ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১
লাইরা আয়নাত
নিজের বড় বোনের রিজেক্ট করা পুরুষের নামেই শেষ পর্যন্ত কবুল পড়তে হলো ইনায়াত কে। আর সেই পুরুষটি সাধারণ কেউ নন, স্বয়ং মিস্টার লর্ড আয়াজ অ্যাশ যিনি কি না আবার ইনায়াতেরই ইউনিভার্সিটির কড়া ক্রিমিনোলজি প্রফেসর! তার বোনের সাথে আয়াজের বিয়ের আয়োজন যখন প্রায় সম্পন্ন, তখনই ইনায়াত এর বড় বোন ফ্রেয়া হঠাৎ করে পালিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ায়! তার সাফ কথা সে নাকি এই বিয়ে করবে না, রয়্যাল শেকল ভেঙে সে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। কিন্তু ফ্রেয়া আর আয়াজের মধ্যকার সমীকরণটা বেশ চমৎকারই ছিল। দুজন দুজনের প্রতি রীতিমতো আকৃষ্ট, বলতে গেলে একটা রোমান্টিক রিলেশনশিপেই ছিল তারা। দুই পরিবারের মধ্যে একটা স্ট্রং পলিটিক্যাল এবং সোশ্যাল বন্ড তৈরি করতেই এই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু ফ্রেয়ার এই হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্তে পুরো রয়্যাল ফ্যামিলিতে শুরু হয় তোলপাড়। পরিবারের সম্মান বাঁচাতে ইনায়াতের বাবা, মিস্টার ব্যারন ইভান, কড়া নির্দেশ দেন ফ্রেয়ার বদলে ইনায়াতকেই এই বিয়ের দায়ভার নিতে হয়। বাবার এই নির্মম আদেশের ওপর কথা বলার কোনো অধিকারই ইনায়াতের নেই।
রয়্যাল ফ্যামিলিতে জন্ম নিলেও ইনায়াতের জীবনটা কোনো রূপকথার মতো নয়। তার পজিশন একজন সাধারণ কমনারের চেয়েও শোচনীয়। রয়্যাল ট্র্যাডিশন অনুযায়ী, মিস্টার ইভানের একাধিক স্ত্রী রয়েছে। মেইন ওয়াইফ বাদে বাকিরা হলেন কনকিউবাইন। ইনায়াত এবং তার জমজ ভাই ইভাদ হলো কনকিউবাইনের সন্তান। রয়্যাল রক্ত তাদের শরীরেও বইছে, কিন্তু ফ্রেয়া বা মেইন ওয়াইফের অন্যান্য ছেলেমেয়েরা যেমন রাজকীয় দাপট, অ্যাটেনশন আর পরিবারের ভালোবাসা পায়, ইনায়াত আর ইভাদের কপালে তার এক ফোঁটাও জোটে না। পুরোটা জীবন তারা শুধু অবহেলা আর বঞ্চনাতেই পার করছে। আর আজ, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আজীবন অবহেলিত মেয়েটাকেই ফ্যামিলির প্রেস্টিজ বাঁচাতে বলির পাঁঠা হতে হচ্ছে। একদিকে রয়্যাল ফ্যামিলির জাঁকজমকপূর্ণ এই জটিল পলিটিক্স, অন্যদিকে নিজেরই কড়া প্রফেসরের সাথে স্বামী-স্ত্রীর এক অদ্ভুত, অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পর্কের শুরু সব মিলিয়ে ইনায়াতের জীবনের এক অনিশ্চিত গোলকধাঁধার মধ্যে পড়ে গেছে।
বিয়েটা তো শেষমেশ হয়েই গেছে। রয়্যাল ওয়েডিংয়ের সব গ্র্যান্ড রিচুয়ালস আর জাঁকজমক শেষে যখন বাসর ঘরে ফার্স্ট নাইট স্পেন্ড করার কথা, তখন ইনায়াতের জায়গা হয়েছে অ্যাশ ক্যাসেলের আয়াজের ঘরের লাগোয়া ব্যালকনির এক অন্ধকার কোণে।বিছানায় বউ সেজে নিশ্চুপ বসে ছিল ইনায়াত।তখনি আয়াজ ঘরে ঢুকেই কোনো বাক্যব্যয় না করে, চরম আক্রোশে শক্ত করে চেপে ধরে ইনায়াতের কব্জি। ওর নরম হাতটা প্রায় পিষে ফেলার মতো অবস্থায় একপ্রকার টেনেহিঁচড়েই তাকে অন্ধকার ব্যালকনিতে এনে দাঁড় করায় সে। আয়াজের চোখেমুখে তখন তীব্র ঘৃণা আর ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। দাঁতে দাঁত চেপে আয়াজ বলে ওঠে, “তুমি আর তোমার ফ্যামিলি নোংরা গেম খেলেছ আমার সঙ্গে! তোমার স্ট্যাটাস যায় আমার সাথে? আমার লেভেলের তুমি? তোমার বড় বোন ফ্রেয়া আমাকে মিথ্যে ভালোবাসার জালে ফাঁসিয়ে, ইমোশনালি ম্যানিপুলেট করে এই বিয়েটা ঠিক করেছে! আর সবটাই করেছে যাতে তোমার মতো এক কনকিউবাইন-এর মেয়েকে আমাদের রয়্যাল ফ্যামিলিতে ঢুকিয়ে দিতে পারে! ফ্রেয়া তো মিসেস ফ্লোরার মেয়ে, তার যেকোনো রয়্যাল ফ্যামিলিতে অনায়াসেই বিয়ে হবে। কিন্তু তোমার তো কোনো পরিচয় নেই, তোমার তো রয়্যাল বিয়ে হবে না! তাই তোমরা এই সস্তা চালটা আমার সাথে খেললে?তাহলে ভালো করে শুনে রাখো, তুমিও আমার কনকিউবাইন হয়েই থাকবে! কনকিউবাইনদের তবু মানুষ দয়া করে সম্মান দেয়, স্পর্শ করে, ভালোবাসা দেয় আমি তোমাকে এর কানাকড়িও দেব না। নিজের ইচ্ছেয় রয়্যাল ফ্যামিলিতে নির্যাতিত হতে এসেছ, তাই না? এবার আমি বের করব তোমার এই বিয়ের স্বাদ!”
ইনায়াত বরফের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে সব শোনে। এসব পলিটিক্স আর চক্রান্তের বিন্দুবিসর্গও সে জানে না। আয়াজ সশব্দে ব্যালকনির স্লাইডিং ডোরটা বন্ধ করে দেয়, ভেতর থেকে লক করে দিয়ে রুমের লাইট অফ করে চলে যায়। অন্ধকারে ব্যালকনির ফ্লোরে নীরব হয়ে বসে থাকে ইনায়াত। আয়াজের এই অ্যারোগ্যান্ট বিহেভিয়ার, অবহেলা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য এসব তো তার জন্য নতুন কিছু নয়। এই রয়্যাল সোসাইটির নোংরামি তার নিত্যসঙ্গী। এসবে আর তার নতুন করে মন খারাপ হয় না। আয়াজে রয়্যাল ব্লাড, দাপট তো তার থাকবেই। সে কীভাবে ইনায়াতের মতো একটা মেয়েকে নিজের স্ত্রী হিসেবে সহজে মেনে নেবে? ইনায়াত খুব ভালো করেই জানত এমন কিছুই হতে চলেছে তার কপালের দুঃখ তো এত সহজে মোছার নয়।
তবে এই বদ্ধ ব্যালকনিতে চুপচাপ বসে থাকতে ইনায়াতের একদমই ভালো লাগে না। বিয়ের সেই কয়েক কেজি ওজনের ভারী ব্রাইডাল ড্রেসটা সে আগেই বদলে একটা কমফোর্টেবল ক্যাজুয়াল আউটফিট পরে নিয়েছে যাক, এই একটা স্মার্ট কাজ অন্তত সে করেছে। ইনায়াত আবার আড়ালে একজন জুনিয়র অ্যানালিস্ট এজেন্ট এই সত্যটা কেউ জানে না। যেহেতু তারা এই দু বছর ধরে মূল রয়্যাল প্যালেস থেকে আলাদা একটা সাধারণ বাড়িতে থাকে, তাই কারও জানার কথাও নয়। বাবা শুধু মাসে মাসে তাদের সারভাইভ করার মতো খরচটুকু দেন। ফ্রেয়ার মা, মিসেস ফ্লোরা, নিজের ইগো আর জেদের কারণেই তাদের রয়্যাল প্যালেসে মাথা গোঁজার ঠাঁই দেননি।
অযথা ইমোশনাল হয়ে বসে না থেকে, ইনায়াত ব্যালকনির রেলিং টপকায়। তারপর পাশের পাইপ বেয়ে অত্যন্ত সাবলীল আর প্রফেশনাল মুভমেন্টে নিচে গার্ডেনে ল্যান্ড করে সে। স্বামী তাকে স্ত্রী হিসেবে মানছে না বলে সে সাধারণ মেয়েদের মতো ডুকরে কাঁদবে? নাহ, ইনায়াত মোটেও তেমন মেয়ে নয়! না মানলে না মানুক, যা ইচ্ছে হোক। এসব ফালতু কারণে ইমোশনাল ব্রেকডাউন হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আর আয়াজ? মাত্র একদিনের পরিচয়ে তার ছুঁড়ে দেওয়া অপমানে ইনায়াত কষ্ট পাবে কেন?
চারদিকের আবহাওয়া ক্রমশ ভারী হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে ভয়ংকর একটা তুফান ধেয়ে আসছে অ্যাশ ক্যাসেলের দিকে। শাঁ শাঁ করে বইতে শুরু করেছে শীতল বাতাস। ইনায়াত ধীরপায়ে বিশাল গার্ডেনে হাঁটতে থাকে। খোলা, মুক্ত বাতাসে বুক ভরে দীর্ঘশ্বাস নেয় সে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে জোনাকি পোকারা লাইটের মতো উড়ছে, আর ইনায়াত আনমনে সেগুলোর পিছু পিছু হাঁটছে। চারদিকে নাম-না-জানা রাতের এক্সোটিক ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসে। প্রশান্তিতে, ঝড়ের পূর্বাভাস বুকে নিয়ে অন্ধকারের মাঝেই নিজের স্বাধীন ছন্দে পায়চারি করতে থাকে ইনায়াত।
আয়াজ রাগে অন্ধ হয়ে ঘরের সমস্ত দামি জিনিসপত্র চুরমার করে ফেলছে। ভাঙা কাঁচের টুকরোয় তার নিজের হাতও খানিকটা কেটে রক্ত ঝরছে, কিন্তু সেদিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তার তো ফ্রেয়াকে পছন্দ ছিল! ফ্রেয়া যথেষ্ট ইন্টেলিজেন্ট আর ম্যাচিউর। অ্যাশ রয়্যাল ফ্যামিলির ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে আয়াজ সবসময় একজন ‘পারফেক্ট ওয়াইফ’ চেয়েছিল। কিন্তু এখন এসব কী হচ্ছে? তার নিজের বয়স একত্রিশ, আর তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র বিশ বছরের এক আনম্যাচিউর বাচ্চাকে! সবচেয়ে বড় কথা, মেয়েটার কোনো স্ট্যাটাস নেই। একজন কনকিউবাইনের মেয়েকে বিয়ে করতে হলো তাকে? সিরিয়াসলি, তার ক্লাস আর রয়্যাল প্রেস্টিজ আজ কোথায় গিয়ে ঠেকল! এসব ভাবতে ভাবতে নিজের রক্তাক্ত হাতে কোনোমতে একটা ব্যান্ডেজ জড়িয়ে আয়াজ বেলকনির দরজা খোলে। ইনায়াত কী করছে দেখার জন্য উঁকি দেয় সে। কিন্তু ইনায়াত কোথায়? বেলকনিতে তো কেউ নেই! মেয়েটা দুঃখে নিচে লাফিয়ে পড়ল নাকি? মরে-টরে গেলে তো আয়াজ নিজেই ফেঁসে যাবে! এই ভেবে আয়াজ দ্রুত বেলকনির রেলিঙের কাছে গিয়ে নিচে তাকায়। নাহ, সেখানেও কেউ নেই। তাহলে ইনায়াত গেল কোথায়?
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চারদিকে তাকাতেই আয়াজ দেখতে পায়, ক্যাসেলের বাগানে একটা অবয়ব হেঁটে বেড়াচ্ছে। ভালো করে খেয়াল করতেই সে বুঝতে পারে, ওটা ইনায়াত! আয়াজের তো মাথায় হাত ও অত নিচে গেল কী করে? আয়াজ দ্রুত ক্যাসেল থেকে বেরিয়ে বাগানের দিকে ছুটে যায়। বাগানে ইনায়াত আপনমনে হাঁটছে আর ফিসফিস করে একটা নাশিদ গাইছে তা হলো :
ঠিক তখনই পেছন থেকে আয়াজ গর্জে ওঠে, “এই মেয়ে, তুমি এখানে কী করে এলে?”
ইনায়াত হঠাৎ এই অপ্রত্যাশিত আওয়াজে সামান্য কপাল কুঁচকে পেছনে ঘোরে ক্যাজুয়াল গলায় বলে, “এসেছি যেভাবে আসা যায়, সেভাবেই।”
আয়াজ ভেবেছিল ইনায়াত তাকে দেখে ভয়ে কাঁপবে। কিন্তু এর উল্টো রূপ দেখে আয়াজ তীক্ষ্ণ গলায় ওয়ার্নিং দেয়, “সোজা কথার ত্যাড়া উত্তর দিলে জিভ কেটে নেবো। বলছি, কী করে এলে নিচে?”
ইনায়াত এই হুমকিতেও বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে, খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বেলকনির পাইপটার দিকে ইশারা করে বলে, “ঐ পাইপটা দিয়ে!”
আয়াজ তো হতবাক, “হোয়াট? ইউ মিন, তুমি পাইপ বেয়ে নিচে নেমেছো?”
ইনায়াত শুধু শান্তভাবে মাথা নাড়ায়, “জ্বি।”
আয়াজ বিস্ময়ে একবার ইনায়াতের দিকে, আরেকবার ওই পাইপটার দিকে তাকায়। তারপর ধমক দিয়ে ওঠে, “ফাইজলামি পেয়েছো? এত লম্বা পাইপ তুমি বেয়ে নামবে কীভাবে?”
ইনায়াত আগের মতোই নির্বিকার, “কেন আসা যাবে না? আমি তো এসেছি। এখন সেটা বিশ্বাস করা বা না করা সম্পূর্ণ আপনার বিষয়।”
আয়াজ বিরক্ত হয়ে বলে, “যথেষ্ট হয়েছে, এবার রুমে চলো।”
ইনায়াত সহজ সাবলীলভাবে প্রশ্ন করে, “কিন্তু আমি তো একজন কনকিউবাইন। আমি তো আপনার ঘরে যেতে পারি না, তাই না?”
আয়াজ দাঁত চেপে হিসহিস করে বলে, “সবার সামনে তুমি অ্যাশ ফ্যামিলির ক্রাউন মিসেস, আর আমার কাছে কনকিউবাইন। চলো বলছি!”
কথাটা বলেই আয়াজ ইনায়াতের হাত চেপে ধরতে যায়। কিন্তু ইনায়াত এক পা পিছিয়ে গিয়ে নির্লিপ্ত গলায় বলে, “আপনিই তো একটু আগে বললেন আমাকে স্পর্শ করবেন না। তাহলে এখন হাত ধরছেন কেন? আমি তো একা একাই যেতে পারব।”
আয়াজের তো রীতিমতো মাথায় বাজ পড়ে! এই মেয়ে তো সুবিধার নয়, উল্টে আয়াজের কথাগুলোই তার দিকে ছুঁড়ে মারছে। আয়াজ তো ভেবেছিল রুমে যাওয়ার কথা শুনলে মেয়েটা খুশিতে গদগদ হয়ে নিজেই ওর হাত জড়িয়ে ধরবে। কিন্তু এ তো সব আয়াজের ভাবনার বিপরীতে কাজ করছে!
ইনায়াতকে নিয়ে আয়াজ নিজের রুমে ফিরে আসে। ঘরে পা রাখতেই ইনায়াতের চোখে পড়ে মেঝেময় ছড়িয়ে থাকা ভাঙা কাঁচ আর জিনিসপত্র। সে খুব সহজেই বুঝে যায় আয়াজ তাকে কেন ডেকে এনেছে। আয়াজ দরজা লাগিয়ে তাকে কিছু অর্ডার করতে যাবে, তার আগেই ইনায়াত শান্ত গলায় বলে ওঠে, “বুঝতে পেরেছি। এগুলো পরিষ্কার করতে হবে তো? কোনো সমস্যা নেই, আমি করে দিচ্ছি।”
আয়াজ কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। ইনায়াত খুব ধীরেসুস্থে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সবকিছু গুছাতে শুরু করে। আয়াজ ধপ করে বিছানায় শুয়ে পড়ে একটা তাচ্ছিল্যের সুরে বলে, “সব গুছিয়ে ওই সোফায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়বে।”
ইনায়াত কোনো উত্তর দেয় না। সে চুপচাপ নিজের কাজ করতে থাকে। হঠাৎ নীরবতা ভেঙে ইনায়াত শান্ত গলায় বলে ওঠে, “আপনি যখন আমাকে পছন্দই করেন না, তখন আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিন।”
কথাটা শুনে আয়াজ একপ্রকার ইলেকট্রিক শক খেয়ে বিছানায় উঠে বসে, “কী বলছ তুমি, সেন্স আছে? তুমি অ্যাশ ফ্যামিলির ক্রাউন মিসেস! সবার চোখে তুমি রয়্যাল, যদিও আমার কাছে কনকিউবাইন। তুমি কি বুঝতে পারছ তুমি কী বলছ? এরকম একটা লাক্সারিয়াস লাইফ তুমি সাতবার জন্ম নিলেও পাবে না!”
ইনায়াত একটা মেকি হাসি দিয়ে তার দিকে তাকায়। তারপর অত্যন্ত ঠান্ডা গলায় বলে, “প্রাচুর্যের দাসী হয়ে বাঁচার চেয়ে, মুক্তির দারিদ্র্য জীবন অনেক বেশি উত্তম, ইওর হাইনেস।”
