Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১১

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১১

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১১
সুহাসিনী

আয়েশা কখন থেকে শান্তর ফোনে ট্রাই করে যাচ্ছে কিন্তু শান্ত বার বার কল কেটে দিচ্ছে। আয়েশার কথায় শান্ত অনেক কষ্ট পেয়েছে ভেবে আয়েশাও কান্না করছে এখন।
এতো রাতে আয়েশার দরজায় কেউ নক্ করছে। আয়েশা ভাবলো হয়তো প্রেম নয়তো তার বাবা।সে চোখ মুখ মুছে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে দরজা খুললো। দরজা খুলতেই শান্ত হুড়মুড় করে রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিলো।
আয়েশা অবাক, এতো রাতে শান্ত এই বাড়িতে কি করছে। শান্ত অসহায় চোখে তাকিয়ে আছে আয়েশার দিকে। আয়েশা তখন বলা কথা গুলোর জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে বললো,

“আসলে তখন ওইসব কথা বলা আমার ঠিক হয়নি। সরি।”
“আই লাভ ইউ”
আয়েশা এবার বিরক্ত হয়ে বলল,
“কেউ সরি বললে ইটস ওকে বলতে হয়।”
“ওটা অন্য কেউ বললে বলতে হয় কিন্তু তুমি বললে আই লাভ ইউ বলতে হয় রাজকন্যা।”
“তুমি প্লীজ যাও শান্ত ভাইয়া। তোমার এই তামাশা আমার সহ্য হয় না।”
শান্ত কিছু বলতে যাবে তখনই প্রেমের রুম থেকে চেঁচামেচির আওয়াজ ভেসে আসে।তারা আর কথা না বাড়িয়ে সে দিকেই যায়।

আশা:”প্রেম তোমার বেয়াদব বউকে কিছু বলো। আমার খুব ব্যাথা লাগছে। এই মেয়ে ছাড়ো বলছি।”
রাহি রাগে গজগজ করতে করতে বলল,
“আমার জামাই এর নাম তুই তর ওই বিষাক্ত মুখে উচ্চারণ করবি না। আজকে আমি তোর ওই ঠোঁট সেলাই করবো যেই ঠোঁট তুই আমার জামাই কে চুমু খাওয়ার জন্য বাড়িয়েছিলি।”
আশা অনবরত বলে যাচ্ছে,
“আমি কিছু করিনি,আমি তো ঘুমের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে এখানে চলে এসেছি। সত্যি বলছি।”
রাহি:”তোর সত্যের ক্ষেতা পুড়ি আমি।আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম তোর ওই বদ নরজ পড়েছে আমার এই অবলা জামাইটার উপরে।”
প্রেম এবার ধমকে উঠল,

“কি হচ্ছে কি? ছাড়ো ওকে।তোমাদের চিৎকারে তো সবাই জেগে যাবে এবার।”
রাহি ছেড়ে দিলো। আয়েশা আর শান্ত রুমে এসে আশার নাজেহাল অবস্থা দেখে কিছুটা অবাক হলো।
শান্ত:”কি হয়েছে এখানে? আশা তোমার এই অবস্থা কেনো?”
আশা রাগে কষ্টে কিচ্ছু না বলেই হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। শান্ত আর আয়েশা শুধু ড্যাব ড্যাব করে তাঁকিয়ে দেখলো।
আয়েশা:”কি হয়েছে ভাইয়া?সবাই এমন সাইলেন্ট হয়ে আছো কেনো তোমরা? আশা আপুকে এমন দেখাচ্ছিল কেনো?”
প্রেম:”আস্ত একটা এটম বোম ঝুলিয়ে দিয়েছে গলায় আমার ওই বাবা নামে দুশমন। এখন তো এই রকম বিষয় স্বাভাবিক। তোরা যা এখন, পড়ে ওই বিচ্ছুর কাছে শুনেনিস।”
রাহি কোমরে হাত বেঁধে প্রেমের সামনে দাঁড়িয়ে গলা উঁচিয়ে বললো,

“ওহ এখন আমি খারাপ হয়ে গেছি।এটম বোম হয়ে গেছি।ওই মেয়ের সাথে লুতুপুতু করতে দেয়নি তো তাই এখন আমি বিচ্ছু হয়ে গেছি। আপনার তো ক্যারেক্টার সমস্যা আছে।আপনি তো অক্ষম। এতোদিন হয়ে গেলো এখনও পর্যন্ত আমাকে ভালো করে ছুঁয়েও দেখলেন না।আর মেয়ের জন্য এখন মন আকুপুকু করছে বুঝি?”
প্রেম দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
“এই বেয়াদবের বাচ্চা মুখে লাগাম টান। আমি ওকে ছোঁয়ার ধান্দায় থাকি? তোর আমাকে এতোই সস্তা মনে হয়? এই কোনো মেয়ের দিকে আজ পর্যন্ত ভালো করে তাঁকিয়ে দেখেনি আর ভবিষ্যতেও বাইরের কোনো মেয়ের দিকে তাকাবেও না।”
“তাহলে ওই দামরি মেয়ে আপনাকে যখন চুমু খেতে যাচ্ছিলো এতো লোমান্টিক লোমান্টিক কথা বলছিলো তখন সাইলেন্ট মোডে চলে গিয়েছিলেন কেনো?”
রোমান্টিক কথাটা একটু বেঙ্গ করেই বললো রাহি।

“আমি কিছু বলার আগেই তো টর্নেডোর মতো করে এসে তুমিই ঝাঁপিয়ে পড়লে। বেচারী মেয়েটার চুল গুলো মনে হয় সব ছিঁড়েই ফেলেছো।”
এবার রাহি তেতে উঠলো। তাঁর রাগ এবার আর দেখে কে। রাগে জ্ঞান শূন্য হয়ে প্রেমের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। হাইটে ছোট হওয়ায় মেঝেতে দাঁড়িয়ে প্রেমের মাথার নাগাল পেলো না তাই বিছানায় উঠে প্রেমের চুল খামচে ধরলো।চুল টানতে টানতে বললো,
“ও এখন মেয়ে বেচারি হয়ে গেছে।ওই কাল নাগিনীর জন্য এখন দরদ উথলে পড়ছে।আজকে দুটোকেই নেড়া করে দিবো আমি।আমার সম্পদের উপর নজর আমি সহ্য করবো না।”
এদের এই অবস্থা দেখে হা করে তাকিয়ে আছে আয়েশা আর শান্ত।রাহির এই রণমূর্তির রূপ দেখে শান্ত তাড়াতাড়ি প্রেমকে ছাড়াতে গেলো।
প্রেমকে টানতেই রাহি আরও শক্ত করে প্রেমের চুল টেনে ধরলো। শান্ত এভাবে ব্যর্থ হয়ে রাহিকে ছাড়াতে গেলো।যেই রাহির হাত ধরে টান দিতে যাবে অমনি প্রেম হুংকার দিয়ে উঠে,
“ধরবি না আমার বউকে। ছুবি না একদম। আমার বউ আমাকে মারুক কাটুক তাতে তোদের কি।তোরা যা আমার রুম থেকে। আমার বউ যেনো একটুও ব্যথা না পাই শান্ত।”
শান্ত আর আয়েশা প্রেমের কথা শুনে হাবলার মতো তাকিয়ে আছে। শান্ত আর কিছু করলো না। আয়েশাকে নিয়ে চলে যেতে যেতে বলে গেলো,

“জীবনে যে আর কতকিছু দেখতে হবে।দেশের এমপিও নাকি বউ এর হাতে মার খাই। এইটা তো ব্রেকিং নিউজ হওয়া উচিত।”
এটা বলেই ফট করে মোবাইল বের করে ওদের ফটো তুলে নিলো।প্রেম কিছু করতেও পারছে না রাহির জন্য। রাহি ধরেছে তো ধরেছেই ছাড়ার কোনো নাম নেই।। শান্ত দাঁত বের করে হেঁসে আয়েশাকে নিয়ে চলে গেলো। যাওয়ার আগে দরজা চাপিয়ে দিলো।
কিছু সেকেন্ড পর আবার দরজা দিয়ে মাথা বের করে দাঁত কেলিয়ে বললো,
“হ্যাপি চুলাচুলি এবং মারামারি নাইট ভাইয়া ভাবি।”
শান্তরা চলে যেতেই প্রেম আকুতি করে বললো,
“এবারের মতো ছেড়ে দে বউ। আর ওই মেয়ের হয়ে একটা কথাও বলবো না প্রমিজ। তোকে কাল ঘুরতে নিয়ে যাবো।এবার তো ছাড় বউ।”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১০

প্রেমের এমন কণ্ঠ শুনে এবং ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনে রাহি কিছুটা শান্ত হলো।ছেড়ে দিলো প্রেমকে। শক্তি খাটিয়ে রাহি দুর্বল হয়ে গেছে। তাই বিছানায় গা এলিয়ে দিল। প্রেম ছাড়া পেয়ে সেও বিছানায় রাহির পাশে শুয়ে পড়লো। বেচারার মাথা খুব ব্যাথা করছে।
প্রেমের কান্না করতে ইচ্ছে করছে,ওর বাবা এই কোন ঝগড়ুটে মেয়ের সাথে তাকে বিয়ে দিলো।দেশের এমপি হয়েও বউ এর কাছে কোনো সম্মান নেই,দাম নেই। একজন এমপি যদি তার বউ এর কাছেই সুরক্ষিত না থাকে তাহলে দেশের মানুষকে সুরক্ষা দিবে কীভাবে।এসব যদি বাইরের কেউ জানতে পারে প্রেমের মান সম্মান সব শেষ হয়ে যাবে।
এসব ভেবেই দুঃখ হচ্ছে ।কাল শান্তর কাছ থেকে ফটোটা যেভাবেই হোক ডিলিট করাতে হবে। ওর প্রেস্টিজ এখন ওর বন্ধু নামে শত্রু শান্তর হাতে।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১২