কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ২১
তন্ময়ী তিতিক্ষা
কোমড়ে হাত দিয়ে ভ্রুঁ কুঁচকে দাঁড়িয়ে আছে আর্শি। চোখমুখ কুঁচকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন এইমাত্র কাউকে খুন করে ফেলবে। আর তার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আযরান। তার দৃষ্টি স্থির সামনে। কয়েক সেকেন্ড আগের সেই তীক্ষ্ণতা এখনো কাটেনি পুরোপুরি। তবে চোখেমুখে স্পষ্ট বিস্ময়ের ছাপ। তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটা মেয়ে। বয়স খুব বেশি হলে পনেরো-ষোলো হবে। এলোমেলো চুলগুলো মুখের ওপর পড়ে আছে। পায়ে নুপুর। আর সেই নুপুর থেকেই ভেসে আসছিল ভয়ংকর সেই ঝুনঝুন শব্দ। এতক্ষণ চুপ থাকা আর্শি এবার কিছুটা ক্ষেপে গেল। দাঁত কিড়মিড় করে বলে উঠল,
“এই তুমি কি সবাইকে এভাবে ভয় দেখাতে মাঝরাতে নুপুর পরে ঘুরে বেড়াও?”
মেয়েটা ভয়ার্ত দৃষ্টিতে চাইলো। চোখে ফুঁটে উঠল অসহায়ত্ব। যা দেখে আযরান আর্শিকে শান্ত হতে বলল। এবার আযরান কিছুটা এগিয়ে এলো। একবার দৃষ্টি বুলালো সামনে থাকা মেয়েটার দিকে। ছোট্ট একটা মেয়ে। মেয়েটাই তখন হেঁটে হেঁটে। আর্শি মেয়েটাকে দেখে রেগেই গেছিলো একপ্রকার। সে কম ভয় পাইনি এই মেয়ের জন্য। এসব ভেবেই নাক ফুলিয়ে তাকালো আর্শি। আযরান মেয়েটাকে অভয় দিলো। শান্ত স্বরে বলে উঠল,
“ভয় পেয়ো না পিচ্চি। তবে এই মাঝরাতে তুমি ছাদে কি করছো?”
মেয়েটা কাঁপা কাঁপা চোখে তাকিয়ে রইল আযরানের দিকে। ঠোঁট দু’টো কাঁপছে, কিন্তু শব্দ বের হচ্ছে না। মনে হচ্ছে যেকোনো মুহূর্তে কেঁদে ফেলবে। আর্শি আবারও ভ্রুঁ কুঁচকাল। বলে উঠল,
“কথা বলছো না কেন? এত রাতে মানুষকে হার্ট অ্যাটাক দিয়ে এখন চুপ মেরে আছো?”
“আর্শি!”
নিচুস্বরে থামাল আযরান। আর্শি এবার ঠোঁট ফুলিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নিল। মেয়েটা ইতস্তত করে বলল,
“আ..আমি ইচ্ছে করে আসিনি।”
“তাহলে?”
মেয়েটা ঢোক গিলল। দু’হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে নিজের ওড়নার কোণা। তারপর মাথা নিচু করেই ছোট্ট গলায় বলল,
“আমার..আমার ঘুমে হাঁটার অভ্যাস আছে।”
আর্শি আর আযরান কিছুটা অবাক হলো। আর্শি একবার চক্ষুদ্বয় বুলালো মেয়েটার পানে। মেয়েটা পুনরায় বলে উঠল,
“আমি ঘুমের মধ্যে দরজা খুলে বের হয়ে যাই। তাই আম্মু নুপুর পরিয়ে দিয়েছে। যাতে আমি হাঁটলে শব্দে টের পাওয়া যায় কোথায় আছি। আমি সরি আমার জন্য আপনারা ভয়ে পেয়েছেন।”
আর্শি স্তম্ভিত হয়ে পড়ল। রাগটা নিমিষেই কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে। বরং বুকের ভেতর অদ্ভুত এক খচখচে অনুভূতি এসে ভীরল। ইশশ! এতটুকু একটা মেয়ে যার নিজের ঘুমের ওপরও নিয়ন্ত্রণ নেই। অথচ সে কি না রাগ দেখাচ্ছিলো। আযরান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল,
“তোমার নাম কি?”
“মেহর!”
“নিচতলায় থাকো?”
“জ্বি!”
আযরান একবার আর্শির পানে তাকালো। নজরে এলো আর্শির ইতস্ততায় মোড়া চেহেরা। কারন বুঝতে বাকি থাকলো না। আলতো হাসল আযরান। সে খুব ভালো করেই জানে আর্শি এখন কি করবো। যা ভাবল হলোও তাই। আর্শি এগিয়ে গেল মেহরের নিকট। কিছুটা সংকোচ নিয়েই দু’হাতে আগলে নিলো মেহরের ছোট হাতদু’টো। অতিস্ময় বিস্ময়ে হতবাক মেহর। বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইল আর্শির দিকে। মেয়েটা হয়তো প্রচন্ড অবাক হচ্ছে। আর্শি শুষ্ক ওষ্ঠযুগল ভিজিয়ে মুচকি হাসল। মৃদুস্বরে বলে উঠল,
“আমাকে ক্ষমা করো মেহর। বুঝতে পারিনি ব্যাপারটা। আসলে মাঝরাতে হুট করে এমন হওয়ায় ভয় পেয়ে গেছিলাম তো। তাই একটু রাগ হয়েছিল। তুমি কিছু মনে করো না কেমন?”
পলক ঝাঁপটিয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল মেহর। সে ভেবেছিলো বকা খাবে। আগেও এক আপুর কাছে বকা খেয়েছে সে। কিন্তু আর্শির এহেম ব্যবহারে যেন বড্ড খুশি হলো মেহর। মুহুর্তে বেরিয়ে এলো তার চঞ্চলতা। আর্শির হাত দু’টো শক্ত করে ধরে কিছুটা লাফিয়ে বলে উঠল,
“কোনো সমস্যা নেই আপু। আমি কিছু মনে করিনি।”
মেহর আবার কৌতূহলী চোখে দু’জনের দিকে তাকালো। প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠল,
“আচ্ছা আপনারা এই রাতে ছাদে কি করছিলেন?”
প্রশ্নটা শুনে দু’জনই থমকে গেল। একে অপরের দিকে তাকিয়ে একসাথে বলে উঠল,
“কিছু না।”
উত্তর দিয়ে পুনরায় থমকে গেল দু’জন। আযরান কপাল কুঁচকে তাকালো আর্শির দিকে অপরদিকে আর্শিও চক্ষুদ্বয় ছোট ছোট করে চাইল। কিন্তু তাদের মাঝে থাকা মেহর কিছুই বুঝলো না। শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল সামনে থাকা দম্পতির পানে।
স্নিগ্ধ সকালের মৃদু হাওয়া জানালা গলিয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে আযরানকে। উপুড় হয়ে ঘুমে ব্যস্ত সে। এলোমেলো চুলগুলো কপালের ওপর পড়ে আছে। গভীর ঘুমে ডুবে থাকা মুখটা অদ্ভুত শান্ত। কিন্তু সেই শান্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। কানের কাছে খসখস শব্দ হতেই ভ্রু কুঁচকে উঠল। কিছুটা বিরক্তি নিয়েই ধীরে ধীরে চক্ষুদ্বয় মেলল আযরান। ঝাপসা দৃষ্টি স্পষ্ট হতেই সামনে থাকা দৃশ্যটা চোখে পড়ল।
আর্শি ছোট্ট সেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তৈরি হচ্ছে। হালকা আকাশি রঙের থ্রি-পিস পরনে। চুলগুলো আঁচড়িয়ে মাথায় ঘোমটা টানল আর্শি। মুখে কোনো প্রসাধনীর ছোঁয়া না থাকলেও আর্শি প্রচন্ড স্নিগ্ধ লাগছে। মুগ্ধ হলো আযরান। বেহায়া দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করল আর্শির প্রত্যেকটা অঙ্গভঙ্গি। নিমিষেই চক্ষে এসে ভীরল একরাশ মাদকতা। কিছুক্ষণ নিশ্চুপ তাকিয়ে থেকে ঘুমজড়ানো কন্ঠে বলে উঠল,
“এই সকাল সকাল কোথায় যাওয়া হচ্ছে?”
চমকে উঠল আর্শি। তড়িৎ বেগে পিছু ঘুরে চাইল আযরানের পানে। নিমিষেই থমকে গেল মেয়েটা। আযরানের ঘুমন্ত মুখশ্রী দেখে যেন একপ্রকার ক্রাশ খেয়ে গেল। কারোর ঘুম জড়ানো চেহেরা বুঝি এত মায়াবী হয়? নিনির্মেষ দৃষ্টি ফেলে তাকিয়ে রইলো আর্শি। পুনরায় শ্রবণশক্তিতে প্রবেশ করল আযরানের ফিচেল কন্ঠস্বর,
“দেখার জন্য পুরো জীবন আছে মুটি। কোথায় যাচ্ছিস সেটা বল।”
“হ্যাঁ?”
হকচকিয়ে চক্ষুদ্বয় ঘুরিয়ে ফেলল আর্শি। মনে মনে নিজেকে দু’টো গালি দিয়ে শান্ত করল। আযরানের কথার জবাবে কিছুটা ঢোক গিলে বলে উঠল,
“টিউশনিতে যাচ্ছি। তারপর ভার্সিটিতে যাবো। তুইও সময় মতো পৌছে যাস। আর নাস্তা বানিয়ে রেখেছি। উঠে খেয়ে নিস।”
আর্শির কথা শেষ হতেই আযরান উঠে বসল। এলোমেলো চুলে হাত চালিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে এসে দাঁড়ালো একদম আর্শির সামনে। সকালের ঘুমজড়ানো মুখেও সেই চিরচেনা তীক্ষ্ণতা। তবে আজ যেন তার সঙ্গে মিশে আছে অন্যরকম গাম্ভীর্য। কিছুক্ষণ নীরবে তাকিয়ে থেকে আযরান শান্ত স্বরে বলল,
“সকালের টিউশনিটা ছেড়ে দে।”
আযরানের কথায় আর্শি বিস্ময়ে হতবাক। বিস্ফোরিত চোখে তাকাল। নিমিষেই কপালে সূক্ষ্ণ ভাঁজ পড়ল তার। ছোট্ট করে বলল,
“মানে?”
“মানে কিছু না। সকাল সাতটায় বের হস, তারপর টিউশনি শেষ করে সোজা ভার্সিটি। ভার্সিটি শেষ করে আবার টিউশনি। সারাদিন পরে বিকেলে ফিরিস ক্লান্ত হয়ে। খাওয়া দাওয়ারও ঠিক নেই। এত প্রেসার নেওয়ার দরকার নেই তোর।”
আর্শি কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এই প্রথম হয়তো কেউ এভাবে বললো তাকে। ছোট বেঁচে থাকার লড়াই করতে করতে সে নিজেও ক্লান্ত। কিন্তু কোনো উপায় তো নেই। নিজের সকল ক্লান্তিকে পিছু ঠেলে আর্শি লড়াই করতে থাকে। আযরানের এইটুকু কথাতেই যেন ভিতরটা মোমের মতো গলে গেল। চোখের পাতা ভেজা অনুভব হতেই মাথা ঝুঁকিয়ে ফেলল আর্শি। উপছে আসা কান্নাটুকু আড়াল করতে চাইল আযরানের নিকট হতে। ধীরস্বরে বলে উঠল,
“সংসার চালাতে হবে আযরান। টিউশনি ছেড়ে দিলে সংসার চলবে কি করে?”
“আমি চালাবো। আমি চাকরী খুঁজছি তো আর্শি। ঠিক কিছু একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।”
দমকা হাওয়ার ন্যায় কিছু একটা আর্শি অভ্যন্তরকে একদম শান্ত করে দিলো। আযরান কি বলছে সে কি জানে? চাকরী পাওয়া কি এত সোজা? যাও আগে তিনটে টিউশনি করে আর্শির কোনোমতে চলে যেত। কিন্তু এখন? এখন তো সে আর একা নেই। তার ওপর সংসারের খরচ তো আছেই। দু’টো টিউশনির মধ্যে একটা ছেড়ে দিলে খাবে কি তারা? আর্শি এবার পুরোপুরি আযরানের দিকে ঘুরে দাঁড়াল। চোখেমুখে স্পষ্ট অস্থিরতা।
“তুই কি ভুলে গেছিস আযরান আমরা কোন অবস্থায় আছি? সংসার কি এত সহজ? ভাড়া আছে, বাজার আছে, বিল আছে। আমার ভার্সিটির খরচ আছে। তোরও আছে। শুধু মুখে বললেই হয়?”
চক্ষুদ্বয় বুঁজে লম্বা একটা শ্বাস টেনে নিজেকে ধাতস্থ করল আযরান। ঠিক নজরে পড়ল আর্শির কাঁধের দিকে। কাঁধের দিকের জামাটা সেলাই করা। হয়তো ছিঁড়ে গেছিলো। সেটাকেই সেলাই করে জোড়া লাগিয়েছে আর্শি। সেদিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আযরান। তার মনে পরে না এভাবে সে কখনো কোনো শার্ট পরেছে কি না। একটু পুরোনো হলেই আযরান সেই শার্ট বা টিশার্টটা আর পরতো না। আযরানের বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল। আঁখিদ্বয় আটকে রইল সেই সেলাই করা জায়গাটাতেই। খুব ছোট্ট একটা সেলাই। কিন্তু সেই ছোট্ট জিনিসটাই যেন আর্শির পুরো জীবনটা খুলে দেখিয়ে দিল আযরানকে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কি করে এতদিন আর্শি নিজের জীবন চালিয়েছে। নিঃশব্দে সবটা সামলে নেয় মেয়েটা। অথচ কোথাও কোনো অভিযোগ নেই। আর না আছে কোনো আফসোস।
আযরান দৃষ্টি তুলল আর্শির দিকে। তখনও আর্শি অস্থির চক্ষে তাকিয়ে আছে তার দিকে। মেয়েটা কেন এত অস্থির হয়ে যাচ্ছে? সেকি পারবে না নিজের বউয়ের খরচটুকু চালাতে? কি হলো কে জানে হুট করে আর্শিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আযরান। আহাম্মকের মতো দাঁড়িয়ে রইল আর্শি। কি হলো কিছুই বুঝলো না। এবার মিনমিন করে বলে উঠল,
“আযরান? কি করছিস?”
“কিছুক্ষণ এভাবে থাক। তোরে এনার্জি দিয়ে নেই।”
আযরানের নিরলস জবাবে চকিতে মাথা তুলে চাইল আর্শি। মানসিক তৃপ্তিতে মনটা ভরে গেল তৎক্ষনাৎ। নতুন নতুন অনুভুতির সঞ্চার হলো মনপাজরে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বুঝি এমন হয়? হয়তো হয়। আর্শির খুশিতে ভীষণ কাঁদতে ইচ্ছা করছে। পুরো দুনিয়া তাকে তুচ্ছ করলেও কারো কাছে তো সে স্পেশাল।
আযরানের কপাল বেয়ে ঘাম ঝড়ে পড়ছে। উত্তপ্ত, গরম নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো নাসারন্ধ্র হতে। গরমে হাসফাঁস অবস্থা। মাথার ওপর থাকা উতপ্ত সূর্য যেন ঝলসে দিতে চাইছে সবকিছু। হাঁটছে আর লম্বা লম্বা শ্বাস ফেলছে আযরান। পুরো শরীর ঘেমে নেয়ে একাকার। এত খুঁজেও চাকরীর কোনো একটা ব্যবস্থা করতে পারেনি। একে তো বয়স কম তার ওপর সবে অনার্স রানিং। দুশ্চিন্তা নিয়ে পকেটে হাত দিল আযরান। পকেট থেকে টেনে বের করতেই দেখা গেল দুইশত চল্লিশ টাকা।
আযরান কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল নোটগুলোর দিকে। যেন সংখ্যাটা তার মাথার ভেতরেও ঠিকমতো বসতে চাইছে না। একটা ভারী নিস্তব্ধতা নেমে এলো তার মাঝে। এই দুইশ চল্লিশ টাকা দিয়ে এই শহরে হয়তো একদিনও ঠিকমতো চলা যাবে। গলা শুকিয়ে কাঠ। পানির জন্য হাহাকার করছে ভিতরটা। কিন্তু এখান থেকে পানি জন্য বিশ টাকা খরচ করতেও তার ভিতরটা হাহাকার করে উঠল। সূক্ষ্ম একটা ঢোক গিলে গলা ভিজানোর চেষ্টা করল সে। পুরো শরীর বেঁয়ে গড়িয়ে পড়ছে ঘাম। কি থেকে কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। আর কোনো উপায় না পেয়ে রাস্তার পাশে গাছের নিচে বসে পড়ল আযরান।
“উফফ! এত গরম।”
আনমনে বিরবির করে উঠল আযরান। বুক চিঁড়ে বেরিয়ে এলো একটা দীর্ঘশ্বাস। পুরো আস্তো একটা সংসারের দায়িত্ব তার আর আর্শির ঘাড়ে। নিমিষেই আর্শির ক্লান্ত মুখটা ভেসে উঠল আযরানের চোখের সামনে। সে আর কিছুতেই আর্শিকে কষ্ট করতে দিবে না। আযরান চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্ত।
“এই টাকায় আমি কি করবো আমি?”
নিজেকেই প্রশ্ন করল সে। খুব তাচ্ছিল্যভরা হাসি ফুটে উঠল ঠোঁটে। নিজের ওপরই। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বিরবির করে আযরান বলল,
“এটা তো আমার একবেলারও না।”
কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ২০
আকস্মিক কিছু মাথায় আসতেই আযরান চক্ষুদ্বয় মেলে চাইল। তড়িৎ বেগে উঠে পকেটে হাতিয়ে বের করল নিজের ফোন। লেটেস্ট মডেলের আইফোন। এই ফোনটা সে একসময় শখ করে নিয়েছিলো। নতুন নতুন মডেলের ফোনের প্রতি একটু বেশিই ঝোঁক ছিল তার। ক্ষণিক সময় নিয়ে ফোনটার দিকে তাকিয়ে থেকে আযরান একটা গভীর শ্বাস ফেলল। বিরবির করে বলে উঠল,
“স্বপ্ন আর বাস্তবের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার কাছে শখের কোনো দাম থাকে না।”
