এক দেখায় পর্ব ১
সুরভী আক্তার
মিহি ….
এই মিহি,,,,৮ টা বেজে গেছে, এখনো ঘুমাচ্ছিস তুই?আজ না তোর নতুন কলেজের প্রথম দিন, কলেজ যাবি না?
এই বলতে বলতে সিঁড়ি ডিঙিয়ে মেয়ের ঘরে গেলেন মিসেস সাবিনা বেগম. গিয়ে দেখেন তার মেয়ে মিহি চার হাত-পা চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আরামছে ঘুমিয়ে আছে… মেয়ের অবস্থা দেখে সাবিনা বেগম মাথায় হাত দিয়ে দুদিকে মাথা ঝাঁকিয়ে বলেন….
” আজব, সেই কখন থেকে এই মেয়ে কে ডাকছি , কোনো হুস আছে এই মেয়ের ? আজকে না ওর নতুন কলেজের প্রথম দিন,আজকেই যদি লেট হয় তাহলে সবাই কি ভাববে ?
বলতে বলতে মেয়ের শিয়রে গিয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে নমনিয় স্বরে ডাকেন…
” মিহি ওঠে পড় মা আজ না তোর কলেজের প্রথম দিন.
গরমের মধ্যেও কম্বল মুড়ি দিয়ে শোয়ার অভ্যাস মিহির । মায়ের ডাকে মিহি গাঁ মুড়িয়ে আরো ভালো করে কম্বল জড়িয়ে নেয় গায়ে । পাশ ফিরে ঘুম জড়ানো আধো কন্ঠে বলে…
” উফ আম্মু ,, আর একটু ঘুমাতে দাও না.. এমনিতেই গত ২ দিন ধরে ঠিক মতো ঘুমাতে পারি নি ।
কালকেও ঘুমাতে ঘুমাতে অনেক রাত হয়ে গেছিলো , নতুন জায়গা নতুন ঘর এতো সহজে ঘুম আসে না আমার।
মেয়ের এমন কথা শুনে মিসেস সাবিনা বেগম মুচকি হাসেন । মিহির অভ্যাস সমন্ধে অজানা নন তিনি । জায়গা পরিবর্তন হলে সহজে ঘুম আসে না মেয়ের ।
তিনি মোলায়েম কন্ঠে বললেন…
” তা তো বুঝলাম , কিন্তু আজকে যে তোর নতুন কলেজের প্রথম দিন সেটা ভুলে গেলি?
অগত্যা মায়ের এই কথা শুনে ঘুম উড়ে গেল মিহির.. এক ঝটকায় চোখ খুলে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালো । সময় নজরে আসতেই তড়িঘড়ি করে উঠতে উঠতে বলল…
” ওহ্ শিট.. আম্মু তুমি আমাকে আগে ডাকবে না ? দেখতো ৮:২০ বেজে গেছে ,, আর তুমি আমাকে এখন ডাকছো ?
এই বলেই ছুট লাগালো ওয়াশ রুম এর দিকে..
” হুম ,, এখন যতো দোষ সাবিনা ঘোষ তাই না ? সেই ৭:৩০ থেকে মেয়েকে ডাকছি , কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ নেই,আর এখন সব দোষ আমার তাই তো? তোরা তো বাপ মেয়ে শুধু আমার উপর দোষ চাপিয়ে দিতে পারলেই বেঁচে যাস ।
মেয়ের বিছানা গোছাতে গোছাতে বললেন মিসেস সাবিনা বেগম ।
এরমধ্যেই ওয়াশ রুম থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে মিহি ফ্রেশ হয়ে এসে মুখ মুছতে মুছতে বলল…
” আব্বু কোথায় আম্মু? আমাকে তো আজকে আব্বুর কলেজে নিয়ে যাওয়ার কথা । উঠে পড়েছে আব্বু ?
” তোর আব্বু সেই কখন উঠেছে, একটু বাজারে গেছেন উনি ,, তুই তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিচে আয় । তোর আব্বু এক্ষুনি এসে যাবে..
বলেই মেয়ের ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন সাবিনা বেগম ।
নিচে এসেই টেবিলে ব্রেকফাস্ট রেডি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি । খেয়ে বেরোবে বাবা মেয়ে ।
” মিহি রেডি হয়েছে ?
কারোর গলা শুনে চকিতে পিছন ফিরে তাকান তিনি । সদর দরজা খোলাই ছিল । পিছনে মি.আজমাল হোসেন অর্থাৎ মিহির বাবা ২ হাতে বাজার ভর্তি ২ ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ।
সাবিনা বেগম মুচকি হাসেন তাকে দেখে । এগোতে এগোতে বলেন..
” মিহি এখুনি নিচে চলে আসবে, আপনি তাড়াতাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে
নিন ।
আজমাল হোসেন ক্লান্ত ক্ষীন স্বরে বললেন…
” হুম যাচ্ছি..
সাবিনা বেগমের হাতে বাজারের ব্যাগ ধরিয়ে নিজের ঘরে গেলেন তিনি । খানিক বাদ ফ্রেশ হয়ে কাপড় বদলে হাতে চামড়ার ঘড়ি পড়তে পড়তে আবারো ড্রইং রুমে এসে দাঁড়ান তিনি । মিহি নিচে নামে নি এখনো । আজমাল হোসেন একবার সিঁড়ির দিকে নজর বুলিয়ে সোফায় গিয়ে বসলেন । টেবিলে নাস্তা রেডি । সাবিনা বেগম রান্না ঘর থেকে বেরোতে বেরোতে দৃষ্টিপাত করলেন সিঁড়ির দিকে….
” আম্মু তাড়াতাড়ি কিছু খেতে দাও,, আজকে এই নতুন কলেজের প্রথম দিন আজকে কিছুতেই লেট করা যাবে না ।
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে অধির স্বরে বলল মিহি ,, পড়নে তার সাদা চকচকে নতুন কলেজ ড্রেস সাথে সাদা হিজাব,,, ঘাড়ে ব্যাগ ঝুলছে । বরাবরের মতো দু-চোখে কাজল টানা । মেয়ের গলা শুনে বসা অবস্থায় ঘাড় কাত করে পিছন ফিরলেন আজমাল হোসেন ।
নতুন ড্রেসে মেয়েকে দেখে তিনি স্মিথ হেসে বললেন…
” আরে আমার আম্মু যে ,, নতুন কলেজের নতুন ড্রেসে তোমাকে তো খুব মানিয়েছে আম্মু ।
উজ্জ্বল শ্যামলা চেহারায় সাদার সংমিশ্রণে মিহিকে বেশ মানিয়েছে । মিহি ঘর থেকে বেরোবার আগে বেশ কয়েকবার নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছে আয়নায় । বাবার কথায় মুচকি হাসে মিহি,,মায়ের দিকে তাকিয়ে উচ্ছাসিত কন্ঠে বলে…
” দেখতে তো হবে মেয়েটা কার..
মেয়ের এমন কথা শুনে আজমাল হোসেন আর সাবিনা বেগম দুই জনেই সমস্বরে হেসে উঠলেন । সাবিনা বেগম কে উদ্দেশ্য করে কথাটা বলেছে মিহি । তার আম্মু যে খুব বেশি সুন্দর । আম্মুর মতো উজ্জ্বল ফর্সা গায়ের রং না হলেও রুপ সৌন্দর্যে ভরপুর মিহির মায়াবী আদল । যে সবার মনযোগ আকর্ষণ করার জন্য যথেষ্ট ।
মিহি তড়িঘড়ি করে আব্বুর সাথে হালকা একটু খাবার খেয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় ..। কলেজ শুরু ১০ টায় । আজ প্রথম দিন, একটু আগেই যেতে হবে ।
মিহি.. পুরো নাম মাহিতা ইসলাম মিহি এবার দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী,, বয়স সবে ১৭ পেরিয়েছে তবে ১৮ হতে এখনও কয়েক মাস বাকি আছে,,,আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হয়ে আজকে তার কলেজের প্রথম দিন হয় কিভাবে??
আসলে মিহির বাবা একজন ব্যাংকে কর্মরত চাকরিজীবী । এবছর রংপুর থেকে ঢাকায় তার বদলি হওয়ার কারণে মিহিকে tc নিয়ে ঢাকার একটি কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে আর সেই কলেজেই আজকে মিহির প্রথম দিন…।
