এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ১০
ফাতেমা তুজ জোহরা
ছা*ড় আমাকে তোর স্পর্শ আমার সারা শরীর আ*গু*ন জ্বা*লি*য়ে দিচ্ছে, ছা*ড় জা*নো*য়া*র ” ইনান কথাগুলো বলে রুশভিয়ান স*রা*নো চেষ্টা করছে। ইনানের কথা শুনে রুশভিয়ানের মনে এতটুকু অনু*শোচনা হলো না। উল্টো আরো জোরে ইনান বুকের সাথে চেপে বিছানায় ঠে*সে ধরলো। ইনান রুশভিয়ানের বুকে খা*ম*চি দিতে লাগলো। রুশভিয়ান চেপে থাকা রা*গ*টা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। সে শক্ত করে ইনানে গলা টাকে চে*পে ধরে কটমট করে বলল,” এত কথা কইলে মুখটাকে কা*ই*টা রাখাইয়া দিমু, তোর কাজ আমারে বিছানায় শান্তি দাওন সেই কাজ করবি বুঝলি মা**গি ” কথাটুকু বলে ইনানের গ*লা টাকে আরো জোরে চে*পে ধরলো। ইনান ছ*ট*ফ*ট করছে, চোখ দুটো বড় বড় হয়ে, বুকের ভেতর শুরু হয়েছে তীব্র হাঁসফাঁস। নিজেকে বাঁ*চা*নো*র প্রয়াসে বার বার রুশভিয়ানের হাতে মা*র*তে থাকলো ইনান। তবুও রুশভিয়ানের পা*ষা*ন হৃদয় এতটুকু মায়া হলো না। সে আগের মতো চেপে ধরে থাকলো।
এরইমধ্যে আবার দুইবার দরজা টোকা পড়লো। সম্বিৎ ফিরলো রুশভিয়ানের। নিজের রা*গ*টা*কে সংবরন করে ছাড় দিলো ইনান কে। ইনান ছাড়া পেয়ে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো। সাথে অনবরত কাশতে লাগলো সে।রুশভিয়ান বিছানার কোনায় পড়ে থাকা লুঙ্গিটাকে তুলে পড়তে পড়তে ইনানের দিকে তাকিয়ে বলল,” চাদর দে শ*রীরে? বলেই ইনানের দিকে তাকায়। ইনান রুশভিয়ানের কথা শুনতে পায়নি সে নিজের মতো করে কাশতে ব্যস্ত। রুশভিয়ান কিছু বলল না এবার। রা*গে ফোঁস ফোঁস করে নিচ থেকে চাদর তুলে ইনানের শ*রীর টা ঢেকে দে। ইনান কিছু বলল না, সে অন্যত্র মুখ ঘুরিয়ে শক্ত করে চাদর টাকে আকড়ে ধরলো।
রুশভিয়ান ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে ছোট ব*ন্দু*ক বের করে এগিয়ে গেল দরজার দিকে।
এদিকে ইনান ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো শরীরের অ*স*হ্য ব্য*থা*য়। সারা শরীর জুড়ে কা*ম*ড়ে*র দা*গ রয়েছে। কোন কোন জায়গা থেকে আবার র*ক্ত বের হতে শুরু হয়েছে। নিজেকে ওই এমপির সামনে যতই সাহসী দেখাক আসলে তার খুব ভ*য় হচ্ছে এই এমপি কে। সামনে কি লেখা আছে ভাগ্যতে কে জানে।
রুশভিয়ান আবারো লুঙ্গির গিঁট টাকে আরো শক্ত করে বেঁধে
এগিয়ে যাচ্ছে। রুশভিয়ান দরজা খুলতেই দেখতে পেল আমির দাঁড়িয়ে আছে। মাথা নিচু করে। রুশভিয়ানের কপালে পড়লো গাঢ় ভাঁজ। আমির রুশভিয়ানের উপস্থিতি বুঝতে মাথা তুলে বলল,” ভাই ডি*আইজি আইছে, আমি নিচে বইসা আছে?
কথাটা শোনার পর রুশভিয়ানের ঠোঁটে ফুটে উঠলো ক্রু*র হাসি সে আমির দিকে তাকিয়ে বলল,” ডি*আইজিরে খাতির যত্ন কর? আমি তোর ভাবিরে লইয়া আইতাছি ” কথাটুকু বলেই রুশভিয়ান তার ঘরের দরজটা আমিরের মুখের উপরে লাগিয়ে দেয়। আমির চলে গেল নিচে, ভাইয়ের আদেশ মতো কাজ করতে।
রুশভিয়ান ঘরে এসে দেখলো ইনান অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে কাঁদছে। কান্নার জন্য তার পুরো শরীরটা থেকে থেকে কেঁপে উঠছে। রুশভিয়ান আবার বিছানায় গিয়ে ইনানের চাদরের নিচে ঢুকে পড়লো। রুশভিয়ান যেন নিজেকেই চিন্তে পারছে না। এই জীবনে কত মেয়ে তার আশেপাশে ঘুরঘুর করেছে কাউকে সে পাত্তা দেয়নি। এমনকি আগের স্ত্রীর তাকে তার কাছে যেতে বারন করলে সে আর ওই পথ মাড়াইনি কিন্তু এই মেয়েকে যতবার দেখছে ততবার তাকে কাছে পাওয়ার বা*স*না তীব্র ভাবে জেঁকে বসছে। রুশভিয়ান ইনান উ*দ*রে হাত দিয়ে গ*লা*য় মুখ ডুবিয়ে দেয়।
রুশভিয়ানের ছোঁয়া পেয়ে ইনানের ব*মি আসার উপক্রম। এ্ই মানুষটা তার রে*পি*স্ট।সে কখনোই একে ক্ষমা করবে না। সে কাট হয়ে রুশভিয়ানের ছোঁয়া গুলো স*হ্য করতে লাগলো। রুশভিয়ান একঝটকায় ইনানকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে আবারো দখল করে নিলো ঠোঁ**ট জোড়া। ইনান টাল সামলাতে না পেরে খাট থেকে পড়ে যেতে নিলেই। রুশভিয়ান তার কো*ম*ড় ধরে আরো কাছে টেনে আনলো। দুজনের শ*রী*র দুজনের সাথে মিশে গেল। ইনান তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে বারংবার ।রুশভিয়ান এইভাবে আরো পাঁচমিনিট ইনান কি*স করে বুকে নেমে এসে কি*স করতে লাগলো।ইনান চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। তার মনে হলো এর থেকে মামীর ক*ষ্ট গুলো ঢের ভালো ছিলো অন্তত নিজের সম্মানটুকু হা*রা*নো*র ভ*য় থাকতো না। রুশভিয়ানের মাথায় টনক নড়লো নিচে ডি*আইজি এসেছে। সে ইনান কে ছেড়ে দিয়ে দূরে সরে গেল।
ইনান বুক ভরে গভীর শ্বাস টানলো। এতক্ষণ মনে হচ্ছিল শ্বাস বন্ধ হয়ে মা*রা যাবে। রুশভিয়ান বিছানা থেকে উঠতে উঠতে বলল,” তাড়াতাড়ি গোসল কইরা নে? নিচে ডি*আইজি আইছে আমি যা বলমু তা তা বলবি তারে?
ডি*আইজির আসার কথা শুনে ইনায়ার চোখ দুটো চকচক করে উঠলো। এবার হয়তো তার মুক্তি হবে এই ন*র*ক থেকে। সে মনে মনে ভেবে নিলো ডি*আইজিকে সব কিছু বলে এইখান থেকে চলে। ইনানের ভেতরে খুশি হলেও বাইরে থেকে দেখালো সে একটু খুশি না। অতঃপর মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝালো সে।
ইনান বিছানায় থেকে নিচে পা রাখতেই ধপ করে নিচে প*ড়ে গেল। শরীর থেকে চাদর সরে বিছানায় রয়ে যায়। ইনান লজ্জায় ভ*য়ে, শরীরের অ*স*হ্য ব্য*থা*য় শব্দ করে কেঁদে উঠলো। রুশভিয়ান ইনান কে কাপড় লে*স অবস্থায় দেখে তার আবারো কা*ম জেগে উঠলো। মনে মনে ডি*আইজি কে গা*লি দিয়ে বলল,” শা*লা তোর আসার সময় হইলো না, এত সুন্দর বউ রাইখা নিজেকে সামলানো কতটা ক*ষ্ট কর ওই শা*লা ডি*আইজি তুই জানিস” রুশভিয়ান বিরক্তি নিয়ে ইনানের দিকে এগিয়ে একঝটকায় ইনানকে কোলে তুলে ওয়াশরুম দিকে পা বাড়ালো আর মনে মনে ডি*আইজির গুষ্টি উদ্ধার করতে ভুললো না। তবুও মনকে শান্তনা দিলো কিছুক্ষণ কথা বলে এসে আবারো খেলা দেখাবে।
রুশভিয়ান ইনান কে ওয়াশরুমে রেখে চলে আসলো। এসে শার্টটা জড়িয়ে বাইরে চলে গেল। এখন গোসল করবে না। আরেকটু পর করবে। রুশভিয়ান বাঁকা হেঁসে চলে গেল বাইরে।
আর ইনান বাথরুমে বসে ডুকরে কেঁদে উঠলো!
ড্রয়িং রুমে পিনপতন নীরবতা। মুখোমুখি হয়ে বসে আছে ডি*আইজি মারুফ আর এমপি রুশভিয়ান। মারুফ কাবিনের কাগজ গুলো খতিয়ে খতিয়ে দেখছে। তার বার বার মনে হচ্ছে এমন কিছু আছে যা তার চোখে পড়ছে না। রুশভিয়ান ডেট অনুয়ায়ী বিয়ের তারিখটাও মিলে যাচ্ছে। রুশভিয়ান পায়ের উপর পা তুলে আরামে চা পান করতে ব্যস্ত। তার কোন দিকে খেয়াল নেই সব ধ্যান চায়ের উপরে বিদ্যমান।
মারুফ মাথা তুলে তাকালো রুশভিয়ানের তারপর বলল,” মেয়েটা কোথায় আছে?
মারুফের কথা শুনে রুশভিয়ান শব্দ করে হেঁসে উঠলো। কিয়তক্ষন পর হাসি থামিয়ে বলল,”এটা কোন প্রশ্ন করলেন? বাড়ির বউ বাড়ি থাকবো না তো কই থাকবো?
মারুফ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রুশভিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। তার একচুল ও এই এমপি কে বিশ্বাস হচ্ছে না। কোথায় মেয়েটার বয়স আর কোথায় এই মন্ত্রী। মারুফ ভেতরের বি*ষা*ক্ত বাতাসটাকে বের করে নড়েচড়ে বসে বলল,” তা মেয়ের বাবা মা কই তাদের ও ডাকুন আর মেয়েটাকে ও!
রুশভিয়ান আমির কে ইশারা দিতেই আমির ছুটলো তার কাজে। এরইমধ্যে কাজের মেয়ে মিনুর সাথে ইনান নেমে এলো ধীরে ধীরে। এইটুকু পথ আসতে কতটা ক*ষ্ট স*হ্য করতে হয়েছে সে খুব ভালো করে বুঝতে পারছে। তবুও নিজেকে বাঁচানোর এতবড় পথটা কিভাবে হাতছাড়া করবে সে। ইনানের পরনে লাল পাড়ের তাঁতের শাড়ী, শাড়ীতে কি বাহারী রকমের নকশা করা আছে। পুরো শরীর ভর্তি গহনা। যা ইনানের কাছে শিকল বইকি কিছু না। পায়ে সোনার নুপুর,হাতে মোটা মোটা রাজকীয় সোনার বালা, নাকে ডায়মন্ডের নাকফুল। ভেজা চুল গুলো পিঠে ছড়িয়ে রাখা আছে।
ইনান কে আস্তে দেখে রুশভিয়ান একজন স্ত্রী ভক্ত স্বামীর মতো উঠে গিয়ে ইনানকে আগলে ধরলো। রুশভিয়ানের ছোঁয়া পেয়ে আবারো ইনানের পুরো শরীর রি রি করে উঠলো। রুশভিয়ান ইনানের কাঁধে হাত দিয়ে বিরবির করে বলল,”একবার উপরে তাকাও বিবিজান?
ইনান পা থমকে গেল রুশভিয়ানের কথা শুনে। সে বুঝতে পারলো না কেন তাকে উপরে তাকাতে বলল। রুশভিয়ান আবারো চাপা স্বরে কটমট করে বলল,” তাকা শা**লি?
ইনান চমকে উঠলো, চোখ দুটো ছলছল হয়ে। সে মাথা উঁচিয়ে উপরে তাকাতেই তার পুরো পৃথিবীটা দুলে উঠলো এক নিমেষেই। উপরের করিডরে চারটা মোটা মোটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। প্রত্যেকের হাতে মোটা মোটা রা*ই*ফে*ল যার নিশানা মারুফের উপরে করা আছে। রুশভিয়ান আবারো চাপা স্বরে বলল,” একটা ভুলভাল কথা কইলে ডি*আইজিকে উ*ড়া*য় দিমু? তাই আমি যা যা বলমু তাতে সায় জানাবি!
ইনান সেদিক থেকে চোখ সরিয়ে রুশভিয়ানের দিকে তাকায়।তার এতদিন মনে হতে তার মামা মামি পৃথিবীর সব থেকে নি*কৃ*ষ্ট মানুষ। নাহলে কি নিজের ভাগ্নীকে ক*ষ্ট দিতে পারে। কিন্তু তার ভাবনা ভুল তার মামা মামীর থেকে আরো নি*কৃ*ষ্ট লোক এই সামনের জা*নো*য়া*র*টা। যার নিষ্পাপ মানুষ গুলোকে মা*র*তে এতটুকু হাত কাঁপে না। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ইনানের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো।
রুশভিয়ান আবারো ইনানের কাঁধে হাত দিয়ে এগিয়ে গেল মারুফের দিকে। সে ঘরে বুঝতে পেরেছিলো এই মেয়ে মনে মনে কিছু একটা প্যাঁচ কষছে। কিন্তু সে তো তার এতদিনের পরিশ্রম ন*ষ্ট হতে দিবে। কত ক*ষ্ট করে এই এমপি পদ পাওয়া সেটা সে ভালো করে জানে। আর তার এতদিনের ক*ষ্টে কেউ পানি ঢেলে দিবে আর সে বসে বসে দেখবে। এমনটা হতে দেওয়ার মতো লোক সে নয়।
রুশভিয়ান ইনানকে নিয়ে মারুফের সামনে গিয়ে বসে পড়লো। মারুফ ইনান কে আপাদমস্তক পরোক্ষ করতে ব্যাস্ত। আর ইনান তো মাথা নিচু করে বসে আছে। কত আশা বুকে বেঁধে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলো।কিন্তু কে জানতো চোখের পলকে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে।
মারুফ ইনানের দিকে তাকিয়ে মুখে মুচকি হাসি দিয়ে বলল,” কেমন আছো মা?
ইনান তড়াক করে মাথা উঁচু করে মারুফের দিকে তাকায়। তার চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো কয়েকফোঁটা অশ্রু। তার আব্বু মা**রা যাওয়ার পর এই পৃথিবীতে কেউ তাকে মা বলে সম্মোধন করেনি।তার আব্বু তাকে নাম ধরে কম ডাকতো সবসময় শুধু মা মা বলে ডাকতো। ইনানের পুরনো দিনের কথাগুলো মনে পড়ায় বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠলো। ইনান আলগোছে মুছে মাথা নাড়িয়ে বোঝালো ভালো আছে সে।
মারুফ আবারো বলল,” তোমার স্বামীর নাম কি?
রুশভিয়ান শুকনো ঢোক গিললো। বার বার মনে হতে লাগলো এই মেয়ে তার নামটা জানে তো। নাকি ভুলভাল কিছু বলে বসবে। তখন আবার এই ডি*আইজি কোমড়ে দ**ড়ি দিয়ে টেনে টেনে নিয়ে যাবে । ইনান মাথা নিচু করেই বলল,” রুশভিয়ান মির্জা! নিজের নাম শোনার পর রুশভিয়ানে ঠোঁটে বিজয়ের হাসি ফুটে উঠলো।
মারুফ আর কিছু বলল না। সে বুঝতে পারছে এই মেয়েকে শিখিয়ে পড়িয়ে আনা হয়েছে। এর পেট থেকে কোন কথা বের হবে না।
মারুফ রুশভিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,” তা আপনার শ্বশুর শাশুড়ী কে ডাকুন এমপি সাহেব?
রুশভিয়ান তার চুল গুলোকে হাত দিয়ে নেড়েচেড়ে বলল,” আইতাছে একটু বইয়া থাকেন?বলেই ইনানের
এরইমধ্যে আমির নিয়ে হাজির হলো একজন মহিলা আরেকজন পুরুষ মানুষকে। দুজনের পরনে দামী শাড়ী, প্যান্ট পড়ানো আছে।মারুফ তাদের দুজনকে আপাদমস্তক পরোক্ষ করে বলল,” আপনাদের নাম কি?
দুজনেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো কেউ কিছু বলল না। মারুফ আবারো একই কথা জিজ্ঞেস করলো। তখন পাশ থেকে আমির বলল,” স্যার উনারা দুজনেই বোবা কোন কথা কইতে পারবে না?
মারুফ বুঝতে পারছে এমপি অনেক বড় চাল দিয়েছে। আর এক চালে ছক্কা মে*রে*ছে। না থাকবে উত্তর দেওয়ার ভয়, না কোন ঝামেলা। মারুফ আর কিছু বলল না। এইভাবে এই এমপি কে ধরা যাবে না অন্য আইডিয়া বের করতে হবে।
মারুফ ঠোঁটে জোরপূর্বক হাসি টেনে বলল,” আমি চলি এমপি মশাই? সবই দেখলাম আমাদের ভুল হয়েছে তার জন্য সরি,” বলেই চলে গেল মারুফ।
এদিকে ইনানের চোখ দিয়ে অনবরত পানি বের হচ্ছে। সে বুঝতে পারছে এই ন*র*ক থেকে কিভাবে ছাড়া পাবে সে।
রুশভিয়ান কিছু টাকা ছুড়ে মা*র*লো ওই ছেলেটার মুখে। তারপর বলল,” বাইর হ রত্নকুঞ্জ থেইকা? মহিলা আর পুরুষটা বেরিয়ে চলে এলো।
রুশভিয়ান আমিরের দিকে তাকিয়ে বলল,” ঘরে খাওন পাঠাইয়া দে? খুব খিদে পাইছে ” কথাটুকু বলেই রুশভিয়ান ইনান কে পাঁজাকোলা করে তার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল।
আমির তার বড় ভাইয়ের কান্ড দেখে মিটিমিটি হাসছে। ওই বউকে তার ভাই এই ভাবে কোলে তুলে ছিলো নাকি সন্দেহ। আর এই বউকে নিয়ে উঠছে বসছে আবার ও সাথে খাবে।
আমির তার ভাইয়ের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রান্নাঘরে চলে গেল।
আমি সব শে*ষ করে দিবো ভাই। ওই রুশা যেমন কইরা আমার সবটা কাইরা আমাকে শে*ষ করছে তার ছেলে গুলোন কে আমি শে*ষ করতে চাই। আমাকে একটা উপায় দিতেই হইবো আপনারে না হলে আমি বি**ষ খামু। তবুও ওই তিন ভাইয়ের সুখ দেখতে পারমু না….তারা কথা গুলো ফোনে বলল অত্যধিক রা**গী কন্ঠে ।
আমি দেখছি” তারা” তোকে আমি ক*ষ্ট পেতে দিবো না । যে বউটাকে বিয়ে করে আনছে ওটাকে ও আমি সরিয়ে দিবো। রুশার কোন বংশ বৃদ্ধি হবে না। কিছু দিন সময় দে আমাকে তারা।
তারা তার ভাইয়ের কথা শুনে বলল,” তাড়াতাড়ি কইরা তুমি রুপনগরে আইসা ওদেরকে একটা বিহিত কইরা যাইবা ” কথাটুকু বলে ফোনটা রেখে দেয়। তার মুখে ফুটে উঠলো পৈ*শা*চি*ক হাসি। এবার আসল খেলা তার ভাই শুরু করবে।
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৯ (২)
ইনান কোনরকমে খেয়ে বিছানায় শরীরটা এলিয়েছে। ক্লান্ত থাকার কারনে তার চোখ জুড়ে নেমে এলো গভীর ঘুম। এমন সময় রুশভিয়ান বেরিয়ে এলো বারান্দা থেকে।পরনে সাদা লুঙ্গি পড়ে আছে। গায়ে কোনপ্রকার শার্ট নেই।ঠোঁটে চেপে ধরে আছে জ্ব*লন্ত সি*গা*রে*ট। বারান্দা থেকে আসতেই তার নজর গেল বিছানার দিকে। হাত দিয়ে সিগারেট টাকে নিভিয়ে এগিয়ে গেল ইনানের দিকে। এখন তারা নেশা সিগারেট দিয়ে কাটবে না। অন্যকিছু লাগবে তার। রুশভিয়ান ইনানের সামনে বসে ইনানের গো*লা*পি ঠোঁ*টে*র দিকে তাকিয়ে রইলো।এই গুলো স্বাদ না নিলে তার মন ভরবে না…
