Home এমপি শেহরান মির্জা এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১৫ (২)

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১৫ (২)

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১৫ (২)
সেঁজুতি আক্তার

-অসম্ভব। আমি পুকুরে গোসল করতে পারবো না। শেহরান কথাটা বলেই কপাল কুঁচকালো। ওর মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে বিরক্ত। পুকুরের কাদা আর জোকের কথা মনে পড়তেই গা গুলিয়ে আসলো।
-মাইরা অবাক হওয়ার ভান করে চোখ বড় বড় করল। নাক কুঁচকে বলল, তাহলে কি না গোসলেই থাকবেন? ছি! আমি আপনার পাশে ঘুমাবো না কিন্তু। গা গুলাবে আমার।
বলেই ওড়নার আঁচল নাকে চেপে ধরল, যেন দুর্গন্ধ আসছে।
-শেহরান সরু চোখে তাকালো। মেয়েটার চোখে দুষ্টুমি। ঠোঁট টিপে হাসি লুকানোর চেষ্টা করছে। মনে মনে বলল, আচ্ছা বদমাইশ মেয়ে। ইচ্ছে করে খেপাচ্ছে।

-মাইরা অবশ্য শেহরানের রাগ দেখে মনে মনে হাসলো।
আমাকে চুপ করিয়ে রাখা? এবার বোঝাবো মজা। আমার সাথে অ্যাটিটিউড দেখানো। আমাকে ইগনোর করা। অন্য মেয়ের ছবি নিজের আলমারিতে রেখে দেওয়া। আমি যদি আপনাকে নাকানি-চোবানি না খাওয়াই। আমার নামও মাইরা না।
-শেহরান ভ্রু কুঁচকে বলল, কি ভাবছো তুমি?
-মাইরা চমকে উঠলো। তাড়াতাড়ি মাথা নাড়িয়ে বলল, কই কিছু না তো।
-তাই নাকি?
-মাইরা উপর-নিচে মাথা নাড়ল। জোর করে হেসে বলল, জি।
-শেহরান গরমে ঘেমে গেছে। বিরক্ত কন্ঠে বলল, লাগেজটা কই? চেঞ্জ করতে হবে।
-আপনি দাঁড়ান, আমি আনছি। বলেই মাইরা দ্রুত বেরিয়ে গেল। উঠানে কেউ নেই। দরজার পাশেই বড় লাগেজটা। হাঁপাতে হাঁপাতে টেনে রুমে ঢুকল।
-শেহরান লাগেজটা মাইরার হাত থেকে নিয়ে বিছানায় রাখলো। চেইন খুলতেই চোখ কপালে। এসব কি?

-মাইরা কৌতুহলী উঁকি দিয়ে দেখেই লজ্জা পেল। ভেতরে থরে থরে ওর জামা-কাপড়। আর শেহরানের জন্য একটা শার্ট, একটা প্যান্ট, একটা টি-শার্ট।
-শেহরান রাগী চোখে বলল, আমার আর ড্রেস কই?
-মাইরা আমতা আমতা করে বলল, নিয়েছিলাম তো। কিন্তু এখানে তো নেই।
-শেহরানের কপালের রগ গুলো দপদপ করছে। ধমক দিয়ে বলল, এই স্টুপিড। এখন আমি কি পরবো?
-ধমকে মাইরা একটু কেঁপে উঠলো। রুমের আশেপাশে তাকাল আলনার দিকে তাকিয়ে মামার ভাঁজ করা লুঙ্গিটা নিয়ে আসলো। এই নিন। এটা পরে নিন। আর তো উপায় নেই।
-শেহরান লুঙ্গিটা হাতে নিল। দুই আঙুলে ধরে উল্টেপাল্টে দেখল। রেগে বলল, এইটা কি? আমি এটা পরবো? মাথা ঠিক আছে তোমার?

-মাইরা এক পা পিছিয়ে গেল। হাসি চেপে বলল, এটা ছাড়া অপশন নেই।
-শেহরান বিরক্তিতে লুঙ্গিটা বিছানায় ছুড়ল। পুরো রুমে দুইবার পায়চারি করল। শেষে উপায় না পেয়ে দাঁত চেপে আবার তুলে নিল।
-মাইরা দুষ্টু হেসে ওর একসেট ড্রেস নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
-শেহরান লুঙ্গিটা পরে। লুঙ্গির সাথে একটা টি-শার্ট পড়ে নিল।
দরজার কাছে গিয়ে বলল, চলো। মাইরা দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। শেহরানকে দেখে অনেক কষ্টে নিজের হাসি লুকিয়ে রাখলো। শেহরান মাইরার দিকে তাকিয়ে বলল, সামনে সামনে হাঁটো। কেউ যেন না দেখে।

-মাইরা মাথা নাড়ল। শেহরান বের হওয়ার সাথে সাথেই মাইরা আর হাসি চাপতে পারলো না। ফিক করে হেসে ফেলল আগে হাঁটতে লাগলো।
-পুকুরপাড়ে এসে শেহরান চারপাশ দেখল। কেউ নেই। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পায়ে পানি লাগাতেই মুখ কুঁচকালো, উফ। কি ঠান্ডা পানি।
-মাইরা পাশে বসে হাতমুখ ধুতে ধুতে বলল, অভ্যাস হয়ে যাবে। আড়চোখে তাকিয়ে আবার হেসে ফেলল।
-শেহরান পুকুরের ধারে বসে পানি দিয়ে হাত-মুখ ধুচ্ছে। চারপাশে তাকিয়ে দেখছে কেউ আছে নাকি। হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকটা মেয়ের গলা ভেসে আসলো। কিরে মাইরা, তোর বরকে নিয়ে গোসল করতে এসেছিস? মাইরার বয়সী ৩-৪টা মেয়ে হাসতে হাসতে কথা বলতে বলতেই পানিতে নেমে পড়ল।

-মাইরা তখন পানিতে ডুব দিয়ে উঠছিল। কথাটা শুনে ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি নিয়ে বলল, হুম আয় তোরাও আয়। একসাথে সাঁতার কাটি।
-শেহরান মাইরার কথা শুনে ভ্রু কুঁচকালো। চোখ ছোট ছোট করে মাইরার দিকে তাকালো। মনে মনে বলল, এই মেয়ে আসলেই বেয়াদব। শেহরান দ্রুত পানি থেকে হাত সরিয়ে নিল। গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, মাইরা উঠে আসো। আমি এখানে গোসল করবো না।
মেয়েগুলো একে অপরের দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে ফেলল। একজন বলল, আরে দুলাভাই আপনি কি আমাদের দেখে লজ্জা পাচ্ছেন। আরেকজন হাসতে হাসতে বলল, আরে দুলাভাই লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আমরা তো আপনার শালী হই।
মাইরা সামান্য গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, আরে আসুন আসুন। নিচে নেমে আসুন। এরা তো আপনার শালী হয়। শেহরান রাগী চোখে মাইরার দিকে তাকালো।

মাইরা শেহরানের তাকানোতকে পাত্তা দিল না। ওই মেয়েগুলোর সাথে সাঁতার কাটতে লাগল।
হঠাৎ হইচই করতে দুই তিনটা ছেলে দৌড়ে এসে সোজা পানিতে ঝাঁপ দিলো।
-শেহরানের মুহূর্তেই রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। কতগুলো অচেনা ছেলে ওদের এত কাছে ঝাঁপ দিয়েছে। অথচ এই বেয়াদপ গুলো হাসছে? শেহরান আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। লুঙ্গি সামলে ধপ করে পানিতে নেমে পড়ল। পানির ঠান্ডায় কেঁপে উঠলো। সোজা মাইরার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। নিচু গলায় ধমকের সুরে বলল, এই মেয়ে। এখানে কি হচ্ছে? তামাশা পেয়েছো?
-মাইরা একটু থতমত খেল। শেহরানের চোখ-মুখ দেখে বুঝলো এবার সত্যি রেগে গেছে। আর বাড়াবাড়ি করল না। চুপচাপ মাথা নিচু করে বলল, চলুন। মাইরা পানি থেকে উঠতেই শেহরানের চোখ আটকে গেল। মাইরার জামাটা হালকা রঙের, ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে আছে। সব কিছু স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। শেহরান শুকনো ঢোক গিললো। তারপর সাথে সাথেই দৃষ্টি সরিয়ে নিল।অস্বস্তি নিয়ে দ্রুত নিজের কাঁধের গামছাটা খুলে মাইরার গায়ে জড়িয়ে দিল।

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১৫

-মাইরা এখানে কেঁপে উঠল।
শেহরান বকতে লাগল, নির্লজ্জ। একটু বুদ্ধি নেই? অতগুলো ছেলের মাঝে ধেই ধেই করে গোসল করছে।
-মাইরা চুপ করে আছে। ভিজে চুল থেকে পানি পড়ছে। শুধু মাঝে মাঝে চোখ তুলে শেহরানকে দেখছে।
-শেহরান মাইরার হাত শক্ত করে ধরে পুকুরপাড় থেকে তুলে বলল, চলো বাড়ি। আর আজকেই ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করছি আমি। মাইরা আর কথা বলল না। ভিজে গামছা জড়ানো অবস্থায় শেহরানের পাশে পাশে হাঁটতে লাগল। ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি খেলে গেল।

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১৬