Home এই অবেলায় এই অবেলায় পর্ব ৪৮

এই অবেলায় পর্ব ৪৮

এই অবেলায় পর্ব ৪৮
সুমনা সাথী

পরীক্ষা বিশেষ ভালো হয়নি নবনীর। আর ভালো হবেই বা কীভাবে? গত কয়েকটা মাস যাবত সে তো বই ছুঁয়েও দেখেনি। শেষদিকের কয়েকটা দিন দিব্য তাকে বারবার পড়ার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল বটে কিন্তু পড়ার মতো ফুরসত বা মানসিক অবস্থা কোনোটাই সে পায়নি। যতটা সময় পেয়েছে, সবটুকু জুড়ে ছিল দিয়ার সান্নিধ্য আর তার সাথে খুনসুটি। সত্যি বলতে, নবনীর নিজেরও পড়তে বসার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিল না। ভার্সিটির মেইন গেটের কাছাকাছি আসতেই হুট করে থমকে দাঁড়াল নবনী। গেটের একপাশে গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সুট-প্যান্ট পরিহিত দিব্য তালুকদার। চোখে তার কালো রঙের সানগ্লাস, এক হাত পকেটে আর অন্য হাতে ফোন। চারপাশ দিয়ে এত এত ছেলেমেয়ে হেঁটে যাচ্ছে, অথচ সেদিকে তার বিশেষ কোনো আগ্রহ নেই। সমস্ত মনোযোগ যেন ফোনের স্ক্রিনটাতেই নিবদ্ধ। নবনী ধীরপায়ে এগিয়ে গিয়ে তার ঠিক সামনে দাঁড়াতেই দিব্য মুখ তুলে তাকাল। সানগ্লাসের ওপর দিয়েই তার চোখ জোড়া নবনীর ওপর নিবদ্ধ করে বেশ উৎসাহের সাথে জিজ্ঞেস করল,

“পরীক্ষা কেমন হলো?”
ঠিক এই প্রশ্নটার ভয়ই পাচ্ছিল নবনী। মনে মনে তীব্র অস্বস্তি নিয়ে মাথাটা একদম নিচু করে মৃদু স্বরে বলল,
“বিশেষ ভালো হয়নি।”
উত্তরটা শুনে দিব্য আলতো করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নবনী দুরুদুরু বুকে ভাবছিল, এখনই বোধহয় দিব্য তার গম্ভীর গলায় লেকচার দেওয়া শুরু করবে। নবনী, তোমার কমনসেন্স আসলে কোথায়? পরীক্ষা ভালো হয়নি আর তুমি এত বড় মুখ করে সেটা বলছ?’
কিন্তু নবনীর ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে তেমন কিছুই ঘটল না। দিব্য বেশ সাবলীল ভঙ্গিতে ফোনটা পকেটে রাখতে রাখতে শান্ত গলায় বলল,
“ইট’স ওকে। এবার হয়নি তো কী হয়েছে? পরের বার নিশ্চয়ই ভালো হবে। চলো, আমাদের বের হতে হবে।”
দিব্য এগিয়ে গিয়ে গাড়ির দরজাটা খুলে ধরতেই নবনী ভেতরে বসার জন্য পা বাড়াল। কিন্তু সিটের ওপর চোখ পড়তেই সে দেখল, সেখানে একটা প্যাকেট রাখা। ওপর থেকে দেখেই বেশ আন্দাজ করা যাচ্ছে ওটার ভেতরে কী থাকতে পারে। দিব্য আলতো করে প্যাকেটটা একপাশে সরিয়ে নিয়ে বলল,

“সকাল থেকে তো একটা দানা-পানিও পেটে পড়েনি তোমার। এই সময় খিদে পাওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই আসার পথে এটা সাথে করে নিয়ে এলাম। আর শোনো, বাড়িতে ফোন করে শুনলাম দিয়া নাকি মুখ ফুলিয়ে বসে আছে। মাম্মা ছাড়া সে কিচ্ছু বুঝবে না। ওর এই মান-অভিমান আর রাগ ভাঙাতে তো আমাদের কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে যাবে! তাই বলছি, চটপট এটা খেয়ে নাও। এখন শরীরে এনার্জি দরকার।”
নবনী সিটে বসতেই দিব্য খাবারের প্যাকেটটা ওর কোলের ওপর তুলে দিল। এরপর নিজে ঘুরে এসে ড্রাইভিং সিটে বসে স্টার্ট দিল গাড়ি। নবনী কোলের ওপর বিরিয়ানির প্যাকেটটা হাত দিয়ে ধরে চুপচাপ জানালার বাইরে তাকিয়ে বসে রইল। খিদে যে তার প্রচণ্ড লেগেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তার ওপর প্রিয় বিরিয়ানির সুবাস চারদিকে। কিন্তু কেমন যেন এক অদ্ভুত কারণে আজ খাবারটা মুখে তুলতে ইচ্ছে করছে না তার। বুকের ভেতরটা কেমন যেন ভারী হয়ে আসছে। চোখের কোণ বেয়ে এক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়তে চাইছে। কেন তার এত কান্না পাচ্ছে?কোনো সঠিক উত্তর নবনীর নিজের কাছেও নেই। পরীক্ষা খারাপ হয়েছে বলে কি এই কান্না? নাহ, তারও তো কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ নবনী কখনোই পড়াশোনায় অতটা তুখড় বা ভালো স্টুডেন্ট ছিল না। গাড়ির গতি কিছুটা বাড়িয়ে দিয়ে দিব্য আড়চোখে নবনীর দিকে তাকাল। ওর অমন স্তব্ধ হয়ে বসে থাকা দেখে মৃদু স্বরে বলল,

“কী হলো, খাচ্ছ না যে? তুমি নিশ্চিন্তে খেতে পারো। আমি যথেষ্ট সাবধানে ড্রাইভ করছি। কোনো সমস্যা হবে না।”
বিরিয়ানির প্রথম লোকমাটা মুখে দিতেই যেন ম্যাজিকের মতো কাজ হলো। কয়েক লোকমা খাওয়ার পর নবনী আশ্চর্যজনকভাবে লক্ষ্য করল, এতক্ষণ ধরে বুকের ভেতর দলা পাকিয়ে থাকা সেই কান্নাটা কেমন যেন এক নিমেষে উধাও হয়ে গেছে। সে চিবোতে চিবোতে আড়চোখে স্টিয়ারিং হুইলে রাখা দিব্যর হাত দুটোর দিকে তাকাল। এরপর কিছুটা দ্বিধা আর সংকোচ কাটিয়ে মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করল,
“আপনি কি দুপুরে খেয়েছেন?”

প্রশ্নটা করার পরমুহূর্তেই মনে মনে বেশ বিব্রত বোধ করল নবনী। দিব্যর মতো একজন ভীষণ ব্যস্ত আর নিয়মানুবর্তী মানুষের পক্ষে এত তাড়াতাড়ি খাওয়া দাওয়ার সম্ভাবনা সাধারণত থাকে না বললেই চলে। দিব্য সামনের দিকে তাকিয়েই আলতো করে না-বোধক মাথা নাড়ল। নবনীর বুকটা কেমন যেন করে উঠল। সে আর কোনো কিছু না ভেবে খানিকটা খাবার তুলে হাত বাড়িয়ে সরাসরি দিব্যর মুখের কাছে ধরল। দিব্য অবাক হয়ে আড়চোখে নবনীর দিকে তাকাল। তার কপালে মৃদু বিস্ময়ের ভাঁজ। কিছুটা অপ্রস্তুত গলায় বলল,
“হুট করে আমাকে দেওয়ার কী আছে? আমরা তো বাড়ির দিকেই যাচ্ছি। সেখানে গেলেই তো খেতে পারব। আর তাছাড়া, এই প্যাকেটে তো একজনের মতোই খাবার এনেছি আমি।”
নবনী বলল, “এ প্যাকেটে যা বিরিয়ানি আছে, তাতে আমার মতো অন্তত তিনজনের পেট ভরে যাবে। আর কথা বাড়াবেন না। হাঁ করুন তো! জলদি, ফাস্ট!”
আকস্মিক দিব্যর গম্ভীর মুখটায় মৃদু হাসি ফুটে উঠল। সে আর আপত্তি না করে নবনীর বাড়িয়ে দেওয়া লোকমাটা মুখ বাড়িয়ে অবলীলায় গ্রহণ করল। নবনী একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল লোকটার মুখের পানে। দিব্যর হাসিটা সত্যিই খুব সুন্দর, মায়াবী। সে যখনই এভাবে মন খুলে হাসে, নবনীর কেবল পলকহীন চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকতেই ইচ্ছে করে। মনে হয়, পৃথিবীর সমস্ত ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে রেখে এই সুন্দর হাসির আলোতেই কাটিয়ে দেওয়া যায় হাজারটা দুপুর।

“আসবো আপা?”
মৃদু কণ্ঠস্বর শুনে নিযানা তার ভাবনার জগত থেকে মুখ তুলে তাকাল। দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে আছে মাহমুদা। নিযানার নীরব অনুমতি পেয়ে সে ধীরপায়ে ভেতরে এগিয়ে এলো। তার হাতের একটি প্যাকেট টেবিলের ওপর রেখে দিল। নিযানা নিস্পৃহ গলায় বলল,
“ঠিক আছে। এখন তুমি যাও।”
মাহমুদা আর কথা না বাড়িয়ে ঘর থেকে চলে গেল। নিযানা প্যাকেটটা হাতে নিয়ে কিছুটা আনমনা হয়ে উল্টেপাল্টে দেখল। ওটার ভেতরে রয়েছে ফুচকা। আজ বিকেলেই সে মাহমুদাকে বলেছিল বাইরে থেকে এটা নিয়ে আসতে। ঠিক তখনই তার হাতের মুঠোয় থাকা ফোনটা আচমকা কেঁপে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই নিযানার বুকের ভেতরটা যেন ছ্যাঁত করে উঠল। সেখানে জ্বলজ্বল করছে কলরবের নাম।
নিযানা ফোনটা ধরল না। কেবল স্তব্ধ হয়ে স্ক্রিনের দিকে চেয়ে রইল। তার পরমুহূর্তেই স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি খুদে বার্তা,

“আমি তোর ব্যালকনির ঠিক নিচে দাঁড়িয়ে আছি। তোর জন্য অপেক্ষা করছি। তুই নিজে নেমে না এলে আমি আজ এখান থেকে এক পা-ও নড়ব না।”
নিযানা কয়েক সেকেন্ডের জন্য পুরোপুরি অসাড় হয়ে গেল। পরক্ষণেই তার মাথায় এক তীব্র কৌতুহল ও আশঙ্কার জন্ম নিল। ব্যালকনির নিচে মানে? কলরব এই বাড়ির ভেতরে কীভাবে প্রবেশ করল? সে তো দারোয়ানকে বারবার কড়া ভাষায় নির্দেশ দিয়ে রেখেছিল। এই ছেলেটাকে যেন কোনো অবস্থাতেই গেট দিয়ে ঢুকতে দেওয়া না হয়! নিযানা একটা গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে সতর্ক পায়ে হেঁটে ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। রেলিং ধরে নিচের দিকে তাকাতেই দেখল, সত্যি সত্যিই দাঁড়িয়ে আছে কলরব। তার চোখ জোড়া ওপরের দিকে। নিযানার ব্যালকনির দিকেই নিবদ্ধ। নিযানাকে সামনে দেখেও অবশ্য তার অবয়বে কোনো আকস্মিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেল না। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নিযানা একপ্রকার বাধ্য হয়েই নিচে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। সে দ্রুত পায়ে নিচে নেমে এসে কলরবের মুখোমুখি দাঁড়াল। চারচোখ এক হতেই নিযানা গলার স্বর যতটা সম্ভব শক্ত করে জিজ্ঞেস করল,

“তুমি এই বাড়ির ভেতরে কীভাবে এলে?”
কলরব শান্ত গলায় উত্তর দিল, “পাঁচিল টপকে এসেছি।”
“কেন এসেছ?”
কলরব প্রত্যুুত্তরে কিছু বলল না। শুধু পলকহীন চোখে নিযানার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তার এই অতলান্ত চাউনির নিচে নিযানা অস্বস্তি বোধ করতে লাগল। কলরবের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে ম্লান, মায়াবী হাসি ফুটে উঠল। নিযানার রেশমি চুলগুলো এখন এলোমেলোভাবে পিঠের ওপর ছড়ানো। চোখের পাতা দুটো সামান্য ফোলা। কেঁদেছে সে। নিযানার এই কান্নার কারণটা কলরবের চেয়ে ভালো আর কে জানে! গম্ভীর ও নরম গলায় বলল,
“তোর কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি। আই অ্যাম রিয়েলি সো স্যরি, নিযানা।”
নিযানা অলক্ষ্যেই একটা শুকনো ঢোক গিলে নিজেকে স্বাভাবিক ও শক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করল। নিস্পৃহ গলায় বলল,

“বলা তো হয়ে গেছে। এবার এখান থেকে চলে যাও।”
“তুই কবে যাবি?”
কলরবের চোখ জোড়ায় ব্যাকুলতা। নিযানা কলরবের সেই আকুল চোখ থেকে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে নিল। অন্যদিকে চেয়ে তপ্ত গলায় বলল,
“কখনো না।”
কলরবের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। এক অজানা হাহাকার গ্রাস করল তাকে। কীভাবে সব কিছু আবার আগের মতো ঠিক করবে সে? ও তো নিযানার ভবিষ্যৎ ভালো করতেই সবকিছু করতে চেয়েছিল। তবে শেষমেশ সবটা এত জঘন্যভাবে খারাপ কীভাবে হয়ে গেল? ঠিক তখনই দূর থেকে ভেসে এলো মাগরিবের আজানের সুমধুর ধ্বনি। নিযানা ভেতরের দিকে চলে যেতে চাইল। এক পা বাড়াতেই, কলরব হাত বাড়িয়ে তার একটি হাত শক্ত করে ধরে ফেলল। নিযানার যাওয়ার পথ আগলে দাঁড়িয়ে, সামান্য একটা টানে তাকে নিজের শরীরের আরও কিছুটা কাছাকাছি নিয়ে এলো। নিযানার চোখে চোখ রেখে প্রগাঢ় কণ্ঠে বলল,
“এখন আর একটু ও ভালোবাসিস না?”

নিযানা পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাল অতি প্রিয় মুখটার পানে। কলরবের ফর্সা মুখটা কালো রং-এর অগোছালো দাঁড়িতে ঢেকে আছে। চোখ দুটো রক্তবর্ণ। মনের অজান্তেই নিযানার বুকের ভেতর একটা সূক্ষ্ম মোচড় দিয়ে উঠল। আশ্চর্য, নিজের প্রতি এতটা অবহেলা কেন করছে এই ছেলেটা? ও তো মানুষটা একদিন নিজের মুখে সবকিছু শেষ করে দিয়েছিল। তবে আজ কেন তার এই ফিরে আসার আকুল চেষ্টা? কেন এই অর্থহীন প্রশ্নের অবতারণা? নিযানা ভেতরের সবটুকু দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলে কণ্ঠস্বরকে কঠিন করে বলল,
“এখন আমি নিজেকেও ভালোবাসি। নিজের আত্মসম্মানে আঘাত লাগার ভয় পাই।”
কলরব নিথর হয়ে রইল কিছুক্ষণ। কথাটার সত্যতা সে হজম করতে পারছিল না। নিযানা তার চোখ থেকে চোখ না সরিয়ে পুনরায় বলল,
“আমার চিরতরের মুক্তি চাই। আমি আর কোথাও, কোনো খাঁচায় বন্দি হতে চাই না।”
“আমি যে চাইলেও তোকে ছাড়তে পারছি না!”
কলরবের কণ্ঠস্বর অসহায়তায় বুজে এলো। রাগে, ক্ষোভে আর এক অজানা ক্রোধে তার ফর্সা মুখটা মুহূর্তেই লালচে বর্ণ ধারণ করল। কপালে ও গলার রগগুলো ফুলে-ফেঁপে উঠল। অধৈর্য ও ব্যাকুল গলায় পুনরায় বলে উঠল,

“তোর চলে যাওয়ার পর থেকে আমার চারপাশটা কেমন যেন শূন্য, শূন্য লাগে। আমি ওই ঘরে পা পর্যন্ত রাখতে পারি না। ওই বিশাল বিছানায় তোকে ছাড়া আমার এক ফোঁটা ঘুম আসে না। একটা অপরাধবোধ আমাকে শেষ করে দিচ্ছে। আমি শত চেষ্টা করেও নিজেকে আটকে রাখতে পারছি না। জানিনা আমার কী হয়েছে। কিছু জানিনা আমি। শুধু জানি, আমার পক্ষে তোকে ছাড়া থাকা আর কোনোভাবেই সম্ভব না। প্লিজ, এমন করিস না!”
নিযানা নিজের ঝাপসা হয়ে আসা চোখে চরম বিস্ময় নিয়ে তাকাল। সে ঠিক শুনছে তো? এই তীব্র আকুতি, এই স্বীকারোক্তি কি সত্যিই কলরবের মুখ থেকে বের হচ্ছে? না সে বিশ্বাস করতে পারছেনা। কলরব আলতো করে নিজের একটা হাত রাখল নিযানার গালের একপাশে। হাতের স্পর্শ পেতেই নিযানা সজোরে বুঁজে নিল নিজের চোখ জোড়া। পরমুহূর্তেই তার গাল বেয়ে এক ফোঁটা তপ্ত অশ্রু গড়িয়ে পড়ল কলরবের হাতের তালুতে। কলরব আরও একটু ঝুঁকে এসে কাতর গলায় বলল,

“শেষবারের মতো আর একটা বার ক্ষমা করা যায় না, বল? কথা দিচ্ছি, তোর জন্য এই গোটা পৃথিবী ছেড়ে দেব কিন্তু তোকে আর কোনো কিছুর বিনিময়ে ছাড়বো না।”
নিযানা ধীরে ধীরে চোখ মেলে চাইল। কলরব নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে মুছে দিল ওর গালের অশ্রুরেখা। নিযানা নিজেকে শক্ত করে সামলে নিল। ভেতরের সমস্ত ভাঙচুর আড়াল করে শীতল গলায় বলল,
“খুব দেরি হয়ে গেছে, কলরব। তোমার দেওয়া বিগত দিনের সেই তিক্ততা আজ আমার মনের সমস্ত ভালোলাগার অনুভূতিকে ছাড়িয়ে গেছে। আই অ্যাম সো স্যরি। তুমি এখন আসতে পারো।”
কলরবের শিরা-উপশিরায় বয়ে চলা সমস্ত রক্তকণিকা যেন প্রবল বেগে বিদ্রোহ ঘোষণা করল। এক মুহুর্তে তার মস্তিষ্ককে গ্রাস করে নিল উগ্রতা। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এক ঝটকায় নিযানার গলার কাছটা নিজের শক্ত মুঠোয় চেপে ধরে ওর মুখের ওপর ঝুঁকে এলো। কলরবের তপ্ত, নিশ্বাস আছড়ে পড়ল নিযানার মুখ জুড়ে। দাঁতে দাঁত পিষে বলল,

“প্রতিশোধ নিচ্ছিস, তাই না? আমাকে এভাবে পুড়িয়ে খাক করে দিয়ে খুব মজা পাচ্ছিস তুই? যখন আমার হয়ে শেষ পর্যন্ত থাকতেই পারবি না, তবে এতদিন কেন আমার ছায়া হয়ে ছিলিস? আমার দেওয়া এত এত অবহেলা কেন মুখ বুজে সহ্য করে ছিলিস? আর আজ, আজ যখন আমি তোর সামনে এতটা অসহায় হয়ে গেছি, তখনি তুই তার সুযোগ নিচ্ছিস, নিযানা?”
নিযানা ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের একটু হাসি ফুটিয়ে বলল,
“তুমি কি সত্যিই আমাকে ভালোবাসো, কলরব? নাকি একে ভালোবাসা বলছ? এটা ভালোবাসা নয়। এমনকি কোনো অভ্যাসও নয়। এটা আসলে তোমার জেদ আর ঈর্ষা! যেটা অভিনবের পাশে আমাকে দেখার পর তোমার ভেতরে বিষাক্ত সাপের মতো ফণা তুলে দাঁড়িয়েছে। তুমি আসলে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছ না যে, তোমাকে ছাড়াও আমি নিজের মতো করে ভালো থাকতে পারি।”

“ওহ, আচ্ছা! তাহলে এখন খুব ভালো আছিস, তাই না? ওই ও-ভি-র সাথে!”
কলরব থেমে পুনরায় বলল, “শালা! তাই তো বলি, আমি নিজের অহংকার বিসর্জন দিয়ে এতবার বলার পরেও তুই কেন ফিরছিস না। কারণ এখন জীবনে ওই অভিনব এসেছে! কী জাদু করেছে ও তোকে? কতদিনের সম্পর্ক তোদের? মাত্র কয়েকটা দিনেই এত গভীর মাখামাখি হয়ে গেল?”
নিযানা ক্লান্ত চোখে চেয়ে বলল, “তুমি এখন চলে যাও কলরব। তোমার মাথাটা পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছে।”
“হ্যাঁ, আমি পাগল হয়ে গেছি! সেদিন তুই ওর হাত ধরেছিলিস না? আমার চোখের সামনেই তো বুক ফুলিয়ে হাতটা জড়িয়ে ধরেছিলিস! আমি এতটা অন্ধ কীভাবে হলাম? আমার তো আরও আগেই বোঝা উচিত ছিল। তোর চয়েস কখনো আমি ছিলামই না। তুই কেন আমার কাছে ফিরবি? কেনই বা আমার মতো একটা ছেলেকে ভালোবাসতে যাবি? আমি তো তোর যোগ্যই নই! তবে এতদিন কেন শুধু শুধু আমার সাথে এই ভালোবাসার নাটকগুলো করলি? এভাবে আমার ওপর প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলিস তুই? তুই আমাকে এমনিতেও ছাড়তিস তাইনা? তুই ওই…!”

কলরব তার কথা শেষ করার আগেই শূন্যে একটি হাত উঠে এলো। তার পরমুহূর্তে একটি চড় আছড়ে পড়ল কলরবের গালে। প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ গলায় নিযানা বলে উঠল,
“জাস্ট শাট আপ, কলরব! নিজের এই জঘন্য, বাজে কথাগুলো এবার বন্ধ করো আর এক্ষুনি আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও! তুমি ততটুকুই জানো, যতটুকু তোমাকে দেখানো হয়েছে। তাই নিজের মনগড়া গল্প বানিয়ে আর নিজের অজান্তে আমাকে এতটা ছোট কোরো না!”
আকস্মিক এই আঘাতে কলরব মুহূর্তের জন্য পুরো থমকে গেল। গাল থেকে হাতটা সরিয়ে সে যখন চোখ তুলে তাকাল, নিযানা ভেতরে ভেতরে তীব্রভাবে শিউরে উঠল। এক অজানা আশঙ্কায় কাঁপতে লাগল। সে কি তবে কোনো বড় ভুল করে ফেলল? চারপাশের গোধূলির আলো মুছে গিয়ে অন্ধকার যেন আরও ঘনীভূত হয়ে আসছে। কলরব অবশ্য মারমুখী কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। তার এই নীরবতায় নিযানার বুকের ভেতরের দুরুদুরু স্পন্দনটা আরও বেড়ে গেল। ঠিক তখনই, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই, কলরব আচমকা নিযানাকে নিজের বুকের মাঝে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরল। নাহ, এই জড়িয়ে ধরায় কোনো রুক্ষতা ছিল না। খুব আলতো করে সে নিযানাকে নিজের দেহের সাথে লেপ্টে নিল। এরপর ধীর মস্তকে নিজের মাথাটা ঠেকিয়ে দিল নিযানার কাঁধের ওপর। নিযানা যেন এক তীব্র বৈদ্যুতিক শক খেল। তার সর্বাঙ্গ মুহূর্তের মধ্যে জমে বরফ হয়ে গেল। হাত দুটো অবশ হয়ে ঝুলে রইল দুপাশে। বেশ কিছুক্ষণ পর, নিযানার কাঁধে মুখ গুঁজে থাকা অবস্থাতেই কলরবের গম্ভীর ও বিষণ্ণ কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,

“তোর মনে আমার প্রতি ঠিক যতটা তিক্ততা জমেছে না? আমি কথা দিচ্ছি, তা আবারও একটা একটা করে মুছে দেব। তুই আবার আগের মতোই আমাকে চাইবি। আমার বুকে মাথা রাখার জন্য আমার চেয়েও দ্বিগুণ উতলা হবি। তবে একটা কথা আজ খুব ভালো করে নিজের মগজে ঢুকিয়ে নে। এই জন্মে কলরবের থেকে তোর কোনো মুক্তি নেই!”
কথাটা শেষ করেই নিযানার কাঁধ থেকে নিজের মাথাটা তুলল কলরব। তার চোখে কোনো রাগ নেই। নিযানার দিকে আর এক পলকও না তাকিয়ে হনহন করে অন্ধকারের মাঝে মিলিয়ে গেল।নিযানা জীবন্ত পাথরের মূর্তির মতো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

সেদিন রাতের খাবার টেবিলে পরিবেশটা ছিল বেশ জমজমাট। পরিবারের মোটামুটি সবাই উপস্থিত ছিলেন। আর যারা তখনও নিজেদের ঘরে ছিলেন, আরশাদ তালুকদার নিজে তদারকি করে তাদের সবাইকে ডেকে পাঠিয়েছেন। নৈশভোজের সাথে সাথেই একজোটে শুরু হলো কায়েফের বিয়ের আলাপ-আলোচনা। সবার সর্বসম্মতিক্রমে ঠিক করা হলো। সামনের মাসেই ধুমধাম করে এনগেজমেন্টের অনুষ্ঠান সেরে তার ঠিক পরের সপ্তাহেই বিয়ের মূল আয়োজন সম্পন্ন করা হবে। কায়েফ পুরোটা সময়জুড়ে বারকয়েক মায়ের পানে অত্যন্ত অসহায় ও আকুতিভরা দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেও, মাজহার তরফ থেকে বিশেষ কোনো সাড়া মিলল না। বিয়ের কথা শেষ হতেই আরশাদ তালুকদার গলার স্বর কিছুটা গম্ভীর করে বললেন,
“আজ সকালে গ্রাম থেকে একটা ফোন এসেছিল। ছোট চাচা নাকি ভীষণ অসুস্থ। শেষ বয়সে তিনি আমাদের সবাইকে, বিশেষ করে আমার ছেলে-মেয়েদের একবার চোখের দেখা দেখার তীব্র ইচ্ছা পোষণ করেছেন। তাছাড়া নিজেদের নানা ব্যস্ততার কারণে গত একটা বছর যাবত গ্রামে যাওয়াও হয়ে ওঠেনি। আমি চাইছিলাম, এবার সবাই মিলে একসাথে গ্রাম থেকে একবার ঘুরে আসি। বাবার মৃত্যুর পর একমাত্র উনিই তো আমাদের মাথার ওপর বটবৃক্ষের মতো বেঁচে আছেন। সকালে খবরটা শোনার পর থেকেই আমার মনটা খুব অস্থির লাগছে। তোমাদের যদি কোনো আপত্তি না থাকে, তবে কবে রওনা হওয়া যায়, সবাই মিলে একটা মতামত দাও।”

পাশে বসা আফতাব চৌধুরী বললেন, “আমাদের আবার কিসের আপত্তি থাকবে ভাইয়া! তাছাড়া এখন তো বেশ জাঁকিয়ে শীত পড়ছে। এই শীতের আমেজে সবাই মিলে একসাথে গ্রামে গিয়ে কয়েকটা দিন কাটিয়ে আসতে পারলে বরং সবারই মন ভালো হয়ে যাবে।”
দিব্য বলল, “আসলে কাল অফিসে আমার একটা অত্যন্ত জরুরি কাজ আছে। আমরা কি কালকের পরের দিন রওনা হতে পারি?”
আরশাদ তালুকদার ছেলের দিকে তাকিয়ে কিছুটা অসন্তোষের সুরে বললেন,
“তুমি বোধহয় পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছ না, দিব্য। এত সময় দেওয়া যাবে না। আমরা কিন্তু আনন্দ করতে কোনো ট্যুরে যাচ্ছি না। আমরা একজন মুমূর্ষু রোগীকে দেখতে যাচ্ছি।”
কাব্যও সে কথায় সায় দিয়ে বলে উঠল, “ঠিক তাই! তুই তোর অফিসের কাজ আপাতত তুলে রাখ তো। যেভাবে পারিস ম্যানেজ কর। আমরা কাল সকালেই রওনা দেব।”
সবার মতামতের পরেও আরশাদ তালুকদারের মুখের চিন্তার মেঘ যেন কাটল না। কিছুতেই তিনি মনে শান্তি পাচ্ছিলেন না। তাঁর এই অন্যমনস্কতা লক্ষ্য করে কাব্য আবারও কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল,

“কী হয়েছে চাচ্চু? তোমাকে এতটা চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?”
আরশাদ তালুকদার কিছুক্ষণ গভীর নীরবতায় ডুবে রইলেন। বারকয়েক আড়চোখে এক কোণে বসা কলরবের মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে নিলেন। অতঃপর এক বুক ভারী দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধরা গলায় বললেন,
“ছোট চাচা যাওয়ার সময় আনতাসাদেরও সাথে করে নিয়ে যেতে বলেছেন। কিন্তু আমি জানি না ও এই পরিস্থিতিতে আমাদের সাথে যেতে আদৌ রাজি হবে কি না। ওদের সাথে ভালো মুখে কথা বলার মতো ন্যূনতম পথ তো আর আমার এই গুণধর ছেলে বাকি রাখেনি!”

কলরব প্লেট থেকে নিজের মুখ তুলে তাকাল। তার চোখ জোড়া শান্ত। অলেখা বেশ কড়া গলায় বলে উঠলেন,
“এখানে আবার না যাওয়ার কী আছে, শুনি? ওটা তো আর আমাদের এই বাড়ি নয়। ওটা গ্রামের বাড়ি। এই জন্যই তো আমি তখন বারবার করে বলেছিলাম। আত্মীয়র সাথে আত্মীয়র ঘরের সম্পর্ক না করাই সবচেয়ে ভালো। কাজের কাজ তো কিছু হলোই না। উল্টো মাঝখান থেকে একগাদা অশান্তি আর তিক্ততা তৈরি হলো।”
আরশাদ তালুকদার স্ত্রীর এমন খোঁচানো কথায় বেশ ক্ষুণ্ণ হয়ে হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,
“অলেখা, তুমি প্লিজ এখন অন্তত একটু চুপ করো তো! এই মুহূর্তে এসব পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে অশান্তি করার মতো সময় এটা নয়। আফতাব, তুই বরং আনতাসাকে একবার নিজ দায়িত্বে বুঝিয়ে বলিস। ও যদি আমাদের সাথে যেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না-ও করে, তবে নিজেই যেন অন্তত গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছায়। ছোট চাচার শেষ ইচ্ছা বলে কথা।”

আফতাব চৌধুরী মৃদু মাথা নেড়ে বললেন, “ঠিক আছে ভাইয়া। আমি ওকে নিজে বুঝিয়ে বলব।”
কুহু আহ্লাদী গলায় বলে উঠল, “আচ্ছা আব্বু, এর আগে যতবার আমরা গ্রামে গেছি, প্রতিবারই তো নিজেদের গাড়িতে করে গেছি। এবার কি আমরা সবাই মিলে ট্রেনে করে যেতে পারি না? আমি তো জীবনে কোনোদিন সত্যি সত্যি ট্রেনে উঠিনি!”
আরশাদ তালুকদার মেয়ের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বললেন,
“ট্রেনে জার্নি করা বড্ড ঝামেলার ব্যাপার, মামনি। এখন অন্তত এমন অবাস্তব আবদার কোরো না। এবার গ্রামে গিয়ে তুমি যত খুশি নৌকা দিয়ে নদী দেখো। আমি বিন্দুমাত্র বারণ করব না। কিন্তু ট্রেনের কথা আর মুখে এনো না।”
কুহু বাবার কথার ওপর আর একটাও কথা বলার সাহস পেল না। তবে মনে মনে তার খারাপ লাগল। মুখটা পলকেই ছোট হয়ে গেল মেয়েটার। কলরব নিজের চেয়ারটা সশব্দে ঠেলে বসা থেকে উঠে পড়ল। কারও দিকে না তাকিয়ে হনহন করে খাবার টেবিল ছেড়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। অলেখা তীব্র ক্ষোভ আর একরাশ করুণ চোখে ছেলের চলে যাওয়ার পথের দিকে চাইলেন। টেবিলে রাখা কলরবের প্লেটের খাবারগুলো প্রায় ছোঁয়াছূঁয়ি ছাড়াই ওভাবেই পড়ে আছে। আজকাল এই ছেলেটার যে আসলে কী হয়েছে? তা যেন কারও বোধগম্য হচ্ছে না। কাব্য ওর এমন আকস্মিক টেবিল ছেড়ে চলে যাওয়া দেখে কপালে ভাঁজ ফেলে বলল,
“এর আবার হুট করে কী হলো? এখন তো ওর মনের মতন সবকিছু হচ্ছে। ওর সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা!”

কায়েফ নিচু গলায় বলল, “আমিও আসলে কিছুই বুঝতে পারছি না ভাইয়া। কলরব ইদানীং কেমন যেন অদ্ভুত হয়ে গেছে। হুট করেই অফিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সারাদিন বলতে গেলে পাগলের মতো শুধু কাজ আর কাজ করে। আর বাড়ি ফিরলেই মুখটা অমন গম্ভীর করে ঘুরে বেড়ায়।”
অলেখা দুশ্চিন্তা মাখা গলায় বলে উঠলেন, “কে জানে আমার ছেলেটার মনের ভেতর ঠিক কী চলছে! আজকাল তো ঠিকঠাক মতো দুমুঠো খাওয়া-দাওয়াও করে না ও। কী দরকার ছিলো এই বয়সে ওকে এত চাপ দেওয়ার?”
স্ত্রীর এই অন্ধ ও অতিমাত্রার প্রশ্রয় দেখে আরশাদ তালুকদার বেশ চড়া সুরে ধমকে উঠলেন,
“বাঁদড়টা এতদিনে একটু মানুষ হওয়ার লাইনে এসেছে। ওকে নিজের মতো হতে দাও না! এতে এত অতিরিক্ত চিন্তা করার কী আছে, শুনি? এমনিতে তো দুনিয়ার সব কিছু তার নিজের খেয়ালখুশি আর মর্জিমতোই চলছে। আজকাল তো আমি ওর কোনো ব্যাপারে একটা কথাও বলি না। তাতেও তার কিসের এত নখরা? আসলে কী চাইটা কী তোমার এই গুণধর ছেলের?”

অলেখা রুষ্ট গলায় প্রত্যুত্তর করলেন, “তুমি কোনোদিনও ওকে মন থেকে বোঝার চেষ্টা করোনি। সারাজীবন শুধু ওর ওপর ধমকাধমকি আর নিজের একতরফা সিদ্ধান্তগুলোই জোর করে চাপিয়ে গেছ। পারলে একটা বার ওর পাশে বসে একটু ভালোবেসে জানতে চেয়ে দেখো, ও আসলে কী চায়!”
কথাটা শেষ করেই অলেখা আর এক মুহূর্ত খাবার টেবিলে বসলেন না। তিনিও চেয়ার ছেড়ে গটগট করে ভেতরের দিকে চলে গেলেন। পুরো খাবার টেবিল জুড়ে আবার এক থমথমে ও ভারী পরিবেশ বিরাজ করতে লাগল।

দিয়া যে সত্যিই অভিমানে গাল ফুলিয়ে বসে আছে, নবনী ঘরে ঢুকেই তা প্রথম নজরে খেয়াল করল। বিছানার এক কোণে পুতুলটার মতো গুটিসুটি মেরে বসে আছে সে। ওদিকে দিব্য অবশ্য তার নিজের জগতেই মগ্ন। ল্যাপটপের স্ক্রিনে তার পুরো মনোযোগ নিবদ্ধ। নবনী আর কালক্ষেপণ না করে সোজা দিব্যর টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। এক ঝটকায় ল্যাপটপের স্ক্রিনটা বন্ধ করে দিল। আচমকা কাজের মাঝে এমন বাধায় দিব্য কিছুটা বিরক্ত চোখে তাকাল। তবে নবনীকে সামনে দেখে পরক্ষণেই নিজের গলার স্বর শান্ত করে বলল,
“কী হয়েছে? কোনো সমস্যা?”
নবনী বেশ ক্ষুব্ধ গলায় বলল, “ওদিকে মেয়েটা অভিমানে গাল ফুলিয়ে বসে আছে আর আপনি এখানে দিব্যি নিজের কাজ করে চলেছেন? কী বলেছেন ওকে?”
“আমি? আমি আবার কী বললাম? রাগ করেছে ও? দিয়া?”
দিব্য বেশ অবাক হয়ে মেয়ের দিকে তাকাল। নবনী দিব্যর কাছ থেকে সরে গিয়ে দিয়ার পাশে গিয়ে বসল। ওকে নিজের কোলে তুলে নিতে চাইল কিন্তু দিয়া গা মোচড়া দিয়ে কোল থেকে নেমে যেতে চাইল। নবনী ওর সেই গোমড়া মুখটা দুহাতে আলতো করে ধরে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে আমার সোনা মাম্মার? এই সুন্দর মিষ্টি গাল দুটো এমন বেলুনের মতো ফুলিয়ে রেখেছ কেন?”

দিয়া তার ছোট ছোট চোখ দুটো গম্ভীর করে, ঠোঁট উল্টে বলল,
“আমিও টেনে (ট্রেনে) করে গ্রামে যেতে চাই। ওই যে কুঁক ঝিকঝিক সুন্দর আওয়াজ করে চলে না, ওই টেনে! ইভান আমাকে টেনের একটা সুন্দর কবিতা শুনিয়েছিল। আমি ওই টেনে চড়তে চাই। কিন্তু দাদু বলেছে আমাদের নিয়ে যাবে না। দিয়া ও টেনে ছাড়া কোথাও যাবে না। সে পাপ্পাকেও বলেছে সে টেনে যেতে চায়। কিন্তু পাপ্পাও না বলে দিয়েছে। পাপ্পাও পঁচা হয়ে গেছে। দিয়া আর কারও সাথে কথা বলবে না!”
মেয়ের এই লম্বা নালিশ শুনে নবনী এবার কড়া চোখে তাকাল দিব্যর পানে। দিব্য পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জোরপূর্বক এক চিলতে মৃদু হাসার চেষ্টা করল। হ্যাঁ, মনে পড়ল তার। একটু আগে দিয়া সত্যিই তার কাছে এসে ট্রেনে যাওয়ার জন্য বায়না ধরেছিল। কিন্তু দিব্য তখন কাজের ব্যস্ততায় বিষয়টাকে বিশেষ পাত্তা দেয়নি। এখন যে এই ছোটখাটো আবদার নিয়ে মেয়ে এতটা রাগ করে বসবে, তা সে ভাবতেও পারেনি। দিব্য উঠে মেয়ের কাছে এসে বসল,

“মাম্মাম, বোঝো না কেন? ট্রেনে ভিড় হয়। অনেক সমস্যা হয় সোনা।”
দিয়া কোনো আপত্তি শুনল না। সে খাট থেকে টুপ করে নেমে পড়ল। দিব্য ব্যস্ত হয়ে বলল,
“মাম্মা, কোথায় যাচ্ছ তুমি?”
দিয়া ধীর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে গলায় বলল, “দিয়া নিজের ঘরে থাকবে। তোমার সাথে আড়ি। একদম কাট্টি!”
বলেই সে গটগট করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। কিছুদিন আগে দিয়া ইহান-ইভানের আলাদা ঘর দেখে বায়না ধরেছিল তার কেন নিজের আলাদা ঘর নেই? দিব্য মেয়ের সেই সুপ্ত ইচ্ছার মান রেখে পরদিনই তাদের ঘরের পাশের জিম রুমটাকে খালি করে, দিয়ার মনের মতো রঙ আর পুতুল দিয়ে চমৎকার একটা বেডরুম বানিয়ে দিয়েছিল। এখন সে নিজের সে প্রায় সেখানে থাকে। নবনী দিয়ার চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে দিব্যকে বলল,

“একটু ট্রেনের জার্নি করলে কী এমন সমস্যা হতো?”
দিব্য ভ্রু কুঁচকে তাকাল, “নবনী? তুমিও কি এখন বাচ্চাটার মতো বাচ্চামি শুরু করলে?”
নবনী আর কথা না বাড়িয়ে আলমারি খুলে কাপড়-চোপড় বের করতে লাগল। কাল রওনা হতে হবে। তাই এখনই সব গোছগাছ সেরে নেওয়া দরকার। সে জামাকাপড় বের করতে করতেই বলল,
“আপনি তো আমাদের সাথেই থাকবেন। আপনি সাথে থাকলে আমাদের আবার কিসের ভয়, শুনি?”
“তুমি আসলে বুঝতে পারছ না, নবনী।”
“আমারও খুব ইচ্ছে করছে ট্রেনে যেতে। ঠিক আছে, যখন আপনার এতই আপত্তি, তখন বাদ দিন!”
দিব্য হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নবনী তখন আলমারি থেকে বের করা কাপড়গুলো বিছানার ওপর জড়ো করে একে একে ভাঁজ করার চেষ্টা করছে। দিব্য পেছন থেকে এসে আলতো করে নিজের দুহাতে জড়িয়ে ধরল নবনীকে। আকস্মিক এই নিবিড় ছোঁয়ায় নবনীর সারা শরীর হালকা কেঁপে উঠল। হাতের কাপড়টা বিছানায় পড়ে গেল। দিব্য নবনীর ঘাড়ের ওপর নিজের থুতনিটা ঠেকিয়ে নিচু গলায় বলল,

“ঠিক আছে।”
নবনী আড়ষ্ট গলায় বলল, “কী ঠিক আছে?”
“আমরা ট্রেনেই যাব। তোমার আর দিয়ার ইচ্ছেটাই ফাইনাল। এতটুকু তো করতেই পারি৷”
শুনে নবনী খুশি হলো। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক চিলতে চওড়া হাসি। দিব্য নবনীকে নিজের বাহুডোরের মাঝেই ঘুরিয়ে একদম নিজের মুখোমুখি দাঁড় করাল। তার চোখ জোড়ায় চপল চাউনি। নবনীর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তা, এত বড় একটা আবদার মেনে নিলাম। বিনিময়ে আমি কোনো কিছুই পাব না?”
ইঙ্গিত বুঝে নবনী লজ্জায় লাল হয়ে গেল। তার ফর্সা গাল দুটোতে যেন আবির ছড়িয়ে পড়ল। দিব্যর শক্ত বুকে নিজের নরম হাত দুটো দিয়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে চোখ নামিয়ে বলল,
“দিয়া ও ঘরে একা একা রাগ করে বসে আছে। আমার এখন ওর কাছে যাওয়া উচিত।”
নবনীর কোমরে জড়ানো হাতের বাঁধন আরেকটু শক্ত করলো দিব্য। দুষ্টুমি মাখা গলায় বলল,
“দিয়ার কাছে একটু পরেই যেও। ও নিজের ঘরেই আছে। এটা ছোটখাটো একটা ব্যাপার। মিটিয়ে গেলে ভালো হয়। কথায় বলে বাকির নাম ফাঁকি। আর বাকি রাখলে পরে সুদ বাড়তে পারে৷ সাথে ওই বিশেষ কথাটা যদি তিনবার বলো তাহলেই ছাড়তে পারি।”

নবনী দিব্যর বাহুডোর থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগল। বাঁধন আলগা হওয়ার কোনো লক্ষণই দেখা গেল না। দিব্য ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে বলল,
“উঁহু! ছটফট করে কোনো লাভ নেই, দিয়ার মাম্মাম। এটা দিব্য তালুকদার। নাও, ফাস্ট!”
অগত্যা নবনী এক বুক তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলল। লজ্জায় তার চোখের পাতা তখনো নুয়ে আছে। সে নিজের এক হাত দিয়ে দিব্যর কৌতূহলী চোখ দুটো আড়াল করে ধরল। নিজের পায়ের পাতার ওপর ভর দিয়ে কিছুটা উঁচুতে দাঁড়াল। দিব্যও সুযোগ বুঝে ওর কোমর জড়িয়ে ধরে আরেকটু উঁচুতে তুলে নিল তাকে। নবনী তখন রীতিমত থরথর করে কাঁপছে। দিব্যর গালের বাঁ পাশে নিজের নরম ঠোঁট জোড়া আলতো করে ছুঁইয়ে দিতেই দিব্যর সাথে সাথে নবনীর ঠোঁটেও একটা মৃদু হাসির রেখা ফুটে উঠল। অতঃপর কিছু মুহূর্ত কেটে যাওয়ার পর দিব্য বলল,

“কী হলো? এবার আসল কথাটা বলুন।”
দিব্যর কানের কাছে নিজের মুখটা নিয়ে গেল নবনী। নিচু গলায় বলল,
“আই লাভ ইউ।”
“উঁহু, ওসব ইংরেজি চলবে না। বাংলায় বলো।”
“ভালোবাসি।”
“এগেইন।”
“ভালোবাসি।”
“আরেকবার বলো?”
“মোটেও না! আর একবারও বলব না।”
দিব্য নবনীর হাতটা নিজের চোখ থেকে সরিয়ে নিয়ে, চোখ মেলে চেয়ে জিজ্ঞেস করল,
“কেন? আর বলতে সমস্যা কোথায়?”
“আপনি তো নিজে কোনোদিন মুখে ফুটিয়ে বলেন না! তবে বারবার আমার মুখ থেকেই কেন শুনতে চান, শুনি? আমি আর বলতে পারব না।”
দিব্যর ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল, “আচ্ছা, এই ব্যাপার! ঠিক আছে। এই বিরাট অপরাধের চরম মূল্য সুদে-আসলে দিতেই হচ্ছে।”

দিব্য কিছুক্ষণ অত্যন্ত গভীর ও অতলান্ত চোখে চেয়ে রইল নবনীর ওষ্ঠাধরের পানে। তার সেই চাউনির গভীরতা দেখেই নবনী মনে মনে বেশ আড়ষ্টতা বোধ করল। দিব্যর মনের ভেতরে ঠিক কী মতলব চলছে তা বুঝতে নবনীর এক সেকেন্ডও সময় লাগল না। সে চট করে নিজের একটা হাত আলতো করে চেপে ধরল দিব্যর ঠোঁটের ওপর। পরমুহূর্তেই, দিব্য কিছু বুঝে ওঠার আগেই, তাকে সজোরে একটা ধাক্কা দিয়ে নিজের শাড়িটা সামলাতে সামলাতে এক দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। দিব্য ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সেই চঞ্চলা হরিণীর চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে আপনমনেই শব্দ করে হেসে উঠল।

বিগত কয়েকটা দিন কলরব নিযানাকে এতটা অতিষ্ঠ করে তুলেছে যে বাধ্য হয়ে নিযানা তাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিয়েছে। এমনকি এই কয়েকদিন সে বাড়ি থেকে এক পা-ও বের হয়নি। কাল রাতে ব্লক হওয়ার পর থেকেই কলরব ভেতরে ভেতরে চরম চটে আছে। এমনিতে নতুন নতুন অফিসের কাজে সে মোটেও ফাঁকা সময় পাচ্ছিল না। তার ওপর এই ব্লক করার নাটকটা এখন না করলেও চলত! রাগে-ক্ষোভে আজ সকাল সকাল সে সোজা নিযানার কলেজে এসে হাজির হয়েছে। আর তখন থেকে এক জায়গায় বসে আছে। শান্ত আর অভিককেও বসিয়ে রেখেছে। তার এই আকস্মিক কাণ্ডে শান্ত বিরক্ত হয়ে বলল,
“আচ্ছা, আমরা হুট করে কলেজে কেন এসেছি বল তো? আমাদের তো এখন আর ক্লাস করার কথা না। আর ওসব র্যাগিং-ফ্যাগিংয়ের কাজ তো আমরা বহু আগেই ছেড়ে দিয়েছিলাম। তাহলে আজ আবার কোন ভূত মাথায় চাপল তোর?”

নিযানার এই কলেজেই স্নাতক করছে কলরব। যদিও ক্লাসের মুখ সে কোনোদিন ভুলেও দেখেনি। কলরব বাইকের ট্যাংকের ওপর তাল ঠুকতে ঠুকতে বলল,
“এমনি, অনেকদিন পর একটু বিনোদন নিতে মন চাইল। আজ থেকে আবার আমরা জোরকদমে র্যাগিং শুরু করব। যতদিন না এই কলেজ থেকে আমাদের সার্টিফিকেট নিয়ে একেবারে বের হয়ে যাচ্ছি। ততদিন।”
পাশে দাঁড়িয়ে অভিক বলল, “বিনোদন নিবি তো ভালো কথা। তাহলে এভাবে চোরের মতো কেন বসে আছি আমরা? কাউকে কেন ধরছি না? বোনের মতো বউ হাতছাড়া হওয়ার শোকে যে তোর মাথাটা পুরো উলোট-পালোট হয়ে গেছে, তা আমি বেশ বুঝতে পারছি।”
কলরব মারাত্মক বিরক্ত হয়ে বলল, “দেখ অভি…!”
বলতে গিয়েও পরক্ষণেই নিজের চোখ-মুখ কুঁচকে বলল,
“না! কী বা*লের নাম রেখেছিস তুই। তোর ওই নামটা মুখে আনতেও এখন আমার ঘেন্না লাগছে। আজ থেকে তোর নাম পাল্টে…!”

অভিক মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, “এই এই! তুই আমার নাম রাখার কে শুনি? আর আমার এত সুন্দর নামটাকে তুই এভাবে অপমান করলি?”
কলরব অবশ্য আর কথা বাড়াল না। নিস্পৃহ গলায় বলল,
“আচ্ছা বাদ দে।”
এরই মাঝে ফার্স্ট ইয়ারের কয়েকজন জুনিয়র তাদের সামনে দিয়ে মাথা নিচু করে চলে যাচ্ছিল। সিনিয়রদের সালাম না দেওয়ার অপরাধে শান্ত আর অভিক মিলে তৎক্ষণাৎ তাদের মাঠের মাঝখানে কান ধরে দাঁড় করিয়ে দিল। আজ নিযানার ক্লাস টেস্ট আছে। ও যে আজ কোনো অবস্থাতেই কলেজ কামাই করবে না সেটা কলরব কুহুর মাধ্যমে আগেই সিওর হয়ে এসেছে। তার কিছুক্ষণ পরেই কলেজের মেইন গেট দিয়ে ভেতরে পা রাখল নিযানা। মাঠের মাঝখানের এই জঘন্য পরিস্থিতি দেখে সে পুরো হতভম্ব হয়ে গেল। ঢোকার পথেই কয়েকজনের মুখে সে কানাঘুষো শুনেছিল যে, কোনো এক উশৃঙ্খল সিনিয়র গ্রুপ নাকি আজ সকাল থেকে সবাইকে বিরক্ত করছে। কিন্তু সেই দলের সর্দার যে স্বয়ং কলরব হতে পারে, তা সে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। নিযানাকে ওভাবে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে কলরবের মনের ভেতর এতক্ষণে বেশ আনন্দ অনুভব করলো। যাক, মেয়েটাকে কষ্ট করে আর ডেকে পাঠাতে হলো না। সে নিজেই ধরা দিতে এসেছে। নিযানা হনহন করে এগিয়ে গিয়ে কলরবের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ঝাঁঝালো গলায় বলল,

এই অবেলায় পর্ব ৪৭ (২)

“কী হচ্ছেটা কী এখানে?”
কলরব এতক্ষণ স্টাইল করে নিজের বাইকের ওপর বসে ছিল। নিযানার গলার স্বর শুনতেই সে এক লাফ দিয়ে বাইক থেকে নিচে নেমে এলো। এরপর কিছু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শান্তকে আলতো করে সরিয়ে দিল। নিজের ঠোঁটের কোণে বিজয়ীট হাসি ফুটিয়ে কৌতুকের সুরে বলে উঠল,
“শান্ত, হাট যা সামনে সে… তেরি ভাবি খাড়ি হ্যায়!”

এই অবেলায় পর্ব ৪৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here