Home এক প্রণয় রাত্রি এক প্রণয় রাত্রি শেষ পর্ব 

এক প্রণয় রাত্রি শেষ পর্ব 

এক প্রণয় রাত্রি শেষ পর্ব 
আসিফা খান

ধরণীতে তখন বসন্ত। গোধূলি লগ্নে মুখরিত চারিপাশ। ব্যাস্ত মানুষজনের নগরী তে হৃদয়ের ব্যাকুলতার কাছে হার মেনে আহাজারি করে হাজারো মানব মানবী। সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে জ্বলন্ত সূর্য এখন হেলে পড়েছে বৃহৎ গাছের সেই আড়ালে। হাওয়াই মিঠাইয়ের মত মেঘরাশি ভেসে চলেছে দুর আকাশে। শীতল হওয়ার গতিবেগের সাথে সামনের চুল উড়ে বেড়াচ্ছে এক সুঠাম দেহের পুরুষের। হাতে তার এক গুচ্ছ জারবেরা ফুল। নিস্তব্ধ গোরস্থান। শুকনো বাঁশ পাতা খসখস শব্দে ঝড়ে পড়ছে মাটিতে।

আজ প্রায় দশ বছর। মাটির মাঝে ঘুমিয়ে থাকা মানবী তার জীবনে নেই। আছে শুধু তার স্মৃতি। যে স্মৃতি শুধুই নীরবে ,নিভৃতে, যতনে অনুভব করা যায়। আলতো স্পর্শে হাত বুলিয়ে দেয় সেই কবরে। সবুজ ঘাস দ্বারা আবৃত সেই কাঙ্ক্ষিত কবর। রিফাত হাসে,,,এক অদ্ভুত হাসি। সে মাঝে মধ্যেই এখানে আসে। ভালোবাসা দ্বারা পরিপূর্ণ জীবন তার কিন্তু ভালোবাসার পাঠ শেখানো সেই কাঙ্ক্ষিত নারীকে রিফাত কিভাবে ভুলে যায়!! আদেও কি সে সেই নারীকে কখনো ভুলেছে? না সে কখনোই ভুলিনি, ভুলে গেলে তার ভালোবাসা যে মিথ্যা প্রমাণিত হবে। রিফাত সময় নিয়ে দোয়া করে। মোনাজাত করে দীর্ঘ। অতঃপর হাঁটু গেঁড়ে বসে মলিন হেসে বলে,,,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“আমি জানি তুমি ভালো আছো! ভালো থাকারই কথা। কষ্টের পরে সুখ উপভোগ করছো তুমি।
আমি তোমাকে ভুলিনি ফুল। আমার হৃদয়ে তোমার জায়গা রাখা আছে। একদম গোপন করে। থাকনা কিছু বিচ্ছেদ। আমাদের তো আবারও দেখা হবে,,,সেই দিন তুমি আমার হবে। সবাই একসাথে থাকবো সুন্দর মহলে। তখন মানুষের মনে কোনো হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না,,,তাই আমি নিশ্চিন্ত।। আমাদের একটা পুতুল আছে,,,নাম তার নুরাইফা হোসেন।”
থামলো রিফাত।পরপর দুইটি কবর পাশাপাশি। রিফাত এর জীবনের বিশেষ দুই নারী এখানে ঘুমিয়ে। আফসোস শব্দটা হয়তো রিফাতের জন্য প্রযোজ্য। তাও আজ তার কোন আফসোস নেই। এটাই তো জীবন। সব হারিয়ে ফেলে আবার নতুন করে চল ার পথ খুঁজে নেওয়ার নামই জীবন। রিফাত এর বুকভর্তি হতাশার মাঝে রয়েছে এক আকাশ প্রত্যয়। তার শেষ নারী,তার অন্তিম ভালো থাকার ঠিকানা।

রুমে প্রবেশ করেই রিফাত চোখ বুলায় এদিক সেদিক। আসে পাশে সেই মায়াবিনীর অস্তিত্ব নেই। আছে তার মাতাল ঘ্রাণ। রিফাত শাস টেনে বুকে পুড়ে নেয় সেই সুবাস। রিফাত এর জীবন থাকতে কখনোই যে এই সুবাস মিলিয়ে না যায়! এই সুবাস থাকুন অনন্ত কাল।। এরই মধ্যে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এসে এক পুতুল। রিফাত এর সামনে দাঁড়িয়ে হাত বাড়ায় তার এক মাত্র মেয়ে নুরাইফা। বয়স তার দুই বছর। দেখে মনে হবে জ্যান্ত এক পুতুল। পায়ের কাছে তাকাতেই দেখে তার রাজকন্যা দাড়িয়ে আছে হাত বাড়িয়ে। মিষ্টি হাসে রিফাত। কোলে তুলে নেয় তার আদুরে কন্যা কে। অবিকল ইয়ানা মেয়েটা। চোখ,গাল,ঠোঁট সবটাই যেনো তার ইনুর মত। এই আদুরে কন্যার আবার দুই গালে টোল পড়ে। রিফাত সেই টোলে দীর্ঘ চুম্বন এঁকে বলে,,,”আমার আম্মা কি করে!”
নুরাইফা ঠোঁট ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বলে,,,”থাবো না”

“খাবে না কেনো ইফা! না খেলে বড়ো হবে কি করে!”
“তোমাল মত?”
“উম হুঁ,,,মায়ের মত।”
মেয়েটা কি বুঝলো কি জানি। তাও বাবার কথায় মাথা নাড়ালো। সে খাবে। রিফাত নুরাইফা কে বিছানায় বসিয়ে মাথায় হাত রেখে বলে,,,
“তোমার মা কই ইফা?”
হাতের ইশারা করে ব্যালকনির দিকে। রিফাত রুদ্ধ শ্বাস ছেড়ে খরগোশ টেডি বিয়ার টা মেয়ের কোলে দিয়ে নিজে ব্যালকনির দিকে অগ্রসর হয়। পিছন ফিরে দাড়িয়ে আছে তার মায়াবিনী। শাড়ির আঁচল হওয়ায় উড়ছে। বেনি করা লম্বা চুল কোমর ছড়িয়ে গিয়েছে। রিফাত আলগোছে হাত গলায় শাড়ির আড়ালে। বুকের সহিত মিশিয়ে নেয় তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে।

“এখানে কি করছো ইনু?”
ইয়ানা কেপে উঠলো। রিফাত এর দিকে ঘুরে দাড়াতেই অবাক হয় সে। তার বোকা প্রেয়সী কাঁদে কেনো? রিফাত অস্থির হয়ে পড়ে। ইয়ানার চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলে,,,
“আরে! কাদঁছো কেনো? মাথা ব্যাথা করছে! শরীর খারাপ?”
ইয়ানা দুই দিকে মাথা নাড়িয়ে না বোঝায়। নাক টেনে বলে,,,”আপনার মেয়ে একটুও খেতে চায় না। দুই ঘণ্টায় চার লোকমা ভাত খেয়েছ মাত্র। তাই,,,”
“তাই কি?”
“মেরেছি একটু। কেঁদে একটু আগে চুপ হলো”
“কিই? তুমি মেরেছো?”
“মারতে চাইনি তো,,,রেগে গিয়েছিলাম।”
“বাচ্চাদের মারলে তারা আরো জেদী হয়ে ওঠে। তাদের ভালোবাসা দ্বারা বোঝাতে হয়।”
“আর করবো না”
বলে রিফাত এর বুকে লেপ্টে যায়। রিফাত ইয়ানার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,,,”এখন তুমিও বাচ্চাদের মত কাদঁছো!!”

“ওকে মেরেছি আমি।”
“আর মারবে না। মনে থাকবে?”
“থাকবে”
ইয়ানা রিফাত রুমে গিয়ে দেখে নুরাইফা বসে বসে আপন মনে খেলছে। মা বাবা কে দেখেই দীর্ঘ হাসি দিয়ে বলল,,,”আব্বু,,,আমি থেলি”
দুই জনেই এগিয়ে এলো মেয়ের দিয়ে। ইয়ানা মেয়ের কপালে চুমু এঁকে মৃদু স্বরে বলল,,,”সরি মা আমার।”
নূরাইফা ও মায়ের গালে চুমু দিয়ে রিফাত এর দিকে খেলনা এগিয়ে দিলো। মানে এখন তার সাথে খেলতে হবে। অজ্ঞতা রিফাত ও মেয়ের কমেন্ড মাথা পেতে নিলো। খেলার এক পর্যায়ে রিফাত মেয়ের পেটে কাতুকুতু দিতে শুরু করছে নুরাইফা খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে।

দুই বছরের উর্ধে হাফিজ দেশ ছেড়েছে। দেশের মাটিতে কদম ফেলেনি এখনও। কাজের ব্যস্ততায় নিজেকে মশগুল রেখে দেশে না আসার বাহানা দেখায়। সবার সাথে সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমে যোগাযোগ রাখলেও রাখেনি একটা মানুষের সাথে।।
সময় স্রোতে বদলে গেছে অনেক কিছুই। আলেয়া এখন যুবতী। বয়স বেড়ে এখন সে উনিশ বছরের একটি সুন্দর যুবতী। সময়ের সাথে বেড়েছে আলেয়ার দেহের গঠন,,,রং লেগেছে মনের অন্তরে। একদম অজান্তেই। চিত্ত গহীনে প্রতিধ্বনিত হয় একটা নাম তাহ হলো “হাফিজ”।। আচানক হাফিজ এর চলে যাওয়া,তার উপেক্ষা আলেয়া কে ব্যাথিত করে। সুচ ফোঁটায় তার নরোম কোমল চিত্তে। রাগ বাড়তে বাড়তে কখন সেটা অনুরাগে রূপ নিয়েছে তাহ আলেয়ার অজানা।। অনুরাগের অনুভূতিগুলো মানব জীবনের এক অবাঞ্ছিত ঘোষণা পত্র। হুট করে এসেই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কঠিন থেকে কঠিন মানুষ এই অনুভূতিতে কমল হয়ে যায়, কখনো প্রেম না করা মানুষগুলো প্রণয় অনুভূতিতে তলিয়ে যায়।
কলেজ জীবনের পদর্পন করা মাত্র অহেতুক প্রেমের প্রস্তাবে যখন অস্থির আলেয়া ঠিক তখনই কানে আসে হাফিজ এর বিয়ের কথা। আলেয়ার মনে ফুটন্ত গোলাপ ফুল যেনো শুকিয়ে আসার উপক্রম।। কুঁকড়ে ওঠা অন্তরে হাফিজ এর বিদেশী নাম্বার জোগাড় করে।। ফোন করে আলেয়া। সেই যাওয়া থেকে এখন পর্যন্ত হাফিজ আলেয়ার সাথে কথা বলেনি। আলেয়া চেষ্টা করলেও না। এই নিয়ে আলেয়ার সে কি রাগ।। ফোন ওপাশ থেকে রিসিভ হয়। কানে আসে চিরো চেনা ভারী কণ্ঠ,,,

“Hallo,,,Hafiz Hossain spiking.”
আলেয়া চোখ খিচে বন্ধ করে। গলা থেকে আওয়াজ বের হয়না তার। কারোর উত্তর না পেয়ে হাফিজ আবারও বলে,,,”who’s this?”
“আমি”
“কে আমি?”
“আলেয়া”
হাফিজ এর চিত্ত আকুল হয়। প্রিয়তমার কণ্ঠ কত দিন পর শুনলো। শীতল হওয়া বয়ে যায় শরীর জুড়ে। কথা না বললেও আলেয়ার খোজ যে ঠিক রাখে। সমস্ত আপডেট সে ঠিক জোগাড় করে নেয়। আলেয়া জড়িত ভিডিও তার ল্যাপটপে সংরক্ষিত। সময় পেলেই সেই ভিডিও নিয়ে বসে পড়ে সে। হাফিজ কথা বলে না অপেক্ষা করে আলেয়ার কথার। ফোন বাম কান থেকে ডান কানে ধরে। এক পকেটে হাত গুঁজে ধীর পদক্ষেপে হাঁটতে থাকে রুমে। আলেয়া উসখুস করতে করতে বলে,,,

“তুমি কবে আসবে?”
“কেনো?”
“দাদু তোমার বিয়ে দিতে চায়।”
“হ্যাঁ,,,ভালো আইডিয়া। বয়স বাড়ছে বিয়ে করা জরুরি। বউ আমারও দরকার। দাদু কে বল মেয়ে দেখতে মাস তিনেক এর মধ্যে ব্যাক করছি আমি।”
আলেয়ার এবার কান্না পায়।। ঠোঁট কামড় ধরে। নাকের পাটা ফুলিয়ে বলে,,,”অন্যকাউকে বিয়ে করবে তুমি?”
“না করার কারণ!”
“কোনো কারণ নেই?”
“নাহ নেই।
আর কিছু বলবি?”
“ন নাহ।”

ওকে বলে কল কেটে দেয় হাফিজ। ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে। আলেয়া নামক বইটি তার মুখস্ত। সে জানে সব। নিজ ভালোবাসার ওপর মাত্রাত্বিক ভরসা করে হাফিজ অপেক্ষা করেছে। সেই অপেক্ষা কি বৃথা যাবে? না কখনোই না। আলেয়া কতটা গভীর ভাবে তাকে চায় সেটা হাফিজ এর চিত্ত জানে। রুদ্ধ শ্বাস ছাড়ে হাফিজ। এক, দুই, তিন গোনা শেষ হওয়ার আগেই কটু শব্দে ফোন বেজে উঠলে কুটিল হাসি দিয়ে ফোন কানে ধরে হাফিজ। ওপাশের ঝনঝন শব্দে চোখ খিচে বন্ধ করে, কান থেকে ফোন সামান্য দূরে সরিয়ে আবার পুনরায় কানে ধরে শুনতে থাকে রাগে ঘেরা মেয়েলি কণ্ঠ।

“বাজে মানুষ,মিথ্যুক। আমার মনে ভালোবাসার ফুল ফুটিয়ে নিজে অন্য কাউকে বিয়ে করার কথা বলো। মেরে ফেলবো। হাঁপানি রোগী কোথাকার,,, জ্যান্ত পুঁতে ফেলবো। দেশে আয় আগে,,,কেশ করবো তোর মানে,বলবো আমার মত নিষ্পাপ একটা মেয়েকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে এখন বিয়ে করবে না বলছে। আমি,,,আমি কিন্তু”
“তুই কি! কথা শেষ?আমাকে তুই তোকারি করছিস, হুমকি দিচ্ছিস আমায়! এত সাহস তোর কবে হলো?”
হাফিজের সামান্য কথায় রাগ গলে পানি হল যুবতীর। এবার হুহু করে কেঁদে উঠল । নাক টানার আওয়াজ হাফিজের চিত্তে সুর ঠেকলো। আলেয়া রিনরিনে শব্দ তুলে বলে,,,

“তুমি অন্য কেউকে বিয়ে করবে না।”
“তাহলে কাকে করবো?”
“আমাকে।”
“কাকে? আবার বল?”
“আলেয়া কে?”
“কিন্তু আলেয়া তো আমায় চায় না।”
“চায়,,, তুমি বাধ্য করেছো আলেয়া কে তোমাকে চাইতে।। নিজে তো চলে গেলে আর রেখে গেলে ভালোবাসার পিচ্ছিল সড়ক।”

হাফিজ এবার সুর তুলে হাসলো। কিছু কিছু অপেক্ষা বয়ে আনে চির সুখ। কিছুদিনের স্থায়ী কষ্টে, মন পুড়লেও পরে সেথায় শীতল পরশ ছুঁয়ে দেয় ঠিক একসময়। এটাই সেই মেয়ে, যে বিয়ে কথায় হাফিজ কে এক প্রকার অপমান করে রুম থেকে তাড়িয়ে দেয়। আহারে,ভাগ্যের চাকা! এই চাকা যখন ঘোরে,তখন বোনের বাঘ ও মানুষের সামনে খেলা দেখায়।।হাফিজ এর হাসিতে আলেয়া মুখ ফোলায়। হঠাৎ করে কানে আসে বিদেশি মেয়েলি কন্ঠ, যা হাফিজকে ডাকছে। হৃদয় ছ্যাঁত করে ওঠে আলেয়ার কাঁপা গলায় বলে,,,”কে ডাকে তোমায়? মেয়েটা কে?”
হাফিজ পুরোপুরি আলেয়ার কথাটি উপেক্ষা করে। পিছন ফিরে তাকাতে দেখে তার বিদেশী কলিগ মারিয়া। মেয়েটা বেশ মিশুক স্বভাবের এবং চঞ্চল। হাফিজকে সে পছন্দ করে তা মুখের উপরে জানায় কিছুদিন আগে। অবশ্য হাফিজের তাতে কোন যায় আসে না। কোন রকম মেয়েটাকে এড়িয়ে চললেও আজ যেন এড়িয়ে যেতে পারল না। পুরুষালি স্বরে মেয়েটির উদ্দেশে বলে,,,”Yes”

“Are you Busy? Who are you talking to?”
(তুমি কি ব্যস্ত? তুমি কার সাথে কথা বলছ?)
“Yes, I’m a bit busy. I am talking to my future wife.”(হ্যাঁ আমি কিছুটা ব্যস্ত। আমি আমার হবু বউয়ের সাথে কথা বলছি।)
মেরিয়া নামক মেয়েটি হতবাক হয়ে রয়। অবাক কন্ঠে বলে,,,”Are you engaged?”
(তুমি কি বিবাহ চুক্তিতে আবদ্ধ?)
“yes. We are getting married very soon”
(হ্যাঁ,, আমরা খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে করছি।)
মেয়েটির মুখ ছোটো হয়ে এলো। তাও হাসার চেষ্টা করে বললো,,,”so happy for you. I will talk to you later”(অনেক আনন্দিত তোমার জন্য। আমি তোমার সাথে কিছুক্ষণ পরে কথা বলছি।”
চলে গেলো মারিয়া। চোখের কোনে জমে ওঠা পানি মুছে হেসে ফেললো নিজের উপর। ভালোবাসা,,,একটা রহস্য যাহ উদঘাটন করা বড়ই কঠিন। থাকনা কিছু রহস্য।। এদিকে হাফিজের এতক্ষণের বলা কথা শুনে আলেয়া হা হয়ে রয়। কান গরম হয়ে আসে তার। আরক্ত হয় মুখশ্রী। শোনা যায় হাফিজ এর কন্ঠ,,,
“দ্রুত দেশে আসছি। আমার হওয়ার জন্য তৈরি হয়ে থাক।।”
আলেয়া ফোন বুকের সাথে চেপে ধরে। তার হৃদস্পন্দন বাড়ছে তির তির করে। মৃদু কাপছে শরীর। হাফিজ বোঝে সবটাই,,,চোখ বুজে ফেলে।উপভোগ করে প্রিয়তমার বুকের ধুক ধুক শব্দ।

ছয় মাসের ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে আছে আহিল। সামনে বিছানায় বসে এক নাগাড়ে কেঁদে যাচ্ছে আতিকা,,,মায়ের সাথে সমান তালে তাল মিলিয়ে কাঁদছে তাদের ৬ মাসের ছেলে আদিল।
এদিকে আহিল অসহায় ভঙ্গিতে তাকাচ্ছে দুই জনের দিকে। কি করবে তার মাথায় আসছে না।
আহিল কোনো রকম বললো,,,
“আতু জান আমার প্লিজ স্টপ ক্রাইং। দেখো বাবুও কাদঁছে”

আতিকা কোনো রকম ক্রন্দনরত কন্ঠে আওড়ায়,,,”ও খায়না কেনো! সারাদিন কাঁদে। ওর কান্না থামাতে পারিনা বলে মা আমায় বকে। আমি কি করবো! এত খাওয়ানোর চেষ্টা করি তাও খায়না,,মুখ ফিরিয়ে নেয়।”
“আচ্ছা আমি সব বুঝেছি। এখন কান্না থামাও জান আমার। ওর হয়তো খিদে পাচ্ছে,,,প্লিজ একটু ফিড করাও।”
কিছু দিন আগেই আতিকা বাপের বাড়ী থেকে শশুর বাড়িতে এসেছে। প্রেগনেন্সির পাঁচ মাস থেকে শুরু করে কিছুদিন আগ পর্যন্ত আতিকা নিজের বাপের বাড়ি ছিল। আহিল এবং তার পরিবার আতিকাকে নিয়ে আসতে চাইলেও আতিকার পরিবার তা নাচোক করে দেয়। মেয়ের সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তে তারা আতিকার পাশে থাকতে চেয়েছিল। এতদিন নিজ মায়ের সাহায্যে বেবিকে ফিড করালেও এখানে এসে সে হেল্পলেস হয়ে পড়ে। শ্বাশুড়ি কে বলতে লজ্জা লাগে আর আহিল কে এতদিন মুখ ফুটে কিছুই বলেনি লাজে। কিন্তু এখন সাহায্য চাইতেই হবে,নাহলে হয়তো তার বেবি ক্ষুধার্থই রয়ে যাবে। আতিকা আমতা আমতা করে বলে,,,

“আমি একা ওকে ফিড করাতে পারি না।”
আহিল দ্রুত গতিতে নিজ স্ত্রীর পানে তাকায় ভ্রু কুঞ্চিত করে বলে,,,”তাহলে এতদিন,,,”
আতিকা আহিলকে পুরো কথা আর সম্পূর্ণ না করতে দিয়ে নিজ থেকেই বলে ওঠে,,,”মা হেল্প করতো।”
কথাটি বলে আতিকা মাথা নিচু করে নেয়। আহিল তাহ দেখে মৃদু হেসে আতিকার পাশে বসে বেবিকে তার কোলে দিয়ে আতিকার গালে হাত রেখে মোলায়েম কণ্ঠে বলে,,,”এটা আগে বললেই হত এত হেজিটেড ফিল করার কি ছিল! আমিই তো।”
“আমি ভালো মা না,,,তাই না।”
“চুপ,,,এরকম কথা যেনো আর না শুনি।। বেবি ফিডিং না করাতে পারা খুবই কমন ব্যাপার নিউ মাদার দের কাছে। তাই এই সামান্য ব্যাপার নিয়ে এত মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। তুমি শুধু আমাকে নিয়ে মাথা ঘামাও। আর আমার বেবিকে নিয়ে।”

“আপনি আরো ভালো কাউকে ডিজার্ভ করতেন যে, সব কাজে পারদর্শী হতো। আপনিও নিশ্চিন্তে থাকতে পারতেন,কোনো বিষয়ে টেনশন করা লাগত না।”
আতিকা আরো কিছু বলতে গেলেও আহিল নিজ তর্জনী আঙ্গুল দ্বারা তার ঠোঁট চেপে ধরে। চোখে চোখে রেখে বলে,,,”আমি যাকে ডিসার্ব করতাম তাকেই বিয়ে করেছি আর সে এখন আমার বাচ্চার মা। খবরদার, তোমার মুখ থেকে যদি আর এরকম কথা শুনি আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।”
এতক্ষণ ক্রন্দনরত বাচ্চাটি মা-বাবার কথোপকথনে চুপ হয়ে যায়। মিটিমিটি দৃষ্টি রেখে দেখতে থেকে নিজ মাতা পিতাকে। আহিল একবার ছেলের দিকে চেয়ে তার কপালে দীর্ঘ চুম্বন এঁকে বলে,,,” আমার বাবার খিদে পেয়েছে! আমার বাচ্চা, এক্ষুনি মা খাওয়াবে।।”

অতঃপর আতিকার উদ্দেশে বলে,,,”ঘোরো আমার দিকে। ওড়না সরাও”
আতিকা লজ্জায় একাকার হয়ে যায়। তার লজ্জা দেখে আহিল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,,,” যার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে এক বাচ্চার মা হয়ে গেল তার কাছ থেকেই এখন লজ্জা পাচ্ছ। কোথায় যাব আমি আতু! এখনো যদি পুরোপুরি লজ্জা না ভেঙ্গে থাকে,,তাহলে আমরা আবার ট্রাই করতে পারি। কি বলো”
বলেই চোখ টিপ মারল ফাজিল আহিল। আতিকা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,,,
“বেহায়া”
“বাহ্ রে আমি বেহায়া হয়ে গেলাম! আচ্ছা যদি আমি বেহায়া না হতাম তাহলে বেবি আসতো কোথা,,,”
আতিকা আহিলের মুখ চেপে ধরে চোখ খিঁচে বন্ধ করে মিনমিন কণ্ঠে বলে,,,”দোহায় লাগে আহিল,,,আর কিছু বলবেন না।”

আহিল ও সুযোগ বুঝে আতিকার হাতে চুমু দেয়। আতিকা দ্রুত হাত সরিয়ে নেয়। অতঃপর আহিল এর সাহায্যে বাবু কে ফিড করাতে থাকে। তাদের ভালোবাসা থাকুক অটুট। জীবন থাকুন ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। তাদের এই ছোট্ট পরিবার সুখের আলোয় আলোকিত হয়ে থাকুক। আহিল নামক পুরুষ হুট করেই এক মায়াবিনীতে আটকে যায় অতঃপর তাকে পেতে নিজের সবটুকু উজাড় করে দেয়। ভালোবাসার পূর্ণতায় নিজেকে পরিপূর্ণ মনে করে। তার হৃদয় রানী হৃদয়েই থাকুক,রাখুক তাকে জড়িয়ে নিজ বুকে।

হাতে কিছু ফাইল নিয়ে তাতে চোখ বুলাতে ব্যাস্ত রিফাত। পাশেই নূরাইফা খেলতে ব্যাস্ত। সে মাঝে মধ্যেই বাবার ঘন সিল্কি চুলে ক্লিপ লাগাচ্ছে। বাবার ঠোটে চুমু দিয়ে,গালে গাল ঘষছে। রিফাত ও ফাইল দেখার সঙ্গে মেয়ের সাথে নানান রকম কথা বলছে।
মেয়েটা বাবা পাগল। বাবা পেলে কি চাই তার! মাকে মনে পড়ে খাওয়ার সময়। নুরাইফা নামটা ইয়ানার রাখা,নামটা শোনা মাত্র রিফাত অবাক হয় প্রবল। তখন ইয়ানা হেসে বলেছিল,,,
“যে আপনাকে পাইনি বলেই আমি আপনাকে পেয়েছি,,তাকে কি ভাবে ভুলে যাই! এই নাম আমাকে মনে করিয়ে রাখবে,হাশরের মাঠে আপনাকে একটি নারী নিজের বলে দাবি করবে তখন যেনো আমি অবাক না হই।”
নিদারুণ কথায় সেদিন রিফাত এর বুকে ছলাৎ করে ওঠে। নারী বড়ই অদ্ভুত। রহস্যময় তাদের অনুভূতি। মেয়ের হাতের স্পর্শে রিফাত এর ঘোর কাটে। সে বাবার বুকে মুখ ঘষছে। রিফাত হেসে মেয়েকে কোলে নিয়ে উঠে দাড়ায়। জানালার কাছে যেয়ে দাঁড়াতেই নুরাইফা আকাশ পানে আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে ,,,”আব্বু,, সুন্দল চাঁদ মামা”
রিফাত মৃদু হেসে বলে,,,”আমার মা বেশি সুন্দর।”
নুরাইফা হেসে উঠলো খিলখিল করে। মেয়ের হাসি মন ভরে দেখলো রিফাত।
“গল্প শুনবে আমি।”

মেয়ের আধা অর্ধেক কথা ত্বরিত বুঝে ফেললো রিফাত। মেয়ের ইশারা,তোতলা শব্দ সব যেনো রিফাত এর মুখস্থ। মেয়ের না বলা কথাও যেনো সে বুঝে ফেলে কি ভাবে। মেয়েকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে। নিজ কল্পনায় এঁকে যাওয়া গল্প ঠোঁট নাড়িয়ে বলতে শুরু করে রিফাত,,,
“এক ছিল সুখী রাজা। সুখের আলোয় আলোকিত ছিল তার রাজ্য। কিন্তু হঠাৎ একদিন তার রাজ্যে নেমে আসে দুঃখের আঁধার। তার জীবনের প্রথম নারী তার আম্মা তাকে ছেড়ে চলে যায় বহু দূর। সেই ঘোর আঁধারে রাজা ডুবে গেলো মাঝ সমুদ্রে ভাসমান সেই নাউ এর মত যা হঠাৎ সামুদ্রিক প্রলয়ে নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অক্ষম ছিল।। সুখী রাজার রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে দুঃখের কালো মেঘ। রাজা পারে না নিজেকে সংযত রাখতে,,,সময়ের সাথে রাজা হারিয়ে যেতে লাগলো। সময় বহনাম উত্থাল স্রোতের ন্যায়।

হঠাৎ রাজার জীবনে আগমন ঘটে এক মিষ্টি মেয়ের,,,যুবক জীবনে রাজার হৃদয় বেঁধে যায় সেই মেয়ের প্রতি। কিন্তু বিধাতার নির্মম পরিহাস সেও রাজা কে ছেড়ে চলে যায় না ফেরার দেশে।। রাজা ভেঙ্গে পড়ে। তার অস্তিত্ব হারিয়ে যায়,ভুলে যায় ভালোবাসাতে। কোনো এক পোকা যেনো সেই রাজাকে কুড়ে কুড়ে খেতে থাকে। দুঃখের গুহায় হয় তার অবস্থান। কিন্তু সব কিছুর মধ্যেও রাজা মনে রাখে তার মায়ের স্বপ্নের কথা। উঠে দাঁড়ালেও রাজা বিশ্বাসের অযোগ্য করে সবাই কে। ভালোবাসাহীন জীবনে হঠাৎ করেই এক নাম জানা রাজকুমারী জড়িয়ে যায় রাজার সাথে। নিজের জীবনে কারোর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা রাজা মেনে নেয়নি সেই মায়াময়ী কে। অবহেলায় ফেলে যায় সেই রাজকুমারী কে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার বিধান এর উপর কার জোর! সেই পবিত্র ফুল রাজার জীবনের নিয়ে আসে সুখের সুঘ্রাণ। রাজার গড়া শক্ত দেওয়াল সরিয়ে হাত বাড়িয়ে তাকে আলোয় টেনে আনে সেই মায়াবিনী। রাজা যেনো আবারও বাঁচার আশা খুজে পায়। তার রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ঝলমলে আলো। সেই পবিত্র নারী তার জীবনের শেষ ঠিকানা হয়ে দাঁড়ায়। ভালোবাসা থেকে যোজন দূরে সরে আসা রাজাকে অনুরাগের পাঠ শেখায়,,,শেখায় জীবনের উদ্দেশ্য। রাজা তাকে ভালোবাসে,ভীষণ ভালোবাসে।”

“সেই রাজকুয়ারিও রাজা কে অসম্ভব ভালোবাসে,বিশ্বাস করে।”
অপরূপ আবেগ মিশ্রিত কন্ঠে দুই বাপ মেয়ে তাকায় দরজার দিকে। ইয়ানা দাড়িয়ে আছে। ঠোঁটের মাঝে এক সুন্দর হাসির ঝিলিক। রিফাত দেখে তার প্রাণের অস্তিত্ব কে। আচ্ছা সেই দিন ইয়ানার কিছু হয়ে গেলে সে কি করত? আদেও বেঁচে থাকত তো সে? জানা নেই। সেই প্রশ্ন রিফাত নিজেকে বহুবার করেছে কিন্তু উত্তরে সে পেয়েছে একটাই বাক্য,,,ইয়ানা হীনা সে জড়বস্তু মাত্র। মেয়েটা ছাড়া নিজেকে কল্পনা করতে ভয় করে রিফাত এর। সচক্ষে প্রিয় মানুষদের মৃত্যু দেখা কোনো বিষ পান করার মত। যারা এই বিষ পান করে তারা জানে এর কষ্ট কি রূপ। রিফাত এই কণ্ঠমণি কেপে উঠল। সেই দিন বাথরুমে রক্তের স্রোত বয়ে গেছিল। ইয়ানা অবচেতন হয়ে বুকে আঁকড়ে ধরে ছিল সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাত শিশু কে। রিফাত হয়ে পরে বাক্যহারা। তার হৃদস্পন্দন থমকে যায়। চোখের সামনে যেনো সব শেষ হয়ে যাওয়ার দৃশ্য ভেসে ওঠে। সে কি আবার নিঃস্ব হয়ে যাবে!

কাঁচের ঘোর বাচ্চা রাখা হয়। ইয়ানার চেকাপ শুরু হয়। কান্নার রোল ছড়িয়ে পড়ে চারি পাশে।প্রচুর বিল্ডিং হওয়ার কারণে ইয়ানার অবস্থা হয় শোচনীয়। রিফাত পাগল প্রায় হয়ে চুল আকড়ে ধপ করে বসে পড়ে। কাঁধে কারো স্পর্শ পেয়ে মাথা তুলে তাকায়, মিসেস আসফিয়া কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে রিফাত অস্পষ্ট স্বরে বলে ” মা”। আঁকড়ে ধরে তার হাত। আচ্ছা রিফাত কি জানে সেদিন তার ছোট্ট বাক্যে সেই অর্ধ বয়স্ক নারীটির মনে ঝড় বয়ে যায়, তার সেই একটা বাক্য নিজের বুকের কোণে আটক করে রেখেছে। সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা ছাড়া কোনো উপায় নেই যখন তখন রিফাত উন্মাদের মতো ছুটে যায় মসজিদে। মোনাজাতে আকুতি মিনতি করে সেই পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর কাছে। ইয়ানা কে তার ফিরে পাওয়া যেনো কোনো মোজেজা। রিফাত এর উপর যেনো দয়া করেছেন তিনি। তাকে নিঃস্ব করেননি। তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেননি। রিফাত পারে না নিজেকে সংযত করতে। হাউমাউ করে কেঁদে সেদিন বুকের মাঝে জড়িয়ে নিয়েছিল ইয়ানা কে। আশপাশ ভ্রুক্ষেপ না করেই শক্ত চুম্বন এঁকে দেয় ইয়ানার ঠোঁটে। কি বেদনা দায়ক সেই সময়।

নুরাইফা ঘুমিয়ে পড়েছে। রিফাত তাকে বিছানায় শুইয়ে তার দুই ধরে বালিশ রাখে। অতঃপর মাথায় চুমু দিয়ে যায় বারান্দায়। তখন ইয়ানা নুরাইফা কে খাইয়ে দেয়,সাহায্য করে রিফাত ও। মেয়েটা সব সময় কথা শোন কিন্তু খাওয়ার সময় যত রাজ্যের কান্না,জেদ শুরু হয়। এক প্রকার যুদ্ধ করে খাওয়ানো লাগে তাকে। খাওয়া শেষ করেই রিফাত এর বুকে লেপ্টে চোখ বুজে মেয়েটা। ইয়ানা নিচ থেকে রুমে এসে দেখে মেয়ে ঘুম বাবার বুকে। ইয়ানাও কথা বলে না মেয়ে উঠে যাবে বলে। এমনিতেও সকালের আচরণের সে অনুতপ্ত। মেয়ের কপালে দীর্ঘ চুম্বন এঁকে ব্যালকনিতে দাঁড়ায়। অর্ধ চাঁদ,তারকা রাশি দ্বারা পরিপূর্ণ আজকের আকাশ।
উন্মুক্ত পেটে প্রাণের স্বামীর হাতের ছোঁয়া পেতেই ইয়ানা চোখ বুজে মাথা এলিয়ে দেয় প্রশস্থ বুকে। রিফাত হেসে বলে।

“আমার বউ একা একা দাড়িয়ে কি করে।”
“চাঁদ দেখে”
“আমি ছাড়া?”
“আপনার চাঁদ তো আমি।”
বলেই হাসে ইয়ানা। রিফাত মেয়েলি কাধে চুমু এঁকে বলে,,,”আমার দুইটা চাঁদ। আমার ঘর আলো করে আমার জীবন ধন্য করার জন্য আপনার অনেক ধন্যবাদ বোকা প্রেয়সী।”
ইয়ানা ঘুড়ে দাঁড়ায়। রিফাত এর চোখের কোণে হঠাৎ জমা পানি মুছে দেয়। অধরে অধর ঠেকিয়ে বলে,,,”আপনি আমার চিরো সুখ,,,রিফাত।”
মিলে যায় তিরতির করা দুই জোড়া ঠোঁট। সময় যায় নিজ দায়িত্বে। দুই জন দুই জনে মত্ত,দুর্বল। ইয়ানা হাপিয়ে ওঠে। রিফাত এর বুকে চট করে মেরে বলে,,”ভালো হবেন কবে!”
রিফাত শব্দ করে হাসলো,,মাথা এদিক ওদিক নাড়িয়ে বললো,,”কখনো না।”

রিফাত একবার চোখ ঘুরিয়ে তাকালো তার ঘুমন্ত পুতুলের দিকে আবারও সামনে তাকিয়ে দেখলো তার প্রেয়সী কে। অর্ধ চাঁদের স্নিগ্ধ আলো ছুঁয়ে দিচ্ছে তার প্রাণ ভোমরা দের। আহা,,কি শান্তি,কি সুখ। বেহায়া হওয়া ছুঁয়ে দেয় ইয়ানার চুল। অবাধ্য কেশ রিফাত সরিয়ে দেয় যত্ন করে। বছর বছর পূর্বে রিফাত এই অর্ধ চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় এক রমণী কে দেখে থমকে গিয়েছিল। ঠিক যেনো সেই রাতের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে আজ। রিফাত আবারও থমকে গিয়েছে। সে আবারও প্রেমে পড়েছে। রিফাত তার অন্তর্ভেদী চাহনি দেখে ইয়ানা খানিক লাজুক হেসে বলে,,,”কি দেখেন?”
রিফাত আবেগ মিশ্রিত কন্ঠে বলে,,,”আমার জীবন গল্পের এক অনন্য চরিত্র কে। আমার ছন্নছাড়া জীবন কে গুছিয়ে দেওয়া এক জাদুকরি কে। আমার নিদ্রাহীন রাতের প্রনয় পরি কে।”

ইয়ানার চোখ ভরে ওঠে। আঁকড়ে ধরে রিফাত কে। সে কখনোই ভাবিনি বাবা হীনা মেয়ের জীবনের কখনও এত সুখ আসবে। হয়তো এই সুখের দোয়া তার মায়ের দেওয়া। ইয়ানা ঢোক গিলে মৃদু স্বরে বলে,,,”আমাকে সব সময় আপনার বুকে লেপ্টে রাখবেন রিফাত। কখন সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা মাথায় আনবেন না।”
“আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমায় আমি ছাড়ছিনা ইনু পাখি।”

এক প্রণয় রাত্রি পর্ব ৪৬

তাদের এই একান্ত মুহূর্তে কানে আসে নুরাইফার কণ্ঠ। ঘুমের মাঝে মা বাবা কে খুঁজছে সে। রিফাত ঠোঁট উল্টে ইয়ানার দিকে তাকালো। তাহ দেখে হেসে ফেললো ইয়ানা। ছুটে রুমের দিকে যেতে নিলে রিফাত শরীর আঁচল টানে। ইয়ানা পিছে ফিরতেই বলে,,,”ঘুমাবে না।”
“কেনো?”
রিফাত এগিয়ে এসে কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে,ফিসফিসিয়ে বলে,,,,
“আবারো প্রনয় রাত্রি চাই।”

সমাপ্ত