এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৮
সুহাসিনী
আয়েশা আসার পর আরও তিন দিন কেটে গেছে। এই তিন দিন রাহি আয়েশার সাথে খুব আড্ডা দিয়েছে। আয়শাও খুব এনজয় করেছে। আয়েশা আগে থেকেই রাহিকে তার ভাবি হিসেবে মেনে নিয়েছিল।
এই তিনদিন শান্তকে তাদের বাড়ির পাশে যত বার ঘুরঘুর করতে দেখা গেছে গত তিন মাসে মিলিয়েও ততবার দেখা যায় নি।কিন্তু বেচারা আয়েশার কাছ থেকে সেরকম কোনো পাত্তা পায়নি।কিন্তু সে হাল ছাড়ার পাত্র না।
সকাল ৮ টা বাজে।
প্রেম এখনও ঘুমাচ্ছে। রাতে অনেক দেরি করে বাড়ি ফিরেছে। আয়েশা আসার পর থেকে রাহি তার সাথে ঘুমায়। প্রেমের অবশ্য এতে ভালোই হয়েছে। নিজের সাথে নিজের যুদ্ধ করতে হয় না। ইচ্ছে করেই রাহির রাগ ভাঙ্গায়নি এতোদিন। ইচ্ছে করে ভাঙায়নি বললে ভুল হবে,কাজের চাপে সময় বের করতে পারেনি বউ এর জন্য।
রাহি টিপ টিপ পায়ে প্রেমের রুমে ঢুকলো।প্রেম প্রায় সবসময় নিজের রুমের দরজা খোলা রেখেই ঘুমায়।
রাহি প্রেমের রুমে এসেছে তার এমপি সাহেবকে একটু মন ভরে দেখতে।
রাহি রুমে ঢুকে দেখলো প্রেম চিৎ হয়ে শুয়ে ঘুমাচ্ছে। ভয়ে কাছে গেলো না মেয়েটা।যদি তার এমপি সাহেবের এতো সুন্দর ঘুম তার জন্য নষ্ট হয়ে যায় তাই।
কিছুক্ষণ থেকে রাহি বাইরে বেরোনোর জন্য পা বাড়ালো। দরজার কাছে যেতেই পেছন থেকে কেমন যেনো গোঙানোর মতো অস্পষ্ট শব্দ পেলো। দ্রুত পেছনে তাঁকিয়ে দেখলো,প্রেম দম নিতে না পেরে কেমন যেনো একটা করছে।রাহির ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো।সঙ্গে সঙ্গে সে চিৎকার দিয়ে তার শশুর শাশুড়িকে ডেকে প্রেমের কাছে ছুটে গেলো। প্রেমর শ্বাস নিতে পারছে না।দম আটকে গেছে।রাহি কি করবে বুঝতে পারছে না।সে প্রেমকে নিজের কোলে শুইয়ে বুকে অনবরত মালিশ করতে লাগলো।প্রেমের গোঙানির শব্দ ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। রাহির এখন নিজেরও দম বন্ধ লাগছে।এতক্ষনে চিৎকার শুনে সবাই এসে হাজির হয়েছে প্রেমের রুমে।প্রেমের মা আফরোজা খান ছেলের এই অবস্থা দেখে সেও প্রেমের পাশে বসে অনবরত মালিশ করতে লাগলো।প্রেমের বাবা ডাক্তারকে কল করে তাড়াতাড়ি আসতে বলেছে।
প্রায় ২ মিনিট পর প্রেম একটু একটু দম নিতে পারলো।আস্তে আস্তে গোঙানির শব্দও কমে এলো। প্রেমের শরীর ঘেমে একাকার হয়ে গেছে এতক্ষনে।
প্রেম একটু স্বাভাবিক হয়ে ধীরে ধীরে চোখ খুললো। দেখলো সে রাহির কোলে শুয়ে আছে।পাশে বসেই তার না মা কাদঁছে।রাহি ও কাদতে কাদতে চোঁখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে।
ডাক্তার এসে প্রেমের চেকআপ করে বলেছে চিত হয়ে ঘুমানোর কারণে খাদ্যনালি বন্ধ হয়ে পানি শ্বাসনালীতে চলে গেছিলো,তাই এমন হয়েছে।প্রেমের এই সমস্যা এর আগেও হয়েছে।তার একটানা অনেক্ষণ চিত হয়ে ঘুমানো নিষেধ।সে একমাত্র গভীর ঘুমে থাকলেই এমন হয়।এই কারণেই প্রেমের রুমের দরজা সবসময় খোলা থাকে। অনেকদিন ধরেই এই সমস্যাটা প্রেমের হয়নি কিন্তু আজকে হঠাৎ আবার শুরু হলো।
সবাই প্রেমকে রেস্ট নিতে বলে চলে গেলো।রাহি শুধু রুমের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে।প্রেম চোখ বন্ধ করে খাটে হেলান দিয়ে বসে আছে।
রাহি মাথা নিচু করে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নিলে পেছন থেকে প্রেম তাকে ডাকে। সেও ভদ্র মেয়ের মতো খাটের পাশে এসে দাঁড়ায়।
প্রেম তার হাত ধরে পাশে বসায়। শান্ত কণ্ঠে বলে,
প্রেম:”কান্না করেছ কেনো?”
রাহি ভারী কণ্ঠে জবাব দিলো,
রাহি:”এমনি”
প্রেম:”রান্না করতে পারো বাচ্চা বউ?”
রাহি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল, ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো,
রাহি:”আমাকে একদম বাচ্চা বউ বলবেন না।”
প্রেম:”কি বলবো তাহলে ?”
রাহি:”শুধু বউ বলবেন।”
প্রেম:”লজ্জা সরম কোন বাজারে বেঁচে দিয়ে এসেছো বউ? এমপির বউ এতো নির্লজ্জ হলে চলে?”
রাহি:”এখানে নির্লজ্জের কি দেখলেন আপনি?”
প্রেম:”এখনও দেখিনি কিন্তু তোমাকে দেখতে চাই।”
রাহি:”দেখছেনই তো”
প্রেম:”এভাবে না, একটু অন্য ভাবে, সবকিছু ছাড়া।”
রাহি বুঝতে পারল না প্রেমের কথার মানে।
প্রেম ধীরে ধীরে রাহির গলার কাছে মুখ নিয়ে নাক ঘষতে লাগলো। ফিসফিস করে বলল,
প্রেম:”কবে এতো ভালোবাসলি আমায় বউ?”
রাহি উত্তর করলো না। লজ্জায় নেতিয়ে গেলো। বেচারি এতো গভীর স্পর্শ বোধ হয় নিতে পারছে না। কেমন যেনো কাপছে। প্রেম আরও গভীর ভাবে রাহির গলায় নিজের মুখ ডুবালো।
তখনই কাজের লোকের হাতে খাবার নিয়ে প্রেমের মা তাদের রুমে প্রবেশ করলো।সাথে সাথে প্রেম রাহির থেকে দূরে গিয়ে চোখ বন্ধ করে খাটে হেলান দিলো।
রাহি জটপট উঠে কাপা কাপা পায়ে বাইরে বেড়িয়ে গেলো।প্রেমের মা খেয়াল করলো রাহির লজ্জায় লাল হওয়া মুখ।
কাজের লোককে খাবার রেখে তিনি চলে যেতে বললেন।প্রেমের কাছে বসে ছেলের মাথায় হাত রেখে খুব নমনীয় কণ্ঠে বললো,
“রাহি মেয়েটা কিন্তু তোর জন্য পারফেক্ট বাবা।শুরুতে আমিও রাগ করেছিলাম তোর বাবার প্রতি,কিন্তু দিন দিন যত মেয়েটাকে দেখছি তত বুঝতে পারছি তোমার বাবা যা করেছে ঠিক করেছে।”
প্রেম নিশ্চুপ।কিছু বলল না,আগের মতোই চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইলো।
“খাবার ঠাণ্ডা হয়ে যাবে আব্বু।খেয়ে নাও। আর একটা কথা,মেয়েটা ছোট, এখনো তোমাকে বোঝার বয়স হয়নি।ওকে একটু সময় দাও।আমি জানি আমার ছেলে খুব ধৈর্যশীল।এখন রাহিকে দেখে যা বুঝলাম তুমি আর একটু বেশি এগোলে মেয়েটা কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়বে।”
প্রেমের মা চলে গেলো। প্রেম তপ্ত একটা নিঃশ্বাস ফেলে খেতে বসলো।
শান্ত:”আমাকে কেনো মেনে নিতে পারছ না তুমি আয়েশা?”
আয়শা:”সেটা তুমি ভালো করেই জানো শান্ত ভাই।”
শান্ত:”একদম ভাই বলে ডাকবে না আমাকে বলে দিলাম।তুমি আগে তো এমন ছিলে না।”
আয়েশা:”আগে আমি পঙ্গুও ছিলাম না।”
শান্ত:”একদম এসব বলবে না আমাকে।আমি তোমাকে ভালোবাসি। আর যাকে ভালোবাসা যায় তাকে সব ভাবেই ভালোবাসা সম্ভব”
আয়েশা:”রাখলাম।”
আয়েশা কল কেটে দিলো।তার চোখের কোণে পানি। শান্তর সাথে কাটানো মুহূর্ত গুলো মনে পড়লে নিজেকে শক্ত রাখা তার পক্ষে খুব কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক আগে থেকেই তাদের বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।
রাহি রুমে ঢুকে দেখলো আয়শা জানালার পাশে বসে কাদঁছে।রাহি বুঝে গেলো আয়শার কান্নার কারণ।
রাহি:”আপু,তোমাকে না বলেছি কাদবে না।শান্ত ভাইয়া কে কেনো এভাবে কষ্ট দিচ্ছ?”
আয়েশা:”সবটাই তুমি জানো রাহি।”
রাহি:”হুম জানি,তুমি তো ঠিক হয়ে যাবে ডাক্তার বলেছে।তবুও কেনো এমন করছ।আর তুমি ঠিক না হলেও তোমাকে এভাবেই গ্রহণ করতে রাজি শান্ত ভাইয়া।”
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৭
আয়েশা:”এসব এখন বাদ দাও।এখন ভাইয়ার কি অবস্থা।”
রাহি:”ভালো।আসলে আপু আমি চাচ্ছিলাম আজকে থেকে তোমার ভাইয়ার সাথে ঘুমাতে।দেখলেই তো আজকে কি একটা অবস্থা হলো।তুমি রাগ করবে না তো?”
আয়েশা:”এখানে রাগের কি আছে পাগলি।এটা তো ভালো কথা।”
রাহি:”তাহলে এখন আমি যায়?আজকে আমি আমার শাশুড়ির থেকে তার রান্না ঘরে ঢোকার অনুমতি নিয়ে সবার জন্য খাবার বানাবো।”
আয়েশা:”আচ্ছা যাও।”
