Home উপসংহারে তুমি সিজন ২ উপসংহারে তুমি সিজন ২ পর্ব ৬

উপসংহারে তুমি সিজন ২ পর্ব ৬

উপসংহারে তুমি সিজন ২ পর্ব ৬
রুহানিয়া ইমরোজ

অপরাহ্নের প্রথম প্রহর। উজ্জ্বল সোনালি রোদের নরম তাপের চাদরে ঢেকে আছে শহর। তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও শীতে কুঁকড়ে যাচ্ছে চিত্রা। ঘায়েল সৈনিকের মতো বেঞ্চের শেষ কোণার দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে আছে। মাত্রাতিরিক্ত শরীর খারাপ লাগছে তার। হাতের ব্যথার সাথে হু হু করে বাড়ছে শরীরের তাপমাত্রা।
মাত্র একটা ক্লাস বাকি বলে ছুটি নেয়নি সে। শরীরকে বোঝাচ্ছে, সঙ্গ দেওয়ার জন্য। মনের জোরেই পরপর এতগুলো ক্লাস কন্টিনিউ করেছে। শেষ পর্যায়ে এসে হার মানতে চাইছে না। তার পাশে বসে থাকা নিহা চোখ রাঙাচ্ছে বারংবার। চিত্রাকে এমতবস্থায় দেখতে পারছে না সে। জোরাজোরি করে লাভ হয়নি বলে মুখ ফুলিয়ে রেখেছে। চিত্রাও আর মান ভাঙায়নি। দুজনেই নিরবে চেয়ে আছে বইয়ের দিকে৷ এর মধ্যে হুট করে একজন সিনিয়র শিক্ষার্থী এসে বলল,

-“ উম্মে মায়মুনা নিহা আর চিত্রলেখা শিকদারকে ডাকা হয়েছে অফিস রুমে। প্রিন্সিপাল স্যার কথা বলতে চান৷
বাংলা ক্লাস চলছিল তাদের। টিচার খুব মনোযোগ দিয়ে সোনারতরী পড়াচ্ছিলেন৷আকস্মিক ব্যাঘাত ঘটায় বেশ বিরক্ত হয়ে তিনি খেঁকিয়ে উঠে বলেন,
-“ আমার ক্লাসেই সবার দরকার পড়ে। বাংলা ক্লাস বলে কোনো গুরুত্ব নেই নাকি? আশি পার্সেন্ট স্টুডেন্ট বাংলা সাবজেক্টে এ প্লাস মিস করে। তবুও তাদের হুঁশ ফেরেনা এই যাও তো, কেনো ডাকছে শুনে এসো।
উড়ে এসে জুড়ে বসা নিউজটা শুনে চমকে উঠে একে অপরের দিকে তাকাল তারা। অজানা আতঙ্কে বুকের ভেতরটা ধড়ফড়িয়ে উঠল দুজনর। মুখমণ্ডল ফ্যাকাসে হয়ে গেল। ওই জঘন্য ব্যপারটা প্রিন্সিপাল স্যার অব্দি পৌঁছালে রক্ষে থাকবে না কারোর। ফাঁকা ঢোক গিলে দুজনেই উঠে দাঁড়াল।
দুশ্চিন্তা আর ভয়ের চোটে চিত্রাও সাময়িক ভাবে সমস্ত অসুস্থতা ভুলে বসল। উৎসুক হয়ে নিহার হাত ধরে পা বাড়াল বাইরের দিকে। গেটের বাইরে আসতেই দুইজন সিনিয়রের দেখা মিলল। একজন সহ সভাপতি কাব্য মর্তুজা অন্যজন সেই মেয়েটা। অসময়ে সহ সভাপতির উপস্থিতি নিহার ভয় বাড়িয়ে দিল। ও চোখ বড়বড় করে তোতলানো স্বরে শুধাল,

-“ ভ্ ভাইয়া আপনি? ”
ভাইয়া ডাকটা পছন্দ হলো না কাব্যের। সুন্দরী মেয়ের মুখে ভাইয়া ডাক শুনলে বুকে যন্ত্রণা হয় তার। অন্যদিন হলে মেয়েটাকে ধমকাত কিন্তু আজ পরিস্থিতি ঘোলাটে দেখে কথা না বাড়িয়ে সহজ গলায় বলল,
-“ হুম। কাব্য মর্তুজা ইজ এট ইয়্যোর সার্ভিস লেডিস। ফলো মি, যমদূতের ডাক পড়েছে। দেরি হলে কল্লা নিবে সব-কয়টার৷
কাব্যের সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি ওদের হতভম্ব করে দেয়। নিহা তো গুটিয়ে যায় রীতিমতো৷ ও শুরু থেকেই ক্যাম্পাসে আছে তাই মোটামুটি জানে এদের সম্পর্কে।
গুপ্ত রাজনীতির মূল মহড়া এরা। দু চারটে মার্ডার করে সেটাকে এক্সিডেন্ট কিংবা মার্ডার কেস বলে চালিয়ে দেওয়া তো ওয়ান টু এর ব্যপার তাদের জন্য৷ কেননা সভাপতি নাওয়াফ শিকদার সমুদ্র স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাগিনা। এই ইনফরমেশন গুলো খুব কাছের একজন দিয়েছিল নিহাকে৷ সেই আকস্মিকতায়, মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে উঠল বেচারির। তবে কি রাগ মেটাতে তাদের মেরে ফেলা হবে?

কাঙ্ক্ষিত ঠিকানা তথা নতুন বিল্ডিংয়ের থার্ড ফ্লোরের সেই নির্দিষ্ট কক্ষের সামনে এসে থামল চিত্রারা। দরজা
যারপরনাই ভেতর থেকে বন্ধ। বাইরে থেকে বোঝবার উপায় নেই, ভেতরে কি চলছে। একদম শুনশান নীরব পরিবেশ। তা দেখে, একে অপরের দিকে তাকাল তারা৷ এরমধ্যে কাব্য দরজায় টোকা মেরে বলল,
-“ গালি গালি মে শোর হে,
কাইল্লা তামাক খোর হ্যায়।
সিরিয়াস মুহূর্তে অদ্ভুত কোড শুনে আহাম্মকের মতোন তাকাল চিত্রা। নিহা ঠোঁটে ঠোঁট চাপলো। এই কোডের পেছনের কনটেক্সট তার অজানা নয়। সবার সামনে পার্ট নেওয়া সহ-সভাপতি কাব্য মর্তুজা স্বভাবতই দুষ্টুর শিরোমণি। রসিকতার জন্য বন্ধু সমাজেও বেশ ফেমাস ব্যাটা। দেখতে শ্যাম বর্ণের হওয়ায় মজার ছলে প্রয়াত সভাপতি ইফতেখার বর্ষণ মির্জা, কাব্যর বদলে কাইল্লা বলে ডাকতেন তাকে। সেই থেকেই নামটা ভাইরাল হয়ে যায়। সামনা-সামনি না বললেও আড়ালে আবডালে প্রায় মানুষ তাকে এই নামেই ডাকে এবং চিনে।

ওদের ভাবনার মাঝে খট করে দরজা খুলে যায়। রাখি নামের মেয়েটাই দরজা খুলে। তাকে দেখে চিত্রার গলা শুকিয়ে যায়। তার চেয়েও বেশি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয় নিহা। রাখিকে উপেক্ষা করে বেচারি চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে থাকে, ঘরের ভেতর হাই বেঞ্চে হেলান দিয়ে পা ভাজ করে দাঁড়িয়ে থাকা বহুল অনাকাঙ্ক্ষিত মানুষটার দিকে। ক্যাম্পাসে পা দেওয়ার পর এই নিয়ে তৃতীয় বার দেখল তাকে।
সে মানুষটা আর কেউ নয় বরং তার স্বপ্নের রাজকুমার, হাজারো মেয়ের ক্রাশ, সোশ্যাল মিডিয়ার ফেমাস ব্যক্তিত্ব এবং কলেজ শাখার সভাপতি নাওয়াফ শিকদার সমুদ্র। নিহা চোখের পলক ফেলতেও ভুলে যায় যেন৷ একমুহূর্তের জন্য জানের ভয়, ডর, দুশ্চিন্তা; সবকিছু গায়েব হয়ে যায় মস্তিষ্ক থেকে। বুভুক্ষার মতো গিলে খেতে থাকে নাওয়াফকে। মানুষটা সুন্দর। একটু বেশি সুন্দর বললেও ক্ষতি হবে না।।তার বাহ্যিক রুপ এবং অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিত্ব জাস্ট পাগল করার মতো।
দরজা খুলতেই কাব্য হুড়মুড়িয়ে ভেতরে ঢোকে। চিত্রাও তার পিছু যায় কিন্তু নিহা থমকে দাঁড়িয়ে রয়৷ অপলক চোখে তাকিয়ে থাকে সাদা শার্ট পরিহিত নাওয়াফের খোলা বুকের দিকে। ওই অভিভূত দৃষ্টির চাহুনি পড়তে ভুল হয় না কারো। নাওয়াফ নিজেও ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত চোখে তাকায় কাব্যের দিকে। কাব্য খেঁকিয়ে উঠে বলে,

-“ এই ছোঁচা আন্ডা পোকা, ওমন করে কি দেখছ? এই সন্দেশ শুধু তার বউয়ের। চোখ নামাও বেয়াদব..
দুই লাইন বেশি বকা কাব্যের স্বভাব।অতিরিক্ত হম্বিতম্বি করতে গিয়ে প্রায় আজাইরা কথা বলে ফেলে। উপরন্তু আজ মেজাজ বিগড়ে আছে, এজন্যই আরও বলদের মতো কাজ করছে। নাওয়াফ জোর গলায় ধমক দিয়ে বলে,
-“ শাট দ্যা ফাক আপ এন্ড ইয়্যু.. বান্ধবীর পাশে গিয়ে দাঁড়াও।
শেষের কথাটা নিহাকে উদ্দেশ্য করে বলল নাওয়াফ। নিজের বোকামি বুঝতে পেরে লজ্জা পেয়ে জিভ কেটে এক দৌড়ে চিত্রার পাশে গিয়ে ওর হাত খামচে ধরল। খুশি আর উত্তেজনায় কাঁপছে নিহা। চিত্রা বোকার মত ওকে দেখে আবার দৃষ্টি নিচু করে। না জানি কি হবে তাদের সাথে।

ঘরজুড়ে বিরাজ করছে পিনপতন নিরবতা। মাঝেমধ্যে এয়ারকন্ডিশনের শো শো শব্দ শোনা যাচ্ছে স্রেফ। থম মেরে দাঁড়িয়ে আছে বাকিরা। সকলের চোরা দৃষ্টি নিবদ্ধ রাগান্বিত নাওয়াফের উপর।আকস্মিক এত হাঁকডাকের কারণ সকালেরই অজানা। ট্যুর ফেলে রাতারাতি এই লোকের আগমন মোটেও সুবিধাজনক ব্যপায় নয়।
তাছাড়াও কোনো ঝামেলা হলে সহজে কাউকে চেম্বারে ডাকে না নাওয়াফ। বাইরে কথা বলেই সমাধান করে নেয় নয়তো কাব্যকে পাঠায়। এবার এত আয়োজনের পশরা দেখে সবাই চিন্তিত এবং ভীত৷ যাকে ঘিরে সবার আগ্রহ সে নির্বিকার চিত্তে একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে ঘড়ির কাঁটার দিকে।কাব্য দাঁড়িয়েছে ঠিক তার ডান সাইডে।
নাওয়াফের অর্ডার দেওয়ার অপেক্ষায় আছে। কাজটা যদিও সহজ হবে না তবুও জান হাতে নিয়ে কাব্য কে তা করতে হবে।
দোটানায় পিষে লাট্টু হয়ে যাওয়ায় কাব্যের কাজ। ভাগ্য ভালো হওয়ায় এবার তাদের ঝামেলায় পড়তে হলো না। কাঙ্ক্ষিত সময়ের এক মিনিট পূর্বেই উপস্থিত হলো সেই মহা মানবী যার জন্য অপেক্ষারত ছিল স্বয়ং সভাপতি এবং বাকিরা।
ঘড়ির কাঁটা বারোটার ঘরে ঠেকতেই দরজায় পরপর তিনবার টোকা পড়ল।কাব্য অভ্যাসের দোষে জিজ্ঞেস করে বসল,

-“ কে বে?
অপর পাশ থেকে গমগমে কন্ঠে কেউ বলল,
-“ তোর বাপের পলাতক বউ।
কাব্য গায়ে মাখল না সেসব।কন্ঠস্বরে শুনেই তার মুখের বিরক্তিভব উবে গেল। ঠোঁট কামড়ে হেসে তড়িঘড়ি করে দরজা খুলে বলল,
-“ তোরই অপেক্ষা করতেসিলাম। জলদি আয়, স্যারেরা দেখলে প্রশ্ন করতে করতে চান্দির চুল খাড়া কইরা দিব
দরজার ওপাশের মানুষটা ভূমিকাই। সংঘটিত ঘটনার সহিত সংযুক্ত সকলকে ডাকা হয়েছে। সে বাদ পড়বে কীভাবে? অবশ্য সে নি মর্জির মালিক। কারও নির্দেশে আসেনি। অপরপক্ষ কে আরেক দফা হেনস্তা করতে এসেছে। মাঝপথে কাব্যের কথা শুনে নির্বিকার গলায় বলল,

-“ ফটর ফটর না করে সামনে থেকে সর মুতু।
কাব্যর হাসিহাসি মুখটা নিমিষেই থমথমে হয়ে গেল।এই নাম নিয়ে বড্ড বিড়ম্বনায় আছে সে। একেকজন যেমন খুশি তেমন ভাবে তার নামের পোস্টমর্টেম করে। কাব্যর বদলে কাইল্লা আর মর্তুজার বদলে মুতু শুনতে শুনতে অতিষ্ঠ সে। কেউ তার মনের দুঃখ বুঝে না।
জুনিয়র গুলো তো আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে। এইতো সেদিন, ফেসবুকে একটা মানবিক পোস্টের ক্যাপশনে লিখেছিল,“ বঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পাকা বাড়ি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ, মানবিক উন্নয়নের আরেকটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ”জোচ্চর জুনিয়র গুলো সেখনে কমেন্ট করেছে, মর্তুজা ভাইয়ের মতো মুতু খানা বানিয়ে দেওয়া সুসন্তান, ঘরে ঘরে হোক। আরেক বান্দা লিখেছে,“ ভাবি জিগায় ভাই কোথায়? ভাই জবাব দেয়, মুতু খানায়। এজন্যই তার গফ নাই। ” কাব্য সইতে না পেরে পোস্টটাই ডিলিট করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সব কয়টাকে খুঁজে এনে ঠেঙ্গিয়েছে কিন্তু সম্মুখে দাঁড়ানো রমণীকে দেখে তারই বুক কাঁপে।
কাব্যকে হতাশ মুখে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার পায়ে পাড়া দেয় ভূমিকা। কাব্য লাফিয়ে উঠে সরে যায়। ভূমিকা বিরক্তি প্রকাশ করে ঘরে ঢুকে সরাসরি নাওয়াফের দিকে তাকিয়ে শুধায়,

-“ জরুরি তলবের কারণ?
নাওয়াফ দু-হাত বুকে গুঁজে রেখেছিল। ভূমিকার প্রশ্ন শুনে হাত নামিয়ে বাঁ পাশ থেকে একটা লাঠি টেনে এনে তাকে দেখিয়ে গমগমে গলায় বলে,
-“ এই লাঠি দিয়ে সাধারণ সম্পাদক নুসাইবাকে মেরে জখমী করেছ তুমি৷ অভিযোগটা কি সত্য?
বদ্ধ ঘরে নাওয়াফের উত্তপ্ত স্বর বড্ড ভয়াল শোনায়। চিত্রা শিউরে উঠে মনে মনে দোয়া পড়তে শুরু করে।কী হবে ভেবেই দম আঁটকে আসছে তার। এই মানুটাও কি অন্যদের মতো একপাক্ষিক বিচার করবে? অন্যায়ভাবে আঘাত করবে তাদের? দুশ্চিন্তায় তার দুর্বল শরীরটা দুলে উঠল৷
ওদিকে ভূমিকা নির্বিকার গলায় বলল,

-“ থাউজ্যান্ড পার্সেন্ট ট্রু৷
নাওয়াফ তার চোখে চোখ রেখে শুধাল,
-“ ওয়েল, উনার গায়ে হাত তোলার রিজন?
ভূমিকা পরপরই জবাব দিল,
-“ ব্যক্তিগত আক্রশ মেটাতে জুনিয়রকে পানিশমেন্ট দিচ্ছিলেন৷ বিনিময়ে আমি তাকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দিয়েছি।
নাওয়াফ এক পলক নুসাইবার দিকে তাকাল। মেয়েটা কেঁপে উঠল সেই দৃষ্টি দেখে। নাওয়াফকে ভুলভাল বলে ভূমিকার বিরুদ্ধে স্টেপ নিতে বলেছিল৷ সে যে এভাবে সমাবেশ বসিয়ে ফেলবে সেটা ভাবেনি। ভবিষ্যত ভেবে নুসাইবা ফাঁকা ঢোক গিলে৷ নাওয়াফ সন্দিহান কন্ঠে শুধায়,

-“ তোমার কাছে কোনো প্রমাণ আছে?
ভূমিকা একমুহূর্ত দেরি না করে চিত্রার দিকে তাকিয়ে বলল,
-“ হেই ফ্লাওয়ার, এখানে আসো। ফোলা হাতটা দেখাও মূর্খদের নেতাকে। সে জানুক, তার সুশীল সদস্যদের আসল কর্ম সম্পর্কে।
শেষের কথাটা তাচ্ছিল্য নিয়ে বলল। নাওয়াফ জ্বলন্ত চোখে চেয়ে হজম করল সেটা। মেয়েদের অসম্মান করা কিংবা তাদের গায়ে হাত তোলা তার স্বভাববিরুদ্ধ কাজ নয়তো ভূমিকা অবশ্যই একটা জবাব পেত।
ভয়ে কাঁপতে থাকা চিত্রা ভূমিকার কথা শুনে আড় চোখে নিহার দিকে তাকাল। নিহা মোটামুটি ধাক্কা দিয়ে তাকে সামনে ঠেলে দিল।জ্বর তপ্ত শরীরটাকে কোনো মতে সামলে দুর্বল পায়ে নাওয়াফের সামনে দাঁড়াল চিত্রা।
কাছাকাছি আসতেই পুরুষালি পারফিউমের হালকা স্মেল তার নাকে লাগল। উগ্র নয় বরং মনোরম সুগন্ধ।
বহুকষ্টে সেটা উপেক্ষা করে ফুলে ওঠা আঘাতপ্রাপ্ত হাত খানা বাড়িয়ে দিল চিত্রা। কারও মুখে রা নেই। এমনকি হাত দেখেও নাওয়াফের প্রতিক্রিয়া নেই।

চিত্রা খেই হারিয়ে কৌতূহল বশত নাওয়াফের চেহরার দিকে তাকাল। ব্যস! তাকাতেই ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল তার শরীর। বোধ হলো কেউ ওকে নিমিষেই হিপনোটাইজ করে ফেলল। কেমন যেন ঘোরের মধ্যে ডুবে গেলো ও। একদৃষ্টিতে চেয়ে রইল নাওয়াফের পানে৷ তার হলদেটে ফর্সা মুখ,এক জোড়া বুদ্ধিদীপ্ত নীল চোখ, ঘন ভ্রু যুগল, খাড়া নাক, কালচে খয়েরী রাঙা ঠোঁট এবং ধারালো জ লাইনের নিখুঁত সৌন্দর্যের পানে। তাকে দেখলে যে কেউ বলবে, বহু বছরের চক্ষু তৃষ্ণা মেটাচ্ছে অথচ নাওয়াফ নামক পুরুষকে সে চিনেই না।
মন মস্তিষ্কের সাথে দ্বন্দ্ব চলছে চিত্রার। মনে হচ্ছে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে ওর সমগ্র সত্তাকে। সে চেয়েও বাঁধা দিতে পারছে না ওই অশুভ শক্তিকে। অতিরিক্ত জ্বরের প্রভাব নাকি অশরীরী তান্ডব,তা বোঝার পূর্বেই মস্তিষ্ক হাল ছেড়ে দিল। ঢলে পড়তে লাগলো মেয়েটা।

তার নাজুক দেহ জমিন স্পর্শ করার পূর্বেই শক্ত-পোক্ত পুরুষালি পেশাল হাতের বাঁধনে আঁটকা পড়ল। প্রথম বারের মতো কোনো পুরুষ অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ছুঁয়ে দিল তাকে। সহসাই কেঁপে উঠল চিত্রা। ঠোঁট নেড়ে কিছু বলার পূর্বেই চেতনা হারিয়ে ফেলল। তার মাথাটা গিয়ে ঠেকল নাওয়াফের প্রশস্ত খোলা বুকে।
মিনিট খানেকের ঘটনা অথচ কেউ নিজের চোখকে ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না। নাওয়াফ নিজেই মূক। সে অন্য নারীকে ছুঁয়েছে কিংবা ছুঁয়ে আছে, সেটা তার বিশ্বাসই হচ্ছে না। তাকে বিশ্বাস করানোর জন্যই নড়ে উঠে চিত্রা। আর বেখেয়ালিতে তার ঠোঁট স্পর্শ করে নাওয়াফের সৌষ্ঠব বুকের মধ্যিখান। যেখানে থাকা শত শত হাজার নারীর স্বপ্ন।

উপসংহারে তুমি সিজন ২ পর্ব ৫

ঘরের মধ্যে সবাই যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ়। কাব্য তখন চিন্তিত নাওয়াফের ভবিষ্যত বউয়ের হক নিয়ে। বেচারা আফসোস নিয়ে বলেই বসল,
-“ দিল রে দিল, সোজা দিলের উপ্রে স্ট্যাম্প মেরে দিল৷ এবার কি হবে?

উপসংহারে তুমি সিজন ২ পর্ব ৭