এক দেখায় পর্ব ৫৭
সুরভী আক্তার
অফিস থেকে আর্জেন্ট ফোন এসেছে । রাফি কে এক্ষুনি যেতে হবে । না গেলেই নয় । এখনো শপিং কিছুই হয় নি । রাশেদ রায়হান চৌধুরী অফিসেই আছেন । তবুও যেতে হবে রাফি কে । চৌধুরী গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির কর্নধার হিসেবে একটা পেপারে সাইন প্রয়োজন ওর । এর মধ্যেই রাশেদ রায়হান চৌধুরী ও ফোন করেছিলেন । যেতে বলেছেন রাফি কে । রাফি মিহি কে নিয়ে আগের বুটিকে ঢুকলো । শান্ত আর রুহি সেখানে । রুহি চেঞ্জ করে বেরিয়েছে । রাফি কে দেখে গদগদ হয়ে ওর বাছাই করা লেহেঙ্গা টা দেখালো । বললো আদুরে স্বরে…
” ভাইয়া , এটা সিলেক্ট করেছি ! এটা নেবো ?
রাফি হেসে উত্তর করলো….
” তোর যেটা ইচ্ছে , সেটাই নিবি ।
আর কি কি কেনার আছে , শান্ত আর মেহজাবিনের সাথে কিনে নে আপাতত । মাহিম ও আছে এখানে । আমাকে একটু বেরোতে হবে , অফিসে যাবো ।
” কেনো ?
” একটু কাজ আছে । এই যাবো আর এই আসবো !
” আচ্ছা !
এবার মিহির দিকে ফিরলো রুহি…
” পাখি , দেখ লেহেঙ্গা টা সুন্দর না ? তুই কিনবি না ?
” ও পরে কিনবে , ফিরে আসি তারপর ! ও আমার সাথে যাচ্ছে ।
রাফির কথায় মিহি সচকিতে চেয়ে বললো…
” আমি কোথায় যাবো ?
” আমার সাথে !
” আমি গিয়ে কি করবো ?
” চলো ।
শান্ত , এদিকটা সামলে নিস ।
শেষের কথাটা শান্তর উদ্দেশ্যে বলে রাফি মিহির হাত ধরে শপ থেকে বেরোলো । চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে নিলো সে । মিহি ওর পায়ে তাল মেলাতে মেলাতে বললো ব্যাস্ত হয়ে…
” আমাকে নিয়ে যাচ্ছেন কেনো ? আমি গিয়ে কি করবো ওখানে ?
” আপনাকে নাকি এটেনশন দেই না , তাই এটেনশন দেওয়ার জন্য নিয়ে যাচ্ছি !
” অফিসে ?
” তো কোথায় যেতে চান ?
” নিয়ে চলুন যেথায় যাবেন !
রাফি খানিক হাসলো ।
অফিসে পৌঁছাতে সময় লাগলো না বেশি । অফিসের নিচে পার্কিং লটে গাড়ি পার্ক করে নামলো দু’জনে ।
ভেতরে ঢুকতেই মিহির আচমকা সেই দিনের কথা মনে পড়লো । লিফটের সামনে এই জায়গাটাতেই বসে রাফি কিছু কথা বলেছিলো ওকে । আজ কথা গুলোর অর্থ খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে সে । সেদিন বুঝেও বোঝে নি , বোঝার চেষ্টাই করে নি । চেষ্টা করার আগেই হারিয়ে গেছিলো । হারানোর আগে রাফির বলা আবদার ছিলো…
“মিহি কে ছোঁয়ার অধিকার যেন শুধু রুজান রাফি চৌধুরীর হয় ।
মিহির মনে পড়লো সেই আকুষ্ঠিত আবদার টুকু । খানিক দাঁড়িয়ে পড়ে স্নিগ্ধ হাসলো সে । রাফি শাহাদাৎ আঙ্গুলে গাড়ির চাবি ঘোরাতে ঘোরাতে বললো…
” দাঁড়িয়ে গেলেন কেনো ম্যাডাম ? চলুন…
” লিফটে ?
” তো ? সাত তলায় সিঁড়ি বেয়ে উঠবেন ?
মিহি চোখ সরু করে তাকায় । রাফি হাসে ।
” আমি কি জন্য আছি ম্যাডাম ? খামচে ধরার জন্য এই শক্ত হাতটা তো আছেই । চলুন…
আজ আর বাহানা খুঁজতে হবে না । আপনাকেও না , আর আমাকেও আপনাকে ছোঁয়ার জন্য বাহানা দিতে হবে না ।
বরাবরের ন্যায় লিফটে ওঠার আগে হাত পা শিরশির করছে মিহির । কেমন ধুকপুক করছে বুক । মাথা ঘোরাবে নিশ্চয়ই !
মিহি পা বাড়াতে গিয়ে কিঞ্চিত থেমে করুন চোখে চায় রাফির দিকে । রাফি ওর হাত ধরে লিফটে উঠলো । লিফট দুলে উঠতেই চোখ মুখ খিচে সিটিয়ে গেলো মিহি । রাফির বাহু আঁকড়ে ধরলো শক্ত করে । রাফি ঠোঁটের কোণে ভিড় জমানো হাসি টুকু ঠেলে দূরে সরালো । কাঁধ জড়িয়ে ধরলো মিহির । মিহির চেঁচিয়ে উঠলো…
” ধুর , আর জীবনেও লিফটে উঠবো না !
হেসে ফেলে রাফি । মিহির প্রত্যুত্তরে বলে..
” আচ্ছা…
লিফট থামলো সেভেন ফ্লোরে । লিফটের দরজা খুলতেই সামনে পড়লো রাশেদ রায়হান চৌধুরী । আকস্মিক তাকে মুখোমুখি দেখে থতমত খেলো রাফি । ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ভড়কালো কিছুটা । মিহি এখনো আগের অবস্থায় সেই ওর বাহুডোরে সিটিয়ে লুকিয়ে আছে ।
রাশেদ রায়হান চৌধুরী ও আকস্মিক দৃশ্যের সম্মুখীন হয়ে ভ্যাবাচ্যাকা খেলেন । তৎক্ষণাৎ চোখ নামিয়ে কেশে উঠলেন শুকনো । তার কাশির শব্দে খেই ছুটলো মিহির । সম্বিত ফিরতেই ঝট করে ঘাড় ঘুরিয়ে চাইলো । পিছে ঠিক লিফটের সামনে রাশেদ রায়হান চৌধুরী কে দেখে হা হয়ে আসলো মুখ । তৎক্ষণাৎ ঝাড়া মেরে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলো রাফির থেকে । অপ্রিতিকর একটা অবস্থার সম্মুখীন তিনজনে । রাফি গলা ঝেড়ে নিজেকে টান টান করে বললো পরিস্থিতি বুঝে….
” ওও , লিফটে ভয় পায় । তাই….
” হুম । তা , ওকে নিয়ে আসতে গেলে যে ?
গুরুভার কন্ঠ রাশেদ রায়হান চৌধুরীর । উত্তরে রাফির স্বাভাবিক কন্ঠ…
” এমনি ! আপনি কোথাও যাচ্ছেন ?
” বাড়িতে !
এখানের কাজ সেরে মার্কেটে যেও । ওরা একা একা পারবে না সবটা কিনতে ।
রাফি হ্যাঁ বোধক মাথা ঝাঁকায় । মিহি মাথা নুইয়ে গুটিসুটি হয়ে রাশেদ রায়হান চৌধুরী কে পাশ কাটিয়ে লিফট থেকে বেরোলো । রাফি বেরোতেই লিফটে উঠলেন তিনি । দরজা বন্ধ হতেই হাঁফ ছাড়ল মিহি । বুকে হাত রেখে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো ।
” উফফফ , এক্ষুনি আব্বু কি ভাবতো বলুন তো ?
” কি আবার ভাবতো ? আমি কাউকে ভয় পাই নাকি ?
” এহহহ্ , দেখলামই তো !
” কি দেখলে ?
” কেমন চুপসে গেলেন আব্বুর সামনে !
” তো কি ? সেভাবেই ধরে রাখতে হতো তোমায় ? আব্বুর সামনে রোমান্স ? এটাই কন্টিনিউ করতে বলছিলে ? বাপের সামনে ছেলের রোমান্স মানায় না !
বৃহৎ ফ্যালফ্যালে নয়নে চায় মিহি ।
দিনে দিনে পেরোলো কটা দিন । সময় আপন ধারায় বইছে । রুহির বিয়ের দিন এগিয়ে এসেছে অনেকটা । জমজমাট আমেজে উন্মাতাল পুরো বাড়ি , বাড়ির সকলে । চৌধুরী বাড়ি সজ্জিত নতুন আলোতে । রং বেরঙের আলোর ছটায় আবৃত পুরো বাড়ি ।
বাড়ি গিজগিজ করছে মেহমানে । বিয়ে বলে কথা !
আজ বুধবার , রুহির মেহেন্দি । সকাল থেকে বিচলিত সে । শুধু সে নয় , সাথে মিহি তো আছেই । ছটফটে দুই রমনী মাতিয়ে রেখেছে পুরো বাড়ি । রুহির বিয়ে কে বলবে ? সে নিজের বিয়েতে নিজেই পাগলামো করছে ! পা দুটো থেমে নেই । পার্লার থেকে লোক এসেছে দুপুরের পর । তবেই না একটু শান্ত হয়ে বসেছে সে ।
সেই বিয়ের শপিংয়ের পর থেকে এ বাড়িতে আসা কমেছে শান্তর । ওকে আসতে দেওয়া হয় নি । এমনিতে এ বাড়িতেই পড়ে থাকে সবসময় । এখন সে এ বাড়ির নতুন জামাই হতে চলেছে , বদলাতে চলেছে সম্পর্ক । আফসানা বেগম ছেলে কে আটকে রেখেছেন । যাতে বিয়ের আগে কম যাতায়াত হয় এ বাড়িতে । তবে শান্ত শুনলে তো , সে তবুও আসে নির্লজ্জের ন্যায় । দিনে একবার না আসলে পোষায় না । যদিও এখন আর রাত কাটায় না এ বাড়িতে । রুহি ও ওকে দেখলে লুকিয়ে পড়ে । সামনে আসতে চায় না । বেচারা শান্ত ফুঁসে ফুঁসে একপলক দেখার সুযোগে ছুটে আসে , অথচ এই মেয়ে ? কিসের এতো হেজিটেশন কে জানে ?
এ কদিন যেওবা এসেছে , আজ কি হবে কে জানে ? আজ মেহেন্দি । বাড়িতে ইতিমধ্যে সব মেহমান চলে এসেছে ।
শুধু অনুপস্থিত আফসানা বেগম । তিনি তো ছেলে পক্ষ , ছেলের মা । তার দায়িত্ব আবার আলাদা । তিনি কি করে আসবেন ? শান্ত বা রুহির অন্যথায় বিয়ে হলে দুদিক থেকেই উপভোগ করতে পারতেন তিনি । কিন্তু এখন পারছেন না । তার ও একমাত্র ছেলে , ছেলের বিয়ের আয়োজনে মেতে পুরো বাড়ি ।
সন্ধ্যার পর চৌধুরী বাড়ির ভোল পাল্টে গেলো । সেজে উঠলো সাঁঝ রাঙানো নানান বাতিতে । হইহই বাড়লো সকলের । মেহেন্দির আয়োজন করা হয়েছে ছাদে । হলুদ আর বিয়ের ফাংশন গার্ডেনে হবে । ছাদে মেহেন্দি । চারদিক আলোয় উজ্জ্বল , ঝলমল করছে পুরো বাড়ি । দূর দূরান্ত থেকে চৌধুরী বাড়ির আলোর ঝলকানি চোখে বাঁধছে । ছাদ বেয়ে নেমে এসেছে নরম কাপড়ের পরত । হাওয়ায় হাওয়ায় দোল খাচ্ছে তা । ছাদের ঠিক দক্ষিনের কোনায় স্টেজ করা হয়েছে । সব তাজা ফুলে সাজানো । গন্ধে মুখোরিত আশপাশ ।
রুহি এখনো তৈরি হয়নি ।
আজ সকাল সকাল মেহজাবিনের নানা বাড়ি অর্থাৎ লিনা দের বাড়ি থেকে সবাই এসেছে । রুহির নানু বাড়ি থেকে ও এসেছে সবাই । ইতিমধ্যে মিহির পরিচয় ও সবার কাছে স্পষ্ট । লিনা তাজ্জব । ও এখনো সেভাবে কথা বলে নি মিহির সাথে । আসার পর জোরপূর্বক কুশল বিনিময় হয়েছে শুধু । মিহি ও সেভাবে কথা বলার আগ্রহ দেখায় নি ।
মিহির ছটফটে পনা সেই সকাল থেকেই এক ধ্যানে দেখে যাচ্ছে লিনা । এখন ওরা মোটামুটি তৈরি । সেই দিন শপিং থেকে মিহি নিজে পছন্দ করে কিছুই কেনে নি । সব রাফির পছন্দে রাফিই কিনে দিয়েছে ।
অল্প কাজের একটা গাঢ় সবুজ রঙা লেহেঙ্গা আজকের জন্য । সেটাই পড়েছে মিহি ।
আজকে ড্রেসআপ থিম নেই । যে যার মতো, নিজের পছন্দে ড্রেস পড়েছে ।
রুহির সাজগোজে ফিনিশিং টাচ দেওয়া হচ্ছে । বাড়ি ঘর কোলাহলে পূর্ণ ।
রাবেয়া চৌধুরী নিজের ঘরে । তিনি এসব হইচই সহ্য করতে পারবেন না । মিহি রুহির ঘর থেকে বেরিয়ে রাবেয়া চৌধুরীর ঘরের দিকে এগোলো । সে রাবেয়া চৌধুরী কে ঘর থেকে বের করবে । দুহাতে লেহেঙ্গার ঘেড় উঁচু করে ধরে নিজের পায়ের দিকে তাকিয়ে সজোরে হাঁটছে সে । করিডোরে থেমে একবার নিচের দিকে তাকালো । হুল্লোড় নিচেও । সাবিনা বেগম নিচে আছেন । মিহি আম্মু কে দেখে মুচকি হাসলো । পেছন ফিরে পা বাড়াতেই হেঁচকা টান পড়লো হাতে । আকস্মিক ভয়াবহ ভড়কালো মিহি । হেঁচকা টানে নিজেকে সামলে ওঠার আগেই ঠাস করে দরজা আটকানোর একটা শব্দ হলো । মিহির পিঠ ঠেকলো দেয়ালে । ওর মুখ চেপে ধরেছে কেউ । ভয়ার্ত মিহি ধক্ করে উঠে চোখ খিচে ফেললো । শ্বাস আটকে আর্তনাদ করলো মৃদু । মুখের উপর কারোর গরম নিঃশ্বাস আঁচড়ে পড়তেই কেঁপে উঠলো আরো । তবে ভয়ার্ত সত্ত্বা শিথিল হতে সময় লাগলো না । নাসারন্ধ্রে চেনা সেই সুগন্ধ প্রবেশ করতেই ঝট করে চোখ খুললো । অমনি ভ্রু নাচালো রাফি । উজ্জ্বল আলোয় রাফির দিকে বৃহৎ নয়নে তাকিয়ে স্বস্তি পেলো মিহি । আটকে রাখা শ্বাস বেরিয়ে আসলো দীর্ঘ হয়ে ।
রাফি মিহির মুখ থেকে হাত সরাতেই বলে উঠলো সে…
” এভাবে আচমকা টানাটানি করছেন ক্যান ? এক্ষুনি ভয়ে আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে যেতো আমার !
রাফির চাহনি গুঢ় । কম্পিত হচ্ছে না একটুও । হালকা সাজে সজ্জিত শুচি শুভ্র সৌন্দর্যের অধিকারিণী রমনীর স্নিগ্ধ মায়াবীনি চেহারার গভীরে তার দৃষ্টি । চোখে গাঢ় কাজল টানা রমনীর । একটু ঘেঁটে গেছে চোখের কোণায় । ঠোঁটে গোলাপী ঠোঁট রঞ্জন । চমকানোর ফলে নিমিষেই নাকের ডগায় চিকচিকে ঘাম জমেছে । চোখের বৃহৎ পাপড়ি যুগল কম্পিত হচ্ছে তরেতরে । চুল এলোমেলো করে খুলে রাখা । মাঝ বরাবর সিঁথিতে একখানা কুটু টিকলি ।
রাফি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে মোহাবিষ্ট নয়নে দেখালো তার আপন প্রেয়সীকে । রাফি কে ওভাবে এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকতে দেখে কপাল গুটিয়ে ফেললো মিহি । ভ্রু নাচিয়ে রাফি কে ঠেলে দূরে সরাতে সরাতে বললো…
” কি দেখছেন এভাবে ?
” তোমাকে ।
” এভাবে দেখার কি আছে ? আগে দেখেন নি কোনো দিন ?
” দেখেছি তো ! হাজার বার দেখেছি !
” তবে ?
” হাজার বার হাজার রুপে দেখেছি তোমায় ! এক রুপের সাথে আরেক রুপের সাদৃশ্য এতো কম কেনো ?
দেয়ালের কাছ থেকে সরে আসলো মিহি । বললো চুল উড়িয়ে ভাব নিয়ে…
” কারন আমি নাগিন !
ইচ্ছাধারী নাগিন হুঁ মে… যখন যেটা ইচ্ছে হয় , তখন সেই রুপ ধারণ করি আমি । বুঝলেন ! তাই মিল কম ! হাহহহ্……
রাফিও ওর পিছু পিছু সরে আসলো ।
” আচ্ছা !
” ইয়েস ! এবার বলুন আমায় কেমন লাগছে ?
নিজেকে দেখিয়ে প্রশ্ন করলো মিহি । রাফি আগা গোড়া দেখলো মিহি কে । চিবুক চুলকে এগিয়ে এসে আবার হেঁচকা টানে মিহিকে নিজের কাছে হুমড়ি খেয়ে ফেললো ।
ভড়কায় মিহি । বরাবর রাফির স্পর্শে কম্পন ওঠে শরীরে । মিহি ওষ্ঠ ভেজালো । রাফি কে ভালোভাবে দেখলো এবার । মিহির সাথে ম্যাচ করে গাঢ় সবুজ রঙের পাঞ্জাবি পড়েছে রাফি । পাঞ্জাবির বোতাম লাগানো নেই একটাও । এঁটে রাখা চুল থেকে কয়েকটা চুল ছড়িয়ে পড়েছে কপালে । ঠোঁটের কোণা কামড়ে ধরে মিহি কে সেই অদ্ভুত দৃষ্টিতে দেখছে রাফি । প্রথম বার অস্বস্তি না হলেও এবার ভীষণ অস্বস্তিতে পড়লো মিহি । আচমকা চোখ জোড়া আটকে যাচ্ছে রাফির উপর । তবে তাকিয়ে থাকাও দায় , রাফির মোহময় দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলতেই শ্বাস প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যাচ্ছে । মিহি টেনে হিচড়ে চোখ নামালো । ঢোক গিলে বললো নিচু স্বরে…
” আজকাল কেমন যেন হয়ে যাচ্ছেন ! টানা টানি , চিপকা চিপকি করেন শুধু !
রাফি ওর কথায় প্রতিক্রিয়া দেখালো না । আবেশিত কন্ঠে বলল….
” পাঞ্জাবির বাটান গুলো লাগিয়ে দাও !
সচকিতে চায় মিহি ! প্রশ্ন করে….
” আমি ?
” হুঁ…
নিচ থেকে সোরগোল ভেসে আসছে । এক্ষুনি বেমালুম ভুলে গেছে মিহি কোন কাজে এদিকে এসেছিল । ও তো রাবেয়া চৌধুরীর ঘরে যাচ্ছিল । মিহি বললো চোখ তুলে…
” ছাড়ুন.. কাজ আছে আমার !
” আমার কাজ করে দাও আগে !
” নিজের কাজ নিজে করুন ! আমার সাজগোজ এলোমেলো করে দিলেন । ছাড়ুন…
” আগে লাগিয়ে দাও !
মিহি চোখ কুঁচকে ঝট পট বোতাম লাগিয়ে দিলো । ততক্ষণ চেয়ে দেখলো রাফি । মিহি কাজ সেরে চোখ তুলতেই চোখাচোখি হলো । অমনি এক হাতে মিহির কোমর ছেড়ে হাতখানা মিহির গালে রাখলো । কাঁপলো মিহি । হীমেল স্বরে বললো রাফি…
” এই গালে সেদিন মেরেছিলাম, না ? ব্যাথা পেয়েছিলে খুব ?
মিহি ঠোঁট উল্টায় । অভিমানী হয়ে বলে…
” দুই গালেই মেরেছিলেন !
” ব্যাথা পেয়েছিলে ?
” মারলে ব্যাথা পাবো না ? জীবনে কোনদিন কারোর মার খাই নি ! আপনি প্রথম , যে আমাকে আঘাত করেছে ! কি শক্ত হাত আপনার । আমার নরম গাল দুটো শক্ত মারে ঝালাপালা করে দিয়েছিলেন একদম ।
” আবার সরি , মারতে চাই নি সেদিন ! ভুল করে হাত উঠে গেছিল । খুব লেগেছিল না ? হাত গুলো একটু বেশিই শক্ত । তবে ঠোঁট নরম আছে ,আদর করে দেই একটু ?
মিহি চোখ গোল গোল করে তাকায় । ঝাড়া মেরে দূরে ঠেলে রাফি কে….
” সরুন অভদ্র লোক । সবসময় এসব মাথায় ঘোরে ? আপনাকে ভালো ভেবেছিলাম আমি…
রাফি স্বেচ্ছায় দূরে সরে আসলো অস্বস্তি বুঝে । নয়তো ওকে সরানো কার সাধ্যি ?
মিহি দূরত্ব বাড়িয়েছে । রাফি পেছনে হাত গুটিয়ে একটু হেলে বললো ভ্রু যুগল জড়ো করে…
” আমি খারাপ ?
” ভালো নন !
” তার মানে খারাপ ! তা খারাপ হওয়ার মতো কি করলাম ?
” এই যে , একটা অচেনা অজানা মেয়েকে এভাবে নিজের ঘরে টেনে আনলেন !
রাফি প্রগাঢ় হয়ে বললো…
” আবার সেই অচেনা অজানা ?
হাসে মিহি ।
” জ্বি ! কেউ একজন আমাকে বলেছিল সে নাকি অচেনা অজানা মেয়েদের সাথে কথা বলে না । হুহহহহ , আমাকে ইগনোর করেছিল সে । আর সেই একজন তো আরো বলেছিল , যেনো তার ঘরে আমি আর না আসি ! সে নাকি ডিরেক্ট বাসর ঘরে নিয়ে আসবে আমাকে ! তো টানাটানি করে এখন নিয়ে আসলো কেনো ? বাড়ি ভর্তি লোক , যদি কেউ দেখে ফেলে ?
” আচ্ছা , তাহলে সেই একজনের মত অনুযায়ী আপনার ডিরেক্ট বাসর ঘরে আসার ইচ্ছে ছিলো বুঝি ? বাই দা ওয়ে , এটা তো ঘর । যদি এখন বাসর করি , তাহলে বাসর ঘর নামকরণ করা হবে এই ঘরের । যেহেতু ভুল করেই ফেলেছি , শুধরে তো নিতে হবে নাকি ? আর আপনার আবার বেবি প্রয়োজন , তো শুরু করা যাক ?
” ছিঃ ,, কি নির্লজ্জ কথা বার্তা । দূরে যান বেহায়া লোক ।
নাক সিকটে চেঁচিয়ে উঠলো মিহি । লাফিয়ে পিছিয়ে গেল কয়েক ধাপ ।
রাফি বাঁকা হেসে এক পা এক পা করে এগোলো ।
” পেছাচ্ছেন কেনো ম্যাডাম ? আসুন..
” দেখুন , বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু ! আপনাকে আসলেই ভালো ভেবেছিলাম আমি । কিন্তু আপনি তো….
নিচে চেঁচামেচির রোল পড়েছে । রুহির সাজগোজ শেষ । ছাদে মেহেন্দির আয়োজনে মেতে উঠেছে সবাই । মিহির দেখা নেই । মেহজাবিনের ডাক ভেসে আসছে । মিহি কে ডাকছে সে । রুহি ওকে ছাড়া ছাদে উঠবে না ।
মেহজাবিনের ডাক ভেসে আসতেই দরজার দিকে তাকায় মিহি । দরজাতেও কড়া নাড়ে কেউ । পুরুষালি কন্ঠ….
” রাফি , ব্রো ? দরজা আটকে কি করছিস ভেতরে ? উপরে যাবি না ? মেয়েদের মতো মেকআপ-সেকআপ করছিস নাকি তুইও ?
ইভানের কন্ঠস্বর । রাফি প্রতিক্রিয়া হীন হয়েই গলা উঁচিয়ে বললো…
” ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং করছি আমি ! ফ্যামিলি প্ল্যানিং , তুই ওসব বুঝবি না । তুই যা আমি আসছি ।
ইভান সরলো দরজা থেকে । সেই কখন রেডি হয়েছে ও । রেডি হয়ে নিচে নেমেছিল । গার্ডেনে কতক্ষন সময় কাটিয়ে উপরে উঠলো আবার । তবুও রাফির পাত্তা নেই । দরজা আটকে কি করছে কে জানে ?
মেহজাবিন মিহি কে ডাকতে ডাকতে নিচে নেমেছে । ওর ডাক আর শোনা যাচ্ছে না । মিহি মুখখানা করুন করে বললো..
” দেখুন পাখির বড় ভাইয়া , ভালো হয়ে যান । কেউ দেখে ফেলবে , আমি যাই !
” দেখবে না কেউ , আমার ঘরে কেউ আসে না ।
ফিচেল স্বর রাফির । মিহি কটমটিয়ে উঠলো । রাফির বাঁকা চাহনি দেখে পাশ কাটিয়ে ছুটলো দরজার দিকে । চেঁচিয়ে বললো….
” আমিও আর আসবো না কোনো দিন । থাকুন আপনি অসভ্য লোক….
বাঁধা দিলো না রাফি , বেশিই বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে । মিহি ছুটে দরজা খুলল ঠাস করে । পেছন ফিরে জিভ দেখিয়ে ভেংচি কাটলো রাফি কে । অতঃপর ভেতর থেকে গলা বাড়িয়ে বাইরে টা দেখলো সতর্কতার সহিত । নিচে সবাই , নয়তো ছাদে । আপাতত এখানে কেউ নেই । হাঁফ ছেড়ে তড়িঘড়ি করে ঘর থেকে বেরোলো মিহি । এলোমেলো চুল গুলো হাত দিয়ে গুছিয়ে নিতে নিতে সিঁড়ির দিকে এগোলো । রুহি আর মেহজাবিন ওকে ডাকতে ডাকতে নিচে নেমেছে । নত মাথায় নিচে নামার জন্য সিঁড়িতে পা বাড়ালো সে । কোনো দিকে খেয়াল দেয় নি আর । এদিকে রুহির ঘরের দরজার সামনে থমকে দাঁড়িয়ে মিহি কে অবাক লোচনে দেখছে লিনা । মিহি রাফির ঘর থেকে বেরোলো ? তাও দরজা আটকানো ছিল এতক্ষন ! কি করছিলো ওরা ? আচানক আনচান করে উঠলো লিনা ।
অবাধ্য অযাচিত ধারনা সৃষ্টি হলো মনে । সাজগোজ করা ফর্সা সুন্দর চেহারা খানায় আঁধার নামলো ।
নিচে সবাই উপস্থিত । ছাদে উঠেছে একদল । মিহি নিচে নামতেই রুহি চেপে ধরলো….
” পাখি , কোথায় গেছিলি ? কখন থেকে খুঁজছি ?
মিহি আমতা স্বরে উত্তর করলো…
” ওয়াশ রুম ।
পেছন থেকে উত্তর টা শুনে ঢোক গিললো লিনা । ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে সে । রাফি পাঞ্জাবির হাতা গোটাতে গোটাতে ওর পিছু পিছু নিচে নামছে । মিহির দিকে সম্পুর্ন ধ্যান থাকায় অসাবধানতাবশত সিঁড়িতে পা উপর নিচ হয়ে পড়তেই পড়ার উপক্রম হলো লিনার । তৎক্ষণাৎ সিঁড়ির রেলিং ধরে নিজেকে সামলে নিলো সে । মুখ থেকে অস্ফুটে মৃদু আর্তনাদ বেরিয়েছে । সবাই চকিতে তাকিয়েছে ওর দিকে । পেছনে রাফি আসতে আসতে বলে উঠলো….
” আরে লিনা , দেখে ! এক্ষুনি পড়ে যাচ্ছিলে । ঠিক আছো ?
পিছু ফিরলো লিনা । রাফি কে দেখে মুচকি হেসে উত্তর করলো…
” জ্বি ! আমি ঠিক আছি …
” দেখে হাঁটবি তো । ধীরে আয়….
বলেই লিনার মা লতা বেগম মেয়েকে ছেড়ে মিহির দিকে মনযোগ দিলেন । মিহির সাথে কথাই বলা হয় নি । ব্যাস্ত মিহি, এদিক ওদিক ছোটাছুটি করেছে সারাদিন । কথা বলার ফুরসৎ মেলে নি । আসার পর একবার দুই একটা কথা হয়েছে । আর হয় নি । মিহির পরিচয় সম্পর্কে অবগত সকলে । আজ নয় , সেই পরিচয় মেলার পর থেকেই । প্রথমে সবাই মূক ছিলো । মানিয়েছে ধীরে ধীরে ।
লতা বেগম খানিক হাসলেন মিহি কে দেখে । মেহজাবিন কেও দেখলেন এক পলক । মিহি আর মেহজাবিনের চেহারার মিল খুব কম । মিল থাকলে হয়তো আগে সুবিধা হতো ।
লতা বেগম একটু এগিয়ে মিহির গাল আগলে বললেন…
” খুব সুন্দর লাগছে তোকে ! আগে যদি জানতাম তুই আমাদের মিফতাহুল তাহলে কতই না ভালো হতো বল ! দেখ তোর লিনা আপু , চিনিস তো ওকে । তোর পরিচয় জানার পর থেকেই এ বাড়িতে আসার বায়না ধরেছে সে । বোন বলে কথা , একটা টান তো আছেই ।
মিহি লিনার দিকে তাকাতেই জোর পূর্বক হাসলো লিনা । মিহি ও তাই । লিনার পাশে রাফি , যেটা সহ্য হলো না ।
মিহি অবলিলায় চোখ সরিয়ে নিল । লতা বেগমের স্নেহ টুকু ভালো লাগলো ওর কাছে । লতা বেগমের দিকে তাকিয়ে এক গাল হাসলো ও । হেনা বেগম রান্না ঘর থেকে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে তাড়া দিলেন…
” এখনো এখানে দাঁড়িয়ে আছিস তোরা ? অনুষ্ঠান আরো কখন শুরু করবি ? সময় কি বসে থাকবে তোদের জন্য ? হেলদোল নেই ? সন্ধ্যা পেরিয়েছে খেয়াল আছে ? সবকিছু কেমন এলোমেলো হয়ে আছে ।
আর রাফি , তোর দেখি দেখা মিলছে না ? বোনের বিয়ে , হুস আছে ? সব সামলানোর দায়িত্ব কার ? তুই দেখি হাত গুটিয়ে বাবু সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছিস । ইভান সেই কখন থেকে তোর পাত্তা পাচ্ছে না । ছেলেটা একা একা ছাদের ডেকরেশন চেক করলো আবার । সবটা নিজ দায়িত্বে গুছিয়ে নিলো । আর তুই ?
সবাই এবার মনযোগ দিলো রাফির দিকে । হালিমা বেগম রাফি কে আগাগোড়া পরখ করলেন । মিহি কে আর এক পলক দেখে বললেন…
” আরে বাহ্ রাফি…
তুমি আর মিহি দেখি সেইম সেইম ! বেশ লাগছে কিন্তু দুই ভাই বোন কে ! তাই না আপা ?
বিষম খেয়ে কেশে উঠলো রাফি । ফিক করে ঠোঁট চেপে হেসে উঠলো রুহি আর মেহজাবিন । রুহি গলা ঝেড়ে বললো অভিমানী স্বরে…
” আমাকে তো কেউ পাত্তাই দিচ্ছে না । আমার যে বিয়ে কারোর খেয়াল আছে । আমাকে কেমন লাগছে , কেউ এক বার ও বললো না ।
হাসলো সকলে ।
রাশেদ রায়হান চৌধুরী ঘর ছাড়েন নি আজ । হাতে গোনা দুই একবার বেরিয়েছিলেন বাইরে । ঘরকেই বেছে নিয়েছেন আজ । মুখখানা শুকনো হয়ে এসেছে । করিডোর থেকে নিচে ছেলে মেয়েদের দেখে দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন তিনি । আহত স্থির চোখে রুহির পানে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন । অতঃপর পুনরায় দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে আসলো বুক চিরে । কেমন শূন্য হয়ে আসছে বুকের মাঝে ।
বেশিক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেন না তিনি । ঘরের দিকে এগোলেন বড় ধাপ ফেলে ।
হেনা বেগমের নজর এড়াননি তিনি । হেনা বেগম তার থেকে চোখ সরিয়ে রুহির দিকে এগোলেন । মেয়ের মুখ আগলে চুমু খেলেন কপালে । বললেন ধরা গলায়…
” খুব সুন্দর লাগছে আমার মেয়েকে । একেবারে টুকটুকে রাজকন্যা । হয়েছে ? আরো কিছু বলবো ? সময় পেরিয়ে যাচ্ছে মা , হাতে মেহেন্দি পড়বি তো ?
রাফি এগিয়ে রুহির কাঁধ জড়িয়ে ধরলো ।
” আমার বোনকে সবথেকে বেশি সুন্দর লাগছে । শোওস্টপার তো তুই….
এখন চল ,
রঙ বেরঙের ফেইরি লাইট ছাদে ।
গান চালানো হয়েছে অল্প সাউন্ডে । মেহমানদের ছোট ছোট বাচ্চার সাথে সেই গানের তালে তালে লাফালাফি করছে জেনি । মেহজাবিনের নড়া চড়া বারণ । মাহিম কড়া পাহারা দিয়ে রেখেছে ওকে । ওর শশুর বাড়ি থেকে আজ কেউ আসে নি । কাল আসবে । মেহেন্দি আর্টিস্ট এসেছে । স্টেজের মাঝ বরাবর সোফায় বসে রুহি । দু হাতে দুজন মেহেদী পড়িয়ে দিচ্ছে ।
পাশেই মেহজাবিন বসে । মাহিম এক গ্লাস জুস নিয়ে এসে দাঁড়ালো । মেহজাবিনের দিকে গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বললো ভারী গলায়….
” খেয়ে নাও !
করুন চোখে চায় মেহজাবিন । এসব দেখলেই গা গুলিয়ে আসে । সকাল থেকে কিছুই মুখে রোচে নি । জোরপূর্বক গলা দিয়ে নামালে পরমুহূর্তে বমি করে ফেলেছে ।
আর এই লোক ওর খাওয়ার পিছনেই লেগে থাকে সবসময় । মেহজাবিন বললো কন্ঠ খাদে নামিয়ে…
” আমি খাবো না । দেখো,এসব দেখেই কেমন গা শিউরে উঠছে । বমি পাচ্ছে আমার । আমার বমি করে ফেলবো নয়তো ।
” করলে করবে , তাই বলে খাবে না ? শরীরের দিকে খেয়াল আছে ? আর একজন যে তোমার মাঝে বেড়ে উঠছে , তার কথা ভেবে তো খেতে হবে । খেয়ে নাও প্লিজ । ভারী কিছু নয় , শুধু জুসটা…
না করতে পারলো না মেহজাবিন । মাহিমের নরম স্বর বরাবরই হৃদয়ে নাড়া দেয় ওর । এভাবে বললে কি আর উপেক্ষা করা যায় ? কাঁচুমাচু মুখে গ্লাস হাতে তুললো সে । এক চুমুক বসিয়ে মুখ কুঁচকালো ।
পাশে বসলো মাহিম । ধীরে বললো…
” খেয়ে নাও প্লিজ ! না খেলে কি হবে বলো ?
মেহেন্দি আর্টিস্ট মেয়ে দুটো আড়চোখে ওদের দেখে চোখের ইশারায় একে অপরের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসলো ।
মিহি ও আপ্লুত হয়ে দেখলো । হাসলো মুগ্ধ ।
এক দেখায় পর্ব ৫৬
ইভান আর রাফি বেরিয়েছে । উদ্দেশ্য শান্তর কাছে যাওয়া । ফুলে ফেঁপে গেছে শান্ত । রাফি কে হাজার বার বলেছে সে , যেনো রাফি ওর পক্ষে থাকে । অন্তত একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে । রাফি ওর কথায় সায় দিয়ে ছুটেছে ওর কাছে । আজ ঐ বাড়িতে আয়োজন নেই । শান্ত ও বেরোতে পারছে না । বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না ওকে ।
