এক দেখায় পর্ব ৬৯
সুরভী আক্তার
সকাল সকাল পাখিদের কিচিরমিচিরে ঘুম ছুটে মিহির । ব্যালকনির পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছ টায় ভোর ভোর পাখিদের ঝাঁক ছুটে আসে । পাখিদের ডাকে ঘুম হালকা হয় মিহির । ধীরে চোখ খোলে ও । মিষ্টি গন্ধে মুখোরিত পুরো ঘর । মিহি আধো চোখ খুলেই মন মাতানো গন্ধে আনমনে মুচকি হাসলো । অতঃপর মেললো নিভু অক্ষিযুগল । আশপাশ ধ্যানে আসতেই ধক্ করে উঠলো । ও তো এখন বিবাহিত । আর রাফির ঘরে ওর অবস্থান । তড়িতে চোখ বৃহৎ করে মিহি । রাফি নেই বিছানায় । অথচ কাল রাফি ওকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে ছিল । মিহি ওর বুকে মাথা রেখে রাত্রি যাপন করেছে । রাফি ওকে সরিয়ে কখন উঠলো টেরই পায় নি মিহি । ঝট করে উঠে বসলো মেয়েটা । ঘুম ঘুম চোখে পাশে চোখ ফেরাতেই ড্রেসিং টেবিলের সামনে রাফি নজরে পড়লো । শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে রাফি । পড়নে একখানা কালো টিশার্ট আর ট্রাউজার । চুল ভেজা । যা লেপ্টে আছে কপালে । গলায় টাওয়েল ঝুলছে এখনো । আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাতে ফোন নিয়ে কিছু একটা করছে ও । সেভাবেই ফোনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো । মিহি সূক্ষ্ম নেত্রে লক্ষ্য করলো মোহাবিষ্ট হাসি টুকু । রাফি ফোন রাখলো । গলার টাওয়েল টা হাতে নিতে নিতে পাশ ফিরতেই মিহি কে দেখতে পেলো । ড্যাপ ড্যাপ করে তাকিয়ে আছে মিহি । নিষ্পলক সে । রাফি হাসি প্রসারিত করে ভ্রু নাচালো…
” গুড মর্নিং ম্যাডাম , ভেরি ভেরি গুড মর্নিং ।
উঠে পড়েছেন ? উঠুন , আপনার অপেক্ষাতেই ছিলাম ।
মিহির চোখে পলক পড়ে । চোখ সরায় না তবুও । রাফির কন্ঠে সদ্য ঘুম ভাঙ্গার রেশ । অদ্ভুত স্বর । কোনো একদিন মিহি আকৃষ্ট হয়েছিলো এই কন্ঠে । ঘুম কাতর আবেশিত এই কন্ঠে । তখন কল্পনাও করে নি , কোনো দিন এই কন্ঠের মালিক তার হবে । এই কন্ঠের সম্বোধন রোজ ভোরে কর্নপাত হবে ওর । রোজ সকালে সেই কন্ঠের মালিকের আবেশিত চেহারা খানায় চক্ষু শীতল হবে মিহির ।
বেখেয়ালে হাসি ফুটলো রমনীর স্নিগ্ধ ঠোঁটের কোণে । তড়িতে চোখ নামিয়ে লাজুক হাসলো ও । রাফি কপালে ভাঁজ ফেলে এগিয়ে এসে বলল…
” হাসছো কেনো ?
” এমনি । কটা বাজে ?
” আটটা !
সহসা চোখ বৃহৎ করে চোয়াল ঝুলিয়ে ফেললো মিহি । আটটা বাজে ? এতো সকাল হয়ে গেছে ? শরীর থেকে কম্ফোর্টার ঝাড়া মেরে সরিয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বিষ্ময়ে উচ্চারণ করলো মেয়েটা…
” আটটা বেজে গেছে । এতো লেট ?
” লেট কোথায় ? সবে আটটা বাজে । আরো ঘুমাতে চাইলে ঘুমাতে পারো ?
” কি বলছেন , আপনি উঠেছেন কখন ? আপনি একবারও ডাকবেন না আমায় ? দেখুন তো কত সকাল হয়ে গেছে । সবাই উঠে পড়েছে নিশ্চয়ই ! কি ভাববে সবাই ?
রাফি দুষ্টু হাসলো । মিহির সম্মুখে অগ্রসর হলো । একটু হেলে মুখোমুখি হয়ে বললো….
” কি আবার ভাববে ? যা ভাবার তাই ভাববে ।
তবে যা ভাববে তা সম্পুর্ন ভুল ভাববে । আমি না হয় তাদের ভুল ধারণা টা ভাঙিয়ে দেবো । বলবো তাদের মেয়ের লুডো খেলার সখ জেগেছিল , অর্ধেক রাত পর্যন্ত লুডো খেলে কাটিয়েছি তাই । দু – দুবার হেরে গেছে তাদের মেয়ে ।
মিহি মুখ শক্ত করলো । চোখ সরু করে তাকালো । ঠোঁট চেপে হাসি আটকে রেখেছে রাফি । মিহি মুখ শুকনো করলো । বললো গলা নামিয়ে….
” মজা করবেন না তো । আপনি চিটিং করেছেন ।
এখন সরুন সামনে থেকে । নিচে যেতে হবে । অনেকটা সকাল হয়ে গেছে ।
” খুব বাহাদুরি দেখাচ্ছো দেখছি । আচ্ছা , সরলাম সামনে থেকে । যাও তুমি নিচে….
মিহি পা খানা নাড়ানোর চেষ্টা করে । ভারে শক্ত হয়ে জমাট বেঁধে গেছে যেনো । এখনো পুরো অচল । মিটিমিটি অসহায় চোখে আবার রাফির দিকে ফিরে চাইলো মিহি । ঠোঁট উল্টে হাত বাড়িয়ে দিলো….
বললো অসহায় কন্ঠে…
” হেল্প করুন না । দেরি হয়ে যাচ্ছে…
” বারবার কোলে উঠতে উঠতে অভ্যাস হয়ে গেছে তোমার । বাচ্চামো করছো । অথচ বয়সটা বাচ্চা জন্ম দেওয়ার । কদিন পর যখন বেবি হবে , তখন ওকে সাইডে সরিয়ে তোমাকেই কোলে নিয়ে ঘুরবো, কেমন ?
হেসে ফেললো মিহি । রাফি থেমে ঝট করে কোলে তুললো ওকে । তন্মধ্যে একেবারে শক্ত করে ওর গলা জড়িয়ে ধরলো মিহি । মাথা এলিয়ে দিলো কাঁধে । সেভাবেই গাঢ় চুমু খেলো কন্ঠ মনির পাশে । নরম , কোমল ওষ্ঠ দ্বয়ের আরো কয়েকটা স্পর্শ পেলো রাফির মুখশ্রী । কানের পাশেও একখানা চুম্বন স্থায়ী হলো ।
ঠোঁটের স্পর্শে ক্ষিয় কাল চোখ বুজে রাখে রাফি । চোখ খুলে মিহির পানে তাকায় । সম্মোহনী দৃষ্টি তার । দুদিকে মাথা নেড়ে, বলে সংযত স্বরে….
” সবকিছু হাজার গুণ করে ফিরিয়ে দেবো । বি প্রিপেয়ার…
নিজেকে সামলে ওয়াশ রুমের দিকে এগোয় ।
বেসিনের পাশে পা ঝুলিয়ে বসায় মিহি কে । নরম স্বরে শুধায়…
” শাওয়ার নেবে ?
চমকে উত্তর করলো মিহি….
” এতো সকালে ?
” নেওয়ার কথা ছিলো তো ।
হাসি আটকে ফিচেল স্বর রাফির । মিহি আলতো আঘাত করলো রাফির পেটে । বললো…
” বাইরে গিয়ে আমার ড্রেস এনে দিন । চেঞ্জ করবো ।
রাফি তাই করলো । একখানা বেগুনী রঙের সূক্ষ্ম কাজের থ্রি পিস এনে ধরিয়ে দিলো মিহির হাতে ।
মিহি কে চেঞ্জ করিয়ে ওকে নিয়ে নিচে নামছে রুজান রাফি চৌধুরী । সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে পা ফেলে নামছে সে । নিচে সকলে উপস্থিত পুরুষেরা ব্যাতিত । বাড়ির গিন্নিরা কিচেনে । বাকিরা ড্রইং রুমে । বাকিরা বলতে বাড়ির বাচ্চারা । রুহি , জেনি , মেহজাবিন , বর্ষা , লিনা , ইভান , আর শান্ত । সবাই ব্রেকফাস্ট শেষে একসাথে বসে টুকটাক গল্প গুজবে মেতেছে । লিনা একপাশে বসে ফোন ঘাটছে । টিভিতে কার্টুন দেখছে জেনি । রাফি আর মিহি কে ডাকার প্রয়োজন বোধ করে নি কেউ । বিরক্ত করতে চায় নি ওদের । রাফি আর মিহি কে নামতে দেখা মাত্রই সশব্দে চেঁচিয়ে উঠলো শান্ত…..
” আরেএএ , শালা বাবু যে ।
এতক্ষণে ভোর হলো তবে ? আমি ভাবলাম দরজার সামনে গিয়ে ডেকে আসি । গান শুনিয়ে ঘুম ভাঙিয়ে আসি তোমাদের…
•ভোর হলো শালা বাবু , ভোওওর হলোওও । ওঠো এবাররর , দোর খোলো ।
আমার গলার গান শোনার আগেই উঠে পড়েছো দেখছি ।
শান্তর কথায় সবাই একসাথে তাকালো সিঁড়ির দিকে । রাফি বিরক্তি প্রকাশ করলো মুখ কুঁচকে । নিচে নেমে আসলো সে । লিনা আধো চোখে তাকিয়ে দেখলো দু’জনকে । খানিক হেসে দৃষ্টি সরিয়ে নিলো ।
রাফি সোফায় মিহি কে বসালো অতি সন্তর্পণে । ও সরে আসতেই অমনি রুহি ঝাঁপিয়ে পড়লো মিহির দিকে । রাফি পাশের সিঙ্গেল সোফাটায় বসলো পায়ের উপর পা তুলে ।
শান্ত দু’জনকে চোখ বড় করে পরখ করলো । মিটিমিটি হেসে উঠে এসে রাফির পাশে একটা চেয়ার টেনে বসলো । কানের কাছে এগোলো ফিসফিসিয়ে কিছু বলার উদ্দেশ্যে । ওকে কাছে ঘেঁষতে দেখেই তপ্ত স্বরে ঝাড়ি মারলো রাফি…
” সমস্যা কি ?
এভাবে গায়ের উপর উঠে বসছিস কেনো ?
” না মানে , দেখছি ! তুই বিয়ে করেছিস !
অথচ কোনো চেঞ্জ নেই কেনো তোর চেহারায় ?
চাপা স্বর শান্তর । যাতে কেউ শুনতে না পারে ।
” কি চেঞ্জ থাকবে । কপালে লেখা থাকবে , যে আমি বিয়ে করেছি !
” আরে নির্বোধ বউয়ের নির্বোধ ভাই ।
এখন কি সবকিছু খুলে বলবো নাকি তোকে ?
রাফি ফিচেল চোখে শান্ত কে আগা গোড়া পরখ করলো । বললো ঠোঁট কামড়ে….
” খুলেই বল ।
রাফির ইঙ্গিত বুঝতে বাকি রইলো না শান্তর । অমনি আঁতকে পেছালো ও ।
” শালা তুই দেখি বিয়ে করে নষ্ট হয়ে গেছিস । নষ্ট মাইন্ড ঠিক কর । নয়তো তোর বোনকে নালিশ করবো…
• তুই নষ্ট চোখে, নষ্ট মনে দেখিস আমাকে , মনে তোর কি চায় বুঝাবি ক্যামোনে….
রাফি হেসে ফেললো । রুহি আর মিহি ফিসফিস করে কথা বলাবলি করছে । মিহি কিছু একটা বলতেই রুহি মুখ কুচকালো । মিহি কে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই রাফির দিকে ফিরে অভিযোগ করলো তড়তড়ে গলায়…..
” এটা কি হয়েছে ভাইয়া , তুমি ভাবি জান কে এখনো কোনো গিফট দাও নি ? ফাস্ট নাইটে গিফট দিতে হয় , জানো না ?
ভিড়মি খায় রাফি । তব্দা খেয়ে ভ্যাট ভ্যাট করে তাকায় নিজের বোনের দিকে । মিহি এর মধ্যেই এটা বলে দিয়েছে রুহি কে ? না জানি আর কি কি বললো !
রাফি কথা এগোতে পারলো না হেনা বেগমের উপস্থিতির কারণে । কিচেন থেকে বেরিয়ে আসলেন হেনা বেগম । ছেলে আর ছেলের বউকে দেখে বললেন…
” ব্রেকফাস্ট করবি না ?
কত বেলা হয়েছে । খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই , এখানে আয় ।
বাকিরা খেয়েছে । ওরা দুজনে খেয়েদেয়ে আবার একসাথে বসলো ।
লিনা সেই একপাশে ঘাপটি মেরে বসে আছে । এর মধ্যেই বাড়ির পুরুষেরা ফিরলেন সবাই । ড্রইং রুমে সব বাচ্চাদের এক সাথে দেখে রাশেদ রায়হান চৌধুরী আর বসলেন না সেখানে । একটু সময় দাঁড়ালেন । ডাকলেন ছেলেকে…
” রাফি ?
” জ্বি আব্বু ।
চকিতে উত্তর রাফির ।
” কিছু পেয়েছো ?
মুচকি হাসে রাফি । বলে….
” আপনি পাঠিয়েছেন ?
” হুম । ছয়টা টিকিট আছে । ছ’জনে ঘুরে এসো । দুদিন পর ফ্লাইট , এই দুদিনে মিহি মামনি সুস্থ হয়ে যাবে মোটামুটি । ঘুরে এসো , ভালো লাগবে ।
মেহজাবিন চকিতে প্রশ্ন করলো….
” কিসের টিকিট আব্বু ?
” কক্সবাজার ট্রিপের , মাহিম কে বলে রেখো । দুদিন পর যাচ্ছো তোমরা । রুহি, শান্ত , মিহি,রাফি , আর তোমরা দুজন ।
কথাটা শেষ করেই জায়গা ত্যাগ করলেন রাশেদ রায়হান চৌধুরী । শান্ত লাফিয়ে উঠলো….
” ওওয়াও …
কক্সবাজার ! ইস্কা মাতলাব , হানিমুন ? রাফি , তোর বাপ কি আমাদের হানিমুনের টিকিট কেটে দিলো । এতো আপডেট শ্বশুর রে ! দেখ পরী , তোর আর আমার কি কপাল । আমাদের শশুর নিজেই….
রাফি কন্ঠ চিপে ধমকালো….
” পটকা বাজির মুখটা বন্ধ করবি ?
ইভান দীর্ঘ হাঁফ ছাড়ল । ও তো অসহায় এদের মাঝে । নিজের দিকে তাকালো ও । নাহ , শুকিয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন । মুখ মলিন করে বলল ইভান….
” ভাই , এবার আমারও একটা ব্যবস্থা করে দে না । এভাবে আর কতদিন ? আর কতো সিঙ্গেল থাকবো বল ! আমার ক্যান তোদের মতো কোনো মামাতো, চাচাতো বোন নাই ভাই ? যারা আছে , তারা হয় আমাকে কোলে নিয়ে বেরিয়েছে , আর নয়তো আমি তাদের । আমি এখন কাকে বিয়ে করবো ?
শান্ত ক্যাট ক্যাট করে হেসে উঠলো । বললো মুখ ফসকে….
” আরে হতভাগা , আমিও তো এই ছিঁচকাদুনে মেয়েটাকে কোলে নিয়ে বেরিয়েছি , তবুও তো ওর সাথেই বিয়েটা হলো আমার । আসলে , এসব কাজিন দের মাঝে বিয়ে হওয়ার জন্য চোখ লাগে , বুঝলি ? চোখ । তুই যদি তোর চাচাতো , মামাতো, খালাতো , ফুফাতো , বোনকে বোন হিসেবে না দেখে বউ হিসেবে দেখিস , তবেই শেষমেষ সে বোন থেকে বউ হবে তোর । আমি আমার জানকে সেই বাচ্চা কাল থেকে বউ হিসেবেই দেখেছি । ভেবেছিলাম মামুর মেয়েকে বউ করার পর চিমটির প্রতিশোধ নিয়ে উত্তম মধ্যম দেবো । সে আর হলো কই । এখন রোজ রোজ আমিই ওর কাছে কথায় কথায় উত্তম মধ্যম খাই । কিন্তু এ কথা আমি তোদের কিছুতেই বলবো না । বউয়ের কাছে মার খাওয়ার কথা পাঁচকান হলে প্রেস্টিজ ফালুদা হয়ে যাবে আমার ।
সবাই ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল শান্তর দিকে । এক মুহুর্ত পর সশব্দে খিলখিল করে হেসে উঠলো সকলে । রুহি কিড়মিড়িয়ে তাকলো শান্তর দিকে । মিহি ওকে কনুই দিয়ে খোঁচালো , হাসি চেপে মেকি স্বরে বলল….
” তুই ভাইয়াকে মারিস পাখি ?
মিহির কথার সাথে সাথে চোখ মুখ খিচে সোফা থেকে একটা কুশন তুলে সজোরে শান্তর দিকে ছুড়ে মারলো মিহি । অমনি সেটা ক্যাঁচ করলো শান্ত । অবাক হওয়ার ভান ধরলো । বললো অবাক স্বরে….
” পরী , তুই কি করে জানলি রুহি আমাকে কেলায় ? আমি তো তোকে বলিনি । এই না হলে ভাই বোনের টান । কথা প্রকাশ করার আগেই বুঝে ফেলেছিস দেখছি । বিশ্বাস কর বনু , তোর ননদ আমাকে হেব্বি জ্বালায় ।
রাফি তপ্ত শ্বাস ফেললো । বললো ধীর কন্ঠে….
” তোর নাম শান্ত রেখেছে কে ?
” তোর বোনের শাশুড়ি ।
তড়িতে উত্তর শান্তর । উত্তর করেই দাঁত কেলালো ।
” আমার বোনের শাশুড়ি তোর কি হয় ?
ভাবলো শান্ত । চিবুক চুলকে বললো….
” ফুফি শাশুড়ি । আরো একটা সম্পর্ক আছে , তোর বোনের শাশুড়ি আমার কাছের সম্পর্কের আম্মু হয় ।
এবার আর ধৈর্য ধরতে পারলো না রাফি ।
দাঁত খিচে সজোরে একটা ঘুষি বসালো শান্তর বাহুতে । ফের মারতে উদ্যত হতেই শান্ত লাফিয়ে সরে আসলো ওর থেকে । বাহুতে হাত বোলাতে বোলাতে রুহির পাশে গিয়ে ঠাই নিলো । মুখ অসহায় করে তাকাতেই রুহি ও কটমট করে তাকিয়ে একটা খামচি বসালো ওর অন্য বাহুতে । অমনি ছিটকে উঠে দাঁড়ালো শান্ত….
” তোমরা ভাই বোন মিলে কি পেয়েছো আমায় ? সরকারি মাল পেয়েছো । আরো মারো , এসো । মারো মুঝে মারো….
হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ মিহি আর মেহজাবিনের । গড়াগড়ি খেয়ে হাসছে দু’বোন । এই শান্ত পারেও বটে । রাফি হাসি চেপে মিহির দিকে তাকালো । ওর উচ্ছাসিত চিকন হাসির পানে বিমূঢ় নেত্রে তাকিয়ে রইল সে । ইভানের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই । অসহায় ইভান আচমকা মুখ খুললো…
” এই মিস লিনা , চলুন না বিয়ে করে ফেলি । লজ্জা নেই আপনার ? আপনার ছোট বোনেরা বিয়ে করে এখানে স্বামী নিয়ে বসে আছে । আর আপনি বসে বসে দেখছেন ? ছিঃ , লজ্জা থাকা উচিত । লজ্জা পান , আর আমায় বিয়ে করুন । চলুন বিয়ে করে নেই ।
লিনা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তাকালো ফোন থেকে চোখ সরিয়ে । আজ অতিথি দের বাড়ি ফেরার পালা । দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে যে যার বাড়িতে ফিরবে । বেশ কদিন টানা এই বিয়ের চক্করে কেটেছে । ইভান আর লিনার পরিবার ও ফিরবে আজ । আর হয়তো এভাবে দেখা হবে না । ইভান মশকরার ছলে সিরিয়াস হয়েই বলেছে কথাটা । লিনা পাত্তা দিলো না । শান্তর মতো এই লোকের ও বকবক করার স্বভাব আছে ।
শান্ত পরখ করলো ইভান কে….
” হতভাগা , তুই কি ইনডিরেক্টলি আমার বোনকে প্রপোজ করছিস ?
” ও আবার তোর বোন হলো কবে থেকে !
” যবে থেকে ওকে বোন বানিয়েছি তবে থেকে । তাই না বোন ?
রুহি থামালো দুজনকে….
” চুপ করবে তোমরা ?
আচ্ছা ভাইয়া , আমরা কক্সবাজার যাচ্ছি , সত্যিই ?
রাফি উত্তর করে নরম কন্ঠে…
” হুম !
ইভানের তোলা কথাটা ধামাচাপা পড়লো প্রসঙ্গ পাল্টে যেতেই । লিনাও কোনো ভাবাবেগ দেখালো । নির্বিকার ভাবে চুপ থেকে উপেক্ষা করলো ইভান কে ।
ইভান এক মুহুর্ত এক দৃষ্টে লিনা কে পরখ করলো । অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে গটগট পায়ে স্থান ত্যাগ করলো ।
ছাদে একপাশে দাঁড়িয়ে আছে ইভান । বুকে হাত গোটানো , মুখ ভার , কুঁচকানো ভ্রু । মুখে এক রাশ বিরক্তির ছাপ । কেমন অদ্ভুত ভাবে বিরক্তি আসছে সবকিছুতে ।
কাঁধে কেউ হাত রাখতেই চকিতে ঘাড় ঘোরালো ইভান । রাফি কে দেখে স্বাভাবিক হলো ।
রাফি প্রশ্ন করলো….
” হোয়াট হ্যাপেন্ড , ব্রো ?
” কিছু না !
” এখানে একা চলে আসলি যে ?
” তো কাকে নিয়ে আসবো ? পার্টনার নেই আমার !
” লিনা কে ভালোবাসিস ?
সোজাসুজি প্রশ্ন রাফির । ইভান চোখ সরায় । নিচের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে । বলে নির্লিপ্ত স্বরে….
” আই ডোন্ট নো । বাট , ভালো লাগে ওকে । আই থিংক , আই লাইক হার….
” জাস্ট লাইক , নাকি লাভ ?
লাভ হলে করাই যায় কিছু একটা !
” কি করা যায় ?
” যদি বলিস , ওকে তোর পার্টনার বানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় । তবে , যদি লাভ করিস তবেই । নিজের মনকে প্রশ্ন কর । আর উত্তরটা জানা আমায়…
বাকিটা দেখছি আমি…
” লিনা অদ্ভুত । আই থিংক ও আমাকে পছন্দ করে না । অনেক বার ট্রাই করেছি মজার ছলে , ও কোনো রেসপন্সই করে না ।
” ওর কথা না ভেবে নিজের কতা ভাব ।
ও কি তোর গায়ে পড়ে রেসপন্স করবে নাকি ? নিজের মনের মধ্যে অনুভূতি চেপে রাখতে নেই , নয়তো অনুভুতি প্রকাশের আগেই অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে । সময়ের কাজ সময়ে করাই শ্রেয় । আমি নিচে চললাম , ভেবে চিন্তে নিচে আয় । দুপুর পর্যন্ত সময় আছে তোর হাতে । তারপর কিন্তু দুজন দুদিকে চলে যাবি ।
দুপুর গড়ালো । ইভান এখনো দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছে । হাত পা কুঁকড়ে আসছে ওর । খাওয়া দাওয়া শেষ । একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকেলের আগে আগে বেরোবে ওরা ।
বড়রা ড্রইং রুমে বসে আছেন ।
করিডোরে পায়চারি করছে ইভান । গেস্ট রুমের সামনে এদিক ওদিক হাঁটাহাঁটি করছে বিচলিতের ন্যায় । সামনের ঘরটায় লিনা আছে । হয়তো বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে । ওরা তো আগে বেরোবে , তারপর ইভানরা । ইভান দাপাদাপি করে পায়চারি করছে আর বিড়বিড় করে কথা গোছাচ্ছে নিজের মনে । রাফির প্ররোচনা পেয়েছে । লিনার সম্মুখীন হওয়া মাত্রই গড়গড় করে সব বলে দেবে ইভান । ভালোবাসি বলবে না । ডিরেক্ট বিয়ের কথা বলবে ।
দরজা আটকানো ঘরের । খট করে সিটকিনি খোলার শব্দ হতেই থমকে দাঁড়ালো ইভান । দরজার সামনে এক লাফে এগিয়ে না তাকিয়ে চোখ খিচে এক নাগাড়ে পেটের কথা গুলো উগড়ে দিলো….
” দেখুন মিস লিনা । আমি অতো সব গুছিয়ে কথা বলতে পারি না । এসব কথা কিভাবে বলতে হয় তাও জানি না । যা মনে আছে , তাই মুখে ফোটাচ্ছি শুধু । আপনি একটু মন দিয়ে কথা গুলো শুনে তারপর আপনার মনটা আমাকে দিয়ে দিন প্লিজ । আমি জানি এসব কথা শুনলে এখনও সিরিয়াসলি নেবেন না আপনি , বাট আমি সিরিয়াসলি বলছি ট্রাস্ট মি । আমি সত্যি সত্যিই আপনাকে বিয়ে করতে চাই । এখন যদি আপনি রাজি থাকেন , তাহলে এক চাপুন । আর রাজি না থাকলে আমাকে একটা চুমু খান । এখন বাকিটা আপনার সিদ্ধান্ত । রাজি হবেন , নাকি আমাকে চুমু খাবেন । প্রথম টা সহজ আছে , বিয়ের আগে চুমু টুমু খাওয়া জঘন্য ব্যাপার । আপনি বরং এক চেপে দিন…
গড়গড়িয়ে সব কথা বলে থামলো ইভান ।
ফোঁস করে শ্বাস ফেললো অতঃপর । হাঁপিয়ে গেছে পুরো । তবুও ঠিকঠাক মুখস্থ বিদ্যা বলতে পেরেছে এই অনেক । এখন শুধু লিনার প্রতিক্রিয়া দেখার পালা । কয়েক সেকেন্ড পেরোলো । ওদিকে কোনো সাঁড়া শব্দ নেই । ইভান ডান চোখ টা পিটপিট করে খুললো ।
অমনি আঁতকে উঠে লাফিয়ে পিছিয়ে গেলো কয়েক ধাপ । অস্ফুটে উচ্চারণ করলো….
” আ.. আন্টি ?
লতা বেগম সরু চোখে তাকিয়ে । পেছনে তাজ্জব বনে থম মেরে দাঁড়িয়ে আছে লিনা । চোখ গোল গোল ওর । এই লোক কিসব বললো ? তাও আবার লতা বেগমের সামনে । ইভান ভুত দেখার মতো চমকালো । মা মেয়ে একেবারে তৈরি হয়ে বেরিয়েছে বাড়ি ফেরার জন্য ।
ইভান শুল্ক ঢোক গিললো । নিজেকে শুধরালো…
” আ..আন্টি , আমি আসলে….
সরি আন্টি । বেশি সিরিয়াস হয়ে গেছিলাম । আমি যাই….
বলেই ফটাফট কেটে পড়লো ইভান । লতা বেগম আহম্মক বনে তাকিয়ে রইলেন । লিনাও তাজ্জব বনে গেলো । লতা বেগম মেয়ের দিকে তাকাতেই মায়ের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তটস্থ হলো ও । দ্রুত চোখ নামিয়ে নিলো ।
ঘরের দরজায় টোকা পড়তেই দরজা খুলে দিলো রাফি । অমনি মুখোমুখি হলো লিনা । রাফি কে দেখে হাসলো মেয়েটা । বললো শুকনো কন্ঠে….
” চলে যাচ্ছি ভাইয়া ? মিহির সাথে দেখা করতে আসলাম ।
” ভেতরে এসো !
দ্বিধা জড়ানো পায়ে ঘরে ঢুকলো লিনা । মিহি মিররের সামনে বসে । শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে । মাথার ভেজা চুল গুলো কাঁধের এক পাশ করে এলিয়ে রাখা । হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকাচ্ছিলো হয়তো । লিনা কে দেখে মুচকি হাসলো মিহি । লিনা বললো….
” আমরা বাড়ি ফিরছি মিহি । ভালো থেকো । অনেক অনেক শুভকামনা রইলো পরবর্তী জীবনের জন্য । আবার দেখা হোক আমাদের…
” তুমিও ভালো থেকো আপু । আবার আসবে তো ?
” আসবো । তুমি যখন আছো , তখন নিশ্চয়ই আসবো । আজ আসি । আব্বু আম্মু নিচে ওয়েট করছে ।
আসি ভাইয়া….
ল্যাগেজ গুছিয়ে নিচে নেমেছে ওরা । সবার থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়েও পড়লো লিনার পরিবার । নিচে সবাই উপস্থিত । ইভানের পরিবার ও আছে । ইভান অসহায় মুখে করিডোর থেকে ওদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেখলো শুধু ।
সমুদ্রের পাড়ে শনশন বাতাস বইছে । বাতাসের কবলে উড়ে যাওয়ার দশা । সন্ধ্যা গড়াচ্ছে । পশ্চিম দিগন্তে লাল আভা মিইয়ে যাচ্ছে । সমুদ্রের চকচকে পানিতে অর্ধ ডুবন্ত সূর্যের লাল প্রতিবিম্ব ভাস্যমান । সূর্যাস্তের এই বর্নিল আভা প্রতিফলিত হয়ে অদ্ভুত সৌন্দর্য ছড়িয়েছে নিলাভ জলে ।
যেন ধীরে ধীরে পানির অতলে তলিয়ে যাচ্ছে সূর্যি । আবছা আকাশে পাখিরা উড়ে উড়ে নীরে ফিরছে । বাতাসের শনশন শব্দের সাথে সাথে শব্দ তুলে বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে বিচে । চকচকে পানি ঝিলমিল করে মিশছে বালুতে । ঢেউয়ের সাথে সাথে রেখে যাচ্ছে সাদা সাদা ঝিনুক । ঢেউয়ে ঢেউয়ে পাড়ে এসে জমা মসৃণ বালুর উপর দুই জোড়া পায়ের ছাপ । ছাপে ছাপে হাঁটার পদচিহ্ন রেখে গেছে পদ যুগলের মালিক । এক জোড়া ছোট পা , অন্য জোড়া তার তুলনায় বড় , পুরুষালি ।
এরমধ্যেই দুদিন পার করে আজ বিকেলের আগে ডিএসি থেকে সিএক্সবি রুটে সরাসরি ফ্লাইটে কক্সবাজার ল্যান্ড করেছে ওরা । এখন সন্ধ্যা । রিসোর্টে উঠে ফ্রেশ হয়ে মিহির আবদারে ওকে নিয়ে এই মুহূর্তেই বাইরে বেরিয়েছে রাফি । বিচ পুরো ফাঁকা । ব্যাস্ত দিনের শেষে শান্ত এক অপূর্ব প্রশান্তি নেমে এসেছে সমুদ্রের পাড়ে ।
হাতে গোনা কয়েকটা মানুষ এদিক ওদিক । তারাও এই সময়ে মিষ্টি বাতাসে গা ভাসিয়ে বেরিয়েছে হাঁটতে ।
মিহি হাঁটতে পারছে , তবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ধীরে পা চালাচ্ছে । এই কদিনে পা সেরে গেছে অনেকটা । হাঁটা যায় , তবে শক্তি খাটিয়ে পায়ের উপর পুরো ভর চাপিয়ে দিয়ে হাঁটতে পারছে না । খালি পায়ে সি-বিচের ভেজা বালুতে হাঁটছে মিহি । ওর পাশাপাশি রাফি ।
রুহি, শান্ত, মেহজাবিন আর মাহিম, ওরা রিসোর্টেই আছে । ওদের বলে বেরোনো হয় নি ।
মিহি বেশ আনন্দিত । সমুদ্র কে কখনো কাছ থেকে ছুঁইয়ে দেওয়া হয় নি , দুচোখ ভরে দেখা হয় নি , অনুভব করা হয় নি । এই প্রথম মিহি সমুদ্রের সংস্পর্শে । ঠান্ডা শিরশিরে বাতাসে শরীর ভেসে যাচ্ছে ওর । মন ফুরফুরে । আনন্দ উপচে পড়ছে পুরো । মিটিমিটি হাসি সরছে না ঠোঁট থেকে । রাফি নীরবে নিভৃতে পরখ করছে ওকে । ওকে দেখতে দেখতেই পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটছে ধীর গতিতে । মিহি কয়েকটা ঝিনুক কুড়িয়ে জমিয়েছে রাফির কাছে । আর কয়েকটা ওর হাতে । ওদের হাঁটার মাঝেই রাফির ফোন বেজে উঠলো টুংটাং শব্দ তুলে । সহসা মিহি ধ্যান ফেরালো । রাফি পকেট থেকে ফোন বের করে কানে ধরেছে । শান্ত ফোন করেছে । রুমে ওদের পায় নি তাই ।
রাফি ফোন রিসিভ করে বললো ওরা বিচে এসেছে । বলেই ফোন কাটলো । মিহি পিটপিট করে তাকিয়ে বললো…
” ভাইয়া ফোন করেছিলো ?
” হুম !
” জানেন , আমি না কখনো সমুদ্র দেখিনি । এই প্রথম ।
” আচ্ছা ?
” হুম ।
” হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে না ?
” মোটেই না । পা ঠিক হয়ে গেছে আমার ।
একটু থেমে আবার বললো….
” না না , কষ্ট হচ্ছে !
একটা হেল্প করুন ।
” বলুন !
মিহি এগিয়ে আসলো । থেমে দাঁড়ালো রাফি । পুরোপুরি দূরত্ব ঘুচিয়ে ওর সম্মুখ বরাবর দাঁড়ালো মিহি । খালি পায়ে বৃদ্ধা আঙ্গুলে ভর করলো । দুহাতে গলা জড়িয়ে নিলো রাফির । অতঃপর নিজের পা দুটো তুলে দিলো রাফির পায়ের পিঠে । গলা জড়িয়ে রাফির পায়ের উপর সম্পূর্ণ ভর ছাড়লো মিহি । তৎক্ষণাৎ ওর কোমর জড়িয়ে সামলে নিলো রাফি । মিহি ওর কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছেছে । রাফি চোখ নামিয়ে ওর চোখে তাকালো । মুচকি হাসলো মিহি । বললো….
” কোলে নিতে হবে না ।
এভাবেই চলুন ।
” এভাবে ?
” হুম ।
একটু থেমে চিকন মৃদু গানের টোনে গলা ছাড়লো মিহি…
“ তোর পায়ে পায়ে হাঁটি চল , ভালোবাসি শুধু একটু বল..
রাফি ভালোবাসি বললো….
এক দেখায় পর্ব ৬৮
” ভালোবাসি তো । ভীষণ ভালোবাসি তোমায় । চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝে নাও , এভাবেই তো বুঝতে চেয়েছিলে ?
মিহি মৃদু হাসে ঝংকার তুলে । সেভাবেই হাঁটতে শুরু করে দুজনে । রাফি মিহির কোমর জড়িয়ে পা বাড়াচ্ছে সামনে , আর ওর পায়ের সাথে মিলে পিছনের দিকে পা ফেলছে মিহি । চোখে চোখ রেখে আবার গাইলো মিহি ,
“ তোর চোখে দেখি , তোকে চোখে রাখি । ভাবি তোকে দিন মান , ওরেএএ জান….
