Home এমপি রুশভিয়ান মির্জা এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৯

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৯

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৯
ফাতেমা তুজ জোহরা

‌ইনান আর রুশভিয়ান পাশাপাশি বসে আছে দুরত্ব নিয়ে । কাজি কাগজ পাতি লিখতে ব্যস্ত। আর ইনান থরথর করে কাঁপছে আর কিছুক্ষণ আগের কথাগুলো ভাবছে….
আমি এই বিয়ে কিছুতেই করবো না। এক ন*র*ক থেকে আল্লাহ আমাকে মুক্তি দিয়েছে তাই বলে আরেকটা ন*র*কে আমি জেনেশুনে ঝাঁ*প দিবো না। আপনি বলুন ওই বদ*মাশ এমপি কে আমি তাকে বিয়ে করবো না” ইনান কথাগুলো বলে মেয়েটার দিকে তাকায়।

মেয়েটার মন ফুরফুরে হয়ে উঠেছিলো যখন শুনলো গিন্নি মা বিয়ে করবে তাদের এমপি কে। এখন গিন্নি মায়ের কথা শুনে মেয়েটা চোখ দুটো ছলছল হয়ে গেল। গিন্নি মাকে তৈরি করে বাইরে না নিয়ে গেলে বাইরে তার স্বামী আছে। এমপি তার ভুলের শাস্তি তার স্বামীকে দিবে মেয়েটা নিশ্চিত।তার সংসারে স্বামী ছাড়া রোজকার করার মতো কোন লোক নেই। স্বামীটার কিছু হলে দুটো ছেলেমেয়ে কে নিয়ে রাস্তায় বসতে হবে তাকে।
মেয়েটার চোখে পানি দেখে ইনান মন এতটুকু গললো না। তার মনে হতে লাগলো তার মামা মামীর কথা গুলো। প্রথমে কত ভালো ব্যবহার করতো তার সাথে। পরে কেমন করে রুপ পাল্টে তাকে বাড়ীর চাকরানীতে পরিবর্তন করেছে। যেখানে মামা মামি তার সাথে এইরকম করেছে সেখানে পরের লোক তাকে ইমশোনাল কথা বলে খাদে ধাক্কা মে*রে ফেলবে না তার কি মানে আছে।
মেয়েটা ইনানের সামনে কিছু বলতে নিলেই তার আগেই ইনান কাটকাট গলায় বলল,” আমি আপনার কোন কথা শুনতে চাই না? আপনি মিথ্যা কথা বলছেন না তার কি প্রমান আছে। তারথেকেও বড় কথা ওই আধবুড়ো এমপি কে বলুন আমি তাকে কিছুতেই বিয়ে করবো না। আমার জীবন আমি সিদ্ধান্ত নিবো উনি কে আমাকে বিয়ে জন্য এতটা জোর করছে।

কি বললি তুই………. রুশভিয়ান ইনানের পিছন থেকে হুং*কা*র ছেড়ে কথা গুলো বলল!
বদমাশ এমপি কন্ঠস্বর শুনে ইনান সারা শরীর শিহরণ বয়ে গেল। সে চট করে পেছনে ঘুরে দেখলো এমপি দাঁড়িয়ে আছে। চোখ গুলো অস্বাভাবিক লাল টকটকে হয়ে আছে। দেখে এমন মনে যেন চোখ দিয়ে আগুন বের হওয়ার উপক্রম। হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে অতিরিক্ত রা*গে ক্ষো*পা*ন্বি*ত হয়ে এগিয়ে এলো ইনানের দিকে। ইনান যেন আজকে একটু ও ভ*য় পেল না রুশভিয়ান। সে একজায়গায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো। মেয়েটা পিছন দিকে সরে গেল ভ*য়ে।

রুশভিয়ান হাত বাড়িয়ে ইনানের চুলের খোঁপা টাকে শ*ক্ত করে আ*ক*ড়ে ধরলো। ইনান ব্যা*থা*য় চোখ মুখ কুচকে মূদু আ*র্ত*না*দ করে উঠলো সে। রুশভিয়ান হিসহিসিয়ে বলল, ” আমার মুখের উপরে না করার সাহস কই পাইলি তুই বা*ন্দি*র বাচ্চা? তোর মতো নেংটি ইঁদুর রে এই রুশভিয়ান মির্জার সেন্ডেল ও বিয়া করবে না। সুযোগ থাকলে এইখানে তোরে আমি পুঁ*ই*তা রাখতাম। কিন্তু ওই ডিআইজি লেইগা তুই আমার হাত থেইকা বাঁ*ই*চা যাইতাছিস ” কথাগুলো বলে রুশভিয়ান আরো জোরে ইনানের চুল গুলোকে আকড়ে ধরলো।
ইনান আর স*হ্য করতে পারলো না এইবার শব্দ করে কান্নার তোড় তুললো সে। ইনানের কান্না শুনে রুশভিয়ান মনে এতটুকু দয়ামায়া হলো না। সে ইনান কে টা*নতে টা*নতে নিয়ে চলে যেত লাগলো ড্রয়িংরুমের দিকে। ইনানের মাথা থেকে বিয়ের ওড়নাটা খুলে নিচে পড়ে গেল। ইনান কাঁদতে কাঁদতে চি*ৎ*কা*র করে বলল,” ছা*ড়ুন আমাকে, প্রচুর ব্যা*থা হচ্ছে আমার বদমাশ এমপি? ছা*ড়ুন আমাকে ” কথাগুলো বলে ইনান রুশভিয়ানের হাতে মা*র*তে লাগলো।

রুশভিয়ান সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই সে একহাতে তার লুঙ্গি আরেক হাতে রুশমিতার চুল গুলোকে শক্ত করে ধরে আছে।
এভাবে কিয়তক্ষন কেটে যাবার পর ইনানকে নিয়ে রুশভিয়ান ড্রয়িং রুমে প্রবেশ। ইনানের কান্নার আওয়াজ পেয়ে আমির ছুটে সামনে আসলো তার ভাইয়ের। কিন্তু ভ*য়ে কিছু বলার সাহস হলো না বেচারার এককোনায় নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সে। চুলের ব্যা*থা*য় ইনানের বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এক্ষুনি তার দেহ থেকে প্রানটা বেরিয়ে যাবে। রুশভিয়ান ইনানকে ধাক্কা মে*রে ফেলে দিলো একটা সোফার উপরে। ধাক্কায় দেওয়ার সাথে সাথে ইনান আছরে পড়লো নরম সোফার উপরে। তার খোঁপা খুলে ঝরঝর করে ছড়িয়ে পড়লো কোমড় অবধি কেশরাজি গুলো। ইনান সোফায় বসে হু হু করে কেঁদে উঠলো। বার বার চোখের সামনে তার আব্বুর চেহারাটা ভেসে উঠতে লাগলো। ইনান কে তার আব্বু বলতো কখনো ভ*য় পেয়ে পিছিয়ে না যেতে। কঠোর হয়ে বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। ভ*য় কে যত ভ*য় পাবে তত আরো বিপদ বাড়বে। ইনান তার আব্বুর দেখানো পথে হাঁটতে চেয়েছিলো কিন্তু সে বুঝতে পারলো তার মতো চুনোপুঁটি এই বদমাশ এমপির সামনে পারে।
রুশভিয়ান কাজীর দিকে হুংকার ছেড়ে বলল,” এই কাজী বিয়া পড়ানো কাজ শুরু কইরা দে?
কাজী ভয়ে শুকনো ঢোক গিলছে। আর বার বার রুমাল দিয়ে কপালের জমে থাকা ঘাম গুলো মুছতে থাকছে। কাজী মনে মনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে আজকের মতো আল্লাহ তাকে যেন বাঁচিয়ে নেয়। জীবনেও এই রত্নকুঞ্জ মহলের দিকে ঘু্রে ও তাকাবে না। কাজী মনে মনে কথাগুলো ভেবে কাগজ পাতি গুলো খুলে লেখালেখি করতে লাগলো।

রুশভিয়ান এগিয়ে গিয়ে ইনানের ঘা ঘেঁষে বসে গেল। ইনান এতক্ষণ সাহস দেখালেও আবার ভ*য়ে কাঁপা কাঁপি শুরু করে দিয়েছে এই বদমাশ এমপির কাছে বসে।
কাজী বিয়ে পড়ানো শুরু করলো। ইনানের মা আব্বুর নামের জায়গায় বসালো যে দুজন লোককে রুশভিয়ান ভাড়া করে এনেছে। ইনান ভ*য়ে ভ*য়ে তাড়াতাড়ি করে কবুল বলে দিয়েছে। একদিক থেকে ইনানের মনে ভেতরে অদ্ভুত এক শান্তি বিরাজ করছে তার আব্বু আম্মুর জায়গায় ভাড়া করা আব্বু আম্মু নাম দেওয়া হয়েছে। তাহলে এতে তাদের বিয়েটাই বৈধ হয়নি। আর সে সুযোগ পেলে এই ন*র*ক থেকে বের হয়ে যাবে। ইনান কথা গুলো মনে মনে ভাবলো।
রুশভিয়ান মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল,” এই নেং*টি ইঁদুর টারে লইয়া যা? দানাপানি দিয়া শক্তিশালী কইরা তোল!একটু পরে আবার ওই শা*লা ডিআইজি চইলা আসবো তার কুকুরের দলবল গুলোরে লইয়া?
মেয়েটা ইনানকে নিয়ে চলে গেল অন্দর মহলের দিকে।
রুশভিয়ান ইনানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে কাজীর উদ্দেশ্য বলল,” এই কাজি তালাকের কাগজ গুলোন রেডি কইরা রাখ? এই মাইয়ারে আমি তাড়াতাড়ি তালাক দিয়া রত্নকুঞ্জ থেইকা বাইর করমু!
কাজী ভ*য়ে ভ*য়ে বলল,” আমি তালাকের কাগজ রেডি করে আপনার ভাইয়ের কাছে জমা দিয়েছি স্যার!কিন্ত?
রুশভিয়ান ঘাড় ঘুরিয়ে কপাল কুচকে বলল,” কিন্তু টা আবার কি?
কাজী ফাঁকা ঢোক গিলে বলল,” ছয়মাসের পর আপনাদের তালাক বৈধ হবে স্যার, তার আগে তালাকের কোন কাগজ কার্যকর হবে না।

রুশভিয়ান কাজীর কথায় হো হো করে হেঁসে উঠলো।
কাজি রুশভিয়ানের বি*চ্ছি*রি হাসির শব্দ শুনে তার সারা শরীর কেঁপে উঠলো। রুশভিয়ান কোনরকমে হাসি থামিয়ে বলল,” এই কাজি এই রুশভিয়ান কে আইন শিখাতে আইছিস? শুইনা রাখ এই মাইয়ারে যতদিন মন চাইবে রাখমু তার পরেই ঘাড় ধা*ক্কা দিয়ে এই বাড়ী থেইকা বাইর করুমু। আর তালাকের কাগজ পাতি গুলা তোরে দিয়া আসবো, কি কইরা কার্যকর হইবো তুই ভালো কইরা জানিস?
রুশভিয়ান আমিরের দিকে তাকিয়ে বলল,” আরিয়ান ভাই কই?
আমির পুরো মুখে বিষাদের ছায়া পড়লো এই একটা শোনার পর। গলার কাছে কান্না গুলো এসে ভিড় করলো তার। কোনরকম কান্নাগুলো গিলে বললো, ” ভাইয়ের অবস্থা ভালো না ভাই? ডাক্তার আইছিলো বলল আর তিনমাস পর আরিয়ান ভাই ম*ই*রা যাবে আমাকে এইমাত্র গার্ড আইসা বইলা গেল?

রুশভিয়ান কিছু বলল না। তার মুখের অভিব্যাক্তি স্থির বর সাবলীল।
আমির আবার বলল,” ভাই আরিয়ান ভাই সত্যিই ম*ই*রা যাবো? কথাটুকু বলেই আমির ডুকরে কেঁদে উঠলো। রুশভিয়ান দায়িত্ববান ভাইয়ের মতো ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে ধরে মনে মনে বলল,” ভাইয়ের কিছু হইবো না, তারে ভালো করবার ওষুধ আমি পাইছি? এইবার আম্মার লগে আমার মুখোমুখি ল*ড়া*ই শুরু হইবো?
রুশভিয়ান আমির ছেড়ে বলল,” এখন তুই মির্জা মহলে চইলা যা। সবসময় ভাইয়েরে চোখে চোখে রাখবি বুঝলি। আমি দেখতাছি কি করোন যায়………কথাটুকু বলেই রুশভিয়ান তার ঘরের দিকে পা বাড়ালো। সারারাত জেগে থাকার জন্য তার চোখ দুটো বন্ধ হয়ে আসছে ঘুমের জন্য।
ইনান কোনরকমে দুই মুঠো ভাত খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। আগের নিজের শরীরটাকে সুস্থ রাখতে হবে তারপর ভাববে কি ভাবে এই ন*র*ক থেকে মুক্ত হওয়া যায়। যে ভাবা সেই কাজ ইনান নরম বিছানায় শুয়ে আরামের ঘুম দিয়েছে। প্রায় চারবছর পর এরকম বিছানায় ঘুমালো সে । কিয়তক্ষন পর ইনান মনে হলো তার পেটের উপরে ঠান্ডা কিছু হেঁটে বেড়াচ্ছে। একবার এদিকে যাচ্ছে একবার ওদিকে যাচ্ছে জিনিসটা। ভ*য়ে উত্তেজনা ইনান ঠাওর করতে পারলো না কি ওটা এমন করে ঘুরে বেড়াচ্ছে।সুরা ইউনুস পাট করতে করতে পিটপিট করে চোখ খুলে দেখলো পুরো ঘর জুড়ে অন্ধকার। যখন ঘুমাতে এসেছিলো তখন পুরো ঘরে লাইট জ্বলছিলো একদম দিনের আলোর মতো। তাহলে এখন আলো কিভাবে বন্ধ হলো বুঝতে পারলো না। ইনান ভাবলো হয়তো ভূ*ত তার কম্বলের নিচে ঢুকে পড়ছে। ইনান ভ*য়ে কাট হয়ে গেল। এমন সময় স্পর্শ তার গলার ভাঁজে অনুভব করলো ঠান্ডা স্পর্শ।

তোর শরীর দেখি তোর কথার মতোন আগুন ঝড়তাছে …. ব্যাস একটা কন্ঠ স্বর শুনে ইনান তড়াক করে সাইডে ঘুরে দেখলো। যেখানে চাঁদের আবছা আলোতে রুশভিয়ানের মুখটা বোঝা যাচ্ছে। ইনান ভ*য়ে কুচকে গেল রুশভিয়ান কে এতো কাছে দেখে, পুরো শরীর থরথর করে কাঁপতে লাগলো।
রুশভিয়ান একহাত দিয়ে ইনানের কোমড়ের হাত দিয়ে তার বুকের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো। ইনান রুশভিয়ান থেকে দূরে সরে আসার জন্য ছটফট করছে। রুশভিয়ান বিরক্তিতে বলল,” এত নড়নচড়ন করিস ক্যান, তার থেইকা বড় কথা তুই আমারে তোর কাছে ডাইকা আইনছিস শা*লি। তাই আমার অ*ত্যা*চা*র গুলা তোরে আজকে স*হ্য করতে হইবো? রুশভিয়ান কথাটুকু বলে ইনানের কোমড় থেকে শাড়ির টেনে খুলে দেয়।
ইনান শব্দ করে কেঁদে উঠলো রুশভিয়ানের কর্মকান্ডে। ইনান কাঁদতে কাঁদতে বলল,” আমি আপনাকে ডাকিনি, প্লিজ আমাকে ছে*ড়ে দিন? আমি আপনাকে ডাকিনি? কথাগুলো বলে ইনান কেঁদে উঠলো উচ্চস্বরে।

রুশভিয়ান ইনানের কান্নায় তার কোন ভ্রুক্ষেপ হলো না। ইনানের গলায় মুখ ডুবিয়ে ফিসফিস করে বলল,” তা হইলে আমার ঘরে পেট বাইর কইরা ক্যান ঘুমাইয়া ছিলি? তোর ফর্সা পেট আমারে পাগল কইরা তুলছে। আয় তোরে এমন আদর দিমু এর থেইকা বেশি কাঁদবি? কথাগুলো বলে রুশভিয়ান ইনানের গলায় চু*মা খেতে লাগলো।
ইনান মনে হচ্ছিল তার চারপাশের সব আলো একে একে নিভে যাচ্ছে। বুকের ভেতর এমন ভাবে ধরফর করছিলো যে মনে হচ্ছিল হৃদপিণ্ডটা বুঝি বুকের পাঁ*জর ভে*ঙে ছিঁটকে বেরিয়ে আসবে। তার ঠোঁট জোড়া তিরতির করে কেঁপে কেঁপে উঠছিলো। চোখ দিয়ে অবিরাম পানি গড়িয়ে পড়ছিলো, অথচ সে কান্না রুশভিয়ান কে থামাতে পারলো না। সে গলা থেকে নেমে পুরো মুখে ছোট চু*মা খাচ্ছিল।

ইনানকে ভ*য় এমন এক অনুভূতি তাকে গ্রাস করেছিলো যা বোঝার মতো নয়। তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছিলো, শরীর অবশ হয়ে গেছে। মস্তিষ্ক তার কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। তার দমবন্ধ হয়ে আসছিলো। নিজের সম্মান, নিজের নিরাপত্তা, সবকিছু মুহুর্তের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার আ*ত*ঙ্কে তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছিলো।তার মনে হলো এই রাতটা তার কাছে কলঙ্কের রাত।

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৮

রুশভিয়ান ইনানের হাত দুটো আকড়ে ধরে তার খড়খড়ে ঠোঁ*ট দ্বারা ইনানের নরম ঠোঁ*ট জোড়া চেপে ধরলো। ইনানের হৃৎস্পন্দন থমকে গেল।রুশভিয়ান ইনানের ঠোঁ*ট গুলো আরামে চু*ষ*চ্ছে। যেন তার পছন্দের আইসক্রিম ইনানের ঠোঁট গুলো। আর ইনানের পুরো শরীর ঘৃ*ন ঘৃ*ন করছে। রুশভিয়ান চু*মু খাওয়া অবস্থা ইনানের ব্লা*উ*জে*র বোতামে হাত দেয়…

এমপি রুশভিয়ান মির্জা পর্ব ৯ (২)