এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৮
ফাতেমা তুজ জোহরা
রুশভিয়ানের গাড়িটা কর্কশ শব্দ করে থেমে গেল রত্নকুঞ্জে।
রুপনগর গ্রামের শেষ প্রান্তে রত্নকুঞ্জ নামক রহস্যময় জমিদার বাড়িটি অবস্থান করে। জমিদার বাড়ির পার্শ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে অনেক বছরের পুরনো আম গাছ। সামনে বিশাল লোহার গেট, লোহার গেটে মরিচা ধরলেই ও এখনো রাজকীয় ভাবটা বহন করছে। ফটকের উপরে নেমপ্লেটে গোটা গোটা করে লেখা আছে রত্নকুঞ্জ।
রত্নকুঞ্জ বাড়িটির চারদিকে লাল পাথর দ্বারা দেয়াল তুলে দেওয়া আছে। দেওয়ালে জায়গায় জায়গায় ইট খসে পড়ে ডেবে আছে, আবার কোন কোন জায়গায় ইটের সাথে বন্য লতাপাতা জড়িয়ে ধরে আছে।
রুশভিয়ান গাড়ি থেকে নেমে লুঙ্গিটাকে কোমড়ে গুঁজে এগিয়ে গিয়ে পেছনের দরজটা জোরে টেনে খুললো। ইনান গভীর ঘুমে ঢলে পড়ে আছে সিটে। রুশভিয়ান গাড়ির মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে হাঁক ছেড়ে বলল,” এই জমিদারের মাইয়া আর কত ঘুমাই থাকবি উঠ্যা পড়? বলেই ইনানের পাশের সিট টাতে বারি মা*র*লো। চমকে উঠলো ইনান সে ঘোরের মধ্যে বলল,” আমাকে মা*র*বেন না মামী আমি উঠছি…. কথাটুকু বলে চোখ খুলে সামনে রুশভিয়ানের মুখটা দেখতে পেয়ে কালকের সকল ঘটনা মস্তিষ্কে ধরা দিলো। রুশভিয়ানকে এত কাছে দেখে ভ**য়ে কুঁকড়ে গিয়ে আরেকটু সরে বসলো।
রুশভিয়ান গাড়ি থেকে মাথা বের করে বলল,” বাইর হ গাড়ি থেইকা,আমারা চইলা আইছি?
ইনান গাড়ির মধ্যে দিয়ে দেখার চেষ্টা করলো এটা কোন জায়গা হতে পারে। কিন্তু অন্ধকার হওয়ার জন্য ঠাওর করতে পারলো না বেচারি। রুশভিয়ান কপালে ভাঁজ ফেলে চিৎকার করে বলল, ” গাড়ি থেইকা বাইর হ শা**লি, এত ডাকতাছি তোর কানে কথা ঢুকে না” রুশভিয়ান অত্যাধিক ক্রোধান্বিত হয়ে কথাগুলো বলল। তার একটা হুকুমে সবাই উঠে আর বসে আর এই দুইদিনের মাইয়া তার সাথে ফাতরামি করছে।
ইনান ছোট হৃদয় ভ**য়ে কেঁপে উঠলো। চোখ দুটো পানিতে টইটম্বুর হয়ে এলো তার।আবছা আলোতে রুশভিয়ানে মুখটা দেখে গাড়ি থেকে নেমে আসা মাত্রই রুশভিয়ান দেরি না করে ইনানের কব্জি টাকে শ*ক্ত করে ধরে হাঁটা ধরলো রত্নকুঞ্জ বাড়িটির দিকে। ইনান কাঁদতে লাগলো শ*ব্দ করে কেঁদে উঠলো হাতের যন্ত্রণা তবুও রুশভিয়ানের পায়ের গতি থামলো না। সে চলতে চলতে বলল রাশভারি গলায় বলল,” চুপ কইরা থাক না হইলে গু**লি করে মুখ বন্ধ করে দিবো!
ইনান কথাগুলো শোনামাত্র কোন রকমে কান্নার গতি কমিয়ে এনে চোখ মুছে চাঁদের আলোতে সামনে তাকাতেই দেখলো বিশাল বড় গেট দেখে চোখ দুটো আচানাক বড় বড় হয়ে গেল। কৌতুহলি দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো সেদিকে। রুশভিয়ান এক লাথি মে**রে খুলে প্রবেশ করলো।
গেট খোলার পর দৃশ্যমান হলো বিশ ফুট চাওড়া পাথর বিছানো রাস্তা যেটা এগিয়ে গিয়েছে রত্নকুঞ্জের মূল কাঠের দরজার সাথে। পাথরের রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে আছে বলিষ্ঠ লোক, যাদের প্রত্যেকের হাতে মোটা লাঠি।প্রত্যেকের পাশে ছোট হারিকেন জ্বলছে । লোক গুলোর পরনে কালো লুঙ্গি, কালো শার্ট। তাদের প্রত্যেকের মুখবায়ব গম্ভীর, দৃষ্টি বাজ পাখির ন্যায় ধারালো।
ইনান অবাক হয়ে লোক গুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। রুশভিয়ান সামনে এগিয়ে যেতেই লোকগুলো মাথানিচু করে কুর্নিশ জানাচ্ছে তাদের বসকে।
ইনান সামনে তাকাতেই দেখলো একটা লোক উদ্ভান্তের ন্যায় দৌড়ে এলো তাদের দিকে লোকটার মুখে মুচকি হাসি বিদ্যমান। যা হারিকেনের আলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
ছেলেটা এসে রুশভিয়ানের সামনে দাঁড়ায়। রুশভিয়ান ও ছেলেটাকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লো। ইনান বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো, রুশভিয়ানের সাথে হাঁটতে হাঁটতে বেচারী হাঁপিয়ে উঠেছে ।
ছেলেটা বলল,”ভাই কাজি চইলা আসছে তাড়াতাড়ি ভাবিরে লইয়া আসেন?
রুশভিয়ান ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল,” ভেতরে কত গুলোন লোক আছে আমির?
আমির একগাল হেঁসে বলল,” তেমন কেউ নাই ভাই, আমি আর কাজী। ভাবীর ভাড়া করা মা বাবা আছে?
রুশভিয়ান আর কিছু বলল না। এগিয়ে গেল ইনানের হাত ধরে সামনের দিকে। আমির ইনান কে দেখে মনে মনে মাশাল্লাহ বলতে ভুললো না ছেলেটা। সে মনে মনে বলল,” আল্লাহ আমার ভাই টারে ভা*লো পথে ফিরাইয়া আনো এই মাইডার দ্বারা। আগের ভাবীর মতো হেরে খা*রা*প বানাবে না। হেই মাইয়া যেন আমার ভাইরে আগলাইয়া রাখে” আমির কথাগুলো বলে রুশভিয়ানের পিছু পিছু রত্নকুঞ্জ প্রধান মহলের দিকে এগিয়ে গেল।
প্রধান দরজার সামনে সাদা, কালো মার্বেলের পনেরো থেকে দশটি সিঁড়ি বিদ্যমান। সিঁড়ির দুপাশে পাথরের বাঘের মূর্তি রয়েছে। রুশভিয়ান ইনানকে টে*নে মার্বেলের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগল প্রধান দরজার সামনে যাওয়ার জন্য। ইনান অবাক দৃষ্টিতে সবকিছু ঘুরে ঘুরে দেখছে।
সিঁড়ি বেয়ে উপর উঠতেই নজরে এলো বিশাল সেগুন কাঠের দরজা। দরজায় পিতলের হাতল রয়েছে সাথে দরজায় নানা রকমের কারুকার্য ভর্তি হয়ে আছে।
আমির দৌড়ে এসে দরজাটা ঠেলা দিতেই ক্যাচ ক্যাচ শব্দ করে খুলে যেতেই দেখা মিললো বড় ড্রয়িং রুম। ড্রয়িংরুমের উঁচু ছাদের মাঝখানে বিশাল ব্রোঞ্জের ঝাড়বাতি । কি ভারী নকশা তার, রাজকীয় ভাবটাকে বহন করছে। মেঝেতে সাদা কালো মার্বেলের নকশা, তার উপরে লাল কার্পেট দেওয়া রয়েছে। ড্রয়িংরুমের দুপাশে দামি সোফা, সোফার পাশে ভারী ভারী নকশা করা কাঁচের টেবিল। দেওয়ালে টাঙানো আছে পূর্বপুরুষদের অনেকগুলো ছবি। তাদের পাশেই রাখা আছে বিশাল বড় দেয়াল ঘড়ি। ঘড়িটা প্রতি দশমিনিট অন্তর অন্তর টিক টিক শব্দ করছে।
ড্রয়িংরুমের একবারে সামনে দ্বিমুখী সিঁড়ি আছে। নিচ থেকে উঠে সামনে খানিকটা জায়গায় ল্যান্ডিং। তারপর সিঁড়ি দুদিকে ভাগ করে উপরে উঠে গেছে। সিঁড়ি রেলিঙ গুলো তৈরি করা আছে স্টিলের আর বোঞ্জ দ্বারা। যা মূদু আলোয় চকচক করে উঠছে।
ইনান যেন বিশ্বাস করতে পারছে না তার দুচোখ কে। পৃথিবীতে এতসুন্দর রাজকীয় বাড়ি এখনো আছে। সে চোখ ঘুরিয়ে আশেপাশে তাকাচ্ছে।
রুশভিয়ান ইনানের হাতটা ছেড়ে বসে পড়লো সোফায় আরাম করে আর ইনান একজায়গায় গুটিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো।
আমির মহলের ভেতরে এসে ইনান কে দেখে বড় বড় চোখ করে নেয় ছেলেটা। বাইরে আবছা আলোতে মেয়েটাকে দেখে তার ভালোই লেগেছে। কিন্তু উজ্জ্বল আলোতে ইনানের মুখ দেখে চমকে গেল। এটা তো ছোট একটা মেয়ে। বয়স ষোলো কি সতেরো হবে। তার ভাইয়ের বয়স তেত্রিশ থেকে কয়দিন পরে চৌত্রিশে পড়বে। আমিরের বুকের ভেতর হাঁসফাঁস করে উঠলো তার ভাইয়ের কর্মকান্ড দেখে। শেষে কিনা একটা বা*চ্চা মেয়েকে বিয়ে করবে।
আমির তার ভাইয়ের পাশে নিঃশব্দে বসে বলল,” এই মাইয়াটাকে বিয়া করবেন ভাই?
রুশভিয়ান সোফা শরীর এলিয়ে চোখ বন্ধ করে বলল, ” হুম!
আমির আ*র্ত*না*দ করে বলল,” ভাই মাইয়া তো পিচ্চি, একবার ভালো কইরা দেইখা লন।
রুশভিয়ান একই ভঙ্গিতে বলল,” পিচ্চি হোক আর বুইড়া বেডি হোক তারেই আমি বিয়া করমু। না হইলে যে এমপি পদ লইয়া এত পাপ কইরা বেড়াচ্ছি সে এমপি পদ কাইরা নিয়া। সংসদ থেইকা লাথি মা*ই*রা বাইর করবো?
আমির আর ঘাটলোনা, যখন তার ভাই এই পিচ্চি মাইয়াকে বিয়া করতে চাই তখন কোন না কোন ঘাপলা নিশ্চয়ই আছে। তাই আমির উঠতে উঠতে বলল,” ভাই আমি কাজিরে লইয়া আইতাছি, সাথে ভাবির নকল মা বাপরে ও” বলেই চলে গেল।
রুশভিয়ান চোখ খুলে দেখলো ইনান খানিকটা দূরে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সে ভালো করে ইনান কে আপাদমস্তক দেখে বলল,” এই ইনার এইদিকে আয়,
তার নাম ইনান তালুকদার, আর রুশভিয়ান তাকে ইনার ডাকায় ইনান মনে মনে ভেংচি কেটে বলল,” হনুমান বাঁদর, জঙ্গলি গু*ন্ডা, শয়*তান!
রুশভিয়ান এবার একটু বিরক্ত হয়ে বলল,” এই মাইয়া তোরে ডাকতাছি শুনতে পাস না! এইদিকে আয়!
ইনান ভ*য়ে ভ*য়ে রুশভিয়ানের দিকে এগিয়ে গিয়ে ভয়ে বলল,” বলেন চাচ্চু!
রুশভিয়ান যেন আকাশ থেকে পড়লো ইনানের কথা শুনে। কিয়তক্ষন বাদে তাদের বিয়ে। কাজি এসে বসে আছে। আর এই মেয়ে তাকে চাচ্চু বলছে।
রুশভিয়ান একটু নড়েচড়ে বসে রাশভারি গলায় বলল,” কি বললি তুই?
ইনান কেঁপে উঠলো আচানাক সে কি বলল আবার বুঝতে পারলো না। ইনান জিভ দিয়ে শুকনো ঠোঁট ভিজিয়ে শুকনো ঢোক গিলে ভ*য়ে বলল,” কি?
রুশভিয়ান কিছু বলতে যাবেই তখন হাজির হলো আমির তার সাথে কাজি আর ইনানের নকল বাবা মা নিয়ে এলো।
আমির একটা ব্যাগ ইনানের নকল মায়ের হাতে দিয়ে বলল,” ভাবীরে এগুলা দিয়া সাজিয়ে লইয়া আইসেন চাচি,তাড়াতাড়ি করে আসবেন।
মেয়েটা ইনানের কাছে গিয়ে বলল,” আমার লগে আইসেন গিন্নি মা?
ইনান ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো। সে বুঝতে পারলো না মেয়েটা কেন তাকে গিন্নি মা বললো। বোরখা পরে তাকে কি অনেক বুড়ি লাগছে।
রুশভিয়ান গমগমে স্বরে বলল, ” ওরে গিন্নি মা বলা লাগবো না। এই রত্নকুঞ্জে একটাই গিন্নি ছিলো আমাদের মা রুশা মির্জা। তার পরে এইখানে কোন গিন্নি হইবো না!
মেয়েটা ভ*য়ে ভ*য়ে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝালো।
মেয়েটা এবার বলল,” আমার লগে আইসেন! বলেই হাঁটতে লাগলো।
ইনান কোন নড়নচড়ন না দেখে রুশভিয়ান ধমক দিয়ে বলল,” যা!
ইনান দুইচোখ দিয়ে পানি বেরিয়ে এলো। সে গু*ম*রে গু*ম-রে কাঁদতে কাঁদতে এগিয়ে গেল মেয়েটার সাথে।
আমির এগিয়ে এসে রুশভিয়ানকে বলল,” ভাই ভাবিরে এত ধমক দিয়েন না, ল্যাদা মাইয়া আপনারে দেইখা ভ*য় পাইতাছে?
রুশভিয়ান বলল,” মাইয়া মানুষ কখনো ল্যাদা হয়না। এরা হলো কালনাগিনীর মতো। সুযোগ পাইলেই ছো*বল দিতে দুইবার ভাববে না। প্রথমডা কি করলো মনে নাই । খাইতে পাইতো না শা**লি,, তারে দাদা রাস্তা থেইকা তুইলা আইনা বিয়া দিলো আমার লগে। আর সে আমারে বলল আমার নাকি পুরুষত্ব নাই” কথাগুলো বলে আমিরের দিকে তাকায়।
আমির কিছু বলে না। কথাগুলো তার ভাই মিথ্যা বলেনি সত্যিই তো মেয়েটাকে কি দেয়নি। টাকা পয়সা, গহনা সব পেয়ে ও তার ভাইটাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিলো।
কিয়তক্ষন বাদে আমির প্রসঙ্গ পাল্টে বলল,” ভাই তোমার লেইগা নতুন শেরওয়ানি আইনাছি। তাড়াতাড়ি কইরা পইরা লেন। ভাবি চইলা আসবে।
রুশভিয়ান নাকোচ করে বলল,” আমি শেরওয়ানি পরমু না।আমার কাছে এইটা কোন বিয়া না” কিছুক্ষণ থেমে আবার বলল, ” আরিয়ান ভাই রে লইয়া আসিস নি?
আমির বলল,” আরিয়ান ভাই আইতাছে দাদার লগে, আমি আগেই খবর পাঠাই দিছি?
রুশভিয়ান গম্ভীর স্বরে বলল,” দাদারে ক্যান বললি?
আমির ঘাবড়ে গেল তাই ভাইয়ের কথা শুনে । সে মিনমিনে স্বরে আমতা আমতা করে বলল,'” দাদা দা
রুশভিয়ান হাত উঁচুয়ি বলল,” থাক আর তোতলানো লাগবো না তোরে। কাজির বইল্যা লেখালেখি শুরু কর। আর হ্যাঁ বিয়া কাগজ গুলান একমাস আগের করোন লাগবে?
আমির মাথা ঝাকিয়ে বলল,” সব রেডি হইয়া আছে ভাই,আপনে শুধু কবুল বইলেন ” কথাগুলো বলে আমির এক গাল হাসলো।
পুরো ঘরজু্ড়ে ছড়িয়ে আছে অভিজাত্যের ছাপ, চারপাশে মৃদু আলোয় ছড়িয়ে দিচ্ছে পিতলের পুরনো দেওয়াল বাতিটি। ঘরের ঠিক মাঝখানে কাঠের পালঙ্ক রাখা আছে।
চার কোনে চারটি খুঁটি। খুঁটি গুলোর সাথে পাতলা সাদা মশারি ঝুলছে। বিছানায় বিছানোর সাদা নরম চাদর। তার উপরে গাঢ় আর লাল আর সোনালি নকশা করা বলিশ গুলো সুন্দর করে রাখা আছে ।
একপাশে রাখা আছে ড্রেসিং টেবিল। লম্বা আয়নার চারপাশে কাঠের ওপরে সুক্ষ্ম কারুকার্য করা আছে। যার সামনে ইনান বসে একাধারে কেঁদেই যাচ্ছে।পরনে লাল বেনারসী, চুল গুলো পিঠে খুলে রাখা আছে। তার কান্নার কারনে পুরো ঘরটা ভৌ*তিক রুপ ধারন করে আছে। ঘরের ডানপাশে রয়েছে বিশাল বড় জানালা। জানালার পর্দা গলে বাতাস ঢুকে ইনানের চুল গুলো এলোমেলো করে দিতে ব্যাস্ত। সেদিকে তার বিন্দু মাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই। সে তো কিয়তক্ষন আগের কথাগুলো ভাবছে।
ইনান কে এই ঘরে এনে মেয়েটা লাল টকটকে বেনারসি পড়তে দিলে ইনান ভ*য় নিয়ে বলল, ” আমি এই শাড়ী কেন পড়বো?
তখন মেয়েটা একগাল হেঁসে বলল,” তোমার বিয়া হইবো তাই পড়বা?
ইনান কপাল কুচকে অবাক স্বরে শুধালো বলল,” আমার বিয়ে?
মেয়েটা বলল,” হ তোমার লগে এমপির বিয়ে?
ইনানের পুরো দুনিয়া দুলে উঠলো তার নাকি ওই গুন্ডাটার সাথে বিয়ে। সে কালকে রাতেই বুঝতে পেরেছে পুলিশের কথা শুনে এই গুন্ডাটা একজন বদমাশ এমপি।
ইনান শাড়িটা নিচে ফেলে শব্দ করে কেঁদে উঠে বলল,” আমি ওকে বি*য়ে করবো না, ওই লোকটা খুব খারাপ লোক। আমি ওই লোকটাকে বিয়ে করবো না ” বলেই কাঁদতে লাগলো ইনান।
মেয়েটা কি বলবে বুঝতে পারলো না। এই মেয়েটাকে শাড়ির পরিয়ে না নিয়ে গেল এমপি এক কো**পে মা**থাটাকে ধর থেকে আলাদা করে দিবে।
মেয়েটা কোন উপায় না পেয়ে ইনানের পা দুটো আকড়ে ধরে বলল,” এইরকম বইলো না মা। বাড়িতে আমার দুইটা ছোট ছোট পোলা আছে। তোমারে না নিয়া গেলে আমার পোলা দুইটারে মা*ই*রা ফেলবে ওরা।
ইনান কাঁদতে কাঁদতে বলল, ” আমার পা ছাড়েন আপনি? আমি কিছুতেই ওই লোককে বিয়ে করবো না।
মেয়েটা আরো শক্ত করে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ” এমপি সাহেব আমারে মা*ই*রা ফেলবো, তুমি রাজি হইয়া যাও মা ” বলেই ইনানের দিকে তাকায়।
এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৭
ইনান এবার ও বারন করে দেই। এভাবে অনেকক্ষণ বুঝালো মেয়েটা ইনান। ইনান ও কোন উপায় না পেয়ে বেনারসি পড়ে আয়নার সামনে অঝরে কেঁদেই যাচ্ছে। সামনে জীবনে কি হতে চলেছে, কি করবে বুঝতে পারছে না।আর এই ন*র*ক থেকে কবে মুক্তি পাবে তো, নাকি সারাজীবন বন্দীত্ব গ্রহন করে থাকতে হবে…
