Home এক রহস্যময় ভালোবাসা এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৪

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৪

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৪
Chadny islam

চার পাশের ঠান্ডা শীতল হাওয়া বয়ে যাচ্ছে বেশ, আবহাওয়ার পরিবর্তন সব মিলিয়ে ঠান্ডা টাও বেশ! দেখতে দেখতে কেটে গেছে তিন তিনটি দিন, মানুষ মরনশীল, সব কিছু মিথ্যা হয়ে গেলেও মৃত্যুটা চির সত্য! তাই দুনিয়ার আরাম আয়েশ ভুলে আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে সমর্পণ করা টাই উওম!
কলি কে কবর দেয়া হয়েছে বাড়ির পেছনের বাগানে, নিদিষ্ট কবর স্থানে দাফন করতে চাইলে, কলির মা মাইমুনা সিকদার সবাই কে অনুরোধ করে বলে ছিলেন, কলির কবর টা যেনো তাদের বাড়ির পাশের বাগানে দেয়া হয়!
যেখানে সুইসাইড করে মৃত্যু বরন করলে পুলিশ কেস হয়, সেখানে আদিল সিকদার বাড়ির গেট পর্যন্ত কাউকে এ্যালাউ করে নি,কাউকে কোনো রকম বাড়াবাড়ি করতে!

শীতের কনকনে ঠান্ডায় কাচুমাচু হয়ে বসেন আছেন মাইমুনা সিকদার, তিনি এখন আর আগের মতোন কারোর সাথে কথা বলেন না, তাকে আর আগের মতোন হাসতে ও দেখা যায় না! অতি সুখে পাথর হয়ে গেছেন ছেলের এক্সিডেন এবং মেয়ের মৃত্যুর গভীর সুখে পাথর হয়ে গেছেন!কলির মৃত্যুর পর থেকে মাইমুনা সিকদার আদিস সিকদার এর সাথে কথা বলেন না, তিনি মনে মনে ভেবে রেখেছেন, তার মেয়ের মৃত্যুর খুনি তার একমাত্র স্বামী! মাইমুনা সিকদার এর সম্পূর্ণ দেখাশোনা এখন ইরাই করে!
কলির মৃত্যুতে সবাই শকট, অকাল মৃত্যুতে ঝরে গেছে একটি প্রাণ! তিন দিন পর আদিব এর বিয়ের তারিখ ফ্রিক্স করা হয়ে ছিলো,কিন্তু কলি মৃত্যুর কারনে বিয়ের ডেট টা পেছানো হয়েছে, এখনো বিয়ের নিদিষ্ট কোনো তারিখ দেয়া হয়নি!

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

আদিব কিছু খন পর পর কলির কথা মনে পরতেই কেঁদে উঠে, তার সাথে সব থেকে ভালো বন্ডিং ছিলো কলির! কত আনন্দ করতো এই বিয়েতে, কত আশা ভালোবাসা সব নিয়ে কোথায় হারিয়ে গেলি তুই! তোর ভাইয়া কে জ্বালানোর জন্য অনন্ত বেঁচে থাকতি! আমি আর কার সাথে দুষ্টমি করবো, তুই তো জানাতে পারতি একবার! কেনো এমন বোকামি করলি বোন, আমরা সবাই তোকে খুব ভালোবাসতাম! রিফাত ওর কথা একটি বার ও ভাবলি না, আমরা না হয় জানতাম না তুই জানাতে পারতি, হয়তো আপওি করতো পরিবার থেকে কিছু দিন পর ঠিক মেনে নিতো সবাই, কেন করলি বোন এখন কোথায় পাবো তোকে, হারিয়ে গিয়ে সব সমস্যার সমাধান করে দিলি! এ কেমন সমাধান
আশরাফ সিকদার সহ পুরো পরিবারের সবাই আজ কাল আর তেমন বেশি কথা বলেন না প্রয়োজন ছাড়া! আর আদিল তাকে তো ঠিক মতোন বাসায় পাওয়া যায় না,একদিকে ইরার এক্সাম অন্যদিকে মাইমুনা সিকদার কে সামলানো! এই নিয়ে বেশ হিমশিম খেয়ে যায় ইরা!জুথী নিয়ম করে প্রতিদিন বিকেলে একবার করে আসে! ইরার সাথে দেখা করতে!

কলির মর্মান্তিক মৃত্যুতে আইরা আসতে পারে নি, আমেরিকা চলে গিয়ে ছিলো মায়ের সাথে, আইরার বাবা বেশ অসুস্থ তাকে দেখার জন্য!সোনালি তালুকদার বাংলাদেশ ব্যাক করেন নি, তার ব্যাক করবেন ও না, আইরা ও চলে যাবে দুই দিন এর ভেতরে সে বাংলাদেশ আসার মূলত কারন কোম্পানির সমস্ত প্রজেক্ট আমেরিকার নিয়ে চলে যাবে! বিজনেস টা সে আমেরিকায় করবে বাংলাদেশে না! কালকে রাতে বাংলাদেশ ফিরেছে, ফিরার পর শুধু অহনা সিকদার এর সাথে হয়েছিলো, বেশ রাত হওয়ায় আর মাইমুনা সিকদার এর রুমে যাওয়া হয় নি! এবং সকাল সকাল বেরিয়ে গেছে কোম্পানির কাজে! আসতে আসতে সেই রাত!

আদিল বিকেলের দিকে বাসায় ফিরে নি, হয়তো রাতে ফিরবে, বেশ অনিয়মিত হয়ে গেছে তার, খাওয়া দাওয়া কোনো কিছুর ঠিক নেই, তাকে কোনো কথা বলা যায় না তার আগেই রেগে যায়,এই সব বিষয় নিয়ে ইরা খুবি ডিস্টার্ব! যাই হোক ইরার ভাবনার ছেদ ঘটলো আদিব এর রুমে যেতেই, ইরা পর পর দুইটা ডাক দিলো আদিব কে, সঙ্গে সঙ্গে আদিব রুম ছেড়ে বেরিয়ে এলো জ্বি ভাবী বলে,
ইরার হাতে খাবার প্লেট নিয়ে দাড়িয়ে আছে, আদিব এর বুঝতে বাকি রইলো না, ইরা কোথায় যেতে চাইছে, আদিব এক সেকেন্ড বলে নিজের রুম থেকে একটা টস লাইট নিয়ে আসে! তারপর বলে,
চলুন ভাবী,
ইরা ও সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা শুরু করলো আদিব এর পেছন পেছন!

তুমি আসছো,
আমি জানতাম তুমি আসবা, কেন এমন পাগলামি করো বলোতো , তুমি জানতে না আমি তোমায় কতটা ভালোবাসি! আর এমন পাগলামি একদম করবা না!বুঝছো!
ঠিক আছে আর করবো না এমন পাগলামি, এই যে আপনি পাগলামি করছেন, এর কি হবে” বলুন তো, আমি আছি তো আপনার অস্তিত্বের সাথে মিশে, আমি অপেক্ষা করছি তো আপনার জন্য!
আপনি আমাকে ভালোবাসেন আমি সেইটা জানি, তবে আপনার সিন্ধান্ত ভুল ছিলো, আমার কাছে আসতে অনেক টাই দেরি করে ফেলে ছিলেন! কেন আসলেন না ঠিক সময় মতোন, আমি তো অধীর আগ্রহে লাল শাড়ী পরে বসে, আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম! আপনি আসতে দেরি করলেন, তাই আমি অভিমান করে” সাদা শাড়িতে নিজেকে মুড়িয়ে নিয়েছি! আপনি তো বললেন না, আমাকে সাদা শাড়িতে ঠিক কতটা সু্ন্দর লাগছে!
রিফাত এক রাশ অভিমান নিয়ে বললো!!

___তোমাকে এক দম বাজে লাগে সাদা শাড়িতে আর কখনো পরবা না, কথা দাও আমাকে! আমি তো আসছি তোমার কাছে এই দেখো! আর কোনো মজা করবা না, আমি ভালোবাসি তোমাকে তুমি হারিয়ে গেলে আমার কি হবে??
রিফাত কে থামিয়ে দিয়ে, কলি বললো,,
____আমি আসবো খুব শীগ্রই আপনাকে নিতে, আমি আপনার কবরের ডান পাশেই আছি আপনি কিন্তু আমার বাম পাশে থাকবেন!
আচ্ছ থাকবো, তোমার কি কোনো কষ্ট হচ্ছে??
হ্যা বড্ড কষ্ট হচ্ছে, আপনাকে এমন ভাবে পাগলামি করতে দেখে, আমার বড্ড কষ্ট হচ্ছে! আমি তো একটু ঘুমাবো আপনি সারাখন আমার কবর টাকে জড়িয়ে রাখলে আমি ঘুমাবো কিভাবে বলুন তো??
ঠিক আছে আমি আর দরবো না তোমার কবর, ওই দূরে সুয়ে থাকবো তোমার ঘুম শেষ হলে আমাকে ডেকো কিন্তু!
হুম ডাকবো আপনাকে, আর শুনুন..

হুম বলো
আপনি কিন্তু সুইসাইড করবেন না,আমি আসবো আপনাকে নিতে আপনি তখন আসবেন আমার কাছে! আর আল্লাহ কে নারাজ করবেন না, অনেক দোয়া করবেন আমার জন্য!আমরা যেনো পরজন্মে একসাথে থাকতে পারি!
আচ্ছা!
রিফাত এর ভাবনার ছেদ ঘটে আদিব এর ডাকে, রিফাত কলির কবরের এক পাশে সুয়ে সুয়ে কি জেনো বলছিলো হয়তো ঘুমের গুরে, আদিব এগিয়ে গিয়ে রিফাত কে নিয়ে আসলো করব থেকে বেশ কিছু টা দূরে, আদিব এক হাতে রিফাত কে দরেছে তো অন্য হাতে লাইট টিকে,,
ইরা অনেক টাই দূরে খাবার নিয়ে অপেক্ষা করছে রিফাত এর জন্য! আদিব এবং ইরা প্রায় প্রতিদিন আসে রিফাত কে খাওয়াতে! রিফাত ইরার হাতে খাবার দেখে বেশ অনেক টাই খুশি হয়ে যায়,তার অনেক টাই খুদা লেগে ছিলো, ইরার হাত থেকে খাবার এর প্লেট টা নিয়ে নিচেই বসে পরে খাওয়ার জন্য!

ইরা রিফাত এর দিকে তাকিয়ে অল্প হাসে আর ভাবে, কি ছিলো এই মানুষ টা আর কি হয়ে গেলো, কিছুটা সময়ের পরিবর্তনে! ইরার খুব মায়া হয় এই মানুষ টার জন্য!মাএ তিন দিনে শরীরের কি হাল, মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না! কি অদ্ভুত এই ভালোবাসা নামক রোগ, ভালো মানুষ কেও কিনা পাগল বানিয়ে ছেড়ে দেয়!
রিফাত এক লোকমা ভাত মুখে দেয় তো আরেক বার দেখে কলির কবরের দিকে, ওই যে বললো কলি ঘুমাবে ঘুম শেষ হলে তাকে ডাকবে তবে ডাকছে না কেনো, তার কি ঘুম শেষ হয় না! রিফাত ইরার দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হেসে বলে,!

____কলি আমাকে নিতে আসবে, ওর ঘুম শেষ হলে আমি ওর কাছে চলে যাবো, তোমরা ভালো থেকো! চিন্তা করো না, আমার কলি ভালো আছে, আমি ও ওর কাছে গেলে ভালো হয়ে যাবে!
তোমাদের আর কষ্ট করে আমার জন্য খাবার নিয়ে আসতে হবে না!
রিফাত এর এরূপ কথায় আদিব ইরার চোখের কোনে পানি ছলছল করে ওঠে,
রিফাত এর মাথা হয়নো ঠিক নেই, তাকে ডক্টর এর কাছে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন,কিন্তু কিভাবে!
রিফাত অর্ধেক টা খাওয়া শেষ করে প্লেটটা ইরার হাতে দিয়ে দৌড়ে চলে যায় কলির কবরের পাশে, বাইরে বেশ ঠান্ডা গুটগুটে অন্ধকার! রিফাত ঠান্ডায় কাপছে প্রচন্ড শীতে, তার শরীরে একটা শার্ট আর পাতলা চাদর ছাড়া কিছুই নেই! চাদর সেটাও কলির, রিফাত কবর গেসে সুতে সুতে বলল!!

__তোমরা চলে যাও, আমার কলি এখন ঘুমাবে! ওরে ঘুমাতে দাও, যাও তোমরা” যাও ” বাড়ি যাও!
আদিব এবং ইরা বেশ কিছু সময় নিয়ে সেই দাড়িয়ে রইলো, রিফাত কে ছেড়ে যেতে তাদের একদম ইচ্ছে করছে না! ইরা এক হাতে নিজের চোখের পানি মুছে নিয়ে, এরপর হেঁটে চললো বাড়ির দিকে!
প্রায় রাত দশ টার দিকে,
ইরা বেলকনির একপাশে দাড়িয়ে আছে, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আদিল এর জন্য!আদিল ঠিক মতোন বাসায় ফিরে না, খাওয়া দাওয়া ঠিক মতোন করে না অফিসে যায় না।আজকাল তার কি হয়েছে সব টাই বোঝার বাইরে, ইরা বেশ চিন্তিত এই বিষয় গুলো নিয়ে! সব তো ঠিকি ছিলো হঠাৎ করে কি এমন হলো, যে আদিল কে পরিবর্তন হতে হলো, ইরা ভাবনার ছেদ ঘটলো আইরার ডাকে, এত রাতে আইরা ডাকছে ভেবে কিছুটা ঘাবড়ে যায় ইরা! নিজ সংকোচ কাটিয়ে দরজা খুলে দেয়!
আইরা ভেতরে চলে আসে, ইরা বসতে বললেও আইরা বসে না বরং বেলকনির এক পাশ ঘেসে দাড়ায়!আর বলে!!
জানো ইরা ”

ইরা কিছুটা অবাক হয়, আইরা হুট করে রুমে আসা কে, আবার কথা বলতে দেখে, তাছাড়া আইরা তো আমেরিকা ছিলো বাসায় ফিরলো কখন!
কি জানবো আপু??
আইরা অসহায় কন্ঠে বললো!!!
একটা সময় তোমাকে আমার বেশ বিরক্ত লাগলো, তোমাকে দেখলে অনেক রাগ হতো, তোমার সৌন্দর্যে আমি জেলাস ফিল করতাম,তোমার সৌভাগ্য কে আমি হিংসা করতাম! আজ দেখো আমি শান্ত সব হাসি মুখে মেনে নিয়েছি, আমার জীবনের সব থেকে প্রিয় মানুষ টিকে হারিয়ে আমি আজও শান্ত!
ইরা কিছু ভেবে পাই না সে কি বলবে, তার কি বলা উঠিত,সে এতটা গুরুত্ব নিয়ে আদিল কে ভালোবেসে ছিলো তা কখনো বুঝা যায় নি, হয়তো বুঝতে দেয়া হয় নি তাকে!
কিন্তু আদিল যে বললো, পরিবার থেকে বিয়ে ঠিক করা হয়ে ছিলো, তাহলে ভালেবাসা কোথা থেকপ আসে, তাহলে কি ইরা 3rd Parson হয়ে এদের ভালোবাসার মধ্যে বাধা সৃষ্টি করছে!ইরা মনে মনে বেশ অসহায়ত্ব বুধ করলো,
আইরা ইরার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বললো,

____তুমি যা ভাবছো ওই রকম কিছুই না, ভালোবাসা টা এক তরফা ছিলো, আদিল কখনো আমায় ভালোবাসে নি, ও শুধু তোমাকেই ভালোবাসেছে, শুধু ভালোবাসে এমন টা নয় এখনো অনেক ভালোবাসে তোমাকে, তুমি অনেক ভাগ্যবতী জীবনসঙ্গী হিসাবে আদিল এর মতোন একজন লাইফ পার্টনার পেরেছো! আমি অবশ্যই মন থেকে দোয়া করি তোমরা ভালো থাকো!
আইরার চোখের কোনে হাজার জলের ফোঁটা টলমল করছে, তার চোখ না চাইতেও বলে দিচ্ছে, আদিল কে না পাওয়ার যন্ত্রণা ঠিক কতটা!
ইরা কিছুটা সংকোচ নিয়ে বললো!!
__আপু আমি তাহলে তোমাদের।।।
ইরাকে থামিয়ে দিয়ে আইরা বলে উঠলো,
ওই রকম কিছুই না, আদিল আমার ভাগ্য ছিলো না, তাই আমি পাই নি, শুনো……
“” না পাওয়ার যন্ত্রণা ভুলা যায়, তবে পেয়ে
হারানোর যন্ত্রণা কখনো ভুলা যায় না!
তাই আমি বলবো, “পেয়েছো যখন তখন আগলে রাখো সারাজীবন”
ইরা আইরা কে জড়িয়ে দরে বললো!!

___আমি খুব করে আমার আপু কে মিস করছি, হয়তো আজ আপু বেঁচে থাকলে ঠিক তোমার মতোন করে আমাকে বোঝাতো!
আইরা ও দুইহাতে জড়িয়ে নিলো ইরা কে, কপালে একটা চুমু খেয়ে বললো!!
____আজ থেকে আমাকে তোমার বড় আপু মনে করতে পারো!
ইরা আইরার কথায় টুকরে কেঁদে উঠলো, সত্যি তার আইরা কে নিজের রক্তের আপন বোন বলে মনে হচ্ছে!
সময় যখন এগারো টার কাটায়,

ঠিক তখন আদিল দূত রুমে প্রবেশ করে, রুমে প্রবেশ করতেই অবাক হয়ে যায়, ইরা এবং আইরা দুইজন পাশাপাশি বসে কফি খাচ্ছে আর গল্প করছে, আদিল হাতের কোর্ট টা বিছানার এক পাশে রেখে ফ্রেশ হতে চলে যায়! মূলত সাওয়ার নিবে এখন সারা ক্লান্তি ছেয়ে আছে পুরো শরীরে৷ ইরা বিছানা ছেড়ে কার্বাড হতে আদিল এর জন্য বরাদ্দ কৃত গেনজি টাওজার বের করে রাখে! ইরার টপ করে মাথায় আসে আদিল তো অনেক ক্লান্ত, ওর জন্য গরম গরম এক কাফ কফি করে আনা যাক, ইরা নিজের খাওয়া এটু কফিটা ট্রে_টেবিল এর উপর রেখে চলে যায় কিচেনে কফি করার জন্য!
আইরা এত খন চোখ মেলে পুরো টাই দেখলো, কিভাবে আদিল কে সব কিছু চাওয়ার আগেই তার সামনে পৌঁছে দিচ্ছে না, আইরা মুচকি হাসলো, হয়তো ভালোবাসা এমনি হয়!
এর মাঝে আদিল ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসে, চোখ তাকাতাকি করেও যখন ইরা কে দেখে না, পুরো রুমে, তখন ভাবে হয়তো নিচে গিয়েছে কোনো কাজে, ট্রি_টেবিল এর উপর নজর পরতেই দেখে কফি আদিল টেবিল থেকে কফির কাফ তুলে আনে এক চুমুক বসাতেই বুঝতে পারে এইটা ইরার কফি,
ইরা কখনো গরম কফি খায় না জিব পুড়ে যাওয়ার ভয়ে, আদিল বাঁকা হাসলো, আদিল কে হাসতে দেখে আইরা বললো,

___বুঝলে কিভাবে এইটা ইরার কফি??
আদিল কফির কাপে আরেক বার চুমুক দিতে দিতে বললো!!
°___যায় নিশ্বাস টাই আমার চেনা, তার খাওয়া কফি চিনতে নিশ্চয়ই আমার দ্বিধা হবে না তাই না!
আইরা নিশব্দে হাসলো,এরপর বিছানা ছেড়ে ওঠে আসে ঠিক আদিল এর সামনে, আইরা কে এমন ভাবে কাজে আসতে দেখে আদিল নিজে কে দূরে সরিয়ে নিতে চাইলে আইরা বলে!!.
____খুব ভালোবাসো তাই না নিজের বউকে??
আদিল এক উওরে আইরার সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দেয়!
___হুম ভালেবাসি, নিজের বউকে ভালোবাসি, বড্ড ভালোবাসি!
আইরা আশফাস করতে থাকলো, এই ভালোবাসা টা তো তার পাওয়ার কথা ছিলো, তাহলে অন্য কেউ কিভাবে পেয়ে গেলো, আইরা আদিল এর চোখের দিকে তাকিয়ে বললো!!

____কখনো আমাকে ভালোবাসোনি তাই না??
হুম কখনো ভালোবাসেনি তোমাকে, আমি কখনো ওই নজরে দেখিনি! আমরা শুধু ভালো বন্ধু ছিলাম!
আমি তো ভালোবাসতাম তোমাকে? এখনো ভালোবাসি যদি কখনো কোনো দিন মনে হয় আমাকে তোমার প্রয়োজন তাহলে অবশ্যই বলতে ভুলো না!
ওকে,
আমি চলে যাচ্ছি অনেক দূরে, ঠিক তত দূরে যতদূর গেলে তোমার আমার আর দেখা হবে না! ভালোবাসা রেখে গেলাম!
আমাকে কেন বলছো এসব??
কারন আমি তোমাকে ভালবাসতাম, তোমাকে চাইতাম, তোমাকে পাওয়ার জন্য এসে ছিলাম, আমি শূন্য হাতে যেমন এসে ছিলাম ঠিক তেমনি শূন্য হাতে আবার চলেও যাচ্ছি!
“”আমার ভালোবাসা সঠিক ছিলো
তবে ভালোবাসার পুরুষ টি নয় “”
আইরা অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে একবার বললো,,

____একবার জড়িয়ে দরবে, অনন্ত আমার জন্য” মিথ্যা করে হলে ও একবার বুকে টেনে নিবে!
আদিল বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে ফেললো, আইরার এমন পাগলামু মুটেও ভালো লাগছে না তার! এই মূহুর্তে ইরা রুমে আসলে আরও হাজার টা সমস্যা, তাছাড়া আদিল তো কখনো ভালোবাসে নি আইরা কে! বরং ভালো বন্ধু মনে করতো, আদিল আইরার সামনে থেকে সরে যায়,
আইরার বুঝতে বাকি রইলো না, আদিল মিথ্যা করে হলেও তাকে বুকে টেনে নিবে না, আইরা চোখের কোণে পানি ছলছল করে উঠলো! সে এক মিনিট ও দাড়ালো না,বরং দূত রুম থেকে বেরিয়ে গেলো!
প্রায় মিনিট পাঁচ পর ইরা কফি নিয়ে রুমে প্রবেশ করে, এদিক সেদিক তাকাতাকি করে ও যখন আইরা কে দেখতে পাই না! তখন ভাবে হয়তো চলে গেছে নিজের রুমে , আদিল ইরার দিকে তাকিয়ে মেজাজ ঝাঁঝিয়ে উঠলো!!

___কোথায় গিয়েছিলে??
ইরা স্বাভাবিক ভাবে উওর করলো,
___আপনার জন্য কফি আনতে নিচে গিয়েছিলাম!
আদিল আঁড়চোখে তাকিয়ে ফের গম্ভীর গলাই বলে!
____এক কাপ কফি বানাতে পনেরো মিনিট সময় লাগে??
ইরা মাথা নত করে ফেললো!!
___আমি তো ব্লাক কফি বানাতে জানি না, পাশের রুম থেকে একজন সারবেন্ট কে ঘুম থেকে তুলে তারপর বানিয়ে নিয়ে এসেছি! আমি বুঝতে পারি নি এত লেট হবে!
আদিল ইরার হাত থেকে কফির কাফ টা নিয়ে ইরা কে উদ্দেশ্য করে বললো!!
___যাও সুয়ে পরো, অনেক রাত হয়েছে!
ইরা মূহুর্তেই রাগে কটমট করে উঠলো,একে তো বাড়িতে এসেছে এগারো টাই, তারপর আবার কত গুলা জাড়ি দিলো, ঠিক মতোন কথা টাও বললো না আর এখন কিনা ঘুমাতে বলছে, কত কষ্ট করে কফি করে নিয়ে এলো একটা ধন্যবাদ পর্যন্ত দিলো না, ইরা রাগ টা কে কোনো রকম সামলে নিয়ে বললো!!

____আপনি ঘুমাবেন না??
আদিল সোফার একপাশে ল্যাপটপ হাতে নিয়ে বসতে বসতে বললো!!
____লেট হবে তুমি সুয়ে পরো!
আদিল কথা শেষ করে আবার ও মনযোগ দিলো নিজের কাজের দিকে! অন্যদিকে ইরা গাল ফুলিয়ে সুয়ে পরলো বিছানায়! সে এখন পুরনো হয়ে গেছে তাই তার কদর নেই, আগের মতোন ভালো টাও বাসে না! পুরুষ মানুষ গিরগিটি বিয়ের আগে এক রুপ দেখায় তো বিয়ের পর আরেক টা….
আইরা নিজের জামাকাপড় গুছিয়ে রাখছে, কালকে চলে যাবে সে অফিস থেকে আসার পর! বাসার সবার সাথে যাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলেছে! বাবার অসুস্থতা জন্য চলে যেতেই হবে! তাছাড়া এদেশে আপন বলতে তো আর কেউ নেই, যে তার সাথে থাকবে কোম্পানি সামলাবে, তাই বাধ্য হয়ে চলে যেতে হচ্ছে! আইরার বেশ মায়া হয় ইরার জন্য, তবে আদিল কে নিজের করে নিয়েছে এর জন্য খারাপ ও লাগে! আইরা ছোট করে একটা ম্যাসেজ পাঠায় আদিল এর নাম্বারে, এক বুক হতাশা না পাওয়ার আকাঙ্খা নিয়ে,

সব ভালোবাসা সফল হয় না,এবং সব ভালোবাসা পাওয়াও যাই না, কিছু ভালোবাসা হয়তো দূর থেকে উপভোগ করতে হয়, আমার কাছে ভালোবাসা মানে তোমাকে ভালো রাখা,তোমার ভালো থাকা, তুমি ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকতে পারবো, ভালোবাসলেই যে তোমাকে পেতে হবে এমন টা কিন্তু নয়! থাক না কিছু অপূর্ণতা!ভালোবাসি ভালো বেসে যাবো!ভালোবাসা দূর থেকেই সুন্দর তাই আমি ও হাজার মাইল দূর থেকে তোমায় ভালোবাসবো, ভুলো না আমায়!!!
কলির লেখা চিঠিটা আদিস সিকদার বেশ কয়েক বার পরেছেন, যখন তার মন খারাপ হয় তখনি পরেন! বার বার নিজেকে মেয়ের খুনি বলে মনে করেন! মাইমুনা সিকদার ওনার সাথে কথা টাও ঠিক মতোন বলেন না! আদিস সিকদার চিঠিটা খুলে পরতে শুরু করলেন!

প্রিয় বাবা,
তুমি সত্যি আমার প্রিয় বাবা ছিলে, আমি সত্যিই জানিনা তুমি কখন যে এই প্রিয় থেকে অপ্রিয় হয়ে গেছো, তুমি বলতে না আমি তোমার রাজকন্যা! তাহলে কিভাবে নিজের জিদ এর কাছে নিজের মেয়ে কে ঠেলে দিলে, আমার কষ্ট হাহা কার টা কি তুমি দেখো নি, বাবারা নাকি সব থেকে প্রিয় হয় মেয়েদের আপন হয়, কিন্তু আমার ক্ষেএে হলো না, তোমার সম্মান বাঁচাতে গিয়ে আমি হারিয়ে গেলাম!

আমার ভালোবাসা আমাকে দূরে ঠেলে দিলো, কি নির্মম মৃত্যু আমার, আমি তো তোমাদের সাথে বাঁচতে চেয়ে ছিলাম আমার বেঁচে থাকাটা হলো না! আমি সেই ছোট কলি হারিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে , তোমাদের মায়ার বেড়াজাল কাটিয়ে, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, আমি সে ইচ্ছায় মৃত্যু বরন করলাম! রিফাত কে আঘাত করো না আমার মৃত্যুর সংবাদে সে নিশ্চয় ছুটে আসবে, তাকে নিজের ছেলের মতোন আগলে রেখে” ঠিক বড় ভাইয়াকে যেমন করে রাখতে! ওই যে দেখছো না আকাশে ছোট্ট ছোট্ট তারারা থাকে, তার মাঝে আমি ও থাকবো! দেখবো তোমাদের, আমার রিফাত কে কষ্ট দিও না! আমার আর সংসার করা হলো না, তুমি কেন আমাকে বুঝলে না আব্বু! তোমাদের ছেড়ে যেতে ভিষণ কষ্ট হয়েছে আমার! তোমার একমাএ আদরের রাজকন্যা কলি….!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৩

আদিস সিকদার চিঠি বুকে নিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে উঠলেন! মেয়ের অকাল মৃত্যুতে তিনি ঠিক কতটা ব্যাধিত স্বয়ং আল্লাহ পাক ছাড়া আর কেউ জানেন না! মেয়ের লাশের খাটিয়া টানতে একজন বাবার ঠিক কতটা কষ্ট হয় আল্লাহ পাক জানেন! আদিস সিকদার কাদতে কাদতে বললেন!!
____মাফ করে দিস মা এই অদম বাপ টাকে..!

এক রহস্যময় ভালোবাসা পর্ব ৫৫