Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৯

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৯

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৯
সুহাসিনী

সবাই দুপুরে খাওয়ায় জন্য ডাইনিং এ বসে অপেক্ষা করছে। আফরোজা খান টেবিলে খাবার দিচ্ছেন। তিনি সবাইকে খাবার বেড়ে দিয়ে নিজেও বসলেন।প্রেমের বাবা উনাকে বললেন,
“সবাই চলে এসেছে কিন্তু রাহি আম্মু কোথায় আফরোজা?”
“ও নাকি সবার জন্য তার হাতের স্পেশাল আইটেম বানাচ্ছে।আসছে এক্ষুনি,রান্নাঘরেই আছে।”
কথা শেষ হতেই পেছন থেকে রাহি বাটি হাতে রান্নাঘর থেকে বের হতে হতে বললো,
” চলে এসেছি আমি ।সবাই খাওয়া শুরু করো তোমরা।”
প্রেমের বাবা বলেন,
“কি রান্না করেছো আম্মু?”
“আমার হাতের স্পেশাল পায়েশ করেছি বাবা।”

“উফফ,তোমার হাতের পায়েশ যে কি মজা আম্মু কি বলবো।তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে পায়েশটা খাই।”
সবাই খাওয়া শুরু করলো।খাওয়া শেষে পায়েশ খেয়ে আয়েশা আর প্রেমের বাবা অনেক প্রশংসা করলেন রাহির।প্রেমের মা মুখে কিছু না বলে তার রুমে চলে গেলেন। কিছুক্ষন পর হাতে একটা বাক্স নিয়ে ফিরে এলেন। বক্সটা খুলে তার মধ্যে থেকে এক জোড়া স্বর্ণের চুড়ি বের করে রাহির হাতে পড়িয়ে দিলেন। চুড়ি গুলো খুবই সিম্পল।
“এগুলো আমার শাশুড়ি আমাকে দিয়েছিল যেদিন প্রথম রান্না করেছিলাম।যদিও তোমার মতো এতো মজা হয়নি তবুও তিনি দিয়ে বলেছিলেন এটা নাকি তাদের বংশের নিয়ম।এখন আমি তোমাকে দিলাম।”
রাহি মাথা নিচু করে জবাব দিলো,

“ধন্যবাদ মা।”
আফরোজা খান রাহির কপালে একটা চুমু দিয়ে রান্নাঘরে সবকিছু ঘোছাতে চলে গেলো।প্রেমের বাবা ভ্রু কুচকে বললেন,
“আজকে সূর্য কোনদিকে উঠেছে আয়েশা? তোমার আম্মুকে রাহিকে আদর করলেন?আমি কি ভুল দেখলাম?”
আয়েশা:”আমিও তাই ভাবছি আব্বু।”
প্রেম তাদের কথার মাঝেই উপরে চলে গেল। রাহির আবারও খুব অভিমান করল।সবাই তার রান্নার এতো প্রশংসা করল তার শাশুড়ি পর্যন্ত খুশি হয়ে তাকে উপহার দিলো কিন্তু তার স্বামী কিছু না বলেই চলে গেলো।

রাহি রুমে এসে বই নিয়ে টেবিলে বসে রইলো।পড়ায় মন বসছে না।কিছুদিন পর তার বার্ষিক পরীক্ষা।প্রেম রুমে ঢুকে বারান্দায় চলে গেছে ফোন কথা বলতে।
রাহি বোরিং হয়ে টেবিলে মাথা রেখে মন খারাপ করে বসে রইলো।কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লো।দুপুরে খাওয়ার পর এমনিতেই রাহির খুব ঘুম পায়।আর আজকে তো তার মন খারাপ।
প্রেম রুমে এসে রাহিকে টেবিলে বসে ঘুমাতে দেখে জোরে শ্বাস ফেলে রাহিকে কোলে তুলে নিলো।বিছানায় শুইয়ে দিয়ে মুখের উপর ঝুঁকে রইল। রাহি কেবলই ঘুমিয়ে ছিল।প্রেমের গরম নিঃশ্বাসে তার ঘুম হালকা হয়ে এলো। চোখ খুলে প্রেমকে তার উপর এভাবে ঝুঁকে থাকতে দেখে কিছুটা ভরকে গেলো। প্রেমও এক ভাবে তাঁকিয়ে আছে রাহিও।
কিছুক্ষণ এভাবে থাকার পর রাহি হঠাৎ প্রেমের ঠোঁটে কামড় বসিয়ে দিলো।
প্রেম হতভম্ভ।কি করছে তার এই বাচ্চা বউ। রাহি কামড় দিয়ে ধরেছে তো ধরেছেই ছাড়ার কোনো নাম গন্ধ নেই। প্রেম ব্যথা পাচ্ছে ঠিকই কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না।

কিছুক্ষণ পর রাহির মুখে নোনতা স্বাদ অনুভূত হওয়ার পর জলদি ছেড়ে দিলো। দেখলো প্রেমের ঠোঁট কেটে রক্ত বের হচ্ছে। রাহি ভয়ে তাড়াতাড়ি শুয়া থেকে উঠে চিন্তিত কণ্ঠে বললো,
রাহি:”আরে আপনার ঠোঁট থেকে তো রক্ত বের হচ্ছে।আমি তো বুঝতে পারিনি এভাবে রক্ত বের হয়ে যাবে।আমি তো শুধু আপনাকে বড়দের মতো চুমু খাচ্ছিলাম।আপনি তো আমাকে ছাড়িয়ে দিতে পারতেন এমপি সাহেব।”
প্রেম ভাবলেশহীন ভাবে উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো।প্রেম চলে যাওয়া পর নিজে নিজেই বললো,
“খুব ভালো হয়েছে। আমাকে পাত্তা না দেওয়া।আমি তো ইচ্ছে করেই কামড়টা দিয়েছি।তবে এত জোরে লাগবে আর রক্ত বের হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি এমপি সাহেব।”
শেষের কথাটা খুব আফসোসের সহিত বলল।
প্রেম ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে পাঞ্জাবি পরে রেডি হয়ে বের হয়ে গেলো।রাহির খুব খারাপ লাগলো।সে ভাবলো প্রেম হয়ত তার উপর খুব রাগ করেছে।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ৮

প্রেম পার্টি অফিসে এসেই লিয়নকে নিজের কেবিনে ডাকলো।
প্রেম:”আজকে সন্ধ্যায় যত মিটিং আছে সব গুলির শিডিউল চেঞ্জ করে বিকালে দে। সন্ধ্যায় বাসায় আমার কাজ আছে।”
লিয়ন:”আচ্ছা ভাই।”
লিয়ন চলেই যাচ্ছিলো কিন্তু কিছু একটা ভেবে পেছনে ঘোর প্রেমের ফোলা ঠোঁট দেখে বোকার মতো প্রশ্ন করে বসে,
“ভাই আপনার ঠোঁটে তো মনে হয় পিঁপড়া কামড় দিয়েছে। হাই আল্লাহ্, আপনার তো ডাক্তার দেখাতে হবে।”
প্রেম:”পিঁপড়া না তোর ভাবি কামড় দিয়েছে।তোকে যেটা বলেছি তুই সেটা কর।”

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ১০