Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১২

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১২

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১২
সুহাসিনী

আয়েশাকে রুমে শুইয়ে দিয়ে শান্ত চলে যাচ্ছিল, ড্রয়িংরুমে আমজাদ খান শান্তকে দেখে আজকে রাত থেকে যেতে বলে।শান্ত ও আর না করেনি।

রাহি আরাম করে হাত পা ছড়িয়ে ঘুমাচ্ছে।প্রেম অপলক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।মেয়েটা খুবই চঞ্চল। এতো সুন্দর পুতুলের মত মেয়ে এতো চঞ্চল হয় কীভাবে প্রেমের মাথায় ধরে না।
কিছুক্ষণ আগেই কান্না করতে করতে ঘুমিয়েছে রাহি।রাহির কান্নার কারণ তার প্রাণ প্রিয় এমপি সাহেব।
কিছুক্ষণ আগের ঘটনা,

রাহি আর প্রেম পাশাপাশি শুয়ে আছে।রাহি চিত হয়ে শুয়ে থাকার কারণে দম নেয়ার জন্য বুক অনবরত উঠানামা করছে।প্রেমের চোখ সে দিকে পড়তেই তার গলা কেমন শুকিয়ে আসে। শুনকা ঢোক গিলে রাহির দিকে এগিয়ে যায়।
রাহি প্রেমের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে ।প্রেম রাহির উপর হালকা ঝুঁকে রাহির খোলা চুলে হাত ডুবিয়ে দেয়।এতে রাহির শরীর হালকা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে।প্রেম শান্ত কণ্ঠে রাহিকে বললো,
“আমার মাখন অনেক পছন্দ।দেখলেই খেতে ইচ্ছে করে।”
রাহি স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর করলো,
“তো?এখন আমি কী করবো?”
“এখন চুপচাপ আমাকে আমার পার্সোনাল মাখন মন ভরে খেতে দিবে।”
“আপনি যত ইচ্ছে খান।আমি কি আপনার মুখ ধরে রেখেছি নাকি?”
“এই বয়সে এতো চটাং চটাং কথা শিখেছো কার কাছে বেয়াদব।”
“এখন তো আমার কথা চটাং চটাংই মনে হবে। আর ওই কাল নাগিনীর বিষাক্ত কথাও আপনার কাছে মধুর মতো লাগবে।”

“বার বার আমাদের মধ্যে আশাকে টেনে আনছো কেনো?”
“মন চেয়েছে তাই।আপনার কোনো সমস্যা।”
রাহির রাগটা যেনো আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।রাগে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।এতে করে তার বুক আরও বেশি উঠানামা করছে। তা দেখে প্রেম নিজেকে আর সামলাতে পারলো না।কেমন যেনো নেশাল কণ্ঠে বললো,
“তোকে তছনছ করে দিতে ইচ্ছে করছে খুব। তোকে ভীষণ কঠিন যন্ত্রণা দিতে মন টানছে।”
রাহি এবার কিছুটা ভয় পেলো,কাপা কণ্ঠে বলল,
“কি হয়েছে আপনার? এভাবে কথা বলছেন কেনো?”
“মনটা আজ ভীষণ করে তোকে চাইছে।অনুমতি দিবি বউ?”

রাহিকে আর কথা বলার সময় দিলো না।তার আগেই রাহির নরম গোলাপি ঠোঁট দুটো নিজের দখলে নিয়ে নিলো।এবার আর কামড় দিলো না নিজের এতো বছরের জমিয়ে রাখা আবেগ ঢেলে দিলো রাহির ঠোঁটজোড়ায়।
রাহির চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেছে।তার মনে হচ্ছে সে কারেন্টের ঝটকা খেয়েছে। তার সাথে এমন কিছু করবে প্রেম এটা তার ধারণাতেও ছিল না। এরকম ভাবে চুমু খেতে সে টিভিতে দেখেছে।
দুই মিনিট হয়ে গেছে কিন্তু প্রেমের ছাড়ার নামই নেই।রাহি আর পারছে না দম আটকে আসছে।রাহির শরীরও অনবরত কাপছে।প্রেম কিছুটা বিরক্ত হলো এতে।কিন্তু রাহিকে ছাড়লো না। রাহি ধাক্কা দিচ্ছে প্রেমকে কিন্তু প্রেমের শক্তির কাছে তার শক্তি কিছুই না।
রাহি সহ্য করতে না পেরে এবার কান্না করে দিলো।রাহির চোখের পানি প্রেমের গালে লাগতেই ওর হুশ আসলো।রাহিকে ছেড়ে দিয়ে দু হাতে মাথা চেপে ধরলো। আর মুখে বিরক্তিতে বলতে লাগলো,
“শিট শিট, এটা কি করলাম আমি।কীভাবে এতোবড় মিসটেক হয়ে গেলো আমার, উফফ।”
রাহি কান্না করতে করতে বলল,

“আপনি এমন কেনো করলেন, জানেন আর একটু হলেই আমি দম আটকে মরে যাচ্ছিলাম।আপনি খুব বাজে এমপি সাহেব।”
রাহির কান্না দেখে প্রেম কেমন অস্থির হয়ে গেলো। উতলা কণ্ঠে বললো,
“আমার ভুল হয়েছে আর এমন হবে না। প্লীজ কান্না থামাও।তোমার কান্নায় আমার মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে।আমি সহ্য করতে পারছি না।”
“আচ্ছা কান্না করবো না,কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে।”
“কি শর্ত?”
“আমার একটা জিনিস চাই আপনার কাছ থেকে।”
“কি লাগবে?”
“বেবি”

প্রেমের মাথা গরম হয়ে গেলো। রাগে রাহির গাল চেপে ধরলো। দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
“তুই নিজেই তো একটা বাচ্চা।সামান্য একটা চুমুই সহ্য করতে পারিস না আবার গোটা আমি টাকে কিভাবে সহ্য করবি? আর কোনোদিন যদি তোর মুখে ওই বেবি শব্দটা শুনি তাহলে ছাদ থেকে ফেলে মেরে ফেলবো বলে দিলাম।”
বলেই গটগট পায়ে বারান্দায় চলে গেলো। বারান্দার ডোর লাগলো শব্দ করে। রাহি কাদতে কাদতে বললো,
“কি এমন চেয়েছি আপনার কাছে, বিয়ের পর মেয়েরা কতো কিছু চায় আর আমি তো শুধু একটা বাচ্চা চেয়েছি। আর কতোবার আপনাদের বলবো আমি বাচ্চা না।”
বারান্দার ডোর কাচের হওয়ায় রাহির চিৎকার কিছুই শুনতে পেলো না প্রেম। রাহি রাগে কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লো এক পর্যায়ে।
বর্তমান,
প্রেম রাহির কাছে গিয়ে আলতো করে রাহির মুখের উপর পড়ে থাকা চুল সরিয়ে দিলো। রাহি কিছুটা নড়ে উঠল কিন্তু ঘুম ভাঙলো না।
প্রেম আর ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে বাইরে বেড়িয়ে গেলো।

সকাল সাতটা,
রাহির ঘুম ভাঙার পরে প্রেমকে সে আর দেখতে পায়নি। বেশি কিছু না ভেবে রাহি ফ্রেশ হয়ে নীচে গেলো।
রাতে চুমুর কারণে রাহির ঠোঁট গুলি কেমন যেনো ফুলে আছে। আয়েশা রাহিকে দেখে সিঁড়ির কাছে ডেকে মিটিমিটি বললো,
“কিরে কি খবর? চোখমুখ দেখে তো সামথিং সামথিং মনে হচ্ছে।”
“কি যে বলোনা আপু।”
রাহি আরও কিছু বলতে যাবে অমনি তার চোখ পড়লো তাদের ঠিক কাছেই দাড়িয়ে থাকা আশার দিকে। আশা তার ঠোঁটের দিকেই তাকিয়ে আছে এটা বুঝতে ভুল হলো না রাহির।তাই সেও মেকি হেসে বললো,

“আসলে তোমার ভাইটা না বড্ড দুষ্ট। কাল রাতে যা করেছে আমার সাথে। উনাকে দেখলে তো বুঝায় যায় না উনি এতো দুষ্ট । দেখোনা তার প্রমাণ তো আমার ঠোঁট দেখেই পাচ্ছ।”
“তাই তো দেখছি। ঠোঁট গুলো তো ফুলে আপেল হয়ে গেছে।”
বলেই হো হো করে হেসে দিলো আয়েশা।
আশা তাদের কথা শুনে রাগে গজগজ করতে করতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে যাচ্ছিল।পেছন থেকে তার মা বলল,

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১১

“কিরে কোথায় যাচ্ছিস? নাস্তা করবি না?”
আশা রাগে বললো,
“তোমার নাস্তা তুমিই করো ।আমার পেট ভরে গেছে।”
রাহি শুধু আর চোখে আশার চলে যাওয়া দেখলো।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১৩