কাজলরেখা পর্ব ৫১
তানজিনা ইসলাম
রাত বুকের সাথে হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে। উদাস লাগছে ওঁকে। এতোক্ষণ সব গেস্টই একে একে শুভকামনা দিতে এসেছিলো ওঁকে। রাতের কথা বলতেও ইচ্ছে করছিলো না। তবুও ভদ্রতার খাতিরে কথা বলেছে। ও সাদিক এহসানের পাশে দাড়াচ্ছেও না। কথা বলবে তো দূর। কয়েকজন গেস্ট এসে বাবা-ছেলের সাথে একসাথে ছবি তুলতে চায়লো। রাত দাঁড়ালো না ওনার পাশে। ওনি আশেপাশে আসলেই ওর মুখ কালো হয়ে যায়। ব্যাপারটা অনেকে নোটিশ করেছে। ফিসফিস করে আলোচনা করেছে। ফ্যামিলি ফটো তোলার জন্য রেহান অনেকবার রাত কে ডাক তে এসেছে। বাহু ধরে টেনেছে অনেকবার। রাত যায়নি। ও নিজেকে এ ফ্যামিলির কেও মনে করে না। যে পরিবারের মাথা সাদিক এহসান সে পরিবার রাতের না। রাতের পরিবার, ও চট্টগ্রামে ফেলে এসেছে।
চাদনী ওর বন্ধুদের সাথে থাকলেও আঁধার ওর বন্ধুদের সাথে দাঁড়ালো না। ও দূরত্ব মেইনটেইন করলো সবার থেকে। সাথে ওর ঈগল দৃষ্টি তো আছেই রাতের সাথে সবসময়।শাবিহা দৌড়ে এলো আঁধার কে ডাকতে। ওরা বন্ধুরা গ্রুপ ছবি তুলছে। অথচ গ্রুপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেম্বার আঁধার নেই।আঁধার একপলক ওর দিকে তাকিয়ে ক্ষীণ স্বরে বললো
-“তোরা তোল। আমার ইচ্ছে করছে না।”
-“সবাই ডাকছে। আয় না।”
-“ভালো লাগছে না। যা তো এখান থেকে।”
শাবিহা বিমর্ষ স্বরে বললো
-“একটা ইন্সিডেন্ট ঘটে গেছে। রিক কে মেরেছিসও তুই। তোর পক্ষ নিয়ে আমি ওঁকে কথাও শুনিয়েছি। আচ্ছা, তোর মন খারাপ তো! আমি ওর পক্ষ থেকে সরি বলছি তোকে। চল, প্লিজ। এখন এতোটা দূরত্ব বেড়ে গেছে যে কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া আমাদের দেখাও হয় না। আয়, কয়েকটা ছবি তোল আমার সাথে। তোর বউ রাগ করবে?”
-“চাদনীকে রাগতে দেখেছিস কোনোদিন? ও রাগে না, কষ্ট পায়।”
-“সরি বলেছি না!”
-“তুই কেন বলছিস?”
-“আমার পার্টিতে এসে এমন হলো তাই। রিক কে আমি অনেক ঝেড়েছি। ও কোনো বাজে ইনটেনশনে চাদনীকে জড়িয়ে ধরতে যায়নি। তুই তো জানিস ও কেমন!”
আঁধার ক্ষোভ নিয়ে বললো
-“জানার দরকার নেই তো। ও চাদনীকে কী বলেছে, শুনিসনি তুই। আমার রাগ কমেনি এখনো। ওর থোবড়ার নকশা না পাল্টানো পর্যন্ত আমার শান্তি নেই। এমন বন্ধু বানাস কেন?”
শাবিহা অস্হির দৃষ্টিতে তাকালো ওর দিকে। ওর হাত ধরে টানতে চায়লো। আবার চাদনীর দিকে তাকিয়ে থেমে গেলো। চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করে বললো
-“তুই যাবি না তাহলে? ছবি তুলবি না?”
-“নাহ।”
-“আমার এতো সুন্দর দিনটা তুই নষ্ট করে দিবি আঁধার?”
-“আমি নষ্ট করছি? আমি? জাস্ট ছবি না তোলায় তোর সুন্দর দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে?”
-“হ্যাঁ। আমি অনেক প্ল্যান করেছিলাম, তোদের সাথে অনেক ছবি তুলবো। অনেক সুন্দর একটা সময় কাটাবো। কতোটা এক্সাইটেড ছিলাম আমি! তুই আসলে বন্ধুত্ব আর স্বামীর জায়গাটা আলাদাভাবে রাখতেই পারিস না। গুলিয়ে ফেলিস। সবকিছুর জন্য আলাদা আলাদা সময় রাখতে হয় আধার। তুই বাড়িতে চাদনীর হাসবেন্ড, এখানে আমাদের বন্ধু। তুই স্বামীর দায়িত্ব পালন করছিস, কিন্তু বন্ধুত্ব রাখছিস না!”
আঁধার কিছু বললো না। ও অন্যদিকে তাকালো। শাবিহা আবার বললো
-“যাবি?”
আঁধার তাকালো চাদনীর দিকে। ও ওর বন্ধুদের সাথে কথা বলছে মন খুলে।বাকি কোনোদিকে খেয়াল নেই ওর। বন্ধুদের পেলে ও স্বর্গ সুখ পায়। চোখেমুখে খুশিরা উপচে পরে। শাবিহা উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো ওর দিকে। আধারের শাবিহার জন্য খারাপ লাগলো। মেয়েটাতো কিছু করেনি৷ অন্যজনের জন্য ওর খুশি কেন নষ্ট হবে!
-“চল।”
আঁধারের মুখ থেকে শব্দ টা শুনতে না শুনতেই শাবিহা উৎফুল্ল হাসলো।
পুরো পার্টি জুড়ে প্রতি জায়গায় জায়গায় ক্যামেরামেন, প্রেস। পক্ষের লোক, বিপক্ষদলের লোক। সাদিক এহসান প্রেস ব্রিফিং করছেন। ওনি খুব করে চাচ্ছেন রাত একবার ওনার পাশে গিয়ে দাঁড়াক। একবার ওনাকে সাহারা দিক। বাবারা সন্তানদের মাথার৷ উপর বটগাছ হয়ে থাকে। যখন সে সন্তান বড় হয়, যোগ্য হয় বাপদের বয়স বেড়ে যায় তখন সে সন্তানরা হয় বাপের লাঠি। সাদিক এহসান কখনো রাতের মাথার উপরের বটগাছ হতে পারেননি।
কবিতা এহসান আর সাদিক এহসান মাঝখানে দাঁড়িয়েছেন। কে কাটা হবে, রাতের জেতার খুশিতে। ওঁদের দু’জনের পাশে শাবিহা রেহান। রাত ভীড় থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকলো। খুব অপ্রয়োজনীয় একটা মানুষ মনে হলো ওর নিজেকে। খুব আলগা লাগলো এ পার্টিতে। এতো এতো মানুষের ভীড়েও ওর খুব একা মনে হলো নিজেকে। সবাই আছে, তবুও কেও নেই। রাত একা, ওর নিজের মানুষ নেই। সব জায়গায় মিশে যাওয়া মানেই কি সেখানে এক্সিস্ট করা? নাহ। ও মিশতে পারে না মানুষের সাথে। ও এখানে এক্সিস্টও করে না।
রেহান শাবিহা পরপর অনেকবার ডাকতে গেলো ওঁকে। রাত শান্ত কন্ঠে বললো, তোরা যা, আমি যাবো না। সবকিছুতে রাতকে জোরাজোরি করা ওঁরা, আজ আর ওঁকে জোর করতে পারেনি। রাত কখনো ওঁদের মায়ের পাশে দাঁড়াবে না।
ওঁদের মায়ের ছায়াও রাতের জন্য বিষ।
সবাই হৈ-হুল্লোড় করে কেক কাটছে। অথচ যার জন্য এ কেক কাটা, যাকে ঘিরে এতো আয়োজন, সমাদর সে দূরে দাঁড়িয়ে রইলো। রেহান ওর বন্ধুদের কেক না খাইয়ে, কেক হাতে নিয়ে এগিয়ে গেলো রাতের কাছে। রাত কেক খেলো, রেহানকে খাওয়ালো। আর মুচকি হেঁসে জড়িয়ে ধরলো ওঁকে। ওর বিহেভিয়ার রেহানের কাছে ফুল চেঞ্জড হয়ে যায়।
রাতের খুব চোখে বিঁধলো ব্যাপার গুলো। আরেকজনের সুখের সংসার শেষ করে দিয়ে মানুষ কতো সুন্দর হাসতে পারে৷ নিজেদের ভালো লাগা সেলিব্রেট করতে পারে।
রাতকে নিয়ে অনেকেই কানাঘুষা করলো। বাপের সাথে ছেলের ঝামেলা নিয়ে অনেকে জমজমাট আড্ডায় বসলো। চাদনীর খুব খারাপ লাগলো। ও পাল্টা প্রশ্ন করতে পারলো না রেহানকে। রেহান রাতের সৎ ভাই,এটা বুঝতেও বেশি বেগ পেতে হলো না ওঁকে। ওর স্বল্পপরিচিত খালামনি, যে কাওকে চিনতে পারছে না। অথচ তার প্রাক্তন স্বামী এখানে অন্য নারী নিয়ে পার্টি সেলিব্রেট। একটা মানুষকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড় খাঁড় করে দিয়ে, ওরা এখানে উৎসবে মেতেছে। চাদনীর একবার বিষয়গুলো জানতে ইচ্ছে করলো খুব। কিন্তু ওর ইচ্ছে হলো না, রেহান থেকে গিয়ে প্রশ্নগুলো করার। রাতের কাছ থেকে জানতে পারলে ভালো হতো। সে বয়সে বড়। সবকিছুর উত্তর তার কাছেই আছে। রেহান কে বলা হয়নি, রাতের সাথে ওর হুট করে, আত্মীয়তা হয়ে গেছে।নিজের খালামনি না হোক, নিজের খালাতো ভাইও না হোক। তবুও আত্মীয়তা হয়েছে। চাদনী মানতে পারে না ও শিকদার বাড়ির মেয়ে না। কিন্তু রাত তো ওর সাথে কথাই বলবে না। ওই গোমড়ামুখো তো নরমাল কথারই উত্তর দেয় না। অ্যারোগেন্ট একটা!
রেহান ওর বন্ধুদের কেক খাওয়াতে এলো। চাদনী ফট করে বললো
-” রেহান, তোর ভাই খুব লাকি রে,যে তোর মতো একটা ভাই পেয়েছে। তুই নিজের মা-বাবার আগে ভাইয়ের কাছে ছুটে গেলি।”
রেহান স্বাভাবিক গলায় বললো,
-“উহু! লাকি আমি। আমার আবরার ভাইয়ের মতো একটা বড় ভাই আছে।”
-“খুব ভালোবাসিস তাকে তাই না?
-“হয়তো, শাবিহা আপুর চেয়েও বেশি। জানিস, এটা শুনলেই শাবিহা আপু রেগে যায়। অথচ শাবিহা আপুও আমার চেয়ে বেশি তাকে ভালোবাসে। আব্বু, যার কথা শুধু আমাদের বাড়ির সবাই না, এলাকার লোকে পর্যন্ত শোনে, তার কথা শোনে না আপু।কিন্তু আবরার ভাইয়া একবার বললেই রাজি। একবার শাসন করলেই না টা হ্যাঁ হয়ে যাবে।”
-“কিউট তো ব্যাপারটা! তোদের নিজের ভাই না, তবুও তোরা কতো ভালোবাসিস তাকে!”
-“আবরার ভাইয়ার ভালোবাসার সামনে কিছুই না। সে তার ভালোবাসার মানুষদের জীবন দিয়ে ভালোবাসে। তার ভালোবাসার মানুষ খুব অল্প। এ অল্প মানুষ গুলোকে ঘিরেই তার দুনিয়া। যার জন্য সে জীবন দিতে পারে আবার নিতেও পারে। আবরার ভাইয়া যাকে ভালোবাসবে, সে এ দুনিয়ায় সবচেয়ে লাকি পারসন হবে।”
চাদনী কথা বলছিলো। ও জানতেই পারলো না দূর থেকে একটা মানুষ খুব আফসোস নিয়ে দেখছে ওঁকে। চাদনী আসার পর থেকে রাত অনেকবার দেখেছিলো ওঁকে। মেয়েটা কে আজ এতো সুন্দর লাগছে। চোখ ধাঁধানো সুন্দরী বলে যাকে। কে বলে যারা ফর্সা তারা সুন্দর! তারা কখনো চাদনীকে দেখেইনি। তাদের একবার অন্তত চাদনীকে দেখে নিজেদের ধারণা পাল্টানো উচিত। কিন্তু আঁধারের বউ জানার পর রাত ভুল ক্রমেও একবার তাকায়নি চাদনীর দিকে। এখনো যে ও চাদনীর দিকে তাকালো এমন না। ওর দৃষ্টি পরেছিলো চাদনীর নুপুরের দিকে। রূপালি নুপুর পার্টির আলোকসজ্জায় চকচক করছে। রাতের চোখে পরছে খুব।পায়ের দিকে তাকাতে তাকাতে কখন যে ও মুখের দিকে তাকিয়ে ফেললো ও টেরই পেলো। ও আজকে আবার চোখে মোটা করে আইলাইনার দিয়েছে। রাত আইলাইনার আর কাজলের পার্থক্য বোঝে না। দু’টোই তো কালো। কোন টা কী? ও শুধু চেয়ে থাকলো চাদনীর কাজল কালো চোখের দিকে।রাত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো
-” আমার দুঃখ অনেক শ্যামাঙ্গিনী। এ দুঃখ বড়ই নগন্য আমার জন্য। তবুও হতাশ লাগছে। এতটা হতাশা আমার হওয়ার কথা ছিলো না।”
চাদনী একটু নির্জনে বসতে গেলো, কর্ণার সাইডে। সবাই হৈ-হুল্লোড় করে ছবি তুলছে। ও পোজ দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। চাদনী আশেপাশে তাকিয়ে আঁধার কে খুঁজলো। আঁধার নেই। ওর বন্ধুরাও নেই। সবাই হয়তো ছাঁদের দিকে গেছে। চাদনী ঠোঁট উল্টালো। আঁধার ওঁকে চোখের আড়াল হতে মানা করেছে। এখন তো নিজেই আড়াল হয়ে গেছে।
চাদনী চেয়ারে বসে চঞ্চল দৃষ্টিতে তাকালো আশেফাশে।তখনই রিক এসে বসলো ওর পাশের চেয়ারে। চাদনী চমকে উঠে দাড়ালো। রিক নরম স্বরে তড়িঘড়ি করে বললো
-“বসুন, বসুন। উঠছেন কেন?”
চাদনী বসলো না। ও সে জায়গা থেকে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। রিক থামিয়ে বললো
-“আপু, আমাকে আঁধার পাঠিয়েছে আপনাকে ডাকতে। থামুন একটু।”
আঁধারের নাম শুনে চাদনী তাকালো ওর দিকে। রিক অপরাধবোধে জর্জরিত হয়ে বললো
-“আই এম এক্সট্রিমলি সরি সিস। আঁধার তখন ওভাবে রুড হওয়য়, আমি রিয়্যাক্ট করে ফেলেছি আপনার সাথে। বাট আমার তেমন ইনটেনশন ছিলো না।আমি আঁধারের খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড। আমি মন থেকে সরি বলছি আপনাকে। বড় ভাই হিসেবে মাফ করেদিন।”
চাদনী ভ্রু কুঁচকে তাকালো। ওর একটুও মন চায়লো না ছেলেটার সাথে কথা বলতে। তবুও আঁধারের বন্ধু তাই, ভদ্রতার খাতিরে বললো
-“ইট’স ওঁকে।”
-“আপনি কিছু মনে করেননি তো?”
-“করেছি। বাট সেসব তো আপনাকে বলতে পারছি না। ”
রিক জোরপূর্বক হাসলো।
-“আঁধার ডাকলো আপনাকে।”
-“কোথায়?”
-“ওরা সবাই ছবি তুলতে গেছে। আপনাকেও ডাকছে। আধারই ডাকতে আসছিলো, আমি ভাবলাম আমি ডাকি। ডাকাও হবে, ক্ষমাও চাওয়া হবে। এজন্য আমব এলাম।”
-“ওহ।”
-“আসুন আমার সাথে।”
-“রেহান কে বলে আসি? ওকে না বলে, ও কোথাও যেতে মানা করেছে আমাকে।”
-“আঁধারই তো ডাকলো। পরে এসে জানাবেন।এখন চলুন। অনেক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে ওরা।”
চাদনী উঠে দাড়ালো। পা বাড়ালো ছেলেটার সাথে। মেয়েটা জানতেও পারলো না ও কতো বড় ভুল করতে যাচ্ছে। যে একটু আগেই তাকে এতো কথা বললো, যে ওর কারণে সকলের সামনে মার খেলো সে রাগ, ক্রোধের বশবর্তী হয়ে তার বেঁচে থাকার কারণটুকুই শেষ করে দিতে পারে।
চাদনী রিকের পিছু পিছু গেলো। বাগান সাইডে সরু একটা গলি। সেদিকটায় গেস্ট নেই বললেই চলে। এটাকে ছোটখাটো বাগানবাড়ি বলা যায়। চাদনীর সন্দেহ জাগলো না। এটা ছবি তোলার জন্য বেস্ট একটা জায়গা।
-“ওরা কোথায়?”
চাদনীর প্রশ্নে রিক বললো
-“সামনে।”
আচমকা রিক থেমে গেলো।চাদনীও থেমে গেলো তার সাথে। প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো
-“এখানে?”
-“হুম।”
-“কোথায় সবাই?”
-“সবাই নেই তো তিন’জন আছে। তুমি সহ চারজন।”
রিক চাদনীর দিকে ফিরে কুটিল হাসলো।রিকের কন্ঠস্বরের আকস্মিক পরিবর্তন স্পষ্ট বুঝতে পারলো চাদনী। হুট করেই ভয়েরা ঘিরে ধরলো ওঁকে। আপনি থেকে তুমিতে নেমেছে রিক। চাদনী পিছু ফিরে দেখলো, যে ফটক দিয়ে ওরা এসেছিলো, সে মূল ফটক বন্ধ। এটা কখন বন্ধ হলো? চাদনী তো একবারো ফটক বন্ধ হওয়ার আওয়াজ পায়নি। কারো পাযের শব্দও শোনেনি। চাদনীে সকল সাহস কর্পূরের মতো উড়ে গেলো। মুহুর্তেই খুব ভীত হয়ে পরলো ও।কন্ঠ যথেষ্ট শক্ত রাখার চেষ্টা করে বুঝলো ওর গলা দিয়ে শব্দ বেরোচ্ছে না। কোনোমতে কাপা গলায় বললো
-“ভাইয়া। ওরা কোথায়?”
-“নেই। কেউ নেই এখানে। শুধু আমি, তুমি আর দু’জন। আসো তোমাকে ওঁদের সাথে পরিচয় করাই।”
রিক, চাদনীর হাতের কব্জি শক্ত করে ধরলো। শক্ত হাতের বাঁধনে ব্যাথায় ব্যাথাতুর শব্দ করলো চাদনী। রিক হাত ধরে টানলো ওঁকে। চাদনীর কোটর অশ্রুতে পূর্ণ হলো নিমিষেই। ও শুধু ঝাপসা দৃষ্টিতে দেখলো, রিক ওঁকে কোথাও টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। চাদনী পায়ে শক্তি পায়। রোধ হয়ে যাওয়া কন্ঠে চেচায় সাহায্যের জন্য। রিক ওর চিৎকার শুনে অট্টহাসে। শ্লেষাত্মক কন্ঠে বলে
কাজলরেখা পর্ব ৫০
-“পুরো ঘরটায় সাউন্ড প্রুফ। তোমার চিৎকার বাইরে যাবে না।”
রাগে-দুঃখে-অসহায়ত্বে কান্না করে দিলো চাদনী। সর্বশক্তি দিয়ে ছাড়াতে চায়লো রিকের হাত। আঁধার ভাই কোথায়? কোথায় সে? সে জানে না চাদনী বিপদে পরেছে! ওঁকে কেন বাঁচাতে আসছে না। ইশ! চাদনী এতোটা বোকামো কি করে, করে ফেললো। আঁধার এমনি এমনি ওঁকে বোকা মেয়ে বলে না।

Next part plz taratari den