কালকুঠুরি পর্ব ৫৫
sumona khatun mollika
ভোরের আলোয় চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠেছে। সিকান্দার বাড়িতে সব শুনশান৷ ভয়াবহ শ্মশানে পরিণত হয়েছে বাড়িটা । সাফিন রেডি হচ্ছিল দক্ষিণ পাড়ার এক সভায় যাওয়ার জন্য। দক্ষিণ পাড়ার গোরস্থান মেরামতে জণগণের মুখে প্রশংসার ঝড় উঠে যাচ্ছে ।
এমপি আবু সাফিন সিকান্দার, দক্ষিণ পাড়ার গোরস্থান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। পাশে, বিল্ডিং তোলার জন্য রাখা জায়গা বাজেয়াপ্ত করে গোরস্তানের জায়গা বারিয়ে দিয়েছে। মুখে বাঁকা হাসি রেখে সাফিন পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে চুলে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছিল। রাহা এসে ওর শালটা এগিয়ে দেয় । রাহার হাতের লাল চুড়ির ছুনছুন আওয়াজে সাফিন আয়নার মধ্যে রাহার প্রতিবিম্বের দিকে তাকায়। বড় মনোযোগ দিয়ে সে সাফিনের জামাকাপড় গোছানোতে ব্যাস্ত। । সাফিন ভ্রু কুচকে তার হাতে দিকে তাকালো শান্ত কণ্ঠে শুধালো,,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
” আজ এত সাজগোজ কেন? ”
” শখ হলো। নিজের বিবাহ বার্ষিকীতে একটু সাজার ”
” এসব নাটক বন্ধ করো। আগেতো দেখিনি কখনো বিবাহ বার্ষিকীতে সাজতে। ”
” সিভান জোর করেছে। তাছাড়া আগেরবারগুলোতে যাকে দেখানোর জন্য সাজব সে-ই ছিলনা। এবারে আছেন। তাই মনের শখে একটু সেজেছি। ”
” আমি তোমাকে সিভানকে টাইটে রাখার জন্য এনেছিলাম তুমি কিনা মা মেজে বসে আছো! ”
” আপনি, ওর বায়োলজিকাল বাবা। আপনার বউতো ওর মা-ই হবে। ”
” বুঝলাম। এখন দেখানোর জন্য যখন সেজেছো যাও সবাইকে দেখিয়ে বেরাও। আমি আজ বাড়ি ফিরব দেরি করে। ”
” আপনি একবার দেখুন । উদ্দেশ্য তো আপনার দৃষ্টিমূল্য অর্জন ”
সাফিন কিছু একটা বলতে গিয়েও পারলো না। কথায় কথা বাড়ে। তাছাড়া এই রাহা মেয়ে টা এমন মরবে পরে আগে নিজের যুক্তি দিয়ে তারপরে মরবে। সাফিন আয়নার সামনে থেকে সড়ে কাউচে বসে রাহার দিকে তাকিয়ে দুবার দুদিকে ঘাড় কাত করল। হাতের ইশারায় রাহাকে ওর পাশে বসতে বলল। দম ফেলে জিজ্ঞেস করল,,
” অনেক সময়ইতো দেখলাম শখ মিটেছে? উপহার চাই? ”
” একবার বলবেন কেমন লাগছে? ”
” ভালো। বলো উপহারে কি চাই তোমার? ”
” আমাকে আর সিভানকে একটু আলাদা করে সময় দেবেন? ”
” পুরা সম্পদ, সম্পত্তি সব চাইলে হ্যা বলাটা সহজ হতো, কিন্তু তুমিতো ভয়ানক জিনিস চেয়ে বসলে, সময় , সেটারিতো অভাবগো আমার। ঠিকাছে। দেখব। ”
সাফিন বেরিয়ে যাওয়া সময় পেছনে ফিরে একগাল হাসি দেয় । তারপর দড়জার কাছে দাড়িয়েই বলে,,
– শোনো,, এরপর থেকে সাজলে, খোপা করিও। তোমার চুল ঘন। খোপাতে বেশি মানায়। আর ব্যাঙের মতন লাফিও না। বিকেলের মিটিং ক্যান্সিল করছি। আজ বিকেলটা তোমাদের দিলাম। সঙ্গে ইতিকেও নিও।
– আচ্ছা ।
সাফিন বেরিয়ে যেতে রাহা দৌড়ের ওপর গিয়ে সিভানকে খবর দেয়৷ ” সিভু, তোর বাবা রাজি হয়ে গেছে, আজ বিকেলে ঘুরতে যাব “।
মাহা কিচু ফাইলপত্র ঘাটাঘাটি করছিল। মাহবুব উদ্দিন ডিউটিতে । লামু নামাজ থেকে উঠে, সামহার ছবি বুকে জড়িয়ে মন খারাপ করে বসে আছে। সেতু গিয়ে মাহাকে বলে,,
“আপাজান,, একটু খাইয়া নেন। এরম চললেতো অসুস্থ হয়ে যাবেন।
“রেখে দাও। খেতে ইচ্ছে হচ্ছে না ।
” আপনি কি বাবুর ওপরে রেগে আছেন? ”
” এতক্ষণে বুঝছো! ”
” ও ছোট্ট একটা শিশু ওর ওপর রাগ দেখিয়ে কি লাভ আপাজান?”
” রাগার কারণ আছে সেতু,, ভুমি, সামির সিকান্দার এর সাথে স্বেচ্ছায় গিয়েছে । ”
” এমনটা হতে পারে ভুমি চিনতো ওনাকে আগে থেকে । ভিডিও তে দেখলেননা, ফিরে এসে পোঁটলাপুটলি বেধে নিয়ে গেছে। ”
” আমি বুঝতে পারছিনা। সামির ওকে ফিরিয়ে দিলনা কেন? ”
তখনি লামু ডেকে বলে,
” ভাবি,, এখানে দেখেন? ”
লামুর হাত থেকে ফোনটা নিয়ে মাহা দেখতে পায় , সামির সিকান্দার আর সামহা সিকান্দার । কাশেম হালদার নামের আইডি থেকে পাবলিক পোস্ট। সামির আর সামহা ম্যাচ করে ড্রেস পরেছে। সামির সামহার মাথায় সুন্দর একটা ক্রাউন পরিয়ে দিয়েছে। সাজিয়ে গুছিয়ে বানানো ভিডিটায় দুজনের গলার সেইম লকেট গুলো চকচক করছে । ভিডিও তে দৃশ্যমান,,,
– বাবু জানো, আগের চেয়ে এখন খুশি কেন?
– কেনু?
কারণ,,,,
~ main mera dil aur tum ho yiahaa
Fir kyun ho paalke chupaye waha
Tum sa haseen pahle dekha nahin..
Tum isse pehle the jaane kaha
Jeene laga hoon pehle se jiyada
Pehle se jiyaada tumpe marrrrrne lagaaaa
Hooooo hooo hoo oo oo,,,
বাপের পায়ের পাতার ওর ভর দিয়ে দুহাত দিয়ে দুজন কি সুন্দর নাচছে। স্যুট বুট, ওয়েস্ট কোট, টাইয়ে সামিরকে একদম হিরোর মতোই দেখা যাচ্ছে । সদ্য হওয়া গালের কাটা দাগও চকচক করছে৷ সত্য এটাই মাহা বাবুকে কম বাবুর বাপকেই বেশি দেখেছে। নিজ অজান্তেই চোকের দুপোটা নোনা জল গড়িয়ে পরে । অস্ফুটে স্বরে আওড়ায়,,,
“মাশাল্লাহ দুই বাঙ্গি কে কি সুন্দর দেখাচ্ছে । কারো নজর না লাগে৷ ”
লামু জিজ্ঞেস করে,,
“কোনজনের নজর কাটাচ্ছেন? ”
” দুজনেরই”
” আমি বুঝতে পারছিনা সামির ভাইজান কি কোনোভাবে জেনে গেছে যে সামহা ওনার মেয়ে?”
” জানিনা। শুধু আমি জগৎ তরে একা হয়ে গেছি এটাই জানি। ”
হালদার বাড়ির নিস্তব্ধতা কেটে দেয়ালে দেয়ালে শিশুর হাসির ঝঙ্কার। ভূত বাংলোর মতো পরে থাকা হালদার বাড়িতে সূর্যের কিরণ ঝলমল করছে। সামহা বসে বসে দেখছে কাশেম পকেট থেকে মেধার একটা ছবি বের করে টেবিলে রেখেছে । দুজন এমনভাবে বসে আছে যেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ কোনো মিটিং চলছে। তিতিন সামহার পায়ের কাছে ঘুরঘুর করছে । হটাৎ করে সামহা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেয়ে বলা শুরু করে,,
~পুলিশের বেটি জেলে থুইয়া,
বাইরে তালা লাগাইছেএএ
কাইশসা মামার মন বান্ধিয়া পাগলু বানাইছে
হোই, কাইশসা মামার মন বান্ধিয়া
ভাঙরি বানাইছে,,,
” এসবের মানে কি,? ”
” মানে বাঙ্গি ক্ষেতের মূলা। বুঝলে বুঝ পাতা না বুঝলে এলাচি! ”
” তুমি আমার ভালোবাসা কে ছোট করতে পারোনা। ”
” তোমার ভালোবাসা কে বেলুনে ভরো, আমি ফুলিয়ে বড় করে দিচ্ছি ”
” দুষ্ট কোথাকার! ”
” হউউহ ভাঙরি কোথাকার ”
সমহা উঠে ওপরতলার বামের ঘরে চলে যায় । তার আব্বু সেখানে ব্যায়াম করছে। দৌড়ে গিয়ে পিঠের ওপর বসে পরে সামহা। সামির আরো জোরে জোরে বুক ডাউন দিতে থাকে। তিতিন চারপাশে ঘুরঘুর করছে।
বিকেলের দিকে তিরতিরে ঠান্ডা বাতাস বইছে। সামির সামহাকে এমনভাবে মুড়েছে যেভাবে কাঁচের মালপত্র বাবলপেপারে মোড়কজাত করা হয়। শুধু চেহারাটা দৃশ্যমান। সামহাকে টেবিলের ওপর বসিয়ে সামির জিজ্ঞেস করে,
” বেবি, তোমার গলার এই লকেটটা কোথায় পেয়েছ? ”
” জানিনা। ”
” হুমমম জানিনা,,, তুমি আমাকে আগে কোথাও দেখেছ? ”
” হুউ। মাঠে, গাছের ডালে। ”
” তার আগে? ”
” কি জানি? মনে নেই। আমাকে আরেকটু বিরিয়ানি দাও”
” না তুমি আর খেলে আবার পটি হবে, আমাকে আবার সুইপারগিরি করতে হবে। এসব খাবার কম করে খাও। ”
” আচ্ছা । চলো বাহির থেকে ঘুরে আসি। যাবে চলোনা ?”
” যাবো। ”
সারাদিন গৃহবন্দী থেকে তিনজনেরি বিরক্তি লাগছে। তাই আবারো তিনজন চোরের মতো চেহারা ঢেকে শীতের পোশাক পরে বাইরে বেরিয়ে যায় । হাত ঝুলিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সামহা জিজ্ঞেস করে,,
” চলো বাড়ি থেকে একটু ঘুরে আসি। দূর থেকে আম্মুকে দেখে আবারো চলে আসবো। ”
” আমরা বাড়ি থেকে অনেক দুরে। আমরা এখন চাপাইনবাবগন্জে আছি ফেরত যেতে চাও? ”
” না। কিছুদিন থাকতে চাই। যদি তুমি আর আমাকে নিতে না যাও? ”
” তোমার আম্মু হয়ত কান্না করছে ”
” করবেনা। আম্মু খুব শক্ত । যখন মারে পিঠ জ্বলে পুড়ে যায় । তাছাড়া সারাদিন আম্মু পড়াশোনাই করে ভালো লাগেনা। ”
” নিজের স্বার্থে আম্মুকে কষ্ট দিচ্ছো? ”
” স্বার্থ মানে কি? ”
সামির এবার একটু চুপ করে। তার বড়বড় সাহিত্যিক ভাষা হয়ত সামহা বুঝবেনা। স্বার্থ কথাটা হয়ত তার জন্য একটু কঠিন এমনিতেও বয়স তুলনায় যথেষ্ট স্মার্ট । কাশেম চুপচাপ ওদের কথা শুনছিল। সামহা সামিরের হাত ছেড়ে কাশেমের হাত ধরে টেনে বলে,,
” এই মামা, রাগ করেছ? ”
” না ”
” না করে থাকলে করো, আমি আরো বেশি করে তেল ঢেলে দিচ্ছি । ”
” হাাাাা, ভাই দেখছেন কি ঘাড়ত্যাড়া ! এক্কেবারে এইরাম ত্যাড়া ”
সামির হোহো করে হাসে।কাশেম ওদের জন্য বাদাম কিনতে গেলে,, কিছুক্ষণ হাঁটার পরে সামিরকে পেছন থেকে কে যেন আঘাত করে বসে। চোখের পলকে সামির তার হাত ধরতেই খেযাল করে এরা খুব সম্ভব কার্তিক আরিয়ানের লোক। সামহা একটু ভয় পেয়ে যায় । সামিরের পিঠে চরম আঘাত লাগে কিন্তু হুট করে তার মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে ওরা সামহাকে তুলে নিয়ে যাবে। দুই হাতে কয়েকজনের সাথে মারামারি করেও সবাইকে সামাল দিতে পারছে না। কারণ প্রথমেই খুব জোরে আঘাত লেগেছে । কাশেমের আসতেও দেরি হচ্ছে । সামহাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে সামির প্যান্টের পকেট থেকে ধারালো রূপোর ছুড়িটা বের করে একে আঘাত হানতে থাকে। আবারো পেছন থেকে একজন হামলা করে দেয় ।
মাথায় আঘাত লাগায় সামির বসে পরে। সামহা তাকে ছেড়ে দিয়ে আব্বু আব্বু করে চিৎকার করতে থাকে।
সামহাকে ছেড়ে সামির আরো দুজনকে আঘাত করে । তবুও শেষ রক্ষা হওযার আগে আরেকজনের আঘাতে মুখ থুবড়ে পরে যায় । হাতের থেকে তার চিরসঙ্গী রূপোর ডাটওযালা ছুড়িটা ছিটকে পরে। আশেপাশে রিটোও নেই যে কামড়ে ধরবে৷ দম ফেলে সামির দেখতে পায় সামনে থেকে একজন ছুড়িটা তুলে তাকে আঘাত করতে এগিয়ে আসছে। পেছন থেকে অজানা আঘাতে লোকটা পরে যায় । তিতিন তার পা কামড়ে ধরেছে। ছুটে যায় হাতের ছুড়িটা। ছুড়িটা হাতে তুলে লোকটা হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যায় সামিরের কাছে। একটা ইট হাতে তুলে যেইনা আঘাত করবে, সামিরের মনে হয় এবার তার জীবনায়ু শেষ।
আচমকা লোকটা মারার আগেই সামিরের ওপর তার রক্ত ছিটে আসে। লোকটা নিথর হয়ে পরে গেলে দেখা যায় সামহা বাবার রূপোর ছুড়ি তুলে পেছন থেকে লোকটার ঘাড়ে বসিয়ে দিয়েছে। । রক্তের ছিটেয় তার চোখ মুখ মাখামাখি হয়ে গেছে ।
পেছন থেকে কাশেম মুখ হা করে থর থর করে কাঁপতে শুরু করে । বহুত খুন খারাবি দেখেছে সে। কিন্তু এমন ভয়ানক দৃশ্য হয়ত কখনো দেখেনি।
গা টা কাটা দিয়ে উঠলো। হাতের বাদামগুলো ফেলে কাশেম দৌড়ে গেল। সামহা হাত থেকে ছুড়িটা ফেলে দিয়ে দৌড়ে গিয়ে সামিরকে জড়িয়ে ধরে। সামির কোনোমতে উঠে বসে সামহাকে জড়িয়ে ধরে । সামহা হুহু করে কাদতে শুরু করে । সামির তার মাথায় হাত বুলিয়ে শান্তনা দেয়।
কাশেম আর সামির একে অপরের দিকে তাকিয়ে বুঝে নেয় ,, প্রতিকূল পরিস্হিতির সঙ্গ হয়ত বাচ্চাটাকে ভায়োলেন্ট করে তুলেছে। । বেশ কিছু সময় পরে তিনজন বাড়ি ফিরে যায়৷ সামহা কোল থেকে নামছেনা। ওই ভয়ানক মুহুর্তের দৃশ্য ছোট বাচ্চাটার নজর থেকে সরছেনা। কাশেমও বারবার মনে করে শিউরে উঠছে। কি ভযানক দেখতে লাগছিল তার শিশুসুলভ চোখদুটো ।
সামিরের মাথায় ব্যান্ডেজ। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সে শুধু বারবার চেক করছে সামহার কোথাও বড়সড় আঘাত লাগেনিতো। সামহা সুরুৎ করে নাক টেনে বলে,,,
“আব্বু, খুব কষ্ট হচ্ছে ? ”
“না বেবি। তুমি ভয় পেওনা। আব্বু আছিতো। ”
” উমমম ”
গুটিগুটি পায়ে বিছানা থেকে নেমে সামহা নিজের স্কার্ফটা টানটান করে মেঝেতে বিছায়।
পাতলা হিজাব মাথায় পরে দুই হাত উচিয়ে বাণি শুরু করে,,
” হে আল্লাহ, আব্বু কে টিক করে দাও আল্লাহ । ওই লোকগুলো কে মেরে দাও আল্লাহ। ভালো থেক আল্লাহ । বাইবাই আল্লাহ । ”
সামির গাল টেনে একটু হাসলো। সামহা টুকটুক করে তার পাশে গিয়ে বসলে সামির তাকে বুকের ওপর চাপিয়ে শুয়ে পরলো। একবার মনে হলো, বাবুকে ফেরত দিয়াসে। সেতুও নিশ্চয়ই পাগলপ্রায় হয়ে গেছে। কিন্তু মন মানছেনা। হোক পাগল। মরে যাক। অন্য বাচ্চা জন্ম দিক কিন্তু এই সামহা টাকে দিয়ে দিক।
চুপচাপ দুজন ঘুমিয়ে পরে। কাশেম দম ফেলে চলে যায়।
মাহবুব উদ্দিন কাশেমকে কড়া করে জিজ্ঞেস করেছে সামির সিকান্দার কোথায়? কিন্তু কোনো জবাব আসেনি। কাশেম ঘাড় ঘুরিয়েও স্বীকার করেনি।
কাশেম নিচে বসে বসে মেধার ছবি দেখছিল । এমন সময় বাড়ির বিদ্যুৎ চলে যায় । তবুও কাশেম ওঠেনা। কিন্তু এটা সত্য সে অন্ধকারে একটু ভয় পায়। আচমকা তার ঘাড়ে কারো হাত পরতে সে ছিটকে উঠে বলে
“কে,, ক..ক.. কেএ? ”
জবাব আসেনা। আবারো তার ঘাড়ে হাত পরতে সে শিউরে ওঠে। ভয়ে ভয়ে ফোনের লাইট জ্বালিয়ে সামনে ধরতেই কারো ভুতুড়ে চেহাড়া দেখে চিল্লিয়ে ওঠে,,,
” ও মাগো,, বাঁচাও ডাইনি! ”
” এই বাঙ্গি ক্ষেতের মূলা ভাঙড়ি মামা! ভয় পাচ্ছো কেন? আমি! ডাইনি নই ”
কালকুঠুরি পর্ব ৫৪
কাশেম ভালো করে লািট ফেলে দেখে সামহা, দম ফেলে বলে,,
” তুই কি আমাকে মারতে চাস নাকি! এমনে কেও ডর দেহায়! ও মাআআ”
” হিহ হিহ হিহ , এতবড় দামড়া হয়েও ভূতে ভয় পাও! ”
” ভুমি, ! ”
” দামড়া মামা , ভাঙি মামা, কাইশসা মামা, ফাইশসা মামা ! ”
দুজন দৌড়োদৌড়ি করে পুরো ঘর মাতিয়ে তুলল। সামির এখনো ঘুমাচ্ছে । সময়ের মতো সময় চলে যাচ্ছে আপন গতিতে।
