Home কার্নিশে আলতা মাখানো কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩২

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩২

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩২
তন্ময়ী তিতিক্ষা

গত কয়েকমিনিট ধরে নেত্রপল্লব ছোট ছোট করে তাকিয়ে আছে আর্শি। পর্যবেক্ষণ করে চলেছে পাড়ে দাঁড়ানো কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়ানো মেয়েটাকে। সে মেয়েটাকে চিনে বলে মনে হয়না। তাহলে? মেয়েটা আযরানকে এভাবে প্রশ্ন করল কেন? মেয়েটাকে দেখে আর্শির হাত ছেড়ে দিল আযরান। তবে দূরে সরল না। হাত ছেড়ে দেওয়ায় আর্শির মুখশ্রী অন্ধকারে ছেঁয়ে গেল। এই মেয়ের সামনেই কেন হাত ছাড়তে হবে? অভিমানের নাক ফুলালো আর্শি। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি তখনও কোমরে হাত দিয়ে তাদের দিয়েই অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। এবার আযরান কিছুটা শান্তভাবে উত্তর দিলো,

“তেমন কিছু না। তুমি এখানে কি করছো? প্রহরদের তো বলেছিলাম এখানে কাউকে না আসতে দিতে।”
আঁড়চোখে চাইল মেয়েটা। বাঁকাচোখে একবার আর্শিকে দেখে নিল। পরক্ষণেই মন খারাপের স্বরে বলে উঠল,
“প্রহর ভাই আমাকে দেখেনি। কিন্তু তুমি এই মেয়ের সাথে কি করছো?”
আর্শির রাগ হলো। প্রচন্ডরকমের রাগ! সে বুঝি এই মেয়ে? আর আযরান কিছু বলছে না কেন? নাকি সুন্দর মেয়ে দেখে গলে গেছে কোনটা? রাগে চোখের কোণে অশ্রু জমলো আর্শি। সরে যেতে চাইলে পানির নিচে থাকা আযরানের হাতটা একপ্রকার চেপে ধরল তাকে। আর্শি কিছুক্ষণ জোরাজুরি করতেই দু’হাত মুঠোয় বন্দি করল আযরান। সামনে থাকা মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠল,
“ও এই মেয়ে না, ও আমার বউ। আমার স্ত্রী। তুমি এখন এখান থেকে আসতে পারো মারিয়া।”
“বউ?”
অস্পষ্ট স্বরে উচ্চারণ করল মারিয়া। কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো দুইজনের দিকে। সতেরো বছর বয়সী রমনীটির মনটা যেন নিমিষেই ভেঙে গুরিয়ে গেল। তবুও সেসবে পাত্তা দিলো না সে। ভ্রুঁ কুঁচকে তাকিয়ে রইলো দুইজনের দিকে। আর্শিকে আযরানের এত কাছাকাছি দেখে ভেংচি কাটলো। পিছন ফিরে যেতে যেতে আনমনে বলে উঠল,

“হুহহ! এটা কোনো বউ হলো নাকি? আমার মতো সুন্দরীকে ছেড়ে আযরান ভাই এই মেয়েকে কিভাবে বিয়ে করলো? নিশ্চয়ই জোর করে বিয়ে দিয়েছে। তাই হবে।”
আপনমনে বিরবির করতে করতে জায়গা প্রস্থার করল মারিয়া। আযরান পুনরায় মনোযোগী হলো আর্শিতে। আর্শি নিজের দিকে ঘুরাতেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল মেয়েটা। ধাক্কা দিয়ে আযরানকে ফেলে দিলো পানির ভিতরে। সাথে সাথেই ভ্রুঁ কুঁচকে আর্শির দিকে তাকালো আযরান। আর্শি রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠল,
“খালি ঘেষাঘেষি করে লুতুপুতু করার ধান্দা তাই না? শালা লুচ্চা!”
কথাটা বলেই পুকুর থেকে উঠে দাঁড়ালো আর্শি। আযরানের নিয়ে আসা গামচাটা গায়ে জরিয়ে আযরানের কাপড়সহ জায়গা প্রস্থার করল সে। আর্শির কান্ডে আযরান হতবাক। বোকার ন্যায় কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চিল্লিয়ে ডেকে উঠল,
“কাপড় নিয়ে কই যাস মুটি। আরে আমি পড়বো কি?”
“তুই এমন আধা উলঙ্গই থাক। এটা তোর শাস্তি।”
আর্শির শেষ কথাটা শুনে আযরান কয়েক সেকেন্ড নির্বাক হয়ে রইল। দাঁতে দাঁত চেপে তাকিয়ে রইল আর্শির যাওয়ার পানে। বউয়েরা স্বামীদের শায়েস্তা করে শুনেছিল। কিন্তু তাই বলে এভাবে? সিরিয়াসলি!

ডাইনিং টেবিলে চলবে খাওয়ার প্রস্তুতি। পুরো বাড়ি ভর্তি মেহমানে ঠেসাঠেসি। একদল খাওয়া দাওয়া শেষ করল সবে। তারপরই রুবিনা খাতুন হাক ছেড়ে ঢেকে উঠল সকল ছেলেমেয়ে গুলোকে। উনার পাশে দাঁড়িয়েই সাহায্য করছে নীলা, মেহর আর আর্শি। রুবিনার খাতুনের ডাকে একে একে সকলে এসে হাজির হলো খাবার টেবিলে। মিহির প্লেট উল্টাতে উল্টাতে বলে উঠল,
“আন্টি তাড়াতাড়ি খাবার দিন প্রচুর ক্ষুধা পেয়েছে। মনে হচ্ছে খেতে খেতে দুনিয়াটাই খেয়ে নিবো।”
মিহিরের কথায় পুরো বন্ধুর দল হতাশার নিঃশ্বাস ফেলল। এই ছেলে আর ভালো হলো না। রুবিনা খাতুন ছেলেদের পাতে খাবার বেড়ে দিতে দিতে মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলল,
“তোরাও বসে পড়। আমি একা সামলাতে পারবো। পরে আবার সুযোগ পাবি না।”
সৌজন্যমূলক হাসল আর্শি। মেহর লক্ষ্য করল মিহিরের পাশে একটা চেয়ার খালি পরে আছে। মেহর মিহিরের দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকালো। মিহির উৎসুক দৃষ্টি মেলে চেয়ে আছে নীলার দিকে। হয়তো চাচ্ছে ফাঁকা চেয়ারটায় নীলা বসুক। সূক্ষ্ম একটা নিঃশ্বাস ফেলল সে। এগিয়ে গিয়ে বসে পড়ল প্রহরের পাশের চেয়ারটায়। তাকে দেখেই মুচকি হাসি দিলো প্রহর। ভ্রুঁ নাঁচিয়ে বলে উঠল,

“কি খবর পিচ্চি।”
মেহর ঠোঁটের কোণে আলতো হাসি ফুঁটিয়ে বলে উঠল,
“বিন্দাস ভাইয়া।”
প্রহর পুনরায় হাসল। আর্শি এগিয়ে এলো আযরানের নিকট। আযরানের পাশের ফাঁকা চেয়ারটায় বসতে যাবে এর পূর্বেই কোথা থেকে ছুটে এলো মারিয়া। নিমিষেই দখল করে ফেলল চেয়ারটা। সকলে চমকে উঠল। আর্শি অবাক হতেও যেন ভুলে গেল। এর মাঝে রাইসা কিছুটা ধমকে বলে উঠল,
“কি ব্যাপার মারিয়া। আর্শি বসছিলো তো নাকি তুই বসলি কেন?”
মারিয়া ঠোঁট উল্টালো। চক্ষুদ্বয় পিটপিট করে বলল,
“এই জায়গাটা আমার পছন্দ। একটু বসি না আপু।”
মেহরের প্রচুর রাগ হলো। তার বিচক্ষণ দৃষ্টি মারিয়ার দিকে। মন তো চাচ্ছে ঘুষি দিয়ে এই মেয়ের মুখের রং বদলে দিতে। শুধু অপরিচিত জায়গা বিধায় কিছু বলতে পারছে না। এতক্ষণ সবটাই দেখছিলেন রুবিনা খাতুন। এবার শান্তস্বরে বলে উঠল,

“উঠে আয় মা। স্বামী স্ত্রীকে একসাথে বসতে দিতে হয়। আর্শি আযরানের পাশে বসুক তুই এখানে বস।”
কথাটা বলেই রাইসার পাশের খালি চেয়ারটায় ইশারা করল রুবিনা খাতুন। মারিয়া মুখখানা ছোট হয়ে গেল। মন খারাপ করে উঠতে যাবে এর পূর্বেই আর্শি বলে উঠল,
“থাক! বসেছে যেহেতু বসুক। আমি নাহয় ওইদিকে বসছি।”
আর্শির কথায় কয়েক মুহূর্ত নীরব হয়ে রইল সবাই। কারোরই পছন্স হয়নি ব্যাপারটা। মারিয়ার ঠোঁটের কোণে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। রুবিনা খাতুন কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলেন। আর্শি ইতোমধ্যে ঘুরে গিয়ে রাইসার পাশের খালি চেয়ারে বসে পড়েছে। মেহরও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল। আকস্মিক চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াল আযরান। চেয়ারের ঘর্ষণের কর্কশ শব্দে সকলে চমকে তাকাল আযরানের পানে।মারিয়া হতবুদ্ধি হয়ে নেত্রপল্লব বড় বড় করে বলল,
“কি হলো আযরান ভাই?”
আযরান জবার দিলো না। রাইসাকে চোখের ইশারা উঠতে ইশারা করে বলল,

“তুই এইখানে আয়।”
রাইসা একমুহুর্তও সময় নষ্ট করলো না। তড়িৎবেগে উঠে এসে বসে পড়ল আযরানের চেয়ারটায়। আযরানও সময় ব্যয় না করে লম্বা পদক্ষেপে হেঁটে চলে গেল আর্শির দিকে। তারপর সকলের সামনে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে আর্শির পাশের চেয়ারটা টেনে বসল। আর্শি থমকাল। দৃষ্টিতে এসে ভর করল একরাশ বিস্ময়। আযরান এমন কিছু করবে ভাবতেই পারেনি। আর্শির মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল। অতঃপর সবাইকে মুখ চেপে হাসতে দেখে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। রুবিনা খাতুনও মুখ চেপে হাসছে যা আর্শির লজ্জাকে বাঁড়িয়ে দিল কয়েকগুণ। অসভ্য ছেলে! কিছু না কিছু করে সবসময় তাকে লজ্জায় ফেলে। আর কথাই বলবে না সে এই ছেলের সাথে। সকলের মাঝে হুট করে নীলা বলে উঠল,

“বাব্বাহ! আমাদের আযরান দেখি দিন দিন বউ পাগল হয়ে যাচ্ছে।”
নীলার কথার মাঝে ফোঁড়ন কাটলো মিহির। দুঃখী কন্ঠে বলে উঠল,
“তুইও তো পারিস একটু আমার জন্য পাগল হতে।”
কথাটা বলেই চুমুর ইশারা করল মিহির। নীলা তেলে বেগুন জ্বলে উঠল। কাটা চামচ দিয়ে আঘাত করল মিহিরকে। চোখ কটমট করে বলল,
“তোকে জুতাপিটা করবো আমি বেয়াদব।”
“কর তোর ওইটুকু ছোঁয়া পেলেও নিজেকে ধন্য মনে করবো।”
মিহিরের কথায় হেসে উঠল সকলে। কিন্তু হাসতে পারলো না একজন। মেহরের নিনির্মেষ দৃষ্টি তাদের দিকেই। চোখে বিষাদের রেশ স্পষ্ট। একপলক তাকিয়ে চক্ষুদ্বয় ফিরিয়ে নিলো সে। মনটা কেমন বেহায়া হয়ে যাচ্ছে আজকাল। না চাইতেও অল্পতেই অভিমানে ভারী হয়ে যাচ্ছে অভ্যন্তর। কার উপর অভিমান করছে সে? এইসব অহেতুক অভিমানের কোনো মূল্য নেই।

বাইরে বইছে স্নিগ্ধ নির্মল সমীরণ। প্রকৃতিজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে এক প্রশান্ত আবেশ। চাঁদের কলঙ্ক আজ স্পষ্ট, তবু তার সৌন্দর্যে কোনো ভাটা পড়েনি। বরং সেই অপূর্ণতাই তাকে করেছে আরও মায়াময়। পুরো ছাদটাকে সেই মায়াময় আলোয় আলোকিত করে রেখেছে। ছাদের ওপর পাটি বিছিয়ে আড্ডায় বসেছে বন্ধুমহল। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে সেই সন্ধ্যায়। কিন্তু এখনো ফেরার নাম নেই। একপ্রকার অতিষ্ঠ হয়েই ছাদে আশ্রয় নিয়েছে সকলে। তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে রাইসা আর প্রহরের কিছু কাজিনও। যেহেতু কালকে গায়ের হলুদের অনুষ্ঠান তাই বড়রা নিচেই রয়ে গেছে আয়োজন করতে।

“চল একটা ট্রুথ অর ডেয়ার খেলি।”
হঠাৎই প্রস্তাব দিল প্রহরের এক কাজিন। কথাটা শুনেই সকলে উৎসাহিত হয়ে উঠল। সকলে আনন্দে মজে থাকলেও একজনকে আনন্দ ছুঁতে পারেনি। আর সে হলো মারিয়া। ছাদে আসার পর থেকেই আযরান একপ্রকার চিপকে আছে তার বউয়ের সাথে। আর এই ব্যাপারটাই যেন তাকে মনে মনে জ্বলে পুড়ে শেষ করে দিচ্ছে। এভাবে কেন চিপকে থাকতে হবে অদ্ভুত! কোনো উপায় না পেয়ে শেষমেষ মুখ লটকে বসে রইলো সে। খেলা শুরু হলেই চারপাশে হইচই শুরু হয়ে গেল। মিহির হুট করে নাটকীয় ভঙ্গিতে গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
“আগেই বলে রাখি, আমার জীবনের সব ট্র্যাজেডি শুনে কেউ কান্নাকাটি করবি না।”
নীলা ভ্রু কুঁচকাল। বলে উঠল,

“তোর জীবনে ট্র্যাজেডি কোথায়?”
“তুই আছিস এটাই সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।”
কথাটা বলার সাথে সাথে একটা কুশন এসে আঘাত করল মিহিরের মুখে। নিমিষেই হাসির রোল পড়ল ছাদ জুঁড়ে। খেলা শুরু হলো। প্রথমেই বোতল এসে থামলো প্রহরের দিকে। প্রহর ট্রুথ নিতেই মিহির একপ্রকার লাফিয়ে উঠল। তড়িঘড়ি করে বলল,
“সত্যি কইরা ক এখনো এক্সরে ভালোবাসোস?”
প্রহরের দিকে কৌতূহলী দৃষ্টি নিক্ষেপ করল সকলে। প্রশ্নটা শুনে প্রহর প্রথমে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হাতে থাকা পানির বোতলটা ঘুরাতে ঘুরাতে নাক ছিটকে বলল,
“ছেহ! ওই নাগিনরে কেডা ভালোবাসে।”
মিহির নির্লজ্জের মতো হাসলো। পুনরায় বোতল ঘুরানো হলো। তা গিয়ে থামলো মেহরের দিকে। সকলে উৎফুল্ল হলেও মেহর ঘাবড়ে গেল। শুকনো একটা ঢোক গিলে তাকালো সবার দিকে। কিছুক্ষণ ভেবে সাহস করে ডেয়ার নিলো। এতেই যেন খুশিতে গদগদ হয়ে গেল সকলে। নীলা মেহরকে গান শুনাতে বললো। মেহর প্রথমে রাজি না হলেও সকলের জোরাজুরি গেয়ে উঠল,

~ কেন রোদের মতো হাসলে না
আমায় ভালোবাসলে না..
আমার কাছে দিন ফুরালেও আসলে না।
পুরোটা গান মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় শুনলো সবাই। সকলের নিষ্পলক দৃষ্টি মেহরের পানেই। গান শেষ হতেই একফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল মেহরের চোখের কার্নিশ বেয়ে। বুকের মাঝে অদ্ভুত এক ব্যথা অনুভব করল মেহর। কষ্ট হচ্ছে ভীষণ। কিন্তু কেন? চক্ষুদ্বয় তুলে মিহিরের দিকে দৃষ্টিপাত করতেই আঁতকে উঠল মেহর। মিহির তারদিকেই তাকিয়ে আছে। ভয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নিলো ঝটপট। মিহির কেন তাকিয়ে তারদিকে? কিছু আন্দাজ করল নাকি?
রাত যত গভীর হওয়ার সাথে সাথে আড্ডার কোলাহল ততই নিস্তব্ধতার আঁচলে হারিয়ে গেল। একসময় ছাদের পাটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শুয়ে পড়ল সবাই। কারো মাথার নিচে বালিশ, কারো বা হাতই বালিশের কাজ করছে। আকাশজুড়ে অসংখ্য নক্ষত্রের মেলা। দূরে কোথাও নিশাচর পাখির ডাক ভেসে আসছে মাঝেমধ্যে। চারপাশে একরাশ শান্তি নেমে এসেছে। পৃথিবীও যেন ক্লান্ত হয়ে কিছুক্ষণের জন্য চোখ বুজেছে।

চাঁদের ফ্যাকাশে আলো এসে পড়েছে ছাদের এক কোণে। সেই আলোয় আধো-ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎই চোখ মেলে তাকালো আযরান। কিছুক্ষণ বুঝতেপারল না কোথায় আছে। ঘুম জড়ানো দৃষ্টিতে চারপাশে তাকালো। তারপর ধীরে ধীরে মনে পড়ল সবটা। আকস্মিক কাঁধে ভার অনুভব করে পাশ ফিরল সে। আর্শির তার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে। ঘাড়টা বেঁকে রয়েছে একপাশে। নিশ্চয়ই ব্যথা পাচ্ছে মেয়েটা। কথাটা ভেবে তড়িৎ বেগে আর্শিকে বুকে টেনে নিল আযরান। ঠিকঠাক ভাবে শুয়ে চোখ বুজতে যাবে হুট করে নজর আঁটকালো একটা দৃশ্যে। সেদিকেই কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আযরান।

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩১

ছাদের মাঝের ছোট্ট পিলারের সাথে হেলান দেওয়া ঘুমন্ত প্রহর। গভীর ঘুমে মগ্ন সে। তার বুকের মাঝে ঘুমে ব্যস্ত রাইসা। প্রহরের শার্টের একাংশ মুঠোয় মুঠোয় পুরানো। চাঁদের মৃদু আলোয় রাইসার মুখের প্রশান্তিটুকু আযরানের চোখ এড়ালো না। প্রহরও যেন পরম মমতায় মেয়েটাকে আগলে রেখেছে বুকের মাঝে। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে অবলোকন করলো পুরো ব্যাপারটা। রাইসা আর প্রহর কাজিন হওয়া স্বত্তেও তাদের কখনোই এতটা কাছাকাছি দেখেনি আযরান। কিন্তু তারা কি জানে। ঘুমের মাঝেই কতটা স্বাচ্ছন্দ্যে একে অপরকে আঁকড়ে ধরে আছে? ব্যাপারটা মন্দ দেখালেও এত শান্তির ঘুম নষ্ট করতে মন চাইলো না। আযরানের জাগাতে ইচ্ছে করল না তাদের। নিরবে চোখ বুঁজে ফেলল। নিজেও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আর বুকের মাঝে থাকা আদু্রে মেয়েটাকে

কার্নিশে আলতা মাখানো পর্ব ৩৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here