উপসংহারে তুমি পর্ব ৪
রুহানিয়া ইমরোজ
নিস্তব্ধ রজনী। সময়কাল তখন রাত তিনটা। প্রচন্ড ক্ষুধা লাগায় আচমকা ঘুম ভেঙে যায় চিত্রার। চোখ মেলে চাইতেই অসহ্য রকমের যন্ত্রণা অনুভব করে মাথায়। চোখদুটো জ্বলে যাচ্ছে সেই সাথে গলাও ব্যথা করছে। অতিরিক্ত কান্নার ফলে হয়তো কিন্তু কাঁদতে কাঁদতে কখন ঘুমিয়েছে ও? নাকি বেহুঁশ হয়ে গেছিল?
মনের ভেতর প্রশ্নটা এলেও সঠিক উত্তর জানা নেই চিত্রার। সে নিষ্প্রাণ দৃষ্টি ফেলে একবার ঘরের দিকে তাকায়। একদমই ছোট্ট একটা কামরা। একটা বেড, টেবিল আর কাপড় রাখার র্যাক ছাড়া কিছুই নেই। বাড়তি বলতে রুমের সাথে লাগোয়া ওয়াশরুম আছে কেবল।
অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে তার বুক চিরে। বাসায় আরও দুইটা খালি কামরা পড়ে আছে। চিত্রাকে অনায়াসেই রাখা যেত সেখানে। এই ধুলো বালি ঠাঁসা ঘরটা না দিলে বুঝি খুব ক্ষতি হয়ে যেত নাওয়াফের?
বিষয়টা অত্যন্ত ছোটো কিন্তু তীব্র ভাবে আঘাত করে চিত্রাকে। তবুও চঞ্চল চিত্রা আজ নীরব। বাস্তবতার আঘাত একদিনেই থমকে দিয়েছে তাকে। কেড়ে নিয়েছে সমস্ত সহন শক্তি।
তার বাবা প্রচুর বকাঝকা করত কিন্তু কখনো এতটা যন্ত্রণা অনুভব হয়নি চিত্রার। একবার কেঁদে নিলেই সব ব্যথা দূর হয়ে যেত। আর আজ? চোখের পানি পানির সাথে সাথে মনটাও নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু যন্ত্রণা কমছে না।
দুঃখ বিলাসের এক পর্যায়ে তীব্র ক্ষুধায় পেট মোচড় দিয়ে উঠে চিত্রার। আশরাফ শিকদার জোর করে কী যেন একটু খাইয়েছিলেন বিকালের দিকে এরপর আর খাওয়া হয়নি। অতিরিক্ত ক্ষুধায় তেঁতো বমি আসে চিত্রার। সেই সাথে বড্ড অসহায় অনুভূতি হয়। এই অবেলায় কাকে কী বলবে? আর নিজে থেকে নিলে যদি ওকে চোর উপাধি দেয় তখন?
সবার তপ্ত বাক্য শুনে চিত্রার মনে ভয় ঢুকে গেছে। সে ক্ষুধায় মরতে রাজি কিন্তু খোঁটা শুনতে ইচ্ছুক নয়। কথার ধার বড্ড তীক্ষ্ণ.. তার কোমল হৃদয় রক্তান্ত করে দেয় রীতিমতো।
ভাগ্য বোধহয় একটু সহায় হলো চিত্রার। হুট করে কেউ একজন নক করল দরজায়৷ মৃদুস্বরে বলল,
–” ম্যাডাম? শুনছেন?.. সেহরি খেতে ডাকছে আপনাকে।
কথাটা শুনে চিত্রার মাথায় বাজ পড়ে। ও তো ভুলেই বসেছিল বিষয়টা। অবশ্যই গতকাল থেকে যা হলো তাতে ভোলাটাই স্বাভাবিক। নিজেকে আর কষ্ট দিল না চিত্রা। ওটার জন্য হাজার জন আছে। আস্তেধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে দরজা খুলল। ওপাশে তখনও মহিলাটা দাঁড়িয়ে ছিল৷ চিত্রা কে দেখে স্মিত হেসে বলল,
–” আইয়েন ম্যাডাম..
চিত্রা উত্তর দিল না। মাথা নিচু করে চুপচাপ এগিয়ে চলল। নাওয়াফ আলদা ফ্ল্যাটে থাকলেও খাওয়া দাওয়া করে বাবা-মায়ের সাথে। অফিসে গেলেও নাফিম কে তাদের কাছে রেখে যায়।
এবার ঘটনা ভিন্ন তবে বাবা ছেলের মনমালিন্য চললেও নাজনীন বেগমের অনুরোধের কাছে হার মানতে হয় নাওয়াফকে। না চাইতেও বাবার ফ্ল্যাটে আসে সেহরি করতে। লোকমা মাখিয়ে সবে মুখে নিবে এমন সময় চিত্রা এসে হাজির হয় ড্রয়িংরুমে।
মেয়েটা মাথা নিচু করে ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে। চিত্রা হাজার লুকাতে চাইলেও ওর ফোলা মুখশ্রী নজরে এসে যায় নাওয়াফের। হুট করে কেমন যেন লাগে তার। সেকেন্ড কয়েক তাকিয়ে ফট করে চোখ নামিয়ে নেয়। যতই অস্বীকার করুক, ওর অন্তর জানে মেয়েটার এই অবস্থার জন্য সেই দায়ী।
নাওয়াফের ভেতর সূক্ষ্ম একটা অনুশোচনা খেলে যায়। কিন্তু তার ইগো সেটা মানতে নারাজ । দ্বন্দ্বের ইতি টানতে তাড়াতাড়ি খাওয়া শুরু করে নাওয়াফ।
চিত্রা ততক্ষণে এসে বসেছে বিপরীত পাশে। মেয়েটা নিশ্চুপ। কোনো কথা নেই বার্তা নেই। প্লেটে খাবার তুলে নিয়ে নিঃশব্দে একটু একটু করে খাচ্ছে। আঁড় চোখে আরেকবার তাকায় নাওয়াফ। চিত্রার ভাত মাখানোর স্টাইলটা লোভনীয় কিন্তু বড্ড ছোট ছোট লোকমা বানায়।
নাওয়াফ আর কিছু না ভেবে চটজলদি খাওয়া শেষ করে। এটারই অপেক্ষা করছিলেন আশরাফ শিকদার। নাওয়াফ ডেজার্ট আইটেম হাতে নিতেই তিনি গলা খাঁকারি দিয়ে বলেন,
–” শিকদার বাড়ির পুরুষেরা কখনো বউদের অসম্মান করে না। মুখে স্বীকারোক্তি দেওয়াটাই সব কিছু নয়। কে কতটুকু দায়িত্ববান সেটা কর্মে বোঝা যায়। বউকে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ভিন্ন কামরায় ফেলে রাখা কোনো বীরপুরুষের কাজ হতে পারে না৷
সবে ডেজার্ট আইটেমে হাত রেখেছিল নাওয়াফ কিন্তু বাবার বলা কথাটা শুনে থমকে যায় সে। বীরপুরুষ হতে পারে না.. কথাটা আঘাত হানে মস্তিষ্কে। তার মানে কী আশরাফ শিকদার তাকে কাপুরুষ বলতে চাইল ?
রাগে শক্ত হয়ে আসে নাওয়াফের চোয়াল। নাজনীন বেগম ভয় পেয়ে যান ছেলের মুখাবয়ব দেখে। স্বামীর কাঁধে হাত রেখে দু’পাশে মাথা নাড়িয়ে তাকে নিষেধ করেন ঝামােলায় জড়াতে। ওদিকে চিত্রা হতাশ হয়ে তাকায় চাচার দিকে। কী দরকার ছিল হিংস্র সিংহকে খোঁচানোর? এমুহূর্তে আশরাফ সাহেবকেই সব থেকে বড় শত্রু মনে হচ্ছে তার।
আজ ক্ষণে ক্ষণে মেজাজ হারাচ্ছে নাওয়াফ। তার উপর আশরাফ সাহেব তো আছেনই আগুন ঘী ঢালার জন্য। নাওয়াফ যথেষ্ট ত্যাড়া মানুষ। সহজে হার স্বীকার করে না। তাই সে চিত্রার পানে চেয়ে বলল,
–” আজ থেকে আমার ঘরে থাকবে তুমি। আমি কাপুরুষ নাকি বীরপুরুষ সেটা প্রমাণ করার দায়িত্ব আমার। আর হ্যাঁ, মেইডদের বেতন দিয়ে ছুটি দিয়ে দিব আমি। ঘরে বউ থাকতে অন্য কেউ কেনো ঘর সামলাবে?
চিত্রার মনে হলো অদৃশ্য কিছু ওর গলা পেঁচিয়ে ধরেছে। যেখানে সামান্য কাজ করতে হাঁপিয়ে যায় সেখানে গোটা একটা সংসারের কাজ কীভাবে সামলাবে সে? উপরন্তু নাওয়াফের দায়িত্ব। মরেই যাবে চিত্রা..
আশরাফ শিকদার থতমত খেয়ে যান ছেলের কথায়। তিনি আশা করেননি নাওয়াফ এমন কিছু বলবে। মনে মনে আফসোস করতে থাকেন তিনি। বাবার কর্মে তিতিবিরক্ত নাওয়াফ টেবিল ছেড়ে উঠে সোজা নিজের ফ্ল্যাটে চলে যায়।
ছেলে চলে যেতেই মুখ খুলেন নাজনীন বেগম। রাগে গজগজ করতে করতে বলে,
–” রমজান মাসে আল্লাহ শয়তান বন্দী রাখে। তোমার হাঁটুতে থাকা ব্রেইনটা বেঁচে গেল কীভাবে? ওটা তো শয়তানি আর বাঁশ খাওয়া বুদ্ধির আখড়া। এক লাফে কখনো গাছে ওঠা যায়? ওকে একটু সময় দিলে কী এমন হতো?
আশরাফ শিকদার অপরাধী মুখে বসে থাকেন৷ স্ত্রীর অপমানজনক কথার বিপরীতে বলার মতো কিছু খুঁজে পাননা। স্বামীকে চুপসে যেতে দেখে নাজনীন বেগম স্বস্তি পান। ভেতরকার রাগ মেটাতে চিত্রার পানে চেয়ে রাগী স্বরে বলেন,
–” যে কয়দিন আছ সে কয়দিন খেয়ে পরে নাও কিন্তু ভুলেও আমার ছেলেকে বশ করতে যেও না। নয়তো তোমার জীবন জাহান্নাম বানিয়ে দিব আমি। যতসব অপয়া অলক্ষী এসে আমার কপালেই জোটে।
নাওয়াফ চলে যাওয়ার পর একটু স্বস্তি নিয়ে খাওয়া শুরু করেছিল চিত্রা কিন্তু তিন নম্বর লোকমাটা মুখে নিতেই এমন ধারার মন্তব্য করে বসেন নাজনীন বেগম। ব্যস..সাথে সাথে ক্ষুধা মিটে যায় চিত্রার। গাল ভর্তি ভাত থাকলেও মুখ নড়াতে পারে না। চোখ উপচে জল পড়ে ভাতের প্লেটে। ব্যপারটা নাজনীন বেগমের চোখে পড়তেই উনি চিত্রার সামনে থেকে ভাতের প্লেট টেনে নিয়ে বলেন,
–” এত নাটক করে খেতে হবে না। ভাবখানা এমন যেন বহু কিছু বলে ফেলেছি তাকে। জগত দুঃখিনীর নাটক তোর চাচার সামনে করিস। কাজে দিবে। এর পরে থেকে খাবারের প্লেট সামনে নিয়া কাঁদতে দেখলে আর দ্বিতীয় দফা খাবার দিব না।
এপর্যায়ে আশরাফ শিকদার ধমকে উঠেন স্ত্রীকে। নাজনীন বেগম সেটার তোয়াক্কা না করে পাল্টা জবাবে বলেন,
–” চুপ থাকো তুমি। এনেছ তো এক চরিত্রহীন মেয়ে। যে কিনা বিয়ের আগেই নাং এর হাতে অপবিত্র হয়ে যায়। ওকে নিজের কিছু বলে পরিচয় দিতেও লজ্জা করছে সেখানে ছেলের বউ ভাবা তো বিলাসিতা।
কথাটা বলে ফোঁস ফোঁস করতে করতে নিজের ঘরের দিকে চলে যান নাজনীন বেগম। ড্রয়িংরুমে থেকে যায় বিধ্বস্ত চিত্রা, নাফিমের ন্যানি আর আশরাফ শিকদার। চিত্রা কেনো যেন এবার নিজেকে সামলাতে পারল না। হাতের উল্টা পিঠ দু চোখে ঠেকিয়ে হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠল।
কাকে বলবে মনের কথা? কীভাবে বোঝাবে সে নির্দোষ? মূলত চিত্রার কোনো প্রেম ছিল না। সে ওই ধাঁচের মেয়েও না। খানিকটা বোকাসোকা আর লক্ষীমন্ত মেয়ে। এজন্যই গ্রামের অনেকের নজরে ছিল চিত্রা৷
ঠিক এমনই ভাবে এলাকার এক প্রভাবশালী নেতার ভাতিজার কু দৃষ্টি পড়ে যায় তার উপর। বিষয়টা চিত্রা টের পায় ইন্টারের ফাইনাল টেস্টের পর। তার অবচেতন মনে ভয় ঢুকে যায় ভীষণ কারণ ওই ছেলে উশৃংখল এবং বখাটে।
এর প্রস্তাব প্রত্যাখান করা মানে ভরা বাজারে অসম্মানিত হওয়া৷ বাসায় এত সাপোর্টিভ কেউ ছিল না যার সাথে শেয়ার করলে সমস্যাটা সমাধান করা যাবে। উপরন্তু বাসায় জানালে লেখাপড়া অফ করে দিবে। ওই বন্দী খাঁচা থেকে মুক্ত হওয়ার ইচ্ছেটা আর পূরণ হবে না। এসব ভেবেই চিত্রা কাউকে জানায় না।
মনে মনে সিধান্ত নেয়, মাত্র তিনটা মাসই তো। একটু রয়ে সয়ে কাটিয়ে দিবে এরপর সে ডানা মেলে উড়ে চলে যাবে বাইরে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই ছেলের সাথে কোনোরুপ রিলেশনে না গেলেও তাকে নিষেধ করে না চিত্রা। ওই ছেলে নানা ধরনের পাগলামি করতে থাকে কিন্তু পরিবার আর পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সেসব থেকে বেঁচে যায় চিত্রা। তবুও শেষ রক্ষা হয় না।
চিত্রার পরীক্ষা শেষ হতেই তার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব রাখে ওই ছেলে। স্বাভাবিক ভাবেই সেটা প্রত্যাখান করে দেয় চিত্রার পরিবার। এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ছেলে৷ যোগাযোগ করার চেষ্টা করে চিত্রার সাথে কিন্তু চিত্রা কোনো রেসপন্স না করায় আরও ক্ষেপে যায় সে। এমতবস্থায় চিত্রার বাসা থেকে অন্যত্র বিয়ে ঠিক হলে ওই ছেলে প্রতিশোধ পরায়াণ হয়ে ওঠে।
নোংরা ভিডিওতে চিত্রার মুখশ্রী বসিয়ে সেটা পাচার করে দেয় গ্রামের তরুণদের মাঝে এমনকি এটাও বলে যে ওরা রিলেশনে ছিল। ফলস্বরূপ বিয়ে ভেঙে যায় চিত্রার। পাড়া শুদ্ধ লোকজন একেক কথা বলতে শুরু করে। এত বদনামী হজম করতে না পেরে চিত্রার বাবা সালিশ বসানোর সিধান্ত নেয়।
মূলত এই সালিশের বিচার কার্যক্রমে অংশ নিতেই গ্রামে এসেছিল নাওয়াফ আর আশরাফ সাহেব। তারা ভেবেছিল পরিস্থিতি সামলে নিবে কিন্তু সমস্ত কিছু হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল। কাউকে বিশ্বাস করানো যায়নি যে ওটা চিত্রা না৷
একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জনগণ। কেউ ত্যাজ্য করতে বলে, তো কেউ মাথা ন্যাড়া করে ঘোল ঢেলে বাজারে ঘোরাতে বলে, কেউ বলে পাথর নিক্ষেপ করে মারতে, কেউ আবার এক ঘরে করে দিতে বলে। এই বিদঘুটে পরিস্থিতি থেকে চিত্রাকে বাঁচাতে এবং নিজের ছেলের ভালোটা চিন্তা করে তাদের বিয়ের ঘোষণা দেন আশরাফ শিকদার।
শুরুতে নাওয়াফ মানতে চাইনি। কিন্তু হুট করে তার বাবা কিছু একটা বলে যার ফলস্বরূপ বাধ্য হয়ে চিত্রাকে বিয়ে করতে রাজি হয় নাওয়াফ। ওই আসরে ওই কাপড়েই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় তাদের।
বিয়ের পর একটু নিশ্চিন্ত হয়েছিল চিত্রা কিন্তু পোড়া কপালির কপালে কী আর এত সুখ সয়? জীবন বাঁচাতে গিয়ে আত্মিক শান্তি দাফন করেছে সে। শরীরের আঘাত থেকে বাঁচতে গিয়ে আপন করেছে কথার আঘাতকে।
শরীর কাফনে জড়ায়নি ঠিকই কিন্তু আত্মিক লাশের জানাজা উঠে গেছে। সেই সাথে মেয়েটাও বুঝেছে, হাজার বার মরার চাইতে একবার মরা ভালো। দু’কথা শোনার চাইতে শরীরে দুইটা মারের দাগ থাকা শোভনীয়। কিন্তু এখন যে বহু দেরি। বুঝেও তো লাভ নেই।
উপসংহারে তুমি পর্ব ৩
জীবন এক ধাক্কায় বহুত কিছু শিখিয়ে দেয় চিত্রাকে৷ মেয়েটা ভেবেছিল এটাই হয়তো শেষ কিন্তু সৃষ্টিকর্তার বিধান ছিল আলাদা। কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে সেটা ঘুণাক্ষরে ও টের পায়নি চিত্রা। যখন জানল বুঝল তখন আর পিছু সরার সুযোগ পেল না…
