Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫
সুরভী আক্তার

এসাইনমেন্ট চেক করতে গিয়ে কনসেনট্রেটে বাঁধা পেয়ে বিরক্ত হলো আদ্র । কপালে তিন স্তরের ভাঁজ ফেলে বিরক্তি সমেত দরজার দিকে তাকালো । একটা চেনা মুখ । প্রায়শই এই মুখের মেয়েটা ওর ক্লাসে দেরি করে আসে । দেরি করে আসার এক্সকিউজ রোজ অভিন্ন । মেয়েটা জড়োসড়ো হয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে । ঘন ঘন দম ফেলছে , ছুটে এসেছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে । শ্যামলা, ছিমছাম গড়নের খুব সাধারণ একটা মেয়ে । পড়নেও সাদামাটা পোশাক । খয়েরী রংয়ের একটা থ্রি পিস পড়নে । মাথার হিজাব টা অগোছালো । ঠিকঠাক ভাবে বাঁধতে পারে নি । হয়তো সময় সংকুলানে ।
আদ্র এক পলকে চোখ সরিয়ে রাশভারী কন্ঠে বলল….

” ইউ আর অলরেডি ফিফটিন মিনিট লেটস । অর ইউ নো , আমার ক্লাসে লেইট স্টুডেন্ট অ্যালাউ নয় । সো , লিভ ।
” সরি স্যার , আর লেইট হবে না । একচুয়েলি…
” নো এক্সকিউজ , রোজ রোজ এক বাহানা দেবে না ।
মেঘা আর শাফাহ্ একে অপরের দিকে সচকিতে তাকালো । শাফাহ্ বিড়বিড়িয়ে বললো অস্পষ্ট স্বরে…
” শিশির…
অতঃপর উঠে দাঁড়ালো আচমকা ।
” স্যার , শিশির বাহানা দিচ্ছে না । ও সত্যি বলছ….
” ইউ শাট আপ । তোমাকে কথা বলতে বলেছি ! সাফাই গাইতে বলেছি কারোর নামে ‌? অয়েল ইউর ওউন মেশিন ।
চড়া কন্ঠ আদ্রের । শাফাহ্ চুপসে যায় । ঠোঁট উল্টে আহত করে মুখো ভঙ্গিমা । টুপ করে বসে পড়ে নিজের জায়গায় । মেঘা চোখ সরু করে তাকালো । এই মুহূর্তে আদ্রের একটাই পরিচয় , সে প্রফেসর ! আর কিছু নয় । ওর কাছে শাফাহ্ এখন অন্যদের মতো শুধুই একজন স্টুডেন্ট ব্যাতীত আর কিছু নয় । শিশির মেয়েটা দম ফেলে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল….

” স্যার , আমার দেরি করে আসার যথেষ্ট কারন আছে । সে কারনেই প্রিভিয়াস ক্লাস ও মিস করেছি । আপনি আমাকে ক্লাস এটেন্ড করতে দেন নি । আজ দিন , আপনি জোর খাটিয়ে আমাকে ক্লাস করা থেকে বাঁধা দিতে পারেন না ।
আদ্রের কপালে ভাঁজ পড়ে আরো । হাতের এসাইনমেন্ট পেপার রেখে উঠে দাঁড়ায় ও । শিশিরের কথাটা উপেক্ষা করে সকলের উদ্দেশ্যে বলে….
” এভরিঅন, ফোকাস অন মি….
আদ্রের দিকেই সকলের ফোকাস ।
ফারিন ওর কথাটায় গালে হাত ঠেকিয়ে মিনমিন করে বললো….
” আমার ফোকাস তো সবসময় তোমার দিকেই থাকে মাই লাভ । উফফফ , ইউ আর সো এট্রাক্টিভ…
তুমি চোখের সামনে থাকলে , ফোকাস অন্যদিকে দেবো কি করে ?
আদ্র নতুন টপিকে লেকচার শুরু করতে গেলে আবার সেই নরম কন্ঠ ভেসে আসলো….
” স্যার । প্লিজ….

আদ্র আর শোনে না । শাফাহ্ আর মেঘা অসহায় চোখে পিটপিট করে চায় শুধু । আদ্র ওকে অ্যালাউ করবে না কিছুতেই । আদ্র নিজের লেকচার শুরু করলো । শিশির দরজার বাইরে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল নিষ্প্রভ ভঙ্গিতে । পা দুটো টলছে অবসন্নতায় । চোখে ঘুম হীনা এক রাশ ক্লান্তি । আশাহত হয়ে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না মেয়েটা । দরজা থেকে সরে গিয়ে পাশের করিডোরের ওয়েটিং ব্রেঞ্চটায় বসলো ধপ করে । হাঁটুতে কনুই ভর দিয়ে মাথা চেপে বসে রইলো কিছুক্ষণ ।
চোখ দুটো বুজে আসছে । খচখচ করছে বুক । এতো তাড়াহুড়ো করে কাঠখড় পুড়িয়ে এসে কি হলো ? ক্লাস টাই মিস গেলো । মাথার হিজাব টা খুললো শিশির । পরিপাটি করে বাঁধলো আবার ।
ক্লাস শেষ হলো পাক্কা এক ঘন্টা পর । ততক্ষণ নীরবে চুপটি মেরে বসে রইলো মেয়েটা । ক্লাস শেষ করে ওর সামনে দিয়েই গটগট পায়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলো আদ্র । মেয়েটা আধো চোখ তুলে চাইলো এক পলক । আদ্রের পিছু পিছু তড়িঘড়ি করে ক্লাস থেকে বেরিয়েছে মেঘা আর শাফাহ্ । বেরিয়েই হন্নে দুচোখে শিশির কে খুঁজলো । পাশে বসে থাকতে দেখে ছুটে আসলো দুজনে । শাফাহ্ বিচলিত হয়ে বললো….

” শিশির । কি হয়েছে তোর ? দুদিন ধরে খোঁজ পাচ্ছি না কেনো ? সব ঠিক আছে ?
শিশির মেয়েটা মলিন হাসলো । বললো…..
” ভাইকে আবার হসপিটালে ভর্তি করতে হয়েছে । সেখানেই ছোটাছুটি করছি রোজ ।
” বলিস কি ? আবার ?
” হুম ।
মেঘা বললো পাশে বসে…..
” আদ্র ভাইয়ার ক্লাসের জন্যই এসেছিলি নিশ্চয়ই ? আজ তো আর ইম্পর্ট্যান্ট ক্লাস নেই । এখন কি আবার হসপিটালে ফিরবি ? কেমন আছে তোর ভাই ?
” যেযন থাকে তেমনই ! আদৌ সুস্থতার কোনো লক্ষণ নেই । মাঝে মাঝে শুধু অসুস্থতা বেড়ে যায় । জানিসই তো সবটা । এখন আবার হসপিটালে যেতে হবে । মা একা আছে , আপু অফিসে । আমাকে সামলাতে হবে গিয়ে । তোদের অপেক্ষায় ছিলাম । এসেছি যখন , ভাবলাম তোদের সাথে কথা বলে যাই । আর একটা কথা…..
শিশিরের কথা শেষ হওয়ার আগেই মেঘা আশ্বস্ত করে বলে উঠলো….

” আমি সব নোটস দিয়ে দেবো তোকে । এটা আর বলতে হবে না ।
শিশির মৃদু হাসলো । হাসিতে উচ্ছাস নেই বিন্দুমাত্র । মেয়েটার সৌন্দর্য খুব সাধারণ । শ্যামলা বর্ণের খুব অনাড়ম্বর একটা মেয়ে ‌। #শিশির , পুরো নাম –‌ #আমাইরা_নূর_শিশির । খুব সাধারণ সচ্ছল পরিবারের একটা মেয়ে । পরিবারে মা ,বড় বোন আর একটা ছোট্ট ভাই ব্যাতিত কেউ নেই । বড় বোন #আনায়া_নূর_ইকরা । ছোট খাটো একটা চাকরি করে সংসার চালায় । শিশিরের পেছনে ব্যায় নেই । মেধা ভিত্তিক স্কলারশিপে এই ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছে ও । চান্স পেয়েও এই বড়লোকি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায় নি সে ‌। ইকরার জোরাজুরিতে পড়তে হচ্ছে এখন ।
পড়াশোনায় খুব চতুর মেয়েটা । তবে ইদানিং বেখেয়ালি হয়ে যাচ্ছে হাজার চাপে । ওর ছোট ভাইটা , সবে বারো বছর । এই বয়সে দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত । ব্রেন টিউমার , এখন থার্ড গ্রেডে । ক্যান্সারে রুপ নিয়েছে এই ব্যাধি ।
মাসে কুড়ি দিনই হসপিটালে কাটাতে হয় । নানা থেরাপির দরুন ওর ভাইটার অবস্থা জর্জরিত ‌। ডাক্তাররা যথেষ্ট তৎপর । বাকিটা উপর ওয়ালার হাতে ।
মেঘা আর শাফাহ্ এই বিষয়ে অবগত । ভার্সিটিতে ওদের বন্ধু কম ‌। ভালো বন্ধু বলতে একমাত্র এই শিশির । তাও ওরা নিজে থেকেই শিশিরের সাথে বন্ধুত্ব করেছে । মেয়েটা সবসময় গুমড়ে থাকে । মনের কথা বলে না কখনো । হাজার কষ্ট চেপে রাখে অন্তরে । এতো দিনে শাফাহ্ আর মেঘার সাথে সম্পর্ক অনেকটা গাঢ় হয়েছে ওর । এখন ওরা তিন শালিক । তবে দুটো ডালের ।

শিশির তখনই বেরিয়ে গেছে হসপিটালের উদ্দেশ্যে । ছুটির পর মেঘা আর শাফাহ্ কে নিয়ে বাড়ি ফিরছে আদ্র । শাফাহ্ মুখ কালো করে গাল ফুলিয়ে রেখেছে । বারবার আদ্রকে ভেংচি কাটছে । এই আদ্র মহাশয় ক্লাসে সবার সামনে ধমকেছে ওকে । অপমান বোধ হয়েছে মেয়ের । আদ্র ফ্রন্ট মিররে বারবার শাফাহ্ কে দেখছে । যতবার চোখাচোখি হচ্ছে , ততবার চোখ উল্টিয়ে মুখ বাঁকাচ্ছে শাফাহ্ । বিরক্ত হলো আদ্র । মেঘা আর শাফাহ্ পিছনের সিটে বসেছে । আদ্র ড্রাইভ করতে করতে ফ্রন্ট মিররে তাকিয়ে রাশভারী কন্ঠে বলল….
” হয়েছে টা কি তোর ? বার বার মুখ বাকাচ্ছিস কেনো ?
চোয়ালে চুলকানি ধরেছে । থাপ্পর খাবি ? মারবো একটা থাপ্পর ? সব চুলকানি সেরে যাবে একদম ।
শাফাহ্ ফের মুখ বাঁকায়….

” কথা বলবে না আমার সাথে , তুমি আমাকে সবার সামনে ধমকেছো ! ভুলে যাই নি আমি । ভার্সিটিতে এমন ভাব করো , যেনো আমাদের চেনোই না । আমরা যেনো কেউ হই না তোমার ?
” তো কি হোস তুই আমার ? যে তোকে ভার্সিটিতে আলাদা করে ট্রিট করতে হবে ? বউ হোস ?
” এহহ্ , বউ ! তোমার বউ হতে বয়েই গেছে আমার ।
তুমি শুধু বেকার বেকার কতগুলো রুলস দিয়ে রেখেছো । একটু বেশিই রুড হয়ে গেছো তুমি । তুমি জানো , শিশির কত ভালো ! ও কতটা প্রবলেম ফেস করে তারপর ক্লাসে আসে তুমি জানো ? তুমি তো ওকে ক্লাসে ঢুকতেই দাও না । ওর প্রবলেম গুলো শোনো তুমি…? শুনলে,জানলে, কখনো এমনটা করতে পারতে না ।
” তো কি করবো ?
রুলস ইজ রুলস । সেটা সবার ক্ষেত্রেই এক । তোদের ক্ষেতেও তাই । তোদের বা অন্য কাউকে আলাদা করে ফেসিলিটি দিতে গেলে পার পাবে সবাই । এমনিতে আমার ক্লাসে এসব রুলসের জন্যই এটেন্ডেন্স বেশি ।
” এহহহ্ , রুলসের জন্য‌‌‌ না ছাই । থুক্কু , ছাই না তোমার এই দামড়া মার্কা রুপের জন্য । এতো সুন্দর প্রফেসর কে দেখার জন্য ক্লাসে এতো এটেন্ডেন্স বেশি,, বুঝলে ? তোমার ক্লাসে কেউ পড়তে আসে না । আসে তোমাকে দেখতে । এতো সুন্দর হয়েছো কেনো তুমি ?
হেসে ফেললো আদ্র । সাথে মেঘা ।
আদ্র আর কিছু বললো না । মেঘা ফোন ঘাটছে আনমনে ।
জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই লাফিয়ে উঠলো শাফাহ্….

” আদ্র ভাইয়া ,,, ফুল !!
ট্রাফিকে আটকেছে গাড়ি । বাইরে একজন ফুল বিক্রি করছেন । তা দেখেই চেঁচালো শাফাহ্ । ওর জীবনে , মনে , প্রাণে – দুটো জিনিস খুব প্রিয় , একটা চকলেট অন্যটা ফুল । সে যেকোনো ফুল হোক । রোজ রোজ তাজা ফুল হাতে স্পর্শ করতে না পারলে দিন শান্তিতে কাটে না ওর । বাগানে কতশত গাছ লাগানো হয়েছে ওর জন্য । ফুল জিনিসটা ওর বড্ড সখের ।
আদ্র জানতো এমনটা হবে । এই মেয়ে এখন ফুল দেখেছে মানে ওকে ফুল কিনে দিতেই হবে । গাড়ির গ্লাস নামিয়ে একটা গোলাপের তোড়া কিনলো আদ্র । তোড়া টা পিছনের দিকে বাড়িয়ে দিতেই শাফাহ্ হুড়মুড়িয়ে সেটা হাতে নিলো । নাক ডোবালো ফুলের পাপড়ির আবডালে । আদ্র ফ্রন্ট মিররে এই মেয়ের বাচ্চামো দেখে মৃদু হাসলো । এবার লক্ষ্য করলো মেঘার দিকে । মেঘা কে অমনযোগী দেখে ডাকলো….
” মেঘ বুড়ি ?
সচকিতে তাকায় মেঘা । উত্তর করে….
” হ্যাঁ ভাইয়া !
” কি হয়েছে ?
” কই, কিছু না তো !
আদ্র খানিকক্ষণ মিররের দিকে তাকিয়ে রইল । কিছু বললো না ।
বাড়ি ফিরে সিরাত কে নিয়ে হসপিটালে বেরিছিলো আদ্র । সিরাত আর বেবির কিছু নর্মাল চেকআপ ছিলো হসপিটালে । আহিয়ানের অফিস ছিলো বিধায় আদ্র নিজে সিরাত কে নিয়ে হসপিটালে গেছিলো । ওদের ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা ।
সদর দরজার বেল বাজতেই দরজা খুলে দিলেন শাহিনা কাবির । মুখ মলিন তার । ভ্রু যুগল খানিক গুটানো । সিরাতের কোলে বাচ্চা । আদ্র পেছনে , গাড়ি পার্ক করে তর্জনীর ডগায় চাবি ঘুরিয়ে এগিয়ে আসলো ও । সিরাত বলতে বলতে ভেতরে ঢুকলো….

” কি হয়েছে মনি ? মুখটা এমন শুকনো দেখাচ্ছে কেনো ?
ভেতরে ঢুকলো সিরাত ।
অমনি সেকেন্ড কয়েকের মাথায় একজন ভদ্র মহিলা হন্তদন্ত হয়ে দ্রুত কদমে এগিয়ে আসলেন সিরাতের দিকে । সিরাত চোখ তুলে তাকানো মাত্রই থমকালো । ধক্ করে উঠলো । ভদ্রমহিলা গদগদ হয়ে বললেন….
” কই দেখি , আমার নাতনি !! দেখি দেখি মুখটা….
বলতে বলতে হেলে পড়লেন সিরাতের দিকে । বাচ্চার মুখ দেখে উৎসুক হয়ে হাত বাড়িয়ে দিয়ে আবার বললেন….
” দাও দাও , আমার কোলে দাও আমার নাতনিকে ।
সিরাতের কোল থেকে আলগোছে বাচ্চা টাকে কোলে নিলেন তিনি । সিরাত অবিশ্বাস্য নয়নে তাকিয়ে আছে । পেছনে আদ্রের কপালে ভাঁজ পড়েছে । ক্ষোভে কুঁচকে এসেছে ভ্রু । শুধু এই ভদ্রমহিলা নয় , ভদ্রমহিলার সাথে আরো তিনজন , আরো একটা বাচ্চাও আছে । ভদ্রমহিলা সিরাতের শাশুড়ি , অর্থাৎ আহিয়ানের মা ।
আর বাকি তিন জন , আহিয়ানের বাবা , ছোট ভাই আর তার বউ । সেই ছোট ভাইয়ের একটা বাচ্চাও আছে তিন বছরের ।
আদ্র চরম বিরক্ত হলো । ধুপ ধাপ এগিয়ে ঝাড়া কন্ঠে বলল…..

” হোয়াট হ্যাপেন্ড মা , কি হচ্ছে এসব ? বাইরের লোক এমন হুটহাট বাড়িতে ঢুকে পড়েছে , কারোর চোখে পড়ে নি ?
আদ্রের গলায় ক্ষোভ । তোফায়েল কাবির বসা থেকে উঠলেন ।
” আদ্র , ভদ্রভাবে কথা বলো ।
” কি ভদ্রভাবে কথা বলবো আব্বু ? অভদ্রতার তো কিছু দেখছি না আমি । এনারা আমাদের বাড়িতে কি করছেন ? কে ঢুকতে দিয়েছে এনাদের এ বাড়িতে ?
” আদ্র ! চুপ করো । হসপিটাল থেকে ফিরেছো । ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হও আগে ।
তোফায়েল কাবিরের কথার মাঝেই আহিয়ান এর মধ্যেই হন্তদন্ত হয়ে বাড়িতে ঢুকলো । খানিক আগে তোফায়েল কাবিরের ফোন পেয়ে অফিস ফেলে ছুটে এসেছে ও । বাড়িতে ঢুকেই নিজের মা #আফিফা_নেওয়াজের কোলে নিজের ছোট্ট মেয়েটাকে দেখেই আহিয়ান তড়িতে এগোলো । মুখ শক্ত করে সাবধানের সহিত এক প্রকার ছিনিয়ে নিলো নিজের মেয়েকে ‌। ছেলের আকস্মিক কান্ডে চমকালেন আফিফা নেওয়াজ ‌। আহিয়ান চড়া গলায় খানিক রাগ প্রকাশ করলো সিরাতের উপর…..

” সিরাত ,, আমার বাচ্চা কে ওনার কোলে দেওয়ার সাহস কি করে হলো তোমার ?
সিরাত স্বাভাবিক । নিরুদ্বেগ । প্রতিক্রিয়া আসলো ওর দিক থেকে । চোখ নামিয়ে নিলো কেবলই । আহিয়ান ফিরলো তোফায়েল কাবিরের দিকে….
” বাবা , এখানে কি হচ্ছে এসব ? এনারা এখানে কেনো এসেছেন ?
” আহিয়ান ,, আমরা তোর পরিবার ! আমি তোর মা । এভাবে পরের মতো আচরণ করছিস কেনো তুই ?
মায়ের মেকি কাতর কথায় আহিয়ানের হাসি পায় । বলে তাচ্ছিল্য স্বরে…
” পরিবার ? কে তোমরা ? আমি চিনি না । আমার পরিবারে তোমাদের মতো কারোর স্থান নেই । কেনো এসেছো এখানে ? লজ্জা করলো না এবাড়ি মুখো হতে ?
অপমান বোধে দু জোড়া মুখ চুপসে যায় । তৌসিফ কাবির শান্ত কন্ঠে বললেন….
” আহিয়ান ! অবুঝের মতো ভুলভাল বকছো । শান্ত হও । ওনারা এসেছেন, ভালো ভাবে কথা বলো । তুমি ওনাদের ছেলে , এটা ভুলে যেও না । ওনার ওনাদের ছেলের সন্তানকে দেখতে এসেছেন । আমরা কেউ বাঁধা দিতে পারি না এতে । যথেষ্ট অনুতপ্ত তারা ‌।
আহিয়ানের বাবা এগিয়ে আসলেন…

” দেখ বাবা । যা হয়েছে ,সব ভুলে যা । মানছি আমরা ভুল ছিলাম । এই ভুলের মাশুল দিয়েছি , গত তিনটে বছর তোরা দূরে সরে ছিলি আমাদের থেকে । এই বছর গুলোতে অনেক কিছু পাল্টেছে । আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি । তোর আর বউমার সন্তান হয়েছে । এটা তো খুশির খবর বল…
পুরুষ মানুষও যে এতো নাটকীয় ভাবে ভাব জমিয়ে কথা বলতে পারেন , তা এই ভদ্রলোককে না দেখলে বোঝা মুশকিল । নিজের বাপ মায়ের উপর কেবলই তাচ্ছিল্যতা আসে আহিয়ানের । রুবিনা কাবির সবার মধ্য থেকে বলে উঠলেন এবার….
” আপনারা দাঁড়িয়ে আছেন কেনো ? বসুন । বসে কথা বলুন ।
আফিফা নেওয়াজ বললেন….
” আমরা আজ আর বসবো না । আহিয়ান , দেখ বাবা… আমরা সত্যিই অনুতপ্ত । তোরা চলে আসার পর বাড়িটা ফাঁকা হয়ে গেছে পুরো । এমন কোনো দিন যায় নি যেদিন আমি কাঁদিনি । তোর কথা , বউমার কথা , খুব মনে পড়ে আমাদের । এখন তো তোদের অংশ এসেছে এতো বছর পর । যার জন্য এতো বিরোধ , সে তো এসেছে । তোদের সন্তান হয়েছে , নাতনি হয়েছে আমার । এবার ফিরে চল ও বাড়িতে । আমরা তোদের নিতে এসেছি । তোকে,বউমাকে আর আমাদের নাতনিকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছি আমরা । যাবি না ও বাড়িতে….
মা-ছেলের কথার মাঝে কাবির পরিবারের কেউ কথা বললো না । আদ্র ক্ষেপে গজগজ করে কিছু বলতে উদ্যত হতেই তোফায়েল কাবির চোখের ইশারায় দমন করলেন ছেলেকে । এই মুহূর্তে কথা বলতে বারন করলেন । আদ্র দাঁত খিচে দমে গেলো হাত মুঠো করে । আহিয়ান ডান হাতে বাচ্চা কে সামলে বাম হাতে সিরাতের হাত শক্ত করে ধরলো । চোয়াল শক্ত করলো । এই মহিলা তার মা , এটা মানতেও বেঁধে যায় ওর নিকট । আহিয়ান শক্ত কন্ঠে বলল….

” না , যাবো না । কোনো দিন যাবো না । যারা আমার স্ত্রীর অসুখ , তাদের কাছে গিয়ে আমি আমার স্ত্রীর সুখকে ধ্বংস করতে পারবো না । আমরা আমাদের সুখ খুঁজে নিয়েছি , যে সুখে তোমাদের হস্তক্ষেপ ছিলো সেটা অসুখ ছিলো । ছেলে,বউমা ? ছেলে বউমার খোঁজ হয়েছে এতো বছর পর ? নাতনি ? আজ নাতনি হয়েছে বলে মনে পড়ছে বউমাকে ? মনে নেই নিজেদের করা কার্যকলাপ গুলো ? কোন মুখে আজ বউমা বলতে এসেছো ওকে । ও তোমাদের বউমা নয় । ও তবেই তোমাদের বউমা হতো , যদিনা আমি তোমাদের সন্তান হতাম । আমি তোমাদের সন্তান নই । বুঝে নাও । চলে যাও এখান থেকে , যারা আমার অসুখের কারিগর তাদের আমি আমার সুখে সময়ে চাই না ।
বলেই সিরাতের হাত টেনে উপরে ওঠার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতে নিলো আহিয়ান । সিরাত পা মেলালো না । থমকে দাঁড়িয়েই রইলো । হাতে টান পেয়ে পিছু ফিরলো আহিয়ান । কন্ঠ শক্ত রেখেই বললো….
” ঘরে চলো ।

সিরাতের অসহায় চাহনি । আলগোছে মাথা নাড়ালো ও । তোফায়েল কাবির বললেন….
” আহিয়ান , দেখো বাবা । ওনারা তোমার মা-বাবা । একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল , ভুল হয়েছিলো । এটাকে তো আর সারাজীবন বয়ে বেড়ানো যায় না । ওনারা যেহেতু ওনাদের ভুল শুধরে নিতে চাইছেন , তখন তোমার উচিত কঠোরতা কে বর্জন করা । একটু বোঝো ঠান্ডা মাথায় ।
” আমি বুঝতে চাই না বাবা । ওনাদের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে তিন বছর আগেই । আর বোঝাবুঝি হয় নি মোটেই । আমি আমার স্ত্রীকে চাই , ওনাদের নয় ।
আহিয়ানের কথা শেষ হতেই ওর ছোট ভাই আফিয়ান সাফাই গাওয়ার উদ্দেশ্যে মুখ খুললো….
” ভাইয়া … ! সবটা ভুলে যাও ।
দেখো, এবার আমাদের একটা সুখি পরিবার হবে । সবকিছুর জন্য আমরা সরি ভাইয়া । প্লিজ ফিরে চলো আমাদের সাথে ।
আহিয়ান চোখ তুলেও তাকালো না ভাইয়ের দিকে । আফিফা নেওয়াজ আঁচলে মুখ চেপে মায়াকান্না করে উঠলেন । তা দেখে আদ্রের মেজাজ বিগড়ে গেলো আরো । গা জ্বলে উঠলো । ঝাইঝাই করে উঠলো সে …..
” এসব কুমিরের কান্না অন্য কোথাও গিয়ে দেখান । এসব কান্নায় আমার মা বাপকে গলাতে পারলেও, আমি কিছুতেই আমার আপুকে আর ও বাড়িতে ফিরতে দেবো না । বেরিয়ে যান এ বাড়ি থেকে…..

” আদ্র , চুপ কর ।
সিরাত আদ্রকে থামালো আরো কিছু বলার আগেই । আফিয়ানের বউ’টা এবার মেকি হয়ে এগিয়ে আসলো….
সিরাতের কাছাকাছি আসার আগেই আহিয়ানের লালচে দৃষ্টির পানে তাকিয়ে আর এগোতে পারলো না । ঢোক গিলে বললো….
” ভাবি , সবটা ভুলে যাও এবার ।
আমরা সবাই চাই তোমরা বাড়ি ফিরে চলো । দেখো আমার বাবুটা কত বড় হয়ে গেছে । এখন তোমার বাবুকে আমরা সবাই কোলেপিঠে করে বড় করবো ।
আহিয়ান সিরাতের হাতে টান মেরে জোর খাটিয়ে এগোতে এগোতে বললো….
” চলো এখান থেকে ।
সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে উপরে উঠলো এক মুহুর্তেই ।
আফিফা নেওয়াজ কান্নার তোপ বাড়ালেন । বিরক্তিতে মুখ বিকৃত করলো আদ্র । এখানে এসব মেলোড্রামা দেখার ইচ্ছে নেই তার । তবে আহিয়ানের উপর মনে মনে প্রশন্য হলো সে । আদ্র ও সিঁড়ি বেয়ে উঠলো উপরে ।
শাফাহ্ আর মেঘা ঘরে । এ বাড়িতে ওরা দুজনই আলাদা । যাদের বাড়ির কোনো ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী করানো হয় না । ঘটনা বলতে বড় বড় প্রসঙ্গ গুলোতে ওদের দুজনকে আলাদা রাখা হয় । জড়ানো হয় না এসবে ।
আহিয়ানের মা বাবা যাওয়ার আগে আরো নাটক করে বেরিয়ে গেছেন । অবশ্য তৌসিফ কাবির ও এসবে বিমুখ । তিনিও চরম বিরক্ত এনাদের উপর । তবে প্রকাশ করলেন না তিনি ।

সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমেছে । রৌদ্র সারাদিন বাড়িতে নেই । রুবিনা কাবির ফোন করলেও ধরে নি । এখন রাতের খাবারে বসেছে সবাই । নয়টা পেরিয়েছে অনেকক্ষণ হলো । শাহিনা কাবির আর রুবিনা কাবির খাবার সার্ভ করে দিয়ে পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন । রাতের বেলা সবাই একসাথে খেতে বসে । ভরে যায় পুরো টেবিল । সিরাত আর আহিয়ান ও বসেছে । খেতে খেতে তোফায়েল কাবির মুখ খুললেন…..
” আহিয়ান , তোমাকে আমার কিছু বলার ছিলো ।
” আপনি কি বলবেন আমি জানি বাবা । কিন্তু শুনতে চাই না । প্লিজ এসব বলবেন না আমায় ‌। আমি অন্তত আপনার কাছ থেকে এসব শুনতে চাই না । আমি সিরাতকে নিয়ে ফিরবো না । যদি এতো বছর এ বাড়িতে থাকার পর আপনাদের কাছে মনে হয় আমরা বেশি হয়ে গেছি , তাহলে আমি সিরাতকে নিয়ে এ বাড়ি ছাড়বো । অন্য বাসায় উঠবো ।

” এসব কি বলছো তুমি ? তোমরা বেশি হতে যাবে কেনো ? আমি এটা কক্ষনো বলি নি । আমি শুধু তোমার বাবা মায়ের দিকটা বিবেচনা করেই…..
” আমি তাদের দিকটা ভাবা তো দূর , তাদের কথাও শুনতে চাই না ।
তোফায়েল কাবির কে থামিয়ে বললো আহিয়ান । তোফায়েল কাবির আর কিছু বলতে পারলেন না । মেঘা আর শাফাহ্ চুপটি করে খাচ্ছে । আদ্রের পাশে মেঘা , আর ওর পাশে শাফাহ্ । রুবিনা কাবির চিন্তিত মুখে বারবার সদরের দিকে তাকাচ্ছেন । প্রতিক্ষায় আছেন , কখন ফিরবে তার ছোট ছেলে ? ধৈর্য ধরতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে শুভ্রর উদ্দেশ্যে বললেন তিনি…..

” শুভ্র , রৌদ্র কে একটা ফোন করবি ? একবার ফোন করে দেখ না । এখনো আসছে না কেনো ?
আদ্রের ফোন রিসিভ করার সম্ভাবনা কম ‌। দু ভাইয়ের বন্ডিং কম । তবে শুভ্রর সাথে রৌদ্রের বন্ডিং একটু গাঢ় ‌। ও ফোন করলে ধরার সম্ভবনা আছে । তাই রুবিনা কাবির সোজাসুজি ওকেই বললেন ।
এখানে যে মেঘা উপস্থিত , তা তিনি উপেক্ষা করলেন । রৌদ্রের কথা উঠতেই আদ্র চকিতে বাঁকা চোখে তাকালো মেঘার দিকে । উদ্দেশ্য , মেঘার পরিবর্তন লক্ষ্য করা । তবে কিছুই পরিলক্ষিত হলো না । আদৌও মেঘা রৌদ্র কে দেখেছে কি না জানা নেই । ওরা দুটোতে সামনাসামনি হয়েছে কি না তাও জানা নেই । এ বাড়ির কারোরই জানা নেই শাফাহ্ ব্যাতীত । রৌদ্র আর মেঘা সামনাসামনি হলে তুমুল কিছু একটা হয়ে যেতো এতক্ষণে ‌। কিন্তু সবটা এখনো ঠান্ডা । তার মানে ধারনা অনুযায়ী ওরা এই দুদিনেও এখনো মুখোমুখি হয় নি । হবেই বা কি করে , রৌদ্রি বাড়িতে থাকলে তবেই তো ? যে সময় টা বাড়িতে থাকে সে সময় টা মেঘা ভার্সিটিতে , নয়তো বিজি থাকে নিজের কাজে ।
শুভ্র,সিরাত,‌শাফাহ্ সহ উপস্থিত সবাই এক পলক করে মেঘা কে দেখলো । খাওয়ার মাঝেই ট্রাউজারের পকেট থেকে ফোন বের করলো শুভ্র । রৌদ্রের নাম্বারে ডায়াল করলো । ফোনের রিংটোনে মৃদু বাংলা গানের টিউন বেজে উঠলো কাছে কোথাও….
~ আসবো ফিরে আবারো, তোমারি টানে…

( শেষে রিংটোনের লিংক টা দিয়ে রাখবো , যারা বুঝতে পারেন নি তারা বুঝতে পারবেন শোনার পর । )
সবাই খাওয়া ফেলে গানের রিংটোন অনুসরণ করে চকিতে তাকালো সদরের দিকে । দরজা খোলা । টলে পড়া পায়ে ভেতরে ঢুকছে রৌদ্র । পড়নে সাদা টিশার্টের উপর কালো ব্লেজার জ্যাকেট । মাথার চুল গুলো এলোমেলো । নিজের ফোনের শব্দে পা থামিয়ে ফোন সম্মুখে নিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকালো রৌদ্র ।
শুভ্রের নাম্বার দেখে ফোন কাটলো । সেখান থেকেই চোখ তুলতেই ডাইনিংয়ে সবাইকে দেখতে পেলো । একে একে দেখলো সবাইকে । আদ্রের পাশের চেয়ারের মেয়েটার উপর দৃষ্টি থমকালো । অমনি চোয়াল শক্ত হয়ে আসলো । হাতের মুঠোয় ফোনটা চেপে ধরলো রৌদ্র । বা হাতে এলোমেলো চুলে ব্যাক ব্লাশ করলো ।
রুবিনা কাবির ছেলেকে দেখে খুশিতে কয়েক কদম এগিয়ে বললেন….
” এসেছিস তুই ? কতক্ষন ধরে অপেক্ষা করছি ? রাতে খাবি না ? সবার খাওয়া হয়ে যাচ্ছে । ফ্রেশ হয়ে নিচে আয় ‌
। আমি খাবার বাড়ছি ।

রৌদ্র দাঁত খিচলো । দৃঢ় পদক্ষেপে হেঁটে সেই এলোমেলো অবস্থাতেই টেবিলের দিকে এগোলো । মেঘার ঠিক সামনের চেয়ারটা ফাঁকা । রৌদ্র এক টানে চেয়ার বের করে ঠাস করে বসলো । সবাই খানিক চমকেই তাকালো ওর দিকে ‌। একমাত্র মেঘা ব্যাতীত । ও নিরুদ্বেগ । আশপাশ স্বাভাবিক ধরেই আপন মনে খাচ্ছে মাথা নিচু করে । চোখ তুলে তাকানোর প্রয়োজন বোধ করলো না একটুও ।
তোফায়েল কাবির আর তৌসিফ কাবির দুভাই একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করলেন । রৌদ্র হুংকার ছাড়লো টেবিলের উপর হাত রেখে….
” খেতে দাও !
মদ‌ খেয়েছে রৌদ্র । দেখেই বোঝা যাচ্ছে । তবে স্মেল আসছে না । শাহিনা কাবির প্রশ্ন করলেন…
” ফ্রেশ হবি না ?
চিবিয়ে উত্তর করলো রৌদ্র….

” খেতে দিতে বলেছি , খেতে দাও ।
রুবিনা কাবির চটপট ছেলের প্লেট তুলে খাবার বাড়লেন । রৌদ্রের সম্মুখে প্লেট রাখতেই রৌদ্র প্লেটে হাত দেওয়ার আগে মেঘা খাওয়া ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো । প্লেটে ভাত এখনো । আর খাবে না । আদ্র রৌদ্রের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে মুখের খাবার গিলে পাশ ফিরে চকিতে প্রশ্ন করলো ভারী গলায়…..
” কি হলো , উঠছিস কেনো ? খাবি না ?
” পেট ভরে গেছে ।
ছোট্ট উত্তর করে বেসিনের দিকে এগোলো । শাহিনা কাবির গলা তুলে বললেন…..
” পেট ভরে গেছে মানে ? কিছুই তো খাস নি এখনো ? এটুকুতে পেট ভরলো তোর ?
হাত ধুয়ে উত্তর করলো মেঘা….
” ভরেছে মনি ।
আমি ঘরে গেলাম ।
একটু থেমে বললো আদ্রের উদ্দেশ্যে…..

” খাওয়া শেষ করে তাড়াতাড়ি এসো তো , আজকের চ্যাপ্টারে একটু প্রবলেম আছে আমার । বুঝিয়ে দেবে । আর টুকটুকি ,, তুই ও আয় ।
বলেই জোর কদমে উঠলো সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে ।
নিঃশব্দে ফোঁস করে শ্বাস ফেললেন তোফায়েল কাবির । রৌদ্র রক্তিম দৃষ্টিতে দেখলো সবটা । দুটো ভাত হাতে নেড়েছিল সবে । তবে মুখে তোলে নি । দাঁত খিচে রক্ত বর্ন দৃষ্টিতে মেঘার প্রস্থান দেখলো ও ।
মেঘা দৃষ্টিগোচর হতেই রৌদ্র নিজের প্লেট টা ঠেলে দিলো সামনের দিকে । গ্লাসের সাথে ঠোকা খেয়ে মৃদু শব্দ হলো । ঝটকা মেরে উঠে দাঁড়াতেই সচকিতে বললেন রুবিনা কাবির…

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৪

” তোর আবার কি হলো ? উঠছিস কেনো ?
” খিদে নেই ।
বলেই হাত না ধুয়ে সেভাবেই ধুপধাপ এগোলো সিঁড়ির দিকে । খাওয়া থামিয়ে তাজ্জব বনে চেয়ে রইলেন সকলে । রুবিনা কাবির ডাকলেন ছেলেকে । তবে আর সাড়া পাওয়া গেলো না ছেলের দিক থেকে ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬