Home এমপি শেহরান মির্জা এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ১
সেঁজুতি আক্তার

~আমি একজন এমপি হয়ে কিনা ১৬ বছরের একটি মেয়েকে বিয়ে করবো সিরিয়াসলি। কথাটা বলেই রাগী দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকাল এমপি শেহরান মির্জা।
“তুই একদম চুপ। একটা কথাও বলবি না। আমি যা বলেছি তাই হবে। আমি যখন বলেছি, ওই মেয়ের সাথে তোর বিয়ে দিব। তখন ওই মেয়ের সাথেই তোকে বিয়ে করতে হবে। না হলে আমার মান সম্মান কিছু থাকবে না।”
-কিন্তু মা।
-আর কোন কিন্তু নয়। আর একটা কথাও আমি তোর শুনবো না।
-শেহরান ভীষণ বিরক্তি নিয়ে হন্তদন্ত পায়ে এই রুম থেকে বেরিয়ে গেল। যা বোঝার বুঝে গেছে। মা তার কোন কথাই কানে তুলবে না।

-শেহরান চলে যেতেই শাহানা বেগম মুচকি হাসলেন।
“দেখো শাহানা তুমি কিন্তু বাড়াবাড়ি করছ!” স্বামীর কথা শুনে সাহানা বেগম একটু ঝাঁজ নিয়ে বললেন।
“তুমি চুপ করো, তুমি একটা কথাও বলবে না। তোমার তো কোন গুন নেই। কবে থেকে বলছি ছেলেকে বিয়ে দাও। ছেলেকে বিয়ে দাও, ছেলের বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। তোমার তো সেই দিকে কোন চোখ নাই। পারো তো শুধু বসে বসে চা গিলতে।”
স্ত্রীর কথা শুনে রায়হান মির্জা বিরক্তি নিয়ে বললেন।
“তাই বলে তুমি তোমার অমন ধামড়া ছেলেকে একটা বাচ্চা মেয়ের গলায় ঝুলিয়ে দিচ্ছো। জানো না তুমি তোমার ছেলে কেমন? তারপরও তুমি জেনে বুঝে এই কাজ কেন করছ?”
“এইজন্যই তো তোমাকে আমি বলি তুমি শুধু বসে বসে চা খেতে জানো। তোমার মাথায় তো গোবরে ভর্তি। তুমি দেখনা তোমার ছেলে বিয়ে করতে চায় না। বিয়ের কথা শুনলেই ওর এলার্জি হয়। তাই আমি চাই এই মেয়ের সাথেই ওর বিয়েটা হোক। এই মেয়েই পারবে তোমার ছেলেকে জব্দ করতে।” শাহানা বেগম রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। এখন তার অনেক কাজ ছেলের বিয়ে বলে কথা।

-শেহরান নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করে বসে আছে। একটু আগে পার্টি অফিস থেকে বাসায় ফিরেছে। আর বাসায় এসেই মা বিয়ে নিয়ে পড়েছে। ভাবতেই বিরক্ত লাগছে। ও তো বিয়ে করতে চায় না। এই বিয়ে নামক জিনিসটাতে তো শেহরানের এলার্জি। তাও কিনা নিজের থেকে বয়সে অনেক ছোট একটা মেয়ের সাথে বিয়ে। ভাবতেই অবাক লাগছে। একজন প্রশাসনের লোক হয়ে কিভাবে বাল্যবিবাহ করবে। শেহরানের রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে। হাতের কাছে একটা ফুলদানি ছিল। সেইটা তুলেই আছাড় দিল ফ্লোরে। ফুলদানিটা পড়তেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
– “শেহরান… এই শেহরান বাবা তোর কি হয়েছে?” মায়ের গলা শুনে শেহরান বিরক্তি নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফ্লোরটা পরিষ্কার করে ফেলল। ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে একটা সাদা পাঞ্জাবি আর পায়জামা পড়ে নিল। দরজা খুলতেই দেখলো সামনে দাঁড়িয়ে আছে শেহরানের ছোট বোন সায়রা। সায়রা তো মহা খুশি বড় ভাইয়ের বিয়ে। তার তো ভাবতেই ভীষণ আনন্দ লাগছে।
-“কিরে এত হাসছিস কেন?” শেহরান চোখ ছোট ছোট করে সায়রার দিকে তাকাল।
-সায়রা আমতা আমতা করে বলল। “কিছু না তো ভাইয়া এমনি হাসছিলাম, চলো মা তো রেডি নিচে ডাকছে।”
– “তুই যা আমি আসছি।” সায়রা চলে যেতেই শেহরান রুমে গিয়ে নিজের ফোন আর ওয়ালেট পাঞ্জাবির পকেটে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

-মাথায় লাল ঘোমটা দিয়ে বউ সেজে বসে আছে মাইরা। মাইরা স্কুল থেকে এসএসসির সার্টিফিকেট নিয়ে আসতেই মামি হাতে একটা লাল শাড়ি ধরিয়ে দিয়ে গেছে। আর বলে গেছে একটু পরেই তোর বিয়ে। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে। কথাটা শুনে মাইরা বেশ অবাক হয়েছিল। প্রথমে অবশ্য বিয়েটা করতে চাইনি। পরে মামার মুখের দিকে তাকিয়ে বিয়েতে রাজি হতে হয়েছে। যেই মেয়ের বাবা-মা নেই। সেই মেয়ের দুনিয়ার বুকে কোন শখ রাখতে নেই। আর মামাও তো অনুপাই।
-মামাতো ভাই ইমন মাইরার পাশে বসে বলল।”আপু তোমার বর তো চলে এসেছে।”
-মাইরা ইমনের দিকে তাকিয়ে বলল। “এই তুই এখনই বর বলছিস কেন? এখনো তো বিয়ে হয়নি!”
-“তো কি বিয়ে হতে কতক্ষণ। আরেকটু পরেই দেখো বিয়ে হয়ে যাবে।” বলেই ইমন দুষ্টু হাসলো।
-মাইরা ইমনের মাথায় একটা চাপড় মেরে বলল। “খুব পেকেছিস তাই না। দাঁড়া তোকে মজা দেখাচ্ছি।” বলেই মাইরা যেই ইমনের কান ধরতে যাবে, অমনি ইমন বিছানা থেকে নেমে দৌড়াতে লাগলো।

– মাইরাও বিছানা থেকে নেমে ইমনকে ধরার জন্য ইমনের পিছে পিছে দৌড়াতে লাগলো।
-“আসতে পারি?”
হঠাৎ অপরিচিত কণ্ঠ শুনে মাইরা আর ইমনের পা থেমে গেল। মাইরা পিটপিট করে দরজার দিকে তাকালো। সায়রা হতভম্ব হয়ে মাইরার দিকে তাকিয়ে আছে। “এই মেয়ে তার ভাইয়ের বউ। এতো নিজেই পিচ্চি।” ভেবেই সায়রা মনে মনে বেশ মজা পেল।
রুমের মধ্যে এগিয়ে এসে মাইরার দিকে তাকিয়ে বলল “তুমিই আমার নতুন ভাবি? সরি তুমি বলেছি কিছু মনে করো না। বয়সে হয়তো তুমি আমার ছোটই হবে।”
-মাইরা গোল গোল চোখে সায়রার দিকে তাকিয়ে আছে। কি বলবে বুঝতে পারছে না।
“ও আমি তো পরিচয় দেইনি এখনও! হ্যালো আমি সায়রা মির্জা। শেহরান মির্জার একমাএ ছোট বোন। মানে তোমার একমাত্র ননদিনি।”

-মাইরা এবার তাড়াহুড়া করে এগিয়ে আসলো। সায়রার দিকে তাকিয়ে বলল “আসালামু আলাইকুম ভালো আছেন?”
-সায়রা মুচকি হেসে বলল “ওয়ালাইকুম আসসালাম ভাবি তুমি ভালো আছো?”
-“হুম।”
ইমন মাইরার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট চেপে হাসলো। কারণ তার বোন যে এতটা ভদ্র সাজছে। মাইরা ইমনের দিকে রাগী চোখে তাকাতেই ইমন রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
“একি ভাবি তুমি এখনো সাজোনি কেন? খালি শাড়ি পরে ঘোমটা দিয়ে আছো কেন?”
-মাইরা একটা ভ্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে বলল। “আসলে আমার মেকাপটা সেরকম পছন্দ না। তাই আমি মেকআপ করি না।”
“ওহ! চলো তোমাকে আমি সাজিয়ে দিই” বলেই সায়রা মাইরা কে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসিয়ে দিল।
-সায়রা মুচকি হেসে মাইরা কে সাজাতে সাজাতে বলল। “তুমি যদি এইভাবে আমার ভাইয়ের সামনে যাও আমার ভাই কি ভাববে? ভাববে তুমি বোধ হয় এই বিয়েতে রাজি না।”
-মাইরা বিরবির করে বলল “সত্যিই তো আমি তো এই বিয়েতে রাজি না।”
“কিছু কি বললে ভাবি তুমি?”
-মাইরা হেহে করে হেসে বলল “কই কিছু বলিনি তো।”
-সায়রার সাজানো শেষ হতেই মাইরা কে দেখে বলল “এবার একদম পারফেক্ট লাগছে ভাবি। তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে আমার মিষ্টি ভাবি।” মাইরা মুচকি হেসে ভাবল এই মেয়েটা খুব ভালো।

অবশেষে সেই মুহূর্ত চলে আসলো। কাজী সাহেব শেহরানের বিয়ে পড়িয়ে মাইরার কাছে আসলো। মাইরা কে কবুল বলতে বলা হলো। প্রথমে মাইরা কবুল বলতে চাচ্ছিল না। কিন্তু মামির দিকে তাকাতেই মাইরা ঢোক গিলে কবুল বলে দিল। কাজী সাহেব আলহামদুলিল্লাহ বলে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করলেন।
এবার বিদায়ের সময় আসলো। মাইরার মামা মামী শেহরানের হাতে তাদের ভাগ্নিকে তুলে দিলেন। শেহরান ও তার পরিবার মাইরা কে নিয়ে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল।

নিস্তব্ধ রাত মির্জা বাড়ির প্রত্যেকেই নিজ রুমে চলে গেছে। শেহরান মাইরাদের বাসা থেকে ফিরেই পার্টি অফিসে গিয়েছিল কিছু কাজ ছিল। এখন রাত বারোটা বাজে। শেহরান নিজের রুমের দরজা খুলতে বিছানার দিকে চোখ গেল। মাইরা মাথায় ঘোমটা দিয়ে বসে, নিজের এক হাত দিয়ে অপর হাতের নখ খুঁটছে।
-শেহরান ধীর পায়ে এগিয়ে গেল বিছানার দিকে। শেহরানকে নিজের দিকে আসতে দেখে মাইরা বিছানার সাথে একটু এটে বসলো।
শেহরান ভ্রু কুচকে মাইরার দিকে তাকিয়ে রইল। এই মেয়ে তুমি আমার রুমে কি করছো? আর এভাবে ঘোমটা দেওয়ার মানে কি?”

-মাইরার মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। দুই হাত দিয়ে মাথার ঘোমটা ফেলে দিয়ে শেহরানের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল আঙুল তাক করে বলল। “এই আপনার মধ্যে কোন ম্যানার্স নাই? এত বড় মানুষ অথচ বউয়ের সাথে কথা বলতে কি করে জানেন না? তাতে আবার নতুন বউয়ের সাথে। এই মেয়ে এটা আবার কেমন ভাষা?”
-মাইরার কথা শুনে শেহরান তাজ্জব বনে গেল। এই মেয়ে বলে কি! শেহরান রাগী চোখে মাইরার দিকে তাকিয়ে বলল। “এই তোমার বয়স কত হ্যাঁ, তোমার বয়স কতো? হাউ ডেয়ার ইউ তুমি আমার দিকে আঙ্গুল তুলে কথা বলছ কোন সাহসে?”
“এই যে শুনুন মিস্টার আমার সাহসের প্রয়োজন হয় না। যেটা সঠিক আমি শুধু সেইটাই বলেছি। নিজের বউয়ের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানেন না আপনি?”
“শাট আপ!”
-শেহরানের ধমকে মাইরা এবার খানিক কেঁপে উঠলো। আঙ্গুল নামিয়ে বলল “দে-দেখুন একদম চিল্লাবেন না আমার সাথে।”
“ইডিয়েট” বলেই রাগি চোখে মাইরার দিকে তাকিয়ে, কাবার্ড থেকে একটা টি শার্ট আর ট্রাউজার নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।

-এদিকে মাইরা শেহরানের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল “আস্ত একটা খাটাশ লোক। আপনাকে যদি আমি ম্যানার্স না শিখিয়েছি। আমার নামও মাইরা না হু।” বলেই বিছানা থেকে নেমে আশেপাশে তাকিয়ে নিজের লাগেজ খুজলো। পেয়েও গেল। লাগেজ থেকে একটা থ্রি পিস বের করে ভাবল ওয়াশরুমে গিয়ে এই শাড়ি চেঞ্জ করবে। কিন্তু ১০ মিনিট হয়ে যাওয়ার পরেও শেহরান বেরোচ্ছে না দেখে মাইরা ভাবল রুমের লাইটটা অফ করে চেঞ্জ করে নিলে আর কোন সমস্যা নেই। যে ভাবনা সেই কাজ। রুমের লাইট অফ করে শাড়ি খুলতেই বাথরুমের দরজা খট খুলে গেল। মাইরা তাড়াহুড়া করে নিজের শাড়ি পড়তে নিলেই শেহরান বলল এই রুমের লাইট অফ কেন? শহরান শাড়ির উপরে পা দিতেই মাইরা যেই শাড়ি ধরে টান দিয়েছে “ধপাস… আআ…………”

এমপি শেহরান মির্জা পর্ব ২