উন্মাদনা পর্ব ১৬
কায়নাত খান কবিতা
__বা’ন্দীর বাচ্চা, জলদি আয়! তোরে এক্ষুনি লাগবো আমার! দশ মিনিটের মধ্যে তোরে চাই আমার!”
আনন্দীকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ফোন কেটে দেয় অভী। আনন্দী ও তেমন আগ্রহ বাড়িয়ে জানতে চায় না, হয়েছে কী! সচারাচর অভী আনন্দীকে তার কলেজ শেষ হলে গ্যারেজে নিয়ে যেতো। তবে এখন তো প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আনন্দী এখন সস্তার মেয়ে মানুষ। অভীর মনের খোরাক মেটার যন্ত্র মাত্র। আনন্দী রিক্সা থেকে নেমে চুপচাপ নোবেলের বাইকে বসে পরে। গন্তব্য এখন তার মানুষ রূপি জানো’য়ার চাঁদের বাড়ি। কিন্তু অভী এতো ক্ষেপে কেন রয়েছে সেটাই তার জানা হলো না।হয়তো গিয়ে জানতে পারবে।
“কিছু ক্ষণ পূর্বে”
সাত সকালে দরজায় জোরে জোরে করাঘাতে ঘুম ভাঙ্গে অভীর। কাল গলা অব্দি ম:দ গেলার পর সকালে চোখ খুলতে পারে না সে। কিন্তু দরজায় এতো জোরে জোরে বা’রি পরার ফলে ঘুম আলগা হয়ে আসে তার। খাটের এক কোনে পড়ে থাকা মুন্ডুটি নিয়ে কোমরে জোরালো গিট বেঁধে আড়মোড়া দিয়ে দরজা খুলে দাঁড়ায় অভী।
দরজা খুলতেই দেখে নোবেল হাঁপাচ্ছে খুব।মাথায় বেশ চোট ও পেয়েছে। অভী কিছু বলতে যাবে তার আগেই নোবেল বললো,__ভাই, ওই জুলফির পোশা কুত্তা গুলা আমাগো লগে লাগছে।”
ব্যাস, এই একটি কথায় ছিলো অভীর চোখের ঘুম পুরোপুরি নির্ঘুম করতে। শরীরে শার্ট কোনো রকম জড়িয়ে দরজার পাশে অযত্নে পড়ে থাকা হকিস্টিক নিয়ে বেরিয়ে পরে অভী। আজ এসপারওসপার করেই ছাড়বে সে। এমনিতেও জুলফিকার এবং তার সম্পর্ক সাপে নেউলে। দু-জন, দু-জনের চোখের বিষয়। অবশ্য এর সূত্র পাত হয় ঢাকা আল কাশেম এতিম খানা থেকে। তখন অভীর বয়স ছিলো ১৫ এবং জুলফিকারের ১৬। যেখানে অভীকে সবাই নম্র-ভদ্র ছেলে হিসেবে জানতো, সেখানে জুলফিকারকে সকলে বাজে,বখাটে,রগচটা ছেলে হিসেবে গণায় ধরতো।
একদিন জুলফিকার এতিমখানার একটি ছেলের মাথা ফাটিয়ে দেয়। যেটা ছিলো সকলের অগচরে। কেউ ঘুনাক্ষরে ও টের পেতো না এটা জুলফিকারের কাজ। যদি না অভী সত্যিটা বলতো। যেই ছেলের মাথা ফাটানো হয় সেই ছেলেটি ছিলো তাদের থেকে বয়সে কিছুটা ছোটো। এক কিংবা দু-বছর। জুলফিকে প্রচন্ড ভয় পাওয়ার ফলে, সে তার সাথে ঘটে যাওয়া কোনো কথায় স্বীকার করেনি প্রথমে। ফুলফি ও মনে মনে বিজয়ের হাসি হেঁসে নেয়। তবে বেশিক্ষণ তা স্থায়ী হয় না।কারণ অভী এসে সমস্ত সত্যিটা বলে দেয়। এবং অভীর কথা সকলে বিশ্বাস ও করে। কারণ অভী কখনো মিথ্যা বলে না।
এরপর জুলফিকারকে পাঠানো হয় কিশোর উন্নয়নে। কিন্তু যাওয়ার আগে সে একটা ইট দিয়ে অভীর মাথা ফাটিয়ে দেয়। যার ফলে তাদের শত্রুতার সূত্রপাত সেখানেই হয়ে পরে। কিন্তু তারা সাপে নেউলে হয় যখন দু-জন, দলের হয়ে কাজ করে।
অভী কৃষ্ণ দাসের হয়ে সমস্ত কাজ সামলায় এবং জুলফি চন্দ্র দাসের হয়ে। কৃষ্ণ এবং চন্দ্র ছিলো এক মায়ের পেটের দুই ভাই। কলকাতার কৃষ্ণ নগর থেকে তারা বাংলাদেশে আসে। তারপর পূরাণ ঢাকার সিন্ডিকেটে ঢুকে পরে। দিন যত যায়, ততই দুই ভাই ভয়ংকর হতে থাকে। এবং তাদের সম্পর্কের অবনতি ও। ক্ষমতার লোভে এক সময় দুইভাই একজন আরেকজনের শত্রু হয়ে যায়। একজন আরেক জনকে খু’ন করার পরিকল্পনা ও অব্দি। কিন্তু ফলাফল হয়নি। নিজেদের ইমেজ ধরে রাখার জন্য দুই ভাই প্রায় অনেক প্রকারের ভালো কাজই করতেন। তার মধ্যে ছিলো এতিম শিশুদের মাসে একবার নতুন জামা কাপড় এবং খাবার খাওয়ানো।
কৃষ্ণ দাস একবার এতিম বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য উদ্দেশ্যো এতিমখানায় যান। যেখানে তার উপর গু’লি চালানো অব্দি হয়। কিন্তু নিশানা মিস হয়ে যায়। কারণ অভী কৃষ্ণ দাসকে ধাক্কা দিয়ে নিজে হাতে গু’লি খায়। তারপর থেকে কৃষ্ণ দাস হয়ে পরে অভীর উপরে চরম কৃতজ্ঞ। এক কথায় নিজের জান দিতে ও প্রস্তুত সে। কৃষ্ণ দাস বারবাট চেয়েছিলো অভী তার সাথে থাকুন। কিন্তু ভদ্র অভী প্রতিবারই নিষেধ করে দেয়। কারণ সে চেয়েছিলো নিজে কিছু করতে।
এরপর যখন অভীকে থানায় নেওয়া হয়,তার জুতোর মালা গলায় দেওয়ার ভিডিও পুরো নেট জুড়ে ছড়িয়ে পরে। তখন কৃষ্ণ দাস নিজের ক্ষমতা খাঁটিয়ে অভীকে বের করে আনেন। এবং কিছু দিন পর ঘটনা ধামাচাপা ও পরে যায়।কারণ আরেকটি ঘটনা টপ নিউজে চলে আসে।আর আমাদের দেশের বৈশিষ্ট্য হলো, নতুন ঘটনা পেলে আগের গুলো ভুলে যাওয়া। অভীর বেলা ও সেটাই হয়। কেউ মনে রাখেনি বেশিদিন অভীকে।
জেল থেকে বেরিয়ে অভী হয়ে ওঠে বেপরোয়া। কিন্তু সে মানুষ খু:ন করেনি। কৃষ্ণ দাস চেয়েছিলেন অভী রক্তে হাত লাল করুক। তবে অভী কখনোই তা করেনি। আন্ডারওয়ার্ল্ডে যে যত খু:ন করে সে তত বড়ো পদে থাকে। সেক্ষেত্রে অভীর তেমন কোনো ভ্যালু তৈরি হয়নি। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে আনন্দীর জীবন তেজপাত করে ফেলে অভী।
কারণ ভিডিওটি আনন্দীর ফোন থেকে পাবলিক করা হয়। এরপর থেকে আনন্দী এবং আনন্দীর পরিবারের ভোগান্তির শেষ থাকে না।
অভী যখন নিজের প্রতিশোধ নিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই তার দেখা হয় সিন্ডিকেটের আরেক তলোয়ার জুলফিকারের সাথে। প্রথম দেখাতে তাকে না চিনলে ও জুলফিকার ঠিকই তাকে চিনে ফেলে। এবং দু-জন, দু’দলের হওয়াতে শত্রুতা ও জমে ক্ষীর হয়ে যায়।
সিন্ডিকেটে কৃষ্ণ দাসের প্রভাব বেশি থাকায়, অভী বার বার বেঁচে যায়। তবে জুলফিকার কম কিসে। তার বাম শুনলে ও পুরাণ ঢাকার অলি গলির বাচ্চারা ভয়ে কাঁপে। জুলফি এবং চাঁদের মাঝে একটা শর্ত দেওয়া হয়, কেউ কারো এলাকায় যাবে না। যদি ভুলে ও লাল মসজিদ ক্রস করে,তাহলে জানাজা উঠে। এই শর্তে দু-জনেই রাজি হয়ে যায়। এরপর থেকে কেউ কারো এলাকা মাড়ায় না। তবে একজন আরেকজনের লোককে পেলে আরমধোলাই দিতে ও দু’বার ভাবে না।
হকিস্টিক নিয়ে অভী সোজা লাল মসজিদের সামনে চলে যায়। যেখানে তার সাঙ্গপাঙ্গ এবং জুলফিকারের সাঙ্গপাঙ্গদের মাঝে বেশ ভালোই লড়াই চলছিলো। অভী আসতেই দেখে, কু’ড়াল হাতে জুলফিকার ও এগিয়ে আসছে। ২৬ বছর বয়সী জুলফিকার কোনো অংশে নায়কের থেকে কম নয়। তবে খলনায়ক। নায়কের কোনো কলেটি তার মাঝে না থাকলে ও, খলনায়কের কলেটি আছে ভরপূর।
চারপাশের চিৎকার আর বিশৃঙ্খলার মাঝেও হঠাৎ ভিড়টা নিজে থেকেই সরে যেতে শুরু করে।
কালো চোখে জমাট বাঁধা রাগ নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে আসছিলো জুলফিকার। যেন প্রতিটা পদক্ষেপেই ভয় ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে।
এলোমেলো চুলগুলো কপালের উপর ঝুলে আছে, উজ্জ্বল শ্যামলা মুখে ঠোঁটের কোণের বাদামি তিলটা অদ্ভুতভাবে আরও তীক্ষ্ণ লাগছে।
চওড়া নাক আর শক্ত চোয়ালের সেই মানুষটার দিকে কেউ সরাসরি তাকানোর সাহস পাচ্ছিলো না, অথচ চোখও সরাতে পারছিলো না।
তার উপস্থিতিটাই এমন ছিল।মনে হচ্ছিলো মারামারি থামাতে না, ঝড় তুলতেই এসেছে সে।
হাতের কুইন অব্দি শার্টের হাতা গুটিয়ে চোখ থেকে রোদ চোশমা খুলে একদম চাঁদের মুখ বরাবর দাঁড়ায় জুলফি। লম্বায় দু-জনে সমান হওয়ায় কেউ কারো থেকে কোনো অংশ কম লাগছিলো না।
মুখে বাঁকা হাসি টেনে জুলফি বললো,__ what’s up পোলাপাইনস? Daddy:s is home..!”
জুলফির কথা শুনে ফিক করে হেঁসে ওঠে অভী, মুন্ডু এক হাতে তুলে অভী আওড়ালো,__ড্যাডি না-কি দাদা। আফটারওয়াল বয়সে এক বছরের বড়ো, বুইড়া মানুষ।”
ঠোঁট জোর করে চুমু খেয়ে ভেংচি কেটে অভী বলে,__আই লাইক ইট, মাদারবোর্ড। আসো বড়োদের পা ছুঁয়ে সালাম করো।”
অভী মাথা নেড়ে হাসি টেনে বলে __ফা’কিং কথাবার্তা। আপনাকে এতো সম্মান দেবো। একদম পা ধরে জানাজা পড়িয়ে মাটিয়ে দিয়ে আসবো!”
জুলফিকার কিছু না বলে হাতে থাকা যত্রটি কালুকে দিয়ে দেয়। তারপর ঘাড় বাকিয়ে বলে, __আর ইউ্য সিউর?”
অভী নিজের হাতে থাকা হকিস্টিক নোবেলকে দিয়ে বলে __100%! এটা আপনার ভার্সিটি নয় ভিপি ব্রো।”
__এটা আপনার ও হসপিটাল নয়, ডাক্তার ব্রো। ওপুস…এক্স ডাক্তার।”
অভী এবং জুলফি একজন আরেকজনের উপরে চরম পরিমাণের ক্ষিপ্ত হয়ে ঝাপিয়ে পরে। যে যাকে যতটা পেরেছে ততটাই আঘাত করেছে। দু-জনের শারীরিক বল এক সমান হওয়ায় কেউ কারো থেকে কম যায় না।বরং সিনেমার শুটিংয়ের অ্যাকশন সিনের মতো হয় পুরো বিষয়টি। তাদের দুজনকে থামতে না দেখে ছোটু চায়ের কাপ ফেলে সোজা চলে যায় দাদা সাহেবের আড্ডাখানায়। এখন পারলে একমাস দাদা সাহেবই পারবে এ ঝড় থামাতে।
রক্তাক্ত অবস্থায় ও অভী এবং জুলফি যখন একজন আরেকজনের দিকে হিংস্র বাঘের মতো তাকিয়ে ছিলো, ঠিক তখনই চন্দ্র দাস এবং কৃষ্ণ দাস এসে তাদের পাতানো ছেলেদের থামায়। কারণ সামনেই সিন্ডিকেট কার দখলে তার ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এর আগে কেউ নিজের ইমেজ নষ্ট করতে চায় না। তবে আজ যা হলো এর বিচার হবে এটা সিউর।
__পুরাণ ঢাকার ফরাস গঞ্জের এক বিশাল বদ্ধ কারখানা সবার উপস্থিততে আজ ভরপুর। তবে কারো মুখে কোনো কথা নেই। সকলের চোখ বিশাল মনিটরে। যেখানে আজকের সংঘর্ষের ফলাফল দেওয়া হবে। এই ফলাফল দেবে সাহেব খান। এই সাহেব খান কে, দেখতে কেমন কারো জানা নেই। তার ধর্ম, কোথায় থাকে, বয়স কত কেউ জানে না। কিন্তু সিন্ডিকেটের এক বিশাল বড়ো বটগাছের ছায়া সে। সে কীভাবে এই সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত, এটা ও অধরা সকলের কাছে। তবে তার প্রভাব এতোটায় জোরালো রাতারাতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অব্দি বদলে যায়। ইউসুফ শেখের বদলে তানভীর সরকার প্রধান মন্ত্রী হয়। যার ফলে ধরাকে সরাজ্ঞান করে রেখেছেন তিনি।
সিন্ডিকেটের বেতাল বাদশা এবং গডফাদার ও বলা হয় তাকে। তবে মুখে মুখোশ এবং ভয়েস ভারী থাকার ফলে তার বয়সের আন্দাজ ও করা ও কঠিন হয়ে পরে।
বাংলাদেশের মতো উন্নতশীল দেশে তার কী কাজ সেটা সম্পর্কে চলিত একটি কথা বহু বছর ধরে চলে এসেছে। শোনা যায়, ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর কিছু R’D’X এদেশে রপ্তানি করা হয়। যেগুলো কোথায় লুকানো রয়েছে সেটা আজ অব্দি কারো জানা নেই। শুরুতে এটাকে গুজব হিসেবেই ধরা হয়। তবে তানভীর সরকারের শপথ গ্রহণের সময় তার গাড়িতে R’D’X রাখা হয়েছিলো, কিন্তু তিনি দ্বিতীয় গাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায় সে যাত্রায়। তখন নিউজে আসে তামিম সরকার একসাথে কয়েকজন এমপি এবং মন্ত্রীকে পরপারে পাঠায়। তবে সেটা ও গুজব বলে ধামাচাপা দেওয়া হয়। এরপর লোক মুখে শোনা যায়, পূরাণ ঢাকার কোথায় ও এক পরিত্যক্ত এলাকায় কয়েকটি R:D:X মাটির নিচে পুঁতা রয়েছে। যেটার দখল নেওয়ার জন্য এখানকার সিন্ডিকেটে বেশ অনেক দেশের বৈদেশিক নাগরি ও এসেছে। তবে কেউ সন্ধান করতে পারেন নি। এরপর থেকে বিভিন্ন দেশের আন্ডারওয়ার্লডের নিশানায় চলে আসে পুরাণ ঢাকা।
অনেকেই সিন্ডিকেটে যুক্ত তো হয়। তবে বেশিদিন টিকতে পারে না। কারণ এখানে আইন নয় রক্ত কথা বলে,
এরপর থেকে শুরু হয় সিন্ডিকেট দখলের খেলা। কে হবে তার বাদশা। কার হুকুমে চলবে সিন্ডিকেট এটা নিয়ে খু:ন, আহাজারি, গুম লেগেই রয়েছে। বর্তমানে দশ বছর ধরে কৃষ্ণ দাস এবং চন্দ্র দাস সিন্ডিকেটের পিছনে রয়েছেন। তবে সরাসরি কেউ দখল নিতে পারেননি। রাজনৈতিক চাপ এবং কালো দুনিয়ার চাপে তারা খোলস থেকে বের হতে পারেননি। তাই সম্পূর্ণ সিন্ডিকেট চলে খান সাহেবের কথায়। তবে খান সাহেব বেশি কথা বলে না। তিনি মনিটরে প্রেজেন্ট হয়ে হাত উপরে তুলে শুধু রায় দেন। তারপর আবার ও চলে যান। ৩০ সেকেন্ড ও থাকেন না ভিডিও কনফারেন্সে।যার ফলে উনার লোকেশন ও ট্রেস করা সম্ভব হয়নি।
সকলের চোখ যখন বিশাল মনিটরে। তখন জুলফি এবং অভী একজন আরেকজনকে দেখতে থাকে। দু-জনেই রক্তে লেপ্টে রয়েছে। কয়েক সেন্ডের মধ্যে খান সাহেব কলে যুক্ত হন। তারপর ডান হাত উপরে তুলে বলেন, __সিস ফায়ার! ফ্যর ওয়ান মানথ।” কথাটি বলেই তিনি গায়েব হয়ে যান। কৃষ্ণ দাস এবং চন্দ্র দাস একজন আরেকজনের দিকে তাকান। এই একমাস যেহেতু সিস ফায়ার চলবে কেউ কারো সাথে ঝামেলা, বিবাদে জড়াতে পারবে না। জড়ালেই সিন্ডিকেট থেকে আউট।
তারা তাদের পালিত সন্তানদের নিয়ে যেতে থাকেন। তবে জুলফি এবং চাঁদের লক্ষ্যণ বলে দিচ্ছে, এই সিস ফায়ারে তাদের কচু ও হবে না। একা পেলে কেউ কাউকে ছাড়বে না।
গাড়িতে বসে দাদা সাহেব ( কৃষ্ণ দাস) বলেন,__চাঁদ! তুমি কী এখনো ও রিভ:লভার হাতে নিবা না বাপ?”
দাদা সাহেবের কথা শুনে অভী তার দিকে তাকায়। তারপর সিটে শরীরে এলিয়ে বলে,__যেইটা দিয়া মাইনষের প্রাণ যায়, সেইটা আমার কোনো কাজের না। দাদা সাহেব।’
__কিন্তু আন্ডারওয়ার্ল্ডে তোমার পজিশন নাই চাঁদ। আমার পর তোমারেই সব সামলাতেই হইবো।”
___না দাদা সাহেব। আমি এমনিতেই ঠিক আছি। হাত আমি রক্তে ভেজাবো না।”
একদিকে অভী যেখানে সে রক্তে হাত ধোঁয়াতে চায় না। আরেক দিকে জুলফি, যার হাত কখনো রক্ত ছাড়া শুঁকনো থাকে না। চলন্ত গাড়িতে বেশ কয়েকবার ঘুষি মেরে নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে থাকে জুলফি।
চন্দ্র দাস কাঁধে হাত রেখে বলেন,__মাথা ঠান্ডা কর বাপ। আরো দিন আসবে।”
__আপনে না আটকাইলে আজকে ওর মাথা কে’টে আনতাম আমি।”
চন্দ্র দাস এক বুক ভরা নিঃশ্বাস ফেলে বলেন,__অভীরে তুমি ততটা সহজ ভাবো। সে কিন্তু ততটা সহজ না। ড্রা:গ এমন ভাবে পাচার করে, কেউ ওর চুল ও ধরতে পারে নাই। মাস্টারমাইন্ড বান্দা।”
একটু তাচ্ছিল্যের সুরে জুলফি বলে,__আন্ডারওয়ার্ল্ডে তো মাস্টারমাইন্ড বলতে মানুষ একজনকেই চিনে। আমার রক্তের ছিটাফোঁটার ও দাগ থাকে না। মানুষ মরে ঠিকিই। আপনে কী চান? আমি ও ড্রা:গ সাপ্লাই করি?”
__নাহ!নাহ! এই ভুল আমি করমু না। তুমি হইলা আমার মাথার তাজ। তোমার যেইটা মন চাই, সেইটা করো।
__সামনে গাড়ি থামান। মাথা ঠান্ডা করতে হইবো।”
চন্দ্র দাস কিছু না বলে না চুপচাপ গাড়ি থামিয়ে দেন। কারণ তিনি জানেন জুলফিকারের মাথা কীসে ঠান্ডা হবে।এক মাত্র আফরিনের মুখ দেখলেই সে ঠান্ডা হবে।
জুলফিকার বাইক নিয়ে বেরিয়ে পরে উত্তরার দিকে। অন্য দিকে নিজের বাড়িতে গিয়ে একের পর এক সিগারে ফুঁ দিতে থাকে অভী। মাথা তবু ও মাথা গরম যায় না।
সিগারে টান দিতে দিতে অভী বলে,__বান্দী রে লাগবো রে, বান্দীরে লাগবো। এক্ষুনি লাগবো আমার।”
সিগার মাটিতে ফেলে আরেকটা সিগার ধরিয়ে নোবেলকে বলে,__কয়টা বাজে?”
__ভাই,৷ সাড়ে বারোটা।”
__এখনই বাইর হো।ওর ঘাড় ধইরা নিয়া আয়।”
অভীর বলতে নোবেলের যেতে দেরি নেই। সে বাইক নিয়ে সোজা আনন্দীদের বাড়ির কাছে চলে যায়। কারণ এই সময় সে ক্লাসে যায়। নোবেল একটু দূরেই বাইক থামিয়ে দেখে আনন্দীকে তার মা রিক্সায় তুলে দিচ্ছে। তাই সে দূরেই দাড়িয়ে পরে। রিক্সা কিছু দূর যেতেই সে বাইক নিয়ে হাজির হয়।
‘’ বর্তমান’’
অভী একটার পর একটা সিগারে টান দিতে থাকে। আর অপেক্ষা করতে থাকে। কখন তার বান্দীর বাচ্চা আসবে। তবে দশ মিনিটের বেশি সময় হওয়ার পর ও না আসাতে প্রচন্ড ক্ষেপে যায় সে। রাগ যখন চরম সীমানায় অতিবাহিত হয়, ঠিক তখনই আনন্দীকে নিয়ে নোবেল নিচ তলায় এসে পৌঁছায়। আনন্দী বাইক থেকে নামতেই অভী সিগার মাটিতে ফেলে পা দিয়ে পিষে আনন্দীর হাত ধরে টেনে দোতলায় নিয়ে যেতে থাকে।
অভীকে এমন রক্তাক্ত দেখে আনন্দীর মনে কু’ডাক ডাকতে শুরু করে।
দোতলায় গিয়ে অভী আনন্দীর কাঁধ থেকে ব্যাগ ফেলে দিয়ে তার ক্স বেল্ট খুলতে শুরু করে। আনন্দী বাঁধা দিতে গেলে তার গালে খুব জোড়ে চ’ড় বসিয়ে দেয় সে। এক এক আনন্দীর সমস্ত সাজ সজ্জা খুলে ফেলে সে। এখন তার মাথা ঠান্ডা হওয়া দরকার।
অপর দিকে বাইক নিয়ে জুলফিকার ছুটে চলে তার আফরিনের কাছে। যেখানে ঢাকার শতভাগ লোক তাকে ভয় পায়। সেখানে এই এক রত্তি মেয়ে তাকে নাচিয়া ছেড়েছে।
জুলফিকারের হুট করেই মনে পড়ে, তার আফরিনের সাথে দেখা হওয়ার দিন থেকে পরের ঘটনা গুলোর কথা। কলেজের ভিপি এবং পুলিশের মেয়ে আফরিন। সূর্বনা আফরিন সাজ। যে জুলফিকারের মতো দানবের মন ও গলিয়ে রয়েছে। তবে জুলফিকার? সে কী আদোও গলেছে? না-কি আফরিনকে নিজের বন্দী করে নিয়েছে?
উন্মাদনা পর্ব ১৫
বাইক নিয়ে জুলফিকার চলে যায় সোজা আফরিনদের বাড়ির পিছনে। যেখানে উইন্ডো দিয়ে আফরিন সহজেই জুলফিকারের সাথে কথা বলতে পারে। এর আগে ও বলেছে। তবে ইদানীং সে খুব একটা কাছে আসতে চায় না জুলফিকারের।
বাইক থামিয়ে মুঠোফোন হাতে নিয়ে আফরিনকে কল করে জুলফিকার,__এখনই নিচে আসো।”
