Home তুমি এলে বসন্ত নামে তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১০

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১০

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১০
রিমঝিম বৃষ্টি

” তুবা ইরাদ কিছু বলবে না তো । মানে ইয়াশকে নিতে চাইবে না তো আবার..?”
ফারিশার কথায় তুবা আস্তে করে বলে উঠলো,
” নিয়ে যাওয়া এত সহজ নাকি। বেশি চিন্তা করিস না তো..? চল তোকে কিছু বলার আছে ওরা খাওয়া-দাওয়া করতে থাকুক ততক্ষণে..?”
তুবার রুমে গিয়ে দু’জনে বসতেই তুবা কিছুটা মিষ্টি হেসে বললো,
” আমাকে বাড়ি যেতে হবে ফারিশা..?”
ফারিশা তুবার দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক গলায় বললো,
” যা সমস্যা নেই..? ”
” আরে প্রায় এক মাসের জন্য যেতে হবে..?”
ফারিশা কিছুটা অবাক হলো। চিন্তিত গলায় বললো,
” কেনো এতদিনের জন্য যাবি কেন? তোর বাবা ঠিক আছে তো.?”
তুবা দরজার দিকে তাকিয়ে ফের ফারিশার দিকে তাকালো আর বললো,
” তোকে বললাম না আগেরবার আসার আগে এক পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছিলো। আসলে ওদের পছন্দ হয়েছে আমাকে। বুঝেতেই পারছিস তো ছেলের পরিবার তাই ওই বাড়ি থেকে হুট করে ওর চাচী একদিন এসেছে বাড়িতে, আবার না জানি কে আসবে বলা যায় না। বাবা বললো তারা আসলে আমার কথা জিজ্ঞেস করে তাই আমাকে কিছু দিন বাড়িতেই থাকতে বলেছে..!”

” ফিরবি কবে..?”
তুবা কিছুটা মন খারাপ করে বললো,
” যদি বিয়ে ফাইনাল হয় তো আসার ঠিক-ঠিকানা নেই আর না হলে চলে আসবো এক মাসের মধ্যেই..! ”
ফারিশা ফোঁস করে শ্বাস ফেললো আর বললো,
” আচ্ছা সমস্যা নেই তুই যা আর মাঝে মাঝে ফোন দিস আমার ছেলে তুই না থাকলে সারাক্ষণ তোর কথা জিজ্ঞাসা করে জানিসই তো..?”
তুবা মৃদু হেসে উঠলো আর বললো,
” অবশ্যই দিবো ওর সাথে রেগুলার আলাপ থাকবে আমার..! ”

চৌধুরী প্যালেস————
রাত নামতে চললো কিন্তু ইরাদের নেই দেখা। সেই যে দুপুরে ঘরে ঢুকেছে আর নিচে আসার নামে খোঁজ নেই। এর ওপর আবার বাইরে থেকে লুঙ্গি পড়ে ভেতরে ঢুকেছে। বাড়িতে লোকজন ভরপুর সাথে এসেছে ইমদাদুল এর অফিসের দু’একজন বিশস্ত কলিং আর কাশেম খান। কাশেম খান শুধু একা আসে নি তার সাথে তার মেয়েও এসেছে। কাবিশা এ বাড়িতে আসার জন্য পার্লার থেকে সেজে এসেছে পরনে তার সিল্কি কালো শাড়ি, সাথে ম্যাচিং ব্লাউজ আর মেকাপের কথা নাই বা বললাম। তবে আজ সাজ টা একদমই সাধারণ হয়েছে যার কারণে তাকে আজ অসম্ভব সুন্দর লাগছে। আয়েশা চৌধুরী বাড়িতে এত লোকজন দেখে এগিয়ে গেলো ছেলের পাশে।
” ইমদাদুল শোনে যা তো একটু..? ”
ইমদাদুল মায়ের ডাক শুনে সরে এসে দাঁড়াতেই আয়েশা মুখ বাকিয়ে বললো,
” তোর পোলা কয় গিছিলো বল তো। ওই পোশাকে কেন ফিরলো ? তার ওপর আবার নামছেও না ওপর থেকে তুই বোকা নাকি যা ছেলেকে ডেকে নিয়ে আয়..?”
ইমদাদুল তাড়া গলায় বললো,
” যাচ্ছি আমি..?”
” ওই তো ভাইয়া এসেছে…? ”

ইভানের কথায় সবাই ওপরে তাকাতেই দেখতে পেলো ইরাদকে। ইরাদের পরনে হালকা আকাশি রঙের শার্ট আর সাদা প্যান্ট। নিচে নামতেই একে একে যেনো সব ঘিরে ধরলো তার ফুপু, খালামনি, মামা সবাই এসেছে তাকে দেখতে। ইরাদ সালাম দিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে লাগলো। এদিকে আয়েশা কাবিশাকে চোখের ঈশারায় ইরাদের কাছে যেতে বললে কাবিশা এগিয়ে যায় ইরাদের পাশে। সবাই কথা বলে সরে যেতেই ইরাদ মায়ের কাছে যেতে লাগলে কারোর ডাকে থেমে যায়।
” হাই ইরাদ..! ”
ইরাদ পাশ ঘুরে কাবিশাকে রেগে গেলো কিন্তু কোনো রিয়্যাকশনই দিলো না গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকালো শুধু আর বললো,
” আপনি নিশ্চয় আমাদের আত্মীয়র মধ্যে পড়েন না তাহলে আসার মানে কী..?”
কাবিশা সামনে আসা চুলগুলো কানে গুজে চাপা গলায় বললো,
” আত্মীয় হতে কতক্ষণ যদি তুমি রাজি হয়ে যাও ইরাদ..?”
ইরাদ পকেটে দু’হাত গুজে সূক্ষ্ম হেসে উঠলো আর বললো,
” সো ফানি। একজন ম্যারিড বয়কে বিয়ে করতে চান..?”
” ম্যারিড ছিলে সেটা ভুল ছিলো তোমার জীবনে এখন তো সে নেই তাহলে রাজি হতে কী..?”
ইরাদ কথা না বাড়িয়ে দূর হতে শিউলি সবাইকে জুস দিতে যাচ্ছিলো তা দেখে ইরাদ সামনে যেতে যেতে বললো,
” শিউলি ওকে একটা জুস দে মাথা পাগল হয়ে গেছে
বোধহয়..! “,

বলেই চলে গেলে কাবিশা কটমটিয়ে শিউলির দিকে তাকালো শিউলি তা দেখে আর এগোলো না ফিরে গিয়ে অন্য দিকে গেলো। কাবিশা তার বাবার পাশে দাঁড়িয়ে বাবার হাত টেনে বায়নার সুরে বলে উঠলো,
” বাবা তুমি না আমায় বললে আজকেই সব বলবে আমি জানি না এখুনি বলো তুমি..?”
কাশেম খান মেয়ের আবদার শুনে বললো,
” বলবো তো ইরাদ সবে এসেছে একটু অপেক্ষা করো..?”
” না না এখুনি করো আমি জানি না..!”
মেয়ের কথায় কাশেম এবার মেনেই দিলো। এক প্রকার বাধ্য হয়ে বললো,
” আচ্ছা বলছি..?”,
বলেই কাশেম ইমদাদুল এর কাছে এগিয়ে গিয়ে কথা বলতে লাগলো। কাবিশা তো সেই খুশি, খুশির ঠেলায় লজ্জা পাচ্ছে আর শাড়ির আঁচল একটু পর পর আঙ্গুলে পেঁচাচ্ছে শুধু। দূর হতে ইভান আর সাবাহ্ তা দেখছে। সাবাহ্ নখ কামড়াতে কামড়াতে চোখ ছোট ছোট করে বললো,
” ডাল মে কুচ কালা হে. ইভান ভাই…?”
” দেখতে লাগছে রাক্ষসী কটকটির মতো এমনিতেই, আবার পড়ে এসেছে কালো শাড়ি। আজ মুখে হয়তো দেড় কেজি ময়দা মাখছে তাহলে টোটাল ৩ বা ৪ হাজার টাকা ওয়েস্ট করেছে। আহ্ এমন বউ যেনো কারোর না হয় আল্লাহ্ মাফ করো আমায়..?”
সাবাহ্ অবাক হয়ে তাকালো আর বললো,

” আপনার মনে হয় গার্লফ্রেন্ড আছে নয়লে এতো হিসাব জানলেন কী করে..?”
সাবাহ্’র কানটা চট করে টেনে ধরে ইভান বললো,
” এসব হিসাব করতেও নলেজ লাগে তোর সেটাও নেই..?”
” উফ আপনি শুধু পড়ার খোটা দেন। নিজে শুরুর দিকে কী এমন পারতেন এখন ভালো পড়াশোনা পারেন জন্য ভাব নেন শুধু..?”
ইভান রাগী চোখে তাকিয়ে বললো,
” তোরে শায়েস্তা পড়ে করতেছি। শোন আজ বাড়িতে রোস্ট রান্না করছে অতিথি গেলে সব আমি খাবো তোর জন্য একটাও রাখবো না..! ”
” দু’জন ঝগড়া বাদ দিবি..? ”
পিছন থেকে তমা এগিয়ে আসতেই ইভান সেদিকে তাকিয়ে বললো,
” কী আপা বরসাহেব ফোন দিছিলো নাকি? আপনার বর আসবে কবে..?”
বরের কথা তুলতেই তমার গাল যেনো লাল হয়ে উঠলো। প্রসঙ্গ বদলাতে বললো,
” চুপ কর তো ওর আর আসা হয়ছে । কবে থেকে বলতিছে আসবো আসবো অথচ, আসার নামে খোঁজ নাই..! বাদ দে তো..? ”
” ইরাদ এদিকে এসো তো একটু..!”
বাবার ডাকে ইরাদ সামনে যেতেই ইমদাদুল সবার উদ্দেশ্যে বললো,

” সবাই একটু সামনে তাকান। আপনাদের জন্য একটা খুশির খবর আছে..! ”
ইরাদ কিছুটা গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনে পকেট দু’হাত গুজে। তার বাবার মতলব তার ভালো ঠেকলো না। সবাই সামনে তাকাতেই ইমদাদুল পাশে থাকা কাবিশার বাবাকে এক নজর দেখে বললো,
” এত বছর বাদে আমার ছেলে ফিরেছে। তাকে দেখতে আসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ তবে আপনাদের আরও এক উদ্দেশ্যে ডেকেছি আজ । “,
বলেই কাশেম এর কাঁধে হাত রেখে সবার উদ্দেশ্যে বললো,
” সবাইকে জানাতে চায় যে, আমার বড় ছেলে ইরাদের সাথে আমার বন্ধু কাশেম খানের একমাত্র মেয়ে কাবিশা খান এর খুব শীঘ্রই বিয়ে হবে। এই শুক্রবারে আমরা ছোটখাটো এ্যাংগেইজমেন্ট করতে চায় তাই আপনাদের সবাইকে আসার অনুরোধ রইলো। ”

সবাই খুশি হলো এতদিন বাদে আবার বাড়িতে বিয়ের উৎসব লাগবে ভেবেই সাথে তার দাদী যেনো বেজায় খুশি কিন্তু বাড়ির কয়েকজন খুশি নয় বরং ভয়ে ঢোক গিলছে ইরাদকে দেখে। ইরাদ রাগে চোয়াল শক্ত করে রেখেছে যার ফলে তার কপালের রগগুলো যেনো একদম স্পষ্ট দৃশ্যমান হয়ে আছে। এনাউন্সমেন্ট হতেই কাবিশা যেনো বিজয়ীর হাসি দিলো। ইরাদ কিছুটা সূক্ষ্ম হেসে উঁচু গলায় বলে উঠলো,
” সবাই এর সাথে আরেকটা সু-খবর শুনে নিন..?”
সবাই ভালো ভেবেই ইরাদের দিকে তাকালো ভাবলো হয়তো বিয়ে নিয়েই কিছু বলবে কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইরাদ বলে উঠলো,
” আগামীকাল বাবার জন্য পাত্রী দেখা হবে আর খুব শীঘ্রই বিয়ে দেওয়া হবে..?”
ইভা ছেলের মুখে এমন কথা শুনে হতভম্ব হলো সাথে তার বাবাও। সবাই এমন এনাউন্সমেন্টে বোকার মতো একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে শুধু। পাশ থেকে আয়েশা এগিয়ে এসে ইরাদকে বললো,

” এসব কী ধরনের অসভ্যতা ইরাদ। বাবা হয় তোমার এমন কথা কীভাবে বললে তুমি..?”
ইমদাদুল রাগী গলায় ছেলেকে কিছু বলতে গেলে ইরাদ তার দাদীকে বললো,
” কেনো দীদা আমার আম্মুর পরিবার তো গরীব। তোমরা তো আবার গবীর লোক পছন্দ করো না আমি আম্মুর দায়িত্ব নিতে পারবো তুমি বাবাকে বিয়ে দাও বড়লোক দেখে আবার.!”
” ইরাদ বাড়াবাড়ি করছো কিন্তু লোকজনের সামনে তামাশার পাত্র সেজো না..? ”
ইরাদ রেগে উঠলো রাগী গলায় বাবার দিকে তাকিয়ে বললো,
” তামাশা আমি করছি না তোমরা? এতদিন তোমরা এতকিছু করে এসেছো আমার সাথে তার বেলায় কী বাবা? আমি বিবাহিত জানা সত্ত্বেও বিয়ের কথা উঠছে কীভাবে..?”
” বিয়ে কীসের বিয়ে ইরাদ। সে তো কবেই ছেড়ে দিয়েছে তোকে। না জানি কার সাথে আবার ঘর বাঁধছে তার নেই কোনো চরিত্রের ঠিক..?”

আয়েশার কথায় ইরাদ যেনো আরও চেঁচিয়ে উঠলো পাশের টেবিলে থাকা কাঁচের গ্লাস নিয়ে ফ্লোরে ফেললো ছুঁড়ে, গ্লাস টা যেনো ফেটে চৌচির হয়ে গেলো তাতে সবাই নীরব হয়ে গেলো, সরে গেলো সামনে থেকে । ইভা এগিয়ে আসতে গেলে ইরাদ তাকানো দেখে তার মা সেখানেই থেমে গেলো। তারপর দাদীর দিকে তাকিয়ে বললো,
” চরিত্রের কথা তোমার মুখে মানায় না দীদা। তোমরা চাইলেও আমি আমার স্ত্রীকেই চায় আর তোমরা না চাইলেও আমি আমার সেই স্ত্রীকেই চাইবো তাই দ্বিতীয় বারের মতো যদি এ বাড়িতে আমার বিয়ের কথা উঠে তো আমি এ বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হবো..? ”
ইমদাদুল কাশেম এর দিকে তাকাতেই কাশেম রাগী গলায় বললো,
” ইমদাদুল তোর ছেলে কী আমাদের অপমান
করলো..? ”
ইমদাদুল কাশেমের কথায় ছেলের দিকে এগিয়ে এসে বললো,
” তোমার বউ নিজ ইচ্ছায় তোমায় ছেড়েছে তাহলে তুমি কোনো তার আশায় থাকবে..? সেদিনের অপমান ভুলে গেছো যার জন্য তুমি গোটা পাঁচ বছর দেশের বাইরে কাটালে.?”
ইরাদ ব্যঙ্গ হেসে উঠলো আর বললো,

” সরলতার সুযোগ পেলে মানুষ কত কি সাজাতে পারে আর সেখানে তো ফারিশা ছিলো এক গরীব ঘরের মেয়ে যাকে সহজেই নিজের হাতের মুঠোয় করে নাচাতে একবিন্দুও কষ্ট হতো না তোমাদের তাই না দীদা..?”
ইরাদের কথায় আয়েশার সন্দেহ হলো মনে মনে ভাবলো ইরাদ কী আগের কথা জেনে গেছে কিন্তু কীভাবে তা ভাবতেই তার মুখ ভার হলো কিছুটা। সবার দিকে এক নজর তাকিয়ে ইমদাদুল কে বললো,
” ইমদাদুল সবাইকে চলে যেতে বলো এ ছেলে আমাদের মানসম্মান খাবে মনে হয়..?”
ইমদাদুল তার মায়ের কথামতো সবাইকে কিছু বলতে গেলেই তার আগে ইরাদ ফের সবাইকে বলে উঠলো,
” আজকের মতো সবাইকে ধন্যবাদ আমাকে দেখতে আসার জন্য। আপনারা সবাই আমার স্ত্রী আর সন্তানের জন্য দোয়া রাখবেন শীঘ্রই তারা এ বাড়িতে আসবে। “,
বলেই গটগট পাশে সিঁড়ির দিকে এগোতেই সামনে এসে দাঁড় হলো কাবিশা। কাবিশাকে দেখে ইরাদ কপালে আঙ্গুল বুলিয়ে বললো,

” সামনে থেকে সরুন কাবিশা…?”
” কাজ টা তুমি ঠিক করলে না ইরাদ। আমি কবে থেকে আশায় ছিলাম। ”
ইরাদ গরম চোখে তাকিয়ে বললো,
” বলেছিলাম আপনাকে আশা রাখতে..? ”
কাবিশা রাগী চোখে তাকালো তারপর বাঁকা হাসি দিয়ে বললো,
” মিস্টার ইরাদ চৌধুরী একদিন এই কাবিশার কাছেই আসতে হবে তোমাকে সেদিনের জন্য আমি অপেক্ষায় থাকবো। জীবনেও সুখী হতে পারবে না অন্য কে নিয়ে..?”,
বলেই গটগট পায়ে চলে গেলো। ইরাদ আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালো না সোজা ওপরে চলে গেলো। বাড়ি থেকে সবাই চলে যেতেই নিরবতা বিরাজ করলো। রাতে আর কেউ খেলো না রেগে আয়েশার সাথে ইমদাদুলের কয়েক দ্বন্দ্ব ঝামেলাও লেগেছে তারপর যে যার মতো ঘরে চলে গেলো। এদিকে তারেক বাড়িতে নেই ব্যবসায় জন্য মাঝ রাত করে ফিরবে আজ । ইভান, সাবাহ্ এরাও এসব দেখে না খেয়ে চলে গেলো তাদের রুমে তা দেখে ইভা আর সুমানা খাবারগুলো ফ্রিজে রেখে দিলো। ইভার শুধু ইরাদের কথায় ভাবছে সন্তান এর কথা তুললো হঠাৎ এর মানে বুঝলো না সে।

” কিছু ভাবছো ভাবী..?”
সুমানার কথায় ইভা ভাবান্তর হয়ে বললো,
” ইরাদ কী ফারিশার খোঁজ পেয়েছে..?”
” আমার তো মনে হয় পেয়েছে নয়তো এত শিওর হয়ে সন্তানের কথা বললো। আচ্ছা বাদ দাও খোঁজ পেলে আরও ভালো দু’জনের মাঝে মিটমাট হয়ে যাওয়া উচিত এবার..!”
ইভা মিনমিন করে বললো,
” হুম সেটাই..!”

সকাল—————-
সকাল সকাল তুবা বেরিয়েছিলো বাজার করতে। বাড়িতে কিছুই নেই এইমাত্র ফিরলো বাড়িতে বাজার করে । তুবা আসতেই ফারিশা ঘড়িতে তাকালো আর বললো,
” তুবা তুই রান্না টা দেখ তো দেখি ইয়াশকে ডাকি। সকাল ৯টা বাজতে চললো এখনো উঠলো না রাতে আবার জ্বালাবে নয়তো..?”

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ৯

তুবা বাজারগুলো নিয়ে রান্না ঘরে গেলো আর ফারিশা নিজের ঘরে গিয়ে ইয়াশের পাশে শুইয়ে ইয়াশের চুলে হাত দিতেই কপালে হাত লাগলো তার আর সাথে সাথে থমকে গেলো। জ্বরে যেনো কপাল পুড়ে যাচ্ছে তার। ফারিশা আস্তে করে ডাকতেই ইয়াশ নিভু নিভু চোখে মাকে পাশে দেখতেই মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বললো,
” আম্মু মাতা ( মাথা) ব্যাতা ( ব্যাথা) কলছে..? ”

তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১১