Home এক রহস্যময় ভালোবাসা এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৩

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৩

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৩
Chadny islam

সিকদার মহলের প্রতিটি কোনায় কোনায় আলোক সজ্জায় সজ্জিত!আশরাফ সিকদার এবং আদিস সিকদার কড়া নজরে সব কিছু দেখছেন ঠিক ঠাক আছে না! আদিস সিকদার এর বন্ধু বেলাল চেয়ারম্যান এর আসার কথা ছিলো বিকেলে কিন্তু তারা বিকেলে আসতে পারেনি! হয়তো রাতে আসবে! আদিল ঈশান আদিব সবাই বাড়ির এদিক সেদিক ভালো ভাবে দেখছে সব কিছু ঠিক ঠাক আছে কিনা! আদিব রিফাত কে ইতিমধ্যে কয়েক বার কল করে ছিলো, কিন্তু রিফাত কল পর্যন্ত রিসিভ করে নি! শপিং মলে এক সাথে গিয়ে ছিলো ঠিকি, তবে এক সাথে বাড়ি ফিরে আসে নি! কেনা কাটার মাঝখানে কোথায় যেনো হারিয়ে গিয়েছে, আদিব কলি কে বেশ কয়েক বার জিজ্ঞেস করে ছিলো, কিন্তু কলি কোনো সঠিক উওর দিতে পারে নি!

সন্ধ্যা সাত টার দিকে,,,,
কলি এক পাশে বসে বসে টেক্সট পাঠাচ্ছে রিফাত কে, তার মাঝে ছেলের বাড়ি থেকে লোক আসাই ইরা জুথী রিমঝিম সবাই মিলে কলি কে তাড়াতাড়ি খুব সুন্দর করে লাল টুকটুকে শাড়ি পরিয়ে দিচ্ছে!
রিমঝিম শপিং মল থেকে সোজা নিজের বাড়ি চলে যেতে চাইলে, কলি একদম কড়া ভাবে যেতে নিষেধ করেছে রিমঝিম কে! তাই রিমঝিম ও বাধ্য মেয়ের মতোন আর বাড়ি যায় নি! কলির সাথেই আছে কলির বাড়িতে!
কলির সাথে রিফাত কে জড়িয়ে রিমঝিম বেশ অনেক গুলা প্রশ্ন করে ছিলো, এর মধ্যে রিমঝিম এর একটা কমন প্রশ্ন ছিলো!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

____তুই যে বললি রিফাত ভাইয়ার সাথে চলে যাবি কিন্তু গেলি না যে!
কলি রিফাত এর কথা শুনে কিছুটা রাগ দেখিয়ে বলেছিলো, প্রয়োজন নেই ওর মতোন ছোট লেকের ছেলের সাথে যাওয়া! আমার সাথে কি ওর যাই!
কলির মুখে এমন কথা শুনে রিমঝিম বিরক্তি প্রকাশ করলেও কিছু করার ছিলো না, জীবন টা যেমন তার বিয়ের সম্পূর্ণ ডিসিশন টাও তার, তাই রিমঝিম আর কোনো প্রশ্ন করে নি! এবং কোনো কথাও বাড়ায় নি!
ইরা রিমঝিম জুথী সবাই কলি কে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়ে নিজের রুমে চলে আসে,নিজেরা রেডি হওয়ার জন্য!ইরা কার্বাড হতে রিমঝিম কে একটা শাড়ি এবং জুথী কে আরেক টা শাড়ি হাতে তুলে দিয়ে বললো!!

_____ তোমরা এইগুলা পরো, অনেক আত্মীয় স্বজন আসবে!
তারপর সবাই এক এক করে নিজেদের মতোন রেডি হতে শুরু করলো!
ড্রয়িংরুম ভর্তি মানুষ এর আনাগোনা, বেলাল চেয়ারম্যান এর বাড়ি থেকে প্রায় বিশ জন এর মতোন লোক এসেছে, তাদের কে দেখে এই মূহুর্তে মনে হচ্ছে ছোট খাটো একটা বিয়ের বরযাএী আসছে! বেলাল চেয়ারম্যান এর একমাএ ছেলে মায়ান হাসান, এবং তার মেয়ে মিলি সহ পরিবারে চলে এসেছেন!
আদিস সিকদার সবাই কে নিয়ে খাবার খেতে বসে গেলেন!নির্দিষ্ট জায়গায় যেখানে সবার জন্য খাবার ব্যবাস্থা করা হয়েছে!

বেলাল চেয়ারম্যান এর একমাএ মেয়ে মিলি আর চোখে আদিল কে দেখছে বার বার! কালো পাঞ্জাবিতে অসম্ভব সুদর্শন লাগছে আদিল কে, এক দুবার নয় হাজার বার দেখলেও মন ভরবে না এই পুরুষ কে! অসম্ভব সৌন্দর্যের অধিকারী এই পুরুষ! মিলি ভাবলো,ইসস কি হ্যান্ডসাম এই পুরুষ কে যদি বিয়ে করতে পারতাম, আচ্ছা এই পুরুষ টি কি বিয়ে করছে! মিলি বার বার তাকাতাকি করে দেখছে আদিল কে!
অবশ্যই আদিল এসব কে মুটেও পাওা দেয় না! নট ইন্টারেস্ট বলে কাটিয়ে দেয়! তবে ঈশান মিলি কে এত বার করে তাকাতাকি করতে দেখে আদিল কে উদ্দেশ্য করে বললো!!

___বারো মাসে চব্বিশ টা বিয়ে করার ইচ্ছেটা এখনো আছে নাকি থাকলে বল!!
আদিল বিরক্তি টেনে বললো!!
___কেনো?
ঈশান চোখ দিয়ে ইশারা করে বললো,
___ওই যে মেয়ে টিকে দেখছিস, তোর উপর ক্রাস খেয়ে ট্রাস হয়ে গেছে, দুঃখ হচ্ছে ওই মেয়ের জন্য যখন জানবে তুই বিবাহিত মন টা একদম ভেঙে যাবে?
আদিল কপাল কুঁচকে বললো!!

____ইডিয়েট তোর এত মায়া হচ্ছে তো তুই বিয়ে কর!
ঈশান একটু অসহায় কন্ঠে নাটক করে বললো!!
___হুম করতাম যদি জুথী ঝাড়ু পিটানি টা না করতো!
আদিল চুল গুলো ঠিক করতে করতে বললো!!
___সালা বউ এর গোলাম, ছ্যা দূরে গিয়া মর!
ঈশান আদিল কে বললো!!
__°এমন ভাবে বলছিস, যেনো তোর ডজন ডজন সাহস বউ কে একদম ভয় পাস না??
আদিল একটু ভাব নিয়ে বললো!!

___তোর বোন কে ভয়, হাও ফানি?
ঈশান অবাক হওয়ার নাটক করে বললো!!
___আদিল সিরিয়াসলি বলছিস!
আদিল আবারও একটু ভাব নিয়ে বললো!!
___হুম, প্রুভ চাই!
হুম আবার জিগায়! ___ওকে প্রভু পেয়ে যাবি সময় মতোন !
ইরা আদিল এর পাঞ্জাবির সাথে ম্যাচিং করে কালো রংঙের একটা বেশ দামী শাড়ি পরেছে, অনেক লোক আসবে তাছাড়া অহনা সিকদার বলে গিয়ে ছিলেন বাড়ির বড় বউ দের মাঝে মাঝে শাড়ি পরতে হয়!বিশেষ করে কোনো অনুষ্ঠানে, তাই ইরা ও বাঙালি মেয়ে দের মতোন শাড়ি পরে নিয়েছে!
রিমঝিম জুথী ইরা সবাই একরকম করে সেজে গুজে নিচে চলে এসেছে! ইরা কে উপর থেকে নিচে আসতে দেখে ঈশান বললো!!

____এবার যা কথা বল দেখি তোর কেমন সাহস??
আদিল রাগে রিরিরি করে বলে উঠলো!!
___আমি আগে কথা বলবো, এত টাও বাজে দিন আসে নাই আমার!
ঈশান বুঝলো আদিল এর নাটক, তাই ঈশান এগিয়ে গেলো ওই মেয়ে টির দিকে, গিয়ে কথা বলতে শুরু করলো আগ বাড়িয়ে, সেই সাথে বেয়াই এর পরিচয় দিয়ে! ঈশান আগ বাড়িয়ে কথা বলতে বলতে মিলি কে নিয়ে আদিল এর কাছে গিয়ে দাড়ালো ঈশান ! আদিল এর সামনে দাড়াতেই মিলি যেনো বিমড়ি খেয়ে পরবে সেই রকম উপক্রম হলে,মিলি মনে মনে ভাবলো, ওপপস কি সুন্দর ইয়াং হ্যান্ডসাম ইসসস যদি আমার হতো! মিলি কে এমন ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে আদিল মেয়ে টিকে পাগল বলে সম্মোদন করলো, আদিল এর বিরক্ত লাগছে এইখানে, বিশেষ করে ওই মেয়ের ড্যাব ড্যাব করে তাকানোতে, আদিল মেয়ে টির সামনে থেকে চলে যেতে চাইলে ইশান এক হাত টেনে মিলির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে দিতে বললো!!

____আমার বন্ধু আদিল,
সাথে সাথে মিলি হাত বাড়িয়ে দিলো হান্ডসেক করার জন্য,আদিল বেশ কিছুটা নিরুপায় হয়ে হাত মিলালো, এখন হাত না মিলালে মেয়ে টিকে অপমান করা হবে, চেনা নেই জানা নেই তাই মেয়ে টা আদিল অপমান করলো না বরং হাত মিলালো, হাত মিলাতেই মিলি বলে উঠলো!!
___আমি মিলি চেয়ারম্যান বাড়ির একমাএ রাজকন্যা!
আদিল এদিক সেদিক তাকিয়ে অল্প হাসলো, এই মেয়ে কি জানে না সে কার সাথে হাত মিলাচ্ছে, কার বাড়িতে দাড়িয়ে আছে, আদিল হাত সরিয়ে নিয়ে খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
____আমি আদিল!!
মিলি টপ করে বললো!!

___আপনি এমপি আদনান সিকদার আদিল তাই না!
ঈশান পাশ থেকে আদিল কে উপেক্ষা করে বলে উঠলো!!
____আপনি কিভাবে চিনেন??
মিলি খুব স্বাভাবিক ভাবে বললো!!
____ওনি তো এমপি ওনাকে কে না চেনে, ওনি তো আমার এককালীন ক্রাস!
ওহহহ! বেশ সময় নিয়ে আদিল ঈশান মিলি কথা বলে! অন্যদিকে ইরা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠছে বার বার! তাকে দেখিয়ে অন্য মেয়ের সাথে এত কিসের কথা! ছোট লোক একটা, বদমাশই লোক আমাকে জেলাস ফিল করাতে চাইছেন! ইরা কিছু মিনিট সবার সাথে কথা বলে দূত গাল ফুলিয়ে নিজের রুমে চলে যায়! তার বড্ড রাগ হচ্ছে, সুন্দর হলেই বুঝি ডজন ডজন বেডি মানুষ এর সাথে কথা বলতে হবে! এই পারমিশন তাকে কে দিয়েছে! এইটা এক দম ঠিক না তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনের ব্যাবস্থা নিতে হবে!
ইরা যে রাগ করে রুমে চলে গেলো, এই বিষয় টা আদিল এর বুঝতে এক সেকেন্ড বাকি রইলো না! আদিল ও ছুটলো রুমের দিকে, আদিল কে ছুটতে দেখে ঈশান ঠোঁটে ঠোট কামড়ে হাসতে হাসতে বললো!!

____সালা বউয়ের গোলাম!
আদিল রাগে কটমট করে তাকিয়ে গম্ভীর গলাই বললো!!
___পৃথিবীতে তুই চেষ্ট ভাই যে কিনা বোন এর সংসারে আগুন লাগস! সালা তুই ভাই নামের কলঙ্ক!
ঈশান কপাল কুঁচকে বললো!!
____মুটেও না আমিই বিশ্ব সেরা ভাই, যে কিনা হাসতে হাসতে তোর কাছে বোন বিয়ে দিয়েছি, মানে তোর মতোন একটা লাফাঙ্গার কাছে!

“”সালার ভাই দুলাল, তুই কিনা আমাকে লাফাঙ্গা বলিস দাঁড়া! তবে রে…
ঈশান এক দৌড়ে চলে গিয়েছে দরজার বাইরে, আদিল এর একটা সম্মান আছে লোক সমাজের কাছে তাই ঈশান কে আর দৌড়ানি টা দিলো না, বরং উপরে নিজের রুমে চলে গেলো! বউ যে রাগ করছে রাগ ভাঙ্গাতে হবে, একমাএ বউ বলে কথা!এত সুন্দর টমেটোর মতোন বউ টা আমার! সব সময় গাল ফুলিয়ে থাকলে বিষয় টা খারাপ দেখায় না! আজকে রুমে গেলে হয়তো ছোট খাটো একটা ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাবে!
আদিল গলা উঁচিয়ে ডাকলো ইরা কে, কিছু হয় নি এমন নাটক করে! ইরা বেলকনির এক পাশ গেসে দাড়িয়ে আছে! আদিল কে না দেখার মতোন করে, কোনো ভাবে আদিল এর বলা ডাক টিকেও উপেক্ষা করে ফেলেছে! আদিল কপাল কুঁচকে বললো,

___এত রাগ কিসের??
ইরা এক ঘেরালি করে তাকালো না আদিল এর দিকে, আগের মতোন কোনো রকম প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে দাড়িয়ে রইলো!!ইরা কে এমন ভাবে দেখে আদিল শান্ত মেজাজে বললো!!
____আপনি শুনতে পাচ্ছেন ম্যাডম, আমি কিছু বলতে চাই আপনাকে??
ইরা অল্প তাকিয়ে রাগী গম্ভীর গলাই বললো!!
____হ্যা বলেন!!
আদিল ঠোঁটে ঠোট কামড়ে বললো!!
___আপনি কি কোনো ভাবে আমার প্রতি জেলাস??
ইরা কপাল কুঁচকে ফেললো, তবে আদিল কি তার রাগের কারন টা বুঝতে পেরে গেছে, ইরা গলার স্বর উঁচিয়ে বললো!!

____আমার এত টাও বাজে দিন আসে নি, যে আপনার মতোন মানুষ কে নিয়ে জেলাস হবো??
আদিল হাত দিয়ে চুল গুলো কে ঠিক করতে করতে বললো!!
___চোরের মায়ের বড় গলা!
ইরা রাগে ফুপে উঠলো,তাকে কিনা চোরের মা বলা হচ্ছে! ইরা শক্ত করে খামচে দরলো আদিল এর পাঞ্জাবি,সাথে সাথে বসিয়ে দিলো শক্ত দাতের কামুড়!রাগের তোপ বাড়ার সাথে সাথে কামুড় এর জোর টাও বেড়ে যাচ্ছে বেশ! আদিল ব্যাথার টুকরে উঠছে বার বার, ইরার কামুড় দেখে মনে হচ্ছে এইটা আদিল এর হাত নয়, বরং দেশি মুরগ বা মুরগী ! আদিল ইরার মুখ থেকে নিজের হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো, এতে করে ইরা রেগে গিয়ে আরও কামুড় এর জোর বাড়িয়ে দিলো! ব্যাথায় আদিল এর চোখ টলমল করে উঠছে বার বার, দেখে মনে হচ্ছে টপ করে এক ফোঁটা পানি নিচে গড়িয়ে পরলো,আদিল মূহুর্তেই শান্ত গলাই বললো!!

___বউ সরি, আর হবে না!
ইরার ছাড়ার কোনো নাম গন্ধ নেই, তাই দেখে আদিল আবারও বলে উঠলো!!
____আমি সত্যিই সরি বউ, আর কথা বলবো না, অন্য কোনো মেয়ের সাথে! দেখো ব্যাথা লাগছে আমার!
ইরার রাগ কমার নাম নেই,মানুষ বলে না মেয়েদের বুদ্ধি হাটুর নিচে থাকে, কথাটি যেমন সত্য তেমন মিথ্যে মাঝে মাঝে ছেলেদের বুদ্ধি ও হাটুর নিচে থাকে!তার প্রমাণ আদিল নিজেও,
আদিল আবেগ বিবেক বাদ দিয়ে নিজেকে বাচানোর জন্য,বেঁচে নিলো ইরার অনুমুক্ত গাড়, হাত দ্বারা চুল গুলো কে সরিয়ে দিয়ে শক্ত দাঁতের কামুড় বসিয়ে দিলো গাড়ে, আদিল এর অল্প আঘাতেই কুপকাত তার বউ, ব্যাথার কুঁকড়ে উঠে মূহুর্তেই ছেড়ে দেয় আদিল এর হাত, ইরা ছাড়ার সাথে সাথে আদিল ও ছেড়ে দেয়! ইরার গাড়,ইরা গাড়ে হাত দিয়ে গাল ফুলিয়ে আদিল থেকে দূরে চলে যায়, আদিল একবার হাতের দিকে তাকাতেই দেখে, কামুড় ব্যাথিত জায়গায় রক্তের ছোপ ছোপ দাগ, কত জোরে তাকে কামুড় দেয়া হয়েছে! ইরা কে ফের গাল ফুলাতে দেখে আদিল বললো!!

____স্বীকার করো তুমি জেলাস তাহলে আর যাবো না!
ইরা গাড়ে আলতো হাত ছুঁইয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বললো!!
____যদি আমি জেলাস না হয়!
তবে আমি আবারও যাবো!
ওকে জান!
ইরার কথা শেষ করার আগেই আদিল ছুটলো, সত্যি যাবে ওই মেয়ের কাছে, আদিল এক পা এগুতেই ইরা কপাল কুঁচকে ফেললো, অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো!!

____হুম আমি জেলাস!
আদিল এক প্রশান্তির হাসি হাসলো, অবশেষে তো বললো সে জেলাস, আর কি চাই এই জীবনে, আজ এ জীবন ধন্য!আদিল এগিয়ে গেলো ইরার দিকে চোখের কোনের অবিশিষ্ট পানি মুছে দিতে দিতে বললো!!
___সরি আর হবে না!
ইরা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো এবং বললো!!

___এই ভাবে না কানে দরে সরি বলেন!
আদিল মূহুর্তেই রাগে ফুলে উঠলো, তাকে কানে দরতে বলছে! রাগে কটমট করে বললো!!
____একজন এমপি কে কানে দরতে বলছো,আজ আমার সম্মান কোথায়, এবং আমি কোথায়???
ইরা দাঁতে দাঁত পিসে কিরমির করে বললো!!
___নাটক বাদ দিয়ে কানে দরেন, আপনি এমপি হতে পারেন তবে বাইরের দুনিয়ায় , ঘরের ভেতরে শুধুই আপনি বিড়াল!! আমার বিড়াল!
আদিল কি বলবে জানে না, রাগ হচ্ছে তার,মনে মনে ঈশান কে একশো টা গালি দিতে ভুললো না,সব হয়েছে তার জন্য!ওর ওশকানীর ফলে, আগে দেখতাম সালারা পেছনে লাগে ওমা এখন দেখি সম্মুধি রাও পেছনে লাগে, সালারা ভাই বোন দুইটাই এক! আদিল কে একমনে কিছু একটা ভাবতে দেখে ইরা বললো!!

____আপনার সময় শুরু, বলেই ইরা এক দুই করে গুনতে শুরু করলো,
বেচারা আদিল মহাশয় মাইনকার চিপায় পরে গিয়ে, দুই হাতে কান টেনে উঠতে বসতে শুরু করলো!
এর মাঝে ঈশান আশরাফ সিকদার এর নির্দেশে সোজা চলে এসেছে রুমের ভেতরে, আদিল কে এমন ভাবে কান টানাটানি দেখে ঈশান শব্দ করে হেসে উঠলো! ঈশান এর এমন কান্ডে ইরা এক ছুটে রুমে ছেড়ে পালিয়ে গেলো বাইরে! বেচারা আদিল বড্ড লজ্জা পেয়ে গেলো! এত টা লজ্জায় মুখে ফেলে দেয়া একদম ঠিক হয়নি তার বউ এর! আজ রাতে মজা বুঝবে তুমি! আদিল কে একমনে বিরবির করতে দেখে ঈশান বলে উঠলো!!

___আমি তো কানা, ভাই! দিন কানা! রুমে কেউ আছেন??
কলি টেবিল এর উপর একটা চিঠি রেখে তারপর চিঠির উপর একটা কলম রেখে বিছানায় গিয়ে বসলো! হাতের ফোন টা থেকে চেনা নাম্বারে একটা টেক্সট পাঠালো!
রিফাত সাহেব,
আমি আর কিছুদিন বাচতে চেয়ে ছিলাম আপনার হাত দরে, কিন্তু এই নিষ্টুর পৃথিবী আমাকে বাচতে দিলো না। আপনার হতে দিলো না,আমি আজ বড় লোক ঘরের মেয়ে বলে আপনার ছোট কুড়ে ঘরে আমার জায়গা হলো না, পরের জন্মে আমি বড়লোক ঘরের মেয়ে হয়ে নয়, বরং গরীব ঘরের মেয়ে হয়ে জন্ম নিবো!তাহলে কেউ আর আমাদের আলাদা করতে পারবে না!

আপনাকে পাওয়ার স্বাদ আমার অপূর্ণই রয়ে গেলো! জীবন ফুরিয়ে গেলো, কিন্তু আপনাকে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্খা টা রয়েই গেলো! ভালোবাসা নামক বেইমানি টা না করলেও পারতেন! সব মেয়েরা টাকা পয়সা চাই না! কিছু কিছু মেয়ে এক চিলটে ভালোবাসা চাই, আমি ও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম! আপনাকে না পাওয়ার তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে হারিয়ে যাচ্ছি বহুদূর!পরজন্ম বলতে যদি কিছু থাকে আমি তার অপেক্ষায় রইলাম! আমাকে কেন ভালোবাসলেন না! জীবনের শেষ সময়ে এসেও বলছি ভালোবাসতাম আপনাকে বড্ড বেশি! কখনো কষ্ট পাবেন না আমার জন্য, আর একদম কাঁদবেন না যদি দেখতে ইচ্ছে হয় আমাকে তাহলে আমার কবরের পাশে যাবেন! আমি আপনার অপেক্ষার প্রহর গুনছি!
কলি….!

কলি রিফাত এর নাম্বার থেকে শুরু করে সব কিছু ডিলিট করে দেয়! সাথে সাথে নাম্বার টাও ব্লক করে দেয়!
ঘড়ির কাটা যখন ঠিক আটটা,তখন দরজার দিকে একপলক তাকিয়ে অপেক্ষার প্রহর শেষ করলো! উঠে গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিলো! কার্বাড হতে বিষের ঔষধ হাতে নিয়ে ডকডক করে খেয়ে ফেললো!
অন্যদিকে রিফাত ম্যাসেজ দেখা মাএ পাগলের মতোন ছুটে চলে আসছে সিকদার মহলে! রিফাত এর গ্রামের বাড়িটা বেশ দূরে! সে আজকে রাত টা থাকার জন্য বন্ধুর বাসায় উঠেছিলো, মূলত ট্রেনের টিকিট না পাওয়ার জন্য,ট্রেন ছাড়বে ভোর পাচ টাই!
আশরাফ সিকদার সহ আত্মীয় স্বজনরা সবাই মিলে রাতের খাবার শেষ করে বসে আছেন, নিজে দের মতোন কথা বলছেন! রাত প্রায় অনেক দেখতে দেখতে ঘড়ির কাটা নয় টাই গিয়ে ঠেকছে, বেলাল চেয়ারম্যান সহ আশেপাশে আত্মীয় স্বজন এবং কাজী সবাই মিলে বিয়ে পরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন! কলি কে আগেও তারা দেখছে নরমাল ভাবে, ঘটা করে হয়তো দেখা হয় নি! আর দেখার প্রয়োজন ও মনে করে নি! বেলাল চেয়ারম্যান আদিস সিকদার কে উদ্দেশ্য করে বললেন!!

___এবার বিয়ের কাজ টা সম্পূর্ণ করা উচিত, রাত তো অনেক হয়ে যাচ্ছে!
আদিস সিকদার বিষয়টি খেয়াল করলেন, ঠিকি তো বলছে এরা রাত প্রায় অনেক এখন বিয়ের কাজ টা সম্পূর্ণ করা উচিত! তাই আদিস সিকদার আশরাফ সিকদার কে বললেন!!
____ভাইজান এবার কলি কে নিয়ে আসা প্রয়োজন!
আশরাফ সিকদার সহমত প্রকাশ করে বললেন,??
___অবশ্যই নিয়ে আসতে বল!
আদিস সিকদার আশরাফ সিকদার এর থেকে অনুমতি নিয়ে একটু এগিয়ে যেতেই দেখলো রিমঝিম কে, রিমঝিম এবং আদিব হয়তো কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলছে! আদিব কে উদ্দেশ্য করে আদিস সিকদার বললেন!!

____কলি কে এই খানে নিয়ে আসো!
বিয়ের পরানোর কাজ টা সাধারণ ঘরেই করা হয়, কিন্তু সবাই বেশ করে অনুরোধ করলো, বিয়ে টা যেনো সবার সামনে পরানো হয়, তাই আদিস সিকদার কথা টা আর ফেলতে পারলেন না, আদিব এবং রিমঝিম কলির রুমের দিলে চলে গেলো কলি কে নিচে নিয়ে আসার জন্য!
ঘর ভর্তি মেহমান তাদের আপ্পাওয়ে কোনো এুটি রাখেন নি আদিস সিকদার! ছেলে টা তো লাফাঙ্গা ছিলো, তার জন্য এখনো বুকে মাঝে মাঝে ব্যাথা হয় দুহাতে আগলে বড় করে তুলে ছিলেন তীল তীল করে! শেষ মেষ ছেলে টা বেইমানি করলো!

আদিব রিমঝিম কিছুটা অবাক হলো কলির রুমের দরজা বন্ধ দেখে! আদিব এর কপালে চিন্তার ভাজ দেখে রিমঝিম এগিয়ে গিয়ে ডাকতে শুরু করলো কলি কে, একবার দুইবার ডাকতে ডাকতে বেশ অনেক বার ডাকলো, কি অদ্ভুত ভেতর থেকে কোনো শব্দ ভেসে আসছে না, আদিব একবার রিমঝিম এর দিকে তাকাই তো রিমঝিম আদিব এর দিকে তাকাই! একটা সময় রিমঝিম উল্টা পাল্টা কিছুর আন্দাজ করে আরও জোরে জোরে ডাকতে শুরু করে,
রিমঝিম কে এমন ভাবে ডাকতে দেখে,পাশের রুম থেকে আদিল ইশান এবং নিচে থাকা আশরাফ সিকদার এবং আদিস সিকদার বাড়ির সমস্ত মহিলারা দৌড়ে চলে আসেন রুমের সামনে! ড্রয়িংরুম জোরে বসে আছেন বেলাল চেয়ারম্যান এবং ওনার আত্মীয় স্বজনরা, বাড়ির ব্যাক্তিগত সমস্যা ভেবে তারা উপরে আসেন নি!
কলি কে এমন ভাবে দরজা আটকে থাকতে দেখে মাইমুনা সিকদার আহাজারি করে কাঁদতে শুরু করলেন, আদিল সহ সবাই মিলে জোরে জোরে ধাক্কা দিতে লাগলো,দরজা খুলছে না তাই দরজা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করতে লাগলো, প্রায় মিনিট পাচ এক পর তারা দরজা খুলতে সফল হলো তারা!

দরজা খোলার সাথে সাথে সবার আকাশ পাতাল কালো অন্ধকার এর মতোন হয়ে ছেয়ে গেলো, ফ্লোরে বিমড়ি খেয়ে পরে আছে কলি মুখ বেয়ে ফেনা পরছে, সবাই দৌড়ে গিয়ে ঝাপটে দরলো কলিকে,
আদিল তা্রাতাড়ি কলি পার্লস চেক করলো,হাত পা ঠান্ডা বরফের মতোন, সবাই যেনো মূহুর্তেই শক্ত পাথর হয়ে গেলো, চোখের সামনে জ্বলজ্বল করা ছোট মেয়ে টা ফ্লোরে সুয়ে আছে, জীবন এর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে এই পৃথিবীর মায়া ছেড়েছে,মাইমুনা সিকদার ঝাপড়ে দরলেন মেয়ে কে, হুহু করে কাঁদতে শুরু করলেন, কত বার ডাকলেন কলি কে, উঠ মা আমি ভুল করে ফেলছি মা তোর বিয়ে আমি দিবো না ওঠ মা,এই জনম দুখী মারে রেখে যাস না, আল্লাহ তুমি আমার মেয়েরে বাচিয়া দাও, আল্লাহ তুমি শুনতে পাচ্ছো, আমার কি হবে রে মা, আমি আর বিয়ে দিবো না তোরে, একবার তাকা মা এই যে আমি তোর মা কথা দিচ্ছি তোকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো তাও ফিরে আই মা আমার বুকে!

মাইমুনা সিকদার সহ সবাই কেঁদে উঠলেন,শক্ত মানবের আদিস সিকদার পাথর এর ন্যায় দাড়িয়ে আছেন!
মাইমুনা সিকদার দৌড়ে এসে খামচে দরলেন নিজের স্বামী কে, মেয়ের মৃত্যুর জন্য সব দোষ তাকেই দিচ্ছেন! মাইমুনা সিকদার হুহু করে কেঁদে বললেন!!
আজ তোমার জিদ জিতে গেলো, হেরে গেলাম আমি, আমি তো এতিম মা হয়ে গেলাম, বাবা হয়ে জিতে গেলা তুমি তোমার জিদ তোমার অহংকার সব জিতে গেলো, আমার মেয়ে কে কেন মেরে ফেললে!
আদিস সিকদার টুকরে কেঁদে উঠলেন, তিনি কি সত্যিই নিজের জিদ এর কাছে মেয়ে কে বলি দিয়ে দিলেন! বাবারো কষ্ট হয় তার মেয়ের জন্য!বড্ড কষ্ট হয় আমি তো ভালোর কথা ভেবে করে ছিলাম, কিন্তু কি হয়ে গেলো, আদিস সিকদার মাথায় হাত দিয়ে বসে পরলেন ফ্লোরে,চারদিকে কান্নার স্বরগুল!
অন্যদিকে রিফাত দৌড়ে চলে এসেছে কলির কাছে, ফ্লোরে পরে থাকা কলি লাশ কে শক্ত করে জড়িয়ে দরে ঝরঝর করে কেঁদে উঠলো, আহাজারি করে বলতে লাগলো,
আমি তো এমন টা চাই নি, আমি তো তোমার সুখ চেয়ে ছিলাম, তুমি কোথায় চলে গেলে আমাকে রেখে এই মেয়ে শুনতে পাচ্ছো আমি এসে পরেছি!

কোথায় হারিয়ে গেলে এই তো আমি এসে পরেছি তোমাকে নিয়ে যাবো আমি ! আমি আর লোক সমাজের পরোয়া করবো না, তোমাকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো, তুমি না বলেছিলে আমাদের একটা সংসার হবে, হ্যা আমাদের একটা সংসার হবে! তুমি চলো আমার সাথে, যাবা না রাগ করছো এই মেয়ে রাগ করছো,আর রাগ করতে হবে না, এই যে আমি আসছি নিয়ে যাবো তোমাকে! উঠো উঠো!
রিফাত কে এমন ভাবে পাগলামি করতে দেখে আদিব রিফাত এর কাছে আসে, কলি থেকে দূরে সরানোর জন্য,মৃত ব্যাক্তিকে এমন ভাবে দরতে হয় না!
রিফাত আদিব কে সরিয়ে দিলো,আরও শক্ত করে কলির লাশ কে জড়িয়ে দরে চিৎকার করে বললো!!

___ আমি আজ তোমাকে নিয়েই যাবো লোক সমাজের বাইরে, তোমার বাবা চাচার সীমানা পেরিয়ে, বড়লোক বাড়িতে জন্ম নিয়ে তুমি ভুল করো নি, ভুল তো আমি করেছি, আমি ছোট লোক বাড়িতে জন্ম নিয়ে, তোমার আমার মিলন হলো এই বেদাবেধে, এই প্রাপ্তির হিসাব থেকে গেলো, আমি আসবো এই প্রাপ্তির হিসাব মিলাতে, খুব দূত আসবো আমি!
রিফাত এর কান্নায় পুরো রুম হাহা করে উঠছে বার বার, কলির মৃত দেহ টাকে শক্ত করে দরে রেখেছে, এমন ভাবে দরে রাখে যেনো তার থেকে আলাদা করতে কেউ না পারে,

রিফাত এদিক তাকিয়ে কখনো হাসছে তো আবার কখনো কাঁদছে, ভেতরের কষ্টটা প্রকাশ করতে পারছে না, দম বন্ধ হয়ে আসছে, অস্থির লাগছে! তার ভালোবাসার মানুষের অস্তিত্ব আজ বিলীন হয়ে গেলো, রেখে গেলো সৃতি আর মায়া ভরা হাসি মুখখানা! অন্তর পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে কেন আসলো না সে সময় মতোন,যদি একটু আসতো তাহলে হয়তো আজ হারিয়ে ফেলতে হতো না! রিফাত জারা দিয়ে ওঠে দাড়ালো, সাথে কলি কে ও কোলে তুলে নিলো, কলি কে নিয়ে চলে যাবে সে অনেক দূরে সুখের সংসার সাজাবে!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫২

আজ আর কেউ আলাদা করতে পারবে না তার থেকে, রিফাত কে এই সময় এসে সবাই পাগল উপাধি টাই দিলো, একজন মৃত মানুষ কিভাবে সংসার করবে??
আদিব ঈশান সহ সবাই কলির থেকে টেনে হিঁচড়ে দূরে সরিয়ে নিলো রিফাত কে, রিফাত কান্নার ফুপিয়ে উঠছে বার বার, চিৎকার করে বলছে,
____আমাদের সংসার হবে, আমি ও আসছি তোমার কাছে!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৪