Home এক দেখায় এক দেখায় পর্ব ১১

এক দেখায় পর্ব ১১

এক দেখায় পর্ব ১১
সুরভী আক্তার

দরজার কলিং বেল বাজতেই বসা থেকে উঠে গিয়ে দরজা খুলে দেয় সাবিনা বেগম । মিহি হন্তদন্ত পায়ে ভেতরে ঢোকে ‌ । সাবিনা বেগম তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে থাকেন মেয়ের দিকে । সন্ধ্যা ৭ টা পেরিয়েছে, এতোক্ষণে আসার সময় হ‌‌‌লো এই মেয়ের । মায়ের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে মিহি দাঁত কেলিয়ে বোকা বোকা হাসি দিয়ে সাফাই গেয়ে বলে..
” জানো আম্মু,, রাস্তায় আজ কতো জ্যাম ..
আমি সেই কখন রুহি দের বাড়ি থেকে বেরিয়েছি,,জ্যামের কারণে এতক্ষণে এসে পৌঁছালাম ।
” একা আসলি ..?
” ঐ …না মানে…
রুহির ভাইয়া রেখে গেল ।
চোখ নামিয়ে কথাটা বলে মিহি…
” ওও,, ভেতরে আসতে বললি না ওকে ..?
তড়িৎ বেগে চোখ তুলে তাকায় মিহি…অবাক স্বরে বলে…
” আম্মু তুমি রেগে নেই আমার উপর ?
” রেগে থাকবো কেন ?
বরাবরের মতো গম্ভীর কণ্ঠ সাবিনা বেগমের । মিহি হাঁফ ছেড়ে বললো..

” সেটাই তো, তুমি রেগে থাকবেই বা কেন । মিহির আম্মু তো বেস্ট আম্মু ,, মিহির আম্মু কখনো রাগতেই পারে না ।
মিহির তেল দেওয়া কথায় কাজ হলো না,, বরং মিহির কথায় পাত্তা না দিয়ে সাবিনা বেগম গম্ভীর শ্বাস ফেলে ড্রইং রুমের দিকে এগোলেন । পিছনে মিহি বুকে হাত দিয়ে দীর্ঘ একটা শ্বাস ফেললো । বিড়বিড় করলো মুখে…
” যাক বাবা,, এবারের মতো বাঁচা গেছে ।
মিহি দরজা লাগিয়ে ড্রইং রুমের সিঁড়ি দিয়ে ঘরে যেতে যাবে এমন সময় আজমাল হোসেনের ডাক ভেসে আসে । মিহি তাকায় সোফার দিকে ,, এতক্ষণ আপন খেয়ালে থাকায় লক্ষ্য করে নি আব্বুকে । দিক পরিবর্তন করে সোফার দিকে পা বাড়ায় মিহি । একটু এগোতেই আব্বুর সাথে আরো একজনকে দেখতে পায় সে । উল্টো দিক করে বসার কারনে পিছনের অংশটা দেখা যাচ্ছে লোকটার । সামনাসামনি হতেই মিহি দেখতে পায় সেই দিনের সেই ‘সারফারাজ’ ওরফে ‘সাফি’ ছেলেটাকে । ওকে দেখে আপনা আপনি মিহির ভ্রু কুঁচকে আসে ।
সারফারাজ মিহির দিকে তাকিয়ে ঠোঁট প্রসারিত করে হাসে ।
আজমাল হোসেন বলেন…

” আসতে এতো দেরি হলো কেন আম্মু ? কতক্ষন থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি,,দেখো কে এসেছে ।
মিহি জোরপূর্বক একটু হেসে কুশল বিনিময় করে সাফির সাথে ।
কয়েক মুহূর্ত পর সাফি সোফা থেকে উঠতে উঠতে বলল…
” তাহলে আঙ্কেল,,আজ আমি আসি…?
” কি বলো বাবা..?এখনই চলে যাবে..? আরো কিছুক্ষণ থাকো ,, মিহি তো কেবলই আসলো,ওর সাথে একটু গল্প গুজব করো ।

” না আঙ্কেল,, আজ আর সময় হবে না । অনেকক্ষণ হলো এসেছি । তবে আমি কিন্তু আবারো আসবো ।
” তুমি যখন ইচ্ছে তুমি আসতে পারো ,, এটা তো তোমার নিজের বাড়ির মতোই ।
আজমাল হোসেনের কথায় মিহির কুঁচকানো ভ্রু আরো বেশি করে কুঁচকে যায় । দুইদিনের পরিচয়ে একটা ছেলের সাথে এমন মাখো মাখো সম্পর্ক মোটেই পছন্দ হচ্ছে না মিহির । সাফি চলে যাওয়ার সময় মিহির দিকে তাকিয়ে কেমন করে যেন হাসছিল । আচরণে অদ্ভুত এক কৃত্রিম ভদ্রতা রয়েছে সাফির । সাফি চলে যেতেই মিহি বিড়বিড় করতে করতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে…
মেয়ের বিড়বিড়ানি শুনে সাবিনা বেগম দুদিকে মাথা নেড়ে, সোফায় বসতে বসতে বললেন…
” ছেলেটা কিন্তু অনেক দায়িত্বশীল আর‌ ভদ্র,,তাই না ‌..? সেদিন কতবড় একটা বিপদের হাত থেকে আপনাকে বাঁচালো,, আবার এখন প্রতিদিন নিয়ম করে আপনার খোঁজ খবর নিচ্ছে — আজকাল কার যুগে এমন ছেলে কিন্তু দেখাই যায় না । পরিবার থেকে বেশ ভালো শিক্ষা পেয়েছে,বলতে হবে । কি বলেন ?
আজমাল হোসেন মুচকি হেসে বললেন..

” যা বলেছ…. সত্যি কিন্তু আজকাল কার যুগে,তাও আবার এই ঢাকা শহরের মতো একটা শহরে এমন ছেলে পাওয়া বেশ দুস্কর ।
” আচ্ছা,, ছেলেটার পরিবার কেমন..? মানে ওর পরিবারে কে কে আছে ..? এসব বিষয়ে তো কিছুই শুনলাম না আমি..।
” যা বলল ,, তাতে শুনলাম, বাবা মাকে নিয়ে আগে কানাডায় থাকতো ও । দেশে ফিরেছে কিছুদিন আগে । এখন দেশেই Settle হওয়ার পরিকল্পনা আছে ।
কিন্তু তুমি এসব জানতে চাইছো কেনো ..? কি ভাবছো তুমি..?
” আপনি তো আমার মনের কথা বুঝতে পারেন,, তাহলে বুঝে নিন কি ভাবছি আমি ।
গাঁ দুলিয়ে হাসলেন আজমাল হোসেন…। ঠোঁট কামড়ে সাবিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন ..
” বরাবরের মতো আমাদের দুজনের ভাবনা আবারো মিলে গেল দেখছি । তুমি যা ভাবছো , সেটা করলে কিন্তু খারাপ হয় না,বলো‌..?

” হুম….
সাবিনা বেগমের ছোট জবাবে আজমাল হোসেনে একটা ভারি শ্বাস নিয়ে বললেন…
” এতো টুকু ভাবনাতেই কষ্ট হচ্ছে..? তাহলে বাকিটা জীবন কাটাবে কি করে..?
” যেভাবে ৮ বছর একা একা আপনার সাথে কাটিয়েছি সেভাবে ।
সাবিনা বেগম আজমাল হোসেনের চোখে চোখ রেখে কথাটা বললেন । স্ত্রীর কথায় আজমাল হোসেনের বুক চিরে আবারো একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে ।
বছরের শেষ দিন আজ,, ৩১ ডিসেম্বর । কলেজ বন্ধ দিয়েছে অনেক আগে,, দুদিন হলো কোচিং ও বন্ধ দিয়েছে । দুদিন ধরে প্রায় ঘর বন্দি হয়ে আছে মিহি । বিকেলের মিষ্টি ঠান্ডা আবহাওয়ায় পাতলা একটা চাদর গায়ে জড়িয়ে খোলা ব্যালকনিতে বসে বই পড়ছিল মিহি । এমন সময় পাশে থাকা ফোনটা টুং টুং শব্দ করে বেজে ওঠে । মিহি বিরক্তিতে তাকায় ফোনের দিকে, তবে ফোনের স্ক্রিনে ভেসে থাকা নাম্বারটা দেখে শিথিল হয়ে যায় মিহির মন । সে আলতো হেসে ফোনটা রিসিভ করে । ফোনের ওপাশ থেকে চিরচেনা কন্ঠ ভেসে আসে…

” আমার জানু’টা কি করছে..?
” এইতো,, তোমার জানুটা‌ তোমাকেই মিস করছে ।
” আমিও তো আমার জানু’কে ভীষণ মিস করছি । একা একা আর থাকতে পারলাম না,, তাইতো চলে আসলাম জানুর কাছে ।
” মানে…
বলতে বলতে পিছন ফিরে তাকায় মিহি । পিছনে রুহিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খুশিতে চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠে ‌। চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠে দৌড়াতে গেলে হোঁচট খেয়ে পড়তে নেয়,, তবে রুহি এগিয়ে এসে সামলে নেয় মিহিকে । ‌কপাল কুঁচকে বলে…

” এক্ষুনি পড়ে গেলে কি হতো ,শুনি..?
” পড়তাম,, পড়িনি তো ..? তুই তো আছিস আমাকে সামলানোর জন্য । আচ্ছা Buy the way ,, তুই হঠাৎ এখানে..? আগে বলিসনি তো ,যে তুই আসবি ‌? আর এমন সেজেগুজে এসেছিস কেনো..? কি ব্যাপার বল তো ? ভাইয়ার সাথে Dating-Sating এ যাচ্ছিস নাকি ,,হুম..?
মিহি একহাত কোমরে রেখে,, ভ্রু নাচিয়ে রুহিকে কথা গুলো বলে ‌ । রুহি থতমত খেয়ে চোখের ইশারায় কিছু একটা বোঝায় মিহিকে । ইশারা বুঝতে না পেরে মিহি ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করে..
” কি বলছিস বলতো..? কিছুই তো বুঝতে পারছি না ।
পিছন থেকে মেহজাবিন ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলে…
” বোঝো নি..আমি আছি তো তাই লজ্জা পাচ্ছে রুহি । বড় বোনের সামনে Dating-Sating…..
থাক আর কিছু না বলি ।
মিহি তুমি এখনো দাঁড়িয়ে আছো কেনো..? যাও তাড়াতাড়ি গিয়ে রেডি হয়ে নাও ।
” রেডি হতে যাবো কেনো..? কোথায় যাব আমরা ?
” সে কি.. রুহি তোমাকে কিছু বলে নি..?
” কোই না তো …
মাঝখান থেকে রুহি বলে…

” আমি বলি নি,,কারন আমি এসে তোকে ডিরেক্ট সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম । আসলে কি বলতো….আজ Happy new year এর জন্য মিরপুরে ভাইয়ার একটা কনসার্ট আছে । সেখানে আমরা সবাই যাচ্ছি । তুই এতো কথা না বলে তাড়াতাড়ি গিয়ে রেডি হয়ে নে, এক্ষুনি উনি চলে আসবেন আমাদের নেওয়ার জন্য ।
মিহি আহাম্মকের মত কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে । রুহি ঠেলে ঠুলে মিহিকে পাঠায় ফ্রেশ হওয়ার জন্য । ফ্রেশ হয়ে রুহির পছন্দ মতো একটা খয়েরী রঙের সুন্দর গর্জিয়াস গাউন পড়ে নেয় মিহি ,, সাথে গর্জিয়াস হিজাব । চোখে গাড় কাজল, ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক — এই নিয়ে হালকা সাজগোজ করে নেয় সে ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই শান্তর কল আসে রুহির মোবাইলে । শান্ত গাড়ি নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে । তড়িঘড়ি করে নিচে নামে তিনজনে । বাইরে গাড়ির কাছে আসতেই মেহজাবিন আর মিহি চট করে বসে পড়ে পেছনের সিটে । রুহি ঠোঁট উল্টে দাঁড়িয়ে আছে গাড়ির বাইরে,,সে কিছুতেই সামনের সিটে বসবে না ,, এদিকে মিহি আর মেহজাবিন প্লান করেছে তারা কিছুতেই রুহিকে পেছনের সিটে বসতে দেবে না ‌। অবশেষে বাধ্য হয়ে গাল ফুলিয়ে সামনের সিটে শান্তর পাশে বসে রুহি ।
রুহি বসতেই শান্ত গাড়ি Start দিতে দিতে মেকি স্বরে বলে…

” বা,বা … এমন ভাবে লজ্জা পাচ্ছো, যেন আমার কোলে বসে আছো । এভাবে মিছিমিছি লজ্জা না পেয়ে ডিরেক্ট আমার কোলে এসে বসতে পারো , তাহলে সত্যি সত্যি লজ্জা পাবে ।‌
শান্তর কথায় লাজুক রুহির কান গরম হয়ে আসে । এমনিতেই মেহজাবিনের সামনে শান্তর পাশে বসতে আড়ষ্টতা কাজ করছিল রুহির মনে । তার উপর আবার শান্তর এমন ঠোঁটকাটা কথা ,, লজ্জায় লাল হয়ে যায় রুহি । পিছনে ঠোঁট টিপে হাসছে মিহি আর মেহজাবিন ‌।

পুরো ঢাকা শহর নতুন উদ্যমে সাজানো হয়েছে । নতুন বছরে নতুন ভাবে সেজে উঠেছে পুরো শহর । চারদিকে চোখ ধাঁধানো সুন্দর লাইটিং দৃশ্য দেখা যাচ্ছে । অন্যান্য দিনের তুলনায় মানুষের সমাগম ও অনেক বেশি ।
গাড়ি এসে থামে মিরপুরের বিশাল এক কনসার্ট জোনে । বিশাল বড় একটা জায়গা মানুষ দিয়ে পরিপূর্ণ । একটা পিঁপড়া চলাচলের ও কোন উপায় নেই । শান্ত আলগোছে সবাইকে নিয়ে স্টেজের দিকে চলে যায় । রাফি আগে থেকেই এখানে উপস্থিত । তার ভক্তরা অপেক্ষা করছে তার জন্য । স্টেজের সামনে শত শত ক্যামেরা,, সারা দেশে লাইভ চলবে এই কনসার্টের । শান্ত সবাইকে দাঁড় করায় সামনের সারিতে । কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে অনুষ্ঠান । পেছনে হাজার হাজার ছেলে-মেয়েদের কন্ঠ ভেসে আসছে । সমস্বরে সবাই চিয়ার আপ করছে রাফিকে । এটা রাফির তৃতীয় কনসার্ট তাও আবার ৫ বছর পর । বাকি দুটো কনসার্ট ৫ বছর আগে হয়েছিল ।
মিহি তাজ্জব বনে চোখ ঘুরিয়ে চারপাশটা দেখছে । স্টেজের উপর বড় একটা স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে রাফির নানান ধরনের স্টাইলিশ ছবি । রাফির সংগিত জীবনের শুরু থেকে এখন পর্যন্তের অনেক ছবি দেখানো হচ্ছে স্ক্রিনে । আশেপাশের মেয়েরা বুকে হাত দিয়ে হা হয়ে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে দেখছে ছবিগুলো । একসময় রাফির একটা কৈশোর কালের ছবি আসে ,, হবে হয়তো ১৬/১৭ বছরের ছবি,, সেটা দেখে নিঃশব্দে ফিক করে হেসে দেয় মিহি । পরমুহূর্তে আবারো ঠোঁট চেপে হাসি আটকায় । ছবিটাতে কিন্তু রাফি কে অনেক কিউট লাগছে । মিহি অপলক তাকিয়ে দেখছে একের পর এক স্ক্রিনে ভেসে ওঠা ছবি গুলো । আপনা আপনি গাঁ শিউরে উঠছে মিহির । নিজেকে সংযত করে মিহি চোখ ফেরায় ওদিক থেকে । ছোট্ট ঢোক গিলে, শ্বাস টেনে নেয় ।

এমন সময় রাফির আগমন হয় স্টেজে । সবাই একই সাথে রাফির নাম নিয়ে চিয়ার আপ করতে থাকে । মিহির চোখ যায় রাফির দিকে..এ যেন নতুন কেউ । কালো টিশার্টের উপর কালো লেদার সুট,, সাথে কালো জিন্স , কানের হেডফোন গলায়,,চুল গুলো একটু এলোমেলো, হাতে গিটার নিয়ে এগিয়ে আসছে রাফি । চারদিকের কোলাহল আরো বেশি বেড়ে যায় । রাফি স্টেজের মাঝ বরাবর আসতেই প্রথমে চোখ যায় সামনে থাকা মিহির দিকে । দুজনেই একে অপরের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে । রাফির চোখ আটকে যায় মিহির হরিণী কাজল কালো দুটি চোখে । মিহির দৃষ্টি স্থির, তবে এতো লাইটের আলোয় রাফির দৃষ্টি বোঝা যাচ্ছে না । এদিকে সবাই অপেক্ষা করছে রাফির গানের জন্য..
মিহির দিকে তাকিয়েই রাফি গিটারে সুর তুলে গান ধরলো…

কাজল কালো দুটি চোখে
সে যখনি আমায় দেখে,পড়েনা
চোখেতে পলক ..
আর আসেনা কথা মুখে…
তার চলে যাওয়া,, ফিরে একটু চাওয়া
এই বুকেতে ঝড় তুলে যায়…
গিটার ব্যতীত কোন বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয় না রাফির গানে । আজকের কনসার্ট থিম অনুযায়ী কয়েকটা গান মিলে Mashup গাওয়ার কথা ছিল রাফির । তবে রাফির গাওয়া এই গানে আলোড়ন ওঠে সবার মাঝে..। একসাথে করতালি দিয়ে চিল্লিয়ে ওঠে সবাই ।
রাফি এদিক সেদিক পলক ফেলে আবারো গান ধরে…

Tere saamne aa jaane se
Yeh Dil Mera dhadka hei…
Yeh ghalti nehi hai Teri
Kusoor nazar ka hai …
Jis baatt ka tujhko darr hai
Woh karke dikha doonga….
Aise na mujhe tum dekho
Seene se laga loonga
Tumko main chura loonga tumse
Dil main chupa loonga…..
মিহি চোখ সরিয়ে নেয় রাফির থেকে । রাফি গানের মাঝেই মুচকি হেসে আরেকটা গান ধরে…

এক পা দু পা করে, তুই এলি এ মনে
শেখালি আমাকে, ভালোবাসার মানে ..
আবার….
Ooo Karam khudaya hai
Tujhe Maine jo paaya hai
Tujhpe mar ke hi toh
Mujhe Jeena aaya hai…
Oooh Tere sang yaara
Khush rang bahaara
Tu Raat deewani
Main zard sitaara….

রাফির গানের তালে তালে হইহুল্লোড় চলছে সবার মাঝে । সবাই নিজেদের ফোনে ধারণ করছে ভিডিও । হাত তালি দিচ্ছে সমান তালে।
রাফি সবার আগ্রহ বাড়িয়ে আবারো গেয়ে ওঠে….
Hai ye nesha ,,ya hai zehar
Iss payer Koo hum keya naam dein
Kabse adhuri hai ik daastaan
Aaja usey AJ anjaam dein..
Tumhe bhulun kaise mainnn
Mera pehli khata tum hooo…
মিহি নরম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রাফির দিকে । নরম হাতে তালি দিয়ে যাচ্ছে সবার সাথে তাল মিলিয়ে । মাঝে মাঝে স্টেজের একটা নিল লাইটের আলো পড়ছে মিহির উজ্জ্বল শ্যামলা মুখশ্রীতে। রাফি বুকের বাম পাশে হাত রেখে আবারো গান ধরে….
Mere dhadhkan tumko chahe
Mera Dil ban Ja na Tumi ….
Kabhi Ruth Jo jaye Dil , to sine se lagana tum
Mujhe apna banake rakhlna
Apnoon ki tarah har dam….
Mera Dil to juda hai tumse, JAISE sur se juda sargom

এভাবে আরো কয়েকটা গান গায় রাফি ‌। কনসার্টের সবার মাঝেই যেন নতুন উত্তেজনা বিরাজ করছে । ১২ টা পেরিয়েছে অনেক আগে । রাফির শর্ত অনুযায়ী ১২ টার পর রাফি প্রোগ্রাম শেষে স্টেজ‌ থেকে নেমে পড়ে । চারদিকে এলোমেলো হয়ে পড়ে কনসার্টের সবাই । কেউ কেউ ছুটছে রাফির পিছু পিছু ।
এদিকে রুহি, মিহি আর মেহজাবিন স্টেজের এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে । পুরো প্রোগ্রামের মাঝে একবারও দেখা যায়নি শান্তকে । রুহির চোখ বারবার খুঁজেছে শান্তকে কিন্তু দেখা মেলেনি তার । অবশেষে প্রোগ্রাম শেষ হতেই দেখা মেলে শান্তর । স্টেজের অন্যপাশে কয়েকটা মেয়ের সাথে দাঁড়িয়ে বেশ হেসে হেসে কথা বলছে সে । শুধু কথাই বলছে না,মেয়ে গুলো আবার গাঁ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছে শান্তর সাথে ।
এসব দেখে দাঁত পিষে কটমট করে তাকায় রুহি । রিতিমত রাগে ফুঁসছে সে । মেহজাবিন পিছন থেকে হাত নেড়ে শান্তকে ইশারা করে,, কিন্তু শান্ত তাকায় না ওদের দিকে । কিছুক্ষণ পর মেয়েগুলো চলে যেতেই শান্তর চোখ যায় অপরদিকে দাঁড়িয়ে থাকা রুহির দিকে ‌। রাগে গজগজ করছে রুহি,, ওর পিছনে দাঁড়িয়ে আছে মিহি আর মেহজাবিন । শান্ত চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে শুকনো একটা ঢোক গিলে এগিয়ে আসে । দাঁত কেলিয়ে বোকা বোকা হাসি দিয়ে বলে…

” তোমরা এখানে..? সেই কখন থেকে আমি তোমাদের খুঁজছি তোমরা জানো..?
শান্তর কথায় কেউ উত্তর করে না । মেহজাবিন শান্তকে মাথা নেড়ে ইশারা করে বলে…
” তুমি আজ শেষ…
শান্ত ঠোঁট উল্টে তাকায় রুহির দিকে । গলা ভিজিয়ে করুন স্বরে বলে…
” কি হয়েছে জানু ..? তোমার শরীর খারাপ লাগছে..? এই এত ঠান্ডার মধ্যেও তোমার চোখ দিয়ে এভাবে আগুন বের হচ্ছে কেনো..? এমনিতেই আমি তোমার রুপের আগুনে ঝলসে যাচ্ছি,, এভাবে রাগের আগুনে আমাকে আর জ্বালিয়ে দিয়ো না জান । এতো জ্বললে আমি যে গ্রিল মোরগ হয়ে যাবো ,, আর তোমার তো গ্রিল পছন্দ নয় তাই না..? একটু শোনো আমার কথা…
শান্তর উল্টা পাল্টা কথায় মিহি আর মেহজাবিন মুখ চেপে হাসছে । এদিকে রুহি রাগে গজগজ করতে করতে বলে…
” কোথায় ছিলেন এতক্ষণ..?
” আমি..? আমি তো ঐ.. মানে…
” কি মানে মানে করছেন..? ঐ মেয়েগুলোর সাথে কি করছিলেন আপনি..? আর অমন গাঁ ঘেঁষেই বা দাঁড়িয়ে ছিলেন কেনো..?

এই জন্যই বলি,, কোথায় যেন পড়েছিলাম — ‘ পুরুষ মানুষ আর ছাগল,এই দুই জিনিসকে চোখে চোখে রাখতে হয়,, নয়তো কখন কিসে মুখ দেয় কিছু বলা যায় না..’ ।
” তুমি কি আমাকে ছাগল বললে..? বিশ্বাস করো আমি কোথাও মুখ দেই নি জান ।
না মানে…ঐ মেয়ে গুলো তো রাফির সাথে সেলফি তোলার জন্য আমার কাছে এসেছিলো,, কিন্তু রাফি তো অনেক বিজি,তাই আরকি আমার সাথে সেলফি তুললো । বোঝোই তো সেলিব্রিটি মানুষ…
শেষের কথাটা একটু ভাব নিয়ে বলল শান্ত । রুহি ফোঁস করে উঠলো..
” হয়েছে,, খবরদার আমাকে অজুহাত দেখাবেন না । যান ঐ মেয়েগুলোর কাছে যান ।
” তোদের মাঝে আবার শুরু হয়ে গেছে..?
পিছন থেকে রাফির গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসে । সবাই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় সেদিকে । সিভিল ড্রেসে মুখে মাস্ক লাগিয়ে ওদের কাছে এসে দাঁড়ায় রাফি । রাফিকে দেখে অমনি মিহির পিঠ সোজা হয়ে যায় । রাফি একবার আড়চোখে দেখে নেয় মিহিকে । এদিকে শান্ত ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে রাফির দিকে ,, শান্তকে দেখে রাফি জিজ্ঞেস করে…

” কি হয়েছে..?
শান্ত এক নিঃশ্বাসে এক নাগাড়ে সবকিছু বলে দেয় রাফিকে । রাফি একবার রুহিকে দেখে, তারপর শান্তর দিকে তাকিয়ে কটমট করে বলে…
” শালা,, আগে নিজের চরিত্র ঠিক কর ,, নয়তো আমার বোনকে কিন্তু তোর হাতে তুলে দেব না বলে দিলাম ।
শান্ত চোখ বড় বড় করে তাকায় । ও ভেবেছিলো রাফি হয়তো ওর ফড়ে কথা বলবে । কিন্তু তা আর হলো কোই,,, শান্ত নাক টেনে টেনে অভিমানী স্বরে বলে…
” খবরদার,, নিজের চরিত্র আগে ঠিক কর , তারপর আমাকে বলতে আসবি ….
শান্তর কথায় রাফি সহ বাকিরা ভ্রু জড়ো করে ওর দিকে তাকায়… একই সাথে এতো গুলো দৃষ্টি দেখে থতমত খেয়ে যায় শান্ত । আমতা আমতা করে বলে..

” না মানে দেখ… আমার কোন বোন নেই,, আর যদি থাকতো তবুও তুই ওকে বিয়ে করতি না । কিন্তু তোর বোন আছে ,, আর পৃথিবী উল্টে পাল্টে গেলেও আমি ওকেই বিয়ে করবো । তাহলে ভেবে দেখ ,, সম্পর্কের দিক দিয়ে কে শালা — আমি না তুই..! এখান থেকেই ভেবে দেখ আমার চরিত্র কতখানি ফুলের মতো পবিত্র ।
শান্তর কথায় পাত্তা না দিয়ে,, রাফি সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে…
” দেরি হয়ে যাচ্ছে,, তাড়াতাড়ি চলো বাসায় ফিরতে হবে ।
বলেই হাঁটা লাগায় রাফি । রাফি পিছু পিছু সবাই এগিয়ে যায় । রুহি শান্তকে ভেংচি কেটে ভাইয়ার হাত ধরে এগিয়ে যায় । এটা দেখে শান্ত বড় একটা শ্বাস ফেলে বলে…

” আরে ভাই…এই ‘দেব’ যখন বলেছিলো ‘প্রেমের জ্বালা বড়ই জ্বালারে’ তখনই আমার বোঝা উচিত ছিল..।
রাত সাড়ে তিনটা বেজে গেছে । বাড়িতে এসে ক্লান্ত শরীর নিয়ে যে যার রুমে চলে গেছে । বাইরে থেকে খেয়ে এসেছে সবাই,তাই বাড়িতে এসে আর খাওয়ার প্রয়োজন হয়নি । রুহি ঘুমিয়ে পড়েছে একটু আগে । কিন্তু মিহির চোখে কিছুতেই ঘুম আসছে না । সে বারবার এপাশ ওপাশ করছে,, কিন্তু ঘুম আসছে না । অবশেষে উঠে বসে সে,, দুই হাতে মাথাটা চেপে ধরে কিছুক্ষণ বসে থাকে । মাথাটা ভীষণ ব্যাথা করছে । মিহি মাথাটা ছেড়ে দিয়ে খাটের পাশে থাকা পানির বোতলটা হাতে নেয় ,, কিন্তু বোতলে পানি নেই । টেবিলের উপরে তাকায় ,, কিন্তু টেবিলের উপরের জগ’টাতেও পানি নেই । মিহি বিরক্তিতে খাট থেকে নেমে পড়ে । ব্যাগ থেকে একটা পেইন কিলার বের করে আস্তে করে দরজা খুলে বোতল হাতে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে । নিচে নেমে পেইন কিলারের সাথে একগ্লাস পানি ঢকঢক করে খেয়ে নেয় । টেবিলের উপর মাথাটা এলিয়ে দিয়ে বসে থাকে কিছুক্ষণ । এরপর বোতলে পানি ভরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যায় । রুহির ঘরের দরজার সামনে আসতেই একটা কন্ঠ ভেসে আসে মিহির কানে । মিহি তৎক্ষণাৎ এদিক ওদিক তাকায় , কিন্তু কেউ নেই ‌। মিহি দরজা খোলার জন্য হাত বাড়াতেই আবারো শুনতে পায় সেই কন্ঠ । মিহি এবার কান খাঁড়া করে বোঝার চেষ্টা করে ।

একটা মহিলা কন্ঠ ভেসে আসছে,, গুনগুনিয়ে গান গাইছে হয়তো । মিহি আরো একটু কান খাড়া করে বোঝার চেষ্টা করে কন্ঠটা কোন দিক থেকে ভেসে আসছে ।
উপরতলায় সিঁড়ির প্রথমের রুমটা মেহজাবিনের,, তার পাশের রুমটা রুহির,, এবং তার পাশেরটা রাফির । মিহি চোখ সরু করে তাকায় রাফির রুমের দিকে,, এতো রাতে রাফির ঘর থেকে মহিলা কন্ঠ ভেসে আসছে..? একটু অবাক হয় মিহি,, সাথে অস্বস্তিও কাজ করে মিহির মনে । সে কাঁপা কাঁপা গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যায় রাফির ঘরের সামনে । মহিলা কন্ঠটা এখন আর শোনা যাচ্ছে না । মিহি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে দরজার সামনে । কিন্তু আর কিছু শোনা যাচ্ছে না,, মিহি এটাকে নিজের ভ্রোম ভেবে একটা প্রশস্ত নিঃশ্বাস নিয়ে রুহির ঘরের দিকে পা বাড়ায় । দু’পা এগোতেই আবারো ভেসে আসে সেই গুনগুন কন্ঠ । মিহি এবার ভয় পেয়ে তড়িৎ বেগে পিছন ফিরে তাকায় । জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে সে । আশেপাশে তো কেউ নেই,, তাহলে এই কন্ঠটা কোথা থেকে ভেসে আসছে..? ভয়ে মিহির পা কাঁপছে,, পায়ের তলা শিরশির করছে । মিহি আবারো কান খাড়া করে বোঝার চেষ্টা করে কন্ঠটা কোথা থেকে আসছে । কন্ঠটা লক্ষ্য করে মিহি এগিয়ে যায় । রাফির ঘরের পাশেই আরো একটা ঘর আছে । ঘরের দরজাটা বাইরে থেকে লাগানো । মিহি কান পেতে শুনতে থাকে,, গুনগুন কন্ঠ এই ঘরের ভেতর থেকেই আসছে ।
একটা মহিলা কন্ঠ গুনগুন করে গাইছে…

ঘুম যাও সোনারে, ঘুম যাও জাদুরে
তুই ছাড়া সোনা-জাদু বল আমার
কে আছে..?
তোর মুখ দেখে শুধু আমার এই
প্রান বাঁচে….
এই ঘরটা আগে তেমন লক্ষ্য করে নি মিহি,, ঘরের ভেতর কে থাকে তাও জানা নেই । মিহির জানা মতে বাড়ির কেউ এই ঘরে থাকে না । তাহলে এই ঘর থেকে কার কন্ঠ ভেসে আসছে..? অজানা ভয়ে মিহির কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে । এই ঠান্ডা’তেও ঘামছে সে । গায়ের পাতলা চাদরটা ভালোভাবে গায়ে জড়িয়ে নেয় সে ।
কপালের ঘাম মুছে,, কাঁপা কাঁপা হাতে দরজাটা খুলে দেয় । দরজা ঠেলে এক’পা ভেতরে প্রবেশ করে । ঘরে লাইট জ্বলছে না,, একটা ডিম লাইট জ্বলছে শুধু । ডিম লাইটের আলোতে পুরো ঘরটা ভালোভাবে বোঝা যাচ্ছে না । দরজার পাশেই সুইচ বোর্ড । মিহি সুইচ বোর্ড হাতড়ে সুইচ অন করতেই পুরো ঘর আলোকিত হয় । চোখে হঠাৎ আলোর প্রতিফলন হতেই মিহি চোখ কুঁচকে বন্ধ করে নেয় । ধীরে ধীরে পিটপিট করে চোখ খোলে সে । চোখ খুলতেই সামনে খাটে বসে থাকা এক মধ্য বয়স্ক মহিলা নজরে আসে মিহির । হঠাৎ তাকে দেখে ভয়ে মিহির হাত থেকে পানির বোতলটা পড়ে যায়,, শব্দ হয় একটু । মুখ থেকে অচিরেই চিৎকার বেরিয়ে আসতে চায়,, তবে চিৎকার করার আগেই নিজেই নিজের মুখ চেপে ধরে সে । জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে,, মুখ থেকে হাতটা সরায় মিহি । মহিলাটি কেমন অবাক হয়ে মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মিহির দিকে । মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে আছে তার,, মাথার খোপাটা একটু এলোমেলো হয়ে গেছে । তাকে দেখে মনে হচ্ছে অনেক দিন ধরে এই ঘরের ভিতরেই আছেন তিনি । তার কোলে একটা সুন্দর পুতুল রাখা । তিনি দুহাতে আগলে আছেন পুতুলটিকে । মিহি চারদিকে একবার নজর বুলিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে যায় মহিলাটির দিকে । মহিলাটি এখনো মিহিকে দেখছে । মিহি খাটের একপাশে বসে আলতো কন্ঠে বলে…

” আ.. আপনি গান গাইছিলেন..?
মিহির কথায় জবাব না দিয়ে মহিলাটি মিহির গালে আলতো হাত রাখে,, ধীরে ধীরে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় মিহির । তার স্পর্শে মিহি ভেতরটা কেমন ছ্যাঁত করে ওঠে । অদ্ভুত এক শীতলতা ছড়িয়ে যায় মিহির মনে । মহিলাটি মিহির মুখ দুহাতে আগলে নিয়ে মিহির কপালে একটা চুমু খান । আকস্মিক তিনি মিহিকে বুকে জড়িয়ে ধরেন । মিহি যেন স্তব্ধ হয়ে যায়,,আপনা আপনি মিহির চোখ দিয়ে দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ে ।কেন গড়িয়ে পড়ে যানা নেই । মিহি হাত রাখে মহিলাটির পিঠে । মহিলাটি খুশিতে গদগদ হয়ে বলেন…
” তুই এসেছিস..? কিন্তু এত দেরী করলি কেন আসতে ..? জানিস আমি তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম ।
মিহিকে ছেড়ে দেয় মহিলাটি ‌। মিহি চোখের পানি মুছে বলে…
” আপনি আমাকে চেনেন..?
মিহির কথায় মহিলাটি নিজের শাহাদাৎ আঙুল মিহির ঠোঁটে রেখে ফিসফিস করে বলে….
” হুসসসস….. আমার মেয়ে ঘুমোচ্ছে,,, কথা বলিস না । আস্তে আস্তে কথা বল ।
কোলের পুতুলটিকে ইশারা করে কথাটা বলেন তিনি । মিহি পুতুলটির দিকে তাকিয়ে ধীর কন্ঠে বলে….

” এটা আপনার মেয়ে..? নাম কি আপনার মেয়ের..?
” ওর নাম..? ওর নাম — মিফতাহুল ।
” তাই ..? তাহলে বলুন তো আমি কে ..? আপনি আমাকে চেনেন..?
মহিলাটি কপালে ভাঁজ ফেলে মাথা চুলকে বলে..
” কে তুই..? তোকে তো আগে দেখিনি আমি ।
” আমাকে চেনেন না,,, তাহলে একটু আগে আমাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলেন কেন..? আর‌ কেন বলছিলেন যে আপনি আমার অপেক্ষায় ছিলেন..?
” জানি না তো…

এক দেখায় পর্ব ১০

মহিলাটির এমন খাপছাড়া কথায় মিহি অবাক হয়ে যায় । এমন সময় ঘরের চাপানো দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে কেউ । মহিলাটি সহ মিহি দুজনেই একসাথে তাকায় দরজার দিকে । দরজায় থাকা লোকটি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে । মিহি নরম দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লোকটির দিকে । তাকে দেখে মহিলাটি প্রশন্য কন্ঠে বলেন…..
” তুইও এসেছিস…? দেখনা মিফতাহুল কিছুতেই ঘুমোতে চাইছে না…..
আর এটা কেরে..? আগে তো কখনো দেখিনি…….

এক দেখায় পর্ব ১২