Home কার্নিশে আলতা মাখানো কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩৩

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩৩

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩৩
তন্ময়ী তিতিক্ষা

দ্বিপ্রহর কাটিয়ে প্রকৃতি সায়াহ্ন রূপে সেজে উঠেছে। দুপুর থেকে তীব্র বর্ষণ নিজের তেজী রুপ কমিয়েছে কিছুক্ষণ পূর্বেই। আকস্মিক বর্ষণে সকলেই হতবাক হয়ে গেছিলো। সন্ধ্যায় রাইসার হলুদ সন্ধ্যা এর মধ্যে বৃষ্টি হলে যাচ্ছে তাই অবস্থা হতো। কিন্তু সময়ের পূর্বেই বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় অনেকটা স্বস্তি মিলেছে সকলের। বাগানের ভেজা ঘাসের ওপর খালি পায়ে হেঁটে চলেছে মেহর। তার পদলি গভীরভাবে ছুঁয়ে দিচ্ছে ঘাসগুলোকে। আজ বর্ষণের ফোঁটায় যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে তারা। সর্বত্র শুভ্র ও নাতিশীতোষ্ণ ভাব বিরাজমান। মেহরের গায়ে জড়ানো লম্বা ওড়নার এককার্নিশ ভেজা ঘাস ছুঁয়ে যাচ্ছে। সেদিকে তার বিন্দুমাত্র মনোযোগ নেই। হুট করে একটা কাঠগোলাপ কাছ দেখে উৎফুল্ল হলো মেহরের মন। অনেকটা ফুঁটে এগিয়ে গেল কাছটার কাছে। খুশিতে গদগদ হয়ে একটা ফুল ছিঁড়ে গুজে দিলো কানে। আকস্মিক পিছনে কারো উপস্থিত টের পেয়ে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকালো মেহর। কিন্তু প্রহরকে দেখে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো। প্রহর হাসল। তার অপলক দৃষ্টি মেহরের কানে দেওয়ার ফুলটার দিকে। নজর ফিরিয়ে এবার মেহরের দিকে তাকালো প্রহর। সামান্য হেসে বলে উঠল,

“কানে ফুল গুঁজলে কি মেয়েদের সৌন্দর্য বেড়ে যায়?”
হকচকিয়ে গেল মেহর। এমন প্রশ্ন কোনো মেয়েকে কেউ করে? সে কিভাবে বলবে? তার কাছে তো এর উত্তর নেই। কিছুটা জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়ালো মেহর। ওড়নার কোণা চেপে ধরে আমতা আমতা করে বলল,
“আমা..আমার জানা নেই ভাইয়া।”
প্রহর হাসল। অমায়িক সে হাসি! মেহর খেয়াল করলো হাসিটা। প্রহর ঠোঁটের কোণের হাসিটা বহাল রেখেই বলে উঠল,
“তোমাকে যেহেতু সুন্দর লাগছে নিশ্চয়ই সব মেয়েদেরই লাগবে।”
মেহর কিংকর্তব্যবিমুঢ়। এভাবে বলায় লজ্জাও পেল সামান্য। ঝটপট নেত্রপল্লব ঝাঁকিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করল মেহর। পুনরায় কর্ণে এসে বারি খেল প্রহরের কন্ঠস্বর,

“আমাকে কয়েকটা ফুল পেরে দিবে পিচ্চি?”
মেহর অবাক হলেও কোনো প্রতিউত্তর করল না। শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো৷ পরক্ষণেই হাত বাঁড়িয়ে একটা একটা করে অনেকগুলো ফুল ছিঁড়ে প্রহরের হাতে দিয়ে দিলো। প্রহর নিরবে তাকিয়ে রইলো ফুলগুলোর দিকে। মেহরের দিকে চেয়ে স্মিথ স্বরে বলল,
“ধন্যবাদ মেহর পিচ্চি।”
সাথে সাথে জায়গা প্রস্থার করল প্রহর। মেহর নাক মুখ কুঁচকে দাঁড়িয়ে রইল। সে এতটাও ছোট না যে তাকে বার বার পিচ্চি বলে সম্মোধন করতে হবে। মেহরের রাগ হলো। প্রচন্ড রাগ! রাগের প্রকোপে ফুলে উঠল নাকের পাটা। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ভেংচি কেটে হাটা ধরল বাড়ির ভিতরে।

গোধূলির কোমলতা ফুরিয়ে, পৃথিবীকে আপন বুকে জড়িয়ে নিয়েছে নিশীথিনী রাত্রি। আকাশের বুকে সন্ধ্যার শেষ তুলির আঁচড়টুকু মুছে গিয়ে নেমে এসেছে নিবিড় রজনী। চাঁদের রূপালি ছোঁয়ায় পৃথিবী যেন ডুবে আছে এক রহস্যময় প্রশান্তিতে। রাইসাদের বাড়ি সদস্যরা নেমেছে পুরোদমে আয়োজনে। ছেলেদের দল সারাদিন পর অবশেষে স্টেজের কাজ কমপ্লিট করতে সক্ষম হয়েছে। সকলে একপ্রকার ঘেমে নেয়ে একাকার। শীতল আবহাওয়া স্বত্ত্বেও একেকজনের অবস্থা নাজেহাল। কপালে ঘামটুকু মুছে স্টেজে রাখা সোফায় বসে পড়ল মিহির। ক্লান্তস্বরে আফসোস করে বলে উঠল,
“পোলা হইয়াও ভুল করছি ভাই। বান্ধুবীর বিয়াতে আইসাও কামলা দিতে হয়। ওইদিকে যাইয়া দেখ মাইয়াগুলা আটা ময়দা মাইখা একেকটা ডানাকাটা পরী হইয়া আছে।”
“তো মেয়ে হয়ে গেলেও পারিস। প্রহরের সাথে তোর বিয়েটা দিয়ে দিবো।”
আযরানের কথায় চক্ষুদ্বয় ছোট ছোট করে চাইল প্রহর। মিহির হো হো করে হেসে ফেলল। বহুকষ্টে হাসি থামিয়ে বলল,

“তুই চেঞ্জ হয়ে যাচ্ছিস আযরান।”
আযরান উঠে দাঁড়াল। মিহিরের দিকে একবার তাকিয়ে পুনরায় দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল। মনটা আজ বড্ড ফুরফুরে। কিন্তু কেন সেটা আযরান জানে না। একবার বিমূর্ত দৃষ্টিতে তাকালো আকাশে থাকা বিরাট চাঁদটার পানে। আজ তার ব্যক্তিগত চাঁদটারও খুব একটা দেখা পায়নি। আর্শির কথা মনে হতেই প্রহর আর মিহিরকে বলে নিচে নেমে এলো আযরান। রুমের এসে চারিদিকে চক্ষুদ্বয় একবার বুলিয়ে নিল। নাহ মেয়েটা কোথাও নেই। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো আযরানের অভ্যন্তর ভেদ করে। অপেক্ষা না করে ঝটপট ঢুকে গেল ওয়াশরুমে। ঘামে চিটচিটে অবস্থা। শাওয়ার নেওয়ার জরুরি। ঝর্ণার শীতল জলধারা সমস্ত শরীরে পড়তেই ক্লান্তি যেন ধীরে ধীরে ধুয়ে যেতে লাগল। দিনের দীর্ঘ পরিশ্রম, দৌড়ঝাঁপ আর অবিরাম ব্যস্ততার ভার খানিকটা লঘু হলো। বেশ কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুমের দরজা ঠেলে বাইরে এলো আযরান। টাওয়াল দিয়ে চুল মুছতে মুছতে সামনে দৃষ্টি ফেলতেই নজরের এলো আর্শিকে। কিছু একটা খুঁজে চলেছে মেয়েটা।
আকস্মিক কাঁধে শীতল, ভেজা অনুভব হতেই চমকে পিছনে ফিরল আর্শি। অতি নিকটে দাঁড়িয়ে আযরান। যা আর্শিকে ভরকে দিতে যথেষ্ট। ভয়ে এক কদম পিছিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সাথে লেগে গেল আর্শি। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফেলে ভ্রুঁ কুঁচকে চাইল আযরান। আর্শিকে বেঁধে নিল নিজের বলিষ্ট বাঁধনে। ফিচেল স্বরে বলে উঠল,
“কি ব্যাপার মুটি। স্বামীর কথা কি সারাদিনে একবারও মনে পরে না? নাকি ভুলে টুলে গেলি স্বামী নামেও কোনো বস্তু তোর জীবনে আছে।”

আর্শি আঁড়চোখে চাইল। সকাল থেকেই একরাশ অভিমান জমে আছে মন কুঠুরিতে। অভিমানের একমাত্র কারন মারিয়া নামক রমনীটি। আর্শির একটুও ভালো লাগে না মেয়েটার সারাদিন আযরানকে নিয়ে মাতামাতি। সে প্রচন্ড বিরক্ত। মেয়েটার এইসব কান্ডে আযরানের ওপরই অভিমান এসে জমছে তার। কে বলেছে আযরানকে এত সুন্দর হতে? সে তো বলেনি। হুহহ! মুখশ্রী ঘুরিয়ে নিল আর্শি। আযরানের ভ্রুঁ যুগল কুঁচকে গেল আপনাআপনি। আর্শির গাল চেপে নিজের দিকে ফিরিয়ে নিল। গম্ভীর কন্ঠে বলল,
“আমার থেকে মুখ ঘুরানোর সাহস আসে কই থেকে?”
আর্শি নাছোড়বান্দা হয়ে উঠল। একপ্রকার জোর করে ছাড়িয়ে নিল আযরানের হাত। দৃষ্টি উঁচিয়ে একবার আযরানের দিকে তাকিয়ে আবার নামিয়ে ফেলল নেত্রপল্লব। নরমস্বরে ধীর কন্ঠে বলে উঠল,
“ছাড়! আমার কাছে কি? যা তোর মারিয়ার কাছে।”
আযরান স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল খানিকটা সময়। মেয়েটা কি কোনো ভাবে জেলাস? কুঁচকানো ভ্রুঁ যুগলও শিথিল হয়ে এলো আযরানের। কক্ষে থাকা কৃত্রিম আলোয় আর্শির মুখটা জ্বলজ্বল করছে। নতমস্তকে দাঁড়িয়ে আছে আর্শি। আযরান কিছুটা ঝুকলো। আর্শির কাছাকাছি মুখখানা এগিয়ে নিয়ে স্মিত কন্ঠে বলে উঠল,

“আপনি কি জেলাস ম্যাম?”
তব্দা খেয়ে গেল আর্শি। জেলাস? হ্যাঁ! জেলাসই তো। তাতে কি হয়েছে? এভাবে কেউ জিজ্ঞেস করে নাকি? আযরানের কথার ধরনটা আর্শির হার্টবিট বাঁড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। ধুকপুক শব্দে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে প্রত্যেকটা হৃদস্পন্দন। ছেলেটা শুনে ফেলে যদি? আর্শি চোরা দৃষ্টিতে তাকালো। মনে এসে জমলো ধরার পড়ার আশঙ্কা। তবুও দমলো না একটুও। কিছুটা উচ্চস্বরে বলল,
“হুহহ তো? যা না যা পেয়ারি মারিয়ার কাছে। যে কিনা একদম চোখে হারাচ্ছে তোকে। ঢং দেখলে বাঁচিনা একদম।”
আর্শির জবাবে খানিকটা সময় তাকিয়ে রইল আযরান। পরক্ষণেই বাঁকা হেসে মিশিয়ে নিল আর্শিকে নিজের সাথে। গালে শুষ্ক ঠোঁট ছুঁয়ে দিতেই আর্শি কম্পমান হাতে খামচে ধরল আযরানের বুকের কিছুটা অংশ। আযরান নিস্পলক চেয়ে রইলো আর্শির অস্থির মুখশ্রীর দিকে। ক্ষীণস্বরে বলে উঠল,
“বাহ মিসেস হায়দার! তাই বলে এতটা জেলাস?”
আর্শির কি হলো কে জানে। হুট করে আযরানের শার্টের কলার চেপে ধরল। রাগান্বিত দৃষ্টিতে চেয়ে নাক ফুলিয়ে বলল,

“হ্যাঁ ঠিক এতোটাই জেলাস। আমার বর শুধু আমারই আর কারো না। কেউ যদি তার দিকে চোখ তুলেও তাকায় তাহলেও আমি জেলাসহবো। আমার স্বামীর ছায়ার ভাগও আমি কাউকে দিবো না। কাউকে না মানে কাউকেই না।”
আযরান প্রতিত্তুর করল না। আকস্মিক দূরত্ব কমিয়ে চলে এলো একদম আর্শির নিকটে। শুষ্ক অধরযুগল চেপে ধরল আর্শির গলায়। অতিশয় বিস্ময়ে হতবাক সে। নেত্রপল্লব বেড়িয়ে আসার জোগান। শিরদাঁড়া বয়ে গড়িয়ে গেল শীতল স্রোত। আকস্মিক তীব্র ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল আর্শি। চোখ মুখ খিঁচে দূরে সরাতে চাইলো আযরানকে। তবে শক্তিতে পেরে উঠল না। খানিকটা সময় পেরিয়ে যেতেই আযরান সরে এলো। গম্ভীরকন্ঠে বলল,
“চোখ খুল মুটি।”
পলক ঝাপটিয়ে আঁখিদ্বয় মেলল আর্শি। নিমিষেই আটকা পড়ল আযরানের চোখের মাদকতায়। দু’চোখে অদ্ভুত মুগ্ধতা ফুঁটে আছে। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারলো না আর্শি। ভয়ংকর গভীর চাহনি আযরানের। চোখ সরাতেই শোনা গেল আযরানের নেশা মিশ্রিত কন্ঠস্বর,

“সিল মেরে দিয়েছি। মারিয়া দেখলে বুঝবে আসলে আযরান কার।”
মারাত্মক লজ্জায় কেঁপে উঠল আর্শি। নেত্রপল্লব ঘুরিয়ে পথ খুঁজলো পালানোর। সুযোগ পেতেই ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল আযরানকে। এক ছুটে পালালো রুম থেকে। ভুলেও পিছনে ফিরে চাইল। আর্শিকে ছুটে যেতে দেখে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো মারিয়া। সবে রেডি হয়ে রুম থেকে বেরিয়েছিল সে। কিন্তু আর্শিকে এভাবে বেরিয়ে যেতে দেখে কৌতূহলী হয়ে উঠল দৃষ্টি। সামনে এগোতে এগোতে একবার উঁকি দিলো রুমের ভিতর। ভিতরের থাকা আযরানকে দেখে বুঝতে দেরি হলো না কাহিনী। মূহুর্তে অভ্যন্তর জ্বলে উঠল প্রচন্ড ইর্ষায়। মেজাজ চওড়া হয়ে উঠল নিমিষেই। রাগে ভষ্ম করে দিতে ইচ্ছে করল সবকিছু। আকস্মিক ব্যগ্র হাসলো মারিয়া। বিরবির করে বলল,
“হাহ! এমন প্ল্যান করেছি এবার আমিও দেখবো আযরান ভাই আমার না হয়ে কোথায় যায়। কিছুক্ষণ পরেই শুরু হবে আমার খেলা।”
দূবোর্ধ্য হাসল মারিয়া। পরক্ষণেই হেলতে দুলতে চলে গেল সামনের দিকে। মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে কুটিল সব বুদ্ধি। শুধু একবার বুদ্ধিগুলোকে কাজে লাগানোর পালা।

সবে স্টেজে এনে বসানো হলো রাইসা। পুরো একটা পরীর মতো লাগছে মেয়েটাকে। হলুদ আভায় মোড়ানো মেয়েটাকে যেন সত্যিই কোনো রূপকথার পরী মনে হচ্ছে। গাঢ় হলুদ শাড়ির ওপর সূক্ষ্ম কারুকাজগুলো আলোয় ঝিলমিল করছে। খোলা চুলের একপাশে গুঁজে রাখা তাজা গাঁদা ফুলগুলো তার সৌন্দর্যকে যেন বাঁড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুন। বন্ধুরা সকলেই তাকে দেখে মুগ্ধ হলো। রাইসার পাশে নীলা, মেহর আর রাইসার কিছু কাজিন। কলাপাতা রঙের লেহেঙ্গায় মেহরকে যেন জীবন্ত একটা পুতুল লাগছে। সবার মাঝে মিহিরের দৃষ্টি গিয়ে আঁটকালো নীলার পানে। কলাপাতা রঙের শাড়ি জড়িয়েছে নীলা। গলায় কানে তাজা ফুলের গয়না। মিহির চোখ ফিরাতে চেয়েও যেন পারলো না। মনে মনে আওড়ালো,
“মাশাআল্লাহ! এই পেত্নীর উপর কারো নজর না পড়ুক।”
আযরান চক্ষুদ্বয় বুলালো চারপাশে। আর্শিকে কোথাও না দেখতে পেয়ে কপালে ভাঁজ দেখা দিল। আঁখিদ্বয় ললাটে স্পর্শ করল কিঞ্চিৎ। হঠাৎ অনুভব করল কেউ তার পাঞ্জাবির হাতা টানছে। ভ্রু কুঁচকে নিচে তাকাতেই দেখতে পেল বছর পাঁচেকের এক ছোট্ট মেয়েকে। গোলগাল মুখ, মাথাভর্তি কোঁকড়ানো চুল আর বড় বড় চোখ। মেয়েটা নিচু স্বরে বলল,

“আযরান ভাইয়া…”
আযরান আশেপাশে তাকিয়ে হাঁটু ভেঙে বসে পড়ল। স্মিত হেসে বলল,
“বলো রাজকুমারী।”
ছোট্ট মেয়েটা খিলখিলিয়ে হেসে ফেলল। আযরান মনোমুগ্ধের মতো দেখলো হাসিটা। কি মিষ্টি হাসি। মেয়েটা এবার এগিয়ে এলো। ফিসফিস করে বলল,
“তোমাকে একটা গুলুমুলু আপু নিচে একদম শেষের রুমটায় যেতে বলেছে ভাইয়া।”

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩২

আযরান প্রচন্ড অবাক হলো। হুট করে আর্শির ডাকার কারণ বুঝলো না। কিন্তু গুলুমুলু বলেছে যেহেতু তাহলে আর্শিই হবে। নিজের ভাবনাকে বেশিক্ষণ স্থায়ী না করে উঠে দাঁড়ালো আযরান। বাচ্চা মেয়েটার গাল টেনে দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলো দু’তলায়। পুরো দোতালা নিস্তব্ধতায় মোড়ানো। সবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার একটা মানুষের ছায়া পর্যন্ত নেই। আযরান ধীর পায়ে এগিয়ে গেল একদম শেষ মাথার কর্ণারের রুমটায়। রুমে প্রবেশ করতেই আকস্মিক শব্দে চমকে পিছু ফিরল আযরান। দরজাটা লক হয়ে গেছে। কয়েকবার ধাক্কা দিয়ে বুঝতে পারলো কেউ একজন ইচ্ছে করেই কাজটা করেছে। চিন্তিত হলো আযরান। কিছু একটা ঠিক নেই বলে মনে হচ্ছে। ভাবান্তর মুখশ্রী নিয়ে পিছু ফিরতেই চমকাল আযরান। চক্ষুদ্বয় মুহুর্তেই বৃহৎ আকার ধারণ করল। নেত্রপল্লব মেলে আযরান স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here