উন্মাদনা পর্ব ১৭
কায়নাত খান কবিতা
__এখনই নিচে আসো”
__সম্ভব নয় প্রিন্স! বাবা বাসায়। প্লিজ চলে যাও।”
__তুমি নিচে আসবা না-কি আমি উপরে আসবো?”
__ট্রাই টু আন্ডারস্টান্ড প্রিন্স। প্লিজ।”
__ঠিক আছে আমি উপরে আসতাছি।”
__নো! পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করো।”
অধিক কঠোরতা এবং অধিক শাসন, কখনো কখনো সম্পর্কের মায়াজাল থেকে বেরিয়ে, একটি মানুষকে তিক্ত অভিজ্ঞতার সফর করায়। ভালোবাসা অর্থ হলো খোলা আকাশে উড়ে বেড়ানো। সম্পর্কের মায়া জালে আটকে রাখা নয়।
শুরুর দিকে জুলফিকারের শাসন, কঠোরতা, নিজের প্রতি একাগ্রতা সমস্ত কিছু আর্কষণ করে আফরিনকে। তবে সময় যত যায়, আফরিন টের পায়, জুলফিকার কোনো ভালো মানুষ নয়। আন্ডারওয়ার্ল্ডে তার ওঠাবসা। জুলফিকারের রাগ, মানুষকে আক্রমণ করার মনোভাব দিন দিন আফরিনের মনকে কোনঠাসা করে তোলে। আফরিন কখনোই চায়নি তার জীবনটা কারো ইশারাতে চলুক। কেউ তাকে নিজের বন্দী হিসেবে রাখুক। কিন্তু সময় যত পেরোতে থাকে। জুলফিকারের আচরণ বারবার এটাই প্রমাণ করে যে, আফরিন শুধু মাত্র তার একটা অতি যত্নে পোষা পাখি। যার অবস্থান শুধু খাঁচা অব্দিই সীমাবদ্ধ।
আফরিনের ঘৃণা আরো এক ধাপ বেশি বেড়ে যায়, যখন সে জানতে পারে জুলফিকারের জন্য নিরীহ মানুষের প্রাণ গেছে। আফরিন চেয়েছিলো নিজেকে মুক্ত করতে। এই টক্সিক সম্পর্কটা থেকে বেরিয়ে আসতে। কিন্তু জুলফিকারের উন্মাদনা এবং চন্দ্র দাসের পাওয়ারের কাছে সব ফিকে পরে যায়।
চন্দ্র দাস নিজের বড় ভাই, কৃষ্ণ দাসের মতো সিন্ডিকেটে তেমন আধিপত্য বিস্তার করতে না পারলে ও। মোটামুটি একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করে। নকল টাকা রপ্তানি দেওয়ার ফলে মোটামুটি সুনাম তার রয়েছে বহির্বিশ্বে। তবে ভালো সমাজে নয়। নিকৃষ্ট সমাজে। উপরে উপরে পুরান ঢাকার সিন্ডিকেটের দল হলো জাহাজ ব্যবসায়ী। আর ভিতরে ভিতরে চোরাকারবারি। কৃষ্ণ দাস যেমন ড্রাগ ডিলারের জন্য বিখ্যাত। ঠিক তেমনই চন্দ্র দাস জাল টাকা রপ্তানির জন্য বিখ্যাত। আর তাদের তুরুপের তাস হচ্ছে চাঁদ এবং প্রিন্স। অর্থাৎ অভী এবং জুলফিকার। ২০২১ সাল থেকে জুলফিকার চন্দ্র দাসের হয়ে কাজ করতে থাকে। আর অভী ২০২২ সাল থেকে কৃষ্ণ দাসের হয়ে।
আর মজার ব্যাপার হলো ড্রা’গ ডিলার বা মানি লন্ডারিংয়ের সময় আজ অব্দি তারা দু-জন ধরা পড়েনি। কারণ যেখানে আইন রয়, সেখানেই অন্যায় হয়। কিন্তু তারা এই কাজ গুলো কোথায় করতো আজ অব্দি কেউ টের পেলো না কেন? পুলিশ রেড তো দেয়। তবে শক্তপোক্ত প্রমাণ কখনো পায়নি।
কৃষ্ণ দাস এবং চন্দ্র দাসের বার্ষিক আয়ের উৎস ও বরাবরই ক্লিন। যার ফলে অভিযোগ করে ও লাভ হয়নি। পুরান ঢাকার অলিতেগলিতে ইটের থেকে রক্তের সংখ্যা বেশি।
এখানে না চলে আইন আর না চলে প্রশাসন। এখানের জন জীবন যেন একটি ধাঁধার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু এতো ছোটো অঞ্চলে এতো নিরাপত্তা কেন? আর কে দিচ্ছে এই দূর্নীতিবাজদের এতো নিরাপত্তা?
একটু অতীত ঘাটতে হবে এটার উত্তর খোঁজার জন্য। তবে অতীতে কী সম্পূর্ণ উত্তর রয়েছে?
সময়টা ২০১৪ সাল।শাপলা চত্তরে তখন ব্যাপক মারামারি। শোনা যায় শত শত মানুষের লা’শ গায়েব করা হয়েছিল সে সময়।
তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী তানভীর সরকারের শপথ গ্রহণের সময় তার গাড়িতে হা’মলা হয়। গুরুতর আহত হয় তানভীর সরকার। পুরো মিডিয়া যখন তোলপাড় তখন আরেকটি নিউজ অচিরেই ধামাচাপা পরে যায়। সেটা হলো হিন্দু_মুসলিম দাঙ্গা। এবং R:D:x এর হামলা। R:D:X মূলত একটি বো’মা! যেটা জ’ঙ্গি গোষ্ঠী’রা ব্যবহার করতো মানুষের ক্ষতি করার জন্য। তাদের লক্ষ্য কখনোই ধর্ম প্রতিস্থাপন ছিলো না। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিলো কীভাবে মানুষে মানুষে দাঙ্গা লাগানো যায়। সন্দেহ ভাজন একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে পুলিশ গিয়েছিলো বটে । তবে ঘটনা স্থলে পৌছানোর আগেই ব্যক্তিটি আত্মহত্যা করে। যার ফলে এই R:D:x কোথায় লুকানো রয়েছে সেটা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায়। তবে বাইরে দেশে এই নিউজটি বেশ ভালো ভাবেই চলতে থাকে। যার ফলে উপর মহলের নজর পড়ে পুরান ঢাকার সিন্ডিকেটের উপরে।
দেশ যখন তানভীর সরকারের ফিরে আসার খুশিতে আত্মহারা। ঠিক তখনই পুরান ঢাকায় চলছিলো এক মৃত্যু যাত্রা। সিন্ডিকেট কার হবে?
উসমান সাহেবের মৃত্যুর পর থেকে পুরান ঢাকায় ছড়িয়ে পরে পাপাচার। কে হবে সিন্ডিকেটের রাজা? কার মাথায় উঠবে বাদশা আনা মুকুট। আন্ডারওয়ার্ল্ড চলবে কার ইশারাতে? একটি গোলকধাঁধার মাঝে আটকে যায় পুরো অঞ্চল।
দিন দিন খু:ন, গুম এবং ধর্ষ’ণের মতো অনৈতিক কাজের চাপ বেড়ে যেতে থাকে। যার ফলে অতিষ্ঠ হয়ে সাধারণ মানুষ ঠিক করে ভোটের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের দখল নিলামে উঠবে। তবে শর্ত একটাই! যে জয়ী হবে তাকে সকলকে নিরাপত্তা দিতে হবে। আর বাকিরা তাকে সার্পোট করে। নির্বাচন হয়। ফলাফল বলে কৃষ্ণ দাস সিন্ডিকেট দখল করবে। তার মাথায় উঠবে বাদশা আনার তাজ। কিন্তু এই ভোটের ফলাফল দেখে বেঁকে বসে চন্দ্র দাস। কৃষ্ণ দাসের নিজ মায়ের পেটের ভাই। এরপর শুরু হয় আরো এক দফা মারামারি, রক্ত, স্বজন হারানোর বেদনা। তবে সে-সময় কিছু কালো পোশাক ধারি লোক এসে জানায়, সিন্ডিকেট চলবে, সাহেব খানের ইশারায়। সাহেব নামটি শুনে জনসাধারণের মাঝে ধারণা সৃষ্টি হয় এটি বোধ হয় উসমান সাহেবের কেউ হবে। তাই সকলেই রাজি হয়ে যায়। কৃষ্ণ দাস এবং তার ভাই চন্দ্র দাস ও রাজি হয়ে যায়। কিন্তু তাদের মাঝে সেই থেকে রেষারেষি লেগেই থাকে।তারা দু-জনেই হয়ে উঠে দু-জনের চরম শত্রু। তবে দু-জন দুই ব্যবসায় মনোযোগ দেন। একজন দেয় ড্রা’গ ডিলারে এবং আরেকজন দেয় মানি লন্ডারিংয়ে। জাহাজ ব্যবসার নাম করে দু-জনেই তলে তলে চালায় নিজেদের কালো কর্মকাণ্ড। তাদের এই কালো ধান্দায় আরো উন্নতি লাভ হয়। যখন অভী এবং জুলফিকার তাদের দু-জনের দলে যোগ হয়। অভী যেখানে ড্রাগ ডিলারে পারদর্শী, ঠিল তার উল্টো দিকে জুলফিকার, মানি লন্ডারিংয়ে পারদর্শী। আর তাদের ব্যাক সার্পোটার কৃষ্ণ এবং চন্দ্র দাস। যার ফলে তারা গ্রেফতার হলে ও বেশিক্ষণ জেলে আটকে থাকে না।
‘পুরান ঢাকা’
প’শুর মতো আনন্দীর ওপরে ঝাপিয়ে পড়ে অভী। নিজের সমস্ত রাগ, ক্ষোভ, জেদ, যেন আনন্দীর উপরে মেটানোর পায়তারা তার। কাল এতো কিছুর পর যেখানে শরীর নাড়াতে ও অসুবিধা হচ্ছিল তার। সেখানে আজ আবার এতোকিছু। ছোট্ট শরীরে সহ্য হয় না আনন্দীর। জ্ঞান হারিয়ে অভীর বক্ষ তলেই তলিয়ে যায় সে। আনন্দীকে জ্ঞান হারাতে দেখে ও অভী থেমে যায় না। বরং তার অত্যাচার আরো দ্বিগুণ বাড়িয়ে তোলে।
উন্মাদনা পর্ব ১৬
মুখে হঠাৎ পানির ঝাপটা পড়তেই ধীর গতিতে চোখ খুলতে থাকে আনন্দী। শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা তার উপরে অভীর কর্কশ বানি। সব মিলিয়ে আনন্দীর জীবনটা বিষাদ ময় হয়ে যায়।
চোখ সম্পূর্ণ খোলার আগেই আনন্দীর কানে আসে অভীর কথা____ সারারাত কী আমার লগে থাকার ইচ্ছা বান্দী? আমার কোনো সমস্যা নাই। তুই সহ্য করতে পারলেই হইলো।”
