Home এক দেখায় এক দেখায় পর্ব ৬৬

এক দেখায় পর্ব ৬৬

এক দেখায় পর্ব ৬৬
সুরভী আক্তার

আকাশের দিকে তাকায় মিহি ।
আর রাফি তাকায় মিহির দিকে । তাকিয়েই ডাকে…
“ ব্লোসোম ?
“ হুম !
“ আমাকে একবার হাগ করবে প্লিজ !
ভীষণ কাতর শোনায় আবদার টুকু । অন্য সময় হলে রাফি হয়তো পারমিশনের অপেক্ষায় থাকতো না । অধিকার ফলাতো টেনে নিয়ে । তবে এখন ভিন্ন !
মিহি সহসা তাকালো রাফির দিকে । মুখখানা কেমন মলিন লাগছে ‌। চোখে অতৃপ্ততা । তৃষ্ণা মারাত্মক ‌। ভড়কায় মিহি ‌। কোমল করে চাহনি । কাছ ঘেঁষে মোলায়েম কন্ঠে শুধায়…

“ কি হয়েছে আপনার ?
“ আগে জড়িয়ে ধরো , পরে বলছি !
মিহি ইতস্তত হলো ‌।
ঠোঁট ভিজিয়ে রেলিংয়ের দিকে পিছিয়ে গেলো । চোখ নামিয়ে নিলো কুন্ঠায় । রাফি বললো অবস্থা বুঝে…
“ আমি কিন্তু তোমাকে আজ জোর করবো না । জড়িয়েও ধরবো না । ধরতে হবে তোমায় । ছোট্ট হাত দুটো দিয়ে আমাকে আঁকড়ে ধরতে হবে । ধরো…
আমি অপেক্ষায় আছি ।
মিহি কুন্ঠা ঠেলে দূরে সরায় ।
চোখ নামিয়ে ধীরে করে এগোয় রাফির দিকে । অতি সামান্য দূরত্ব রেখে আলতো করে জড়িয়ে ধরে রাফি কে । এক হাতে পেঁচিয়ে নেয় রাফি কে । অন্য হাতে রাফির উদরের পাশের টিশার্টের অংশ খামচে ধরে । খুব সন্তর্পণে মাথাটা এলিয়ে দেয় রাফির বুকে ‌। সেই চিরচেনা আকর্ষণীয় পুরুষালি বডি স্মেল নাকে আসতেই চোখ বুজে আসে মিহির । ওর আলতো করে জড়িয়ে ধরা পছন্দ হলো না রাফির । সে নিজের বলা কথা ভেঙে দুহাতে পেঁচিয়ে নিলো মিহি কে । চোখ বুজলো । তৃপ্ত শ্বাস ফেললো । দীর্ঘ শ্বাসে বলল….

“ ভালোবাসি পরী , ভীষণ ভালোবাসি তোকে !
যদি সেদিন হারিয়ে না যেতি , তাহলে হয়তো তোকে আজ এভাবে ভালোবাসা হতো না । মেহজাবিনের অনুরূপ হয়ে থাকতি আমার জীবনে । কিন্তু এখন ? আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান কেউ টাই তুই ! যেভাবে এসেছিস , ঝড়ের বেগে ভাসিয়ে নিয়ে গেছিস আমায় । খুব ভালোবেসে ফেলেছি তোকে ।
তোকে হারিয়ে দ্বিতীয় বার পাগল প্রায় হয়ে গেছিলাম আমি ‌। প্রথম বার পাগল হয়েছিলাম আমার সেই ছোট্ট পরী টাকে হারিয়ে । আমি ওকে হারানোটা সেই বয়সেই মেনে নিতে পারি নি । বয়সটা তো একসময় কাটিয়ে উঠেছি । কিন্তু প্রাপ্ত বয়স , প্রাপ্ত বয়সে এসে তোকে ফিরে পেলাম অন্য রুপে । ভালোবেসে ফেললাম সেই রুপেই । কে জানতো তুই ঠিক সেই পরী ?
তোকে নিজের করে পাওয়ার আগেই দ্বিতীয় বার হারালাম । এবার উন্মাদ হয়ে গেলাম । খুব কষ্ট দিয়েছিস আমায় তুই । দু-দুবার তোর বিরহে পুড়িয়েছিস ‌। কাঁদিয়েছিস আমায় ।
কেমন তুই ?
মিহি স্তব্ধ হয়ে শুনলো । বন্ধ চোখে কথা গুলো আওড়িয়ে চোখ খুললো রাফি । হাতের বাঁধন দৃঢ় করলো আরো । মিহির সিঁথিতে গাঢ় চুমু এঁকে বললো আবার….

“ আর কখনো কষ্ট দিস না প্লিজ । তোর বিরহ সয় না আমার । আর কখনো ছেড়ে যাস না আমায় । এভাবেই সারাজীবন জড়িয়ে রাখিস নিজের সাথে । একটুও কষ্ট দেবো না তোকে । খুব ভালোবাসবো । রুজান রাফি চৌধুরী জীবনে কাউকে ভালোবেসে নি , তার সব ভালোবাসা একত্রিত হয়ে লুকানো আছে এখনো । সবটা তোকে দেবো । তুই শুধু আমার হয়ে থাকিস পরী । আমি যে ভীষণ ভালোবাসি তোকে …
মিহি শুল্ক ঢোক গেলে । ধীরে মাথা তোলার চেষ্টা করে ‌। রাফির শক্ত বাঁধন থেকে একটু আলগা করতে পারে নিজেকে । চোখ তুলে রাফির মুখ পানে তাকায় । রাফির দূর্বোধ্য শুকনো ভঙ্গিমা দেখে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে ক্ষিণ স্বরে….
“ কি হয়েছে আপনার ? এভাবে কথা বলছেন কেনো ?
“ আর কষ্ট দিবি আমায় ?
“ আমি আপনাকে খুব কষ্ট দিয়েছি ?
“ ভীষণ পুড়িয়েছিস । ঝলসে দিয়েছিস ।
“ আমাকে তুই করে বলছেন ?
“ আমি আমার পরীকে তুই করেই বলতাম !
“ এই যে একটু আগে বললেন আমি ,মানে আপনার পরী হারিয়ে গিয়ে ভালোই হয়েছিল । যদি না হারাতো , তাহলে হয়তো সেই পরী কে এভাবে ভালোবাসাতেন না ? যদি না হারাতাম তখন , তাহলে আজ আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকতো , তাই না ?
ধীরে দৃষ্টি পাত করে রাফি ‌। হাসে শীতল । দুহাতে মুখ আগলে কপালে কপাল ঠেকায় । শ্বাস ঝেড়ে চোখ বুজে নেয় । বলতে লাগে….

“ যার থাকার সেই আছে । যে আসার সেই এসেছে । হারিয়েছিলি তো ফিরে আসার জন্যই । তাইতো এসেছিস আমার ব্লোসোম রুপে ‌। আমার আপনি হয়ে । আমার এই আপনি টাকে খুব বেশি ভালোবাসি আমি । তুই থেকে এক পর্যায়ের আপনি , অতঃপর এখন তুমি । শুধু তুমি ।
ভীষণ ভালোবাসি তোমায়…
তুমি বলেছিলে না, সবার মতো তুমিও তোমার জীবনে বেস্ট কাউকে চাও । যার কাছে তুমিই হবে ফার্স্ট প্রায়োরিটি । আজ শুনে রাখো , আমি সেই, যার কাছে তুমিই একমাত্র মেয়ে হিসেবে ফার্স্ট প্রায়োরিটি । আমার সর্বোচ্চ মূল্যটা শুধু তোমাকেই ঘিরে ।
বলেছিলে তুমি আহামরি রুপের অধিকারী নও , কিন্তু তুমি জানো না , আমার চোখে দেখা সবচেয়ে সুন্দরীতমা নারী তুমি । আমার চোখের বড্ড প্রশান্তি তুমি । হতে চেয়েছিলে তো কারোর চোখের প্রশান্তি । হয়েছো আমার । হাজারো রুপবতী নারী সামনে থাকলেও যার দৃষ্টি শুধু তার চোখের প্রশান্তির উপরই থাকবে । যে তোমার থেকে বেস্ট কাউকে খুঁজতে যাবে না ‌। আমৃত্যু পর্যন্ত শুধু তোমাকেই খুঁজবে । তুমি তোমার জীবনে কাউকে প্রেমিক হিসেবে চাও নি , তাই আমিও প্রেমিক হিসেবে আসি নি তোমার জীবনে । এসেছি রাব্বাতুল বাইত হিসেবে । যেভাবে চেয়েছিলে , ঠিক সেভাবেই হালাল হিসেবে এসেছি । আমার করা একটা স্পর্শ ও হারাম ছিলো না ।

তুমি আরো বলেছিলে , তুমি কারোর জীবনে প্রথম নারী হতে পারবে কি না জানো না , তবে শেষ এবং শ্রেষ্ঠ নারী হতে চাও কারোর জীবনে । আবার শুনে নাও , আমার জীবনে,এই রুজান রাফি চৌধুরীর জীবনে প্রথম, শেষ, এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নারীই ছিলে তুমি । যে শুধু তোমার জন্যই এসেছে , তার জীবনে আর অন্য কেউ নেই আর না কোনো দিন ছিলো । ভালোবেসে মস্তিষ্কের গোটা শহরটা সে তোমার নামেই লিখে দিয়েছে । যেখানে শুধু তুমিই আর তোমার রাজত্বই আছে । জেদ হয়েছো তুমি আমার , এটাই তো হতে চেয়েছিলে ? জেদ চেপে তোমাকে তোমার অজান্তেই নিজের করে নিয়েছি আমি । আবদ্ধ করেছি আমার শক্ত হাতের বাঁধনে । আমার কাছে কি আছে জানি না , তবে তোমাকে তোমার মতো করে ভালোবেসে আগলে রাখার জন্য একটা মন অবশ্যই আছে । মেয়েরা তো যত্নে পাগল, চেয়েছিলে তো যত্ন ? দেবো , সব যত্ন দেবো , সব ভালোবাসা দেবো , খুব করে আগলে রাখবো । যতনে বেঁধে রাখবো । ভীষণ ভালোবাসবো । সবটা জুড়ে শুধু তুমিই থাকবে ‌। যেমনটা চাইবে তেমন টাই হবে । নিজের জীবন সঙ্গী কে যেমনটা চেয়েছিলে , আমি তেমনটাই হবো । কারনআমি তোমাকে ভালোবাসি । খুব ভালোবাসি ব্লোসোম , ভীষণ ভীষণ ভীষণ ভালোবাসি । আই লাভ ইউ…

কথা গুলো খেয়ালে শেষ করে চোখ বুজেই গাঢ় চুমু আঁকে মিহির কপালে । চোখ বুজে নেয় মিহি । ফুঁপিয়ে ওঠে । তড়িতে ভড়কে তাকায় রাফি । চাঁদের আলোয় মিহির চক্ষু জোড়ার ঘন পাপড়িতে মুক্তোর দানার ন্যায় চিকচিকে জল দেখে আঁতকে ওঠে । ব্যাতিব্যস্ত হয়ে বলে ভড়কানো গলায়….
“ মিহি , কি হলো । কাঁদছো কেনো ? এইই….
ফের ফুঁপিয়ে উঠলো মিহি । শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো রাফি কে । রাফি ওর কথাগুলো মনে রেখেছে ? সেদিন ও এতো কিছু বলে ফেলেছিল নিজ খেয়ালে । নিজের জীবন সঙ্গী সম্পর্কে অনুভুতি প্রকাশ করেছিল ‌। আর রাফি সবটা শুনেছিল ? মনেও রেখেছে ?
মিহি ক্রন্দনরত কন্ঠে অস্পষ্টে আওড়ালো বিড়বিড় করে….
“ আমিও ভালোবাসি । কতটা জানি না । তবে জানি , আপনার থেকে কম । আপনার মতো করে আপনাকে ভালোবাসতে পেরেছি কি না জানি না ।
“ আমার মতো করে ভালোবাসার প্রয়োজন নেই ‌। শুধু এক ফোঁটা ভালোবেসো আমায় , তাতেই চলবে । বাকি ভালোবাসা টুকু আমি পুষিয়ে দেবো ।
মিহি মৃদু হাসলো ।

রাফি ওর হাসিতে তাল মেলায় । দুহাতের তালুতে ভেজা চোখ মুছিয়ে দেয় মিহির । রেলিং ঘেঁষে পাশাপাশি কাঁধ জড়িয়ে দাঁড়ায় দু’জনে । তাকায় ঐ আলোকিত আসমানের পানে । রাফি আড়চোখে মিহির পানে তাকায় খানিক বাদ । মিহির ভেজা পাপড়ি যুগল দেখে আবার । মিহি কে নিজের দিকে ঘোরায় সে । ঢোক গিলে একটু ঝুঁকে ওর চোখের পাপড়ি দ্বয়ে ঠোঁট ছোঁয়ায় । সুপ্ত অনুভূতিতে চোখ বুজে নেয় মিহি । রাফি ঠোঁট সরিয়ে গালের একপাশে ফের স্পর্শ আঁকে । মৃদু স্বরে গেয়ে ওঠে…..
“ তোর বর্ষা চোখে ঝড়তে দেবো না বৃষ্টি ….
তুই জাগবি সারারাত, আমিইই আসবো হঠাৎ ।
তোর শুকনো ঠোঁটে , ফোটাবো প্রেমের হাসিইই…
তোকে প্রাণের চেয়ে বড় , বেশিই ভালোবাসি…
তোকে প্রাণের চেয়ে বড় , বেশিই ভালোবাসি…

আজ সকাল থেকে পুনরায় বাড়ি মেতে উঠেছে । বিয়ে বলে কথা । একের পর এক ধুমধাম চলছে । রাশেদ রায়হান চৌধুরীর আদেশ মোতাবেক দুপুরের আগে আগে গার্ডেনের পুরো ডেকরেশন চেঞ্জ করা হয়েছে । গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়েছে সেখানে । বর বউ যেহেতু এক বাড়িতে , সেহেতু আয়জনেও ডাবল ধামাকা । বাড়িয়ে করা হচ্ছে সবকিছু । বাড়ি জুড়ে এলাহি আয়োজন । আকস্মিক সবকিছু ঘটলেও এসবের পরিকল্পনা ছিলো অনেক আগে থেকেই ‌। তাই কমতি, ত্রুটি বা বাঁধা পড়ছে না কোনো দিক থেকেই । রাশেদ রায়হান চৌধুরী এসবে যথেষ্ট তৎপর । তার একমাত্র ছেলের বিয়ে , তাও আবার বাড়ির মেয়ের সাথেই । এক বাড়িতে হলেও তবুও খামতি নেই কোনো কিছুতে ‌। অতিথিরা আলাদা কেউ নয় ‌।

সন্ধ্যার পর পর দু’জনের গায়ে হলুদ ছোঁয়ানো হবে । বিকেল থেকেই হুটোপাটি পড়েছে । তবে রাফির খোঁজ নেই সেই বিকেল থেকেই । এদিকে সন্ধ্যা নামতে চললো । সবকিছু তৈরি । মিহিও প্রায় রেডি । শুধু অনুষ্ঠান শুরু করা বাকি । রাফির জন্য অপেক্ষায় আছে সবাই । রাশেদ রায়হান চৌধুরী বেশ কবার ফোন করলেন ছেলে কে । ফোনে পাওয়া গেলো না রাফি কে । মিহিও চিন্তিত হয়ে নিজের ফোন থেকে রাফির ফোনে ফোন লাগালো সাজগোজের মাঝে । সেও ব্যর্থ হলো । সাজগোজ শেষ মিহির । কত সুন্দর করে সেজেছে আজ । শুধু রুজান রাফি চৌধুরীর জন্য । কিন্তু সেই রুজান রাফি চৌধুরীর পাত্তাই নেই ।
শান্ত নিজেও জানে না রাফি কোথায় । জানবেই বা কি করে ? সারাদিন আজ রুহির পেছনে ঘুরঘুর করেছে সে । রুহি কে একলা বাগে আনার চেষ্টা করেছে , ফন্দি কষেছে হাজার । কাল এই পাষন্ড মেয়ে ওকে বহুত জ্বালিয়েছে । তার শোধ তুলতে হবে না ?

রুহিরা সবাই তৈরি । আঁধার নামছে । রাশেদ রায়হান চৌধুরী পায়চারি করছেন ড্রইং রুমে । ছেলে কে ফোনে না পেয়ে চিন্তিত তিনি ‌। রুহি আর মেহজাবিন মিহি কে নিচে নামালো । সবাই নিচে উপস্থিত । মিহির দিকে চোখ আটকালো সকলের । সাবিনা বেগম চোখ ভরে দেখলেন নিজের মেয়েকে । রাবেয়া চৌধুরী সকাল থেকেই স্বাভাবিক । সবার সাথে নিচেই ছিলেন তিনি । অস্বাভাবিকতা নেই তার মাঝে । রাফির সাথে এই মেয়েটার বিয়ে , এই খবর শুনে তার থেকে বেশি খুশি আর কেউ হয় নি বোধহয় । খুশিতে গদগদ তিনি । সবার সাথে মিশছেন আজ । মিহি কে ওভাবে সাজগোজ করা অবস্থায় দেখে ছুটে আসলেন তিনি ….
“ কি রে মেয়ে , তোকে তো খুব সুন্দর লাগছে । আমার রাফির সাথে বিয়ে হবে তোর । কিন্তু রাফি কোথায় ? কখন থেকে খুঁজছি ওকে ! দেখেছিস ও কোথায় ? পাচ্ছি না ওকে !
মিহির হাসি মুখখানা ফিকে হলো অমনি । রাফি আসে নি এখনো ? কোথায় সে ? এতোটা ইরেস্পনসিবল নয় সে ! তাহলে কোথায় রাফি । রাশেদ রায়হান চৌধুরীর দিকে তাকালো মিহি । হেনা বেগম বললেন স্বামী কে উদ্দেশ্য করে…..

“ রাফি কে ফোনে পান নি এখনো ?
তিনি নীরব থেকেই আশাহত উত্তর বোঝালেন । শান্ত আর ইভান সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছে । শান্ত কে দেখে শুধালেন রাশেদ রায়হান চৌধুরী….
“ শান্ত , রাফি কোথায় ? ওকে ফোনে পাচ্ছি না কেনো ? লেট হয়ে যাচ্ছে । কোথায় গেছে ও ?
শান্ত কপালে ভাঁজ ফেললো । সিরিয়াস ভঙ্গিতে উত্তর করলো স্বাভাবিক….
“ আমি তো জানি না বড় মামা । আমাকেও তো কিছু বলে নি রাফি । ইনফ্যাক্ট কখন বেরিয়েছে আমি দেখিও নি ।
মুখ কালো হয়ে আসলো সকলের । জুবায়ের চৌধুরী লাগাতার ফোন করেছেন এতক্ষণ । তিনি গার্ডেনে ছিলেন । এখন ভেতরে আসলেন । জানালেন তিনিও খোঁজ পাননি রাফির । রাফি এতোটা কেয়ার লেস নয় ‌। টাইমিং সেন্স আছে ওর । আর এই উপস্থিত মুহুর্তে হাজার দরকারি কাজ থাকলেও বাইরে যাওয়ার কথা নয় ওর ।
মিহি ভেতর ভেতর ছটফট করছে । খেই হারাচ্ছে । উদগ্রীব হয়ে পড়ছে । সবার এক হাল ।
সবার উদ্বিগ্নতার মাঝে কিছুক্ষণের মধ্যেই রাফির আগমন ঘটলো । সদর দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই সবাই চকিতে তাকালো সেদিকে । রাফি সবাইকে এক সাথে দেখে মৃদু হাসলো । সাথে আরো দুজন । মধ্যবয়স্ক এক দম্পতি । রাফির সাথে চেনা মুখ বাকি দুটোও । কপাল গুটালেন রাশেদ রায়হান চৌধুরী । চিন্তার বশে খানিক চড়া কন্ঠে বলে উঠলেন….

“ তোমার সেন্স কোথায় রাফি ? কতক্ষন ধরে ফোন করছি , খেয়াল আছে তোমার ? হুটহাট কোথায় গেছিলে । বাড়ি থেকে এই সময় বেরিয়েছো , কাউকে বলে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ টুকু ও করো নি ?
রাফি দাঁড়ালো । তারিফ মির্জা আর শাহিদা মির্জা,দুজন কে একপলক করে দেখে বললো..
“ আমি আঙ্কেল আর আন্টি কে আনতে গেছিলাম আব্বু ‌।
হেনা বেগম দুজন কে দেখে চমকালেন । আওড়ালেন…
“ সারফারাজ !!

রাফি নির্বিকার । যেন আগে কিছুই ঘটে নি । সারফারাজের মা বাবা কে নিয়ে এসেছে সে । রাশেদ রায়হান চৌধুরী জিভে অধর ভেজান । তারিফ মির্জা আর শাহিদা মির্জা অনেক বছর দেখলেন এ বাড়ির লোকদের । সবার কতটা পরিবর্তন এসেছে । এ বাড়ির লোকদের সাথে সম্পর্ক টা দূরত্বে থেকে থেকে ফিকে হয়ে গেছে । আগে কতই না মধুর সম্পর্ক ছিল এ বাড়ির লোকদের সাথে । সারফারাজ আর রাফি , দুজনের বদৌলতে দুই পরিবারের মধ্যে একটা গভীর সম্পর্ক ছিলো । কিন্তু এখন আর কিছুই নেই আগের মতো । তারিফ মির্জার যথেষ্ট বয়স হয়েছে । মেয়েকে হারিয়ে পাগল প্রায় হয়ে গেছিলেন শাহিদা মির্জা । পরিবারের অসময় কাটাতে সাফি তাদের নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল । যোগাযোগ হয় নি কারোর সাথেই । এমনকি রাফির সাথে ও না ।
তাদের ছেলে সারফারাজের সাথে যোগাযোগ নেই আজ বেশ কতদিন হলো । ছেলেটা হুটহাট কোথায় উধাও হয়ে কে জানে । এই কদিন রোজ দিনের একটা সময় বেছে রাফি দেখা করেছিল তাদের সাথে ‌।
তারা তাদের ছেলের পরিনতি সম্পর্কে অজ্ঞাত । তাদের ছেলে আর দুনিয়ায় নেই , এটা জানা নেই তাদের । বদ্ধ পুড়ে যাওয়া মিল থেকে একটা দগ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল । লাশের আইডেনটিটি , খোঁজ মেলে নি পরবর্তী দুদিন । মর্গে পড়ে ছিলো সেই পুড়ে যাওয়া দগ্ধ তাগড়া যুবকের লাশ । কেউ খোঁজ করতে আসে নি । সন্ধান পাওয়া যায় নি কোনো । অবশেষে তিন দিনের বেলায় দুই যুবক সেই লাশের আইডেনটিটি দিয়ে মর্গ থেকে লাশ উত্তোলন করেছিলো আইনি পদক্ষেপ মেনে ।

সেই লাশটা দাফন করা হয়েছে । লাশের চেহারা দেখার মতো অবস্থায় ছিলো না । দেহে বাকি ছিলো না কোনো কিছুই । একটা জেদ , আর একটা জীবন । একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ জীবন শেষ জেদ আর ভালোবাসার কাছে । রাফি প্রচন্ড অনুতপ্ত । সেদিন নিজের ভালোবাসাকে না দেখলে হয়তো ওকে বুকে পাথর চাপা দিয়ে এই লাশ টাকে কবরে চাপা দিতে হতো না ।
হাউমাউ করে আবার সেদিন বাচ্চাদের মতো দাপিয়ে কেঁদেছিলো রাফি । ওর জীবনের একটা অংশ ও নিজেই ধ্বংস করেছে । কেনো করলো সারফারাজ এমন ? কেনো ?
সারফারাজের শেষ কথাটা মেনেছে রাফি । রেখেছে ওর কথা । ওর বাবা মাকে দেখেছে । খেয়াল রেখেছে তাদের । রাফি তাদের বলে নি সারফারাজের কথা । বললে হয়তো তারা সইতে পারবেন না । মেয়েকে হারিয়ে একেই কাতর তারা । সারফারাজ ঠিকি বলেছিলো , সে রাফির সম্পর্কে কোনো প্রকার ভুল ধারণা হতে দেয় নি ওর বাবা মার মনে । এটা কেমন ছিলো ? বন্ধুত্ব ? সে নিজে তো ভুল বুঝেছিল রাফি কে । অথচ অন্যকে ভুল বুঝতে দেয় নি । রাফি বেশ অবাক হয়েছে এতে ।

আজ সেই একই ভাবে অবাক হলো বাকি সবাই । সারফারাজের সাথে পরিচয় থাকলেও ওর বাবা মাকে কখনো দেখেনি মিহি বা সাবিনা বেগম । তারা চিনলেন না এনাদের । রাফি পরিচয় করিয়ে দিতেই চমকালো দুই মা মেয়ে । রাশেদ রায়হান চৌধুরী পরিস্থিতি সামলালেন । স্বাভাবিক আচরণ করলেন তিনি ।
রাফি এখনো তৈরি নয় । সে উপরে উঠলো তৈরি হতে । ওঠার আগে পুরোপুরি দৃষ্টিতে পরখ করলো মিহি কে । ঠোঁট কামড়ে হেসে কিছু না বলেই ঘরে উঠলো রাফি ।
মিহি সবাইকে পাশ কাটিয়ে অগচরে সন্তর্পণে সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে রাফির পিছু ধরলো । ঘরে গিয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকেছে রাফি । মিহি ছটফটে মনে রাফির ঘরে ঢুকলো । অপেক্ষায় পায়চারি করলো ঘরে । রাফি বেরোতেই চকিতে তাকালো ওর দিকে । কম সময় নিয়ে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে রাফি । ইতিমধ্যেই দেরি হয়ে গেছে ।
সামনে থমথমে ভয়ার্ত মুখে মিহি কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রু জড়ো করলো রাফি । উন্মুক্ত পেশিবহুল শরীর । মিহি এক পলকেই চোখ সরিয়ে নিলো । চোখ নামিয়ে নিলো মেঝের দিকে । রাফি তা দেখে মুচকি হাসে । ভেজা চুল কপালে আঁচড়ে লেপ্টে আছে । টপাটপ পানি পড়ছে তা থেকে । ফর্সা সুঠাম শরীরে ফোঁটা ফোঁটা পানির বিন্দু কণা ‌। রাফি টাওয়েল দিয়ে মাথায় আলতো হাত চালালো । এগিয়ে আসলো মিহির দিকে ‌। মাথা নিচু করে খানিক ঝুঁকে মিহির নোয়ানো মুখখানা পরখ করলো । মিহির চিবুক ঠেকেছে গলায় ‌। রাফি তর্জনী দিয়ে চিবুক উঁচিয়ে ধরলো । ভারী সাজে সজ্জিত লালিত মুখখানা সম্পুর্ন দৃষ্টিতে পরখ করলো । ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে আবেশিত কন্ঠে বলল…

“ ইউর লুকিং সো গ্লাসি ,ব্লোসোম ।
ইউ লুক এবসোলিউটলি স্টানিং !!
এভরি টাইম আই লুক এট ইউ , আই ফাইন্ড এ নিউ রিজন টু ফ্যল ইন লাভ ।
এন্ড রাইট নাউ , আমি আবারও ভীষণ ভাবে তোমার প্রেমে পড়তে বাধ্য হলাম ।
মিহি তাকালো না । চোখ ঘোরালো অন্য দিকে ।
রাফি ওর উপেক্ষা লক্ষ্য করে কপাল গুটালো । মিহি কে আগলে ধরে ফেরালো নিজের দিকে । শুধালো…
“ হোয়াট হ্যাপেন্ড ?
“ সাফি কোথায় ?
সোজা সাপ্টা প্রশ্ন মিহির । রাফির কুঁচকানো কপালের ভাজ আপনা আপনি গায়েব হলো ।
ঝুঁকে পড়া থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ালো ও । হাসার চেষ্টা করে বললো ভনিতা হীন…
“ যেখানে থাকার সেখানেই ।
“ কোথায় ? আর ওনার মা-বাবা , ওনারা এখানে কেনো ?
“ ভুল বোঝাবুঝি টা ছিলো সারফারাজের সাথে । ওর মা-বাবার সাথে নয় । সারফারাজ এখন নেই এখানে । ওর মা-বাবা আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসেন ‌। আমি তাদের দ্বিতীয় ছেলে ছিলাম । আমার বিয়েতে তারা আসবেন না , এটা কি করে হয়‌ ?
“ কিন্তু সাফি ? উনি কোথায় ? এতো সহজে হার মানলেন উনি ? উনি আমাদের শুট…..
“ মিহি ?
কথা শেষ করতে পারলো না মিহি । তার আগেই থামিয়ে দিলো রাফি । মিহি কে টেনে আলগা করে জড়িয়ে ধরল । মিহির চোখ থেকে নিজের মুখশ্রী আড়াল করে চোখ বুজলো । নিঃশব্দে তপ্ত শ্বাস ফেললো । মিহির গোছানো চুলের ভাঁজে পাঁচ আঙ্গুল বুলিয়ে ধীর কন্ঠে বলল….

“ আজকের এই দিনে আমি এসব কথা বলতে বা শুনতে চাইছি না মিহি । প্লিজ এসব বলো না ।
সারফারাজের সম্বন্ধে কোনো কথা বলতে চাই না আমি । ইউ গট ইট ?
মিহি মাথা ঝাঁকালো একটু সময় পর । রাফি ওকে ছাড়লো । মুখখানা দুহাতের আজলে নিয়ে কপালে নরম ওষ্ঠ ছোঁয়ালো । মোলায়েম কন্ঠে বলল….
“ দেরি হয়ে যাচ্ছে ।
আমাকে তৈরি হতে হবে তো !
“ ফোন করেছি কতবার । ফোন ধরেন নি কেনো ? কোথায় আছেন না আছেন , একবার জানালে কি হতো ?
“ সরি । খেয়াল করি নি !
খাটের উপর রাফির ড্রেস বের করে রাখা ছিলো । মিহিকে সম্মুখে রেখেই চটপট তৈরি হয়ে নিলো রাফি । ওদিকে রুহি মিহি কে খুঁজছে । বাইরে বেরিয়ে গেছে সবাই । রুহি উপরে উঠলো মিহি কে ডাকতে । রাফির ঘরে মিহি আছে , এটা বুঝতে বাকি নেই । রুহি একটুও ইতস্ততা করলো না । সোজা রাফির ঘরের দিকে এগোলো ।
একবার ডাকলো পাখি বলে । সাঁড়া না পেয়ে দরজায় টোকা মারতে যাবে এর আগেই শান্ত টেনে ধরলো ওকে ।‌ হেঁচকা টানে পিছু ফেরালো রুহি কে । রুহি চমকে শান্ত কে দেখলো । কপাল কুঁচকে বললো তপ্ত স্বরে….

“ সমস্যা কি ? টানাটানি করছেন কেনো ?
“ তোমার এখানে কি ? দরজায় টোকা মারতে যাচ্ছিলে কেনো ?
“ পাখি ঘরে আছে কি না দেখতে যাচ্ছিলাম ।
“ বুদ্ধি শুদ্ধি আছে , নাকি গিলে খেয়েছো আমার মাথা খাওয়ার সাথে সাথে ? এভাবে নিজের বড় ভাই আর ভাবির ঘরে হুটহাট নক করতে এসেছো ? তারা তো ভেতরে ইম্পর্ট্যান্ট কিছুও করতে পারে !
রুহি দূর্বোধ্যের ন্যায় ভ্রু যুগল সূক্ষ্ম করে তাকালো । ক্যাট ক্যাট করে বলে উঠলো….
“ কিসব বলছেন ! দেরি হয়ে যাচ্ছে । ছাড়ুন , ভাইয়া আর পাখি কে বাইরে ডাকছে সবাই ।
শান্ত চরম বিরক্ত হলো । রুহির ভাবসাব দেখে ফোঁস করে শ্বাস ফেললো । এই মেয়ে এতো অবুঝ ক্যান ? না ওকে বোঝে , আর না ওর রোমান্স ? আর‌ না রোমান্টিক কোনো কথা । কপালে চাপড় মেরে রুহি কে টেনে নিয়ে যেতে যেতে কন্ঠ চিপে হুতাশ কন্ঠে খানিক সুর টেনে বলে উঠলো শান্ত….
“ ওরে গোলাপ ফুলের কাঁটা , বন্ধু সাদা মাটা , চোখের ইশারা বোঝে নাআআআ ।

হইহই শুরু হয়ে গেছে চৌধুরী বাড়িতে । জমজমাট আমেজে ভরপুর । রাফি আর মিহি কে হলুদ লাগানোর পালা মোটামুটি শেষ । নাচগানের তালে তালে মুখোরিত পুরো বাড়ি । সবার মাঝেই উন্মাতাল রেশ । ইতিমধ্যে সংগীত শিল্পী রুজান রাফি চৌধুরীর বিয়ের খবরে তোলপাড় স্যোশাল মিডিয়া । এভাবে আকস্মিক তার বিয়ের খবরে ভক্তদের মাঝে উত্তাল ঝড় উঠেছে । বিশেষত সব মেয়েদের মাঝে । সব মেয়েদের মন ভেঙ্গে রুজান রাফি চৌধুরী একটা মেয়েকেই আপন করে নিচ্ছে ।
সেই মেয়েটা মাহিতা ইসলাম মিহি । রুজান রাফি চৌধুরীর জীবনে আসা একমাত্র মেয়ে । রাফি যে তাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে , ইতিমধ্যে ছড়িয়ে গেছে সেই খবর । তারা আগে থেকেই বিবাহিত ছিলো । এখন শুধু বিয়েটা খোলসা করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে সকলকে ।
ভক্তদের নিউজ ফিড জুড়ে এক খবর । রুজান রাফি চৌধুরীর সেই ভালোবাসাকে দেখার আগ্রহ সবার ।
রাফি আর মিহি কে হলুদ লাগানো শেষ । রাত নয়টা নাগাদ হইহুল্লোড় কমে আসলো একটু । মিহির পড়নে হলুদ লেহেঙ্গা । দুই গালে ইচ্ছে মতো হলুদ লাগিয়েছে সকলে । ক্ষুধা পেয়েছে ভীষন । সেই দুপুরের পর থেকে আর তেমন কিছু খাওয়া হয় নি । হেনা বেগম কতো কি সাধলেন , মিহি নিজেই খায় নি । তখন খেতে ইচ্ছে করে নি । এখন চড়চড় করে খিদে বাড়ছে । পেট চুইচুই করছে ওর । এদিকে ওদের দুজনকে নিয়ে নাচানাচি করেছে সবাই । হাঁপিয়ে গেছে মিহি । বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত সে ‌। রাফি পাশেই বসে । মিহি একটু হেলে ধরা গলায় বললো…

“ এসব শেষ হবে কখন ?
ভীষণ ক্ষিদে পেয়েছে আমার !
রাফি চকিতে তাকালো । মিহির শুকনো অবসন্ন মুখখানা দেখে উঠে দাঁড়ালো । বললো…
“ এক্ষুনি শেষ হবে ।
বলেই গলা উঁচালো রাফি ।
মুহুর্তেই থামলো সবকিছু । হেনা বেগম শুধালেন…
“ কি হলো ?
“ খিদে পেয়েছে আমার । সব শেষ করে চলে এসো । আমি বাড়িতে গেলাম । মিহি , ওঠো …
রাশেদ রায়হান চৌধুরী সবকিছু থামাতে যাচ্ছিলেন এক্ষুনি । তার আগেই ছেলে থামিয়ে দিলো ।
মিহি তব্দা মেরে বসে রইলো খানিক ।
থেমেছে সবকিছু । রাফি মিহি কে নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকেছে । হেনা বেগম ছেলের জন্য টেবিলে খাবার সাজাতে লেগে পড়লেন ।
রাফি মিহি কে ইশারা করলো উপরে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিতে । মিহিও কথা বাড়ালো না । উপরে উঠলো সোজা । ভারী কাপড় চেঞ্জ করলো । মেকআপ তুলে ফ্রেশ হয়ে নিলো । এখন হালকা লাগছে একটু ।
দীর্ঘ হাঁফ ছাড়ল মিহি । রুহিও চেঞ্জ করেছে । ওর ও খিদে পেয়েছে ভীষণ । ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে মুখ মুছতে মুছতে জলদি তাড়া দিলো রুহি…

“ পাখি , তাড়াতাড়ি চল । ভীষণ খিদে পেয়েছে আমার । আমি গেলাম , আয় জলদি ।
ছুটলো রুহি । অথচ মিহি এখানে ওর অপেক্ষাতেই বসে । ড্যাপ ড্যাপ করে তাকিয়ে থেকে রুহির পিছু ধরলো মিহি । ইতিমধ্যে সিঁড়ি বেয়ে হুড়মুড়িয়ে নিচে নেমে গেছে রুহি ‌। টেবিলে ধাম করে বসে চেঁচিয়ে বললো….
“ আম্মু, আমার খাবার কোথায় ? তাড়াতাড়ি খেতে দাও ।

এক দেখায় পর্ব ৬৫

মিহি ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নামছে । রাফি কে দেখতে পেলো না নিচে । হয়তো ফ্রেশ হতে ঘরে গেছে । মিহি সিঁড়িতে পা চালাতে চালাতে বেখেয়ালে একবার উপরের দিকে চোখ তুললো । উদ্দেশ্য করিডোর পেরিয়ে এখান থেকেই রাফির রুমটা একবার লক্ষ্য করা । কিন্তু উদ্দেশ্য সফল হলো না । দেখতে পেলো না মিহি । নিচে অনেকেই আছেন । মিহি চোখ সরিয়ে নিচে তাকালো । এক পা বাড়াতেই আকস্মিক ফসকালো পা । সিঁড়ির খাজে পা মেলাতে পারলো না । ব্যালেন্স হারালো মিহি । মুহুর্তেই নিজেকে সামলানোর আগে সামনের দিকে হুমড়ি খেলো টাল হারিয়ে ।
পা ছলকে গড়িয়ে পড়লো মিহি । রেলিং ধরে ও থামতে পারলো না । অনিমেষে ধক্ করে উঠলো । চেঁচিয়ে উঠলো পড়তে পড়তে…
“ আব্বু…..

এক দেখায় পর্ব ৬৭