Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৩

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৩

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৩
সুরভী আক্তার

সে রাত কেটেছে ।
ভার্সিটি আছে আজ । সকাল সকাল তৈরি হওয়ার আগে নিচে নামলো শাফাহ্ মেঘা । এখনো আটটা বাজে নি । সবার আগে ওদের দুজনকে খেতে দিয়েছেন শাহিনা কাবির । আদ্র চেঁচামেচি করবে পরে । ওরা ধীরে সুস্থে খাচ্ছে এখন । দুই রমনীর খাওয়ার মাঝে হাই তুলতে তুলতে নিচে নামলো রৌদ্র । ঘুমে টলছে এখনো ।এলোমেলো অবস্থা তার ।
শাফাহ্,মেঘা টেবিলে বসে নি । সোফায় বসে খাচ্ছিলো । সামনে টিভি চলছে । শাফাহ্’র সাথে সাথে মেঘার ও মনযোগ টিভির স্ক্রিনে । রৌদ্রের উপস্থিতির আভাস পায় নি কেউই । এর মাঝেই ঘুম ঘুম চোখে নিশানা করে ধপ করে মেঘার পাশে গিয়ে বসলো রৌদ্র । টুক করে মাথাটা নামিয়ে রাখলো রমনীর কাঁধে । ভারী এক শ্বাস ফেললো ।
মেঘা সচকিতে নড়েচড়ে ওঠে । ভাগ্যিস ড্রইং রুমে শাফাহ্ ব্যাতিত কেউ নেই । খাওয়া রেখে চোখ কুঁচকে আলতো চাপা কন্ঠে ডাকলো সে….

” রাইনো মুখো ,, কি হচ্ছে টা কি ? উঠুন ,, সরুন ।
” ঘুম পাচ্ছে । আরামে ঘুমোতে পারিনি ।
” তো রুমে গিয়ে ঘুমান । এখানে কি ?
ফের রৌদ্রের ঘুম ঘুম অসহায় নিভু স্বর ভেসে আসলো….
” তোকে ছাড়া রুমে শান্তি পাই না । চল না রুমে । তুই বড্ড বেইমান ‌। আবার এড়িয়ে চলছিস আমায় । বলেছিলি আমার কাছে থাকবি । অথচ পাশেও পাচ্ছি না তোকে ।
সে রাতের কথা মনে পড়ে মেঘার । কি কি বলে ফেলেছে ঘোরের বশে । পরে মনে পড়তেই মাথায় হাত পড়েছে । এতো তাড়াতাড়ি দূর্বলতা প্রকাশ করে ফেললো সে ? অবশ্য তখনের পর রৌদ্র কে পাত্তা দিচ্ছে না আর । গা বাঁচিয়ে রাখছে সবসময় । এখন মুখ বাঁকালো । লোকটা আবার ওর সাথে তুই তুকারি করছে । রাগ উঠলো এতে । দাঁতে দাঁত চেপে সরে বসলো । রৌদ্রের মাথা হেলে পড়ে এতে । তড়াক করে নিভু চোখ খোলার চেষ্টা করে ।
মেঘা বলে হিসহিসিয়ে….

” আমি আপনার কাছে থাকবো এটা কখন বললাম ?
” সেদিন রাতে !
” তখন আমার আবেগ কাজ করেছিলো , বিবেক না ‌। আমি এখনো আপনাকে ঘৃণা করি , রাইনো মুখো । খুব ঘৃণা করি । কাছে আসবেন না আমার । দূরে যান , সরুন ।
রৌদ্র মুখ কালো করলো । চরম আশ্চর্য ভাব ফুটলো মুখো ভঙ্গিমায় । কোমরে হাত রাখার ভঙ্গিতে রেগে বললো….
” ইডিয়ট , আবার ত্যারামো শুরু হয়ে গেছে ?
মেঘা মুখ ভ্যাংচায় । খাওয়া শেষ , উঠে গিয়ে কিচেনে প্লেট রেখে আসলো । বাঁকা চোখে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে ওরনা উড়িয়ে ডোন্ট কেয়ার ভাব দেখালো । চিকন কন্ঠে গুনগুন গান তুলে উঠতে লাগলো সিঁড়ি বেয়ে ।
আহম্মক বনে ওকে দেখে গেলো রৌদ্র । পরক্ষনে ওর এমন হালচাল দেখে খিচে ফেললো চোখ মুখ ।
” তবে রে….
কন্ঠ চিপে মৃদু উচ্চারণ করে পিছনে তেড়ে গেলো রৌদ্র । মেঘা ঘাড় ঘুরিয়েছিলো , রৌদ্র কে তেড়ে আসতে দেখে ভড়কালো । এলোমেলো কদমে ছুটলো করিডোর বরাবর । সমান তালে রৌদ্র । ছুটে গিয়ে ঘরে ঢোকে মেঘা , তার পেছনে সে ।
কেউ ছিলো না । কারোর চোখে না পড়লেও এক জনের চোখে ঠিক পড়লো । কড়া তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ওদের দুটোকে নজরে নিলেন তোফায়েল কাবির । যা ভাবছিলেন , তাই হচ্ছে । এরা জড়িয়ে গেছে একে অপরের সাথে ।
তবে কি হবে এর পরিনতি ? তিনি ভুল কিছু চান না । সবার চাওয়ার সাথে তার চাওয়া টাও মিলে যায় । তবে এর পূর্নতা সন্দিহান ।

থমথমে ভঙ্গিতে ঘরে পায়চারি করছে আদ্র ।
বিচলিত হৃদয় । ছটফট লাগছে ভীষণ । আজ ভার্সিটির প্রথম ক্লাস ছিলো । কিন্তু শিশির আসে নি । পুরো ক্লাস উদ্বিগ্নতা নিয়ে পার করেছে সে । প্রতিটা মুহুর্তে অপেক্ষা করেছে ঐ মেয়ের । উচাটনে বারংবার দরজা পানে দৃষ্টি গেছে । কিন্তু না , আসে নি শিশির । কথাও হয় নি আদ্রের সাথে । মেঘার সাথে কথা হয়েছে । ইচ্ছে করেই আসে নি ঐ মেয়ে ।
আদ্র বেশি ভাবতে চাইছে না এই নিয়ে । সময় দেওয়া উচিত ওকে । কিন্তু মন মানছে না । অবাধ্য হয়ে ভেবে ফেলছে শিশিরের কথা । কেমন আনচান লাগছে । শূন্য লাগছে সবকিছুতে । ঘরে সে নেই, ফাঁকা লাগছে তাই । অথচ মেয়েটা ওর ঘরে ছিলো মাত্র দুটো রাত । এতেই যেনো খুব করে জড়িয়ে গেছে ।
আদ্র আর পায়চারি করতে পারে না । সন্ধ্যার আজান পড়বে খানিক বাদ । সেই সকাল থেকে বারবার ফোন হাতে নিয়েছিলো শিশির কে কল করার জন্য । কিন্তু করে উঠতে পারে নি । রেখে দিয়েছে ।
এখন আর পারা যাচ্ছে না । শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম । ঘেমে যাচ্ছে শীতেও । দ্রুত ফোন নিলো সে । মেয়েটার কাছে এখনো ওর আগের ফোনটাই আছে । সেটাতেই কথা হয়েছে মেঘার সাথে । আদ্রের কাছে নাম্বার ও আছে । সে তড়িঘড়ি করে কল লাগালো । প্রথম দুবার রিসিভ না হলেও তৃতীয় বার আর বাদ পড়লো না । রিসিভ হতেই ভেসে আসলো নরম কন্ঠের সালাম….

” আসসালামুয়ালাইকুম !
আদ্রের বক্ষ শীতল হয় তার কন্ঠে । ছটফটানি মিলিয়ে হীম হয়ে আসে নিমিষেই । রকিং চেয়ারে বসে ধপ করে । শরীর এলিয়ে নিঃশব্দে উত্তর করে ।
কন্ঠ ওঠে না । সাঁড়া না পেয়ে শিশির আবার রিনরিনে গলায় বলে….
” হ্যালো ,, কে বলছেন ?
” তোমার স্বামী বলছি ।
লোকটার হিমশীতল কন্ঠ । শিহরণে গায়ে কাঁটা দেয় শ্যামলিনীর । আদ্রের কন্টাক্ট তার কাছে ছিলো না ।
” নিজের হাসবেন্ডের নাম্বার টাও সেভ রাখোনি ফোনে ? কেমন বউ তুমি ? বেয়াদব !!
শিশির গোমড়া মুখে বলে….

” কিছু বলবেন ?
” অনেক কিছু বলবো ? শুনবে, প্লিজ ?
” বলুন !
” আজ ভার্সিটি আসো নি কেনো ?
” ইচ্ছে হয় নি !
” কাল আসবে ?
” জানি না !
” এ বাড়িতে কবে আসবে ?
” যাবো না আর !
আদ্র রাগলো না । নীরবে হাসলো । বললো….
” কি করছো ?
” কিছু না !
” খেয়েছো রাতে ?
” এখনো সময় হয় নি ।
এবার আর কেউ কিছু বললো না । নীরবতা পিনপতন । মিনিট দুয়েক পেরোয় এভাবেই । কেবলই দুজনার নিঃশ্বাস শোনা যায় দুপাশ হতে । অধিকক্ষন নীরবতা সইলো না । পরপর উত্তর করেছে শিশির । এবার প্রশ্ন করে বসলো….

” আপনি কি করছেন ?
” তোমাকে মিস করছি !
আকস্মিক মেয়েটার ঠোঁট চওড়া হলো । হুট করে নিঃশব্দে হাসলো পরিপাটি । কেনো তা ঠাহর করতে পারলো না । পরক্ষনেই হাসি টুকু ঢেকে বললো ভারী গলায়….
” রাখছি !
” উহু । থাক !
” আর কিছু বলবেন ?
” না !
” তাহলে রাখি !
” না । ফোন ধরে রাখো ‌। নিঃশ্বাস শুনবো তোমার ।
” কতক্ষন !
” বিরামহীন ।
” কাজ আছে আমার !
” করতে হবে না । আমার বউ কাজ করবে না । আচ্ছা শোনো , কাল নিতে আসি তোমায় ?
” না ।
” তাহলে কবে ?
” কোনো দিন না ।
” ভেবেচিন্তে বলো কিন্তু । যা বলবে , তার উল্টো টা করবো আমি । যদি একবার নিয়ে আসি , তাহলে আর যেতে দেবো না কখনো ।
” ভয় পাই না আমি আপনাকে ! ফোন রাখছি….
” আই নো । খুব সাহসী তুমি । দেখবো কতটা সাহস রাখতে পারো । ফোন রাখার চিন্তা করবে না ভুলেও । ভালো হবে না তাহলে । কানে ধরে রাখো । নয়তো কাছাকাছি । অনুভব করতে চাই তোমায় । বাঁধা দিও না ।

টানা দু’দিন কেটেছে মাঝে ।
সবাই যে যার মতো চলছে । একমাত্র রৌদ্র ব্যাতীত । তার চলাচলে বিরাট পরিবর্তন এসেছে আজকাল । অযথা বাড়ির বাইরে বেরোয় না । বেরোলেও দুপুরে খাওয়ার আগে ঠিক ফিরে আসে । আবার রাতেও তাই ।
আজ রাতেও ফিরেছে । ঘড়ির কাঁটা ঠিক রাত সাতটা বেজে আটান্ন মিনিট । হন্তদন্ত হয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকলো সে । রাতের খাবারে বসবেন সকলে । ড্রইং রুমেই উপস্থিত ছিলেন । রৌদ্র কে ওভাবে দেখে চকিতে তাকালেন । বাড়ির ভেতরে ঢুকেই সাবধান হলো রৌদ্র । টানটান করলো নিজেকে । ড্যানিম টেনে টুনে লম্বা করলো । কলার ঠিক করে গলা ঝাড়লো । এগোলো হেলে দুলে…..
” হেয়য়য় গাইসস ,
এখনো ডিনার রেডি হয় নি ? মম , খেতে দাও । খিদে পেয়েছে তো ।
চোখ সরু করে সকলে । কদিন ধরে ছেলের মতিগতি বোঝা যাচ্ছে না । শুভ্র তীক্ষ্ণ স্বরে জানতে চাইলো…..
” রুডি , তোর কি হয়েছে বলতো ?
” কি আবার হবে , ব্রো ?
” ইদানিং এতো তাড়াতাড়ি ফিরছিস যে ? লাঞ্চ, ডিনার , সব সময় দেখা যাচ্ছে তোকে । ইন্টারেস্টিং !
গা দুলিয়ে হাসলো রৌদ্র । শাফাহ্ মেঘা একসাথে নিচে নামছে । রৌদ্র সেদিকে খেয়াল রেখে ঠোঁট চেপে বললো…

” তাড়াতাড়ি ফেরার কারন আছে ব্রো । শুনবে ? লজ্জা পেও না আবার !
কেউই বুঝলো না । বড়রা নির্বিকার ভাবে শুনছেন কেবল । শুভ্র জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই মুখ টিপে লাজুক হাসলো যুবক । মেঘা নিচে এসে থেমেছে । রৌদ্র মিটিমিটি স্বরে বলে….
” আমার বউ আমাকে তাড়াতাড়ি ফিরতে বলেছে । বলেছে আটটার আগে যেনো বাড়ি ফিরে আসি । তাই আসছি । আরো বলেছে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার এসব কিছুই যেনো সবার সাথে করি । তাই করছি । সবার সাথে ভালোমতো কথা বলতে বলেছে , তাই বলছি । মদ খেতে বারন করেছে । ট্রাস্ট মি , তিন দিন ধরে অ্যালকোহল ছুঁয়ে দেখিনি । সিগারেট ও ছুঁই নি । আজকাল বেপরোয়া গিরি করি আমি ? তুমি বলো ? করি না তো ! আমার বউ বারন করেছে । তাই সব বেপরোয়া গিরি ছেড়ে দিয়েছি ! বাধ্য হয়ে গেছি পুরো । জানো কেনো ?
রৌদ্রের কথা গুলো তাজ্জব বনে শুনলেন সকলে । মূর্ত বনলো একেকজন । চেয়ে রইলো বিষ্ময়ে । রৌদ্র বেশ সিরিয়াস ভঙ্গিতে সবটা বলছে । রুবিনা কাবির টেবিলের পাশে থম মেরে দাঁড়িয়ে সবটা কর্নপাত করলেন । আশ্চর্য দৃষ্টিতে চেয়ে আছেন বাড়ির দুই কর্তা । শুভ্র অস্ফুটে বলে রৌদ্রের শেষ কথাটাকে টেনে….

” কেনো ?
এবার ফিক করে হাসে রৌদ্র । আড়চোখে তাকায় মেঘার দিকে । মেঘা আহম্মক । রৌদ্রের দৃষ্টি বুঝেই আঁতকে উঠলো । এই লোক বেফাঁস বলে ফেলবে এক্ষুনি । ভরসা নেই । ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো রমনী । বড় বড় আঁতকানো চোখে বড়দের দেখে নিলো । রৌদ্র বলতে যায়….
” বিকজ ,, আমার বউ আমাকে বলেছে …আমি যদি এসব মেনে চলি, তাহলে ও আমার রুমে…..
” রাইনো মুখো ,,, ছাড়বো না আমি আপনাকে ।
যুবক কথা শেষ করতে পারলো না । তার আগেই ঝাঁজিয়ে উঠলো মেঘা । সশব্দে চিৎকার জুড়ে দাঁত চেপে তেড়ে গেলো রৌদ্রের দিকে । ভড়কে পেছায় রৌদ্র ।
” অসভ্য লোক , আর একটা কথা বললে ঠোঁট সেলাই করে দেবো আপনার ।
পিছিয়ে যায় রৌদ্র । চমকায় সবাই ।
রৌদ্র ঢোক গিলে বলে…..
” ওও সুইটহার্ট , আমি আবার কি করলাম ? সত্যিই বলছি তো । প্রমাণ তুই নিজে । মিথ্যে বলা মহাপাপ , জানিস না ?

” শাট আপ ,, একদম চুপ করে থাকুন !
” কিন্তু আমি তো সত্যিই বলেছিলাম । তুই কথা দিয়ে কথা রাখিস নি । কিন্তু আমি ঠিকি রাখছি ।
তুই আমাকে বলেছিস , আমি তোর কথা শুনলে তুই আমার রুমে….
” আবার ? চুপপ । একদম চুপ করে থাকুন । নয়তো ভালো হবে না বলে রাখলাম । মুখে আঙ্গুল দিন ।
রৌদ্র তৎক্ষণাৎ ঠোঁটে আঙুল চেপে ধরে ।
বিষ্ময়ে কিংকর্তব্য বিমূঢ় সকলে । হাঁ বনে দেখছে । মেঘার বিকট চিৎকার । রৌদ্র কেমন বাধ্যের ন্যায় চুপ করে গেলো । জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়ালো একপাশে । ছেলের এমন বাধ্যতা দেখে খানিক হাসলেন রুবিনা কাবির ।
অবাক লোচনে চেয়ে বাকিরা । মেঘা অসহায় মুখে তাকায় তোফায়েল কাবিরের দিকে । ইনোসেন্ট হয়ে বলে মিনমিন করে…..
” আমি কিছু করিনি ।
” এইই ইডিয়ট , মার খাবি কিন্তু । মিথ্যে বলছিস কেনো ?
মেঘা ফিরে চোখ রাঙানি দিতেই আবারো চুপসে যায় ও ।
এবার ফিক করে হাসে আদ্র আর শুভ্র । তাদের ভাই বড় ফাঁসা ফেঁসেছে । জব্দ হচ্ছে মারাত্মক ।
তৌসিফ কাবির পরিস্থিতি বুঝে গলা ঝেড়ে বললেন….
” হয়েছে ,, খেতে বসো সবাই ।

আজ তিন দিনের মাথায় ভার্সিটিতে এসেছে শিশির । বাজে এগারোটা পনেরো । চুপচাপ গুটিগুটি পায়ে ক্লাসের পথে এগোলো সে । প্রথমেই আদ্রের ক্লাস ছিলো । দশটা থেকে এগারোটা অবধি । সে আদ্রের ক্লাস করবে না । এড়িয়ে যাবে । দ্বিতীয় ক্লাস থেকে বাকিগুলো এ্যাটেন্ড করবে । এই তার প্লান । সেই মোতাবেক ইচ্ছে করেই দেরি করে এসেছে । খুব দূর্বল পায়ে ধীরে ধীরে ক্লাসের দিকে এগোয় সে । দেরি হয়ে গেছে পাঁচ মিনিট । স্যার নিশ্চয়ই ক্লাসে ঢুকে পড়েছেন । তবুও তেমন হেরফের দেখালো না শিশির । স্বাভাবিক গতিতে থামলো ক্লাসের দরজার কাছে ।
টিচার্স চেয়ারে পিছু ফিরে বসে আছে কেউ । শিশির না দেখেই বেখেয়ালে বলে বসলো…
” মে আই কাম ইন, স্যার ?
অগত্যা আদ্রের ঠোঁটের কোণে এক চমকিত হাসি ভিড় জমায় । মুহুর্তেই উঠে পিছু ফেরে সে । মুখোমুখি হয় শিশিরের সাথে । চমকায় শিশির । এই লোক এখনো ক্লাসে ? কিন্তু এনার ক্লাসের সময় তো পেরিয়ে গেছে । চোখ বড় বড় করলো মেয়েটা ।
বাকি স্টুডেন্ট রা বিরক্তি নিয়ে তাকায় । আজকেও লেট এই মেয়ে । স্যার অ্যালাউ করবে না । ফারিনের বিরক্তি চরম । শিশির কে দেখেই মুখ কুঁচকে ফেললো সে । পরক্ষনে একটু স্বস্তি পেলো । খবর পেয়েছে , বিয়ে হয়েছে এই মেয়ের । আর টেনশন কিসে ? উৎসুক হাসলো সে । আদ্র তো ক্লাসে ঢুকতেও দেবে না একে । মুখ বাঁকালো ফারিন ।
শিশির তড়িঘড়ি করে সরে যেতে চায় । তাৎক্ষণিক সবাইকে চমকে দিয়ে আদ্র বলে ওঠে গলা বাড়িয়ে….

” ইয়াহ্ , কাম ইন !
থমকায় শিশির । সাথে বাকিরাও । আদ্র স্যারের ক্লাসে দেরি করে আসার পরও এই মেয়েকে অ্যালাউ করলো আদ্র ? এটা অবিশ্বাস্য । তবে সত্য ।
আদ্রের ক্লাস শেষ হয় বারোটার দিকে । শিশির এটেন্ড করেছে অনিচ্ছা সত্ত্বেও । ক্লাস শেষে বেরিয়ে যেতে যেতে আদ্র বলে গেছে , মেঘা আর শাফাহ্ যেনো বাইরে আসে এক্ষুনি । আর ইঙ্গিতে বুঝিয়েছে, শিশিরকে নিয়ে আসবে ওরা । বাকি ক্লাস গুলো করবে না আর । আজ সিরাত আর আহিয়ান ওদের ফ্লাটে শিফট করবে । বাড়ি ছাড়ছে ওরা । বাড়িতে সবার মন খারাপ ।
শিশির কে নিয়ে জোর পূর্বক ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসলো দুই রমনী । মেঘা আর শাফাহ্’র সাথে পূণরায় শিশির কে দেখে রি রি করে জ্বলে ওঠে ফারিন । পিছু পিছু হিসহিসিয়ে বেরোয় সে নিজেও । ডিরেক্ট বাইরে বেরিয়েছে সবাই । গেটের বাইরে তিনজন অপেক্ষা করছে । আদ্র গাড়ি নিয়ে আসার অপেক্ষা । ফারিন রাগে গজগজ করে সেদিকে যায় । মেকি স্বরে বলে…..

” কনগ্রাচুলেশনস শিশির । শুনলাম বিয়ে হয়েছে তোমার । সব ঠিকঠাক তো ?
উত্তর করে শাফাহ্……
” একদম ঠিকঠাক আছে ।
” তা শিশির, হাসবেন্ড কি করে তোমার ? একদিন দেখা করাও আমাদের সাথে । আমরাও দেখি ।
বিপরীতে জোর পূর্বক হাসলো শিশির । শাফাহ্ ছটফট করে কিছু বলতে গেলে হাত চেপে থামিয়ে দিলো । আদ্রের সাথে ওর বিয়ের কথাটা অপ্রকাশ্যই থাক । ফারিন আবার কিছু বলতে যাবে । এর আগেই গাড়ির শব্দ আসে । পাশে এসে থামে আদ্রের গাড়ি । শাফাহ্ তড়িঘড়ি করে শিশির কে ঠেলে ঠুলে উঠে পড়লো গাড়িতে ।
শিশির কে ওদের গাড়িতে উঠতে দেখে আরো বেশি তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে ফারিন । এই মেয়েকে সহ্য হয় না তার । বিয়ে হয়ে গেছে , তবুও আদ্র স্যারের পাশাপাশি চিপকেই রয়েছে এই মেয়ে । রাগে হাত ছুঁড়ে ফোঁস করে উঠলো সে ।

সিরাত চলে যাচ্ছে । গোছগাছ শেষ , সম্পুর্ন তৈরি ওরা । টুকটাক ল্যাগেজ গাড়িতে ওঠানো হয়ে গেছে । শুভ্র যাচ্ছে সাথে । বাড়ির বাইরে সবার ভিড় মেয়েকে বিদায় দেওয়ার জন্য । কমবেশি সবার চোখ ভেজা । রুবিনা কাবির আঁচলে মুখ চেপে রেখেছেন । মেয়েকে কাছ ছাড়া করা হয় নি । গত তিন বছর এক দিনের জন্যও চোখের আড়াল হয় নি । এখন চলে যাচ্ছে এই মেয়ে । কষ্ট তো হবেই । বুকে পাথর চাপানোর মতো ভার অনুভূত হচ্ছে । সিরাত একে একে সবার থেকে বিদায় নেয় । মায়ের কাছে যেতে ভয় লাগে তার । গেলে পরে কেঁদে ফেলে দুজনাই । শাহিনা কাবির রুবিনা কাবির কে টেনে সামলে নেন । মেঘার কাছে আসতেই দুহাতে শক্ত করে সিরাত কে জাপটে ধরলো মেঘা । কেঁদে ফেললো ফুঁপিয়ে । আদ্র, শাফাহ্ , আর সিরাত । এই তিন জনই ওর সবচেয়ে আপন ছিলো এ বাড়িতে । সিরাত একটু বেশি । মেঘা কে সবথেকে বেশি বুঝতো সে । সেই ষোড়শী কন্যাকে সবকিছু মানিয়ে নেওয়া শিখিয়েছে ও । আজ ও নিজে চলে যাচ্ছে । কেমন শ্বাস রুদ্ধ কষ্ট লাগছে মেঘার মনে । ফুঁপিয়ে কান্না চেপে ধরে বললো সে….

” তোমাকে মিস করবো আপু । ভীষণ বেশি মিস করবো ! তোমার আদর , শাসন , বকা , সব কিছু মিস করবো । এ বাড়িতে তুমি আমার অন্যরকম কেউ ছিলে । এখন থেকে আর থাকবে না । চলে যাওয়া টা কি খুব দরকার ছিলো ? থাকতে পারতাম না আমরা একসাথে ?
সিরাত ওকে আলগোছে সরালো । ভেজা চোখে মিষ্টি হেসে বললো…
” একসাথে ? থাকবি তুই এ বাড়িতে ? প্লিজ থেকে যাস ! ছেড়ে যাস না কাউকে । আর আমি কি একবারে চলে যাচ্ছি নাকি ? প্রত্যেক সপ্তাহে আসবো তো । একটুও মিস করার সুযোগ পাবি না । যদি ভুল করেও মিস করিস , তাহলে টুক করে চলে আসবি আমার কাছে । ওকে ?
মেঘা ভরা চোখে হাসার চেষ্টা করলো । শাফাহ্ ঠোঁট উল্টে রেখেছে ‌। সিরাত কে পেয়ে আহ্লাদী হয়ে কেঁদে উঠলো । ওকে সামলাতে হিমশিম সিরাত । আদ্র ফিক করে হেসে ঠাট্টা করে বললো….
” গাব্বু , অতো কাঁদতে হবে না । নাক দিয়ে পানি পড়ছে । টিস্যু আছে আপু ?
অমনি তেতে উঠলো মেয়েটা । কান্নার মাঝে হেসে ফেললো আবার । আদ্রের বাহুতে আঘাত করে বললো….
” আদ্র ভাইয়ার বাচ্চাাাা , ভালো হচ্ছে না কিন্তু ।
” টুকটুকির বাচ্চা , কাঁদবি না একদম । কাঁদলে একদম ভালো লাগে না তোকে ।
ওদের দুষ্টুমি রেখে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশিরের কাছে এসে দাঁড়ায় সিরাত । শিশির ইতস্তত । সিরাত মৃদু হাসে…

” তোমাকে খুব বেশি চেনা হয় নি শিশির । চেনার আগে চলে যাচ্ছি । তুমি এখন আমার ভাইয়ের বউ । আদ্র একটু আধটু পাগল । তবে রৌদ্রের মতো অগোছালো নয় । যেটুকু গোছানো বাকি, সেটুকু গুছিয়ে নিও যত্ন করে । আমার ভাই’রা খুব ভালো । দেখো, খুব সুখি হবে ।
বিপরীতে জোর পূর্বক হাসে শিশির ।
অবশেষে সিরাত চলে যায় এ বাড়ি থেকে ।
পুরো বাড়িতে যেনো শূন্যতা নেমে আসলো ওদের তিন জনের বিরহে । থমথমে গুমোট পুরো বাড়ি । একেকজন একেক দিকে স্থির । বসে আছেন চুপচাপ । শিশির,মেঘা আর শাফাহ্ , ওরা এক রুমে । রৌদ্র এতক্ষণ ছিলো না ।

আটটা বাজতেই আসলো সে । পরিবারের সবাইকে এমন মনমরা দেখে হাইফাই করার চেষ্টা করলো । এটেনশনে পেলো না কারোরই । আম্মুর সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও লাভ হলো না । মনে নেই , সিরাত আজ চলে গেছে । ভুলে গেছে বেমালুম । রৌদ্র বেশি ঘাটলো না । ধুপধাপ উঠলো সিঁড়ি বেয়ে । ফ্রেশ হয়ে মেঘার রুমে যায় সে । সেখানেও মনমরা সকলে ।
রৌদ্র গলা খাঁকারি দিয়ে ঘরে ঢোকে । শিশির কে দেখে ঠাট্টা করে বলে….
” আরে কুয়াশা , এসে গেছো ? খবর কি ? ভালো টালো আছো ?
অপ্রস্তুত মেয়েটা উত্তর করতে দোনামোনা করে….

” জি ভাইয়া !
রৌদ্র গিয়ে ওদের সাথে যোগ দিলো । খাটে আধশোয়া হয়ে মেঘার কোল ঘেঁষে মাথা রাখলো । রমনী কে দীর্ঘ পলকে দেখলো । এলোকেশীর অবিন্যস্ত কেশ পিঠ ছাপিয়ে লুটোচ্ছে বিছানায় । রৌদ্র এক গোছা কুন্তল টেনে নাকের কাছে নিয়ে ঘ্রাণ টেনে নেয় । মুচকি হেসে বলে….
” আজ সবার কি হয়েছে ? এতো আপসেট কেনো ?
” সিরাত আপু চলে গেছে । মনে আছে আপনার ?
মেঘার কিড়মিড় স্বর । এক‌ ধাক্কায় উঠে বসলো রৌদ্র । চমকানোর ভঙ্গিতে বললো…..
” ওওও শিট , আপু চলে গেছে ? ইশশশ , মনে ছিলো না আমার । তুই আগে বলবি না আমায় ?
মেঘার কটমট চাহনি দেখে পরক্ষনে নিজেকে শুধরে বললো…..
” সরি সুইটহার্ট । তুমি বলবে না আমায় ! কখন গেছে আপু ?
” সন্ধায় ।
রৌদ্র আর কিছু বলার আগেই ঘরের দরজায় টোকা দিলো আদ্র । উপস্থিত কাউকে তোয়াক্কা না করে বললো রাশভারী গলায়….

” শিশির , রুমে এসো ।
রৌদ্রের চোখ মুখ কুঁচকে আসে এহেন কথায় । কিছুটা বিব্রত হয় । বিয়ে হয়েছে বলে বউয়ের প্রতি অধিকার দেখাচ্ছে ও ? বউকে ঘরে ডাকছে ? দূরত্ব সহ্য হচ্ছে না ? তার মানে ওদের মধ্যে সব ঠিকঠাক ? এতো তাড়াতাড়ি ? এদিকে রৌদ্র আর মেঘার মাঝে তো এখনো সব খিচুড়ি পাকিয়ে আছে । তড়াক করে দৃষ্টি ছলকালো রৌদ্র ।
এখানে রৌদ্রের সামনে সংকোচিত শিশির । তার চেয়ে আদ্রের সামনে যাওয়া ভালো । সে বিছানা থেকে নামতেই মেয়েদের মতো মুখ বাঁকিয়ে ভ্যাঙ্গায় রৌদ্র….
” শোনো কুয়াশা , এ বাড়ির মেজো ছেলে তোমাকে হুট করে এক প্রকার জোর করে বিয়ে করেছে । তুমি কিন্তু এই বিয়েতে রাজি ছিলে না, মনে আছে তোমার ? এটা ভুলে যেও না । আদ্র কিন্তু তোমার প্রফেসর , এটা সবচেয়ে বড় কথা । ভুলে যেও না এসব ! হ্যাঁ ? যাও, স্বামী ডাকছে । স্বামীর ডাকে সাড়া দিতে হয় । যাও কুয়াশা,, ঘরে যাও ।
আদ্র চোয়াল খিচে রেগে মেগে তাকালো । থোরিই না পাত্তা দিলো রৌদ্র । একে আদ্র কে মেঘার দিক থেকে সহ্য হয় না । এখন আবার বিয়ের কদিন যেতে না যেতেই বউয়ের সাথে এভাবে মাখো মাখো সম্পর্ক, এটাও সহ্য হচ্ছে না । ওদিকে রৌদ্রের বিয়ের পাঁচ বছর হয় । ওদের এখনো কিছুই হলো না । মানা যায় এটা ? কাবির পরিবারের ছোট ছেলে, সবার আগে বিয়ে করেও লাভ হলো কই ?
শিশির রুম থেকে বেরোনোর আগে রৌদ্রের মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি চাপলো । তড়িঘড়ি করে বিছানা থেকে নেমে শুনিয়ে শুনিয়ে হাক ছাড়লো…..

” সুইটহার্ট , রুমে চলো । প্রেম প্রেম পাচ্ছে আমার ।
এমন নির্লজ্জ কথায় চোখ গোল গোল করে তাকায় মেঘা । চকিতে চায় শিশির ।
রুমে এসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে এক‌ জায়গায় জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শিশির । সন্ধাতেই খাওয়া দাওয়া হয়েছে সিরাতের যাওয়ার আগে । খিদে নেই আর । খেতে হবে না ।
চুল আঁচড়ে বেনি গেঁথে নিলো সে । আদ্র এসে থামে ওর ঠিক পিছনে । মিররে দৃষ্টি বিনিময় হয় দুজনের । এক নজরেই দৃষ্টি নামায় শিশির । বেনি খানা টান টান করে সরে আসতে গেলে বাঁধা পড়ে । আদ্র আটকায় ওকে । আলগোছে টেনে ধরে বাম হাত । মাঝে মাঝে লোকটার এমন আকস্মিক স্পর্শ কেমন অদ্ভুত লাগে মেয়েটার কাছে । ঢোক গিলে বলে চোখ নামিয়ে বলে…..

” হাত ছাড়ুন !
আদ্র ওর কথায় ভুললো না ‌। হাতখানা এগিয়ে নিয়ে অনামিকা আঙ্গুলে টুক করে এক খানা রিং পড়িয়ে দিলো । শিহরণ ভুলে নড়বড়ে দৃষ্টিতে তাকালো রমনী । ফের শিহরণ জাগিয়ে ওর হাতের পিঠে নরম আবেশে ঠোঁট ছোঁয়ায় আদ্র । দম খিচে নেয় মেয়েটা । কুঁকড়ে আসে পুরো শরীর । আদ্র মুচকি হেসে চোখে চোখ রেখে ইশারা করে বলে…
” পছন্দ হয়েছে ?
কম্পিত চোখে নিজের হাতের দিকে তাকায় সে , অতঃপর লোকটার দিকে । জড়তা ঠেলে কম্পিত স্বরে বলে…..
” কেনো করছেন এমন ?
” কি করছি ?
” এসব !
” কি সব ?
” সবার আগে বলুন , বিয়ে কেনো করেছেন আমায় ?
” এমনি !
” হেয়ালি করবেন না ।
” করছি না তো । ওয়েট , আর একটা জিনিস দেওয়ার আছে ।
শিশির কে ছেড়ে টেবিলের ড্রয়ার থেকে কিছু একটা বের করে আনলো সে । একটা ফোনের বক্স । আদ্র মৃদু হেসে বাড়িয়ে দিয়ে বলে…..

” তোমার ফোন , আজ থেকে এটা চালাবে । আমার একটা সিম কার্ড দিয়েছি । মোটামুটি সবার নাম্বার ও সেভ করে দিয়েছি ।
শিশির হতবাক হয়ে চেয়ে রয় ‌। আদ্র প্যাকেট থেকে ফোনটা বের করে ওর হাতে ধরিয়ে দেয় । একটু কাছ ঘেঁষে আলতো হাত উঁচিয়ে বাম কপোলের ধারে রাখতেই সিটিয়ে যায় মেয়েটা । চোখ নিভিয়ে গলা ভেজায় । পেছাতে গেলে হেলে পড়ে ড্রেসিং টেবিলের উপর । ঠোঁট কামড়ে হাসে আদ্র , ঝুঁকে রমনীর চিবুক উঁচিয়ে ধীরুজ স্বরে বলে…..
” কি হলো ! ভয় পাচ্ছো ? তুমি নাকি ভয় পাও না ।
” স্যার , সরুন প্লিজ ! অস্বস্তি হচ্ছে ।
” অস্বস্তি হতে হতেই স্বস্তি এসে যাবে ।
কান্না পায় শিশিরের । পুরো শরীর কাঁপে তিরতির করে ‌। আদ্র স্পষ্ট অনুভব করে তা । মেয়েটার অপ্রস্তুত অবস্থা কাটাতে দূরে সরে আসে । ফাঁক পেয়ে হাঁফ ছাড়ে শিশির । ঢোক গিলে সামলায় নিজেকে ।
পরক্ষনে ডাকে হুট করে…..

” স্যার !
ছলকায় আদ্র । ঘাড় ঘুরিয়ে উত্তর করে সহসা…..
” হু ।
কেনো ডাকলো ? জানা নেই ।
আরো বেশি অপ্রস্তুত হলো মেয়েটা । ক্ষণিকের ব্যবধানে অন্য প্রশ্ন করে বসলো…..
” মেঘা এ বাড়ির মেয়ে ? না মানে , রৌদ্র ভাইয়া….
কথা শেষ করার আগেই আদ্র উত্তর করে….
” মেঘ রৌদ্রের বউ । ঠিক যেমন তুমি আমার ।
” তারমানে ও এ বাড়ির মেয়ে নয় ?
” উঁহু , বউ । তোমার মতো ।
” ওও, জানতাম না । আমি তো জানতাম ও এ বাড়ির মেয়ে ।
” ভুল জানতে ।
” কবে বিয়ে হয়েছে ?
” পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে ।
শিশির বিরাট ঝটকা খেলো । চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে অবিশ্বাসে উচ্চারণ করলো….
” পাঁচ বছর !

” হু , ওদের বিয়েটা স্বাভাবিক ভাবে হয় নি । রুডি একটু বেপরোয়া । ফোর্স করে বিয়ে করেছিলো ওকে । তারপর সুইজারল্যান্ড পাড়ি জমিয়েছিলো । পাঁচ বছর কারোর সাথে সেভাবে যোগাযোগ করে নি । ইনফ্যাক্ট, মেঘের খবর নেয়নি , দেখেও নি । ফিরেছে অক্টোবরের শুরুতে । তারপর আবার গেছিলো , থাকতে পারে নি মেঘকে ছাড়া । চলে এসেছে । মেঘের কেউ নেই , তাই শুরু থেকেই ও আমাদের কাছে ছিলো । তবে একজন আছে । জানি না কি হবে এখন ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫২

” এখন রৌদ্র ভাইয়া আর মেঘার সম্পর্কটা স্বাভাবিক ?
” উঁহু , আমাদের মতোই অস্বাভাবিক । পার্থক্য শুধু রুডি ফোর্স করার এবিলিটি রাখে , কিন্তু আমি রাখি না । রাখলে আমাদের সম্পর্কটা আর অস্বাভাবিক থাকতো না ।
আদ্রের কথার অর্থ বুঝতে বেগ পোহালো না শিশির । চোখ নামিয়ে নিলো তড়িতে । আদ্র কেমন কাতর কন্ঠে দাবি করে…..
” সম্পর্কটা স্বাভাবিক চাই আমি । খুব শীঘ্রই চাই । মাইন্ড ইট….

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৪