এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৬
ফাতেমা তুজ জোহরা
এই তাড়াতাড়ি করে তৈরি হয়ে নে তোকে নিয়ে আমার ভাতিজা তার বন্ধুর বিয়েতে যাবে… কথাগুলো বলল রুমি বেগম।
ইনান রান্নাঘরে থালাবাসন ধুতে ব্যাস্ত ছিলো কিন্তু রুমি কন্ঠ শুনে তার হাতের গতি কমিয়ে এনে তার মামির দিকে। কিন্তু মামির কথাগুলো শুনে তার বুকের ভেতর ভ*য়ে*র সৃষ্টি হয়। তার ভাতিজা মানে রকি তাকে আবার কোথায় নিয়ে যাবে কথাগুলো ভেবে ইনান ভ*য়ে কেঁপে উঠলো।
রুমি এগিয়ে এসে ইনানের ডান হাতটা টেনে ঝাঁঝালো স্বরে বলল,” তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে আর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না ” বলেই ইনান কে রান্নাঘর থেকে বের করে দেয়।
ইনান ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল তার ঘরের দিকে অজনা আঁ*ত*কে তার মনটা বার বার কু গায়ছে। ঘরে প্রবেশ করে আলমারি থেকে একটা কালো বোরখা আর কালো ওড়না বের করে তৈরি হতে লাগলো।
পায় পাঁচমিনিট পার তৈরি হয়ে ও ইনান ঘর থেকে বের হলো
না। বিছানায় চুপটি করে বসে রইলো। চোখ দুটো নিবদ্ধ মেঝের দিকে। সে ভালো করেই জানে রকির সাথে যাওয়া মানে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনা তবু তার মামীর মারের ইনান রেডি হয়ে বসে রইলো। না হলে রুমি বেগম এসে তাকে মারবে ।
এভাবে আরো পাঁচমিনিট কেটে যাবার পর রুমি এসে জোরে জোরে ইনানের রুমের দরজায় ধাক্কা দিতে লাগলো। ইনানের কিশোরী মন কেঁপে উঠলো দরজার আওয়াজে।
রুমি দরজা ধাক্কা দিতে দিতে বলল,” এই তাড়াতাড়ি বের হয়।রকি নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তার হাত পা ব্যা*থা হয়ে গেল।
ইনান মনে মনে আল্লাহ ডাকতে ডাকতে এগিয়ে গেল দরজার দিকে কিন্তু খুলার আগেই ঘাড় ঘুরিয়ে টেবিলের দিকে তাকাতেই দেখলো একটা চকচকে ছু**রি। ইনান নিজের সুরক্ষায় ছু**রিটাকে হ্যান্ডব্যাগে ভরে নিয়ে এগিয়ে গেল দরজার দিকে।
রকি ড্রয়িং রুমে পায়চারি করছে। মুখে তার পৈ*শা*চি*ক হাসি বিদ্যমান। তক্ষুনি ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করলো রুমি তার পিছু পিছু এগিয়ে এলো ইনান। ইনান কে দেখে রকি বিরক্তি বোধ করলো। তাকে বন্ধুর বিয়েতে নিয়ে যাবে এই এমন বুড়ি সেজে চলে এসেছে। রকি মুখ থেকে বিরক্তি ভাব সরিয়ে মনে মনে বলল,” আমি পরিয়ে দেবো পোশাক না হলে, এখন বের হওয়া যাক পরে ফুফি বেঁকে বসলো আর পাঠাবে না।
রকি মিষ্টি হেঁসে বলল,” চলো ইনান দেরি হয়ে যাচ্ছে ” বলেই সামনে এগিয়ে গেল। পিছনে পিছনে ইনান।
কালো মার্সিডিজ গাড়ি ড্রাইভ করছে রকি তার পাশের সিটে গুটিসুটি হয়ে বসে আছে ইনান। এরইমধ্যে রকি ব্রেক কষলো নির্জন এক বাংলো মহলের সামনে।
ইনান জায়গাটা দেখেই তার বু*কের ভেতরটা কেঁপে উঠলো।
রকি গাড়ি থেকে নেমে বলল,” বেরিয়ে এসো?
ইনান ভ**য়ে মিনমিনে স্বরে বলল, ” ভাইয়া আপনি তো বিয়ে বাড়িতে যাবেন, তাহলে এখানে কেন নিয়ে এলেন?
রকি মিষ্টি করে হেঁসে বলল ” আরে ইনান তুমি বেরিয়ে আসো ? এগুলো প্রশ্নের উত্তর পরে ও দেওয়া যাবে
ইনান আর কিছু বলল না। গাড়ি থেকে নিঃশব্দে নেমে রকির পিছু পিছু এগিয়ে গেল। রকি সামনে এগিয়ে যাচ্ছে আর মনে মনে বলছে, ” তাড়াতাড়ি এসে ইনান তোমাকে কাছে পাওয়ার জন্য আমার সারা শ*রী*র ছটফট করছে উফ ” কথা গুলো ভাবতে গিয়ে রকির সারা শরীরে ভালো লাগা ছেয়ে গেল।
বাংলো টা একতলার ভবন। বাংলো টার জায়গা জায়গা খষে পড়ে আছে, আবার জায়গা জায়গা শেওলা জমে থাকার কারনে বেজায় সবুজ দেখাচ্ছেে। বাংলো এক কিমির মধ্যে কোন বাড়ি ঘর নেই । চার পাশে ঘন মেহগনির গাছ আর জঙ্গলে ঘেরাও হয়ে আছে। ইনান জঙ্গল গুলোর দিকে তাকিয়ে ভ**য়ে ফাঁকা ঢোক গিললো।
এরইমধ্যে রকি বাংলোর দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। ইনান ও বাংলোর মধ্যে প্রবেশ। বাইরে থেকে যতটা অগোছালো লাগছে ভেতরটা তার উল্টো। একবার রাজকীয় ভাবে বাংলোটা সাজিয়ে রাখা আছে বিভিন্ন পশু পাখি ভাস্কর্য আর মূর্তি দিয়ে। মাথার উপরে ঝুলছে মেটালের বড় ঝাড়বাতি।দামী সোফা। বিশাল বড় ড্রয়িং রুম।যা বিভিন্ন অর্কিটের ফুল দিয়ে সাজানো রয়েছে।
রকি একটা ব্যাগ এনে ইনানের দিকে তাকিয়ে বলল,” জামটা খুলে এগুলো পড়ে নাও। বোরখা পড়ে বিয়ে বাড়িতে গেলে সবাই মিলে হাসাহাসি করবে।
ইনান ব্যাগটা হাতে নিয়ে নেয়, তার কাছে ও মনে হলো সত্যি বোরখা পড়ে গেলে সবাই মিলে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। ইনান বলল,” কোন ঘরে যাবো ভাইয়া?
রকি ইনানের কথা শুনে শব্দ করে হেঁসে উঠলো। রকির বিচ্ছিরি হাসির শব্দ শুনে ইনান তার ব্যাগটাকে বুকে চেপে ধরলো।
রকি হাসি থামিয়ে বলল,” বেবি গার্ল অন্য ঘরে কেন যাবে, আমার সামনেই পাল্টাও” বলেই দাঁত বের করে হাসলো।
ইনান ভ*য়ে ভ*য়ে বলল,” এগুলো কি বলছেন ভাইয়া?
রকি ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বলল, ” কেন বেবি আমি তো ঠিক কথা বলছি তুমি আমার সামনেই ড্রেস পাল্টাও ” বলেই ইনানের ডান হাত টেনে তার বুকের উপরে আছরে ফেলল। ইনান শব্দ করে কাঁ*দ*তে কাঁ*দ*তে বলল, ” আমাকে ছে**ড়ে দিন ভাইয়া? আমাকে যেতে দিন!
রকি ইনান মাথার ওড়না টানতে টানতে বলল,” ছা**ড়বো তো সোনা বাট বিছানায় গিয়ে। চলো বেবি তোমাকে কাছের পাওয়ার জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠছে ” বলেই ইনান কে কাঁধে উঠিয়ে হাঁটা ধরলো ঘরের দিকে।
ইনান তার ছোট ছোট হাত দ্বারা রকির পিঠে মে*রে*ই যাচ্ছে। সেদিকে রকির কোন ভ্রুক্ষেপ নেয়। ইনান কে কখন নিজের করে পাবে সে নেশায় ডুবে আছে।
ইনান কে আ*ছ*রে ফেলল নরম বিছানায়। ইনান কাঁ*দতে কাঁ*দ*তে বলল,” আমার শরী*রে ক*ল*ঙ্ক লাগাবেন না ভাইয়া। আমাকে যে**তে দিন আল্লাহর দোহাই লাগে।রকি এগিয়ে এসে একটানে ইনানের শ*রী*র থেকে ওড়*নাটা খুলে নিচে ফেলে দেয়। ইনান আড়াআড়ি করে বুকে হাত দিয়ে বলল,” আমাকে ছা**ড়ু*ন ভাই.. বাকি টুকু বলার আগেই রকি তার ইনান কে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে গলায় মুখ ডুবিয়ে পাগলের মতো চু**মা খেতে লাগলো।
ইনানের পুরো শরীর ঘি*ন ঘি*ন করছে রকির ঠোঁ*টে*র স্পর্শ। নিজেকে নর্দ*মা ড্রে*নের ময়লা মনে হতে লাগলো। ইনান হার মানলো না সাহস করে । খাটের পাশে লগোয়া টেবিল থেকে স্টিলের ফুলদানিটা নিঃশব্দে বসিয়ে দিলো রকির মা*থা*র ম*ধ্যে খানে। রকি মুহূর্তের মধ্যেই অ*ব*চে*তন হয়ে পড়লো বিছানায়৷। তবু ও ইনানের রা*গ কমলো না সে বার বার রকির মাথায় আ*ঘা*ত করতে লাগলো। আ*ঘা*তে*র প্র*হা*র এত তীব্র ছিলো যে রকির মা*থা আর কা*নে*র মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে এলো থ*ক*থ*কে র*ক্ত।
র*ক্ত দেখে ইনান ভ*য়ে পেয়ে ফুলদানিটা নিচে ফেলে দেয়। তার চোখ দুটো নিবদ্ধ হলো রকির মাথা হতে বের হওয়া র*ক্তে*র দিকে। ইনানের পুরো শরীর থ*রথর করে কাঁপছে র*ক্ত দেখে। বার বার মনে হচ্ছে রকি ভাইয়ের কিছু হয়নি তো। ইনান টলতে টলতে এগিয়ে গিয়ে রকির নাকে হাত ঠেকাতে গিয়ে চমকে পিছনে পিছিয়ে গেল। রকির নিঃ*শ্বাস চলছে না। ইনান ধপ করে মেঝেতে বসে গেল আজকে তার হাত দিয়ে একটা মানুষ খু**ন হয়ে গেল। ইনান ডুকরে কেঁ*দে উঠলো রকির দিকে তাকিয়ে। এখন তার মামা মামিকে কি জবাব দিবে সে।
এভাবে প্রায় এক দেড় ঘন্টা ইনান রকির লা**শে*র পাশে বসে রইলো। চারদিকে মাগরিবের আজান দিচ্ছে। ইনান আর বসে থাকতে পারলো না, চারদিকে ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আসছে, সাথে দূর থেকে ভেসে আসছে বন্যপ্রানীর হুংকার । খুব ভ*য় হতে লাগলো তার শেষবারের মতো রকির দিকে তাকিয়ে ব্যাগটাকে বুকে চেপে বাংলোর বাইরের দরজা দিয়ে দিলো দৌড়।
ইনান এভাবে প্রায় অনেকক্ষণ দৌড়ার পর একটা ব্রিজের উপরে ধপ করে বসে হাঁপাতে লাগলো। কপাল দিয়ে ইনানের দরদর করে ঘাম নিঃসৃত হচ্ছে। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে বেচারি। চারপাশে মানুষ নেই শুধু গুটি কয়েক গাড়ি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের গন্তব্য। কিয়তক্ষন এভাবে বসে থাকার পর ইনান ফুঁ*পি*য়ে উঠলো। আজকে বাবা মা বেঁ*চে থাকলে হয়তো এইভাবে রাস্তায় পড়ে মেয়েটাকে কাঁ*দ*তে হতো না।
ইনান কাঁদতে এতটাই মগ্ন যে মেয়েটার দিকে কতগুলো মানুষ ধেয়ে আসছে সেদিকে তার কোন খেয়াল। একজন লোক এসে ইনানের ডা*ন হাত ধরে টা*ন*তে টা*ন*তে গাড়ির দিকে নিয়ে যায়। ইনান বুঝতে পারছে না এগুলো আবার কে তাকেই কেন টেনে নিয়ে যাচ্ছে । ইনান কান্নাভেজা কন্ঠে বলল, ” আমাকে ছে**ড়ে দিন কারা আপ*নারা, আমি আপনাদের পা**য়ে পড়ছি…..
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৫
নননননননননা আমাকে বাঁ*চান ওই লোক গুলো আমাকে মে*রে ফেলবে বাঁচান …. ইনান চোখ বন্ধ করে কথা বলছে।
এই শা**লি এত ঢং ক্যান করছিস উইঠ্যা পড় আমার জীবনডারে না খাইয়া তুই ম**র*বি না….
আগগ
