এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৫
ফাতেমা তুজ জোহরা
পুরো রুম জুড়ো নিস্তবদ্ধতা হয়ে আছে। ওদিকে অনবরত কলিং বেল বেজেই যাচ্ছে। রুশভিয়ান মাথা হাত দিয়ে সোফা চিন্তিত হয়ে বসে আছে । একটা মানুষ যখন সব কিছু হারিয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়। নতুন কোন পথ থাকে না নিজেকে বাঁ”চানোর জন্য। ঠিক এমন অবস্থা রুশভিয়ানের হয়েছে। এত এত জটিল কাজকর্ম যার বা হাতের খেলা আজকে যেন তার কোন পথ নেই।
রুশভিয়ান মাথা তুলে হাবিবের দিকে তাকায়,চোখ দুটো তার র”ক্তজবার ন্যায় হয়ে আছে । হাবিব ও তাকিয়ে ছিলো রুশভিয়ানের দিকে তাই দুজনের চোখাচোখি হয়।রুশভিয়ানের চোখ দেখে হাবিব হৃদয় দুলে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে কাঁচুমাচু মুখ করে দাঁড়িয়ে রইলো।
রুশভিয়ান এগিয়ে গেল মেয়েটার দিকে। মেয়েটা এখনো কা”ন্না করেই যাচ্ছে। কিন্তু মুখ দিয়ে কোন শব্দ বের হচ্ছে না,শব্দ বের হবে কেমন করে মেয়েটার মুখে তো এখনো টেপ মা”রা আছে । শুধু চো”খ দিয়ে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়ছে। রুশভিয়ান কে তার দিকে এগিয়ে আস্তে দেখে পিছন সরে যেত লাগলো। রুশভিয়ান ও ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল তার দিকে।
মেয়েটা বারবার মাথা নাড়িয়ে না বোঝাতে লাগলো। হয়তো ভাবছে তাকে মা*রতে পারে লোকটা তাই মাথা নাড়িয়ে বারণ করছে। রুশভিয়ান এগিয়ে গিয়ে মেয়েটার খুব কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। মেয়েটা এক মুহূর্ত দেরি না করে হাঁটুমুড়ে বসে মাথা নাড়াতে।রুশভিয়ান এক হাত বাড়ায় মেয়েটার দিকে।
মেয়েটা ভ*য়ে সংকুচিত হয়ে গেল। হয়তো এখনই তাকে মে”রে ফেলা হবে। ভ*য়ে আঁ*তকে চোখ দুটো বন্ধ করে নেয়। রুশভিয়ান একটানে মেয়েটার মুখ থেকে টেপ টা সরিয়ে দিতেই, ব্যা*থায় মেয়েটা মমমমমমমা বলে চি*ৎ*কা*র করে উঠেই শব্দ করে কেঁ*দে উঠলো। মেয়েটার মনে হলো টেপের সাথে তার গালের চা*মড়া ছিলে চলে গিয়েছে।
রুশভিয়ান বিরক্তিতে ধমকে বলল,” এই ছেমরি তোরে আমি কিছু করছি করি নি তো। তাহইলে এত ম*রা কা*ন্না কাঁ”দছোস ক্যান ” বলেই মেয়েটার দিকে তাকায়।
মেয়েটার কা*ন্না তো থামলো না উল্টে আরো বেড়ে গেল।
রুশভিয়ান এবার আর টিকতে পারলো না। পকেট থেকে ব”ন্দু”ক বের করে কপালের সাথে ঠেকিয়ে বলল,” কা*ন্না থামা শা*লি না হইলে এইখানে তোরে আমি ক*ব*র দিমু?
মেয়েটা কোনমতে কা”ন্না থামিয়ে কা”ন্না”ভেজা চোখ দিয়ে ব”ন্দু”ক”টা”কে দেখে চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল।
রুশভিয়ান ব”ন্দু”ক”টাকে আরো জোরে চেপে ধরলো তার ললাটে তারপর বলল,” আমি যা যা কইবো তা তা উত্তর দে? না হইলে ” বলেই ব”ন্দু”কের ট্রি”গা”রে টেনে ধরে ।
রুশভিয়ান বলল,” তোর নাম বল?
মেয়েটি ভ”য়ে কাঁ”পতে কাঁ”পতে বলল,” ই ইনান তালুকদার!
রুশভিয়ান নাম শুনে একঝটকায় ইনানকে হাত ধরে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বলল,” আমি যাই বলবো তুই তাতেই সায় দিবি?
ইনান ভ”য়ে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝালো।
রুশভিয়ান হাবিরের দিকে তাকিয়ে বলল,” এই দরজা খুইল্লা দে” বলেই ইনানের হাত থেকে দড়ি গুলো খুলতে লাগলো। দড়ি খুলা শেষ হলে ইনানের চুল গুলো নিজেই ঠিক করে তাকে নিয়ে সোফায় বসে গেল ঘা ঘেঁষে। ইনান ভ”য়ে ল”জ্জা”য় তার পুরো কায়া কেঁ”পে কেঁ”পে উঠছে। এই প্রথম কোন ছেলের পাশে বসেছে। সে শক্ত করে বোরখা টা আকড়ে ধরলো। চো”খ দিয়ে একফোঁটা অ”শ্রু গড়িয়ে পড়তে নিলেই।রুশভিয়ান বলল,” যদি কাঁ”দিস ” কথাটুকু বলতে নেই তার আগেই ইনান চোখের পানি মুছে নিজেকে গুটিয়ে আরো বসে গেল।
হাবিব বুঝতে পারলো না কেন মেয়েটাকে নিয়ে বসলো সোফায়। সে ভাবতে ভাবতে দরজা খুলে দেয়। দরজা খুলতেই ভেতরে প্রবেশ করলো শখানিক পু”লিশ। প্রত্যেকের হাতে আধুনিক অ”স্ত্র। দরজার ওপার থেকে উঁকি দিচ্ছে গুটি কয়েক মিডিয়া। কিন্তু ভয়ে প্রবেশ করতে পারছে না।
মিডিয়ার দিকে চোখ পড়তেই রুশভিয়ান যেন ভড়কে গেল। সে বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সেদিকে। মনে মনে বলল,” আইজকা কোন খা*ন*কি*র ছেলে পুলের মুখ দেইখা এসেছিলাম কে জানে। না হইলে একটা পর একটা বাঁশ পি*ছনে ঢু*ইকায় পড়ে” কথাগুলো মনে মনে ভাবে। কিন্তু সবার সামনেন মুচকি হাসি টেনে বসে রইলো।
এদিকে ইনান পুলিশ দেখে আগের তুলনায় আরো জোরে
জোরে কাঁপতে লাগলো মৃ”গীরো”গের মতো। রুশভিয়ান টের পাচ্ছে ইনানের শরীরের কাঁ”পুনি। সে পিছন দিয়ে এক হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরলো ইনানের কোমড়। আরেক হাত দিয়ে চেপে ধরলো ডান হাত। তার কাঁপুনিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে।
কোমড়ে রুশভিয়ানের হাতের ছোঁয়া পেয়ে মেয়েটা একদম স্থির রোবটের মতো হয়ে গেল। ইনানের কাঁ”পুনি থামাতে পেরে রুশভিয়ানের ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো।
ইতিমধ্যে পুলিশ গুলো পুরো পাঁচতলা বিল্ডিং তন্নতন্ন করে খুঁজে ফেলছে চারদিকে। বিছানার নিচে, প্রতিটা বালিশে মধ্যে খুঁজে চলেছে ড্রা*গ*স। কেউ আবার সোফার তোষক গুলো ছিঁ”ড়ে কুটি কুটি করে খুঁজচ্ছে। ডি”আ”ইজি অফিসার মারুফ ইসলাম দাঁড়িয়ে আছে।বয়স পঞ্চাশ এর মতো হবে। মুখে পৈ*শা*চি*ক হাসি নিয়ে রুশভিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। রুশভিয়ান তাকে পাত্তা না দিয়ে আপন মনে বাটন ওয়ালা ফোন টিপতে ব্যাস্ত। কিছু থাকলে তো পাবে। সব সরিয়ে দিয়েছে সে।
এখন মেয়েটাকে নিয়ে ভ”য় হচ্ছে তার। মেয়েটা আবার মুখ খুলবে না তো। একবার আড়চোখে ইনানের দিকে তাকায়। ইনান স্থির হয়ে মেঝের দিকে তাকিয়ে আছে। এইভাবে পাঁচমিনিট থাকলে তার কার্যসিদ্ধি হয়ে যাবে ।
রুশভিয়ান চোখ সরিয়ে ডি”আইজি মারুফের দিকে তাকায়। মারুফ ক্রুর হেঁসে পকেট থেকে ব”ন্দু”ক বের করে হাতে নেই। রুশভিয়ান অভিনয় করে মুখটাকে কুচকে অসহায়ত্ব করে আবার শ”য়”তা”নি হাসি দেয় মারুফের উদ্দেশ্য।
রা”গে মারুফের কপালে নীল রগ গুলো ফুলে উঠলো। মারুফের নজর এতক্ষণে ইনানের দিকে পড়লো। সে বুঝতে পারলো না এই শ”য়”তা”নটার সাথে এই ছোট মেয়েটা আবার কে?সে কিয়তক্ষন ভ্রুকুচকে তাকিয়ে রইলো ইনানের দিকে।
এরইমধ্যে পু”লিশ গুলো এসে ডি”আইজি মারুফ কে স্যালুট করে বলল,” স্যার কিছুই নেই, সবকিছু তল্লাশি করা শেষ।
ডি”আইজি ভালো করেই বুঝতে পারছে এটা এমপির কাজ। হয়তো আগেই টের পেয়েছে তার আসার কথা।
বাইরের গুটিকয়েক সাংবাদিক গুলো প্রবেশ করলো ড্রয়িং। চারদিকে ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দ করে ছবি তুলতে ব্যাস্ত।
রুশভিয়ানের মাথা গরম হয়ে গেল কিছুতো পায়নি তাহলে এত ছবি তোলার কি আছে। রুশভিয়ান ইনানের কোমড় থেকে হাত সরিয়ে এগিয়ে গেল সাংবাদিক দের কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল,” এইখানে সিনেমা চলছে না, যার লেইগা এত ছবি তুলতে হইবে। আমার নামে মি”থ্যা বদনাম দেওয়া হইছে আর আপনারা চইলা আইছেন। আরে কত লোক না খাইয়া ম”ই”রা যাইতাছে তাদের ছবি গুলা তুলুন। তা হইলে বেচারারা হয়তো কিছু খাইতে পাবো” বলেই আবার সোফায় বসে গেল মুখটাকে কুচকে।
সাংবাদিক গুলো কিছু বলল না, হাজার হোক রুপনগরের এমপি। উল্টা পাল্টা বললে হয়তো তাদের চাকরি নিয়ে পরে টানাটানি করতে হবে। তাই সবাই দমে গেল। কিন্তু একজন সাংবাদিক আড়াল থেকে ইনান আর রুশভিয়ানের ছবি তুলে নেয়।
কালকে শুনেছে সে রুপনগরের কোর্টে এই রুশভিয়ান এনপি তার প্রথম স্ত্রী কে নি”র্ম”ম ভাবে মে”রে ফেলেছে । উকিল জর্জ কেউ মুখ খুলেনি রুশভিয়ানের বিরুদ্ধে।
সাংবাদিকের মনে হলো হয়তো এই মেয়েটার জন্য তার প্রথম স্ত্রীকে খুন” করেছে। তাই এই সুযোগ হাতছাড়া করলো না সে। এই নিউজের জন্য তার পদোন্নতি ঘটতে পারে।
ডি”আইজি মারুফ এগিয়ে এসে ইনানের দিকে তাকিয়ে বলল,” এটা কে?
রুশভিয়ান এক হাত দিয়ে ইনান কে জড়িয়ে ধরে একগাল হেঁসে বলল,” এটা হইলে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী ইনান মির্জা!
রুশভিয়ানের কথাটা যেন বো”ম ব্লা”স্টে”র মতো আ”ঘা”ত হানলো। সবাই অবাক চোখে তাকিয়ে আছে ইনানের দিকে। রুশভিয়ানের দলের লোকগুলোতে বিস্ময় নিয়ে তাদের বসের দিকে তাকিয়ে আছে।
ইনান অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে রুশভিয়ানের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। সে নাকি এই গু”ন্ডাটার স্ত্রী। কিন্তু কখন তাদের বিয়ে হলো। আজকেই প্রথম এই গু”ন্ডাটার সাথে তার দেখা হয়েছে তার। ইনান কথাগুলো ভাবলো মনে মনে।
ডি”আইজির কথাটা বিশ্বাস হলো না ইনানের মুখ দেখে। বিয়ের কথা শুনে যে মেয়েটা হকচকিয়ে গিয়েছে তা দৃষ্টিগোচর হয়েছে মারুফের। তারথেকে দুজনের বয়সের আকাশ পাতাল তফাৎ।
মারুফ গম্ভীর স্বরে বলল,” কাবিনের কাগজ দেখান?
রুশভিয়ান ভাবতে পারেনি ডি”আইজি তার মাথার উপর দিয়ে এমন করে খেলে দিবে। রুশভিয়ান ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে উঠলো কি বলবে । আর বাইরে থেকে শান্ত আর সাবলীল হয়ে বসে আছে সে।
ডি”আইজি বলল,” কি হলো এমপি মশাই?ডি”আইজি শেষের কথাটা টেনে টেনে বলল। সে আন্দাজ করতে পারছে কাবিনের কাগজ কিছুতেই দেখাতে পারবে না রুশভিয়ান। সবটাই ভং ধরে বসে আছে।
রুশভিয়ান ক্রুর হেঁসে বলল, ” বিয়ের কাবিন কি সঙ্গে কইরা
ঘুরান বেড়ানোর জিনিস ডি”আইজি?
ডি”আইজি থতমত খেলো রুশভিয়ানের কথায়। কেউ কি বিয়ের কাবিন নিয়ে ঘুরে বেড়াবে! কথাগুলো মনে মনে ভেবে মারুফ নিজের কাছেই ল”জ্জা বোধ করলো। পরক্ষণেই গলা খাঁকারি দিয়ে আবার বলল,” আমি কাবিন দেখতে চাই!আপনি যে মিথ্যা কথা বলছেন সেটা আমি ভালো করে জানি?
রুশভিয়ান মনে মনে বলল,” একবার এই বি”পদ থেইক্কা উদ্ধার হইতে পারি। তখন তোরে বুঝাইয়া দেবো এই রুশভিয়ান মির্জার সাথে বি”বাদ লাগানোর ফল কতটা ভয়াবহ হইতে পারে।
রুশভিয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে ডি”আইজির দিকে তাকিয়ে বলল,” আপনি কেডা যে আপনারে আমার বিয়ার কাবিন দেখামু” প্রচন্ড রা”গে রুশভিয়ান কথাগুলো বলল।
ডি”আইজি শান্ত গলায় বলল,” আইন মুখের কথায় বিশ্বাস করে না? আপনি আজকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। হতে ও তো পারে উনি আপনার খেলার সাজানো গুটি মাত্র। নিজেকে বাঁ”চানোর জন্য ওনাকে ঢাল হিসেবে সামনে রেখেছেন! বলেই ইনানের দিকে তাকায়।
ইনান একভাবে নিচু হয়ে বসে আছে৷ মেয়েটার কানে কোন কথা যাচ্ছে, কি যাচ্ছে না কে জানে।
রুশভিয়ান এবার সবদিক থেকে ফেঁ”সে গেল। সত্যিই তো এই মেয়েটাকে সে ঢাল হিসেবে রেখেছে কালকে ডেভিডের কাছে বি*ক্রি করে দিবে। তখন পুলিশ এসে মেয়েটাকে না পেলে আবার নতুন ক্যাচাল শুরু হবে।
ডি”আইজি আবার বলল,” আমাদের এই মেয়েটার বাবা মায়ের ঠিকানা দিন আমারা কথা বলে নিচ্ছি?
রুশভিয়ান যেন অন্ধকার তলানিতে গিয়ে মুখ থুবড়ে আছার খেয়ে পড়লো। এই ডি”আইজি যে হাত পা ধুয়ে তার সাথে নেমেছে তাতে কোন সন্দেহ নেই তার।
সব সাংবাদিক গুলো এবার ইনানের সাথে রুশভিয়ানের ছবি তুলতে ব্যাস্ত। এত গরমা গরম নিউজ না কালেক্ট করলে হয়। এখানে পু”লিশ আছে তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। সেই সাহসে পুরা দমে রি”পোর্ট কালেক্ট করছে। কেউ আবার মাইক্রোফোন মুখে নিয়ে অলরেডি লাইভ করতে শুরু করেছে এমপি রুশভিয়ান মির্জার দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে।
সে কিছুতেই এমপি পদ ত্যা”গ করতে পারবে না । এমপি পদের আড়ালে তার যতসব কু*ক*র্ম করতে পারে। কথাগুলো ভেবে রুশভিয়ান ইনান কে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ডি”আইজির দিকে তাকিয়ে বলল,” কালকের মধ্যে কাবিন পাইয়া যাইবেন? আর আমার স্ত্রীর বাবা মার সাথে ও দেখা করতে পারবে… বাকি টুকু বলার আগেই ইনান অ”জ্ঞান হয়ে ঢলে পড়লো রুশভিয়ানের প্রশস্ত বুকে।
ইনান কে অজ্ঞান হতে দেখে তার কপালে চামড়া গুলো গুটিয়ে গেল বিরক্তিতে। তবু ও কিছু করার নেই। ইচ্ছে না থাকা সত্বেও ইনান কে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলো সে।
ডি”আইজি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রুশভিয়ানের দিকে নজর রাখছে। মেয়েটাকে যে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে তা ডি”আইজি খুব ভালো করে বুঝতে পারছে। কিন্তু সে ও এই মেয়ের জীবন ন”ষ্ট হতে দিবে না। তার এই মেয়ের বয়সী মেয়ে আছে বাড়ীতে।
রুশভিয়ান পুলিশ সাংবাদিক সবার উদ্দেশ্য বলল,” আপনারা এইবার বেরিয়ে যান। এত লোক দেইখা আমার বউটা অ”সুস্থ হইয়া গেল।
ডি”আইজি সবাইকে বলল,” সবাই বেরিয়ে যান! আর আমি কালকে রুপনগর আসবো কাবিন আর মেয়ের বাবা মাকে দেখতে ” শেষের কথাগুলো রুশভিয়ানের উদ্দেশ্য বলল।
রুশভিয়ান মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝায়। ডি”আইজি বেরিয়ে গেল একবার ইনানের দিকে তাকিয়ে।
সবাই বেরিয়ে গেলে হাবিব দরজা লাগিয়ে দিয়ে ফিরতেই। একটা গু*লি তার ডান হাত ভেদ করে দেয়ালে গিয়ে লাগলো। রুশভিয়ান ইনান কে ফেলল সোফায়। যত্নের কোন বালাই নেই তার মধ্যে। ইনান নিস্তেজ হয়ে পড়ে রইলো সোফার এক কোনে। রুশভিয়ান আরেকটা গু*লি ছুড়লো হাবিবের ডান পা বরাবর। হাবিবের পুরো শরীর র*ক্তে লেপ্টে যায়।
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৪
হাবিব মুখ থুবড়ে পড়লো কংক্রিটের মেঝেতে। রুশভিয়ান হাতের ব*ন্দু*কটাকে মেঝেতে ফেলে তেড়ে গিয়ে হাবিবের মুখ বরাবর ঘু*ষি দিয়ে বলল,” সা*লা তোর লেইগা আমারে এত অ*প*মানিত হইতে হলো।তোর লেইগা এই পিচ্চি কে আমারে বিয়া করতে হইবো ” বলেই আরেকটা ঘু*ষি হাবিবের পেট বরাবর দেয়। হাবিব সহ্য করতে পারলো না জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।
রুশভিয়ান উঠে এসে পুরো রুম ভা*ঙচুর করতে লাগলো। ভা*ঙ*চুরের কারণে মির্জা হোমের পাঁচতলা ভূমিকম্পের ন্যায় কেঁ*পে কেঁ*পে উঠতে লাগলো।
