Home কাজলরেখা কাজলরেখা পর্ব ৪১ (২)

কাজলরেখা পর্ব ৪১ (২)

কাজলরেখা পর্ব ৪১ (২)
তানজিনা ইসলাম

নৈঃশব্দ্যে ঢেকে আছে চারপাশ। লাইট বন্ধ থাকলে, বাড়িটাকে ভুতুড়ে বাড়ির চেয়ে কোনো অংশে কম লাগে না।মাত্রই সন্ধ্যা হয়েছে। এখনো হয়তো সার্ভেন্টরা লাইট জ্বালায়নি। মোবারক হোসেন বাইরে থেকে এসে সবাইকে খুঁজলেন। পেলেন না কাওকে। স্বভাবত রোদেলা এহসান এসময়ে ঘুমান। তাই উনি মেয়ের কক্ষে গেলেন না। রাতের জন্য উনি তিরামিসু এনেছিলেন। ছেলেটা এতো পছন্দ করে! উনি বাইরে গেলেই রাতের জন্য ওর ফেবারিট জিনিসগুলো নিয়ে আসেন। এ অভ্যাসটা ওনার বরাবরই। সিড়ি বেয়ে দোতলা পেরিয়ে উনি রাতের কক্ষের সামনে গেলেন। বারান্দায় লাল-সবুজ রঙের বাতি জ্বলছে। কেমন একটা অদ্ভুত রং ধারণ করেছে চারপাশে। রাতের কক্ষে লাইট নেভানো। মোবারক হোসেনের কপালে ভাজ পরলো। রাত কী ঘুমাচ্ছে? ও তো সন্ধ্যায় ঘুমায় না। দুপা এগিয়ে দেয়াল হাতড়ে কক্ষের লাইট জ্বালালেন তিনি৷
রাত উপুড় হয়ে কাউচের উপর পরে ছিলো। মুখ ডুবিয়ে রেখেছিলো কুশনে।
মোবারক হোসেন ধীর স্বরে ডাকলেন

-“আবরার।”
-“লাইট অফ করো নানুভাই।”
-“ড্রাগস নিয়েছো তুমি?”
-“তুমি যাও এখন, আমি একটু পর আসছি তোমার সাথে দেখা করতে।”
খুব আস্তে করে বললো রাত। মোবারক হোসেন গেলেন না। রাতের কাছে মোড়া টেনে বসলেন। মেঝেতে, গোল কাঁচের টেবিলের উপর সাদা সাদা গুঁড়া ছেটানো। ঝাঁঝালো, নেশালো একটা ঘ্রাণ ভেসে আসছে সেখান থেকে। মোবারক হোসেনের মাথা ঝিমঝিম করে উঠলো। লম্বা শ্বাস টেনে, রাতের পিঠে হাত রেখে বললেন

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“কী হয়েছে নানুভাই? তুমি তোমার আম্মুকে কথা দিয়েছিলে এসব নেবে না।”
-“সব কথা কী রাখা যায়? না নিলে পাগল পাগল লাগে।”
রাত সোজা হয়ে কাউজের হাতলের উপর মাথা রাখলো। নাক টেনে ঠান্ডা চোখে তাকালো মোবারক হোসেনের দিকে। ওর নাক আর ঠোঁট রক্তাভ লাল। ঠোঁট কাঁপছে।কোনোমতে ক্ষীণ কন্ঠে শুধালো
-“এ অসহনীয় মুহুর্তগুলো শেষ হয় না কেন?”
-“কেন তুমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারো না? হুয়াই?”
-“রাগ উঠলে কমাতে পারি না। ওই লোকটা আমার সাথে কথা বললেই আমি বেঠিক হয়ে যাই, নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারি না।”

-“রোদেলা কে বলবো আমি?”
রাত উঠে বসলো। আঁড়চোখে তাকিয়ে বললো
-“বলে দেখো তুমি! তাহলে তোমার সাথে আমার আড়ি।”
-“তোমার বাবা কল করেছে?”
-“বাবা না আমার। এ দামী শব্দটা ওনার মতো সস্তা মানুষের জন্য মানায় না।নাম্বার না দেখেই রিসিভ করেছিলাম। উনার কন্ঠ শুনেই কেটে দিয়েছি। তারপর সুহাশ কল করলো। আমাকে না-কি ফিরে যেতে বলছে।মনে পরছে আমার কথা! নাটকবাজ একটা, হাহ!”

-“ফিরে যাবে না?”
-“যাবো তো অবশ্যই। কিন্তু নির্বাচনের দেরি আছে। এতো তাড়াতাড়ি গিয়ে আম্মুকে কাদানোর কোনো মানেই হয় না!ক’দিন থাকলে মনটা বুঝ পাবে অন্তত। ফার্নিচারগুলো কিনেছি বেশি দেরি হচ্ছে না। পছন্দ করে কিনেছি তো মায়া লাগছে। তোমার মেয়ের যে রাগ ছ’মাস অন্তর অন্তর ফার্নিচার কিনতে হয়! এংরি বার্ড একটা।”
-“তোমাকে ছাড়া কিছু বোঝে না।তোমারেই দেখলেই সব ঠান্ডা।”
হাঁটু জড়িয়ে ধরে থুঁতনি ঠেকিয়ে বসলো চাঁদ। মেঝেতে প্লাস্টিকে মোড়ানো একটা বক্স পরে আছে। রাত তর্জনী উঁচিয়ে বললো

-“ওটা কী?”
-“তিরামিসু,তোমার জন্য এনেছি। খাবে?”
-“অবশ্যই, দাও।”
-“ওয়েট,কাওকে ডেকে প্লেট আনতে বলি।”
-“বক্স থেকে খাওয়ার মজা আলাদা।প্লেট লাগবে না।”
মোবারক হোসেন ওঁকে বক্সটা এগিয়ে দিলেন। রাত এক চামচ খেয়ে ওনাকে সাধলোন। নাকচ করলেন তিনি। ক্ষণকাল নিরবতায়, কয়েকচামচ খেয়ে রাত মোবারক হোসেনের দিকে তাকিয়ে বললো
-“রাত্রি খালামনির শ্বশুর বাড়ি টা কোথায় যেন? হাটহাজারী না?”
-“হ্যাঁ। কেন?”
-“ওরা কেও এখানে আসে না। তোমরাও যাও না। খালামনির কোনো মেয়ে নেই?”
মোবারক হোসেন ভ্রু কুচকে তাকালেন। বললেন
-“এতো বছর পর হঠাৎ এসব নিয়ে পরলে কেন?”
-“জানি না, খুব মনে পরছে খালামনির কথা। আমার কোনো কাজিন নেই? দাদুবাড়ির দিকেও নেই। নানুবাড়ির দিকেও নেই। কী এক একাকিত্ব!”

-“এজন্যই তো তুমি স্পেশাল!”
রাত হাসলো। কোমল স্বরে বললো
-“খালামনির কোনো ছেলেমেয়ে ছিলো না কেন?”
-“ও মা হতে পারতো না কোনোদিন।ওর জরায়ুতে ক্যা*ন্সার ছিলো। আসল মেয়ে ছিলো না..
-“নকল মেয়ে ছিলো?”
-“ধুর! পুরো কথা শোনো। একটা মেয়ে দত্তক নিয়েছিলো।”
-“সে মেয়েটা এখন কোথায়?”
মোবারক হোসেনের সন্দেহ এবার প্রগাঢ় হলো। এতোগুলো বছর একবারও রাত ওর খালামনির শ্বশুর বাড়ি নিয়ে মাথা ঘামায়নি। ওর খালামনি মারা যাওয়ার পর রাত অনেক কেদেছিলো। ওর পুরো শৈশব, কৈশোর কেটেছে এ বাড়িতে। স্বাভাবিক ওর খালামনির সাথে ওর বন্ডিংটা অনেক ভালো ছিলো। কিন্তু ও বিদেশে থাকায় রাত্রির মৃত্যুর সময় ও সঠিক সময়ে আসতে পারেনি। এতো বছর পর রাত হঠাৎ এসব জিজ্ঞেস করছে কেন?
মোবারক হোসেন বললেন

-“জানি না আমি।”
-“তুমি একবারও খবর নাওনি? খালামনি ওতো বিয়ের পর এখানে তেমন আসতো না। কেন আসতো না নানুভাই?”
-“শোনো, ও রিলেশন করে বিয়ে করেছিলো, আমার পছন্দের ছেলেকে রিজেক্ট করে। আমি ওর প্রেমিককে মানতে পারিনি তখন। আমি চেয়েছিলাম রাজনৈতিক ব্যাগগ্রাউন্ডের একটা ছেলেকে তোমার খালামনি বিয়ে করুক।করেনি, তাই আমার রাগ ছিলো। ওর স্বামীও কখনো এখানে আসেনি। আমার মেয়েটা যে এভাবে অভিমান করে চলে যাবে, আমি তো বুঝতে পারিনি।”
মোবারক হোসেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন। রাত গম্ভীর স্বরে বললো

-“তুমি এটা ঠিক করলে বলো? আম্মু তো করেছে তোমার পছন্দে বিয়ে। কী হলো? তোমার পছন্দের ছেলে কী করলো নানুভাই। আমার জীবনটাও শেষ করে দিলো।”
-“এজন্য আমি সারাজীবন অপরাধী হয়ে আছি তোমাদের কাছে!”
-“উহু! শুধু আমাদের কাছে না। আরেকজনের কাছেও, খালামনির সে মেয়েটা যার খোঁজ একবারও নাওনি তুমি।”
-“সে কেন? তোমার খালামনির নিজের মেয়ে ছিলো না সে।”
রাত গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকালো।মোবারক হোসেন আমতা আমতা করে বললেন
-“তুমি হঠাৎ এসব নিয়ে পরলে কেন,আজ?”
-“আমার না, খালামনির হাসবেন্ড কে একবার দেখতে ইচ্ছে করছে। তুমি ওনাকে একবার এখানে আসতে বলবে?”
-“হঠাৎ?”
-“কেমন জানি খালামনির কথা মনে পরছে আমার।আমার মনে হচ্ছে আমি আঙ্কেল কে কোথাও দেখেছি। কেন এমন মনে হচ্ছে জানি না।”

-“আমি পারবো না আবারার। রাত্রি বেঁচে থাকতেও আমি ওঁদের মেনে নিইনি। পরে যদিও সেটা নিয়ে আফসোস করেছিলাম, অপরাধবোধে জর্জরিত হয়েছিলাম। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিলো। সারাক্ষণ মনে হয়েছিলো আমার মেয়েটা বোধহয় আমার অভিশাপেই চলে গেলো। ওর স্বামী কক্ষোনো এ বাড়িতে আসেনি। ওর শ্বশুরবাড়ির কেও আমাদের চেনে না, আমরা ওঁদের চিনি না। রাত্রি মারা যাওয়ার পর তো তোমার আম্মুকে নিয়েই চিন্তি থাকতাম সারাক্ষণ। খালি মনে হতো আমার দোষেই আমার দু’টো মেয়ের জীবন শেষ হয়ে গেছে! কারো খোঁজ নেওয়ার সুযোগ হয়নি আমার। কোন মুখে আমি এখন তাকে আসতে বলবো।
রাত কিছুক্ষণ নিশ্চুপ চেয়ে থাকলো মোবারক হোসেনের দিকে। হঠাৎ করেই বললো

-“খালামনির হাসবেন্ড কী আবার বিয়ে করেছেন?”
-“হয়তো না। তেমন কোনো খবর আসেনি আমার কাছে।”
রাত ঢোক গিলে বললো
-“দেখলে, মা বাবারা সবসময় সঠিক হয় না। তুমি যাকে আমার আম্মুর জন্য ঠিক করেছিলে সে তো তার সন্তানের কথা পর্যন্ত একবার ভাবলো না। অথচ যাকে খালামনি তোমার বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করলো সে স্ত্রীর শোকে বিয়ে করলো না আর। আসলে রূপবতী, গুণবতীদের ভীড়ে ভাগ্যবতীরাই জিতে যায়। তুমি বলতে খালামনি শ্যামলা! অথচ আমার আম্মু সে সময়ে আমাদের গ্রামের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে ছিলো। কিন্তু খালামনি জিতে গেছে। মারা গিয়েও জিতে গেছে। পালক হোক। এটলিস্ট তুমি ওনার মেয়ের একবার খোঁজ নিতে পারতে।”
-“ওই যে বললাম, তোমার আম্মুকে ছাড়া আর কিছু চিন্তা করার সুযোগ পাইনি।তুমিও তখন উঠতি বয়সী কিশোর ছিলে। তোমার বাবা ঝামেলা করছিলো বলে আমি তোমাকে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলা। তোমার আম্মাকে আমার বাচ্চার মতো সামলাতে হয়েছে আবরার। আমি অন্য কিছুর সুযোগ পাইনি।
রাত অনুরোধ করে বললো

-“তুমি একবার ওনাকে আসতে বলো। দেখো আমি চাইলেই একদিনের মধ্যে ওনার চোদ্দগুষ্টির খবর নিয়ে নিতে পারি। কিন্তু আমি সেটা চাচ্ছি না, আমি সামনাসামনি একবার ওনাকে দেখতে চাচ্ছি। ওনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছি। প্লিজ নানুভাই। তুমি তোমার আবরারের কথা রাখবে না?”
-“যদি সে না আসে?”
-“ওনার কথা যেভাবে বললে, সে নিশ্চয়ই খালামনিকে অনেক ভালোবাসতো। সে তোমার কথা ফেলবে না? খালামনির জন্য হলেও তিনি আসবেন।নাম্বার আছে?”
-“ম্যানেজ করা কষ্ট হবে না।”
-“ঠিক আছে। আমি অপেক্ষায় থাকবো ওনার আসার। খালামনির শেষ স্মৃতি কে আমার একবার দেখতেই হবে।”

আঁধার নিজের কক্ষে এসে ঢুকতেই চাদনী দ্রুত এসে দাঁড়ালো ওর সামনে। অকস্মাৎ আসায় আঁধার হকচকিয়ে গেলো৷ নিজেকে ধাতস্থ করে তাকালো চাদনীর দিকে। চাদনী হঠাৎ ওর কক্ষে এসেছে? জিজ্ঞেস করার আগেই চাদনী ধরফরিয়ে বললো
-“দাদাভাই একটা গুড নিউজ আছে!”
আঁধার ভ্রু কুচকে তাকালো চাদনীর দিকে। ওর মুখটা উজ্জ্বল। চোখে, ঠোঁটে ঠিকরে পরা হাসি।কিন্তু আঁধার খুশি হতে পারলো না। অবুঝ স্বরে বললো
-“গুড নিউজ? কী করে সম্ভব? আমি তো কিছু করিনি। আর তুই তো নিজেই একটা বেবি।”
চাদনী কিছুক্ষণ বিমূঢ় দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলো আঁধারের দিকে। কথার মানে বুঝে আসতেই চেচিয়ে বললো
-“সবসময় ফালতু কথা কেন ঘোরে তোমার মাথায়? পজিটিভ চিন্তা করতে পারো না?”
আঁধার ওকে পাশ কাটিয়ে বিছানায় গিয়ো বসলো। গায়েে লেদার জ্যাকেট টা খুলে ফেললো বিছানার উপর।কেডস খুলে,মোজা খুলতে খুলতে বললো

-“যেভাবে বললি, পজিটিভ চিন্তা কি করে আসবে! তোকে ওইদিন কতো করে বললাম, তোয়ালে টা খুলে দেখাই। তাতেও তোর সমস্যা।আর এখন বলছিস গুড নিউজ! মানা যায় বল?”
চাদনী নাক ফুলিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
-“আঁধার ভাই, অন্যরকম গুড নিউজ হতে পারে না? এভাবে ফালতু চিন্তা করো কেন সবসময়? আমার রেজাল্ট বেরিয়েছে। আমি ফিজিক্সে হায়েস্ট মার্ক পেয়েছি।”
আঁধারের চোখেমুখে তেমন কোনো উচ্ছ্বাস দেখা গেলো না। স্বাভাবিক স্বরে বললো
-“ওহ, সেটা বল!আমি আরো কী কী ভাবছিলাম!”

চাদনী মাথা নিচু করে ফেললো। ওর মনটা খারাপ হয়ে গেলো নিমিষেই। কতোটা এক্সাইটেড ছিলো ও রেজাল্ট টা জানার পর। আঁধার কে জানানোে জন্য কতক্ষণ ধরে ওর কক্ষে অপেক্ষা করছিলো। আঁধার ওর এক্সামের সময় ওঁকে ওর সমপরিমাণ কষ্ট করেছে বলতে গেলে। সারারাত ওর সাথে জেগে থাকতো, কফি বানিয়ে দিতো। ও ঝিমালে, ডেকে দিতো। ওঁকে প্র্যাক্টিকাল লিখে দিতো। ওর খুশির অর্ধেক ভাগ আঁধারেরই। এই যে রেজাল্টটা এখানে চাদনীর চেয়েও আঁধারের কন্ট্রিবিউশান বেশি। অথচ আঁধার রেজাল্ট শুনে চাদনীর মন মতো প্রতিক্রিয়া দেখালো না৷ কেন দেখালো না? আঁধারের প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত। ওর খুব খুশি হওয়া উচিত। এমন নরমাল বিহেভ চাদনীর হজম হচ্ছে না। যেখানে ও টিউটোরিয়ালে একটু ভালো করলেই আঁধার কতো খুশি হতো সেখানে মিডটার্মে ফিজিক্সে হায়েস্ট পাওয়ার পরও আঁধার রিয়াকশন দিচ্ছে না।

-“বাকি সাবজেক্টগুলোর কী খবর?”
-“মোটামুটি। ফোর পয়েন্ট এসেছে।”
-“আচ্ছা, যেগুলোতে একটু কম মার্কস পেয়েছিস সেগুলোতে ফোকাস কর বেশি বেশি।”
চাদনী বললো
-“তুমি কী ব্যস্ত? কোথায় ছিলে এতোক্ষণ?”
আঁধার মুচকি হেঁসে বললো
-“মিস করছিলি?”
-“না।”
-“আমার চাইল্ডহুড ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।ডাকলো সবাই, ভাবলাম যাই।”
-“আচ্ছা, রেস্ট নাও।”
চাদনী বেরিয়ে যেতে গেলো।আঁধার পিছু ডাকলো ওকে
-“চাঁদ।”
চাদনী পিছু ফিরলো।

-“কংগ্রাচুলেশনস ফর দা হায়েস্ট মার্ক। এইতো তুই ওয়াইফির মতো বিহেভ করছিস।”
-“কিন্তু তুমি হাসবেন্ডের মতো বিহেভ করছো না।করোনি কোনোদিন।”
-“আচ্ছা? হাসবেন্ডের মতো বিহেভ কীভাবে করে? আমি তো জানি না।”
-“তোমার উচিত ছিলো আমার সাকসেসের কথা শুনে অনেক খুৃশি হওয়া।”

কাজলরেখা পর্ব ৪১

-“খুশি হয়েছি আমি। অনেক খুশি হয়েছি। বাট যে গুড নিউজের এক্সপেকটেশন ছিলো, ওটা শুনলে আরো বেশি খুশি হতাম। বাট সেটা তো সম্ভব না। দুষ্টামিই করলাম তোর সাথে। তুই বড় কেন হচ্ছিস না বলতো? তুই ছোট বলেই,তোকে ছুঁতে আমার বুক কাপে। মনে হয় কষ্ট পাবি। যে মেয়ে শুধু কয়েকটা থাপ্পড় খেয়ে একমাস বিছানা থেকে উঠতে পারে না, তাকে যদি আমি আমার টক্সিসিটি নিয়ে ছুঁই তাহলে ভাব কি হবে!হাসবেন্ডের মতো বিহেভ করছি না বলে তো তোর খুশি হওয়া উচিত। একবার যদি হাসবেন্ডের মতো বিহেভ করি তোকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না চাঁদ।”

কাজলরেখা পর্ব ৪১ (৩)