম আপনি রেস্ট নিন। আমি ব্রেকফাস্ট নিয়ে আসছি।
আবির: মেঘ তোকে এখন কোথাও যেতে হবে না। আমি অফিস থেকে ব্রেকফাস্ট করেই এসেছি। মাত্র ১রাত বাড়িতে ছিলাম না। চোখে মুখের কী অবস্থা করেছিস তুই। তুই কী আমাকে শান্তিতে থাকতে দিবি না?
মেঘ নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলল:
আবির ভাই… আপনি প্লিজ রাতে কোথাও যাবেন না। আমার অনেক একা একা লাগে।
কিচ্ছু ভালো লাগে না। আবির মেঘের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল : আচ্ছা যাব না। এখন তো একটু বুকে আসেন। আপনাকে ছাড়া আমার বুকটা যে মরুভূমির মতো শুকিয়ে আছে। মেঘ তখনই আবিরের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল।
আবির মেঘের হঠাৎ কর্মকান্ডে দু’কদম পিছিয়ে গেল। তারপর মেঘকে বুকের মাঝে লুকিয়ে নিল আবির।
আবির: মেঘ… তুই কী জানিস, তোকে ভালোবাসার তৃষ্ণা
আমার এ জনমে মিটবে না,
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোকে ভালোবাসবো… আমৃত্যু ভালোবাসবো…..!
যদি মৃত্যুর পরেও কোন জনম থাকে তখনও,, তোর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য তোর পিছু নিব।
মেঘ:আমিও ভালোবাসি। খুব ভালোবাসি।
আরিফ ছাদে গিয়ে কাউকেই দেখতে পেল না।
তাই তারাতাড়ি সিড়ি দিয়ে নেমে নিচে আসছে।
এতটাই তাড়াতাড়ি যে সামনে এক কিশোরী বেয়ে উপরে উঠছে তা খেয়ালই করেনি। মিম সামনে পড়ায় আরিপ ভড়কে গেল। নিজের ব্যালেন্স ঠিক না রাখতে পেরে কিছুটা সামনে ঝুঁকে গেল। তখনই মিম আরিফের বুকে দু হাত রেখে তাকে আটকে দিল। মিমের এমন মুহূর্তের জন্য মনে হলো তার সারা শরীরে বিদ্যাৎ খেলে গেল। কিশোরীর মন শিহরিত হয়ে সারা শরীর কাপছে। আরিফ আজ যেন বোকা হয়ে গেছে।
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ১+২
তার হৃদয়ে এক অদ্ভুত তোলপাড় হচ্ছে। যা হয়তো ওই পাশের কিশোরী বুঝতেই পারলো না। হঠাৎ নিচ থেকে মেঘের ডাক শুনে ওরাহয়তো ওই পাশের কিশোরী বুঝতেই পারলো না। হঠাৎ নিচ থেকে মেঘের ডাক শুনে দুজন সোজা হয়ে দাড়ালো। কিন্তু এখনো মিমের দু’হাত আরিফের বুকে। মীম হুস ফিরে পেতেই হাত সরাতে চাইলো। কিন্তু আরিফ তার বা বুকে রাখা মিমের হাত খপ করে ধরে বুকের বা পাশে চেপে ধরলো। আর বলল: প্রেয়সি তুমি কী শুনতে পাচ্ছো এই হৃদয়ের ধুকপুকানি মিম যেন আজ শীতল হয়ে জমে গেছে আরিফের ছোয়া পেয়ে। সে স্তব্দ, নির্বাক। তার কানে আরিফের কথাগুলো হয়তো পৌছায়নি।
আবার মেঘের ডাক ভেসে আসতেই মিম হন্তদন্ত হয়ে নিচে নামলো।
