Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৭

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৭

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৭
সুহাসিনী

রাহির প্রেমের উপর খুব অভিমান হলো। যার জন্য সে এতো যত্নসহকারে সাজালো সেই তাকে এভাবে আঘাত করলো।
রাহি মনে মনে ঠিক করলো আর কখনো সে প্রেমের জন্য সাজবে না। প্রেমের সাথে আর কথাও বলবে না।প্রেম ওয়াশরুমে থেকে বেরোনোর আগেই রাহি কাপড় পাল্টে একটা জামা পড়ে নিয়ে মাথায় কাপড় পেঁচিয়ে নীচে চলে গেলো।
যদিও প্রেমের উপর তার অভিমান হয়েছে কিন্তু আয়শা আসার কথা শুনে খুব খুশিও লাগছে। তাই প্রেমের কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে খুশি মনে নীচে গেলো।

প্রেম ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে রাহিকে দেখতে না পেয়ে সোজা নীচে গেলো রাহিকে খুঁজতে। নিচে গিয়ে দেখলো রাহি কিচেনে উঁকিঝুঁকি মারছে বাইরে থেকে।প্রেম এগিয়ে গিয়ে ঠিক রাহির পেছনে দাঁড়ালো। রাহি উঁকি মারতে বেস্ত থাকায় প্রেমকে খেয়াল করলো নাহ্। প্রেম রাহির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
প্রেম:”এইযে এমপি তাহির খান প্রেমের বউ, চোরের মতো এখানে দাঁড়িয়ে উঁকি মারছেন কেনো?”
রাহি অন্যমনস্ক থাকায় প্রেমকে খেয়াল না করেই আনমনে উত্তর দিলো,
রাহি:”আরে ভাই,এটা হলো আমার শাশুড়ি আম্মার গুপ্তধনের ঘর।এই ঘরে আমার প্রবেশ নিষেধ। আর নিষিদ্ধ কাজের প্রতি আমার আসক্তি একটু বেশিই।তাই ঢোকার চেষ্টায় আছি।”
প্রেম:”আপনার জন্য এই বাড়িতে কিছুই নিষিদ্ধ না মিসেস।আপনি যা খুশি তাই করতে পারেন।”
রাহি খুশি হয়ে পেছন ফিরে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো,
রাহি:”সত্যি?”

তখনই প্রেমের শক্তপোক্ত বুকের সাথে গিয়ে ধাক্কা লাগলো তার।যখন দেখলো এতক্ষণ ধরে সে তার স্বামীর সাথেই বকবক করছিল তখন তার মুখটা চুপসে গেলো।একটু আগের অভিমানরা এসে আবার ভিড় করলো তার মনে।মন খারাপ করে প্রেমের থেকে ছাড়িয়ে ড্রয়িংরুমের সোফার দিকে চলে গেলো।
প্রেম বোধহয় বুঝল তার বাচ্চা বউ এর অভিমান হয়েছে।সেই মুচকি হেঁসে রাহির পেছন পেছন গেলো।
সোফায় আগে থেকেই শান্ত আর লিয়ন বসে ছিল। এতক্ষণ ধরে তারা চা খাচ্ছিল আর প্রেম রাহির কাহিনী দেখছিল।তাদের মুখ দেখে মনে হচ্ছে এখানে বাংলা সিনেমার শুটিং চলছে।
প্রেমকে রাহির পেছন পেছন আসতে দেখে শান্ত আরমোড়া ভেঙে আফসোসের সুরে বলল,
শান্ত:”জীবনে যে আর কত কিছু দেখতে হবে রে লিয়ন,দেশের এমপিও ঘরে এখন বউ এর আঁচল ধরে ঘোরে।”
লিয়ন মুখ ফসকে কথার টানে বলে ফেলল,

লিয়ন:”ঠিক বলেছেন লিয়ন ভাই। যারা বাইর বাঘ হয়ে থাকে তাদেরও ঘরে বউ এর কাছে বিড়াল হয়ে থাকতে হয়।”
প্রেম এতক্ষনে তাদের কাছাকাছি চলে এসেছে।তাদের সব কথায় তার কানে এসেছে।সে লিয়নের দিকে তেড়ে যেতেই প্রেমের বাবা আমজাদ খান তাদের দিকে আসতে আসতে বললো,
“বিড়াল আবার কি করলো । আর বিড়াল আসলই বা কোথা থেকে?”
শান্ত:”মামীর পেট থেকে এসেছে বিড়াল।এবার বুঝেছেন মামা বিড়ালটা আসলে কে?”
প্রেমের বাবা প্রেমের দিকে ভ্রু কুচকে তাকালো।বললো,
“আমি কেনো বিড়াল জন্ম দিতে যাবো?আমি তো একটা অকর্মার ঢেঁকি জন্ম দিয়েছি।”
প্রেম:”আব্বু,এবার কিন্তু বেশি বেশি করছ তোমরা।একজন এমপির মানহানি করছ।এর ফল কিন্তু ভালো হবে না।”
শান্ত:”বুঝেছেন মামা,আজকাল উচিত কথার ভাত নাই।”
প্রেম দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
প্রেম:”শান্তর বাচ্চা,আর একটা উল্টা পাল্টা কথা বলে আমার মাথা গরম করলে আমার বোনকে কিন্তু দিবো না তোকে।”

শান্ত:”তোর বোনকে তো এখনো পর্যন্ত দিলিই না ভাই।তাহলে এই শান্তর বাচ্চা আসবে কোথা থেকে।বাচ্চার কথা বলে আর কষ্ট বাড়াস না ভাই আমার।”
প্রেম কিছু বলতে যাবে তখনই লিয়ন প্রেমকে বলে উঠলো,
লিয়ন:”ভাই বাইরে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে,আয়শাকে আনার সময় হয়ে গেছে।”

প্রেম কথা বাড়ালো না।সে তার বোনের প্রতি খুবই সিরিয়াস। শান্তর ও সেম অবস্থা।তার দুনিয়া এক দিকে আয়শা আরেক দিকে।সে সব কিছু নিয়ে মজা করে কিন্তু আয়শাকে নিয়ে মজা করা পছন্দ করে না।
আমজাদ খান, প্রেম,শান্ত,লিয়ন এক এক করে বেরিয়ে গেলো আয়শাকে এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করতে।
রাহিও আয়শাকে নিজের বড় বোনের মতো ভালোবাসে।আয়শাও তাকে ছোট বোনের মতো স্নেহ করে।আয়শা শপিং করলে সবসময় সবকিছু দুইটা দুইটা করে কিনে একটা তার আর একটা রাহির জন্য। আমজাদ খান যদিও ডাবল শপিং এর সময় কিছু জিজ্ঞেস করে না কিন্তু প্রেমের সাথে শপিং করতে গেলে প্রেম যদি জিজ্ঞেস করে সবকিছু দুইটা দুইটা নেওয়ার কারণ কি? তখন আয়েশা জবাব দেয়,

“আমার ভবিষ্যৎ ভাবির জন্য কিনে রাখছি,পড়ে যেনো আমার উপর কোন নালিশ করতে না পারে।”
বলেই হেসে দিত। প্রেমও মজা ভেবে উড়িয়ে দিতো।
আয়শা এসবই ভাবছিল এতক্ষণ গাড়িতে বসে বসে।গাড়ি চালাচ্ছে লিয়ন।তার পাশে প্রেম।পেছনে বসেছে শান্ত আর আমজাদ খান।
প্রায় ৩০ মিনিট পর তারা বাড়িতে এসে পৌঁছালো। রাহি গাড়ির শব্দ শুনেই সদর দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। আয়শাকে হুইল চেয়ারে করে গাড়ি থেকে নামানো হলো। আয়শার মা দৌঁড়ে গিয়ে মেয়েকে জরিয়ে ধরলেন। প্রায় তিন মাস পর আয়েশা দেশে ফিরলো । একটা একসিডেন্টে আয়শার এক পা অবশ হয়ে যায়। সেটার চিকিৎসা করানোর জন্যই তাকে প্রেম সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিল তার খালার কাছে।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৬

আয়শাকে ভিতরে নিয়ে গিয়ে তার মা নিজে হাতে খাইয়ে দিলেন মেয়েকে। আয়শা যদিও এসবে একটু বিরক্ত হচ্ছিল।কিন্তু মা তো তাই মুখে কিছু বলল না।
সবাই রাতের খাওয়া শেষ করে সোফায় বসে আছে।প্রেম বাড়িতে নেই। শান্ত শুধু দু চোখ ভরে তার প্রেয়সীকে দেখে যাচ্ছে।কিন্তু আয়শার সেদিকে কোন ভ্রু ক্ষেপ নেই।সে শান্তকে মেনে নেয়নি।তার কারণ সে মনে করে শান্ত তার পঙ্গুত্ব দেখে তাকে দয়া দেখিয়ে বিয়ে করতে চাচ্ছে।তার চেয়ে বড় কথা হলো সে চায় না শান্তর জীবনে তার মতো অক্ষম একজন আসুক। সে তো নিজেরই খেয়াল রাখতে পারে না তাহলে শান্তর খেয়াল রাখবে কি করে। এসব ভেবেই সে শান্তকে পাত্তা দেই না। কিন্তু সেও ভেতরে ভেতরে গোমড়ে মরে।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৮