এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৪
ফাতেমা তুজ জোহরা
চারদিকে নিকষ কালো অন্ধকার। এই অন্ধকারের মধ্যে রুশভিয়ানের কালো টা*কা*র ব্য*বসা রমরমিয়ে বাড়তে থাকে। এই ব্যবসা সে আপন পর চিনে না, শুধু চিনে কালো টা*কা। যার পাহাড় গড়ে নিজেকে সবার অধিপতি করতে পারবে।
মির্জা হোম,, মির্জা হোম হলো রুশভিয়ানের তৈরি করা পাঁচতারা আলিশান হোটেল।পুরো হোটেল বিভিন্ন ধরনের লাইট দ্বারা আলোকিত করে রাখা আছে। বিশাল লোহার গেটের ওপরে মির্জা হোম নেমপ্লেটটা লাইটের জন্য একবার জ্বলে উঠছে। আরেকবার নিভে যাচ্ছে কয়েক সেকেন্ডের জন্য ।এই হোটেল নির্জন লোকালয়ে তৈরি । এই হোটেলে অতি অল্পমাত্রায় লোক ভাড়া থাকতে আসে। মির্জা হোমে এই গুটিকয় লোকগুলোকে ও ভাড়া থাকতে দেওয়া হতো না। ওই যে বলে না আ*ই*নের দৃষ্টি ঘোরাতে রুশভিয়ান এই সুক্ষ্ম প্ল্যান করেছে। একতলা ভাড়া দিলে ও উপরের চার তলা বিল্ডিংয়ে চলে অন্ধকার ব্য*ব*সা।
পাঁচতলা বিল্ডিংয়ের ড্রয়িং রুমে পাঁচছয় জন লোক অতি ব্যাস্ততার সাথে ড্রা*গ*স পকেট করতে ব্যাস্ত। সবার মুখে ভী*তি স্পষ্ট। রাত দশটা বাজচ্ছে এখন রাত বারোটার দিকে ডেভিড এসে মে*য়ে আর মা-ল দুটোই নিয়ে রওনা দিবে লন্ডনের উদ্দেশ্য। এরই মধ্যেই একদল ছেলে দরজা খুলে প্রবেশ করলো সেখানে। একজন ভ*য়ে ভ*য়ে বলল,” বস এসে পরেছে আমি দেখলাম তোরা সবাই তাড়াতাড়ি হাত চালা?
কথা গুলো শোনার পর পকেট করা লোকগুলোর হাত থেমে আচানাক কপাল বেয়ে দরদর করে ঘাম বের হতে লাগলো। ভ*য়ে শুকনো ঢোক গিলে পুনরায় হাতের গতি বাড়ায়। এখনো দশহাজার পাকেট করতে হবে। আর হাতে মাত্র দুই ঘন্টা। এদের টিম ভাগ করে দেওয়া আছে। যে টিমের উপর দায়িত্ব যাবে তাকে সুষ্ঠু ভাবে পালন করতে হবে নতুবা রুশভিয়ান মির্জা তাদের কু*চি কু*চি করে কে্ঁ*টে পোষা কুত্তাদের খা*ওয়াবে।
এরই মধ্যেই দরজা খুলে প্রবেশ করলো রুশভিয়ান মির্জা। মুখটা বেজায় গম্ভীর হয়ে আছে। একহাতে ব*ন্দু*ক অন্য হাতে সি*গা*রেট। রুশভিয়ানের পিছনে প্রবেশ করলো আলি। একহাত দিয়ে বুকটাকে চেপে ধরে আছে। গাড়িতে আসার সময় কোনভাবে না*ই*ফ টাকে বের করে ব্যা*ন্ডে*জ করে বেচারা। কিন্তু ওষুধ না খাওয়া এখন প্রচন্ড ব্যা*থা আছে সেখানে। তাই ব্যা*থা*টা কম করতে কোনরকমে এক হাত দিয়ে আলতো করে বুকটা চেপে ধরে আছে।
একজন ছেলে তাড়াতাড়ি করে কাঠের চেয়ার নিয়ে হাজির হয়ে, চেয়ারটাকে নিঃশব্দে রেখে পিছনে দাঁড়িয়ে গেল ছেলেটা। রুশভিয়ান কপালে চিকন ভাঁজ ফেলে পুরো রুম চোখ দ্বারা স্ক্যান করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় চেয়ারের কাছে। গা এলিয়ে বসে আলির দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,” ডেভিড রে কল লাগাও?
আলী হুকুম পাওয়া মাত্র কল দেয় ডেভিড কে। সাথে সাথে ফোনটা রিসিভ হয়ে যায় আলি এগিয়ে দেয় রুশভিয়ানের দিকে ফোনটা। রুশভিয়ান সি*গা*রে*ট টা ঠোঁটে চেপে বলল,” কতদূর আপনাগো? ওপাশ থেকে কি বলল শোনা গেল না। রুশভিয়ান পরক্ষণেই বলল,” তাড়াতাড়ি কইরেন?আজকা পরিস্থিতি অন্নেক খা*রা*প। নাইলে মা*ল মে*য়ে কিছু পাইবেন না ” বলেই ফোন রেখে দেয়।
রুশভিয়ান একভাবে বসে সি*গা*রেট ফুঁকতে থাকে। কপালে গাঢ় ভাঁজ তার বিদ্যমান। এরইমধ্যে একজন মেয়ে প্রবেশ করলো ড্রয়িংরুমে। বয়স পঁচিশ হবে। মেয়েটার পরনের স্লিভলেস ব্লাউজ, আর সিল্কের শাড়ী, পোশাক বেজায় এ*লোমে*লো হয়ে আছে। সেদিকে মেয়েটার ভ্রুক্ষেপ নেই। সে কো*ম*ড় দু*লিয়ে এসে রুশভিয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে মুচকি হেঁসে বলল,” আজকে আপনাকে প্রচন্ড চিন্তিত দেখাচ্ছে সাহেব” বলেই রুশভিয়ানের কপাল স্পর্শ করতে গেলে রুশভিয়ান মেয়েটার হাত আকড়ে ধরে বলল,” ডেভিড আইতাছে তার সাথে ঢং কইরা এগুলো বলবি?আমার লগে ঢং চু*দা*ইতে হইবে না ” বলেই মেয়েটার হাত ঝাড়া দিয়ে নিচে ফেলে দেয়।
মেয়েটা হাল না ছেড়ে নিচে ঝুঁকে তার শরীরটাকে রুশভিয়ানের সামনে তুলে ধরে বলল,”এইভাবে বললে হয়? তুমি যতক্ষন না আমাকে গ্রহন করবে ততদিন এই শ*রী*র তোমার আ*লি*ঙ্গন পেতে মরিয়া হয়ে উঠবে। আমার বিশ্বাস তুমি একদিন ঠিক আমার কাছে আসবে বেবি”
রুশভিয়ান ক্রুর হেঁসে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল,” তোর বাপকে কথা দিয়াছিলাম তোর লগে কোনদিন উঁচা গলায় কথা কইবো না,তোর শরীরলে এতটুকু ও আঁচ আসতে দেবোনা আমি। কথা দেয়ার লেইগা তুই বারবার বাঁইচা যাইতেছিস না হইলে তোরে আমি কোনকাল ক*ব*রে রাইখা
আসতাম ” বলেই হনহন করে একটা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলো রুশভিয়ান।
মেয়েটার রা*গে ক্ষো*ভে কাঠের চেয়ারটাকে তুলে আছার মেরে চি*ৎ*কা*র করে বলল,” আপনাকে আমি একদিন নিজের করেই নিবো। আমার এতদিনের ভালোবাসা প্রতিক্ষা বৃথা যেতে পারেনা। আমি বৃথা যেতে দেব না। আপনাকে যদি আমার না করতে পারি, তাহলে আমার নাম তিয়াসা রহমান না ” এতটুকু বলেই তিয়াসা গটগট করে দরজা দিয়ে বাইরে চলে গেল।
রাত এগারোটা বেজে ত্রিশ মিনিট। রুশভিয়ান সোফায় বসে আছে পায়ের উপর পা তুলে। পিছনে আলী রোবটের মতো দাঁড়িয়ে আছে। চোখ দুটো নিবদ্ধ তার হুজুরের দিকে।
রুশভিয়ানের সামনে বসে আছে ডেভিড। মুখে বাঁকা হাসি বিদ্যমান। লোকটা বিদেশি বললে ভুল হবে পুরো শরীর গড়ন দেখে কেউ অনায়াসে বলে দিবে ডেভিড একজন বাঙালি। বয়স আনুমানিক চল্লিশ হবে, উচ্চতা ছয়ফুট দুই তিন এর মতো। পরনে সাদা সিল্কের শার্ট,কালো প্যান্ট। চুল গুলো কি সুন্দর করে জেল দিয়ে সেট করা আছে। পায়ে ব্যুট জুতো তার। তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে গুটিকয়েক তার গার্ড। প্রত্যেকের হাতে আধুনিক অ*স্ত্র।
ডেভিড মুচকি হেঁসে বলল,” মেয়েগুলো নিয়ে আসুন মিস্টার মির্জা?
রুশভিয়ান বলল,” একটু বয়েন আইতাছে মা*ইয়া গুলোরে লইয়া?
এরইমধ্যে একে একে হাজির করলো একশ জন মেয়েকে। প্রত্যেকের চোখে ভ*য় বিদ্যমান।প্রতিটা মেয়ে ভ*য়ে ঠকঠক করে কাঁপছে। রুশভিয়ান ডেভিডের দিকে তাকিয়ে বলল,” এই লন মা*ই*য়া এখন তাড়াতাড়ি কইরা চইলা যান। একটু পরেই এইখানে পু*লিশ আইবো?
রুশভিয়ানের কথা শুনে ডেভিড চমকে উঠলো। একটু পরে পুলিশ আসবে আর এই লোকটা কতটা স্বাভাবিক স্বরে কথাগুলো বলল। যেন পুলিশ নয় তার শ্বশুর আসবে তার সাথে দেখা করতে। ডেভিড ভ*য়ে নিয়ে বলল,” পুলিশ আসবে তাহলে আমাকে ডাকলেন কেন?
রুশভিয়ান ডেভিড কথা শুনে শব্দ করে হেঁসে বলল, ” আরে চিন্ত করোন লাগবো না। পু*লিশ আইসা কিছু পাইবো না। আপনি চিন্তামুক্ত হইয়া আমার টা*কা গুলোন বুঝাইয়া কা*ই*টা পড়ুন তো ” রুশভিয়ান শেষের কথাগুলো বিরক্তি স্বরে বলল।
ডেভিড এক মুহূর্ত দেরি করলো না ডেভিড এক আঙ্গুল তুলতেই চারটা ব্রিফকেস এনে রুশভিয়ানে সামনের টেবিলে এনে রেখে আবার নিজেদের জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়লো।
আলী পিছন থেকে এগিয়ে এসে ব্রিফকেস গুলো খুলতেই বেরিয়ে এলো চকচকে নতুন নোট। রুশভিয়ান একপলক টাকা গুলো দেখলো। তার মুখে না আছে বিস্ময়, না অবাকতা। টাকাগুলো থেকে চোখ সরিয়ে ডেভিড কে বলল,” চইলা যান হাতে পাঁচ মিনিট টাইম আছে আপনার।
ডেভিড উঠে দাঁড়ায়। তার লোক গুলো মেয়েগুলোকে নিয়ে পিছনের গেট দিয়ে বের হয়ে যেত লাগলো। মেয়ে গুলো টলতে টলতে এগিয়ে গেল সামনের দিকে।
ডেভিড রুশভিয়ানের সামনে হাত বাড়িয়ে বলল,” আপনার জবান আছে, বলেছিলেন একশ মে*য়ে পাবেন,, তাই পেলাম এখন আসি।
রুশভিয়ান ডেভিডের সাথে হাত মিলিয়ে ফিক করে হেঁসে বলল,” ওমন কইরা বইলেন না, তাড়াতাড়ি কইরা চইলা যান। আমার আবার এত নাম করলে শরীরলটা কেমন চুলকায়। এই যে দেখুন চুলকানি হইতে লাগলো ?বলেই ফিচেল ভাবে হেঁসে হাতটাকে চুলকাতে লাগলো রুশভিয়ান।
ডেভিড মুখ দিয়ে চ সূচক শব্দ করে। এই লোকটাকে বলবে এক আর লোকটা শুনাবে এক। ডেভিড জোরপূর্বক হাসি দিয়ে বলল,” আচ্ছা ঠিক আছে আমি গেলাম ” বলেই হাতটা ছেড়ে বাইরে চলে গেল বাইরে।
রুশভিয়ান সোফায় গা এলিয়ে বসে চোখ দুটো বন্ধ করে নেয়। আজকে তার মনটা ফুরেফুরে লাগছে। কালকে থেকে টেনশানে মাথাটা ফেটে যাচ্ছিল। হাবিব সাহায্য না করলে কি যে হতো। রুশভিয়ানের গার্ডগুলো টাকাগুলোকে নিয়ে রুপনগরের দিকে রওনা দেয়।
এরইমধ্যে একজন বলে উঠলো হুজুর …….
রুশভিয়ান তড়াক করে চোখ খুলে ঘাড় বাঁকিয়ে সাইডে তাকায়। হুজুর আর কেও বলনি বলেছে হাবিব। হাবিবের পাশে একটা মেয়েকে দেখে রুশভিয়ানের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লো। মেয়েটার মুখে মোটা টে*প মা*রা আছে, হা*তদুটো পিছন দিকে মু*ড়িয়ে বেঁ*ধে রাখা আছে ,পরনে বোরখা থাকলে ও মাথায় ওড়নার বালাই নাই। মেয়েটা চোখ দিয়ে অবিরাম অ*শ্রু গড়িয়ে পড়ছে ভ*য়ে। রুশভিয়ান মেয়েটাকে আপাদমস্তক পরোক্ষ করে হাবিবের দিকে তাকিয়ে বলল,” কেডা এটা হাবিব?
হাবিব তার ছোটখাটো শরীরটাকে এগিয়ে এসে হাসিমুখে বলল,” আপনি তো বলেছিলেন মেয়ের কথা। আমি আগেই দুইটা মে*য়ে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। পরে দলবল নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিতেই দেখি মেয়েটা ব্রিজ উপরে বসে বসে কা*ন্না করছে। তাই ভাবলাম এটাকে ও আপনার কাছে নিয়ে আসি তাহলে হাতে দুটো টাকা আস….বাকিটুকু বলার আগেই রুশভিয়ান একঘু*ষিতে হাবিবকে নিচে পরে গেল।
মেয়েটা ভ*য়ে কয়েক পা পিছিয়ে গেল। ঘরের গার্ড গুলো ভ*য়ে কাঁপতে লাগলো। রুশভিয়ান তেড়েফুঁড়ে গিয়ে হাবিবের শার্টের কলার ধরে বলল,” তুই কত বড় ক্ষ*তি কইরাছোস তোর কোন আইডিয়া আছে ” বলেই হাবিবের নাক বরাবর দিলো আরেকটা ঘু*ষি।
হাবিব বুঝতে পারছে না কি করছে সে যার জন্য তাকে মা*র*ছে। সে তো ভালোর জন্য মেয়েটাকে নিয়ে এসেছিলো।
রুশভিয়ানের কপালের রগ গুলো ফুলে ফেঁপে উঠে গেছে রা*গে। রা*গের তোড়ে তার বিশাল শরীরটা কেঁপে কেঁপে উঠছে। রুশভিয়ান হাবিবকে মেঝে থেকে তুলে গর্জন করে বলল,” এক্ষুনি এই মাইয়াকে লইয়া যা। পুলিশ আইসা পড়বো সালা ” বলেই হাবিবকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়।
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৩
হাবিব এতক্ষণে বুঝতে পারলো কেন তাকে এতগুলো মারলো। হাবিব তাড়াতাড়ি করে মেয়েটার হাত ধরে বাইরে যেতে নিলেই কলিংবেল বেজে উঠলো। হাবিব ভ*য়ে শুকনো ঢোক গিলে রুশভিয়ানের দিকে তাকায়।
আর রুশভিয়ানের তো পা*গল হওয়ার উপক্রম। সে শক্ত করে মাথার চুল গুলো টেনে ধরলো। পুলিশ যদি এই মেয়েটাকে দেখতে পায় তাহলে এমপি পদ তো যাবে তারথেকে এই কালো ব্যা*ব*সা এখানেই বন্ধ হবে। রুশভিয়ান মাথা ফেটে যাচ্ছে চিন্তায় । এতদিনের সব পরিশ্রম শেষ হয়ে যাবে তার
